Home রুহ এ ইশক রুহ এ ইশক পর্ব ৫

রুহ এ ইশক পর্ব ৫

রুহ এ ইশক পর্ব ৫
আনান রোজ

—উদাইন… ওতো! আমি আচ্চি তো… ওতো!”
কিন্তু উযাইনের কোনো সাড়াশব্দ নেই, সে যেন ঘুমের ঘোরে এক্কেবারে কাদা হয়ে আছে। ইনশিরা এবার নিজের ছোট নরম হাতের তালুটা বাড়িয়ে উযাইনের ফরসা গালে ঠাস ঠাস করে কয়েকটা হালকা থাপ্পড় বসিয়ে দিল!
ইনশিরা রাগে মুখ ফুলিয়ে, বলল—
—”এই পতা উদাইন… ওতো না কেন? ওতো!”
এত কিছুর পরও যখন প্রফেসরের ঘুমের ঘোর বিন্দুমাত্র ভাঙল না, পিচ্চি ইনশিরা এবার রাগে একেবারে ফেটে পড়ল! সে আর এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে বিছানার ওপর হাঁটু গেড়ে এগিয়ে গেল। উযাইনের গলার সেই ফরসা কলারবোনের চামড়াটার ওপর, হুট করেই নিজের ধারালো ছোট ছোট দাঁত দিয়ে এক তীব্র কামড় বসিয়ে দিল

—”আহহহহ…!”
উযাইন যন্ত্রণায় আর তীব্র এক বৈদ্যুতিক শকের মতো চমকে উঠে এক সেকেন্ডে বিছানায় ধড়ফড়িয়ে চোখ মেলে সোজা হয়ে বসল ! সে নিজের এক হাত গলায় চেপে ধরে বড় বড় চোখে তাকাল। ওদিকে সোফায় বসে গেম খেলতে থাকা জারিফও উযাইনের এই বিকট চিৎকার শুনে চরম চমকে উঠে গেম ফেলে বিছানার দিকে তাকাল!
উযাইন গলায় হাত দিয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে দেখল—বিছানার ওপর হাঁটু গেড়ে বসে, ইনশিরা নিজের দুটো হাত গালে দিয়ে খিলখিলিয়ে হাসছে। তার চোখে তখন এক চরম দুষ্টুমি আর বিজয়ের আনন্দ।
ইনশিরা উযাইনের লাল হয়ে যাওয়া গলার দাগটার দিকে তাকিয়ে, চোখ টিপে মিষ্টি করে হাসতে হাসতে বলল—
—”কী… ব্যাত্যা পেয়েচ উদাইন? হিহিহি… !”
উযাইন নিজের গলার তীব্র যন্ত্রণার জায়গায় হাত বুলাতে বুলাতে এই পুচকে ডাইনির দিকে হা করে তাকিয়ে রইল। সে বুঝতে পারে না এই ৫ বছরের মেয়েটার বুকে এতখানি জেদ আর বাঘিনীর মতো রূপ কোথা থেকে আসে!
জারিফ সোফা থেকে বিছানার কাছে এসে উযাইনের গলার লালচে হয়ে যাওয়া দাতের ছাপ দেখে, আর সে আর নিজের হাসি চেপে রাখতে পারল না। জারিফ উযাইনের কাঁধ চাপড়ে, হাসতে হাসতে সোফায় লুটিয়ে পড়ে বলল—

—”ওরে উযাইন ভাই… তোমার পুচকে বউ তো তোমাকে একদম খাঁটি লাভ বাইট দিয়ে দিল! হা হা হা…”
উযাইন নিজের গলায় হাত ডলতে ডলতে জারিফের এই প্রাপ্ত*বয়স্ক*দের মতো রসিকতা শুনে হালকা রেগে গেল। রুমে ৫ বছরের একটা বাচ্চা বসে আছে, তার সামনে এসব শব্দ ব্যবহার করায় সে জারিফকে কড়া চোখে ইশারা করল। উযাইন ভ্রু কুঁচকে, জারিফকে ধমক দিয়ে বলল—
—”শাট দ্য ফা*ক আপ, জারিফ! একটা বাচ্চার সামনে তুই এসব আজেবাজে ভাষা ব্যবহার করছিস? কোনো ম্যানার্স নেই তোর?!”
উযাইনের মুখ থেকে এই ইংরেজি গালিটা বের হওয়া মাত্রই বিছানায় বসে থাকা পিচ্চি ইনশিরা এক সেকেন্ডে উযাইনের সেই কড়া টোনটা নকল করে ফেলল। সে নিজের ছোট ছোট দুটো হাত জারিফের দিকে উঁচিয়ে, একদম খিলখিল করে হাসতে হাসতে আধো-আধো গলায় চেঁচিয়ে উঠল—

—”শাফাকাপ জায়িফ…! হিহিহি…”
ইনশিরার মুখে নিজের দেওয়া গালির এই মিষ্টি সংস্করণ শোনা মাত্রই উযাইন একদম থতমত খেয়ে গেল ! তার মুখের কথা এক সেকেন্ডে উধাও হয়ে গেল। সে চোখ বড় বড় করে ইনশিরার দিকে তাকিয়ে তাড়াহুড়ো করে হাত নেড়ে বলল—
—”না… না সোনা! ছিঃ! এসব পঁচা কথা বলতে নেই ইনশিরা! ব্যাড ম্যানার্স!”
কিন্তু ইনশিরা উযাইনের বারণ পাত্তাই দিল না। সে জারিফের দিকে তাকিয়ে আরও জোরে এক হাত নেড়ে বলে উঠে—

— “শাফাকাপ!
ওদিকে সোফায় বসে থাকা জারিফ ইনশিরার মুখে এই গালি শুনে হাসতে হাসতে সোফা থেকে আক্ষরিক অর্থেই কার্পেটের মেঝের ওপর গড়িয়ে পড়ে গেল!
উযাইন আর কোনো উপায় না পেয়ে এক ঝটকায় ইনশিরাকে বিছানা থেকে নিজের কোলের মধ্যে তুলে নিল। ওর নরম গাল দুটো আলতো করে চেপে ধরে খুব মিষ্টি ও আদুরে গলায় বলল—
—”না সোনা… এসব খুব পঁচা কথা, আজ থেকে আর কখনো বলবে না, কেমন?”
ইনশিরা উযাইনের বুকে মাথা রেখে, বাধ্য মেয়ের মতো বলল—
—”আত্তা।”
উযাইন নিজের গলার সেই লাল দাগটায় হাত দিয়ে, একটু কান্নার ভান করে বলল—
—”আচ্ছা, তুমি আমাকে ব্যথা দিলে কেন বলো তো? আমি কিন্তু এখন অনেক কান্না করব!”
বরের কান্না শুনে ইনশিরা এক সেকেন্ডে অস্থির হয়ে উঠল। সে দ্রুত উযাইনের গালের দিকে এগিয়ে গেল এবং নিজের নরম ঠোঁট জোড়া দিয়ে উযাইনের ফরসা গালের ওপর একটা মিষ্টি ও ওম ছড়ানো চুমু বসিয়ে দিল। আর উযাইনের টিশার্টের নেকলাইন টা জড়িয়ে ধরে বলল—

—”তুমি উত্তিলে না কেন? আমি তো ডাকতিলাম।”
—”আচ্ছা সরি, মাই লিটল বার্ড!”
—”ইউ লাম মি?”
—”ইয়েসসস আই লাভ ইউ বার্ড!”
তখন হটাৎ করেই উযাইনের ফোন টা বেজে উঠে,তার ঘোরও কেটে গেল, আর সে অতীতের স্মৃতি থেকে বেড়িয়ে আসে। ফোন টা কানে নিয়ে কথা বলা শুরু করে….

আজ বিকেল বেলা
ইনশিরাদের বাড়ির পিছনের বিশাল বাগানটায় একটা ঘরোয়া আড্ডার আসর বসেছে। উযাইন, ইনশিরার বাবা, চাচা এবং ছোট ফুপি রাইমা—সবাই মিলে চা খেতে খেতে গল্প করছেন। বাগানের অন্য প্রান্তের একটা কাঠের বেঞ্চে বসে ষোলো বছরের ইনশিরা একটা বই পড়ার পড়ছে, কিন্তু তার পুরো মনোযোগ আর রাগী চোখ দুটো আটকে আছে উযাইনের ওপর।
জারিফ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে, উযাইনের দিকে তাকিয়ে—
—”উযাইন, লন্ডনেই তো জীবন কাটিয়েছ। এবার তোমাদের পুরো ফ্যামিলি নিয়ে বিডিতে একেবারে সেটেল হয়ে যাও না! দেশেই এখন ব্যবসার দারুণ সুযোগ।”
রাইমা জারিফের কথার পিঠে একগাল হেসে, উযাইনের দিকে ঝুঁকে বলতে লাগলো—
—”হ্যাঁ উযাইন ভাইয়া, হয়ে যাও না প্লিজ! তোমরা চলে গেলে এই বাড়িটা আবার একদম খাঁ খাঁ করবে।”
উযাইন করে আলতো হাসল। তার বসার ভঙ্গি আর ব্যক্তিত্বে সবসময়ই একটা প্রফেশনাল ম্যাচিউরিটি থাকে। উযাইন খুব মার্জিত গলায়—

—”আসলে জারিফ, আমার বিজনেসে তেমন একটা ইন্টারেস্ট নেই। তবুও বাবা-মায়ের জোরাজুরিতে কিছুদিন দেখাশোনা করতে হয়, I truly love my profession. আমি আমার ইউনিভার্সিটির প্রফেসরি আর পড়াশোনা নিয়েই থাকতে বেশি পছন্দ করি।”
উযাইনের মুখে প্রফেসরির কথা শুনে রাইমার চোখ দুটো যেন চকচক করে উঠল। সে আরও একটু উযাইনের কাছাকাছি ঘেঁষে বসল।
—”ভাইয়া? আচ্ছা, তোমার ওই লন্ডনের ইউনিভার্সিটিতে কি বাইরে থেকে মাস্টার্স করা যাবে? আমি ভাবছিলাম ওখানেই মাস্টার্সটা করে ফেলব।”

তখন উযাইন রাইমার এই আগ্রহ দেখে একদম প্রফেশনাল প্রফেসরের মতোই গম্ভীর হয়ে ওকে গাইড করতে শুরু করল। সে রাইমাকে লন্ডনের এডুকেশন সিস্টেম, স্কলারশিপের নিয়ম আর বিভিন্ন দরকারি টিপস দিতে লাগল। রাইমাও খুব মুগ্ধ হয়ে উযাইনের মুখের দিকে তাকিয়ে তা শুনছিল।
বাগানের অন্য পাশে বসে ইনশিরা এই দৃশ্য দেখে মনে মনে একেবারে পুড়ছিল। ফুপির ওভাবে উযাইনের দিকে ঝুঁকে কথা বলা আর উযাইনের ওভাবে রসিয়ে রসিয়ে টিপস দেওয়া দেখে ইনশিরার নাক-মুখ রাগে লাল হয়ে উঠল। সে হাতের বইটা কটমট করে বন্ধ করে ধপ করে টেবিলের ওপর রাখল। তারপর তার ছোট্ট বাটন ফোনটা বের করে খটখট করে একটা মেসেজ টাইপ করে উযাইনের নাম্বারে সেন্ট করে দিল।
ঠিক তখনই উযাইনের পকেটে থাকা ফোনটা টুং করে ভাইব্রেট করে উঠল। উযাইন রাইমার সাথে কথা বলতে বলতেই পকেট থেকে ফোনটা বের করে স্ক্রিনের দিকে তাকাল। মেসেজটা ইনশিরার নাম্বার থেকে এসেছে। উযাইন মেসেজটা ওপেন করতেই তার চোখ দুটো চড়কগাছ হয়ে গেল!
ইনশিরার মেসেজ

—”দুষ্টু লোক কোথাকার! আল্লাহ আপনাকে পাপ দিবে। নিজের বউয়ের সামনে অন্য মেয়ের সাথে এভাবে ঢলাঢলি করছেন? ছিঃ!”
মেসেজটা পড়েই উযাইন একদম থতমত খেয়ে গেল! সে হালকা কাশি দিয়ে চট করে বাগানের অন্য প্রান্তের দিকে তাকাল। দেখল ইনশিরা ফোনটা বুকের কাছে চেপে ধরে তীব্র রাগী চোখে সরাসরি উযাইনের দিকেই তাকিয়ে আছে। যেন খেয়ে ফেলবে, উযাইন নিজের অস্বস্তি ঢাকল, আর ফোনের কি-প্যাড চেপে একটা পাল্টা রিপ্লাই দিল।
উযাইনের মেসেজ
—”আজব তো ইনশিরা! What is wrong with you? As a teacher আমি জাস্ট ওকে পড়াশোনার ব্যাপারে হেল্প করছি। এখানে ঢলাঢলির কী দেখলে?”
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ইনশিরার পাল্টা মেসেজ টোন বাজল।ইনশিরার মেসেজ
—”বুঝি সবই! পুরুষ মানুষ তো, অন্য মেয়ের একটু মনোযোগ পেলেই গলে জল হয়ে যান!”
ইনশিরার এই পাকা পাকা কথা দেখে উযাইন এবার পুরোপুরি থতমত খেল। তার কানের দুপাশ দিয়ে যেন গরম হাওয়া ছুটে গেল। ষোলো বছরের একটা বাচ্চার মুখে পুরুষ মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে এমন খোঁচা উযাইনের ইগোতে গিয়ে লাগল। সে ঠোঁট কামড়ে একটু হাসল, তারপর চোয়াল শক্ত করে এক চরম পাল্টা মেসেজ টাইপ করল।
উযাইনের মেসেজ—

—”তাই? বুঝ সব? হাজবেন্ডের এক্সপেকটেশন? তাদের প্রয়োজন….বউ হয়েছ তো!
বাগানের ওপাশে বসে মেসেজটা স্ক্রিনে দেখামাত্রই ইনশিরার পুরো শরীর যেন এক সেকেন্ডে জমে বরফ হয়ে গেল! তার ফর্সা কান আর গাল লজ্জায় আর এক অজানা ভয়ে একদম টকটকে লাল হয়ে উঠল। উযাইনের এই বেহায়া মতো সরাসরি আক্রমণ সে কল্পনাও করতে পারেনি। ইনশিরা একটা শুকনো ঢোক গিলল। তার বুকের ভেতর তখন যেন একটা পুরো ব্যান্ডপার্টি বাজছে। সে আর মেসেজের রিপ্লাই দেওয়ার সাহস পেল না; তাড়াহুড়ো করে ফোনটা টেবিলের ওপর উপুড় করে রেখে বই দিয়ে ঢেকে ফেলল এবং মাথা নিচু করে রইল।
ওপাশে সোফায় বসে উযাইন ইনশিরার এই ভয়ার্ত আর লজ্জাবনত চেহারা দেখে নিজের মনের ভেতরের চওড়া মুচকি হাসিটা কোনোমতে চেপে রাখল। সে মনে মনে ভাবল—মুখেই যত বড় বড় কথা, কাজের বেলায় একদম অবুঝ বাচ্চা একটা!

রাত সাড়ে ৯টা।
ডাইনিং টেবিলে পুরো পরিবার রাতের খাবারের জন্য বসেছে। ঘটনাক্রমে রাইমা আর উযাইন একদম পাশাপাশি চেয়ারে বসেছে। রাইমা খুব উৎসাহ নিয়ে লন্ডনের লাইফস্টাইল আর ওখানকার ইউনি নিয়ে উযাইনের সাথে অনর্গল গল্প করে চলেছে। উযাইনও ভদ্রতার খাতিরে রাইমার দিকে ফিরে হাসিমুখে কথা বলছিল।
ইনশিরা আর ওর ইরা টেবিলে সবাইকে খাবার পরিবেশন করছিলেন। উযাইন রাইমার সাথে কথা বলায় এতটাই মগ্ন ছিল যে ইনশিরা কখন ওর প্লেটের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, সে খেয়ালই করেনি। ইনশিরা খুব নিঃশব্দে উযাইনের প্লেটে তরকারি তুলে দিচ্ছিল।
তখন ইনশিরার শরীর থেকে নির্গত সেই চেনা, বুনো ফুলের মতো মায়াবী সুবাসটা উযাইনের নাকে এসে তীব্রভাবে ধাক্কা দিল। সুবাসটা পাওয়া মাত্রই উযাইনের মগজে যেন এক বিপদের ঘণ্টা বেজে উঠল—

—সর্বনাশ হয়েছে! বউ রেগে যাবে, আমি এখানে অন্য মেয়ের সাথে হাসিমুখে গল্প করছি!
রাইমার সাথে মাঝপথেই কথা হুট করে থামিয়ে দিয়ে ঝট করে ঘাড় ঘুরিয়ে ইনশিরার দিকে তাকাল।
ঠিক সেই মুহূর্তেই টেবিলে রাখা জলের জগটা নেওয়ার জন্য ইনশিরা কিছুটা নিচু হয়ে উযাইনের দিকে ঝুঁকে গেল। আর সাথে সাথেই ইনশিরার পিঠে ছড়ানো সেই এক ঢাল খোলা চুল উযাইনের ফরসা ঘাড় আর কলারবোনের ওপর আলতো করে আছড়ে পড়ল!
আহ, কী মাদকতাময় সেই সুবাস! উযাইনের বুকের ভেতর হৃৎস্পন্দন এক লাফে একশো গুণেরও বেশি বেড়ে গেল। তার মনে হলো তার চারপাশের পুরো বাতাস থমকে গেছে, তার ফুসফুস নিশ্বাস নিতে ভুলে গেছে। সে এক গভীর ঘোরের মধ্যে তলিয়ে যেতে যেতে
—”Oh God! The smell of her hair… it’s mine! এই মেয়েটা নির্ঘাত আমার ধ্বংস ডেকে আনবে।
নিজের মনে মনে তীব্র আকুলতায় ডুকরে উঠল উযাইন। রাইমা হঠাৎ উযাইনের ঘাড়ে ইনশিরার চুল লাগতে দেখে চরম বিরক্তিতে চেঁচিয়ে উঠল—

—”উফ ইনশি! তুই কি এখনো বাচ্চাই রয়ে গেলি? চুলগুলো বেঁধে আসতে পারিস না? কিচ্ছু জানিস না! দেখছিস না উযাইন ভাইয়ার গায়ে লাগছে!”
রাইমার এই আকস্মিক চিৎকারে উযাইনের সেই গভীর মোহভঙ্গ হলো। সে এক ঝটকায় বাস্তবে ফিরে এল। ইনশিরা রাইমার ধমক শুনে চট করে নিজের চুলগুলো একহাতে টেনে পিঠের পেছনে সরিয়ে নিল। সে মুখে কোনো জবাব দিল না, উযাইনের দিকে একপলকও তাকাল না। খুব শান্ত ও চুপচাপ এক কোণের চেয়ারে খেতে বসে গেল।

রুহ এ ইশক পর্ব ৪

পুরো ডিনারের সময় ইনশিরা মাথা নিচু করে রইল, প্লেটের দিকে তাকিয়ে শুধু ভাত নাড়াচাড়া করতে লাগল। উযাইন আড়চোখে ইনশিরার এই থমথমে মুখ আর রাগী চাউনি দেখছিল। সে ভালো করেই বুঝতে পারল—বিকেলের রাগ আর এখন আবার রাইমার পাশে বসার রাগ মিলে আজ রাতে ওর কপালে সত্যিই বড় কোনো ঝড় অপেক্ষা করছে।
ইনশিরার দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিতেই উযাইনের মনে আবার সেই পরিচিত অপরাধবোধ চাড়া দিয়ে উঠল। সে নিজের মনেই তীব্র ধিক্কার দিয়ে ভাবল….

রুহ এ ইশক পর্ব ৬