Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২
শানজানা আলম

ক্লাশ শেষে ঐশি একটা রুফটপ রেস্টুরেন্টে বসেছে। তুশি আর সুবহানা এসেছে। মারিয়াও আসবে।
সুবহানা বলল, নেক্সট উইকে দুবাই যাচ্ছি। সেভেন ডেজ থাকব!
সেভেন ডেজ! -তুশি বলল!
হ্যা রে, একটু রিলাক্স ট্যুর দরকার ছিল!
ট্যুর গ্রুপে যাচ্ছিস?- ঐশি জিজ্ঞেস করল।
ট্যুর গ্রুপ! খ্যাত নাকি আমি! সলো ট্রিপ!
তুশি বলল, সলো না ছাই, কে নিয়ে যাচ্ছে সেটা বল!
সুবহানা ভুরু নাচিয়ে বলল, ইয়াহ, আমার সাথে একটা ফ্রেন্ড যাচ্ছে, বেসিক্যালি ওর অফিস ট্রিপ আর আমি একটু ঘুরব, ফিরব, শপিং করব, দ্যাটস ইট!
ঐশি বলল, কেমন কস্টিং হচ্ছে রে!
বলা যাচ্ছে না এখনি, কম নয়! দেখা যাক!
তুশি বলল, তা খরচটা কে দিচ্ছে, আঙ্কেল?
মাথা খারাপ, নিজের পকেট মানি বাঁচিয়ে যাচ্ছি!
ঐশি বলল, পকেট মানি বাঁচিয়ে দুবাই! বাপরে!!
কথা এই অবধি থেমে থাকল।

বাসায় ফিরে ঐশির রিলাক্স লাগল, সব সাজানো গোছানো, টেবিলে খাবারও দেওয়া আছে, অথৈ একটা লক্ষী মেয়ে। আজ রান্নার চিন্তা করতে হবে না। এহসানের মুডও ভালো থাকবে। আজ ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। সব তো গোছানোই আছে, একটু আহ্লাদ করে একটা ট্যুরের কথা তুলবে ঐশি! এখনো বিদেশ ট্যুর করা হয় নি! ফ্রেন্ডদের সাথে তো কথাই বলা যাবে না কয়েকদিন পরে, স্ট্যাটাস থাকবে না।
ঐশি অথৈকে ডেকে বলল, একটা পুডিং বসিয়ে দে না, এহসান পছন্দ করে।
অথৈ কিচেনে চলে গেল।
এহসান ফিরে এসে দেখল ঐশি খুবই ভালো মুডে আছে, দুই বোন বসে টিভি দেখছে।
এহসানকে বসতে দেখে অথৈ রুমে চলে গেল, ওরা একটু প্রাইভেট টাইম স্পেন্ড করুক।
ঐশি অথৈকে ডেকে বলল, পুডিংটা দে তো এহসানকে।
অথৈ একটা ট্রে সাজিয়ে পুডিং এনে রাখল আর কফি বানাতে চলে গেল।
আরে, আজ তো সূর্য অন্য দিকে উঠেছে মনে হচ্ছে, ঘর একদম গোছানো, পুডিং, কফি, ভাবাই যায় না!
হুম, তুমি তো বলো আমি সংসারী না, দেখলে, অথৈ কে নিয়ে এসে একদিনে সব গুছিয়ে ফেললাম।
এহসান জানতে চাইল, হ্যা, তাই তো দেখছি, তুমি ক্লাশে যাও নি?

-গিয়েছিলাম তো, বিকেলে ফিরলাম।
তাহলে সব অথৈ গুছিয়েছে বলো!
ওই তে একই! অথৈ করা মানে আমিই করেছি, ওকে কে বলেছে যে তুমি পুডিং পছন্দ করো।
– ঐশি কাছে এসে বসল।।
এহসান বলল, পুডিং পছন্দ করি, তুমি তো কখনো বানাও নি।
একটু কেটে মুখে দিয়ে বলল, অথৈ সুন্দর রান্না জানে।তুমি শেখো নি?
ঐশি এড়িয়ে গিয়ে বলল, এহসান, ভাবছিলাম, একটা ট্যুর দিলে কেমন হয়?
-ভালো তো, কক্সবাজারে যাবে, চলো ঘুরে আসি?
-এহ না, কক্স কে যাবে! এত গ্যাদারিং হয়, কিচ্ছু করার নেই ওখানে!
শ্রীমঙ্গল বা সিলেট?
না না, আমি দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম!
এহসান অবাক হলো, হঠাৎ দেশের বাইরে?
হ্যা, সবাই তো যায়, আমার একটু ইচ্ছে করে না বলো, চলো না ঘুরে আসি ব্যাংকক বা দুবাই?

-দেশের বাইরে যাওয়া যায়, তবে এখনি না, কিছুদিন পরে যাই।
-ওহ, আচ্ছা। ঠিক আছে, ঐশির মতো:পুত হলো না বিষয়টা। এহসান এমন করে, টাকা পয়সা তো আছে, খরচ করতে চায় না৷ চাপা, মনটা ছোট।
অথৈ ওদের কফি দিয়ে ঘরে চলে গেল।
পরের দিন সকালে অথৈ আরেকটা কাজ করে ফেলল।এহসানকে লাঞ্চ বক্স দিয়ে দিলো।
এহসান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল , লাঞ্চ বক্স! কি দিয়েছ?
অথৈ বলল,ফ্রায়েড রাইস করে দিয়েছি, চিকেন আর সবজি আছে সাথে।
আচ্ছা তুমি যে এত কিছু পারো, তোমার সিস্টার কিছুই শেখে নি।
অথৈ হাসতে হাসতে বলল, পারে তো, ও সুন্দর সাজতে পারে, সাজাতে পারে। কুকিং ওর এরিয়া অফ ইন্টারেস্ট না।
এহসান বলল, সেটা হলেই ভালো হতো।

ঐশিকে ক্লাশের শেষে সুবহানা ডেকে বলল, মালদ্বীপ যাবি?
ঐশি বলল, মালদ্বীপ কীভাবে যাব? এহসান তো এখন
যাবে না।
-এখন না৷ নেক্সট মান্থে একটা ট্রিপ হবে,। যাবি কিনা বল!
-ধুর, কিভাবে যাব, খরচও তো কম নয়! আর তুই এই দুবাই যাচ্ছিস, আবার মালদ্বীপ, কিভাবে যাবি, এত টাকা!
-তোর এত খরচের চিন্তা কি, তুই তো ম্যারিড!
-ম্যারিড তো কি হয়েছে! টাকার গাছ আছে নাকি!
-আজ একটা গেট টুগেদার আছে, বনানীতে। যাবি? তোর ভালো লাগবে!
-অথৈ বাসায় আছে, যাওয়া যেতেই পারে! নয়টা দশটার মধ্যে শেষ হবে না?
-নাহ, কি যে বলিস, একটু রাত হয়, রাতেই তো জমে!
-বাসায় ফেরা সমস্যা হয়ে যাবে।
-ওহ, তাহলে তুই কিছুক্ষণ থেকে চলে আসিস, কেমন?
-ওকেএএএ….
-পার্টি মেকাপ নিস, আইস স্মোকি করে, হাইলাইটেড থাকবে। ওখানে দেখবি, অনেকে আসে, তোকে সুন্দর লাগবে, আমার বাসায় আসবি?

-নাহ, আমিই পারি।
-তাহলে তো ভালোই হলো।
ঐশির এই হাসিখুশি জীবনটা ভালো লাগে, জীবন একটাই সেটা উপভোগ করতে চায় ঐশি। আজ পার্টি, কাল ট্যুর, পরশু কোনো রেস্টুরেন্টে এক্সপ্লোর, চমৎকার একটা জীবন! এহসান এসব চায় না। একদমই মেলে না ওদের। এমবিএ শেষ করে একটা ভালো স্যালারির জব হলে, ঐশির এখনকার ডিপেন্ডেন্সি থাকবে না এহসানের উপর। তখন মাতব্বরিও কম করতে পারবে।
রেডি হয়ে বিকেলের দিকে বের হয়ে গেল ঐশি। অনেকদিনই শুনেছে, ওরা পার্টিতে যায়, অনেক বন্ধু,সবাই রিচ, কিন্তু ঐশির কখনো যাওয়া হয় নি ওদের সাথে, একটু আগ্রহ তো আছেই!
এমন কড়া মেকাপ দেখে অথৈ জিজ্ঞেস করল, আপু কোথায় যাচ্ছিস এত সেজে?
একটা গেট টুগেদার আছে। সেখানে!
এহসান ভাইও যাবে?
আরে নাহ, ওকে কিছু বলিস না, আমি এসে বলব, ঠিক আছে?

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ১

-ঠিক আছে৷
-ডিনার সার্ভ করে দিস, তুইও খেয়ে নিস!
-বেশি রাত হবে তো?
অথৈ চিন্তিত হয়ে জানতে চাইল!
ঐশি হেসে বলল, নাহ, চলে আসব তাড়াতাড়িই।
ঐশি চলে গেল পার্টিতে।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩