প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫৮
লামিয়া ইসলাম শাম্মী
আই.কে বাগান বাড়ির মূল ফটকে দাঁড়িয়ে আছে সবাই। মীর আদনান আলী ও নূর সবাইকে নেমন্তন্ন জানি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিবে।
তখনই চিৎকার চেঁচামেচি শুনে সবাই ভ্রু কুঁচকে তাকালো। সামনে তাকাতেই দেখলো গ্রামের কিছু মানুষ পুকুর ঘাটে জড় হয়ে গোল করে দাঁড়িয়ে আছে।
ইসলাম ও খান বাড়ির ছেলেমেয়েরা একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা আঁচ করতে পেরে দৌড়ে গেলো সেদিকে। পুকুর ঘাটে সবাই এসে সামনে তাকাতেই সবার মুখ হা হয়ে গেলো ।
পুকুর ঘাটের সিঁড়িতে বসে আছে লামিয়া,তোয়া আর তায়েবা। তাঁর সামনেই মাহির আর তায়েব অর্ধেক পানিতে নেমে হাত বেঁধে ঘাড় ধরে পানিতে চুবাচ্ছে জব্বার উদ্দিন কে। সবাই হা করে তাকিয়ে আছে সেদিকে। মীর আদনান আলী আর নূর আশ্চর্য চোখে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। এখানে কী হচ্ছে তা কেউ বুঝতে পারছে না।
রাশেদ আর কিছু না ভেবে এগিয়ে গিয়ে মাহির আর তায়েব কে ধমকে বললো ” কী করছিস তোরা?? ছাড় ওনাকে। ছাড় বলছি নয়তো অনেক খারাপ হয়ে যাবে।”
পাশ থেকে লাবিব রেগে বললো
” দিন দিন তোদের এই বদমাশি অনেক বারছে। তোরা লিমিট ক্রস করছিস। ছাড় ওনাকে ওনি মুরুব্বি মানুষ।”
লাবিব এর কথায় লামিয়া পিছন ফিরে লাবিবের দিকে তাকিয়ে বললো ” হ্যাঁ আমরা লিমিট ক্রস করছি। তাঁতে আপনার কী সমস্যা??”
লাবিব রেগে কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই শুভ্র লামিয়া কে জোরে একটা ধমক দিয়ে উঠলো। বেশ শক্ত পোক্ত ধমক দেওয়ার কারণে সবাই চমকে উঠলো। লামিয়া কেঁপে উঠলো। শুভ্রর দিকে তাকাতেই শুভ্র শক্ত গলায় বললো
” বেশি বেশি করছিস না এখন?? মুরুব্বিদের সাথে কেমন আচরণ করতে হয় ভুলে গিয়েছিস??”
লামিয়া ঠোঁট কামড়ে শুভ্রর দিকে তাকালো কিন্তু কিছু বললো না। কিন্তু পাশ থেকে তায়েবখ রেগে বলে উঠলো ” শুভ্র ভাই আপনি না জেনে শুনে কথা বলবেন না। ”
শুভ্র তায়েবা কে এক ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দিলো। মাহির, তায়েব চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে পানিতে তাদের দুজনের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে জব্বার উদ্দিন। চুব্বানি খেয়ে নাক, মুখ, চোখ লাল হয়ে উঠেছে তার।
তা দেখে শুভ্র কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই তোয়া বলে উঠলো
” হ্যান্ডসাম বয় প্লিজ বিগ বস কে বকো না। বিগ বস ভুল কিছু করে নি। ওই লোকটা খারাপ কথা বলেছে এমন কি বিগ বস তারপর ভাইয়া আপুদের গালাগালি ও দিয়েছিলো। ”
তোয়ার কথা শুনে সবাই ভ্রু কুঁচকে তাকালো। আবির যতই তাদের দেখতে না পারুক কিন্তু সে জানে এই চারজন অকারণে কাউকে কিছু বলবে না বা করবেও না । তাই এগিয়ে এসে তোয়া কে কোলে তুলে বললো ” দেখি তো তোয়া মনি কী হয়েছে শুরু থেকে বলে ফেলো তো ঝটপট।”
তোয়া সবার দিকে তাকিয়ে তারপর শুরু থেকে সব বলা শুরু করলো। তোয়ার কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে তাকালো জব্বার উদ্দিন এর দিকে। রাশেদ এগিয়ে এসে পুতু মিয়া কে জিজ্ঞেস করতে তিনি সব বলতেই রাশেদ চেঁচিয়ে মাহির আর তায়েব কে বললো
” কী?? থেমে গেলি কেনো?? চুবা ওকে। কেউ বাঁধা দিবে না। আমি পুলিশ কে ফোন করছি।”
মাহির আর তায়েব হেঁসে ইচ্ছা মতো চুবাতে লাগলো।
শুভ্র বেশ অপরাধী চোখে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। লামিয়া শুভ্রর দিকে না তাকিয়ে সামনে তাকিয়ে বেশ মজা সহকারে জব্বার উদ্দিন এর চুবানো দেখছে।
কিছুক্ষণ পর পুলিশ আসতেই রাশেদ সব কিছু খুলে বলতেই জব্বার উদ্দিন কে ধরে নিয়ে গেলো। পুতু মিয়া এবং তার স্ত্রী অশ্রু চোখে লামিয়া, তায়েব, তায়েবা, মাহির দের কৃতজ্ঞ জানাতে তাদের দিকে যেতেই তাঁরা চারজন চলে গেলো সেখান থেকে।
তা দেখে রাশেদ হেঁসে পুতু মিয়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো
” চাচা চলুন বাড়ি যাই। ”
” বড় আব্বা ছোট্ট আম্মাজান..!”
পুতু মিয়া কে থামিয়ে রাশেদ হেঁসে বলল ” আরে বাদ দেন তো ওদের কথা ওরা এইরকম ই। চলুন বাড়িতে।”
” তোমগোরে যে কেমনে ধন্যবাদ জানামু।”
” ধন্যবাদ জানাতে হবে না। আচ্ছা চাচা এখানে টক কোনো ফল আছে মাখিয়ে খাওয়ার মতো যেমন তেঁতুল কাঁচা। ”
” হ বাপ মেলা তেঁতুল গাছ আছে। কিন্তু তেঁতুল দিয়া কী করবা??”
” চাচা দয়া করে বেশ কিছু তেঁতুল কাউকে দিয়ে গাছ থেকে পেরে নিয়ে আসুন। সবাই মিলে মাখিয়ে খাবো।”
” ওওও আইচ্ছা এই কথা?? তাইলে তুমি দাঁড়াও আমি এহনি আনতাছি।” বলেই চলে গেলো পুতু মিয়া।
একে একে সবাই বাড়ির দিকে এগোতে লাগলো। শুভ্রর মন খারাপ তা দেখে লাবিব শুভ্রর কাঁধে ধাক্কা দিয়ে বললো ” কি হয়েছে তোর??”
শুভ্র মন খারাপ করে বললো ” কিছু না।”
” আরে জানি জানি লামিয়া কে ধমক দিয়েছিস দেখে তোর মন খারাপ আমি জানি তো।”
” ভ্রমর আমার সাথে রাগ করেছে।”
” তো রাগ করবে না। যেই ধমক দিয়েছিস রাগ তো করার ই কথা। আচ্ছা তোকে ওর রাগ ভাঙানোর জন্য একটা আইডিয়া দেই??”
” কী আইডিয়া??”
” রুমে গিয়ে জড়িয়ে ধরে টুপ করে একটা চুমু খাবি। দেখবি রাগ কোথায় উড়ে গিয়েছে।” বলেই হেঁসে উঠলো লাবিব। লাবিব হাসতে হাসতে শুভ্রর দিকে তাকাতেই শুভ্র দুম করে লাবিব এর পিঠে কিল মেরে বসলো।
” আআআ শুভ্র মারলি কেনো??”
” তুই তখন ওর সাথে এমন ভাবে কথা বলেছিস কেনো??”
” তো কি হয়েছে..? আর তুই ও তো বলেছিস।”
” আমি আর তুই আলাদা। ওকে আমি মারবো, আমি কাটবো, ওর সাথে আমি রাগ করবো আবার আমি ই ভালোবাসবো। তুই কে ওকে মারার??”
” ইহহ ঢং দেখলে আর বাঁচি না। ”
” তোকে বাঁচতে বলেছে কে মরে যা।”
পিছন থেকে সাফওয়ান, আরিফ, আবির, রাশেদ, জাহিদ হাসছে শুভ্র আর লাবিব এর ঝগড়া দেখে।
হল রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে লামিয়া, মাহির, তায়েব, তায়েবা । সাথে বাড়ির মেয়েরা। বাড়িতে প্রবেশ করেই শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো ” উপরে আয় তোর সাথে কথা আছে।” বলেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেলো।
লামিয়া যেনো শুনেও শুনলো না। রাশেদ, আবির, সাফওয়ান, লাবিব, জাহিদ, আরিফ সবাই এগিয়ে গিয়ে সোফায় বসলো । লামিয়া কে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে লাবিব বললো ” কী রে তোকে না শুভ্র উপরে ডাকছে যা।”
লামিয়া লাবিব এর দিকে তাকিয়ে বললো ” আপনি যাচ্ছেন না কেনো?”
” আমি যাবো কেনো?”
” তাহলে আমি যাবো কেনো?”
” তোকে ডাকছে তাই তুই যাবি।”
” কে?? কে আমাকে ডাকছে শুনি নি তো আমি।”
” শুভ্র তোকে ডাকছে উপরে যা।”
” কখন ডেকেছে??”
” এই মাত্র না তোকে ডেকে গেলো।”
” শুনি নি আমি।”
” তা শুনবি কেনো?? এখন কোনো আকামের কথা হক তা ঠিকই শুনবি।”
লামিয়া লাবিব এর কথায় পাল্টা কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই শুভ্র সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে লামিয়ার সামনে দাঁড়ালো। লামিয়া মাথা তুলে ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই শুভ্র বললো ” তোকে ডেকেছি না??”
লামিয়া কোনো কথা বললো না। তা দেখে শুভ্র আশেপাশে একনজর তাকিয়ে মাথা নিচু করে লামিয়া কে হঠাৎ কোলে তুলে নিয়ে হাঁটা ধরলো। হঠাৎ এমন হওয়াতে লামিয়া চমকে শুভ্রর গলা পেঁচিয়ে ধরে চেঁচিয়ে উঠলো ” কী করছেন অসভ্য পুরুষ?? ছাড়ুন আমাকে। নিচে নামান, ভালো হচ্ছে না কিন্তু।”
বলেই ছটফট করতে লাগলো।
শুভ্র তা পাত্তা না দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে যেতে লাগলো। পিছন থেকে লাবিব মজা করে বলে উঠলো
” এই শুভ্র আমরা কিন্তু কিছু দেখি নি।” বলেই হেঁসে উঠলো। সবাই মুখ চেপে হাসছে।
।
রুমে এনে লামিয়া কে খাটে বসিয়ে সোজা দরজা লক করে দিলো।
” আমাকে এভাবে তুলে আনার মানে কী??”
” আমি ভালো ভাবে যখন ডেকেছিলাম তখন আসলে এভাবে তুলে আনতে হতো না।”
” আমি কেনো আসবো আপনার কাছে??”
” কারণ তুই আমার বউ।”
” কে আপনার বউ?? আমি আপনার বউ নই।”
লামিয়ার কথা শুনে শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে এক পা দু পা করে এগিয়ে আসতে আসতে বললো
” সত্যি তুই আমার বউ না??”
” না..! কি…ন্তু আআআ আপনি এভাবে এগিয়ে আসছেন কেনো??”
” পরিক্ষা করতে।”
” কী….কী পরিক্ষা??”
” এই যে তুই আমার বউ কি না??”
বলেই একদম লামিয়ার সামনে এসে দাঁড়ালো। তা দেখে লামিয়া বিছানা থেকে দ্রুত উঠতে চাইলে শুভ্র লামিয়া কে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিয়ে নিজে বিছানার উপর উঠে হাঁটু ভাঁজ করে লামিয়ার উপরে ঝুঁকে পড়লো ।
লামিয়া ভীত চোখে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে তোতলিয়ে বললো
” কী…কী করছেন শুভ্র ভাই।”
শুভ্র লামিয়ার গালে এক হাত রেখে অসহায় কন্ঠে বললো ” সরি ভ্রমর। আর কখনো বকবো না। প্লিজ তুই রাগ করিস না।”
” না..না আমি রাগ করি নি। আপনি সরুন আমার সামনে থেকে।”
” সরবো না।”
” সরুন নয়তো ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবো।”
” তুই আমাকে ধাক্কা দিবি?? দে তো দেখি।”
” সত্যি কিন্তু দিবো।”
” হ্যাঁ তো দে না মানা করছে কে??”
লামিয়া ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে শুভ্রর বুকের কাছে হাত নিয়ে যেই ধাক্কা মারতে যাবে তাঁর আগেই শুভ্র লামিয়ার হাত দুটো ধরে বিছানার সাথে চেপে ধরে বাঁকা হাসলো। লামিয়া কিছু বলতে যাবে তার আগেই শুভ্র লামিয়ার ঠোঁট জোড়া নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিলো।
সময়টা বিকেল,
বাগানের মাঝে গোল করে বসে টুকটাক গল্প করছে সবাই। তখনই হঠাৎ গেটের কাছে গাড়ির শব্দ শুনে সবাই সোজা সেদিকে তাকালো। একটা কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে গেটের কাছে। একটা লোক গাড়ির দরজা খুলতেই গাড়ির ভিতর থেকে লাফিয়ে নেমে এলো জ্যাকি আর ব্ল্যাকি। সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেদিকে। লামিয়া বসা থেকে উঠে দাড়াতেই সবাই উঠে দাঁড়ালো। লামিয়া এগিয়ে যেতেই দেখলো জ্যাকি আর ব্ল্যাকি তাঁর দিকেই দৌড়ে আসছে। লামিয়া হেঁসে দৌড়ে তাদের দিকে যেতেই জ্যাকি ঝাঁপিয়ে পড়লো লামিয়ার উপর। লামিয়া তাল সামলাতে না পেরে সবুজ ঘাসে পরে যেতেই জ্যাকি আর ব্ল্যাকি লামিয়ার শরীর ঘেঁষতে থাকলো। কতোদিন পর তাঁরা তার মাম্মাকে পেয়েছে। সেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে জ্যাকি লাফাচ্ছে পুরো বাগান জুড়ে। শুভ্র এগিয়ে গিয়ে জ্যাকির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। লামিয়া ব্ল্যাকি কে কোলে তুলে শুভ্রর সামনে এসে দাড়াতেই পিছন থেকে এক মেয়েয়ালী কন্ঠ শোনা গেলো
” আবরার।”
সবাই সেদিকে তাকাতেই দেখলো মিরা দাঁড়িয়ে আছে। কোমড় সমান লম্বা চুল গুলো দুলছে হালকা শীতল বাতাসে। লামিয়া এক ভ্রু উঁচিয়ে তাকিয়ে আছে মিরার দিকে। মিরা হাঁসি মুখে দৌড়ে এসে শুভ্র কে জড়িয়ে ধরতে যাবে তাঁর আগেই লামিয়া সামনে এসে দাঁড়ালো। লামিয়া কে দেখে মিরা থেমে গেলো।
” অন্যের স্বামীর দিকে চোখ তুলে তাকানোটা কিন্তু অন্যায়। আর জড়িয়ে ধরতে চাওয়াটাও কিন্তু ঘোর অন্যায়।” ঠোঁট টেনে হেঁসে বলল লামিয়া।
” কে তোমার স্বামী?? আবরার?? কবে থেকে তোমার স্বামী হ্যাঁ??”
” উঁহু আবরার আমার স্বামী নয়। শাহরিয়ার শুভ্র আমার স্বামী। আর সেই ছোট্ট বেলা থেকেই উনি আমার স্বামী।”
” তুমি একটা ফালতু মেয়ে। আমি আসতে না আসতেই তুমি আমার সাথে ঝগড়া করছো?? শুভ্র দেখো না এই মেয়েটা আমার সাথে কেমন ব্যাবহার করছে।” বলতে বলতে লামিয়া কে পাশ কাটিয়ে শুভ্রর কাঁধে হাত রাখতে চাইলো কিন্তু তাঁর আগেই লামিয়া মিরার হাত খপ করে ধরে ফেললো।
লামিয়ার এই হাত ধরাটা মিরার মোটেও পছন্দ হলো না বোধহয়। তাই রেগে বলে উঠলো ” ছিঃ এই মেয়ে তোমার এই নোংরা হাত দিয়ে আমার হাত স্পর্শ করেছো কেনো?? ছিঃ ছাড়ো।”
লামিয়া মিরার কথা শুনে হেঁসে হাত মুচড়ে ধরতেই মিরা বলে উঠলো
“ইউ বিচ। হাত ছাড়ো আমার।”
লামিয়া মিরার হাত ছেড়ে শুভ্রর কাছ থেকে মিরা কে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে বললো ” এই বাল তোর এই ইংরেজি গালি তোর কাছেই রাখ। বাংলায় যদি একটা গালি দেই তোর পুরা গুষ্টি কবর থেকে উঠে আসবে।”
মিরা রেগে উচ্চ স্বরে বলে উঠলো ” লামিয়া।”
লামিয়া শান্ত চোখে মিরার দিকে তাকিয়ে বললো ” উচ্চ স্বরে চিল্লাস না শাকচুন্নী। নয়তো তোর ওই চুলের মুঠি ধরে টেনে বাড়ি থেকে বের করে দিবো।”
লামিয়ার কথা শুনে সবাই মুখ টিপে হাসছে। শুভ্র স্থির চোখে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে।
এদিকে মিরার অপমান চোখ মুখ লাল হয়ে উঠেছে। তা দেখে লামিয়া বললো ” অনেক অনেক ধন্যবাদ আমার ছেলে মেয়ে গুলো কে এখানে এনে দেওয়ার জন্য। ছেলে মেয়ে কে এনে দেওয়ার জন্য আপনাকে রাতের ডিনারে দাওয়াত দেওয়া হলো।”
মিরা লামিয়ার কথা শুনে আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে গটগট পা ফেলে গাড়িতে বসে শুভ্রর দিকে ছলছল চোখে তাকালো। শুভ্র একবার ও ঘুরে তাকায় নি তাঁর দিকে। সে তাকিয়ে আছে শুধু লামিয়ার দিকে। আশেপাশে কী হচ্ছে না হচ্ছে সেদিকে খেয়াল নেই তার।সবাই মিরার দিকে তাকিয়ে আছে। মিরা কে দেখে সবার ই খারাপ লাগছে। কিন্তু গাঁয়ে পরা স্বভাবের মেয়ে পছন্দ না তাদের কারোর। মিরা জানে শুভ্র লামিয়া কে ভালোবাসে কিন্তু তারপরও মিরা শুভ্রর গা ঘেঁষে এটা কারোর ই পছন্দ নয়।
মিরা চোখ মুছে শুভ্রর দিক থেকে চোখ সরিয়ে ড্রাইভার কে গাড়ি স্টার্ট দিতে বললো। ড্রাইভার মিরার কথা শুনে গাড়ি স্টার্ট দিলো।
গাড়ি চোখের আড়াল হতেই সবাই দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। লামিয়া কিছু না বলে চলে গেলো বাড়ির ভিতর। তাঁর পিছন পিছন জ্যাকি আর ব্ল্যাকি ও । সবাই লামিয়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে উঠলো লামিয়ার জ্বেলাসি দেখে।
রাত আটটা, জমিদার বাড়ির বিশাল বড় হল রুমে মীর আদনান আলী বসে আছে তার সাথে বসে আছে তাঁর দুই পুত্র বড় পুত্র মীর আব্দুল আলীম এবং ছোট পুত্র মীর আব্বাস আলী। বাড়ির গিন্নিরা হাতে হাতে তাড়াহুড়ো করে কাজ করছে। ঘড়িতে আটটা ত্রিশ বাজতেই জমিদার বাড়ির সদর দরজায় কড়া নড়লো। মীর আদনান আলী হেঁসে তাঁর ছোট পুত্র কে বললো ” আব্বাস যাও দরজা খুলে দিয়ে আসো। আমাদের অতিথি এসে গিয়েছে দেখো।”
আব্বাস আলী হেঁসে এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিতেই দেখলো ইসলাম ও খান বাড়ির ছেলেমেয়েরা এবং আজমেরী বেগম ও শফিকুল খান দাঁড়িয়ে আছে। আব্বাস আলী হাঁসি মুখে তাদের সাথে কৌশল বিনিময় করে হল রুমে নিয়ে গেলো।
সবাই ভিতরে ঢুকে সবার সাথে কৌশল বিনিময় করে বসে টুকটাক আলোচনা করতে লাগলো। হল রুমের এক কোণে মুখ লটকে বসে আছে লামিয়া, তায়েব, তায়েবা, মাহির তাঁরা এই বড় দের কথার মাঝে বেশ বোর হচ্ছে তারা। তখনই সিঁড়ি বেয়ে নেমে এতো ১৮ বছর বয়সী এক মেয়ে। দেখতে শুনতে বেশ সুন্দরী। মেয়েটি সেখানে আসতেই আদনান আলী হেঁসে পরিচয় করিয়ে দিলো সবার সাথে।
মেয়েটির নাম অনু। জমিদার বাড়ির ছোট্ট পুত্রের ছোট্ট মেয়ে অনু। দেখতে ভারি মিষ্টি দেখতে। সহজেই মিশে যায় সবার সাথে। বেশ মিশুক প্রকৃতির। সবার সাথে টুকটাক কথা বললো অনু।
আদনান আলী হেঁসে বলল
” দাদুভাই যাও ওদের কে পুরো বাড়িটা ঘুরে দেখিয়ে আনো।”
অনু মাথা নেড়ে বললো ” চলো তোমরা আমাদের বাড়ি খুব সুন্দর এসো এসো।” বলেই হামিদার হাত ধরে টেনে উঠালো।
হামিদা হেঁসে বলল ” ঠিক আছে চলো।” বলেই হাঁটতে লাগলো। তাঁর পিছন পিছন সবাই। হল রুমে বসে রইল শুধু রাশেদ, শুভ্র, আরিফ, আবির, সাফওয়ান, লাবিব, আজমেরী বেগম , আবিরা বেগম আর শফিকুল খান। তাঁরা বসে টুকটাক আলোচনা করতে লাগলো।
পুরো বাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছে অনু। সবাই যা বেশ মনোযোগ সহকারে দেখছে। লামিয়া সবার থেকে একটু বেশিই পিছনে। আশেপাশে তাকিয়ে হাটছে। হঠাৎ পাশ ফিরে তাকাতেই দেখলো অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে কেউ। এক জোড়া চোখ তাঁকে দেখছে বেশ গভীর ভাবে। লামিয়া ভ্রু কুঁচকে সেদিকে এক পা, এক পা করে এগিয়ে গেল। কিন্তু যাওয়ার পর আর কাউকে দেখতে পেলো না। মনের ভুল ভেবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ একটা হাত এসে তাঁর কোমড় পেঁচিয়ে ধরে অন্ধকারে নিয়ে গেলো। হঠাৎ এমন হওয়ায় লামিয়া ভয়ে ” শুভ্র ভাই।” বলে চিৎকার করে উঠতেই তাঁর মুখ কেউ চেপে ধরলো।
।
হল রুমে বসে হাঁসফাঁস করছে শুভ্র। তাঁর মন কেমন অস্থির হয়ে উঠেছে। তাই আর বসে থাকতে পারলো না বসা থেকে উঠে দাড়াতেই রাশেদ বলে উঠলো
” কোথায় যাচ্ছিস??”
” এইতো উপরে। তুই বস আমি আসছি।” বলেই পা ফেলে চলে গেলো সিঁড়ি বেয়ে।
অর্ধেক আসতেই দেখলো হামিদা রা সবাই এগিয়ে আসছে তাঁর দিকে। লামিয়া কে দেখতে না পেয়ে শুভ্র ভ্রু কুঁচকে বললো ” তোরা এখানে লামিয়া কোথায়??”
মাহির কপালে ভাজ ফেলে বললো
” লামিয়া কোথায় মানে?? ওও তো আমাদের সাথেই ছিলো। কিন্তু পরে তো আর দেখে নি। আমরা ভাবছি নিচে চলে গিয়েছে।”
” কোথায় নিচে গিয়েছে?? নেই তো ওও নিচে।”
” তাহলে কোথায় যাবে??”
শুভ্র কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই দোতলা থেকে লামিয়ার চেঁচানোর শব্দ আসতেই সবাই দোতলা ঘরের দিকে তাকালো। শুভ্র আর কিছু না ভেবে দৌড় লাগালো সেদিকে। তাঁর পিছন পিছন সবাই।
দোতলার ঘরের সামনে এসে শুভ্র দাঁড়িয়ে দরজায় কান পাততেই লামিয়ার গোঙানির আওয়াজ পেলো। শুভ্র আর এক মুহূর্ত দেরি না করে দরজা জোরে ধাক্কা দিয়ে রুমের দিকে তাকাতেই স্তব্ধ হয়ে গেলো। হামিদারা সবাই শুভ্র পাশ কাটিয়ে রুমের ভিতরে ঢুকতেই মাহির, তায়েব, তায়েবা স্তব্ধ চোখে সামনে তাকিয়ে অস্পষ্ট কন্ঠে এক সাথে বলে উঠলো ” লামিয়া।”
প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫৭
হামিদা টুলে পড়ে যেতেই শারমিন হামিদা কে আঁকড়ে ধরলো। শুভ্রর যেনো পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়েছে। শুভ্রর নিজের শরীরের সব শক্তি ফুরিয়ে গিয়েছে আজ। নিজেকে কেমন পাগল পাগল লাগছে তাঁর। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না শুভ্র। হাঁটু ভাজ করে বসে পড়লো শুভ্র। তাঁর কথা বলার শক্তি টুকু নেই তাঁর তবু ও ভীষণ কষ্টে ভাঙা গলায় বললো
” আমার ভ্রমর।”
বলেই তার পুরো দুনিয়া অন্ধকার হয়ে গেলো।

Next part taratari please please please please please please please please please please 🙏🙏 please 🙏🙏🙏🥺
আপু প্লিজ বাকি পর্ব গুলো দেন প্লিজ প্লিজ প্লিজ 😌🙏🏻🙏🏻
Apu plz taratare dao next part ta
Apu next part taratari diban please please 🙏🥺 please please 🥺❤️ please please please please please please
Tarsi den please
plz porer part
Next episode please 🥺
Next part taratari den apu plz plz plz plz plz plz plz plz plz plz plz plz plz plz 🥺🙏🏻🙏🏻