প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৫৩
রাত্রি মনি
AJ. উরফে আরাত্রিক জেইন চৌধুরী……”
ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশে গর্জে উঠলো চরম ভারী এক বজ্রপাত। বিদ্যুতের ক্ষণিকের ঝলকানিতে বারান্দা আলোকিত হলো, দেখা গেল দু’জনের পাথরের মতো মুখ।তার পরেই চারপাশ ডুবে গেল এক নিস্তব্ধতায়।
“হা-হা হা হা হা হা হা হা…..”
সেই নিরবতা ভেঙে দিল এক গা ছমছমে হাসির শব্দ। মাথা নিচু করে বিকৃতগ্ৰস্থের মতো হেসে উঠলো ইয়াশ।প্রথমে ধীরে… তারপর সেই হাসি বিকৃত হয়ে গর্জে উঠলো।এলেনা স্থির দাঁড়িয়ে। বৃষ্টির ফোঁটা তার চোখের জল ধুয়ে মুছে নিয়ে যাচ্ছে। ইয়াশ থেমে তার দিকে তাকাল।
“তুমি আমার সাথে মজা করছো, রাইট?”
এলেনার নিষ্প্রাণ গলা,
“বলেছিলাম না তুমি বিশ্বাস করবে না।”
“হ্যাঁ বিশ্বাস করি না। স্বয়ং গড ফাদার নিজে এসে বললেও না।”
“আর যদি প্রমাণ করতে পারি?”
“ঠিক আছে তাহলে দেখাও প্রমাণ!”
“এই মুহূর্তে নেই।তবে যেদিন প্রমাণ করতে পারব সেদিন…..”
“ওহ্ গড।”
ইয়াশ তাচ্ছিল্য করে বললো,
“প্রমাণ ছাড়া তুমি কিভাবে বলছো, এজেই তোমার বাবা মায়ের খুনি? ও কেন মারবে তোমার বাবা মাকে? কি এমন মোটিভ ছিল ওর?এটা কি কোনো সস্তা অ্যাকশন মুভি?”
“মোটিভ ছিল।”
এলেনার কন্ঠে জেদ,
“আমার বাবা একজন কপস ছিল (Mafia Hunter’s) এর প্রধান সহযোদ্ধা। আর তখনকার সময় মাফিয়া সাম্রাজ্যের একমাত্র ডন ছিল জেরিক জারকোভ! বাবা তার বিরুদ্ধে সব প্রমাণ জোগাড় করেছিলেন। অ্যারেস্ট ওয়ারেন্টও ইস্যু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই… বাবার রহস্যময় মৃত্যু।”
“আমি যতদূর জানি তোমার পেরেন্টসের ডেথ হয়েছিল গাড়ি এক্সিডেন্ট করে আগুন লাগার মাধ্যমে।”
“ইট ওয়াজেন্ট এক্সিডেন্ট ইয়াশ! গাড়িতে বোমা ফিট করা। ব্রেক কাট করা। এভরি থিংক ওয়াজ প্ল্যান্ড।”
“এসব তুমি জানলে কিভাবে?”
“ইন্সপেক্টর কার্লো।”
“ফা*ক! ও আগে থেকেই এজের পিছনে পড়ে আছে।সুযোগ খুঁজছে বারবার।ওর কথা বিশ্বাস করছো তুমি! সিরিয়াসলি? হাউ স্টুপিড আর ইউ!”
“ওকে বিশ্বাস করার মতো বোকা আমি নই। তুমি খুব ভালো করেই জানো, আমি প্রথম থেকেই নিজের বাবা মায়ের খুনির খোঁজ করছিলাম। আমার জীবনের একমাত্র লক্ষই ছিল নিজের বাবা মায়ের খুনিকে তার উপযুক্ত শাস্তি দেয়া।”
“আর এর জন্যই তুমি এজের সাথে রয়েছো এতগুলো বছর ধরে! মিথ্যে অভিনয় করে ঠকিয়েছো এতদিন! ইতিহাসের পাতায় লেখা নারীরা যে ছলনাময়ী হয় আজ তা সত্যিই প্রমাণিত হলো।”
বজ্রপাত আবার আকাশ চিরে ফেলল।এক সেকেন্ডের আলোর ঝলকে এলেনার মুখের দ্বন্দ্ব, স্পষ্ট দেখা গেল। কিছুক্ষণ নিশ্চুপ রইল সে।
দেড় বছর আগে পার্টির রাতে কার্লো যখন ছদ্মবেশে এসেছিল তাদের হাউজে।এলেনা তাকে পাকড়াও করেছিল।তারপর—সে যা বলেছিল… একবারও মনে হয়নি মিথ্যা বলছে। এলেনা মানুষের মন পড়তে ও হিপনোটাইজ করতে পারে খুব ভালো করেই।আর কার্লো যে লোগোটি দিয়েছিল—যেটা এলেনার বাবার ডেড বডির পাশে পাওয়া গিয়েছিল—সেটা ব্যবহার করে শুধু একজন—জেইন।
তবুও তার মন বলেছিল—ছায়ার আড়ালে আরও বড় সত্য লুকানো আছে।
“এজে কখনো আড়ালে থেকে কাউকে আঘাত করে না। সামনাসামনি, মুখোমুখি শেষ করে।এতদিনে এতটুকু চিনলে তুমি?”
“বিশ্বাস করা কঠিন ছিল ইয়াশ… কিন্তু যে ছেলে নিজের বাবাকে হত্যা করেছে… এমনকি নিজের মাকেও মারতে গিয়েছিল… তার কাছে আর কি অসম্ভব?”
“ও বিনা কারণে কাউকে আঘাত করে না। তার প্রতিটি অ্যাকশনের একটা ব্যাকস্টোরি থাকে।”
“হয়তো তাই এখনও ওর কোনো ক্ষতি করতে পারিনি। কিন্তু যেদিন সব সত্য বেরিয়ে আসবে, সেদিন নিজ হাতে বিচার করবো।”
“আর যদি তোমার ধারনা ভুল হয়ে থাকে? যদি এজে নির্দোষ প্রমাণিত হয়?”
এলেনা মুখমন্ডল দৃঢ়,
“তাহলে… এই মুখ আর কোনোদিন দেখবে না।”
সে আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে ঘুরে দাড়াল। ভারী বৃষ্টির ভেতর দ্রুত পা চালিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। তার ভেজা শরীর মিশে অন্ধকারে। যেন কবরস্থানের আঁধার তাকে গিলে নিলো ধীরে ধীরে।
ইয়াশ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল তার যাওয়ার পানে।বৃষ্টির শব্দ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।তার পায়ের কাছে জলের স্রোত বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বুকের ভেতরটা অদ্ভুত ভাবে পুড়ছে। জীবনে কি আর শান্তি পাওয়া হবে না?
“উমমম্ শুরশুরি লাগছে।”
আধো ঘুম ভরা ফিসফিসানো মেয়েলী কন্ঠস্বর।
আকাশের নীল ক্যানভাসে ভোরের নরম আলো সবেমাত্র তার সোনালী তুলি বুলিয়েছে। তুমুল ঝড়ের পর প্রকৃতি ধারণ করেছে এক স্নিগ্ধ, পবিত্র রূপ—যেন সদ্যস্নাত কোনো অপ্সরা। বৃষ্টি থেমেছে ভোরের কিছুক্ষণ আগেই, আর সেই বৃষ্টির ধোয়া শান্ত বাতাস জানালা ভেদ করে ঘরে প্রবেশ করছে, সাথে নিয়ে এক মাদকতাময় ভেজা মাটির ঘ্রাণ।
পূর্ব দিগন্তে মেঘের আড়াল ভেদ করে সূর্য তখনও পুরোপুরি জাগেনি, কিন্তু জালানার পাতলা পর্দা ফাঁক করে আসা মৃদু সোনালী আলো ঘরে রাখা বিশাল মাস্টার বেড-এর কালো সিল্কের চাদরে এক মায়াবী আভা তৈরি করেছে। সেখানে মিশে আছে দুটি উষ্ণ, গভীর ভালোবাসায় সিক্ত দেহের ছাপ।
জেইন, তার পৌরুষদীপ্ত মুখখানা রিমের ন*গ্ন, কোমল ব*ক্ষে গুঁজে দিয়েছে। তার উষ্ণ নিঃশ্বাস রিমের ত্বকে মৃদু শিহরণ তুলছে। গভীর ঘুমেও তার মন যেন রিমের ঘ্রাণে বুঁদ হয়ে আছে। আচমকা, যেন রিমের অস্তিত্বের আকর্ষণে, সে ঘুমের মধ্যেই আলতো করে বুকে নাক ঘষে ঘ্রাণ টেনে নিল। এরপর সেখানে শুরু হলো তার ভালোবাসার এক নতুন পর্ব- বুকের নরম ত্বকে তার ঠোঁট যেন পথ খুঁজে নিল, ছোট্ট ছোট্ট আদুরে চুম্বনে ভরে দিল সেই পথ। এই নীরব, গভীর আদুরে স্পর্শে রিমের ঘুম পাতলা হয়ে এল।
ধীরে ধীরে চোখ খুলে, রিম তার অস্পষ্ট, ঘুমজড়ানো দৃষ্টি তুলল। সারারাত একটুও ঘুম হয়নি তার—এমন একজন ‘দানব রূপী’ মানুষ পাশে থাকলে বুঝি আর ঘুমানো যায়!সারারাত ধরে যে জ্বালাতন চলেছিল, ভোরের আলো ফুটতেই তার দ্বিতীয় পর্ব শুরু!
সে প্রথমে সামান্য বিরক্ত হলো। কিন্তু তার তনু মনে তখন সারারাতের ক্লান্তির চেয়েও বেশি ছিল এক মিষ্টি সুখের রেশ।জেইনের শরীরের উষ্ণ মাদকতা তার ছোট্ট শরীরেও ছড়িয়ে পড়েছে। সে নিজের মুখটা জেইনের মুখের খুব কাছে নিয়ে এলো। এতটাই কাছে যে দুজনের নিঃশ্বাস মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল।
~~Saans mein Teri , saans mili to….
Mujhe saans aayi….(3)
Raat Teri bahon mein Kate to….
Subah Badi halki lagti hai….🎶
তার ঘুমজড়ানো চোখজোড়া যখন জেইনের মুগ্ধ মুখটির উপর স্থির হলো, তখন তার ঠোঁটে মৃদু লজ্জা মিশ্রিত হাসি ফুটলো। ‘ইশ! মানুষটিকে তার এতো সুন্দর, এতো আকাঙ্ক্ষিত লাগছে কেন! ইচ্ছে করছে শক্ত করে জড়িয়ে টাইইট করে একটা চুমু বসিয়ে দিতে।
মনের ইচ্ছেরা কখনো কখনো বাঁধ মানে না। রিম তার ইচ্ছেটাকে আর পুষে রাখতে পারলো না। চোখের পলকে সামান্য উঁচু হয়ে ফটাফট একটা মিষ্টি, ভেজা চুমু বসিয়ে দিল জেইনের গালে।
জেইন যেন আচমকা বিদ্যুতের ছোঁয়ায় চমকে চোখ খুলে তাকালো। তার গভীর চোখ দুটিতে বিস্ময় ঝলকে উঠলো। রিম তার গলা আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরে, মিষ্টি গলায় ফিসফিস করে বলল,
“গুড মর্নিং হাব্বি।”
রিমের ঘুম জড়ানো কণ্ঠস্বর। যেন এক তীব্র নেশা ছড়িয়ে গেল জেইনের সমস্ত ইন্দ্রিয়ে। পরমুহূর্তেই ঠোঁট কামড়ে ক্রুর হাসলো । যা রিমের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিল।
“এটা কি মর্নিং কিস ছিল?”
তার গলার স্বর গভীর, মাদকতায় ভরা।
রিম মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। তার ফোলা ফোলা, মিষ্টি গাল দুটো ইতোমধ্যেই গাঢ় লালে টকটকে হয়ে উঠেছে—যা জেইনের চোখে নেশা ধরিয়ে দিল।জেইন ধীরে ধীরে রিমের ঠোঁটের কাছে তার ঠোঁট নিয়ে গেল। তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। জেইন তার ঘুমজড়ানো গাঢ়, নেশা ধরানো কণ্ঠে ফিসফিস করলো,
“Then I don’t accept it. I want it on my lips, not on my cheeks.”
রিম লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিল।
“ইশশশ… পারবো না।”
“কেন? তুমি চিটিং করেছো আমার সাথে। আমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে আমার মতো একটা নিষ্পাপ, ভদ্র ছেলেকে একা পেয়ে, আমার… ভার্জিনিটি নষ্ট করে দিয়েছো! এখন শাস্তিস্বরূপ আজকের পুরো দিনটা তোমাকে আমার সাথে এই বিছানাতেই কাটিয়ে দিতে হবে।”
রিমের কন্ঠে বিস্ময়
“তুমি ভার্জিন! আবার নিষ্পাপ, ভদ্র! এতো কিছুর পরেও নিজেকে ভার্জিন দাবি করো কিভাবে? তুমি একটা চরম অসভ্য, অভদ্র, নির্লজ্জ, ধৈর্য্যহীন, বেয়াদব ছেলে!”
জেইনের উষ্ণ নিঃশ্বাস রিমের কানে আছড়ে পড়ছে। সে মুখে ইনোসেন্ট ভাব নিয়ে বললো,
“আমি ধৈর্য্যহীন? আমি? আমার মতো ধৈর্যশীল ছেলে তুমি আর একটাও খুঁজে পাবে না। আমার ভার্জিনিটি নষ্ট হয়েছে ২৯ বছর বয়সে! আর তুমি মাত্র ১৯ বছর বয়সেই নিজের ভার্জিনিটি হারিয়ে বসে আছো! তাহলে এবার বলো, কে বেশি ধৈর্যশীল! তুমি না আমি?”
রিমের রাগ এবার সত্যিই আকাশ ছুঁলো। সে কি নিজে থেকে তার ভার্জিনিটি নষ্ট করেছে? সবই তো এই জানোয়ারটার কাজ! একে তো নিজে জোর করে তার সাথে ইংকি পিংকি করেছে, এখন আবার তাকেই বদনাম করা হচ্ছে! রাগে ফোঁস করে উঠে সে জেইনকে দুহাতে দুরে ঠেলে দিল। জেইন ঠোঁট কামড়ে ক্রূর হাসল। তার চোখে গভীর নেশা। বিদ্যুতের মতো দ্রুত সে রিমের কাছে এসে তাকে দু’হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। রিমের কোমল শরীর তার ইস্পাত কঠিন পেশির বাঁধনে অসহায়।রিম ছটফট করতে শুরু করলে জেইনের হাতের বাঁধন আরও দৃঢ় হলো—এ যেন এক মিষ্টি কারাগারে বন্দী হওয়া।
“উফ্ এতো রাগ! আমার সোনা-পাখিটা, পুরো টমেটোর মতো লাল হয়ে গেছে! ইচ্ছে করছে তোমার এই রসে ভরা লাল লাল গাল দুটো টুস করে কামড়ে খেয়ে ফেলি,”
জেইন তার ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে গভীরভাবে শ্বাস টেনে নিল।রিম আরও বেশি ছটফট করে উঠলো। এলোমেলোভাবে আঘাত করতে লাগলো জেইনের পিঠে। জেইন যেন এই প্রতিবাদে আরও উদ্দীপ্ত হলো। সে তার মাথা সামান্য নিচু করে, রিমের বুকের সেই নরম, উঁচু অংশে দাঁত বসিয়ে দিলো।
“আহ্!”
রিম শব্দ করে ফুঁপিয়ে উঠলো। কাঁদো কাঁদো গলায় ফিসফিস করলো,
“জানোয়ার! ছাড় আমাকে!”
জেইন সেখানে শব্দ করে গভীর একটা চুমু দিলো, যেন তার ব্যথা উপশম করতে চাইছে।
“সরিই, রাগ করেছো সোনা?”
রিম ফোলা ঠোঁটে অভিমানী স্বরে বলল,
“নাআ্… ছাড়ো।”
জেইন ক্রুর হেসে তার ঠোঁটের কাছে ঠোঁট নিয়ে বলল,
“আগে ঠোঁটে চুমু দাও, তারপর…”
“না, দিব না। তুমি পঁচা!”
“দাও না। দেখো কেমন শুকিয়ে যাচ্ছে আমার ঠোঁট! তোমার ভেজা স্পর্শের অভাবে। প্লিইজ সোনা।”
জেইনের গলার স্বর তীব্র কামনা মিশ্রিত।রিমের বুক ধুকধুক করে উঠলো। মুখ তীব্র লাল। সে চোখ নামিয়ে নিল। ঐ চোখে চোখ রাখার ক্ষমতা তার নেই, আর সেই মাদকতা ভরা ঠোঁট… রিমের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠলো। এই মানুষটির প্রতি তার তীব্র আকর্ষণ তার সব রাগ ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
“কি হলো, দিবে না?”
জেইনের আকুতি মিশ্রিত গাঢ় কন্ঠ।রিম শুষ্ক ঢোক গিললো। দ্বিধা কাটার আগেই জেইন নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না। সে ক্ষুধার্ত শিকারীর মতো রিমের ঠোঁট শক্ত করে নিজের ঠোঁট বন্দী করে নিলো। গভীর, দীর্ঘ, কামনা-ভরা চুমু। আবেশে রিমের চোখ দুটো বুজে এলো।প্রথম চুমু ছিল শুধু মিষ্টির শুরু। এখন তা পরিণত হলো গভীর সমুদ্রে। জেইন এক হাতে রিমের মুখটা ধরে নিজেকে আরও কাছে টেনে নিল, আর অন্য হাতটা চলে গেল রিমের কোমরে, আলতো করে চাপ দিল যেন তারা আরও কাছাকাছি আসে।
রিমও এই চুম্বনের গভীরে হারিয়ে গেল। সে জেইনের ঘন চুল মুঠোয় ধরে, চুমুটিকে আরও উত্তাল করে তুলল।সেও তার সবটুকু আবেগ ঢেলে দিয়ে জেইনের গলা জড়িয়ে তার ঠোঁটে মেলাতে লাগলো ঠোঁট। শুরু হলো ওষ্ঠের সাথে ওষ্ঠের এক উন্মত্ত, গভীর লড়াই।তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস মিলেমিশে একাকার। চুমুর তীব্রতা এতই গভীর যেন মনে হচ্ছে দুজনেই দুজনকে নিজের ভেতরে শুষে নিচ্ছে। তাদের দেহের উষ্ণতা, চাদরের সিল্কের স্পর্শ এবং ভোরের মৃদু আলো—সব মিলে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি হলো।জেইন রিমের ঠোঁটের অমৃত সুধা পান করতে করতে তাকে আলতো ভাবে সিল্কের বালিশে শুইয়ে নিজের সম্পূর্ণ ভর তার উপর ছেড়ে দিল—ভারী, উষ্ণ শরীরের নিচে পিষে নিল রিমের ছোট্ট শরীরটা। রিম ছটফট করে উঠলো।
উন্মত্তের মতো চুমু খেতে খেতে জেইন এক হাতে রিমের শরীরে এলোমেলোভাবে আদর বোলাতে লাগলো। রিম ব্যথায় গুঙ্গিয়ে উঠলো।জেইন চুম্বনে আরও গভীর হলো। রিমের জিভ নিয়ে নিল নিজের আয়ত্তে। ধীরে ধীরে এক হাত চলে গেল নিচের দিকে…
রিম শুষ্ক ঢোক গিললো। ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে তপ্ত শ্বাস ছেড়ে মৃদু স্বরে উচ্চারণ করলো,
“এখন না, প্লিজ…”
জেইন ঠোঁট না সরিয়েই চাপা, ভারী গলায় বলল,
“একটু তো… It will be done soon, I promise.”
“না প্লিজ… আমি সহ্য করতে পারবো না। মরে যাবো।”
জেইন হঠাৎ থেমে গেল, রিমের ঠোঁট ছেড়ে মুখটা উঁচু করে তার মুখের দিকে তাকালো। মুখে লাল আভা ছড়িয়ে রয়েছে, চোখের পাতা বন্ধ। এক কোণে জল চিকচিক করছে। জেইন তার কামনা চেপে রিমের বুকে মুখ গুজে দিলো।কিছুক্ষণ পর রিম কোনো স্পর্শ না পেয়ে চোখ খুলে তাকালো। জেইনের নিঃশ্বাস রিমের বুকে আছড়ে পড়ছে। রিম বারবার কেঁপে কেঁপে উঠছে। সে মৃদু স্বরে বলল,
“ঘুমিয়ে পড়েছে?”
“উমমম্…”
জেইন তাকে আরও গভীরভাবে নিজের সাথে মিশিয়ে সেই তুলতুলে বুকে নাক ঘষে নিলো।
“রাগ করেছো?”
জেইন মাথা উঁচু করে তার নাকে আলতো নাক ঘষে, ঠোঁটে ছোট্ট করে একটা চুমু দিয়ে বললো,
“না, এমন লক্ষ্মী বউয়ের সাথে কি রাগ করে থাকা যায়?”
সে আবারো মুখ ডুবিয়ে দিলো রিমের গলায়। কলার বোনের ছোট্ট তিলটায় একটা গাঢ়, অধিকারপূর্ণ চুম্বন এঁকে দিলো। রিম শিরশির করে উঠলো। ছোট ছোট আঙুল দিয়ে জেইনের বুকে আঁকিবুঁকি করতে করতে বললো,
“এই! শোনো না।”
“হুমমমম।” জেইন চোখ বন্ধ করেই উত্তর দিলো।
“তুমি এখন এভাবেই চোখ বন্ধ করে ঘুমাবে, ওকে?
জেইন রিমকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। নিজের ভারী শরীরটা ছোট্ট তুলতুলে শরীরে ডুবিয়ে গাঢ় ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলল,
“ওক্কেই…”
“উফ্ ব্যাঙ! আগে শোনো তো!”
“হুমম্ বলো।”
“আমি ওয়াশরুমে যাবো শাওয়ার নিতে, আর…”
“Okay, let’s go, I’ll take you.”
“উফফ্!”
রিম বিরক্ত হয়ে মুখে ‘চ্য’ জাতীয় শব্দ উচ্চারণ করলো।
“আগে পুরো কথাটা শুনবে তো…!”
“ঠিক আছে মহারানী, বলুন।”
জেইন তার কানের লতিতে আলতো দাঁত ঘষে উত্তর দিলো।
রিম লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেললো। ধীরে ধীরে ঠোঁট নাড়িয়ে নিচু গলায় বলল,
“তুমি ঘুমাবে তারপর আমি শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসবো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াবো। আমার ভেজা চুলের জলের ঝাপটায় তোমার ঘুম ভাঙবে। তারপর তুমি এসে আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরবে। আর তারপর……
জেইন ফট করে মাথা তুলে এক ভ্রু উঁচু করে বললো,
“তারপর?…..”
রিমের লজ্জা আরও তীব্র হচ্ছে। চোখ নামিয়ে সে ঠোঁট কামড়ে বলল,
“কিছু না!”
জেইন তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করলো, তার কণ্ঠস্বর রিমের শরীরের প্রতিটা শিরায় শিহরণ জাগালো,
“তারপরেরটা আমি বলছি। একচুয়ালি করে দেখাচ্ছি। ইটস বেটার ইউ নো…”
“উমমম্ না না! তুমি আমার কোনো কথা শোনো না! আমি যেভাবে বলছি সেভাবে একটু করো না..। আমি অনেক মুভিতে দেখেছি নতুন বউরা বিয়ের পর এমন করে। আমিও করবো!”
“তাই…”
“হুম…”
“কিন্তু তোমাকে এসব করতে হবে না। বিকজ ইউ আর ডিফারেন্ট ফ্রম এভরি ওয়ান। অ্যান্ড অলসো ভেরী স্পেশাল ফর মি।”
“সত্যিই স্পেশাল?”
“হুম খুব।আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর পবিত্র সকাল তুমি। আমি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে তোমাকে দেখতে চাই। ঘুমানোর আগে তোমাকে দেখতে চাই। খাওয়ার আগে, খাওয়ার পর, উঠতে, বসতে, চলতে, ফিরতে, সকাল, দুপুর, রাত, অল টাইম শুধু তোমাকেই দেখতে চাই।”
“তাহলে আমার কথা শুনছো না কেন?”
রিম আবদার করে তার বুকে মাথা ঘষলো।
জেইন হালকা নিঃশ্বাস ছাড়লো। এই মেয়ের মিষ্টি আবদার সে কিছুতেই উপেক্ষা করতে পারে না। সে রিমের নাক টেনে দিয়ে বলল,
“যো আজ্ঞা মহারানী। আমি ঘুমিয়ে পড়ছি।”
রিম খুশিতে ঝলমল করে উঠলো। সে জেইনের চোখের পাতা দুটো দু’হাতের ছোট ছোট আঙুলে বন্ধ করে দিলো।
“ঘুমাও এখন। এখনি চোখ খুলবে না। আমি আসলে তারপর খুলবে। বুঝতে পেরেছো!”
জেইন এক চোখ হালকা খুলে রিমের দিকে তাকালো। রিম বিরক্ত হয়ে সেটা বন্ধ করে দিয়ে বললো,
“উফ্! চিটিং করবে না!”
“আচ্ছা।”
রিম শরীরে কালো সিল্কের চাদর মুড়ি দিয়ে নেমে পড়লো বিছানা থেকে। আদরে মাখামাখি ছোট্ট শরীরটাকে ঢেকে সে মৃদু পায়ে এগিয়ে চললো ওয়াশ রুমের দিকে।
হেমন্তের সন্ধ্যা। বারান্দায় তখন শেষ বেলার আলোর সঙ্গে মিশেছে বিষণ্ণতার ছায়া। রেলিংয়ে সাথে হাঁটু মুড়ে মাথা নিচু করে বসে আছে রাহি। পড়ন্ত আলোয় তার পাশে পড়ে থাকা স্মার্টফোনটা ম্লান দেখাচ্ছে। সামনেই তার জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা—এসএসসি। মা-সেফালী বেগম চাইছিলেন না এত আগে তাকে ফোন কিনে দিতে, কিন্তু অনলাইন ক্লাসের দরুন বাধ্য হয়েই কিনে দিয়েছেন।
কাল থেকে পরীক্ষা শুরু, অথচ গত দু’দিন ধরে তার মন অস্থির। এই দু’দিন ধরে সে বারবার ডায়াল করেছে সেই বিশেষ নম্বরটিতে, যেটা তাকে দিয়েছিল সেই ইতালীয় মানুষটি, মাত্তেও। কিন্তু প্রতিবারই ফোনের স্ক্রিনে কেবল ভেসে উঠেছে একটিই কথা: ‘ইনভিজিবল’ (Invisible)।
প্রথমবার সে ভেবেছিল, হয়তো সময়-অসময়ের পার্থক্য; এখানে দিন, ওখানে রাত, তাই ধরেনি। হয়তো ব্যস্ত ছিল। কিন্তু যখন রাতেও বারবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পেল না, তখন সেই কঠিন সত্যটা তার সামনে স্পষ্ট হয়ে গেল—আসলে সবটাই ছিল ক্ষণিকের ভালো লাগা, একটা দূরবর্তী মোহ। দূরত্ব বাড়লে যা দ্রুত ফিকে হয়ে যায়। যদি উত্তর না-ই দেবে, তবে এমন আশা জাগানোর কী দরকার ছিল?
দীর্ঘশ্বাস ফেলে রাহি নিজেকে বোঝালো: আর নয়! এই সব ঠকবাজ, মিথ্যা মানুষের কথা আর ভাববে না সে। এখন মন দিয়ে শুধু নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকতে হবে। পড়াশোনায় সে বরাবরই ছিল তার স্কুলের গর্ব। শিক্ষকদের দৃঢ় বিশ্বাস, এবার সে অবশ্যই গোল্ডেন পাবে।
মন থেকে সব অপ্রয়োজনীয় ভাবনা ঝেড়ে ফেলে, নিজেকে শক্ত করে তুলে দাঁড়ালো রাহি।উদ্দেশ্য—রুমে গিয়ে নামাজ শেষে বইয়ে ডুবে যাওয়া। বারান্দার নিস্তব্ধতা ভেঙে সে ভেতরের দিকে পা বাড়ালো, দূরের মসজিদ থেকে ভেসে এলো মাগরিবের আযান যেন তাকে নতুন করে মনোযোগের বার্তা দিল।
ক্যালাব্রিয়া, পেন্টহাউজ
সদ্য স্নান সেরে উষ্ণ বাষ্পের রেশ নিয়ে ওয়াশ রুমের দরজা খুলে বেরিয়ে এলো রিম। ঘর জুড়ে তখন সদ্য ফোটা সফেদা জুঁইয়ের মতো এক স্নিগ্ধ সুবাস।
বুকের ভেতর অদ্ভুত কাঁপন; উষ্ণ রক্তস্রোত বয়ে নিয়ে যাচ্ছে শরীরের ভেতর। শক্ত করে দুহাতে জামার ভাঁজ খামচে বুক ভরে শ্বাস নিলো – বাথরুমের ভেতরের কর্পূর আর সতেজতার ঘ্রাণ যেন তার প্রতিটি কোষে মাদকতা ঢেলে দিচ্ছে। পরনে ধবধবে সফেদা রঙা চুড়িদার, যা তার ফর্সা ত্বককে আরও উজ্জ্বল করেছে। মুক্তোর দানার মতো জলের বিন্দুগুলো ভেজা চুলের ডগা থেকে খসে তার সুডৌল পিঠ বেয়ে নিচে নামছে, যেন উষ্ণ মার্বেলের ওপর শীতল জলধারার আলতো চুম্বন। বাথরুমের উষ্ণ বাষ্প তখনও ঘরের বাতাসে এক মৃদ্যু কুয়াশার জাল বুনে রেখেছে।
রিম ধীরে ধীরে, ছোট্ট পায়ে নুপুরের শব্দের মতো পা ফেলে আয়নার সামনে এসে দাঁড়ালো। গভীর প্রশান্তিতে চোখ বুজে আলতো হাতে ভেজা চুলগুলোকে পিঠের উপর ঝাড়তে শুরু করলো।
পিছন ফিরে ঘরের মৃদু আলোয় দেখল—জেইন তখনও নিশ্চুপ বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে আছে, তার চোখ দুটি বন্ধ। রিম চিরুনি দিয়ে তার কাজলকালো, ঘন ভেজা চুল আলতো করে আঁচড়ে নিল, তারপর সেটিকে খেলার ছলে একবার জোর ঝাড়া দিল। সেই জলের দু-একটি স্নিগ্ধ ফোঁটা গিয়ে পড়লো জেইনের, ঘুমন্ত মুখের উপর।
পানির ঠান্ডা ফোঁটা মুখে আছড়ে পড়তেই চোখ খুলে ফেললো জেইন। তার চোখে তখনও গভীর ঘুমের ঘোর এবং পৃথিবীর সব আলস্য। কিন্তু রিমের ভেজা চুলের মিঠে ঘ্রাণ, শ্যাম্পু, তার সদ্য-স্নাত শরীরের নিজস্ব উষ্ণতার মিশেলে তৈরি সেই মাদকের মতো সুগন্ধি আর জলের অপ্রত্যাশিত শীতল স্পর্শ যেন তাকে এক তীব্র, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ঘোরের মধ্যে টেনে নিল। পলকহীন, ঘোর লাগা চোখে সে বিছানায় হেলিয়ে রিমের দিকে তাকিয়ে রইল— সেই চাহনিতে ছিল গভীর আকাঙ্ক্ষা আর সীমাহীন মুগ্ধতা।
রিম, তার কাছে কিছু বিশেষ কথা শোনার অপেক্ষায় ছিল, কিন্তু জেইনের কাছ থেকে সেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না পেয়ে তার মুখটা অভিমানী মেঘে ঢেকে গেল। চোখ কুঁচকে, ঠোঁট ফুলিয়ে সে তাকালো। এক মুহূর্ত আর অপেক্ষা না করে চিড়ুনিটা সে সশব্দে ঝাড়ি মেরে ছুঁড়ে দিল জেইনের দিকে, যা তার কানের পাশ দিয়ে পাশবালিশে গিয়ে পড়লো।
“উফ্, তোমাকে কি বলেছিলাম আমি? কিচ্ছু পারো না তুমি। শয়তান একটা! ধুর ভাল্লাগে না!”
রিম ঠোঁট উল্টে শিশুসুলভ রাগে মুখ ফিরিয়ে নিলো।আচমকা কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই জেইন বিদ্যুৎ বেগে রিমকে নিজের দিকে টেনে, তার শক্ত বুকের ওপর ফেলে দিল। রিম কিছু বুঝে ওঠার আগেই, এক লহমায় তাকে বিছানায় ফেলে দিয়ে তার উপর ঝুঁকে এলো। রিমের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো, তার হৃদস্পন্দন তখন যেন বুনো ঘোড়ার দৌড়ের মতো জেইনের কানে স্পষ্ট বাজছে— প্রতিটা ধুকপুক শব্দে ছিল ভয় আর অজানা সুখের এক অদ্ভুত মিশ্রণ।
জেইন তার উন্মত্ত আকাঙ্ক্ষাকে আর ধরে রাখতে পারলো না। সে রিমের গলা থেকে শুরু করে কাঁধের কোমল বক্রতা পর্যন্ত গভীর চুম্বনে ভরিয়ে দিল।তার অস্থিরতা, তার উন্মাদনা যেন এক অদম্য স্রোত। সে রিমের তুলতুলে, গোলাপী ঠোঁট দুটো দখল করে নিল— সেই চুম্বন ছিল অস্থির, গভীর এবং তীব্র। হঠাৎ রিম যেন স্বপ্নের ঘোর থেকে জেগে উঠলো, সে ছটফট করতে শুরু করলো। জেইনের স্পর্শের এই তীব্র স্রোত সে সামলে উঠতে পারছিল না। তার দ্রুততা, রিমের ধারণার চেয়েও বেশি ছিল। জেইন একহাত পেছনে নিয়ে আলতো টানে খুলে ফেলল চুড়িদারের ফিতে। রিমের চোখ দিয়ে তখন নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে— এ ভয়, সুখ, না আত্মসমর্পণ, সে নিজেও জানে না।
রিম আবেগে জেইনের পিঠ শক্ত করে খামচে ধরলো। রুদ্ধশ্বাসে ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে ফিসফিস করে বললো,
“ছাড়োহ্…. আমাকে একটু সময় দা… প্লিজ… আমিহ্…”
জেইন গাঢ় চুম্বন শেষে রিমের ঠোঁট ছেড়ে নেমে এলো তার চিবুক, তারপর গলার ভাঁজে। রিম তখন তীব্র আবেগে তার চুলগুলো শক্ত করে মুঠোয় খামচে ধরলো। সে ধীরে ধীরে, গভীর শ্বাস নিতে লাগলো। জেইন ধীরে ধীরে আরও নিচের দিকে নামতে লাগল। রিমের কণ্ঠস্বর কেঁপে উঠলো।
“না প্লিজ… মরে যাবো। সত্যি মরে যাবো,”
তার এই আর্তনাদ যেন জেইনের উন্মত্ততাকে আরও উসকে দিচ্ছিল।
জেইন তখন আলতো হাতে রিমের জামা সরিয়ে উন্মুক্ত তুলতুলে পেটে মুখ ঘষতে ঘষতে নিচু, ভারী স্বরে ফিসফিস করে বললো,
“I can’t…. bear it up, তুমি এত কাছে… আমি স্থির থাকতে পারছি না! It’s so hard to control myself.”
রিম তখন ফুঁপিয়ে শব্দ করে কেঁদে উঠলো। চোখের জলে ভিজে যাচ্ছে বালিশ—সেই কান্নার শব্দ জেইনের উন্মত্ততাকে মুহূর্তেই শান্ত করে দিল। জেইন তৎক্ষণাৎ থেমে গেল। মুখ উঠিয়ে রিমের শ্রান্ত, ভেজা কপালে শক্ত করে একটা গভীর চুমু এঁকে দিল। তারপর আলতো করে তাকে নিজের বুকের মাঝে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শান্ত করলো। রিমের ভেজা চোখের পাতায় কয়েকটা আদুরে চুমু দিয়ে সে ফিসফিস করে বলল,
“সরি সোনা। তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি।”
রিম নাক টেনে টেনে ফুঁপিয়ে উঠে বললো,
“আমি যেভাবে করতে বলেছি তুমি সেভাবে করো.. করো নি।”
“আচ্ছা ঠিক আছে চলো আবার করি।”
“নাআ্…”
“কেন?”
“এমনি।”
“সবসময় এতো রাগ করো কেনো?”
“তুমি সবসময় এমন করো কেন?”
“সামলাতে পারি না তাই। মানুষের যেমন নেশা-ধরানো নিষিদ্ধ ড্রাগের প্রতি মারাত্মক, সর্বনাশা আসক্তি থাকে… আমার ঠিক তেমন তোমার ওপর। তুমি আমার ধমনীর রক্তে মেশানো হিরোইনের চেয়েও ভয়ংকর এক আসক্তি! কিছু মানুষ ড্রাগের জন্য মরে, আর আমি তোমার জন্য বাঁচি। You are my only addictive addiction.”
“ভালোবাসো আমায়?”
এক অবুঝ শিশুর মতো সারল্যে প্রশ্ন করলো রিম।সে উত্তরের আশায় টলটলে চোখে জেইনের মুখের দিকে চেয়ে রইল। তার প্রশ্নটি যেন বাতাসের সমস্ত শব্দ শুষে নিল। জেইন নিরুত্তর, কেবলই অপলক দৃষ্টিতে রিমের নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তার নিরবতা রিমের বুকে নতুন করে ভয় জাগালো।
“বলো না প্লিজ।”
“না।”
জেইনের মুখ থেকে সেই অপ্রত্যাশিত, নিষ্ঠুর ‘না’ শব্দটি শুনে রিমের চোখ থেকে জল বাঁধ ভাঙা স্রোতের মতো গড়িয়ে পড়তে লাগলো। মানুষটা এতো নিষ্ঠুর কেন? সে তো কেবল তার মুখ থেকে ভালোবাসার অমৃত বাণী শুনতে মরিয়া হয়ে যাচ্ছে!
ভীষণ অভিমান হলো তার, কি এমন ক্ষতি হতো একটু ‘ভালোবাসি’ বললে? সেই অভিমান, সেই অসহায়তা একত্রিত হয়ে রিমের কণ্ঠনালীতে জমা হলো। মুখ ফুলিয়ে, ছলছল চোখে সে বলেই ফেলল,
“যদি ভালো নাই বাসো, তবে আমাকে বাড়ি দিয়ে আসো। এখানে থাকবো না আমি।”
এই কথাগুলো যেন জেইনের ভেতরের হিংস্র পশুটিকে মুহূর্তের মধ্যে জাগিয়ে তুললো। তার চোখ দুটো সঙ্গে সঙ্গে গাঢ় অন্ধকারে ডুবে গেল। মুখের সমস্ত কোমলতা মুছে গিয়ে সেখানে ফুটে উঠলো এক নিষ্ঠুর, পাথরের মতো কাঠিন্য।
আচমকা! বিদ্যুৎ বেগে জেইন তার শক্ত, লোহার মতো হাতে রিমের নরম টুটি চেপে ধরলো। রিম আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল। সে খুকখুক করে কেশে উঠলো। চোখ দুটো উল্টে যাচ্ছে, নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে। সে বাঁচতে চেয়ে ছটফট করে উঠলো। দু’হাতে জেইনের কব্জি ধরে সরানোর চেষ্টা করলো, কিন্তু জেইনের শক্তি তখন অমানুষিক— যেন কোনো উন্মাদ দানব ভর করেছে তার ওপর।
জেইন দাঁতে দাঁত চেপে, প্রতিটি শব্দ চিবিয়ে চিবিয়ে বললো, তার কণ্ঠস্বর ছিল এক হিংস্র, চাপা গর্জন
“কী বললি তুই? আরেকবার বল! কোথায় যাবি হ্যাঁ? আমাকে ছেড়ে যাওয়ার স্পর্ধা দেখাচ্ছিস? এতই সহজ? কি ভেবেছিস, আমি সেই সাধারণ প্রেমিক, যে বিরহে দেবদাস হয়ে ঘুরে বেড়াবে? না!”
জেইন রিমের গলার বাঁধন আরও শক্ত করলো। রিমের মুখ তখন নীলচে লাল হয়ে আসছে।
“কতবার বলেছি, আমাকে কখনো ছেড়ে যাওয়ার কথা বলবি না! আমার জীবনে একবার ঢোকার পর, মৃত্যুও তোকে আমার থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না! আমি তোর নিয়তি! তোর শিরায় শিরায় বহমান সেই বিষ, যা তোকে কেবল আমার দিকেই টানবে। আমি কোনো প্রেমিক নই, আই’ম আ ফা*কিং ভিলেইন!”
জেইনের চোখ তখন যেন জ্বলন্ত কয়লার মতো।
“যা আমার, তা কেবলই আমার। তোর প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি স্পন্দন— সব কিছুর মালিকানা আমার। ছেড়ে যাবি কোথায়? এই আরাত্রিক জেইন হলো তোর চারপাশের দুর্ভেদ্য প্রাচীর! আমি কখনো নিজের জিনিস নিয়ে সেক্রিফাইস করি না। আমি ধ্বংস করি! দুনিয়াকে পায়ের নিচে মাড়িয়ে, রক্তের সাগর পেরিয়েও কিভাবে নিজের আকাঙ্ক্ষার বস্তুকে ছিনিয়ে নিতে হয়, সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি!”
রিমের ছটফটানি ক্রমশ তীব্র হলো। শ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসায় তার শরীর এলিয়ে যেতে লাগলো। সে বাঁচতে চেয়ে জেইনের হাত খামচে ধরে তার ত্বকে নখ গভীর করে ডুবিয়ে দিল, কিন্তু জেইন এতটুকুও টললো না। বরং তার হাতের বাঁধন আরও শক্ত হয়ে এলো।
এবার রিমের চোখ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসছে, নিঃশ্বাস ক্ষীণ। রিমের লাল হয়ে যাওয়া করুণ মুখের দিকে তাকাতেই নিমিষে জেইনের ভেতরের হিংস্র দানবটা উধাও হয়ে গেল, তার যেন হুশ ফিরে এলো।
মুহূর্তেই তার হাতের বাঁধন ঢিলে হয়ে এলো। রিমকে মুক্ত করে দিতেই সে দুম করে জেইনের উষ্ণ বুকে ঢলে পড়লো। রিম হাঁপাতে লাগলো, মুখ হাঁ করে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে লাগলো। জেইন রিমকে আলতোভাবে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল।
রিমের গলার কাছটায় গভীর লাল হয়ে জেইনের আঙুলের ছাপ বসে গেছে। সেই কালশিটে পড়ার জায়গায় জেইন তখন অস্থির, পাগলের মতো হয়ে উঠলো। সে সেই লালচে দাগে একটার পর একটা ছোট্ট, উষ্ণ চুম্বনে ভরিয়ে দিল। তার শ্বাস-প্রশ্বাস তখনো দ্রুত। তার কন্ঠে পাগলামি আর অস্থিরতা মিশে গেল,
“বেশি কষ্ট হচ্ছে সোনা? আমি কি বেশি ব্যথা দিয়ে ফেলেছি তোমাকে? আমাকে , আমাকে ক্ষমা করে দাও… না না ক্ষমা করবে না, আমি তোমাকে কষ্ট দিয়েছি, তুমি মারো আমাকে, মারো, মারো!”
সে রিমের দুহাত নিয়ে নিজের গালে উন্মাদের মতো চর দিতে লাগলো।
“আমি আমার সোনাকে কষ্ট দিয়েছি। তোমাকে কষ্ট দিয়েছি, আ-আমাকে শাস্তি দাও, শাস্তি দাও আমায়… মারো যত খুশি মারো।”
রিম আরো বেশি শব্দ করে ফুঁপিয়ে উঠলো।জেইন রিমকে আরও শক্ত করে বুকে চেপে ধরলো।জেইনের উষ্ণ বুকে সাথে লেপ্টে রইলো রিম। সে আবার শব্দ করে ফুঁপিয়ে উঠলো। তার ভেতরের অভিমান আর কষ্ট তখন যেন বাঁধ মানছে না। সে রাগ করে এমনিই বলেছিল— সত্যি সত্যিই কি আর এই মানুষটাকে ছেড়ে থাকা যায়? এই লোকের থেকে দূরে থাকা, কাছে থেকে যন্ত্রণা সহ্য করার চেয়েও অনেক কঠিন! তবে সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো— একদিন না একদিন এই পাথরের মানুষটার মুখ থেকে ভালোবাসার ঐশ্বরিক স্বীকারোক্তি সে বের করিয়েই ছাড়বে।
জেইন তার ভারী শ্বাস-প্রশ্বাস শান্ত করলো। রিমকে বুকে ধরেই সে পাশের ড্রয়ার থেকে একটি (Ointment) মলম বের করলো। রিমের লাল হয়ে যাওয়া, কালশিটে পড়া গলায় অত্যন্ত যত্ন আর কোমলতা দিয়ে মলম লাগিয়ে দিল। মলম লাগানোর সময় জেইন ধীরে ধীরে ফুঁ দিতে লাগলো।
“কাঁদে না সোনা, দেখো এখনই ঠিক হয়ে যাবে। সব ব্যথা কমে যাবে।”
রাগের পর হঠাৎ জেইনের এমন আদুরে কন্ঠে, রিম ক্রোধে ফোঁস করে উঠলো, সে নিচু হয়ে জংলি বিল্লির মতো দাঁত বসিয়ে দিল জেইনের বুকের বাঁ পাশের, হৃদয়ের ঠিক উপরে থাকা লাল গোল বিন্দুতে (নিপলে)।
“আউচ্… আহহ্….”
জেইনের কণ্ঠ থেকে এক অপ্রত্যাশিত, মৃদু ব্যথাতুর আওয়াজ বেরিয়ে এলো। সেই যন্ত্রণা ছিল রিমের প্রত্যাশার চেয়েও তীব্র, কিন্তু মিষ্টি। রিমের দাঁতের হিংস্রতা আরও বাড়লো— সে তার সমস্ত রাগ, সমস্ত অভিমান, জেইনের প্রতিটি নিষ্ঠুর শব্দের যন্ত্রণা যেন সেই দাঁতের চাপে উগরে দিতে চাইলো।
জেইন চোখ-মুখ খিঁচে, দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করলো। বিছানার চাদর শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ হাতে খামচে ধরলো। যন্ত্রণা সামলাতে ঠোঁট ফাঁক করে সে ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে লাগলো। কপালের চামড়া বেয়ে তখন বিন্দু বিন্দু ঘামের ফোঁটা জমতে শুরু করেছে। রিম যেন এক রক্তচো*ষা বাদুড়ের মতো সেখানে কামড়ে ধরে আছে। ছাড়ছে না কিছুতেই।
একসময় তার শরীরটা ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে এলো। ভেতরের সমস্ত ক্রোধ যেন সেই কামড়ের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে গেল। সে দাঁত সরিয়ে নিল, কিন্তু সেখানেই আশ্রয় খুঁজে বুকে মাথা ঠেকিয়ে ধীরে ধীরে, গভীর নিঃশ্বাস নিতে লাগলো।জেইনের বুকের সেই জায়গাটা গভীর লাল হয়ে গেছে, রিমের দাঁতের ছাপ স্পষ্ট বসে আছে। সামান্য রক্তও বেরিয়ে এসেছে সেই ক্ষতস্থান থেকে। সেখানে একবার চোখ বুলিয়ে মৃদু হাসি ফুটে উঠল জেইনের ঠোঁটে। সে রিমের কপালে একটা চুমু দিয়ে আহ্লাদী স্বরে বলল,
“রাগ কমেছে সোনা?”
রিম নাক ফুলিয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,
“না।”
জেইন রিমের চিবুক আলতো করে তুলে ধরলো, তার চোখ দুটোতে তাকিয়ে বললো,
“তাহলে কি করলে আমার সোনার রাগ কমবে?”
“সরি বলো।”
“আচ্ছা, সরিই।”
“তুমি খুব পঁচা। আমাকে মেরেছো কেন? আর কখনো মার-বে না।”
“আচ্ছা।”
“বকবেও না।”
“আচ্ছা।”
“আর… আমার সাথে রাগ দেখাবে না একদম।”
“ঠিক আছে, আর কিছু?”
“আবার সরি বলো। ব্যথা পেয়েছি আমি, আদর করো অনেক গুলো।”
জেইন রিমকে দুহাতে বুকের সাথে জড়িয়ে নিল। আহ্লাদী স্বরে বলল,
“ওলে আমার সোনা বাবুটা সরি সরি সরি। এত্তো গুলো আদর করে দিচ্ছি তোমায়।”
কপালে একটা চুমু দিয়ে বলল,
“আমি আদর করলে সহ্য করতে পারবে তো?”
রিম নাক কুঁচকে তার বুকে একটা কিল বসিয়ে দিল।
“আউচ…”
কামড়ানো জায়গায় আঘাত পেয়ে জেইন মৃদু ব্যথায় কুঁচকে গেল। তারপর ঠোঁট কামড়ে বললো,
“আমি আমার সোনাকে আর কক্ষনো মারবো না। রাগও করবো না। আর যদিও ভুল বসত একটু আধটু মেরে ফেলি তাহলে অনেক, অনেক বেশি আদর করে দিবো। আমার সোনা যা বলবে তাই করবো। সব কথা শুনব।”
“সত্যিই?”
“হ্যাঁ সত্যিই।”
“তাহলে নিচে যাই? আমি আজকে সবার জন্য রান্না করবো।”
“একদম না!”
“তুমি বলেছো আমার সব কথা শুনবে।”
“তো? বড়রা বাচ্চাদের শান্তনা দিতে এরম বলেই থাকে।তাই বলে এসব অহেতুক কথাও শুনতে হবে! তুমি রান্না ঘরে যাবে না। যদি কোনো অঘটন ঘটে! আর এমনিতেও কিচেনে সেফ আছে। কি খাবে বলো, মুহূর্তের মধ্যেই তোমাকে বানিয়ে দিবে। তোমাকে শুধু শুধু কষ্ট করতে হবে না।”
“তুমি কি আমাকে বাচ্চা বোঝাতে চাইছো?”
“হ্যাঁ অফকোর্স! বাচ্চাই বটে।”
“আমি বাচ্চা! তো বাচ্চার ওপর এতো অত্যাচার করতে, লজ্জা করে না? ইংকি পিংকি করতে লজ্জা করে না?”
“ইংকি পিংকি! হোয়াটস্ ইংকি পিংকি?”
জেইনের ভ্রু কুঁচকে গেল।
রিম মুখ কুঁচকে বললো,
“ধুর কিছু না।”
তারপর মুখ ফুলিয়ে বায়না ধরে বললো,
“দাও না আমাকে রান্না ঘরে যেতে……. আমি মায়ের জন্য রান্না করবো। আমি তো উনার বউমা হই। দায়িত্ব পালন করবো না! দাও না যেতে…”
“কোনো দায়িত্ব পালন করতে হবে না। তোমাকে কেউ বলেছে এসব করতে? তুমি আমার এই বিশাল সাম্রাজ্যের একমাত্র কুইন! তোমাকে কোনো কিচ্ছু করতে হবে না। তুমি শুধু পায়ের পা তুলে হুকুম করবে, আর আমি পুরো পৃথিবীর সমস্ত সুখ এনে রেখে দিব তোমার পদতলে।”
“না, না, আমি করবো একটু। আজকেই শুধু।”
“ঠিক আছে, যা ইচ্ছে করো।”
জেইনের কন্ঠে বিরক্তি মেশেলে,
“কিন্তু যদি কিছু হয়…”
তার কথা শেষ হওয়ার আগেই রিম তার গালে একটা শক্ত করে চুমু বসিয়ে দিল। খুশিতে উৎফুল্ল হয়ে বলল,
“কিচ্ছু হবে না।… থ্যাংকইউউউউ……”
ঠিক তখনই ক্রিংক্রিং করে বেজে উঠলো বেড সাইড টেবিলে রাখা ল্যান্ডলাইনটা। জেইন অলসভাবে হাত বাড়িয়ে কানে তুললো সেটা,
প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৫২
“হ্যালো………….. থ্যাংকস।”
তার মুখটা গম্ভীর হয়ে উঠলো। রিম কৌতুহলী গলায় বললো,
“কি হয়েছে? কার ফোন ছিল?”
“ডক্টরের… মাত্তেও, ওর জ্ঞান ফিরেছে। হি ইজ স্টেবল নাও। চাইলে কালকের মধ্যেই ডিসচার্জ করে বাড়ি নিয়ে আসা যাবে।…
রিম চমকে লাফিয়ে উঠলো,
“সত্যিই…..”
