Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২১

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২১

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২১
শানজানা আলম

নদীর পাড় ঘেষে রাস্তা, জায়গাটা নিরিবিলিই থাকে। অটো থেকে নেমে এহসান ভাড়া দিয়ে বলল, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন? আমরা আবার ফিরব!
অটোওয়ালা রাজী হলো।
অথৈ বলল, ছেড়ে দিন, কতক্ষণ থাকি, স্থির হয়ে বসতে পারব না৷ মনে হবে, যেতে হবে।
এহসান তাই অটোওয়ালাকে ছেড়ে দিলো। একটা জায়গা দেখে অথৈ বসল। বিয়ের পরে ঐশি সহ এহসানের কাজিন, বাচ্চারা সবাই এসেছিল।
অথৈ, হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিও না। দেখলে তো আমার লাইফটা এলোমেলো হয়ে গেল। – এহসান বলল।
অথৈ বলল, ভাবছি, আব্বা আম্মা ভয় পাচ্ছে, আপুর এমন একটা কেস হলো, আমার বিয়ে ভেঙে গেলে বদনাম হবে, পাত্র পাবে না এমন ভাবছে।
কিছুদিন পরে সবাই সব ভুলে যায়, কিন্তু একটা ভুল সিদ্ধান্ত জীবন এলোমেলো করে দেয়।
হুম। আপনি কি করবেন এখন?

এহসান একটা নিঃশ্বাস নিল, বাসা অফিস বদল করা দরকার কিছুই পারব না। বাসা ভরা জিনিসপত্র কিচ্ছু আর দরকার নেই এখন। সেল দিলে দাম পাব না। আবার এত বড় বাসা ভাড়া টানাও অনর্থক।
অফিস এত সমস্যা না হলেও মন টানছে না আর। একটু ব্রেক নিতে কক্সবাজার যাব। নিরিবিলি থেকে আসব কয়েকটা দিব। বন্ধুরাও তো সবাই বিজি।
হুম৷ আপু ব্যাংকক যাচ্ছে। অথৈ বলল।
এহসান হাসল। কার সাথে যাচ্ছে জানো?
অথৈ বলল, সুবহানা আপু সহ কয়েকজন মিলে গ্রুপ ট্যুর দিচ্ছে।
না, ভুল জানো, তোমার আপুর বয়ফ্রেন্ড নিয়ে যাচ্ছে।
ভাইয়া, ওর সম্পর্কে এমন কিছু ভাবতে পারি না। কারন আমি জানি ও একটু অস্থির চঞ্চল, সংসারী না। কিন্তু তাই বলে এত খারাপও না।
দেখো অথৈ, আমি ঐশি সম্পর্কে খারাপ কথা বলতে চাই না। ওর সাথে আমার সব কিছু শেষ। তুমি আস্তে ধীরে সব জানতে পারবে একসময়।
অথৈ উত্তর দিলো না।

এহসান বলল, তোমরা দুই বোন সম্পূর্ণ আলাদা। খুবই অদ্ভুত।
অথৈ হেসে বলল, ও সব সময় নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল, আমি মায়ের কাছে বেশি থাকতাম, রান্না, ঘর গোছানে ছবি আকা এগুলো পছন্দ করতাম৷
এহসান বলল, সেদিন আমি আসলে রেগে গিয়ে অমন একটা কথা বলছি, তুমি মনে রেখো না প্লিজ।
অথৈ হেসে বলল, সেটা সবাইই বুঝতে পেরেছে ভাইয়া।
আর অথৈ দেখো, আমার কি দোষ, আমি তো শুধু একটা সংসারই চেয়েছিলাম, আমার পক্ষে যা সম্ভব সবটা করেছি, একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম আমি, এখন আমার ব্যাংকে কোনো টাকা নেই, জানো তুমি, লোন করতে হয়েছে।
এহসান নিঃশ্বাস ফেলল একটা। তাকে খুব দুঃখী দেখালো। ভেঙে যাওয়া মানুষ।
অথৈ বলল, সেই লোকটা কে? যার জন্য আপু এমন করল? তাকে বিয়ে করবে?
মোস্ট প্রবাবলি না, ওই লোক অনেক প্রভাবশালী, জানিনা ঐশি কার কাছ থেকে ওনার লিংক পেলো, টাইম পাস আর কি!

আপনি কি বলছেন, ভেবে বলছেন?
হ্যা, না ভাবার কি হলো! যেটুকু জেনেছি এরকমই, তাই ধরে রাখার চেষ্টা করিনি৷ মন ছোটা মানুষ ফেরানো যায় না। ওর ডিমান্ডও বেড়ে যাচ্ছিল, আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না ওকে সামলানো। দিনের পর দিন দূরত্ব বেড়েউ গিয়েছে।
অথৈ বলল, বিষয়টা তো বিপদজনক, আপু কি বুঝতে পারছে না! আব্বা আম্মাকে জানাব?
না, ঐশি এডাল্ট, বুদ্ধিমতী, নিজেই হয়তো জানাবে। তুমি বললে প্রমান দিতে পারবে না। আমাকে ভুল বুঝবে সবাই, জেনে রাখো, এটুকুই।
চলো উঠি অথৈ।
অথৈ উঠল, মাথায় নতুন একটা চিন্তা ঢুকলো, বাসায় ফিরে আপুর সাথে কথা বলতে হবে।
এহসান অথৈকে বাসা অবধি এগিয়ে দিলো। অথৈ বলল, এমন একটা পরিস্থিতি, আমি আপনাকে ভেতরে নিয়ে যেতে পারছি না আজ।

এহসান হেসে বলল, দরকার নেই।
অথৈ অটো থেকে নেমে বলল, কাল চলে যাবেন?
হুম, কাল রাতের বাসে কক্সবাজার যাব৷
আচ্ছা, ফোন দিয়েন তাহলে, সুবিধা মত!
ওকে, তুমিও ফোন করো। – এহসান বিদায় নিলো।
অথৈ বাসায় ঢুকে ঐশিকে কল করল। ভিডিও কল ঐশি কেটে দিলে।
একটু পরে নিজেই ব্যাক করল। অথৈ, কি বলবি বল!
তুই কই আপু?
একটু শপিংয়ে এসেছি, আজ রাতে ফ্ল্যাইট।
ঐশি একটা স্লিভলেস টপস পরে আছে, চেনা যাচ্ছে না ভারী মেকাপে।
এত সাজ, কোথায় শপিং করছিস?
বসুন্ধরায়, আর কোথায়! কিছু টপস নিলাম, ভালো লাগছে না?
হুম, আপু কারা যাচ্ছিস?

এই তো বন্ধুরা, কেন রে?
ঐশিকে খুব হাসিখুশি আর চঞ্চল মনে হলো।
অথৈ একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, খুব সাবধানে আপু, অনেক কথা হবে কিন্তু এখন।
কথা মাই ফুট, ওই গাধাটা কল করেছিল তোকে, কিছু বলেছে, একদম ইগনোর করবে, বদের হাড্ডি একটা।
ঐশি রেগে যায়।
আমাকে কেউ ফোন করেনি আপু।
অথৈ কল কেটে দিলো। এহসানের কথা গুলো সত্য মনে হচ্ছে। গয়নার বিষয়টাও সত্য, নিজের বোনের এই
অধঃপতন মেনে নেওয়া খুব কঠিন। সাথে এহসান ভাইয়ের জীবনটা শেষ।
কি করবে অথৈ! কি করতে পারে সে!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২০

শুধু এহসানকে ছোট্ট একটা মেসেজ দিলো, বাসায় পৌছেছেন?
এহসান লাভ রিয়েক্ট দিয়ে, বলল, হ্যা।
অথৈ লিখল, টেক কেয়ার।
এহসান লাভ রিয়েক্ট দিয়ে শেষ করল আপাতত।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২২