প্রণয়ের নব্য সূচনা পর্ব ৩৬
insia isha chowdhury
চারিদিকে খুশির আমেজ অনুষ্ঠান ছোট করে করা হলেও আনন্দ উল্লাসের কোনো কমতি নেই। র্মিজা বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষই আজ ভীষণ খুশি। কিন্তু শুধু একটি মানুষ খুশি নয় আর সেটি হলো ঋতু অর্থাৎ হবু বউ নিজেই। ঋতুর পরনে একটি হালকা সবুজ রং এর শাড়ি। কাঁচা ফুল দিয়ে ঋতুকে সাজানো হয়েছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে বসে থেকে মেহেদী নিচ্ছে। ঋতুর দু’হাতে দুই জন মেয়ে মেহেদী পড়িয়ে দিচ্ছে। ঋতু হতাশার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চোখ টা বন্ধ করে নিল আর কিছুক্ষণ আগের ঘটনা ওর মনে পড়ে গেল।
ঋতু অতিরিক্ত শকড্ ও যে কি বলবে? কিছুই বুঝতে পারছিল না। আর সূচনা সোফায় বসে ঋতুকে ভালোভাবে লক্ষ্য করলো। মেয়েটার মুখ কেমন যেনো ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে উঠেছে। সূচনা কিছু বলবে তার আগেই সুপ্তি হঠাৎ ঋতুর এক বাহু ধরে এক প্রকার টেনে নিয়ে চলে গেল। সূচনা বিষয়টা বুঝতে পারল না এই ভাবে নিয়ে গেলো কেনো সুপ্তি ঋতু কে? রূমের মধ্যে প্রবেশ করেই সুপ্তি দরজাটা আটকে দিল। আর ঋতু ও তো এখনো পাথর হয়ে আছে? ওর বাবা-মা ভাই সবাই ওকে বিয়ে দিতে চাই অথচ ও নিজেই জানে না ওর বিয়ে? প্রচন্ড ক্ষোভে ফেটে ঋতু দরজার দিকে এগিয়ে যেতেই সুপ্তি জোর করে ঋতুকে বিছানায় বসিয়ে দিল।
ঋতু সুস্থির হাত এক ঝটকায় সরিয়ে দিতেই সুপ্তি অস্থির হয়ে বলল,
“ঋতু আমার কথা শোন।”
এতক্ষণের যত রাগ কিরমির করে উঠলো ঋতুর মাথায় ও ক্রোধে জ্বলে উঠলো,
“কি? কি শুনবো? এই বাড়ির লোক আমাকে কী মনে করে? এরা আমাকে জিজ্ঞেস না করে আমার বিয়ে কিভাবে ঠিক করতে পারে?”
সুপ্তি বুঝলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ও ঋতুর দু’গালে হাত রেখে বললো,
“ঋতু আমার বোন আমার কথা শোন। এখানে বাড়ির কারো দোষ নেই। সোহেলের বাবা-মা তোকে বাড়িতে দেখেই পছন্দ করেছে।”
“তো আমি কি নাচবো?”
ঋতুর কথা শুনে সুপ্তি প্রথমে আগে নিজেকে ঠান্ডা করলো। বড় একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো তারপর বললো,
“সোহেল তোকে পছন্দ করে ঋতু।”
এইটুকু কথা কর্ণপাতে যেতেই ঋতু অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সুস্থির দিকে। সুপ্তি এইসব কি বলছে? সোহেল তাকে পছন্দ করে? কি আজ পর্যন্ত তো কখনোই ঋতুর মনে হয়নি যে সোহেল তাকে এই নজরে দেখে। বিষয়টা মোটেই হজম হলো না ঋতুর। ঠিক তখনই সুপ্তি আবার বলতে শুরু করল,
“সোহেল ভালো ছেলে। তোকে পছন্দ করে। বিয়ে করতে চায়। এইজন্যই নিজের বাবা-মাকে পাঠিয়েছে। আর তোর পড়াশোনার কথা চিন্তা করে সোহেল এটাও মেনে নিয়েছে। আগে তোর পড়াশোনা শেষ হবে তারপর এই সংসার নামক মায়াজালে তোকে জড়াতে চাইছে।”
“সংসারের কথা পড়ে সুপ্তি আমি তো এটাই মানতে পারছি না যে আমার পরিবার নিজেদের খুশি টুকু শুধু দেখলো আর আমার মতামতের কোনো গুরুত্ব নেই? আর সোহেল ভাই আমাকে পছন্দ করে এটাও আমি মানতে পারছি না।”
হুংকার দিয়ে নিজের কথা শেষ করে ঋতু ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই সুপ্তি পেছন থেকে বলে উঠলো,
“ঠিক আছে যা নিজের বিয়েটা ভেঙ্গে দে। আর এর সাথে সাথে বাড়ির সকলের মন টাও ভেঙ্গে দে। সবাই সোহেলকে পছন্দ করেছে। ও তোকে অনেক ভালোবাসবে। আর তোর জীবনে তো অন্য কেউ নেই। তাহলে তোর এত জড়তা কিসের?”
সুপ্তির কথা গুলো শুনলো ঋতু। এবার ও সুপ্তির কাছে এসে বললো,
“হ্যাঁ আমার জীবনে কেউ নেই তারমানে এই না যে আমি যাকে তাকে বিয়ে করবো?”
“যাকে তাকে সত্যি? সোহেল কে সবাই ভালোমতো জানে। ও নিজেই তোকে পছন্দ করে বিয়ে করছে। আমার একটা কথা শুনে রাখ ঋতু এই বিয়েটা ঠিক হয়ে গেছে। এখন এই মুহূর্তে তুই যদি বিয়েটা ভেঙে দিস তাহলে কিন্তু অনেক সম্পর্ক ভেঙে যাবে।
খালামনি আর খালু কিভাবে পরবর্তীতে সোহেলের বাবা-মার মুখোমুখি হবে? আর শুধুমাত্র তোর জন্য প্রণয় আর সোহেলের বন্ধুত্ব টাও ভেঙে যেতে পারে। তুই যদি তোর বিয়ে ভাঙ্গিস তাহলে খালামনি আর খালুকে বাইরের মানুষের কটু কথা শুনতে হবে। এই সব কিছু সহ্য করতে পারবি তো?”
সুপ্তি কথাগুলো বলছিল আর ঋতুর চোখে একে একে ভেসে উঠল ওর মা বাবার মুখ। ইতিমধ্যে ভিড় করেছে মেয়েটার চোখে অশ্রু। মুহূর্তেই ঋতু ডুকরে কেঁদে ওঠলো। ঋতুকে কাঁদতে দেখে সুপ্তি বুঝল মেয়েটার মন নরম হয়ে গেছে। ও ঋতুকে ইমোশনাল ভাবে হ্যান্ডেল করতে পেরেছে।
সুপ্তি ঋতুকে দু’হাতে আগলে নিল। ঋতু কাঁদতে কাঁদতে নাক টেনে বললো,
“এত… এতসব কিছু হয়ে গেল অথচ কেউ আমাকে কিছু বলল না। এরা কি আদৌ আমাকে ভালোবাসে?”
“পাগলি মেয়ে সবাই তোকে ভালবাসে। কেউ তোর খারাপ চায় না।”
কথাটা বলেই সুপ্তি চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল,
“ইশ! কেঁদে কেটে নিজের কি হাল করেছিস দেখেছিস?”
ঋতু সুপ্তির দিকে নজর দিতেই ওর গাল বেয়ে টপ করে জল গরিয়ে পড়লো। তা দেখে সুপ্তি ওর গালটা মুছিয়ে দিয়ে বলল,
“আমি জানি তোর ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বাস কর সোহেলের সঙ্গে তোর বিয়ে হলে তুই নিজেও জীবনে সুখী হবি। আর বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষকে খুশি হবে।”
“সোহেল, একটু কম নাচানাচি কর ভাই। তুই তো দেখছি একেবারে খুশিতে পাগল হয়ে গেছিস! একটু নিজেকে কন্ট্রোল কর।”
কথাটা বলেই রাজা পাশে থাকা সফট ড্রিংকের গ্লাসে এক চুমুক দিয়ে প্রায় অর্ধেকটা শেষ করে ফেলল। তখনই শুভ হেসে বলল,
“তবে যাই বলিস, প্রতিটা মা-বাবা আমার মনে হয় সোহেলের মা-বাবার মতো হওয়া উচিত। ছেলে একবার মুখ ফুটে নিজের পছন্দের কথা বলেছে, আর আঙ্কেল-আন্টি সোজা মেয়ের বাড়িতে গিয়ে বিয়ে পাকা করে চলে এসেছেন!”
শুভর কথায় সায় দিয়ে রনি হেসে বলল,
“একদম ঠিক বলেছিস।”
মূলত সোহেল যখন জানতে পেরেছে, তার বিয়ে তার পছন্দের মেয়ের সঙ্গেই ঠিক হয়েছে, তখন থেকেই সে যেন আনন্দে আত্মহারা। সেই খুশিতেই রাতে রাজা, রনি আর শুভকে ট্রিট দিচ্ছে সে। বন্ধুদের এত কথা শুনে সোহেল ভ্রু কুঁচকে বলল,
“আমি তো এখনও ভাবতেই পারছি না, সুপ্তি এত তাড়াতাড়ি রাজি হয়ে যাবে।”
একটু থেমে মুখে মুগ্ধতার হাসি ফুটিয়ে আবার বলল,
“আমি যখন ওকে আমার মনের কথাটা বললাম, তখন ও চুপ করে ছিল। একটা কথাও বলেনি। শুধু নীরবে আমার সব কথা মন দিয়ে শুনেছে। আর শেষে…আমাকে মেনে নিয়েছে।”
সুপ্তি পুরোটা সময় কেমন যেন ঋতুর সঙ্গে চিপকে বসে আছে। অথচ ঋতু ডুবে আছে গভীর ভাবনায়। সোহেলের আচরণটা কিছুতেই ও মেনে নিতে পারছে না সে। এতদিন যাকে ‘বনু, বনু’ বলে ডেকে এসেছে, শেষমেশ সেই সোহেলই কিনা তাকে বউ বানাতে চায়!
সুপ্তির ভাষ্যমতে, সোহেল নাকি তাকে ভীষণ পছন্দ করে। কিন্তু সত্যিই যদি এতটা পছন্দ করে থাকে, তাহলে ঋতু কোনোদিনই কেন বুঝতে পারল না? কেন একবারের জন্যও তার মনে হয়নি, সোহেলের মনে অন্য কোনো অনুভূতি লুকিয়ে আছে?
এদিকে পার্লার থেকে আসা মেয়েটি বারবার ঋতুকে জিজ্ঞেস করে চলেছে, বরের নাম কী। মেহেদির নকশার মাঝে সেই নামটিই তো লিখে দিতে হবে। অথচ ঋতুর সেদিকে বিন্দুমাত্র হেলদোল নেই। পুতুলের মতো চুপচাপ বসে আছে সে, যেন হঠাৎ করেই তার সমস্ত বাকশক্তি হারিয়ে গেছে।
শেষ পর্যন্ত সুপ্তিই মৃদু হেসে সোহেলের নামটা বলে দিল। পার্লারের মেয়েটিও যত্ন করে ঋতুর হাতে মেহেদির নকশার মাঝে লিখে দিল ‘সোহেল’
হাতের ওপর ফুটে ওঠা নামটা দেখে সুপ্তির ঠোঁটের কোণে অতি ক্ষীণ এক টুকরো হাসি ফুটে উঠল।
এই তো সবে রাত দশটা। এমন সময় হঠাৎ ঘরের কলিংবেল বেজে উঠল। সুপ্তি হাসিমুখেই দরজা খুলতে এগিয়ে গেল। কিন্তু দরজাটা খোলার পরই মুহূর্তের মধ্যে তার মুখের সমস্ত হাসি মিলিয়ে গেল।
দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি আর কেউ নয় তার বাবা, জামিউল ইসলাম।
ঋতুর বিয়ে উপলক্ষে সোমা ও তার স্বামীও সঙ্গে এসেছেন। তবে সুপ্তি একবারও ভাবেনি, তার বাবাও এই বিয়েতে আসবেন। জামিউল ইসলাম ও সোমা ভেতরে প্রবেশ করতেই শায়লা খাতুনের আনন্দ যেন আর ধরে না। তিনি এগিয়ে গিয়ে দুজনকে সাদরে বসতে বললেন। তারপর কত কথা, কত আপ্যায়ন। কিছুক্ষণ পর মেহেদি পরানো শেষ হলে পার্লারের মেয়েরাও একে একে চলে গেল। সুপ্তি সবার জন্য জুস আনতে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াতেই জামিউল ইসলাম নীরবে তার পেছন পেছন সেখানে চলে এলেন।
বাবাকে পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সুপ্তি সঙ্গে সঙ্গে মাথা নিচু করে ফেলল। জামিউল ইসলাম কোনো ভণিতা না করেই গম্ভীর স্বরে বলে উঠলেন,
“তুমি জানো, আমি ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি না। সরাসরি কথা বলতেই স্বচ্ছন্দবোধ করি। এখন ঋতুরও বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। আমিও তোমার জন্য ভালো ছেলে দেখছি। যত দ্রুত সম্ভব তোমার বিয়ে দিতে চাই। আর যদি মনে মনে কাউকে পছন্দ করেও থাকো, তাহলে সেই হিসাব বাদ দাও। আমি যেই ছেলেকে ঠিক করব, তোমাকে সেই ছেলের সঙ্গেই বিয়ে করতে হবে। আর ভুলেও তোমার মাকে এসব কথা বলবে না। একটা কথা দ্বিতীয়বার বলতে আমি পছন্দ করি না।”
বাবার প্রতিটি কঠিন শব্দ সুপ্তির বুকের ভেতর এসে আঘাত করল। অভিমান, কষ্ট আর অসহায়তায় তার চোখের কোণে টলমল করে উঠল জল। তবু বাবার সামনে নিজের অসহায়ত্ব আর দেখাতে চাইল না। মাথা আরও নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল নীরবে। সুপ্তির বাবা এমনই। সব সময় তিনি যেটা বলবেন সেটাই হবে। সুপ্তি আজ পর্যন্ত তেমন আহ্লাদী হতে পারেনি ওর বাবার কাছে। সব সময় কেমন যেন ভয় পেয়ে এসেছে। নিজের কথাগুলো শেষ করে জামিউল ইসলাম আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ালেন না। মেয়ের মুখের দিকে শেষবারের মতো তাকানোর প্রয়োজনটুকুও অনুভব না করে তিনি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
চারপাশে সবাই যখন আনন্দে মেতে উঠেছে, তখন সূচনার মনটা ভীষণ খারাপ। গোটা দিন প্রণয়ের কোনো খোঁজ নেই। সে জানে, প্রণয় হয়তো ভীষণ ব্যস্ত। কিন্তু তাই বলে কি একটা ফোনও করা যায় না? একটা মেসেজের উত্তর দেওয়া যায় না?
অভিমানে সূচনা মেহেদিও পরেনি। কারও সঙ্গে তেমন কথাও বলছে না। চুপচাপ বসে আছে। কতগুলো মেসেজ পাঠিয়েছে সে প্রণয়কে, অথচ একটাও মেসেজ সিন করেনি মানুষটা। ফোন দেওয়া তো দূরের কথা। এই নিয়ে মেয়েটার মনে যেন একরাশ অভিমান জমে আছে।
কিছুক্ষণ আগে সব কোলাহল পেরিয়ে নিজের ঘরে এসে বসেছে সূচনা। এরই মধ্যে তামান্নার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ভাবি জানিয়েছে, আগামীকাল রাফির এনগেজমেন্ট। আর রাফির বিয়ে ঠিক হয়েছে টিনার সঙ্গে। সূচনা আগে থেকেই জানত, তার মামী টিনাকে ভীষণ পছন্দ করেন। ভবিষ্যতে টিনার সঙ্গে রাফির বিয়ে হতে পারে এমন আভাসও সে পেয়েছিল। তাই কথাটা শুনে খানিকটা অবাক হলেও রাফির জন্য মন থেকে খুশি হলো। সেদিন রেস্টুরেন্টে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর থেকে সূচনার মনে একটা অপরাধবোধ রয়ে গেছে। সুযোগ পেলে একদিন অবশ্যই রাফির কাছে সরি বলবে সে। সূচনা চাই রাফি যেন জীবনে সত্যিকারের সুখী হয়।
হাঁটু গেড়ে বসে হাঁটুর ওপর মাথা রেখে চোখ বন্ধ করল সূচনা। তারপর নীরবে মনে মনে দোয়া করল,
“ভাইয়া, তোমার জীবনে এমন একজন মানুষ আসুক, যে তোমাকে সত্যি ভালোবাসবে। তোমার জীবনটা ভালোবাসা আর সুখে ভরে উঠুক। তুমি সবসময় ভালো থেকো।”
কথাগুলো মনে মনে ভাবছিল সূচনা। চোখ দুটো তখনও বন্ধ। ঠিক তখনই ঘরের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল প্রণয়। এখন প্রায় রাত বারোটা। এত রাতেও সূচনাকে জেগে থাকতে দেখে খানিকটা অবাক হলো প্রণয়। মেয়েটা চোখ বন্ধ করে হাঁটুর ওপর মাথা রেখে কী যেন ভাবছে।
ধীরে ধীরে সূচনার সামনে গিয়ে দাঁড়াল সে। তারপর নরম স্বরে বলল, “কী ভাবছো, সূচনা?”
তড়িৎ গতিতে চোখ মেলে তাকাল সূচনা। এই মানুষটা কখন ঘরে ঢুকেছে, সে টেরই পায়নি!
প্রণয় ভেবেছিল, সূচনা হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। তাই খুব নিঃশব্দে ঘরে ঢুকেছিল। কিন্তু তার বউ যে এখনো জেগে আছে, সেটা দেখে মৃদু হাসল সে।
অথচ প্রণয়কে দেখেও সূচনা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না। চুপচাপ বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল এবং চোখ বন্ধ করে ফেলল। সোজা কথায়, সূচনা এবার প্রণয়কে ইগনোর করল। আর করবে নাই বা কেন? লোকটা যে সারাদিন তাকে ইগনোর করেছে! এবার একটু বুঝুক, ইগনোর করলে কেমন লাগে!
প্রণয় সূচনার এমন আচরণে রীতিমতো অবাক হয়ে গেল। মেয়েটা ঘাপটি মেরে শুয়ে আছে, চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে রেখেছে। তা দেখে প্রণয় ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেলল। পরক্ষণেই এক ঝটকায় সূচনাকে নিজের কোলে তুলে নিতেই সূচনা রাগী গলায় বলে উঠল,
“কী করছেনটা কী? আপনার জন্য কি এখন ঘুমোতেও পারব না?”
কথার তেজেই প্রণয় বুঝে গেল, তার বউ বেশ রেগে আছে। সূচনা আবারও বলল,
“এই মুহূর্তে আমাকে ছাড়ুন।”
প্রণয় অবশ্য ছাড়ল না। সূচনাকে বিছানায় শুইয়ে নিজেও তার পাশে ঝুঁকে পড়ে মুচকি হেসে বলল,
“আমার বউটা কি রেগে আছে?”
সূচনা প্রণয়ের বাহুতে হালকা একটা থাপ্পড় দিয়ে বলল,
“না, আপনার বউ খুশিতে পাগল হয়ে গেছে! এখন আমার ওপর থেকে উঠুন। আমার কিন্তু খুব মেজাজ খারাপ হচ্ছে।”
প্রণয় আরও একটু কাছে এসে সূচনার নাকে আলতো করে কামড় দিয়ে দুষ্টু হেসে বলল,
“না, উঠব না। তোমার মেজাজ খারাপ হোক।”
প্রণয়ের এমন কাণ্ডে সূচনা আরও বেশি বিরক্ত হয়ে তাকে এক ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। প্রণয় হাসতে হাসতে খানিকটা দূরে সরে গেল। সঙ্গে সঙ্গে সূচনা অভিমানী কণ্ঠে বলল,
“হ্যাঁ, সেটাই তো পারেন আপনি। শুধু আমার মেজাজটাই খারাপ করতে পারেন।”
কথাটা বলেই বিছানা থেকে উঠে যেতে চাইলে প্রণয় দ্রুত তাকে কোলে তুলে নিল। তারপর মিষ্টি গলায় বলল,
“কী হয়েছে আমার ওয়াইফির? সে এত রেগে আছে কেন?”
সূচনা রাগী দৃষ্টিতে প্রণয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আজ সারাদিনে আপনাকে কতবার ফোন দিয়েছি, কতগুলো মেসেজ দিয়েছি। কোনো রেসপন্স নেই। পুরো দিন আপনার কোনো পাত্তাই নেই! তাই আমাকে এখন ছাড়ুন। আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই না।”
প্রণয় আর কিছু না বলে সূচনাকে কোলে নিয়েই ব্যালকনিতে চলে গেল। সেখানে থাকা দোলনায় সূচনাকে কোলে নিয়ে বসে পড়ল সে। তারপর শান্ত গলায় বলল,
“বাবা আজ বাড়িতেই আছেন। তিনি আজ অফিসের কোনো কাজেও যাননি। তাই অফিসের সব কাজ আমাকে আর ভাইয়াকেই দেখতে হয়েছে। এজন্যই একটু বেশি ব্যস্ত ছিলাম।”
সূচনা সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফুলিয়ে বলল,
“এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে আমার একটা মেসেজও দেখতে পেলেন না?”
প্রণয় কিছুক্ষণ চুপ থেকে নরম স্বরে বলল,
“আচ্ছা, আই অ্যাম সরি। আর এমন হবে না।”
সূচনা কোনো উত্তর দিল না। তার নীরবতা দেখে প্রণয় এবার অধৈর্য হয়ে বলল,
“কী করলে তোমার রাগ কমবে বলো?”
সূচনা কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
“আগে আমাকে কোলে করে ঘরে নিয়ে যান। তারপর বলব।”
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই প্রণয় তাকে কোলে তুলে নিয়ে ঘরের ভেতর চলে এল। ঘরে এসে সূচনা বলল,
“এবার আমাকে নামান।”
কথামতো প্রণয় তাকে নামিয়ে দিতেই সূচনা গম্ভীর মুখে বলল,
“দশবার কান ধরে উঠবস করুন। তাহলে আমার রাগ কমে যাবে।”
সূচনার কথা শুনে প্রণয়ের মনে হলো, সে যেন আকাশ থেকে পড়ল! কান ধরে উঠবস? জীবনে কখনো এই কাজ করেনি সে। গম্ভীর মুখে প্রণয় বলল,
“এটা আমি পারব না। আমার জীবনে আমি কখনো কান ধরে উঠবস করিনি!”
মুহূর্তেই সূচনা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
“আমার সঙ্গে অন্যায় করেছেন। তাই আমার রাগ কমানোর জন্য এটাই করতে হবে।”
শেষ পর্যন্ত নিজের বউয়ের কাছে হার মেনে নিল প্রণয়। তবে কান ধরে উঠবস করার আগে শর্ত জুড়ে দিয়ে বলল,
“ঠিক আছে, কান ধরে উঠবস করলাম। তারপর আমি কী পাব?”
সূচনার ভ্রু কুঁচকে গেল।
“কী পাবেন মানে? কান ধরে উঠবস করার পরও আপনার কাজ আছে। এত সহজে কি আমার রাগ ভাঙবে নাকি?”
“মানে?”
“মানে, মানে পরে করবেন। আগে কান ধরে উঠবস করুন।”
বেচারা প্রণয় শেষ পর্যন্ত কান ধরে উঠবস করার জন্য কানে হাত দিতেই সূচনা তাড়াতাড়ি বলে উঠল,
“ঠিক আছে, ঠিক আছে! কান ধরে উঠবস করতে হবে না। আমি শুধু দেখছিলাম আপনি রাজি হন কি না। রাজি হয়েছেন মানেই ঠিক আছে। আমার রাগ একটু কমেছে। কিন্তু…”
বউয়ের কথা শুনে প্রণয়ের মনটা একটু ভালো হয়ে গেল। অন্তত তাকে সত্যিই কান ধরে উঠবস করতে হবে না। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল সে। তারপর সূচনার মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“কিন্তু কী?”
সূচনা এবার কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল,
“কিন্তু আপনার জন্য আমি মেহেদি পরতেই পারিনি। মন খারাপ করে বসে ছিলাম। সবাই মেহেদি পরেছে, শুধু আমার হাত দুটোই ফাঁকা।”
সূচনার অভিমানী মুখটা দেখে প্রণয়ের মনটা নরম হয়ে গেল।
“আচ্ছা ঠিক আছে। চলো, আমি তোমাকে মেহেদি দিয়ে দিচ্ছি।”
সূচনার মুখে সঙ্গে সঙ্গে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।
“আপনি জীবনে কাউকে মেহেদি পরিয়েছেন যে আমাকে দেবেন?”
“হ্যাঁ, দিইনি। কিন্তু চেষ্টা তো করতেই পারি।”
কথাটা বলেই প্রণয় চারদিকে তাকিয়ে বলল,
“মেহেদি কোথায়? দাও আমাকে।”
সূচনা সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে না করতে লাগল। ও একদমই প্রণয়ের থেকে মেহেদি পরিয়ে নিবে না।
এই লোক জীবনে কাউকে মেহেদী দিয়ে দিয়েছে?
সারাক্ষণ তো শুধু অংক করে। দেখা গেল মেহেদী দিতে গিয়ে সূচনার হাতে অংক করে বসলো। কিন্তু
অবশেষে প্রণয় নিজেই ঘরের ডেস্কের ওপর পড়ে থাকা মেহেদিটা খুঁজে নিল। তারপর সূচনার হাতটা নিজের হাতে নিয়ে যত্ন করে তার তালুতে একটা ফুল আঁকতে শুরু করল। ফুলটা আহামরি সুন্দর না হলেও মন্দ হয়নি। নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে সূচনার ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। প্রণয় এবার তার অন্য হাতের তালু নিজের দিকে টেনে নিয়ে সেখানে কিছু একটা আঁকতে শুরু করল। সূচনা মুচকি মুচকি হেসে তার হাতের দিকেই তাকিয়ে ছিল। হঠাৎই তার হাসি থেমে গেল। চোখ বড় বড় হয়ে গেল বিস্ময়ে। প্রণয় সত্যি সত্যিই তার হাতে ইন্টিগ্রেশনের সূত্র লিখে ফেলেছে! সূচনার মুখ মুহূর্তেই রাগে লাল হয়ে উঠল।
“এটা কী করলেন আপনি?”
প্রণয় নিজেও তখন খানিকটা থতমত খেয়ে গেছে। আসলে অজান্তেই মেহেদির বদলে অভ্যাসবশত অঙ্কের সূত্র লিখে ফেলেছে। কোনোরকমে নিজেকে সামলে বলল,
“আসলে… এটা ভুল করে হয়ে গেছে। আজ সকালে অনেকগুলো খাতা দেখেছি তো, তাই ভুল করে লিখে ফেলেছি।”
সূচনার চোখ-মুখ রাগে কটমট করে উঠল। নিজের দুটো হাত প্রণয়ের সামনে মেলে ধরে বলল,
“আপনার ভুল আমি বের করছি! এটা কী করলেন আমার হাতে? অঙ্ক করে দিলেন! আই হেট ম্যাথ!”
কথাটা বলেই সূচনা কান্না জুড়ে দিল। প্রণয় আর দেরি না করে তাকে বাথরুমে নিয়ে গেল। তারপর নিজের হাতে ধীরে ধীরে সূচনার মেহেদির আঁকা অঙ্কটা ধুয়ে দিল। হাত ধোয়া শেষ হতেই সূচনা রাগে কটমট করে প্রণয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
“এটা আমার হাত থেকে মুছে ফেলুন। আই হেট ম্যাথ! অলসো, আই হেট মাই ম্যাথ টিচার!
কথাটা শেষ করার আগেই প্রণয় হঠাৎ ঝুঁকে সূচনার ঠোঁটে আলতো করে চুমু খেল। হঠাৎ এমন কাণ্ডে সূচনার চোখ বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল।
প্রণয় মুহূর্তেই সরে এসে তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“ইউ ক্যান হেট ম্যাথ, বাট ইউ ক্যান্ট হেট দ্য ম্যাথ টিচার, বিকজ দ্যাট ম্যাথ টিচার ইজ ইওর হাজব্যান্ড।”
সকাল হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটায় এখন সকাল নয়টা। এদিকে সোহেল অনেক আগেই ঘুম থেকে উঠেছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই মসজিদে গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করেছে সে। নামাজ শেষে দীর্ঘক্ষণ মসজিদে বসে আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছে। গতকাল থেকে বুকের ভেতর যে অদ্ভুত এক আনন্দের ঢেউ বয়ে চলেছে, তার জন্যও বারবার শুকরিয়া জানিয়েছে মহান আল্লাহর কাছে।
অনেকটা সময় মসজিদে কাটিয়ে কিছুক্ষণ আগেই বাড়ি ফিরেছে সোহেল। এরই মধ্যে বাড়িতেও বেশ কিছু মেহমান এসে উপস্থিত হয়েছে। চারপাশে মানুষের আনাগোনা। ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই হঠাৎ সোহেলের চোখ আটকে গেল একটি দারুণ সুন্দর ওড়নায়। দেখলেই বোঝা যায়, এটি বিশেষ কারও জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছে।
ওড়নাটার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সোহেল সেটি হাতে তুলে নিল। কিন্তু পরক্ষণেই ওড়নার এক প্রান্তে সুন্দর করে লেখা কথাগুলো চোখে পড়তেই মুহূর্তের জন্য তব্দা খেয়ে গেল সোহেল। ওড়নায় লিখা ‘সোহেলের বউ ঋতু।’
লেখা টা পড়তেই সোহেলের চোখ কপালে উঠে গেল। এসব কী! ঠিক তখনই সামিরা ছেলের হাতে ওড়নাটা দেখে এগিয়ে এলেন। ছেলের হাত থেকে ওড়নাটা নিতে নিতে বললেন,
“হবু বউয়ের জিনিস নিয়ে কী করছিস? এখন পর্যন্ত তো ঠিকমতো খাবারও খাসনি। যা, আগে গিয়ে কিছু খেয়ে নে। আরও অনেক কাজ বাকি।”
সামিরা ওড়নাটা হাত থেকে নিয়ে নিতেই সোহেল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“মা, এটা কী ছিল?”
“এটা একটা পেজ থেকে কাস্টমাইজ করে বানিয়েছি। কেন? তুই খুশি হসনি? তোর ভালো লাগেনি?”
সোহেল সঙ্গে সঙ্গে বলল,
“হ্যাঁ, অবশ্যই ভালো লেগেছে। কিন্তু বউয়ের জায়গায় ঋতুর নাম কেন?”
ছেলের কথা শুনে সামিরা কিছুই বুঝতে পারলেন না। বরং অবাক হয়ে বললেন,
“কেন? তোর হবু বউয়ের নাম ঋতু। বউয়ের জায়গায় তো ঋতুর নামই থাকবে!”
মুহূর্তেই সোহেলের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। নিঃশ্বাস আটকে আসতে লাগল। কোনোমতে গলা দিয়ে শব্দ বের করে সে বলল,
“মা… আমার বিয়ে কার সঙ্গে ঠিক হয়েছে?”
সামিরা এবার আরও অবাক হয়ে ছেলের দিকে তাকালেন।
“আশ্চর্য! তুই তো বলেছিলি, তুই প্রণয়ের বোনকে পছন্দ করিস। তাই আমি প্রণয়ের বোন ঋতুর সঙ্গেই তোর বিয়ে ঠিক করেছি।”
কথাটা শুনে সোহেলের মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ল। মুহূর্তেই বুকের বাঁ পাশে হাত রেখে ধপ করে সোফায় বসে পড়ল সে। ছেলের এমন অবস্থা দেখে সামিরা হকচকিয়ে গেলেন। সোহেল হতাশায় প্রায় আর্তনাদ করে বলে উঠল,
“কাল থেকে আমি খুশিতে একপ্রকার পাগল হয়ে গিয়েছিলাম! কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না, জীবনে হঠাৎ এত শান্তি কেন! এবার বুঝতে পারছি, এত শান্তি কেন ছিল… কারণ অশান্তি তো আগে থেকেই আমার জন্য অপেক্ষা করছিল! বাঁশও আগে থেকেই আমার জন্য প্রস্তুত ছিল!”
সামিরা কপালে হাত দিয়ে বললেন,
“পাগল হলি নাকি? কী সব উল্টাপাল্টা কথা বলছিস?”
সোহেল অসহায় কণ্ঠে বলল,
“মা, আমি তোমাকে যে মেয়ের কথা বলেছিলাম, সে ঋতু নয়। প্রণয়ের বোন সুপ্তির কথা বলেছিলাম। আস্তাগফিরুল্লাহ! আমি ঋতুকে তো নিজের বোনের মতোই দেখি। আর মন-প্রাণ দিয়ে শুধু সুপ্তিকেই ভালোবাসি। তুমি এটা কী করে করলে, মা?”
ছেলের কথা শুনে সামিরা কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে রইলেন। কী বলবেন,বুঝে উঠতে পারলেন না।
সোহেল হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে ব্যাকুল কণ্ঠে বলল,
“এখনই! এই মুহূর্তে এই বিয়েটা ভেঙে দাও, মা।”
কথাটা শেষ হতে না হতেই ঠাস করে একটা চড় এসে পড়ল সোহেলের গালে। সোহেল স্তব্ধ হয়ে গেল। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল মায়ের দিকে।
সামিরা এবার ভীষণ কঠোর স্বরে বললেন,
“এটা তোর আগে মনে রাখা উচিত ছিল। তুই যতটা সহজে বলছিস, ‘বিয়েটা ভেঙে দাও’, বিষয়টা কিন্তু ততটা সহজ নয়। ঋতু এই বিয়েতে রাজি হয়েছে। আর তুই জানিস, একটা মেয়ে যখন নিজের বিয়েতে রাজি হয়, বিয়ের দিন এসে যদি সেই বিয়ে ভেঙে যায়, তাহলে তার ওপর দিয়ে কী ঝড় বয়ে যায়?”
সোহেল অসহায় কণ্ঠে বলল,
“কিন্তু মা, আমি তো অন্য একজনকে ভালোবাসি।”
“আমি আর কোনো কথা শুনতে চাই না। তুই কাকে ভালোবাসিস, সেটা এখন আমার জানার বিষয় নয়। সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে। এটা একটা মেয়ের পুরো জীবনের ব্যাপার। শুধু তোর এই ভুলের কারণে একটা মেয়ের জীবন এভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে না।”
সোহেল কাতর কণ্ঠে বলল,
“কিন্তু মা… সুপ্তি?”
সামিরা কঠিন দৃষ্টিতে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“আমি কোনো সুপ্তিকে চিনি না। আমি একটা পরিবারকে কথা দিয়ে এসেছি। এখন এই বিয়ে ভেঙে দিলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটা আশা করি তোকে আর বুঝিয়ে বলতে হবে না।”
সোহেল আর কোনো কথা বলতে পারল না। অসহায় দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল সে।
সামিরা এবার কিছুটা শান্ত স্বরে বললেন,
প্রণয়ের নব্য সূচনা পর্ব ৩৬
“একটা কথা সবসময় মনে রাখিস, মানুষ অনেক সময় অনেক পরিকল্পনা করে, অনেক কিছু নিজের মতো করে পেতে চায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্যে যা লেখা থাকে, মানুষ সেটাই পায়। হয়তো তোর ভাগ্যে ঋতুই আছে। তাই নিজের ভাগ্যকে মেনে নে।”
