Home রুহ এ ইশক রুহ এ ইশক পর্ব ৪

রুহ এ ইশক পর্ব ৪

রুহ এ ইশক পর্ব ৪
আনান রোজ

—”উদাইন আমাল বর হয়! বলচি না ও আমাল বর! তাড়ো ওকে! ও শুধু আমাল বর! তুমাল না”
সেরিন আচমকা এই চুলে খামচি খেয়ে যন্ত্রণায় আর ভয়ে চেঁচিয়ে উঠল—
—”আহহ! উযাইন… বাঁচাও! ও আমার চুল ছিঁড়ে ফেলছে! উযাইন ধরো ওকে!”
পুরো ড্রয়িংরুমে এক নিমিষেই হুলস্থুল পড়ে গেল। উযাইন এই মারাত্মক কাণ্ড দেখে চরম ভড়কে গেল। সে তাড়াহুড়ো করে ইনশিরাকে সেরিনের কোল থেকে টেনে নিজের বলিষ্ঠ বাহুর কোলের মধ্যে ফিরিয়ে নিল। ইনশিরা উযাইনের কোলে এসেও সেরিনের দিকে রাগী চোখে হাত পা ছুড়তে লাগল।
উযাইন নিজের চরম লজ্জা, অস্বস্তি আর প্রকাণ্ড অপ্রস্তুত ভাব লুকাতে, সে সেরিন এবং ওর ফ্যামিলির দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে কাঁপানো গলায় বলল—

—”আই অ্যাম সরি, সেরিন! ও আসলে একদম বাচ্চা মানুষ তো… কী করতে কী করে বসে! তুমরা প্লিজ কন্টিনিউ করো আমি ওকে একটু দিয়ে আসছি!”
বলেই উযাইন আবরার আর এক সেকেন্ডও নিজের ড্রয়িংরুমে দাঁড়ালো। ভয়ংকর জেদি ইনশিরাকে শক্ত করে কোলে চেপে ধরে প্রায় ঝড়ের গতিতে বের হয়ে গেল। ইনশিরাদের বাসার দিক দিয়ে হাঁটার সময় ইনশিরার দিকে একটু রাগী কিন্তু মিষ্টি চোখে তাকাল।
সে ইনশিরার নাকে আলতো করে চাপ দিয়ে, মিষ্টি বকার সুরে—
—”এই যে পুচকে মেয়ে! তুমি দিন দিন বড্ড দুষ্টু হয়ে যাচ্ছ, তাই না? ওভাবে কেউ অন্যের চুল খামচে ধরে?”
ইনশিরা কোনো জবাব দিল না। সে নিজের ছোট ছোট আঙুলগুলো দিয়ে উযাইনের শার্টের বোতামটা মোচড়াতে মোচড়াতে একদম চুপ করে রইল। তার চোখে কোনো অনুশোচনা নেই, সে মনে মনে বেশ খুশি। উযাইন ইনশিরাদের বাসায় প্রবেশ করল। সে ড্রয়িংরুমের নরম সোফায় আলতো করে ইনশিরাকে নামিয়ে দিয়ে ধপ করে বসল। জাহির তখন সোফায় বসে ল্যাপটপে কিছু কাজ করছিলেন। উযাইনকে ওভাবে হাঁপাতে দেখে তিনি কফি কাপে চুমুক দিয়ে তাকালেন।

—”কিরে উযাইন? এতক্ষণ কোথায় ছিলি তোরা?”
—”আরে একটু বাসায় গেছিলাম রে জাহির। কিছু জরুরি কাজ ছিল।”
উযাইন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কথা গুলো বলে তখন জাহির উযাইনের চেহারার ক্লান্তি দেখে,বলে—
—”তা এখন কি বাসায় আবার চলে যাবি, নাকি আমাদের এখানে কিছুক্ষণ বসবি?”
উযাইন নিজেদের বাসায় সেরিন আর তার ফ্যামিলির সাথে ওই বিয়ের আলোচনার অস্বস্তিকর পরিবেশে কোনোভাবেই আর ফিরে যেতে চাচ্ছিল না। সে মনে মনে ভাবল, ওখানে গেলে ড্যাড আবার জোর করবে।
উযাইন জাহিরের দিকে তাকিয়ে চটপট বলল—

—”না না! এখন আর বাসায় যাব না। কোনো তাড়া নেই আমার।”
জাহির হেসে সায় দিল। উযাইন বয়সে জাহিরের চেয়ে ৩ বছরের জুনিয়র হলেও, তারা একদম ছোটবেলা থেকেই লন্ডনের একই পরিবেশে পাশাপাশি বড় হয়েছে। আর তাদের পারিবারিক সম্পর্কও একদম পরিবারের মতো। এবং তারা একই ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিল, তাই বয়সের এই ছোট ব্যবধান তাদের বন্ধুত্বের মাঝে কখনো দেয়াল হতে পারেনি। ওরা একে অপরের একদম জানের জিগার বেস্ট ফ্রেন্ড।
দুজন মিলে পুরোনো দিনের গল্প আর আড্ডায় মেতে উঠলেন। কিছুক্ষণ পর ইনশিরার মা ইরা ট্রে-তে করে ধোঁয়া ওঠা ব্ল্যাক কফি আর স্নেক্স নিয়ে এল। তারা গল্প করছিল জাহির আর ইরার বিয়ে নিয়ে,জাহিরের তখন বয়স প্রায় বিশের উপরে ছিল। সে কিছু অফিয়াল কাজে লন্ডন থেকে বিডিতে গিয়ে ছিল আর তখনই ইরার সাথে দেখা, এরপর তাদের প্রেম। কিন্তু বিপদ হলো তখন, যখন জাহিরের লন্ডনে ফেরার সময় হয়ে এলো, যেহেতু ইরা বাংলাদেশের স্থানীয়। উযাইন তখন নিজ দায়িত্বে দুই পরিবার কে রাজি করায় কারন, ইরা আর জাহির দুজনেই তখন কম বয়সী ছিল, তাই তাদের পারিবারিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল কিন্তু উযাইন সবটা সামলে নেয়। এবং জাহির আর ইরা দ্রুত বিয়ে করে নিয়ে লন্ডনে চলে আসে। এবং ওদের বিয়ে এক দের বছর, মানে জাহিরের বয়স যখন প্রায় বাইশ, তখনি এই জেদি ইনশিরার জন্ম হয়।
তিনজনে মিলে কফি খেতে খেতে আড্ডা দিতে দিতে বেশ অনেকটা সময় পার হয়ে গেল। বাইরে তখন লন্ডনের রাত নামতে শুরু করেছে। সেই সাথে বেশ ভারী স্নো ফলও শুরু হয়েছে।
বেশ অনেকটা সময়, তারা আড্ডা দেওয়ার পর রাত প্রায় সাড়ে ৯ টা বাজল। উযাইন সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে নিজের কোটের কলারটা ঠিক করল। জাহির আর মিরাকে উদ্দেশ্য করে—

—”জাহির, ভাবি… আজ তাহলে আসি রে। রাত হচ্ছে আম্মুও বাসায় নেই।”
—”এই না, ডিনার করে যাবি, বস”
—”আজ না রে লেইট হয়ে গেছে এমনিতেই”
বলেই উযাইন যখন দরজার দিকে পা বাড়াতে যাবে, ঠিক তখনই সোফায় বসে থাকা ইনশিরা এক লাফে দৌড়ে এসে উযাইনের কোটের কোণাটা খামচে ধরে বড় বড় চোখ করে চড়া গলায় ডেকে উঠল—
—”এই… এই উদাইন! শুনো!”
উযাইন দরজার কাছে থমকে দাঁড়িয়ে নিচে ইনশিরার দিকে তাকাল। সে হেসে ফেলে বলল—
—”হুম, শুনছি তো আমার লিটল বার্ড! বলো কী বলবে?”
—”ইউ লাম মি?”
—”ইয়েসসস লিটল বার্ড”

ইনশিরা ড্রয়িংরুমে বসা নিজের বাবা আর মা আর ছোট চাচু জারিফ এবং ফুফু রাইমা,সবার সামনেই, উযাইনের দিকে তর্জনী উঁচিয়ে অত্যন্ত জেদি ও নিষ্পাপ গলায় ঘোষণা করল—
—”তুমি কিন্তু আমাল… আমাল বর হও! মনে রেকো!”
ইনশিরার মুখে আবার সেই দাবি শুনে, তাও সবার সামনে উযাইন একদম থতমত খেয়ে গেল ! তার গায়ের রঙ লজ্জায় আর অপ্রস্তুত ভাবনায় এক নিমেষে লাল হয়ে উঠল। জাহির আর মিরা তো হেসে কুটি কুটি।
উযাইন আমতা আমতা করে, হাঁটু গেড়ে ইনশিরার সামনে বসে নিচু স্বরে বলল—
—”আরেহ! কী বলছ এসব সোনা তুমি? তুমি তো এখনো অনেক ছোট!”
—”না! আমি ছোট না! তুমিই আমাল বর! আমি বড় হয়ে তোমাকেই বিয়ে কলব !”
ইনশিরা রাগে পা ঠুকে, ঘাড় ত্যাড়া করে বলল উযাইন আর নিজের চওড়া হাসি চেপে রাখতে পারল না। সে ইনশিরার এই পাগলামি দেখে খিলখিল করে হেসে উঠল। সে ইনশিরার কপালে নিজের হাত রেখে, ঠাট্টা করে বলল—

—”এই ৫ বছরের পুচকে মেয়ে বলে কী! এই মেয়ে… আমি তোমার চেয়ে পাক্কা ২০ বছরের বড়! আমি যখন বুড়ো হয়ে যাব, তুমি তখন বড় হবে! কী করে হবে বলো?”
৫ বছরের ইনশিরা উযাইনের এই ‘২০ বছরের বড়’ বা বয়সের জটিল অঙ্কটা নিজের নিষ্পাপ মগজে কিছুই বুঝতে পারল না। সে ভাবল উযাইন হয়তো কোনো বাহানা দিয়ে তাকে এড়াতে চাচ্ছে। সে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে, দুই হাত কোমরে রেখে উযাইনের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে এক চিরন্তন ডায়ালগ দিয়ে বসল—
—”বয়চ আবার কী উদাইন?! আমি কোনো বয়চ জানি না! তুমি আমাল বর, তেত!”
৫ বছরের পিচ্চি বাচ্চার এই অকাট্য এবং ভালোবাসার অমোঘ দলিল শুনে ড্রয়িংরুমের সবাই স্তব্ধ হয়ে হাসতে লাগল, উযাইন আবরার ইনশিরার সেই জেদি চোখের দিকে তাকিয়ে এক সেকেন্ডের জন্য হারিয়ে গেল। সে বুঝতে পারল না, এই ছোট মেয়েটির জেদের শিকড় কতটা গভীরে!

রাত প্রায় ১টা, উযাইন নিজের রুমে শুয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে লাগল। তার গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। উযাইন নিজের মনে মনে এক বুক আশা নিয়ে হাসল—
—”আর মাত্র কয়েকটা দিন… এরপরই পিএইচডি শুরু করব। আল্লাহ চাইলে, লেকচারার (প্রফেসর) হওয়ার স্বপ্নটা খুব দ্রুতই সত্যি হয়ে যাবে। প্রফেশনাল লাইফটা সাজাতে হবে।”
এই সুন্দর স্বপ্নের মাঝেই টেবিলের ওপর রাখা তার ফোনটা তীব্র আওয়াজে ভাইব্রেট করে উঠল। উযাইন ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই তার পুরো মুখ বিরক্তি ও ক্লান্তিতে কুঁচকে গেল। স্ক্রিন জুড়ে সেরিনের অন্তত ৭-৮ টা মিসড কল আর অনবরত মেসেজ ভাসছে। উযাইন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, ফোনটা বিছানায় ছুড়ে মেরে মনে মনে বলল—

—”উফ! জাস্ট একটা বিজনেস ম্যারেজ নিয়ে এই মেয়েটাকে এত সিন ক্রিয়েট করতে হয় কেন? আজব তো! ড্যাড নিজের জেদের কারণে এই ডিলটা পাকা করতে চাইছেন, কিন্তু আমি তো সেরিনকে একটুও পছন্দ করি না। ড্যাডকে যে আমি কীভাবে বোঝাব! আম্মুও তো এই মুহূর্তে শহরে নেই…”
উযাইন এসব ভাবতে ভাবতেই । সেরিনের মেসেজগুলো ইগনোর করে সে আনমনে ফোনের স্ক্রিন স্ক্রোল করতে করতে হুট করেই চলে গেল ফোনের গ্যালারিতে।
গ্যালারির একটা বিশেষ ফোল্ডার ওপেন করতেই তার চোখের মণি মায়ায় নরম হয়ে এলো। সেখানে আর কারো নয়, একদম জন্মের পর থেকে শুরু করে আজ ৫ বছর বয়স পর্যন্ত পুচকে ইনশিরার অসংখ্য ছবি ডায়েরির পাতার মতো সাজানো রয়েছে।

উযাইন একটা একটা করে ছবি ওল্টাতে লাগল। কোনো একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে—সবেমাত্র জন্ম নেওয়া ইনশিরাকে উযাইন নিজে খুব সাবধানে নিজের কোলে তুলে রেখেছে, অন্য একটা ছবিতে পিচ্চি ইনশিরা গোলাপি জামা পরে ফিডার খাচ্ছে আর বড় বড় চোখ করে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছে, আবার কোনো ছবিতে ইনশিরা উযাইনের চশমাটা কেড়ে নিয়ে নিজের নাকে পরে খিটখিট করে হাসছে এবং উযাইনের কোলে বসে আছে। ইনশিরা যখন হাটতে শিখেছিল তখন কার কিছু ছবি, এবং তার প্রথম জন্মদিনের বেশ কিছু ছবিও রয়েছে।
ছবিগুলো দেখতে দেখতে উযাইনের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে চওড়া, অত্যন্ত মিষ্টি এবং মায়াবী হাসি ফুটে উঠল। তার চোখের সামনে ভেসে উঠল একটু আগে নিজের ড্রয়িংরুমে ঘটে যাওয়া ইনশিরার সেই বাঘিনী রূপের কাণ্ডটা—কীভাবে পুচকে মেয়েটা সেরিনকে “আমার বর” বলে ওর সুন্দর করে সেট করা চুলগুলো খামচে ধরেছিল!
উযাইন ফোনের স্ক্রিনে থাকা ইনশিরার গোলগাল গালটার ওপর নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে আলতো করে স্পর্শ করল। সে এক গভীর ঘোরের মধ্যে ডুবে গিয়ে, এক বুক দীর্ঘশ্বাস ফেলে আনমনে ফিসফিস আক্ষেপের সুরে বলে উঠল—

—”উফ লিটল বার্ড… তুমি যদি আজ আরেকটু বড় হতে, অন্তত আর কয়েকটা বছর যদি তোমার বয়স বেশি হতো… তবে তুমি সত্যিই এই জেদটা ধরে আমাকে সেরিনের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারতে!”
কথাটা মুখ থেকে বের হওয়া মাত্রই উযাইন নিজেই নিজের ওপর একটু চমকে উঠল। সে আর কিছু ভাবতে পারলো না, ফোনটা বুকের ওপর চেপে ধরে চোখ দুটো বন্ধ করল। সে নিজেও জানত না, এই ৫ বছরের ছোট্ট মেয়েটি তার অবচেতন মনে কতটা গভীর এক অধিকার আর মায়ার শিকড় গেড়ে বসেছে।

পরদিন সকাল বেলা
প্রায় ১১টা বাজতে চলল। উযাইন তখনও বিছানায় উপুড় হয়ে একদম গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। কিন্তু ওদিকে পুচকে ইনশিরা সকাল থেকেই উযাইনের জন্য চরম অস্থির হয়ে উঠেছে। সে কিছুতেই নিজের বাসায় থাকতে চাইছে না, সারাক্ষণ “উযাইন” “উযাইন” করে বাড়ি মাথায় তুলছে। চেচামেচি শুরু করে দিয়েছে একদম।
অবশেষে ওর মিরা কোনো উপায় না পেয়ে জারিফ কে ডেকে বললেন ইনশিরাকে উযাইনদের বাসায় দিয়ে আসতে। জারিফ ইনশিরাকে কোলে তুলে নিয়ে গেল কলিং বেল বাজাল। উযাইনদের একজন বিদেশী সার্ভেন্ট এসে দরজা খুলে দিল।
—”হ্যালো! উযাইন ভাই কোথায়?বাসায় আছে?”
জারিফ হাল্কা হেসে বলল সারভেন্ট এর উদ্দেশ্যে। সারভেন্ট বিনয়ের সাথে জারিফ কে —
—”ইয়েস স্যার। কিন্তু স্যার তো এখনো ঘুম থেকে ওঠেননি।”
—”নো প্রবলেম, আমি দেখছি।”
জারিফ ইনশিরাকে নিয়ে সোজা উযাইনের বেডরুমের দিকে এগিয়ে গেলেন। ইনশিরা তখন জারিফের কোলে বসেই খুশিতে হাত-পা ছুড়ে লাফালাফি করছে। জারিফ উযাইনের রুমের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন। সে দেখল উযাইন বিছানায় অঘোরে ঘুমাচ্ছে, আর পাশের সোফায় একটা নতুন ভিডিও গেম খেলার পিএস রাখা আছে। জারিফের চোখ চকচক করে উঠল। সে ইনশিরাকে কোল থেকে নামাতে নামাতে—

—” যা… তোর বরের কাছে যা! আমি এই সুযোগে একটু উযাইন ভাইয়ের নতুন ভিডিও গেমটা খেলি, কেমন?”
—”আত্তা তাতু !”
ইনশিরা মাথা নেড়ে, আধো-আধো মিষ্টি গলায় বলে। জারিফ সোফায় গিয়ে কৌতূহল নিয়ে গেম খেলতে বসে পড়ল। ইনশিরা বিছানার চাদরের ওপর দিয়ে ‘আউ-উউ-হুম’ করতে করতে, হামাগুড়ি দেওয়ার ভঙ্গিতে চপল পায়ে উযাইনের একদম কাছাকাছি এগিয়ে গেল।

উযাইন তখনও বিছানায় উপুড় হয়েই পড়ে ঘুমাচ্ছে। তার ফরসা সুগঠিত বাম হাতটা, যে হাতে কবজি থেকে গলা পর্যন্ত কুচকুচে কালো ট্যাটু করা— ওই হাতটা বালিশের ওপর ছড়ানো রয়েছে। ওল্ফ কাট চুল গুলো এলোমেলো অবস্থায় কপালে ছরিয়ে আছে। দেখতে একদম কোনো নিষিদ্ধ কাব্যের ঘুমন্ত রাজকোমারের মতো লাগছে।

রুহ এ ইশক পর্ব ৩

ইনশিরা উযাইনের মুখের একদম কাছে গিয়ে নিজের ছোট ছোট দুটো হাত প্রথমে ওর পিঠের ওপর রাখল। আলতো করে করে কয়েক বার চাপর দিল, কিন্তু উযাইনের কোনো হেলদুল দেখতে না পেয়ে ইনশিরা উযাইনের কান টেনে ধরে, চড়া গলায় বলে……

রুহ এ ইশক পর্ব ৫