Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫
শানজানা আলম

এহসানের মা আলেয়া বেগম এলেন অবশেষে। অথৈ আছে যেহেতু তাই ঘর গোছানোই ছিল।
আন্টি, আপনার একটু অসুবিধা হতে পারে, আপনি আমাকে জানাতে পারেন। – অথৈ মাওই মাকে হাসিমুখে বলল।
না না, কোনো সমস্যা নাই, তুমি থাকো না, আমি বুড়ো মানুষ, রাত্রে উঠব কয়েকবার, আমাকে বাইরের দিকে দিও। অসুবিধা নাই তো তোমার?
না আন্টি, কি যে বলেন, আম্মুও মাঝে মাঝে আমার কাছে থাকে তো, দাদী বেঁচে থাকতে দাদীর কাছেই আমি থাকতাম।
অথৈ বলতে গিয়েও থেমে গেল, আপু একা থাকাই পছন্দ করে, গ্রামের দিকের আত্মীয় স্বজন এলে আপু নিজের ঘর কখনোই ছেড়ে দিতো না।
কোনো ভাবেই আপুর কোনো নেগেটিভ সাইড বলা ঠিক হবে না।
ঐশি অবশ্য ক্লাশের অজুহাতে বের হয়ে গেল।
অথৈ সামলে নিলো, আন্টি ওর তো সামনে ফাইনাল সেমিস্টার, কোনো সমস্যা নেই আমি রান্নাটা করে ফেলব।

ঐশির আজ ক্লাশ নেই। আজ নাসিরের সাথে দেখা করার কথা, সুবহানা বলেছে, ঐশি প্রথমে তার বাসায় যাবে, ওখানে তৈরি হয়ে তারপরে দেখা করতে যাবে, গুলশানে একটা সুন্দর কফিশপে দেখা করার কথা। ঐশিকে একরকম জোর করেই সুবহানা একটা দামী মেকওভার স্যালনে নিয়ে গেল।
ওখানে তৈরি হয়ে ঐশিকে পৌঁছে দিলো রেস্তোরাঁয়। সুবহানা বলল, আমি যাব না, তুই প্রাইভেট টাইম স্পেন্ড কর, ইনজয় ইওর টাইম!
ঐশিকে দেখে নাসির বলল, জাস্ট ওয়াও! আমি তো একদম ঠিক বলেছি, প্রিটি প্রিন্সেস!
ঐশি হাসল।
কি খাবে বলো, তুমি করেই বলি, তাই না?
ঐশি বলল, হ্যা, সিওর।
ব্রাউনি আর কফি অর্ডার করে ওরা বসল। ঐশি তেমন কথা বলছিল না, নাসিরই টুকটাক কথাবার্তা বলছিল, কফি শেষ হলে নাসির বলল, চলো একটা ঘুরে আসি কোথাও থেকে, এখানে বসে বসে বোর হচ্ছো তুমি!
ঐশি বলল, আমাকে ফিরতে হবে।
আমি ড্রপ করে দেবো।
নাসিরের সাথে বের হয়ে শহরের বাইরে বেশ কিছু দূর লং ড্রাইভে গেল ঐশি৷

নাসির স্বতঃস্ফূর্তভাবে গল্প করছিল।
তারপর, এমবিএ এর পরে কি প্ল্যান?
দেখি, জবের ট্রাই করব!
আচ্ছা, গুড!
তারপর?
তারপর আর কি?
ফ্যামিলি বা আদার্স?
নাহ, আপাতত আর কোনো প্ল্যান নেই!
আচ্ছা! আমার ব্যাপারে কি জানতে চাও?
তেমন কিছু না!
এই যে তোমাকে সময় দিলাম, আমাকে খুব খারাপ লোক মনে হচ্ছে!
কেন, খারাপ কেন মনে হবে?
এই যে সংসার ফেলে তোমাকে সময় দিচ্ছি!
ঐশি হেসে বলল, আসলে সবারই কিছুটা প্রাইভেট স্পেসের দরকার হয়।
মনে হচ্ছে তোমার আরো কিছু কথা আছে, শেয়ার করতে পারো, ভালো লাগবে?
ঐশি বলল, একদিনে সব বলে ফেলব?
নাসির বলল, তাহলে এরপরে কবে বলবে?
বলব হয়তো কখনো!

ঐশিকে নিয়ে বেশ অনেক সময় কাটিয়ে ওকে সন্ধ্যার দিকে সুবহানার বাসায় নামিয়ে দিলো নাসির।
মেকাপ রিমুভ করে বাসায় যেতে রাত নয়টা পেরিয়ে গেল।
এহসান দুবার ফোন করেছিল, ঐশি পিক করে নি, বলবে চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছে ফোনের।
বাসায় ফিরে দেখল, অথৈ, এহসান আর ওর শাশুড়ী মা ডিনারে বসেছে। ঐশিকে দেখে অথৈ ইতস্তত করলেও এহসান মায়ের সামনে কিছুই বলল না। ঐশি রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে বইপত্র নিয়ে বসল।
এহসান এগারোটার দিকে রুমে এলো,
ঐশিকে পড়তে বসতে দেখে জিজ্ঞেস করল, ফোন পিক করো নি কেন?
একটু বিজি ছিলাম।
এখন মা আছেন, বাইরে এমন কি কাজ যে রাত নয়টা বাজল বাসায় ফিরতে!
সুবহানার বাসায় ছিলাম, গ্রুপ স্টাডি ছিল!
এমবিএ লাস্ট সেমিস্টারে গ্রুপ স্টাডি, এত সিরিয়াস তো আগে দেখিনি!
হ্যা, কারন এরপরে জবের প্ল্যানিং করতে হবে!
আর ফ্যামিলি প্ল্যানিং?
এহসান, আমি এখনি প্রস্তত নই, বললাম তো তোমাকে!

আচ্ছা। নিজের ফোনটা চার্জে দিতে গিয়ে এহসান দেখল, ঐশির হোয়াটসঅ্যাপে একটা আননোন নম্বরের মেসেজ, thanks for this wonderful dayout!
এহসান, নম্বরটা মুখস্থ করে নিলো, এখন কথা বাড়াতে ইচ্ছে করল না। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরে ঐশি যখন বিছানায় এলো, এহসান ঘনিষ্ঠ হতে কাছে এগুলো, ঐশি বলল, এহসান, আমি খুব টায়ার্ড!
এহসান বিরক্ত হয়ে বলল, তোমার আমার জন্য কোনো সময় নেই, তাই তো?
ঐশি বলল, তোমার সাথে আমার এখন ইন্টিমেট হওয়ার মত মানসিক পরিস্থিতি নেই।
ওহ, মানসিক পরিস্থিতি প্রয়োজন, তা কবে হবে সেটা?
ঐশি রেগে গিয়ে বলল, তুমি বোঝো তো শুধু ঔইটাই, প্রয়োজন হলে কাছ আসো, আমার মন কি চায়, সেটা তো জিজ্ঞেস করো না কখনো!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৪

এহসানের বিরক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে গেল, অন্য সময় হলে ঝগড়া করত, এখন আস্তে রুম থেকে বের হয়ে চলে গেল। মা আছেন বাসায়, অথৈ আছে, এখন সিন ক্রিয়েট করা ভালো দেখায় না।
ড্রয়িংরুমে শুয়ে নম্বরটা হোয়াটসঅ্যাপে শেভ করতে ভেসে উঠল, নাসির খান!
নাসির খান কে, ওর ক্লাশমেট তো মনে হচ্ছে না!
একটু খোঁজ নিতে হবে, কোথায় যাচ্ছে ঐশি!!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬