Home প্রেমসন্ধিক্ষন প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ২

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ২

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ২
সাইদা মুন

-“কিইইইইই, আমি কেনো এই পিচ্চিকে বিয়ে করবো..?”
-“মেয়েকে বিয়ের আসর থেকে ভাগাই নিয়ে আসতে পারো, আর বিয়ে করতে পারবে না। চিনি ভালো মতোই চিনি, তোমাদের মতো বড়লোকদের সন্তানরা মেয়ে ভাগাই নিয়া আইসা ভোগ কইরা রাস্তায় ফালাই দিয়ে চলে যায়।”
এলাকার মুরব্বিদের কথা শোনতেই তালহা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়,

-“কি বলছেন? আমি কেনো বিয়ের আসর থেকে আনতে যাবো, এসব কে বলেছে? আপনাদের হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে..”
সবচেয়ে বয়স্ক একজন লোক পান চিবোতে চিবোতে বসে,
-“ভাগ্যিস কুদ্দুস আমাদের খবরটা দিলো, নয়লে তো পোলায় এখনই অস্বীকার করছে পরে তো….”
এরকম আরও আজেবাজে কথা বলছে তারা। তুর্যরা অবাক হয়ে যায়। সাহায্য করতে এসে নিজেরাই বিপদে পড়লো নাকি। তুর্য তো বলছে,
-“দেখেছিস বলেছিলাম না বিপদে পড়বি শোনলি না তো এখন..?”
তালহা মেয়েটির দিকে তাকায় দেখে সেও ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। হাতে এখনো ভাত লেগে আছে, হাতটা ধোয়ার ও সময় পায়নি এরা চলে এসেছে।
তারা কনফিউজড এই আজাইরা খবর এখানের মুরব্বিদের কে দিলো “কে এই কুদ্দুস?” সামি জিগ্যেস করতেই,
হোটেলের যেই ছেলেটি তাদের খাবার দিয়ে গেলো সে দাত বের করে একটা হাসি দিয়ে হাত উঠায় বলে,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

-“আমিইই”
এর হাসি দেখে মনে হচ্ছে কত বড় গর্বের কাজ করে ফেলেছে। তালহার তো আগেই এর হাবভাব দেখে সুবিধার লাগছিলো না, রেগে মেগে আগুন হয়ে তেড়ে যায় ছেলেটির দিকে। এর কলার ধরে ফ্লোর থেকে কিছুটা উপরে তুলে ফেলে,
-“এই তুই দেখেছিস আমি এই মেয়েকে বিয়ের আসর থেকে তুলে এনেছি? মিথ্যা বললি কেনো?”
এদিকে সবাই এই অবস্থা দেখে তাড়াতাড়ি ছেলেটিকে ছাড়ায় তালহার থেকে। ছেলে তো ছাড়া পেয়ে এক দৌড়ে সবার পিছে গিয়ে লুকায়। একজন তো বলে উঠে,
-“চোরের মায়ের বড় গলা, এই এই ধর এদের আজকে বিয়ে দিয়েই ছাড়বো, নষ্টামি ছুটাবো..”
নিশাদ পরিস্থিতি খারাপ দেখে তালহাকে শান্ত করছে,

-“ভাই এটা আমাদের এরিয়া না, এই সিচুয়েশনে এমন রাগলে চলবে না কন্ট্রোল কর”
তালহা নিজেকে শান্ত করতে কয়েকটা জোড়ে শ্বাস নেয়। আবার তাদের উদ্দেশ্যে বলে,
-“দেখুন আপনাদের সত্যিই ভুল হচ্ছে। এই মেয়েকে আমরা রাস্তায় পেয়েছি, সে তার বিয়ে থেকে পালিয়ে এসেছে, কয়েকজন খারাপ লোকের পাল্লায় পড়েছিল তাই মানবতার খাতিরে হেল্প করেছি। এছাড়া এর সাথে আমাদের কোনো কন্টাক্ট নাই..”
তুর্যও তালহার সাথে বলে উঠে,
-“হ্যাঁ হ্যাঁ, এই মেয়েকে বাপের জন্মেও দেখিনাই আমরা, চাইলে একেই জিজ্ঞেস করেন।”
একজন মহিলা মেহরীনকে জিগায়,
-“এই মেয়ে ওরা কি তোমাকে তুলে নিয়া আসছে?”

মেহরীন একে তো কাউকে চিনে না, আরেক এতো মানুষের প্রশ্ন, কি বলবে না বলবে ভেবে ভয়ে, একবার মাথা উপর-নিচে করে, তৎক্ষণাৎ আবার মাথা ডানে-বামে। এদিকে সবাই মেহরীনের একবার হ্যাঁ একবার না দেখে ভেবে নেয়, হয়তো ওকে জোর করে না বলতে বলেছে৷ তাই ওরা আর দেরি না করেই মসজিদের ইমাম সাহেবকে নিয়ে আসে। এদের একটাই কথা হয় একে বিয়ে করবে নয়তো পুলিশে দিবে।
দিশেহারা হয়ে নিশাদরা তালহাকে সাইডে এনে বলে,
-“ভাই করেনে বিয়ে, নয়তো পুলিশে দিলে বিপদে পড়বো। এই মেয়ের এখনো ১৮ বছর হয়নি। যদি অপহরণ বা বাল্যবিবাহের কেস দেয়, আর এই মেয়ে ও যদি পল্টি নেয় তখন..?”
সামি পাশ থেকে বলে,

-“হ্যাঁ নিশাদ ঠিক বলেছে, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণও নেই।”
তালহা এদের কথায় রেগে বলে,
-“তো তোরা করেনে বিয়ে, আমাকে কেনো ফাঁসাচ্ছিস”
তখনই একজন এসে তালহাকে টেনে নিয়ে মেহরীনের পাশে বসায়। তারপর তাদের ২ লক্ষ টাকার দেনমোহরে ধর্মীয়ভাবে বিয়ে হয়। যেহেতু মেয়ের প্রাপ্ত বয়স হয়নি তাই রেজিস্ট্রেশন করায়নি।
বিয়ে পড়ানো হয়ে গেলে এলাকার অনেকেই তাদের রাতটা থাকতে বলেছিল। তবে তালহার কাছে এই প্রস্তাব যেনো আগুনে ঘি ঢালার মতো লাগলো। সে রেগে মেগে মেহরীনের হাত ধরে একপ্রকার টেনে হিঁচড়ে তাকে গাড়িতে উঠায়। বাকিরাও উঠতেই গাড়ি স্টার্ট দেয়। রাগে ফুঁসছে সে, পাশ থেকে মেহরীন তালহার দিকে তাকাতেই তার আত্মা কেঁপে উঠে, চোখ-মুখ একদম লাল হয়ে আছে তালহার, কেমন হিংস্র লাগছে। সাথে সাথে চোখ ফিরিয়ে নেয় “তার ও কি দোষ, সেও তো পরিস্থিতির শিকার”।

টানা ৫ ঘণ্টা ড্রাইভ করে ঢাকায় পৌঁছায়। এর মধ্যে পাশে তাকিয়ে দেখে মেয়েটি ঘুমে তলিয়ে আছে। তালহার সহ্য হলো না এই মেয়ের শান্তির ঘুম। হালকা ব্রেক চাপতেই মেহরীন সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে, সাথে সাথে ঘুম উবে যায়, নিজেকে সামলে নেয়। ঠিকঠাক হয়ে বসে, আশপাশে তাকিয়ে দেখে গাড়ি আর মানুষের কোলাহল, শহর হয়তো। আরও কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা বিশাল গেট দিয়ে গাড়িটি ঢুকে। পেছন থেকে নিশাদ বলে,
-“একে কি তোর বাড়িতে তুলবি?”
তালহা শান্ত কণ্ঠে বলে,
-“বিয়ে করা বউ, এ কি কোনো ময়লা যে যেখানে সেখানে ফালাই দিয়ে আসবো?এতো টাও দায়িত্বহীন না আমি..”
তুর্য, সামি, নিশাদ যেনো আকাশ থেকে পড়লো। যেই ছেলেকে বিয়ের জন্য পুরো পরিবার রাজি করাতে পারছে না। সেই ছেলে বিয়ে হতে না হতেই বউ বউ করছে। বড় কথা তার যেই রাগ এতক্ষনে এই মেয়েকে তো ছুড়ে ফেলে আসার কথা।

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ১

-“তো আন্টিকে কি বলবি?”
তালহা তাদের কথায় পাত্তা না দিয়ে সামনের দিকে হাঁটা দেয়। মেহরীন চুপচাপ গাড়ির কাছেই দাঁড়িয়ে, সে কি করবে তাকে তো বলেনি।
কিছুটা সামনে যেতেই পেছনে ফিরে দেখে মেয়েটি আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে,
-“তোমাকে কি এখন আসার জন্য ইনভাইট করতে হবে?”
মেহরীন দ্রুত পায়ে এগিয়ে যায়। দু’তলা এক বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে। কলিং বেল বাজাতেই এক ভদ্র মহিলা দরজা খুলে তালহাকে দেখে খুশি হয়ে এগিয়ে আসে। তবে হঠাৎ মেহরীনের দিকে নজর যেতেই তার হাসিমুখটা মিইয়ে যায়। প্রশ্নাত্মক চোখে জিজ্ঞেস করে,
-“এই মেয়ে কে…..

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৩