প্রিয় মোনালিসা পর্ব ১
নীতি জাহিদ
এক পা, দু পা করে পা ফেলে মই বেয়ে অনেক টুকু পথ পেরিয়েছে, ছাদের কার্নিশের দিকে তাকালো। হাত পৌঁছাতে আরো অনেকটা উপরে উঠা জরুরি। এর উপরে উঠতে গেলেই পা ফসকে যাবে। সাফাইনা নিচ থেকে বলছে আরেকটু উঠতে৷ বড্ড বিরক্ত লাগছে। এই মেয়েটা কেনো আগলে রাখলো না কাকাতুয়াকে! বহু কষ্টে বাবার কাছে বায়না ধরে এই পাখি উপহার পেয়েছে এবারের জন্মদিনে। গতকাল সাফাইনা পাখি দেখতে গিয়ে অনুরোধ করলো একটা রাত কাকাতুয়াকে ওদের বাসায় রাখবে। তাই আর বারণ করতে ইচ্ছে হলোনা। সকালে ছুটে গিয়ে বলে, খাঁচার দরজা খোলা পেয়ে উড়াল দিয়েছে। সারা বাড়ি খুঁজে দেখে ছাদের উপর। ভয় পেয়ে কাউকে না জানিয়ে মোনার কাছে গেলো। ঘুম থেকে উঠে সবে নাস্তা সেরে ডোরেমন দেখতে বসেছিলো। এরই মাঝে এই মেয়ে উপস্থিত হলো এমন একটা ব্রেকিং নিউজ নিয়ে। বর্তমান অবস্থা এই যে, পাখি সাফাইনাদের ছাদে রবি নেটওয়ার্কের যে টাওয়ার আছে তার উপর বসে আছে। নিজের উপর বড্ড অভিমান হলো মোনার। কেনো সাফাইনাকে দিলো! কেনো দরদ দেখাতে গেলো! হাত পা ছুঁড়ে কাঁদতে মন চাইলো। মোনা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কাকাতুয়াকে নিয়েই আজ বাড়ি ফিরবে। সাফাইনা পাখিকে ডাকছে,
– কাক্কু নেমে যা, হুশ। আয় আয়।
কথা বলতে বলতে এক কান্ড করে বসলো। একটা ইটের টুকরা ছুঁড়ে মারলো কাকাতুয়ার দিকে। ব্যস! কাজ হয়ে গিয়েছে। উড়াল দিলো দূর আকাশে। হাঁ করে চেয়ে রইলো মোনা পাখির উড়াল পথে। মাথায় হাত দিয়ে সাফাইনা ছাদে বসে পড়লো। ছলছল চোখে মোনা একবার চায় পাখির উড়াল পথে, অন্যবার দেখে সাফাইনাকে। সাফাইনা মাথায় হাত দিয়ে বললো,
– এই যাহ! মোনাদি পাখি তো চলে গেলো।
মোনা আর কথা না বাড়িয়ে নেমে আসে মই বেয়ে। চোখে পানি। সাফাইনার সাথে আর একটি কথাও বলে নি। সিড়ি দিয়ে নেমে সোজা নিজের বাড়ির দিকে পা বাড়ায়। বাড়ির গেটের সামনে আসলে সাফাইনা পেছন পেছন এসে মোনার হাত ধরে বললো,
– মোনা দি স্যরি।
এবার মোনা গর্জে উঠলো,
– আর কক্ষনো আমাদের বাসায় আসবিনা।
ঝামটা মেরে হাত সরিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে ছুটে এলো। দ্রুত পায়ে নিজেদের বাড়ির গেটের ভেতরে ঢুকে যায়। মোনাদের কেয়ারটেকার মতি মিয়া ছুটে এলো। মোনা ঢুকতে ঢুকতে বললো,
– মতি আংকেল এই মেয়ে জীবনে ও যেন আমাদের বাসায় না আসে। তুমি গেট খুলবেনা।
মতি মিয়া মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে বললো,
– ঠিক আছে আম্মু।
সাফাইনাও চলে গেলো মন খারাপ করে। কালকে থেকে মোনাদি আর স্কুলে কথা বলবেনা। একসাথে যাওয়া হবেনা। মোনাদের বাড়ি আর সাফাইনাদের বাড়ি পাশাপাশি। মোনা এবার একাদশ শ্রেণিতে, অন্যদিকে সাফাইনা নবম শ্রেণিতে। স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংযুক্ত হওয়াতে দুজন একসাথেই আসা যাওয়া করতো মাঝে মাঝে। দুজনাতে বেশ খাতির ছিলো। আজকের পর আর জমবেনা দুজনের মাঝে কোনো আড্ডা।
মিটিং টা কোনো রকম শেষ করেই ফাইল গুছিয়ে নিলো। বড় সাহেবের তাড়া দেখে অফিসের স্টাফরাও বিচলিত। আজকের সব কটা মিটিং ক্যান্সেল করা হলো। এইচ আর ম্যানেজার জোবায়দা এবং একাউন্টস হেড মনোয়ার, বসের কেবিনে ঢুকেছে। ঘাড় তুলে অফিসারদের দেখে মিনহাজ ইষৎ হেসে বললো,
– মনোয়ার সাহেব, আজকের সব মিটিং ক্যান্সেল করা হয়েছে আমার পক্ষ থেকে। আপনি অফিসের ঝামেলা গুলো আজ সামলে নিন। ফ্যামিলি ইস্যু হয়েছে। যেতে হবে।
মনোয়ার সাহেব একটু চিন্তিত হয়ে বললো,
– স্যার সিরিয়াস কিছু?
মিনহাজ ভেবে বললো,
– মেয়েটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে হঠাৎ। সকালে ভালো মেয়ে দেখে এলাম। এখন নাকি জ্বর।
– তাহলে স্যার দেরি করবেন না। আপনি যান আমরা সামলে নিব।
– ধন্যবাদ আপনাদের। আর মিসেস জোবায়দা আপনি আজকের ইন্টারভিউ গুলো নিয়ে নেবেন। সিলেক্টেড সিভি রেখে দিবেন। আমি আগামীকাল ইনশাআল্লাহ দেখে দিব। আজ উঠি।
– জ্বি স্যার অবশ্যই।
মিনহাজ ড্রাইভারকে গাড়ি বের করতে বলেই বেরিয়ে এলো অফিস থেকে। বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে কি অবস্থায় পাবে সেই চিন্তায় মাথা কাজ করছেনা। একমাত্র মেয়ে তার। আহ্লাদে আহ্লাদে আগলে রাখা মেয়ে। একটু কিছু হলেই চিন্তার অন্ত থাকেনা। পরিবেশ,সমাজ কোনো কিছুই আজকাল মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়।
মায়া তখন থেকেই মাথায় পানি ঢালছে। জ্বরের ঘোরে এখনো কি যেন বিড় বিড় করছে। মিনহাজ ছুটে এসে মেয়ের মাথার কাছে বসলো। মায়া ভাইকে বলছে সারাদিনের অবস্থা। পুরো কাহিনী শুরু হয়েছে পাখি হারিয়ে যাবার পর থেকে। সাধের পাখি হারিয়ে মেয়ে শয্যাশায়ী! এই কথা কি মেনে নেয়ার মতো! বাসায় একা থাকে খেলার সাথী নেই। এই পাখি পেয়ে মেয়েটা কত খুশী ছিলো? মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই মেয়ে বুঝে গিয়েছে বাবার হাত। পিটপিট নেত্রে চেয়ে ক্ষীন স্বরে বললো,
– বাবা, আমার কাকাতুয়া উড়ে গিয়েছে।
মায়া অসহায় চোখে তাকিয়ে বলে,
– হয়েছে তো মুনিয়া, মা আর পাখি পাখি করিস না…
বাক্য শেষ করার আগেই মিনহাজ কাকে যেন ফোনে আদেশ দিলো, আরেকটা পাখি এনে দিতে। নুরজাহান বেগম গজগজ করতে করতে রুমে প্রবেশ করলো,
– আশ্চর্য কথা বার্তা, মাইয়া পাগল হইলে কি তুই ও পাগল হইবি মিনহাজ। এডি কিনতে কি টাকা লাগে না? এই মাইয়াই তোর সব ধ্বংস করবো। যা কইবো তাই হাজির করন লাগবো ক্যান?
মায়া মাকে রেগে বললো,
– আম্মা তুমি চুপ করতে পারোনা, মুনিয়া ভাইয়ার কাছে কি জানোনা? আমাদের আছে কি ও ছাড়া?
– আমিও আদর করি। কিন্তু মাইয়া মাইনষেরে এত আহ্লাদ দেওন ঠিক না। পরের ঘরেই যাইবে দুই দিন পর। এসব অভ্যাস খারাপ। জামাই কি এরম মাথায় তুইল্যা নাচবো? এত আদেখলামি দেহাইলে তুইল্যা আছাড় দিবোনে।
মিনহাজ মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
– এমন জামাই না হলে মেয়েই দিবোনা।
জ্বরের শরীরে মোনা দাদীর কথায় ছ্যাঁত করে উঠলো। মাথা উঠাতে পারছেনা বিছানা থেকে কিন্তু দাদীর কথায় মেজাজ চ টে গেলো। গলা ফাটিয়ে বললো,
– এ্যই বুড়ি, এ্যই সামনে থেকে যাও, তুমি আমাকে তাড়াতে পারলে বাঁচো তাই না। দাদাভাই…
মামুন সাহেব ছুটে এলেন নাতনীর ডাক শুনে। মেয়েটা এতক্ষনে কথা বলছে দেখে ভালোই লাগছে। মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
– কি হয়েছে বোন, শরীর টা ভালো লাগছে এখন?
– এ্যই বুড়িটাকে যেতে বলো। বাবাকে বলছে আমাকে যেন কাকাতুয়া কিনে না দেয়। আমার বিয়ে নিয়ে কেনো প্যান প্যান করছে কানের সামনে? আমার শরীর বেশি খারাপ হয়ে যাচ্ছে…
কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। শরীর প্রকৃতপক্ষে নেতিয়ে যাচ্ছে। মায়া মোনার শরীরে হাত দিয়ে চোখ কপালে তুললো। জ্বর বেড়েই চলেছে। মামুন সাহেব চোখ রাঙালেন স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে। নুরজাহান বেগম নিজেও বুঝলেন তার এখন এই সব বলা অনুচিত। তাই নিজেকে দমিয়ে ফেললেন।
নয়ন এসেছে রিক্তাকে নিয়ে। ব্যবসাটা তিনজনের। নয়ন, মোনার মামা। মাইশার বড় ভাই। মাইশা চলে যাবার পর থেকে ভাগ্নিকে নিয়ে আতঙ্কে থাকে। রিক্তার বড্ড আদরের এই মোনা। মোনাকে বিছানায় দেখেই এগিয়ে এলো। মামীকে দেখে হাত জড়িয়ে ধরলো মোনা। নয়ন মিনহাজের সাথে আলাপ আলোচনায় ব্যস্ত। মেয়ের অবস্থার অবনতির কথা জানালো।
কথার মাঝেই নয়নের ফোন আসতেই রিসিভ করে একপাশে সরে আসলো। মিনহাজকে জানাতেই দুজন তড়িঘড়ি করে বের হয়ে গেলো। ফ্যাক্টরিতে এসেই দেখে শ্রমিকরা সব রাস্তায়। তাদের দাবি না মানলে তারা কেউ কাজে ফিরবে না। গতমাসে সবার বেতন বাড়িয়েছে। অন্যান্য সব সুযোগ সুবিধা দিবে জানিয়েছে এর পরো এভাবে রাস্তায় নামার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
সোহান ভিডিও করে পুরোটাই পাঠিয়ে দিলো ইতালী। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি না মানলে কাজে যাবেনা বলে জানিয়েছে তারা। তাদের নতুন দাবি হলো, যদি তাদের মধ্যে কোনো শ্রমিকের স্ত্রী গর্ভবতী হয় সেইক্ষেত্রে মেয়েরা যেমন মাতৃত্বকালীন ছুটির পায় তেমনি পিতৃত্বকালীন ছুটি দিতে হবে। স্বামী- স্ত্রী যদি এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে তবে দুজনই তিনমাসের পুরো বেতন উপভোগ করবে। এমন আইন বাংলাদেশে কোনো কোম্পানিতে নেই তবুও তারা চাইছে এমন আইন যেন কার্যকর হয়।
টিভিতে নিউজ কাস্টিং শুরু হয়ে গিয়েছে। এরই মাঝে নয়নের ফোনে কল ঢুকলো। জানিয়ে দিলো ফোনের ও পাশের মানুষটা তার আগমনী বার্তা। বন্ধুর ফোন পেয়ে নয়ন ভীত৷ এত বছর যা হয়নি এবার তাই হবে। অফিসের অনেক নিয়ম কানুনে পরিবর্তন আসবে। কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। মিনহাজের জন্য কোম্পানির অনেক কিছুতে ছাড় দিয়েছে এত বছর। একটি প্রতিষ্ঠান চালানো অনেক বড় ব্যাপার। এবার এসে কি করবে মহান রবই ভালো জানেন! নয়নকে ফোনে কঠোরভাবে জানিয়ে দিয়েছে সকলের সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে আগামী পরশু। আজ যেন কাজে ফিরে যায়। কয়েকজন ভাঙচুর করতে চাইলে পুলিশ বাঁধা দেয়। কোম্পানি জানিয়েছে, পরশু দিন যদি তাদের দফা মেনে না নেয় তবে তারা আবার আন্দোলনে নামতে পারবে সমস্যা নেই। তাদের জানমালের নিশ্চয়তা দেয়া হবে।
নয়ন মিনহাজকে উদ্দেশ্য করে বলল,
– মিনহাজ ভাই আমরা বোধ হয় আর পারলাম না।
মিনহাজ হেসে বললো,
– আমি ওকে গতমাসেই বলেছি যেন এবার এসে হাল ধরে। আমার শরীরটা ভালোনা। তুই একা হয়ে যাবি আমার কিছু হলে।
নয়ন বিস্মিত। কি বলছে মিনহাজ ভাই! প্রশ্ন করলো,
– তাই তো বলি এত তড়িঘড়ি করে কেনো আসছে? আর এসব কি বলছো, যত্তসব বাজে কথা।
– তোরা দুজন সামলে নিবি৷ মোনা তো তোর ন্যাওটা। এছাড়া তোদের দুজনেরই অভিজ্ঞতা আছে বাচ্চা সামলে নেয়ার। আমার মেয়েকেও সামলে নিবি।
– চুপ যাও ভাই। এমনিতেই দুশ্চিন্তার অন্ত নেই তুমি আবার স্যাড স্টোরি জুড়ে দিচ্ছো।
দুজনের কথার মাঝে একটা প্রবল আশঙ্কা লুকিয়ে আছে।
চোখের পলকে কে*টে গেলো একটি দিন। পরদিন রাত পেরিয়ে ভোর হতেই মোনা চোখ খুলে তাকালো। শরীরের ব্যাথা এখনো কমেনি, জ্বরটা কমেছে বোধ হয়। পাশে মায়া শুয়ে আছে। মায়াকে না জাগিয়ে উঠে দাঁড়ায়। খাট ধরে এগিয়ে গেলো ওয়াশরুমের দিকে। মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো। ডাইনিং এ গিয়ে এক গ্লাস পানি পান করলো।
ফ্রিজ থেকে আইসক্রিমের বাক্সটা খুলে চুপি চুপি আইসক্রিম খেয়ে নিচ্ছে। এই জ্বরেও যে কেউ এমন আইসক্রিম খেতে পারে তা এই মেয়েকে না দেখলে বুঝাই যেত না। আইসক্রিম খাওয়া শেষে একটা ডেইরি মিল্ক বের করে স্লো ভলিউমে টিভি ছেড়ে বসলো। স্ক্রিনে নেট কানেক্ট করলো। চকলেটে এক কামড় দিয়ে টিভিতে ডোরিমন ছাড়লো। পুরোনো সব এপিসোড দেখা শেষ। চকলেট খেতে খেতেই ঘুমিয়ে পড়লো সোফায়। সারা রাতের নির্ঘুম ক্লান্তি যেন এই ঘুমেই মিটে যাবে।
সকাল সাড়ে আটটা। কেউ উঠেনি। ক্লান্ত সবাই। মোনাকে নিয়ে পুরো পরিবার চিন্তিত ছিলো সারা রাত। মামুন সাহেব উঠেই দেখতে পান নাতনী সোফায়। কাছে এসে নাতনীর গায়ে হাত দিতেই দেখেন শরীর টা এখনো খানিকটা গরম। কিছুটা বিরক্ত হলেন বাড়ির লোকজনের উপর। ক্ষে পে সবাইকে ডাকলেন। মিনহাজ মেয়েকে এই অবস্থায় দেখে কোলে তুলে খাটে শুইয়ে বুঝিয়ে বললেন,
– আব্বা, সবাই ক্লান্ত। ডাকবেন না থাক। আমি দেখছি।
মায়া হন্তদন্ত করে ছুটে এসে ভাইসহ মোনার রুমে ঢুকলো। ভাইঝিকে হালকা করে ডেকে উঠানোর চেষ্টা করলো। এদিকে মিনহাজের ফোন বাজছে, অফিসের দিকে যেতে হবে। মেয়েকে মায়ার দায়িত্বে রেখেই অফিসে ছুটলেন।
অফিসের পরিবেশ গরম। পুরো অফিস থমথমে। এর কারণটা অবশ্য জানা মিনহাজের। মিনহাজকে হন্তদন্ত হয়ে ঢুকতে দেখে সকলে দাঁড়িয়ে পড়লো। অফিস স্টাফ থেকে শুরু করে প্রতিটি অফিসার ভীত। মিনহাজ ইশারা দিয়ে জোবায়দাকে জিজ্ঞেস করলো ভেতরে কি অবস্থা? জোবায়দা এগিয়ে এসে জানালো,
– সাড়ে সাতটায় অফিসে ঢুকেছে তালা খুলে। সবাই নয়টা বাজে এসে দেখে ভেতরে দরজা লাগানো। কাউকে ভেতরে এলাউ করছেনা ম্যানেজার সাহেব ছাড়া। নয়ন স্যার ও এখন অবধি ঢুকে নি। ডিরেক্টর ও চেয়ারম্যান এর মিটিং বসবে দশটায় এরপর বাকিদের।
মিনহাজ সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে নয়নের কেবিনে চলে গেলো। নয়ন মিনহাজকে দেখে বললো,
– ভাই, পরিবেশ কেমন বুঝতে পারছিনা। ভেতরে নাকি শুধু ম্যানেজার সাহেব আছে। সব ফাইল নামিয়ে ফেলেছে। এখন তো দশটা বাজার সাত মিনিট বাকি। দশটায় তিনজন একসাথে বসতে হবে জানিয়েছে।
মিনহাজ মাথা নেড়ে সায় দিয়ে বললো,
– চিন্তা হওয়াই স্বাভাবিক।
– নাস্তা করেছো? মোনা আম্মা কেমন আছে?
– শরীর টা গরম। রেখে আসতে মন চায়নি কিন্তু কি করবো।
– আচ্ছা আল্লাহ ভরসা। এই সমস্যা কে*টে উঠলে কয়েকদিন ওকে সময় দিও। আমরা এদিকটা সামলাবো।
অফিসের পিয়ন এসে জানালো সবাইকে মিটিংয়ে ডাকা হয়েছে। নয়ন মিনহাজের দিকে তাকিয়ে বলে,
– যদি ওলট পালট কিছু করি এবারের মত বাঁচিয়ে দিও। মান সম্মান ধুতে তো আর কিপ্টামি করবে না শা*লা। তোমার কথা তো তাও মান্য করে।
– খবরদার মুখ খারাপ করিস না ওর সামনে, তখন আমাকে ও মানবেনা।
