ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৪
শানজানা আলম
সকালে ঘুম ভাঙলো ঐশির। সাধারণত এত সকালে ওঠে না সে। উঠে বেডরুম থেকে বের হতেই দেখল, অথৈ ব্রেকফাস্ট দিয়েছে এহসানকে। এহসান খবরের কাগজটা দেখছে আর রুটি ছিড়ে মুখে দিচ্ছে।
ঐশি নাইটি পরেই এসে বসল এহসানের সামনে। বুয়াকে বলল, বুয়া আমার প্লেট দাও তো। অথৈ, তুইও নাস্তা করে নে। একসাথে বসি সবাই।
এহসান খাওয়া শেষ না করেই উঠে যাচ্ছিল। অথৈ আটকালো।
-এহসান ভাই, প্লিজ….
এহসান বসল।
ঐশি বলল, সরি।
গ্লাসে লেবু আর মধু নিয়ে একটা চুমুক দিলো।
এহসান কোনো কথা বলল না।
ঐশি বলল, কক্স প্ল্যান করবে বলেছিলে, অথৈকে নিয়ে ঘুরে আসি চলো।
এহসান তারও উত্তর দিলো না। এহসানের মা ফোন করেছেন। এহসান ফোনটা পিক করে কথা বলল কিছুক্ষণ।
ফোন রেখে এহসান ভাববাচ্যে বলল, মা আসতে চাচ্ছেন কয়েকদিনের জন্য। ডাক্তার দেখাতে হবে, দাঁতে ব্যাথা বেড়েছে।
ঐশি বিরক্ত হলো, শাশুড়ী আসা মানে সালোয়ার কামিজ পরে ওরনা গায়ে দিয়ে বসে থাকা। ক্লাশ মিস দেওয়া তাছাড়া রান্নাঘরেও ঢুকতে হবে, দায় দায়িত্ব তো থাকেই।
ঐশি সরাসরি বলল, বড় ভাইয়ার বাসায় উঠতে পারেন তো, আমাদের বাসায় অথৈ আছে এখন।
অথৈ বলল, আমি আছি, এটা কোনো সমস্যা না
। আন্টি কি রুম শেয়ার করতে সমস্যা হবে?
তাহলে আমি কয়েকটা দিন তোর সাথে থাকতে পারি।
ঐশি বলল, না না, মা আসলে এহসান কী বাইরে থাকবে নাকি, কি মনে করবে উনি!
এহসান বলল, যা দেখবে, সেটাই মনে করবে।
অথৈ মা তোমার সাথেই থাকবেন, কোনো সমস্যা নেই।
তোমার একটু সমস্যা হবে হয়তো। বয়স্ক মানুষ, একটু সমস্যা করবেন হয়তো।
না না, আমার কোনো সমস্যা নেই। অথৈ তাড়াতাড়ি করে বলে। এহসান বের হয়ে গেল লাঞ্চ বক্স নিয়ে।
এহসানকে কি দিয়েছিস আজকে?
প্রণ পোলাও করে দিলাম।
বাহ, ভালোই তো রেঁধে খাওয়াচ্ছিস, আর তুই পাকনামি করে ওই ঝামেলা আনতে গেলি কেন, খুব ঝামেলা করবে৷
অথৈ বলল, আমি এখন আছি, কিচেন আমি সামলে নিব, এরপরে আসলে তো তোর ক্লাশ মিস দিয়ে বাসায় থাকতে হবে। কাল পার্টিতে কি হলো রে?
ঐশি বলল, একদম অন্যরকম, ফ্যান্টাস্টিক অনুভূতি!
তোকে নিয়ে যাব এরপরে!
-মাথা খারাপ নাকি, তোর ভাল্লাগে তুই যা, কিন্তু আপু, এত রাত করে ফিরিস না, ভাইয়া মাইন্ড করে মনে হলো!
-করুক গা, এত পাত্তা দিলে কয়দিন পরে ঘরে বসিয়ে রাখবে।
-তুই এত গা ছাড়া ভাব কেন করিস ওনার ব্যাপারে!
-অথৈ আমি আর এহসান দুইজন দুই মেরুর মানুষ, আমি জোর করে আছি কেন জানিস, আব্বা আম্মা আর তোর কথা চিন্তা করে, আমি বের হয়ে গেলে তোর বিয়ে দিতে ঝামেলা হবে!
আব্বা আম্মা তো টেনশনে হার্টফেল করবে।
অথৈ কি বলবে,ভেবে পেল না আর।
ঐশির একটা ফোন আসায় সে রুমে চলে গেল।
ফোন করেছে নাসির। ঘুম ঘুম চোখে ফোন করেছে ঐশিকে।
ঐশি ফোন তুলল।
হ্যালো, আমি কি ঐশির সাথে কথা বলছি?
জি, আপনি ঐশির সাথেই কথা বলছেন, যেহেতু ঐশিকেই ফোন করেছেন।
হুউম, যাক নিশ্চিত হওয়া গেল, কোনো পরী বা স্বপ্নকন্যা ছিল না গতরাতে, মানবীই ছিল!
ফ্লার্টিং লেভেল সো হাই! – ঐশি বলল
নাহ, সত্যিই আমি জাস্ট মুগ্ধ হয়ে আপনাকে দেখছিলাম।
আপনি এত সকালে ওঠেন?
হ্যা, কেন উঠব না, আমার তো কাজ কর্ম আছে, নাকি!
আচ্ছা, বাসায় আর কেউ নেই?
বউ গিয়েছে ছেলের স্কুলে, সো কেউ নেই!
তাই আপনি আমাকে ফোন করলেন?
সত্যি বলতে হ্যা, সুযোগ পেয়েই ফোন করলাম বা ফোন করা থেকে নিজেকে বিরত করতে পারলাম না।
ইশ, কি সত্যি কথা বলছেন! বাপ্রে!
হুউম, তো আমরা একবার দেখা করতে পারি?
ঐশি বলল, আজ তো হবে না, আমার ক্লাশ নেই আজ।
ওকে, দেন আপনি সময় বলুন!
আমি বলব? তখন যদি আপনি বিজি থাকেন?
সময় বের করে নিব, নিজের ভালোলাগার জন্য এটুকু সময় বের করতে পারব না! কি যে বলেন!
তাহলে আমি জানাব।
ঠিক আছে, টিল দেন অপেক্ষা করব।
ফোন রেখে ঐশি সুবহানাকে কল করল। সুবহানা ঘুমাচ্ছিল, দশটা বাজে প্রায়।
এই উঠিস নি এখনো?
নাহ, কেন?
আমাকে ওই ভদ্রলোক ফোন করলেন, নাসির!
নাসির ভাই?? কেন?
দেখা করতে চাইছেন।
তো দেখা করবি, সমস্যা কি?
সমস্যা নেই বলছিস?
নাহ, সমস্যা কি? দেখা করলেই কি তুই শুয়ে পরবি নাকি প্রেম করবি, দেখা কর, ঘুরে ফিরে দেখ, ভালো লাগলে ফ্রেন্ডশিপ রাখবি, ভালো না লাগলে রাখবি না!
হুউম, এহসান জানলে?
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩
জানবে কেন, তোর নিজস্ব কোনো লাইফ নেই? তুই এনজয় করতে পারিস না একা? বিয়ে হয়েছে বলে কি স্বামীর পিছন পিছন ঘুরতে হবে! আশ্চর্য টিপ্যিকাল চিন্তা ভাবনা তোর, অনেক গ্রুমিং লাগবে!!
ঐশি বলল, একটু চিন্তা তো আছেই, বুঝবি না।
চিন্তা থাকবে না। চারপাশে তাকিয়ে দেখ, কত বড় পৃথিবী। এখানে কুয়োর ব্যাঙ হয়ে থাকবি নাকি!
বাদ দে, ফোন রাখ, ঘুমাব একটু।
