প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৪১
ইনান হাওলাদার
ঘড়িতে সময় দেখতে দেখতে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামছে তূর্য।আজ হাসপাতাল বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ছেলেকে এত ব্যস্ত কায়দায় বাইরে ছুটতে দেখে পিছু ডাকলেন পারভিন বেগম। চিন্তিত গলায় বললেন,
” এত তাড়াহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছিস ,বাবা ?”
” বাজারে। বাই দ্যা ওয়ে,লিস্ট দেও।কি কি লাগবে?”পা থামিয়ে গুরুগম্ভীর গলায় বলল তূর্য।ছেলের কথায় যেন আকাশ থেকে পড়লেন পারভিন বেগম।ছেলে তার আহির জন্যে পাগল বুঝেছিলেন ,কিন্তু এরকম বদ্ধ উন্মাদ আজ বুঝলেন। কিন্তু পোশাক – আশাক দেখে বললেন,
” এভাবে জুতো ,ব্লেজার – টেলেজার পরে বাজারে যাবি? ”
” তো কিভাবে যাবো? চেইঞ্জ করতে হবে ? ” জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাঁকালো তূর্য। পারভিন বেগম হাসতে হাসতে বললেন,
” বাড়ি যা পরিস সেগুলো পরে যা। লাটসাহেব ছেলে আমার! ” বলে রান্নাঘরে চলে গেলেন তিনি।তারপর তিন জা’য়ে মিলে একসাথে হাসতে লাগলেন।তূর্য মা – চাচিদের কান্ড একবার পরখ করে উপরে চলে গেল। টিশার্ট – ট্রাউজার পরে নিচে নামলো।রান্না ঘরে গিয়ে কি কি লাগবে মায়ের কাছ থেকে শুনে শুনে মোবাইলে নোট করলো।
বাজার থেকে বেশ খানিকটা দূরে গাড়ি পার্ক করে দাঁড়িয়ে আছে তূর্য। মুখে চিন্তার ছাপ।এত সরু রাস্তা দিয়ে তো গাড়ি ঢুকবে না।তাহলে বাজার করবে কিভাবে? সে গাড়ি থেকে নামলো ভিতরের পরিবেশ একবার দেখে আসা দরকার।সে নেমে বাজারের ভিতরে ঢোকার আগেই চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো। এর ভিতরে তো নিজেই ঢুকতে পারবে কিনা সন্দেহ ,গাড়ি ঢোকাবে কিভাবে! এদিকে সবার হাতে একেকটা করে বাজারের ব্যাগ সে তো কিছুই আনেনি। সেটা নাহয় কিনে নিলো, কিন্তু ওই মাছের বাজারে কিভাবে ঢুকবে? কাঁদা – পানিতে ভরপুর।আর এতো হাউকাউ এখান থেকেই কান ঝা’লাপালা হয়ে যাচ্ছে ভিতরে গেলে কি হবে আল্লাহ মাবুদ ভালো জানেন। যারা এরকম চেঁ’চামেচি করছে এদের প্রত্যেকটা যদি একেকটা আহি হতো প্রত্যেকটার কানের উপর একটা করে চ’ড় লাগিয়ে ঠান্ডা করে দিত। এসেছে বাজার করতে বাজার করে চলে যাবে এত সাউন্ড করার কি আছে। ডিজগাস্টিং! ইচ্ছা করছে এখনি ফিরে যেতে। রাগে দাঁত চেপে চেপে কোনো রকমে কাঁচা বাজারগুলো করলো সে।মাছের বাজারে এসে হয়েছে জ্বালা। বাজারের সব মাছ দেখতেই একইরকম।সে একটু চিন্তা ভাবনা করে গুগলে সার্চ দিলো।
বাজার নিয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরেছে তূর্য ।বাড়ির তিন কর্তা আর আহি ব্যতীত সবাই সেখানে উপস্থিত। জীবনের প্রথমবারের মতো বাজার করেছে সে,সবার আলাদা একটা এক্সাইটমেন্ট।
যেখানে বাজার করতে সর্বোচ্চ দেড় ঘন্টা লাগে সেখানে তিন – সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগিয়েছে তূর্য।বাড়ির তিন কর্তা ছেলের করা বাজার দেখার আশায় বসে থেকে থেকে অধৈর্য হয়ে শেষে কয়েকবার কলও করেছেন । বাজারে আবার ছেলেকে খেয়ে ফেললো না তো।পরিশেষে অপেক্ষা করতে করতে আর না পেরে যে যার কাজে গিয়েছেন।
ভাগ্যিস গিয়েছে ! নাহলে আজ আর কথার শেষ থাকতো না।এইযে অন্যসব কিছু ঠিকঠাক ভাবে কিনলেও মাছ গুলো মোটেও চিনে উঠতে পারেনি।এদিকে একেবারে মাছ না নিয়ে এলেও সমস্যা। গুগল ঘেঁটেও ঠিকঠাক চিনতে পারেনি।ছবিতে এক রকম আর বাস্তব অন্যরকম।তাই ভুলভাল মাছ না নিয়ে যেগুলো ভালো করে চিনে,অর্থাৎ ইলিশ আর চিংড়ি সেটাই নিয়েছে। টাকি – শৈল মাছও চিনে। কিন্তু আহি আবার পছন্দ করে না ,এজন্যে আর আনেনি।বাড়িতে ফিরে বলেছে তোমরা যে মাছের কথা বলেছো সেগুলো বাজারে ওঠেনি।
তূর্য বাজার থেকে ফিরেছে শুনে আহি দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে কিচেনে আসলো। তূর্য ভাই বাজারে গিয়েছে শুনেই তখন থেকে আহি এক্সসাইটেড ।তিনি কখন বাজার থেকে ফিরবেন আর সে দেখবে বাজারের ব্যাগ হাতে তূর্য ভাইকে কেমন দেখা যায়।সে আসতে আসতে দেখতে পেল তূর্য গম্ভীর মুখে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।সে পিছন থেকে শবনমকে ধাক্কা দিয়ে ওর সাথে মিশে দাঁড়িয়ে বলল,
” না ধরলে তো পড়ে যেতে !”
শবনম রীতিমতো কেঁ’পে উঠেছে।ছোটকাল হতেই তার হা’র্টে হালকা সমস্যা আছে।এটা চৌধুরী বাড়ির কম – বেশি সবাই জানে।সে ভীতু কন্ঠে বলল,
” ভয় পাইয়ে দিলে তো ,আহি ”
” স্টুপিড! জানিস না ওর হার্টে প্রবলেম আছে?পিছন থেকে এভাবে কেউ চেঁ’চিয়ে ওঠে?” বেশ ক’ড়া কন্ঠে কথাগুলো বললো তূর্য। সাথে সাথে আহির চোখ টলমল করে উঠেছে। সে তো এরকম সবসময়ই করে এবং সবার সাথে করে।কখনো তো তূর্য ভাই এভাবে ধমকান না! বিরক্ত হলে জায়গা ছেড়ে চলে যান।তাহলে আজকে কেন এমন ব্যবহার করলেন? শবনমের সাথে করেছে তাই? ও ভেজা গলায় বলল,
” তূর্য ভাই….”
তাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে ফের ধ’মকে উঠলো তূর্য,
” একটা কথা বলবি না তুই । তোর জন্যে….”
” তূর্য,যা তুই। জামা কাপড় বদলে নে ” ছেলেকে থামিয়ে শা’সিয়ে কথাটা বললেন পারভিন বেগম।তূর্যও গটগট পায়ে হেঁটে উপরে চলে গেল। ছেলে যে বাজারে যাওয়ার রা’গ আহির উপর ঝাড়ল সেটা তিনি ভালো করেই বুঝেছেন। তাও ঠিকঠাক কিনতে পারলে হতো। উল্টোপাল্টা কিনে এনেছে জানলে আসলাম চৌধুরী কিসব বলবে ভিতরে ভিতরে সেই চিন্তায় ছেলে তার ম’রছে সেটা তিনি তো বুঝলেন কিন্তু এই আবেগী মেয়ে তো বুঝবে না।ইতিমধ্যে চোখের পানি পড়তে শুরু করেছে।
তিনি আহির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নরম গলায় বললেন,
” শোন মা , বাজার থেকে এসেছে তো এইজন্যে মাথা গরম আছে।কোনোদিন এসব করেনি তো।তুই মন খারাপ করিস না ”
” শুধু এখন না ,বড়মা। আপনার ছেলে সবসময় আমার সাথে এমন ব্যবহার করে ” বলে চোখের পানি মুছতে মুছতে আহিও চলে গেল। এদিকে শবনম মেয়েটা হাবলার মতো দাঁড়িয়ে আছে।কি হলো কিচ্ছু বুঝলো না। এরা নাকি একে অপরকে ভালোবাসে,আল্লাহ!
মারুফা বেগম বললেন,
” ওর রাগ রাখো তো বুবু! মাছগুলো এখন কি করবো বলো ”
দুই হাঁটু একত্রিত করে হাঁটুতে থুতনি ঠেকিয়ে খাটের উপর বসে আছে তারিন।নিষ্প্রভ চাহুনি!পরনে ভারি বিয়ের লেহেঙ্গা।মুখে কোনরূপ প্রসাধনী নেই। একটু আগেও কতনা কান্নাকাটি করলো। তার রেশ এখনো রয়েছে।চোখ – মুখ ফুলে আছে,ফর্সা গাল – নাক কান্নার তোপে এখনো লাল হয়ে আছে। থেকে থেকে নাক টানছে শুধু। এদিকে রুমের অন্যপাশে একটা মোড়া পেতে বসে ভাবলেশহীন ভাবে মোবাইল চাপছে মেহেদী। লোকটার কি একটুও খারাপ লাগছে না? একটা মানুষ কতটা অ’মানবিক ,নি’ষ্ঠুর হলে এত বড় একটা কান্ড ঘটিয়েও এভাবে শান্ত হয়ে বসে থাকতে পারে?এটা কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আর এই অসুস্থ মস্তিষ্কের মানুষটা নাকি তার স্বামী। ঘন্টা তিনেক আগেই নাকি তাদের বিয়ে হয়েছে। এটাকে কেমন বিয়ে বলে? একটা মা’স্তানে মতো গিয়ে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসলো। অথচ তার পরিবার কিছুই করতে পারলো না।তাদের সামনে আবার বিয়েও হলো। কতটা হাস্যকর ব্যাপার! তাচ্ছিল্য হাসলো তারিন। মেহেদী চোখ তুলে চাইলো।সাবলীল গলায় বলল,
” বিয়ের খুশিতে পাগল হয়ে গেলে নাকি?একটু আগেই কান্না করলে আর এখন হাসছো ”
কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো তারিন।তারপর স্বাভাবিক গলায় বলল,
” আমি চেইঞ্জ করবো ”
” চেইঞ্জ করবো বললেই হলো? চেইঞ্জ করে কি পরবে? ”
” বিয়ে করেছেন ,বউয়ের জন্যে ড্রেস কিনে রাখেননি ? ”
” ঘটা করে বিয়ে করতে যাইনি আমি। কাল কিনে দিবো ”
” আর আজ? এই পোশাকে থাকবো আমি ? ”
” কান্নাকাটি কি পরিবারকে দেখানোর ছিল ? এখানে এসে তো খুব স্বাভাবিক বিহেভ করছো । মুখ যখন খুলেছ ,এবার হাত-পাও সরিয়ে – নড়িয়ে বসো। শুবো আমি ”
একটা বালিশ নিয়ে খাটের একপাশে শুয়ে পড়লো তারিন। মেহেদী অবাক দৃষ্টিতে তাঁকালো। সে ভেবেছিল হয়তো টিভি – থিয়েটারের নায়কাদের মতো করবে। খাটে আর জায়গা হবে না তার। ওমন কিছু না হওয়ায় সন্তুষ্ট হলো সে ,তাকে আর এই শীতের রাতটা ফ্লোরে কাটাতে হচ্ছে না। সে লাইট অফ করে অন্যপাশে গিয়ে শুয়ে পড়লো। ব্লাঙ্কেটের এক পাশ টেনে বললো,
” আমাকে একটু দেও ”
ছাড়লো না তারিন।সে তো শুধু শুধু এক বিছানায় থাকছে না। এই লোককে সারারাত আগলা রাখার জন্যেই থাকছে। মেহেদী ফের বললো,
” কি হলো দেও না কেন?”
” আপনার গায়ে জড়িয়ে দিবো আমি ? নিয়ে নিন ” বলে শক্ত করে কম্বলের একপাশ মুঠ করে ধরলো তারিন।
মেহেদী কি কাহিনী বুঝছে না ? সেও কম্বলের এক প্রান্ত শক্ত করে ধরে শরীরের সর্বোচ্চ জোর দিয়ে হ্যাঁচকা টান দিলো।তার আশা ছিল শুধু কম্বলটা আসবে ।কিন্তু বুঝতে পারেনি কম্বল তো বাড়ির কাছে পুরো তারিনসহ এসে গায়ের উপর এভাবে পড়বে। দুজনেই এক সাথে চি’ৎকার করে উঠলো।মেহেদী তারিনের মুখ চেপে ধরে সাফাই দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল,
” আমি ইচ্ছা করে করিনি,আমি ইচ্ছা করে করিনি। মাঝ রাতে এভাবে চি’ৎকার করো না । লোকে কি ভাববে ”
তারিন কথা বলতে না পেরে শুধু ‘ উমমম ‘ ‘ উমমম ‘ করছে । আর মেহেদী শক্ত করে মুখ চেপে ধরে রেখেছে।তারিন এক পর্যায়ে মেহেদীর হাত কাঁ’মড়ে ধরলো। সে আর্তনাদ করে হাত সরিয়ে চেঁ’চিয়ে উঠলো,
” অ’সভ্য মেয়ে ! রা’ক্ষুসী একটা ”
তারিন তড়িঘড়ি করে মেহেদীর বুকের উপর থেকে উঠলো। সাথে এক গাদা কথা বললো। মেহেদীও সমান তালে গলা মিলিয়ে গেল।অতঃপর ঝ’গড়া – ঝা’টি করে গোটা একটা পার করলো।
বাজার করে আসার পর থেকে আর নিচে নামেনি তূর্য। এমনকি রাতের খাবারটাও খায়নি। তার অবশ্য দুটো কারণ ,একটা আহি আর অন্যটা ওর বাপ। বাপেরটা কোনো রকমে সহ্য করে নিলেও তার মেয়েরটা পারবে না।আর তখন ওসব রা’গ ভাঙ্গানোর এনার্জিও ছিল না। তাছাড়া,রাতটা পার হলে রাগ – অভিমান কিছুটা হলেও হালকা হতে পারে।অথচ লাভের লাভ কিছুই হলো না।সারারাত দুই চোখে মেয়ের ছলছল নয়নের অভিমানী মুখ ভেসে উঠেছে।আর এখন মেয়ের বাপ আর চাচার খোঁচা মা’রা কথা শুনতে হচ্ছে। অথচ তার বলার কিচ্ছু নেই। কি বলবে?বাড়ি এসে বলেছ ওইসব মাছ বাজারে ওঠেনি তার একটু পর নাকি তার সম্মানীয় চাচাজান সেইসব মাছ নিয়ে হাজির হয়েছেন। সে যে মাছ চিনে আনতে না পেরে মিথ্যা বলেছে সেটা প্রমাণ করাই চাচাজানের উদ্দেশ্য।
আর ড্রয়িং রুমে বসলো না তূর্য। বসতে পারলে তো বসবে! অসহ্য হয়ে চলেই গেল।সে যেতেই ড্রয়িং রুমের সকলে হো হো করে হেসে উঠলো। সবটা কানে আসলো তার। সে সোজা আহির রুমে গেল। নক করে প্রবেশ করলো। আহি বোধ হয় বাইরে আসছিল।তূর্যকে দেখে গোমড়া মুখে খাটে পা ঝুলিয়ে বসলো।তূর্য খুব সামান্য দূরত্ব রেখে ওর পাশে গিয়ে বসলো।স্বভাবসুলভ ভারী গলায় বলল,
” নাবিল আর পিংকির বিয়ের ডেট ফাইনাল হয়েছে। তোকে নিয়ে যেতে বলেছে ”
আহি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে থমথমে গলায় বলল,
” আমি যাবো না ”
” কেনো?”
” এমনি! মন চাইছে না যেতে ”
” মনের কথা কেউ শুনতে বলেনি।”
” তো কার কথা শুনবো? আপনার?” আক্রোশের সাথে বলল আহি।
” হ্যাঁ, সারাজীবন !”
” না!”
” কি প্রবলেম হচ্ছে বলে ফেল।এত ধৈর্য আমার নেই। ”
আর কোনো কথা বলল না আহি।এসে থেকেই পাটের সাথে কথা বলে যাচ্ছে। আবার জিজ্ঞেস করছে ‘ কি প্রবলেম হচ্ছে?’ কি প্রবলেম হচ্ছে জানেন না তিনি? কি ভেবেছিলেন তূর্য ভাই,এসে বিয়ের কথা বলবে আর সে রাগ – অভিমান ভুলে নাচতে নাচতে রাজি হয়ে যাবে? তাহলে তিনি ভুল ভাবছেন।
তূর্য বুঝলো প্রিয়সিনীর অভিমানের কারণ।উঠে দাঁড়িয়ে আহির মুখোমুখি হলো।মুখ আজলা করে ধরে নরম কন্ঠে বললো,
” তখন মাথা গরম ছিল ।
এত বড় হয়েছিস কখনো আমাকে এসব হাট -বাজার করতে দেখেছিস? হুট করে কেনো গিয়েছি আমি? তোর বাপের আদর্শ মেয়ে জামাই হওয়ার জন্যেই তো। কিন্তু,উল্টা – পাল্টা কিনে নিয়ে চলে এসেছি। মে’জাজ খারাপ হচ্ছিলো । তোর আব্বু আর বড় আব্বু এটা নিয়ে আমাকে পি’ঞ্চ মে’রে কত কথা বলেছে তোর কোনো আইডিয়া আছে? ড্রয়িং রুমে গিয়ে দেখ এখনো বলছে।”
একটু থেমে সে ফের বলল,
” তাহলে কি দাঁড়ালো ? তোর জন্যেই সবটা। ”
” কি বলতে চাইছেন? আমার জন্যে মাথা গ’রম , আমার জন্যে আব্বু ,বড় আব্বু আপনাকে পিঞ্চ মা’রছেন ,সেটা? ”
” আমি বলি কি ,আর তুই বুঝিস কি ! সেটা কখন বললাম?” হ’তাশ গলায় বলল তূর্য।
” মাত্রই তো বললেন ”
” এটা বললাম? স্টু’পিড ” বলে দুই আঙুলে নিজের কপাল চেপে ধরলো তূর্য।ডলতে ডলতে ফের বললো,
” ও গড! এইযে স্টুপি’ড বলে ফেললাম এটা নিয়েও নিশ্চয়ই কথা শুনাবি।বল ,আমি শুনছি !” বলে একটা দী’র্ঘশ্বাস ফেললো সে।
” এখন তো ঠিকই সুন্দর ভাবে মাথা ঠান্ডা করে কথা বলছেন। ” অভিমানী গলায় বলল আহি।
” প্রিপেয়ার হয়ে এসেছি ! ” থমথমে গলায় কথাটা বলল তূর্য।তারপর একটু ঝুঁকে প্রেয়সীর চোখে চোখ রাখার চেষ্টা করে দুই ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চেয়ে বলল,
“তো? আপনার মাথা ঠান্ডা হয়েছে ম্যাম ? এখন কি সম্মতি দেওয়া যায় ? ”
আহি নত মাথা আর উঁচু করলো না।আগে একদিন ম্যাম বলেছেন তূর্য ভাই।আজকে আবার! দুই গালে রক্তিম আভা চেয়ে গেল তার।তার লজ্জা রাঙা মুখ খুব আবেদনময়ী লাগে তূর্যের কাছে।
সে আরেকটু লজ্জায় ফেলতে বলল,
” জাস্ট ম্যাম বলেছি , অন্যকিছু না। এত ব্লাশ করার মতো কিছু দেখছি না ।পাখি ,সোনা , জা’ন কিছুই বলিনি। ”
সকালে ঘুম থেকে উঠে উদাস হয়ে জানালার দিকে তাঁকিয়ে বসে আছে তারিন। ঘুম থেকে উঠতে ওর অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। ভারী লেহেঙ্গা গায়ে নিয়ে কিছুতেই ঘুম আসছিল না। তারপর কখন ঘুমিয়ে পরেছে জানে না। দেওয়াল ঘড়িতে দেখলো এগারোটার বেশি বাজে।ঘুম থেকে উঠে মেহেদীকেও আর দেখতে পায়নি।দরজাটাও বাইরে থেকে লক করে গিয়েছে।কি ভাবে ওই লোক? সে পালিয়ে যাবে ? তার চিন্তার মাঝে দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলো মেহেদী।হাতে অনেকগুলো শপিং ব্যাগ। সেগুলো তারিনের সামনে ছুঁড়ে ফেলে বলল,
” যাও,এবার চেইঞ্জ করে এসো ”
তারিন সেই জায়গায় একই ভাবে বসে রইলো।চেয়ে পর্যন্ত দেখলো না। মেহেদী কিয়ৎক্ষণ চুপ করে থেকে ফের বললো,
” আরেকবার বিয়ে করতে মন চাইছে? যদি চাই বলো,আর না চাইলে চেইঞ্জ করে এসো।এখানে সবকিছু আছে। আর পার্সোনাল যা যা দরকার হয় নিজে গিয়ে কিনো ”
” আপনার এত ভালো ব্যবহার আমার হজম হচ্ছে না।”
” একটু পর হজমের ট্যাবলেট এনে দিবো। মাত্র বাইরে থেকে আসলাম এখন আর যেতে পারব না।”
তারিন বিরক্ত চোখে একবার মেহেদীর মুখের দিকে তাঁকিয়ে একটা ড্রেস নিয়ে গজগজ করতে করতে ওয়াশরুমে চলে গেল। চেইঞ্জ করে বাইরে এসে দেখলো মেহেদী নেই ।টেবিলে খাবার রাখা।সে আগে বিছানায় ছড়িয়ে – ছিটিয়ে থাকা ব্যাগগুলোর প্রত্যেকটা খুলে খুলে দেখলো। সত্যিই এখানে সবকিছু আছে । সামান্য ব্রাশ আনতেও ভোলেনি। কিন্তু এসব জিনিস এখন কোথায় রাখবে?
সে ব্যাগগুলো নিয়ে রুমের একপাশে রাখলো। বেলা অনেকটাই হয়েছে ক্ষুধা ক্ষুধাও লাগছে।সে টেবিলে থাকা খাবারটা নিয়ে ডাইনিংয়ে গেল।খাওয়া প্রায় মাঝপথে তখন কোত্থেকে যেন মেহেদী এলো।বললো,
” একবেলা কিনে এনে খাইয়েছি বলে প্রতি বেলা এমন করবো না। ফ্রিজে সবকিছু আছে ,সময় মতো রান্না করে খেও ”
” না বললেও চলবে ” বলে খাবার রেখে উঠে গেল তারিন।
মেহেদীর উদ্বিগ্ন গলায় বলল,
” খাবার রেখে উঠছো কেন? ”
” আর খাবো না ”
” তারিনা ? এই মেয়ে দাঁড়াও! আমি তোমাকে খেতে নিষেধ করিনি ।আচ্ছা, আমি প্রতি ওয়াক্তে রেস্টুরেন্ট থেকে কিনে আনবো।তুই খাবার শেষ কর বইন ”
প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৪০
কে শুনে কার কথা!তারিন তো মেহেদীর কথা গায়েই লাগায়নি। পেট ভরে গিয়েছে তাই উঠেছে। এখন যখন লোকটা ভাবছে তার কথার জন্যে সে উঠে গিয়েছে তাহলে ভাবুক।এখনো পাঠার মতো চি’ল্লাচ্ছে ,চি’ল্লাক ! সে সোজা রুমে গিয়ে দরজা লক করে দিলো। আর মেহেদী হতাশ হয়ে ডাইনিংয়ের চেয়ারে বসে পড়লো। সে এই বে’য়াদব মেয়েকে বিয়ে করেছে কেন? মেন্টালি প্রে’সার দেওয়ার জন্যে ।কিন্তু ,এই মেয়েই তাকে মেন্টালি প্রে’সার দেওয়া শুরু করে দিয়েছে।প্রথম দিনেই এই অবস্থা।কয়েকদিন পার হলে তো আরো হবে। কয়েকদিন বাড়িতে এনে এই মেয়ের হাবভাব পরখ করে তারপর বিয়ে করা উচিৎ ছিল।এখন সারাজীবন এটাকে ঘাড়ে করে নিয়ে বেড়াতে হবে।
