Home পৌষপার্বণ পৌষপার্বণ পর্ব ৫

পৌষপার্বণ পর্ব ৫

পৌষপার্বণ পর্ব ৫
Irfa Mahnaj

হাত দিয়ে নখ কামড়াচ্ছে আর অস্থির ভঙ্গিমায় পায়চারি করে যাচ্ছে বসন্ত।
যেই শর্ত আম্রপালি দিয়েছে সেটা যে কীভাবে পূরণ করবে? মাথাই কাজ করছে না। হঠাৎ চ্যাটজিপিটি বাবাজির কথা স্মরণ আসতেই চকচক করে উঠে মুখ চোখ।
তড়িঘড়ি বেডের উপর পড়ে থাকা ফোন হাতে নিয়ে চলে যায় চ্যাটজিপিটির চরণে।
ম্যাসেজ টাইপ করে,

” গফ রাগ করেছে তার রাগ ভাঙ্গানোর উপায়?”
ম্যাসেজ পাঠাতে দেরি কিন্তু চ্যাটজিপিটি বাবাজির উপায় বলতে দেরি হয়না।
উপায় গুলোর মধ্যে একটা ফুল দিতে পারেন। এই উপায় দেখেই বসন্তের মনে পড়ে যায় এক ভয়াবহ ফ্ল্যাশব্যাক।
৩ মাস ধরে পিছনে ঘুরেছে আম্রপালির। পরে ৩ মাস পরে সাহস করে এক গুচ্ছ লাল গোলাপ কিনে প্রপোজ করে।
থাপ্পড় দিয়ে রিজেক্ট করে দিয়েছিল। রিজেক্টটা যদি এমনেই করতো তাহলেও হতো।
রিজেক্ট করার কারণ ছিল বসন্ত ফুল দিয়ে কেনো প্রপোজ করেছে। ভাবা যায়!
তার ৩ দিন পর কি মনে করে যেনো আম নিয়ে গিয়েছিল তখন গিয়ে বসন্তের প্রপোজ এক্সসেপ্ট করে।
ফ্ল্যাশব্যাক থেকে বর্তমানে ফিরে আসতেই বসন্তের মাথায় খেলে যায় এক চমৎকার বুদ্ধি।
ভো দৌড় লাগায় ছাদের দিকে। সেখানে তার মেজ চাচি মানে পৌষের মায়ের হরেক রকমের গাছ আছে।
বাসায় থাকার দরুন বর্ষা ছাদে ছাদ বাগান করেছে। হাস, মুরগিও পালে সে।
সেই ছাদ বাগান থেকে বারোমাসি এক আম গাছে আম দেখতে পায়। ব্যস ওটাকেই পেরে পকেটে পুড়ে।
এই আম দিয়ে নাহয় আম্রপালির রাগ ভাঙ্গাতে পারবে কিন্তু তার বাবার? ওই বুইড়া খাটাস তো ওকে ঢুকতেই দিবে না।
না কিছু একটা করতে হবে। মনোভাব স্থির করে বসন্ত চলল। উদ্দেশ্য গফ এর রাগ ভাঙ্গানো।

সাইকেলে করে দুই ভাই কোথা থেকে জানি বাড়ি ফিরছে।
সাইকেলটা হেমন্তের। কিন্তু এখন চালাচ্ছে পার্বণ। পিছনে তাকে ধরে বসে আছে হেমন্ত।
পার্বণ আর হেমন্তকে দেখলেই যে কেউ বলে দিতে পারবে এরা দুজন ভাই। মাঝে মাঝে তো জমজও বলে দেয়।
পার্বণের বাড়ির সব মানুষই লম্বা। পার্বণদের দেখলে কেউ ওদের বয়স আন্দাজ করতে পারবে না।
উপরন্তু পার্বণ আর হেমন্ত দুজনেই শ্যাম গড়নের। মুখের আদলও অনেকটাই এক। শুধু হেমন্ত পার্বণের থেকে কিছুটা খাটো। একদম অল্প।

হেমন্ত আর বসন্ত জমজ হলেও তাদের দেখে কেউ বলবে না। শুধু জন্মলগ্ন টাই এক এছাড়া বাদবাকি সব ভিন্ন।
বসন্ত হচ্ছে তার নামের মতোই সুন্দর। একদম ফর্সা। তাদের বাড়ির সবচেয়ে সুন্দর গায়ের রংটিই তার।
অন্যদিকে হেমন্ত শ্যামবর্ণ। বাকি যদি পৌষ আর চৈত্রকে মেয়ে হিসেবে গায়ের রং ধরা হয় তারাও বসন্তের নিকট যেতে পারে না। তারা এভারেজই আছে। যতটুক দরকার ততটুকুই।
ব্যক্তিত্বের দিক দিয়েও দেখতে গেলে দুই ভাইয়ের বিস্তর ফারাক।
হেমন্ত বয়সের তুলনায় ম্যাচিউর। প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না। অপরদিকে বসন্ত তার উল্টো।
তার কথা বলতে প্রয়োজনের দরকার পড়ে না। টপিক হলেই হলো। টপিক না থাকলেও সে টপিক বানিয়ে ফেলবে।

সাইকেলের সামনে তুষার নামক যুবকটি আসতেই ব্রেক কষে পার্বণ।
তুষার পার্বণদের এলাকারই লোক। তাদের সিনিয়র। ভার্সিটি পড়ে।
— আসসালামু আলাইকুম বড় ভাই।
— অলাইকুম আসসালাম।
— এভাবে সামনে আসলেন যে?
— কাজ ছিলো।
— কি কাজ?
পার্বণের কথায় খুশিতে গদগদ হয়ে তুষার বলে,
— তুমি তো পৌষের ভাই তাই না?
পার্বণের কাছে কেমন জানি লাগলো। কেমন শুনতে ভালো লাগলো না বোন কথাটি। তবুও জোরপূর্বক হাসি টেনে মুখে বলল,
— কেনো কিছু বলেবন?
— হ্যাঁ।

কথা শেষেই হাতে থাকা শপিং ব্যাগটা বাড়িয়ে দিলো পার্বণের দিকে।
ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ ব্যাগটার দিকে আবার কিছুক্ষণ লজ্জামাখা তুষারের মুখের দিকে তাঁকালো পার্বণ।
ইশারায় জানতে চাইলে তুষার জানায় এতে নাকি পৌষের জন্য গিফ্ট আছে।
ব্যস আর কিছু শুনলো না পার্বণ। চোয়াল শক্ত করে প্যাডেল দিয়ে সাইকেল টা তুষারের সামনে থেকে শা করে চালিয়ে গেলো।
পিছনে রেখে গেলো একটা বৃহৎ আকারের হা করা মুখ আর সামনে বাড়িয়ে রাখা শপিং ব্যাগ।
সবকিছুকে উপেক্ষা করে জোরে গতিতে সাইকেল চালাতে লাগলো। এতো শক্ত করে হ্যান্ডেল চেপে ধরে যে পার্বণের হাতের ভেইনস গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠে।
সাহস কতো বড় গফ এর গিফ্ট পাঠানোর জন্য পার্বণকেই ধরেছে। আর পৌষ এর ও আজ হচ্ছে। প্রেম করছে , প্রেম? সব ছুটাবে আজ পার্বণ।

সবে মাত্র শাওয়ার নিয়ে বের হয়েছে পৌষ। গায়ে বিন্দু, বিন্দু জলের ফোঁটা। গায়ে ওড়না নেই।
বাহিরে এসে পড়বে বলে নেয়নি। গালে দুই একটা চুলও লেপ্টে আছে। যা তোয়ালের ফাঁক গলে বেরিয়ে এসেছে।
কামিজের গলার কাছ টাও ভিজা। পিঠের দিকেও ভিজে আছে। সতেজ, স্নিগ্ধ আর আকর্ষণীয় লাগছে পৌষকে এক কথায়।
তখনই হাক ডাক পারতে পারতে পৌষের রুমে এসে উপস্থিত হয় পার্বণ।
যতোটা রাগ নিয়ে রুমে এসেছিলো ভিতরের দৃশ্য দেখে যেনো স্তব্ধ হয়ে গেলো। রাগ ঠাগ সব গায়েব হয়ে গেলো যেনো।
এদিকে পৌষ এর পা মনে হচ্ছে সুপার গ্লু দিয়ে আটকে গেছে। নড়তেও পারছে না।
কেনো? কেনো সবসময় পৌষ এর সাথেই এমন হয়?
এদিকে পার্বণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে পৌষের দিকে। তার চোখে খেলা করছে মুগ্ধতা, নেশা।
সে পৌষের সত্তাটার মেয়েলি ভাঁজ গুলো স্ক্যান করছে। চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে ওর আকর্ষণীয় শরীরটা। যা পানির সন্নিকটে অত্যন্ত কামুকীয় লাগছে!
পার্বণের এরুপ ঘোর লাগা দৃষ্টি দেখে কেঁপে উঠলো পৌষ। ঘাবড়ে গেলো। হালকা ঢোক গিলে ডাকতে লাগলো,

— পা… পার্বণ?
— হু!
পার্বণের গলার স্বর টাও অচেনা ঠেকছে পৌষের নিকট। কি বলবে আর কিছু খুঁজে পাচ্ছে না।
এতোটাই অস্বস্তি লাগছে যে ভুলেই গেছে ওড়নার কথা। মনে পড়তেই যেই না নিতে যাবে তার আগেই পার্বণ এসে চেপে ধরলো।
এদিকে পার্বণের হুশ ফিরে। মনে পড়ে যায় তুষারের কথা। ঠান্ডা হওয়া মাথায় পুনরায় আগুন জলে উঠে।
পৌষের কিছু বুঝে উঠার আগেই পৌষের হাত দুটো পিছমোড়া করে ধরে পার্বণ।
হাতের চাপে কব্জিটা লাল হয়ে গেছে পৌষের। ব্যথায় ককিয়ে উঠলেও পার্বণ তাকে ছাড়ে না।
উল্টো টান দিয়ে পৌষকে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে নেয় পার্বণ। রাগত স্বরে বলে,

— প্রেম করছিস প্রেম?
এতো শক্ত করে চেপে ধরায় একেতো ব্যথা পাচ্ছিল তার উপর পার্বণের উদ্ভট কথা শুনে মাথা এবার বিগড়ে যায় পৌষের।
তেজি গলায় জবাব দেয়,
— তোর সমস্যা…
আর কিছু বলতে পারে না পৌষ। পার্বণ তার তমাটে ওষ্ঠ জোড়া চেপে ধরে পৌষের নরম, কোমল ওষ্ঠ এর উপর।
দলা মথিত করতে লাগে পৌষের অধর। চুম্বনের রুপ একপর্যায়ে কামড়ে পরিণত হলেও পার্বণ পৌষের ওষ্ঠ ছাড়ে না।
এদিকে পৌষের ব্যথায় চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পার্বণের কোনো খেয়াল নেই।
সে তার সমস্ত রাগ, জেদ পৌষের ওষ্ঠের উপর দিয়ে উঠাচ্ছে। একসময় মুখে নোনতা স্বাদ অনুভূত হলে ঠোঁট ছেড়ে দেয় পার্বণ।

কোমরে হাত রেখে হাঁপাতে লাগে পার্বণ। আর নিজের বুকে হাত রেখে হাঁপাচ্ছে পৌষ।
পৌষের দিকে তাকাতেই ওর ঠোঁটে লেগে থাকা রক্তের বিন্দু গুলো যেনো পার্বণকে আরো কাছে টানছে।
এক চিলতে বাকা হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলে পার্বণ পৌষের দিকে এগিয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ ভয়ে দুই পা পিছিয়ে যায় পৌষ।
সেসব দেখে ভারি মজা পায় পার্বণ। খরখরে আঙ্গুল টা দিয়ে পৌষের ঠোঁটের চারিদিকে স্লাইড করে।
হাত বাড়িয়ে হ্যাঁচকা টানে আবারো দূরত্ব ঘুচিয়ে কাছে টেনে আনে পার্বণ।
বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে পৌষের গালের কিনারা স্লাইড করতে লাগে এবার। অগ্রিম বার্তা ছাড়াই পুনরায় নিজ পুরুষালী ঠোঁটের ভাঁজে দখল করে নেয় পৌষের মেয়েলি ঠোঁট।

পৌষপার্বণ পর্ব ৪

জিহ্বা দিয়ে লেহন করে পৌষের ঠোঁটের ভাঁজে থাকা রক্ত গুলো গায়েব করার চেষ্টায় আছে পার্বণ।
এবারে সফটলি কিন্তু খুব উগ্র আর বেপরোয়া ভাবে কিস করতে লাগে পার্বণ।
পার্বণের ওষ্ঠ চুম্বনের উন্মাদনা বেড়েই যাচ্ছে। আর বেচারি পৌষ তার সাথে না পারছেতাল মিলাতে আর না পারছে পার্বণকে সরাতে।

পৌষপার্বণ পর্ব ৬