Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩
শানজানা আলম

আলো ঝলমলে পার্টিতে ঐশির খুবই ভালো লাগছে, তবে ঐশি তেমন কাউকে চেনে না। সুবহানাই ঐশিকে আলাপ করিয়ে দিচ্ছে। হেসে গড়িয়ে পরছে, সব চাইতে এট্রাকটিভ হচ্ছে সুবহানার পোশাকটা ভীষণ এক্সপেন্সিভ। ঐশির আট হাজার টাকা দিয়ে কেনা গাউনটা ম্লান লাগছে।
তবে ঐশিকে ভীষণ সুন্দর লাগছে, একটা ড্রিংকস নিয়ে একপাশে দাঁড়ালো ঐশি।
সুবহানা ড্যান্স করতে চলে গেছে।
হ্যালো, পাশ থেকে কেউ একজন কথা বলল। দামী পারফিউমের উপস্থিতি টের পেল ঐশি। অপরিচিত লোকটি তাকে বলল, লেটস ড্যান্স উইথ মি!
ঐশি বলল, না না, আমি অভ্যস্ত নই!
লোকটি হা হা করে হেসে বলল, কেউ অভ্যস্ত থাকে না, শিখে যায়। বাই দ্যা ওয়ে, আমি নাসির! আপনি?
ঐশি!

আজ এখানে প্রথম এসেছেন?
হ্যা, ওই যে সুবহানা, ও আমার ফ্রেন্ড, ওর সাথে এসেছি।
আচ্ছা আচ্ছা। চিনি তো ওকে, বাই দ্য ওয়ে, ইউ আর লুকিং সো গর্জিয়াস! আপনি ভীষণ সুন্দরীও। নজরাকাড়া সুন্দর, অনেকের মধ্যে চোখে পড়ে।
নিজের এত প্রশংসা কবে শুনেছে, ঐশি মনে করতে পারে না৷ এহসান তো সারাক্ষণ রান্মা করো নি, ঘর গুছাও নি এসব দোষ ধরতেই ব্যস্ত!
লাজুক হাসিটা মুখে ছড়িয়ে যায়। তারপরই ঘড়ি দেখে, সাড়ে দশটা বেজে গেছে, বের হতে হবে।
তাও পৌঁছাতে এগারোটা বেজে যাবে। সুবহানাকে ডাকা দরকার, ও তো ড্যান্স করছে, উবার কল করতে হবে।
থ্যাংকস এ লট, আমাকে এখন ফিরতে হবে।
এখনি?
হ্যা।

সুবহানার সাথে দৃষ্টি বিনিময় হলে, সুবহানা চলে এলো, সুবহানা আমি এখন চলে যাই!
এখনি, আরেকটু থেকে যা!
নাসির বলল, হাই সুবহানা!
অহ, নাসির ভাই! কেমন আছেন? ওই যে আলাপ হলো লা ম্যারিডিয়ানে! চিনতে পেরেছেন?
হ্যা, কেন চিনব না!
বাই দ্য ওয়ে, ও ঐশি, আমার ফ্রেন্ড!
হ্যা, আলাপ হলো।
ও একটু কনজার্ভেটিভ ফ্যামিলি বিলং করে, তাই ওকে ফিরতে হবে, সরি, কিছু মনে করেন না প্লিজ!
না না, ইটস ওকে, সুবহানা ঐশির হাত ধরে টেনে বের করে নিয়ে এলো।
সুবহানা বলল, উনি কে জানিস, নাসির গ্রুপের এমডি!
অহ! আমি কি করে জানব! – ঐশি বলল।
মনে হচ্ছে তোর প্রতি ইন্টারেস্ট আছে।
ইন্টারেস্ট থাকলে কি হবে, আমি তো ম্যারিড!! ঐশি হাসলো।
তুই না একদম বোকা ঐশি, মানুষের কি ফ্রেন্ড থাকে না, উনি হয়তো জাস্ট ফ্রেন্ডশিপ করতে চাইবেন! টাকার কুমির একেবারে! আমার তো এমন অনেক ফ্রেন্ড আছে!ঠিক আছে, উবার কল করে চলে যেতে পারবি?
হুম পারব! তুই ভেতরে চলে যা।
ওকে, বাইই সুবহানা চলে গেল।

কিন্তু উবার পাওয়া যাচ্ছে না একটাও। ওদিকে যাবে না কেউ। ঐশির একটু টেনশন লাগছিল।
হ্যালো প্রিটি প্রিন্সেস, কোনো সমস্যা? নাসির এগিয়ে এলো।
না মানে উবার পাচ্ছি না।
-কোথায় যাবেন?
-উত্তরা, আঠারো নম্বর সেক্টর।
-আপনার আপত্তি না থাকলে আমি লিফট দিতে পারি।
– না না, দরকার নেই, আমি চলে যেতে পারব।
-আরে আসুন, এত রাতে সেফও না সুন্দরী মেয়ের জন্য। ভয় নেই, আমি পৌঁছে দিব।
ঐশি ইতস্তত করে উঠল নাসিরের গাড়িতে।
বাই দ্য ওয়ে, বাসায় কে কে আছে আপনার?
-ঐশি বলল, আমার হাজবেন্ড আর আমি।
অহ, আপনি ম্যারিড, বোঝাই যায় না একদম!
কিভাবে বুঝবেন ম্যারিড কিনা?
ঐশি জিজ্ঞেস করল।
দেখে বোঝা যায়, আপনাকে বুঝিনি, আপনি এত এট্রাকটিভ! সরি ফ্লার্ট করছি মনে করবেন না, আপনি সত্যিই সুন্দরী!

আপনার কে কে আছেন ফ্যামিলিতে?
সবাই আছে, বাবা মা, ওয়াইফ, ছেলে, কমপ্লিট ফ্যামিলি ম্যান! নাসির হা হা করে হাসল!
আপনাকেও তো বোঝা যায় না!
তাই? আপনি কিভাবে বুঝবেন ছেলেরা ম্যারিড কিনা?
আমার বয়স দেখে বোঝা উচিৎ!
আপনাকে তো খুব বেশি বয়স্ক লাগছে না!
নাসিরের সাথে গল্প করতে করতে ঐশি বাসায় পৌঁছে গেল।
নাসির বলল,বাইই, আবার দেখা হবে?
নিশ্চয়ই, ঐশি হেসে বলল।
তাহলে কন্টাক্ট নম্বরটা…
ঐশি হাসিমুখে নম্বর আদান-প্রদান করে বিদায় নিলো।

এহসান ফিরেছে নয়টার দিকে। অথৈ একটু ভয়ে ভয়ে আছে, আপু নেই, এহসান ভাই কি মনে করে, নিশ্চিত অশান্তি হবে।
অথৈ বলল, এখন তো রাত হয়ে গেছে, ডিনার সার্ভ করে দেই, ভাইয়া?
ঐশি কোথায়? – এহসান জানতে চাইলো।
আপুর একটা গেট টুগেদার আছে বলল।
আচ্ছা। একটু পরে দাও। ও আসুক
দশটা পার হয়ে গেল। এহসান ঐশিকে ফোন করেছিল, ঐশি টেক্সট করেছে, ওর আসতে একটু দেরী হবে।
এহসান অথৈকে ডাকল।
তোমার আপুর আসতে দেরী হবে, তাহলে ডিনার করে নেওয়া যাক।
অথৈ কিচেনে ঢুকল। এহসানও উঁকি দিলো, কি রান্না করেছ?
খিচুড়ি করেছি এহসান ভাই!
ওহ, দারুণ। তুমিও বসে পড়ো।
হ্যা, আসছি।
ডিনার করতে করতে এহসান জানতে চাইল, মাস্টার্স তো শেষ, এখন কি করবে? চাকরির চেষ্টা করবে?
অথৈ হাসতে হাসতে বলল, আব্বা পাত্র দেখতেছে, বিয়ে করব। আর দেরী হলে, প্রাইমারি স্কুলে পরীক্ষাটা দিব। এটুকুই প্ল্যান।

তুমি ব্যাংক গুলোতে এপ্লাই করো না?
নাহ, কোশ্চেন কঠিন দেখলাম, পারব না আসলে।
আচ্ছা আচ্ছা। নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়েছ?
হ্যা, পাশ করেছি গতবার।
ঐশি দেয় নি?
মাথা খারাপ আপনার, আপু দিবে নিবন্ধন!
খাওয়া শেষ করে এহসান বলল, তুমি বসো, আমি একটা সফট ড্রিংক বানিয়ে আনি, লেবু আর পুদিনা আছে না ফ্রিজে?
হ্যা, আপনি বানাবেন? আমি যাই?
নাহ, বসো, আমার বাসায় এসে তুমি সারাদিন কাজই করছ!
এহসান কিচেনে ঢুকলো।
অথৈও ঢুকলো, ভাইয়া, বলছিলাম, আপনি আর ঐশি কোথাও থেকে ঘুরে আসেন, নিজেরা একটু সময় কাটান।

হ্যা যাব। দেখি সামনেই।
ঐশি ঢুকলো বারোটার পরে, এহসান টিভি দেখছিল। ঐশিকে দেখে এহসান শান্ত স্বরে বলল, এই পোশাকে কোনো ভদ্রলোকের মেয়েরা এত রাত অবধি বাইরে থাকে?
ঐশি বলল, থাকে, মিডল ক্লাস মেন্টালিটি তো সবার না যে জাজমেন্টাল সবাই জাজমেন্টাল হবে!
এহসান বলল, তুমি অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি শুরু করেছ ঐশি।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২

অথৈ বের হয়ে এলো, এহসান ভাই, থাক না, রোজ তো যায় না, আজ একটা গেট টুগেদার ছিল, প্লিজ, ঘুমাতে যান।
অথৈ মধ্যে এসে পড়ায় এহসান চুপ করে গেল। বেডরুমে না গিয়ে ড্রয়িং রুমে শুয়ে পড়ল।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৪