Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬
শানজানা আলম

ঐশি ফোন হাতে নিয়ে দেখল নাসির মেসেজ দিয়েছে, আচ্ছা এহসান কি দেখেছে, তখন ফোনের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল।
ঐশি একটু ভয় পেল, কিন্তু ভয় পাওয়ার কারনটা কি, সে কি কোনো ভুল করেছে, এরকম ফ্রেন্ড তো থাকতেই পারে তার।
ঐশি বেডরুম থেকে বের ড্রয়িংয়ে এসে এহসানের পাশে বসল।
এহসান চোখ খুলল না।
এ্যাই, রুমে চলো।
এহসান কথা বলল না।
ঐশি হাত ধরে টানলো, চলো।
এহসান বলল, ঐশি, তুমি চলে যাও। আমি এখানেই থাকব।
ঐশি বলল, না, চলো।
এহসান কথা না বাড়িয়ে উঠল, তবে ঐশির কাছে গেল না। এত বেশি বিরক্ত লাগে ঐশিকে, কিভাবে সারা জীবন থাকা সম্ভব এভাবে, ডিপ্রেশন লাগে রীতিমতো।
ঐশি সুন্দরী, তবে এহসানের ভালো লাগার মতন আর কোনো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ঐশির নেই।

আলেয়া বেগম রান্নাঘরে এসে দেখলেন, অথৈ রুটি ভাজছে।
একি, তুমি রাতেও রান্না করলে, এখনো তুমি, বৌমা কই?
অথৈ হেসে বলল, আন্টি, ওর রাত জেগে পড়া থাকে৷আমি যে কটা দিন আছি, আমি একটু সাপোর্ট দিচ্ছি আর কি!
এহসানের দুপুরের খাবারও তুমি করেছ?
জি আন্টি!
আলেয়া বেগম বললেন, বুয়া, গাজর আছে বাসায়? এহসান গাজরের পায়েস খুব পছন্দ করে।
অথৈ বলল, আন্টি আমি আনিয়ে দিচ্ছি, আপনি করে দিয়েন।
অথৈ গাজর আনিয়ে দিলো বুয়াকে পাঠিয়ে। ঐশি উঠল বেলা করে। আলেয়া বেগম ঐশির কাছে গিয়ে বসে বললেন, এত বেলা করে ওঠে না মা, তোমার স্বামী কি খায় না খায়, অফিসে চলে গেল, তুমি উঠলাই না!
ঐশি বলল, আমি তো সারাবছর করি মা, এখন একটু অথৈ সামলে নিচ্ছে।
হুম, তাও নিজের সংসার নিজে সামলানো ভালো।
ঐশি কথা বাড়ায় না শাশুড়ীর সাথে।

ঐশি আর অথৈয়ের বাসা জেলা সদরে।
দুপুরের দিকে ঐশির বাবা আলি আহমেদ সাহেব বাসায় ফিরে তার স্ত্রী তাহিরা বেগমকে ডেকে বললেন, অথৈ এর জন্য একটা বিয়ের প্রোপোজাল এসেছে। আরাফাত ভাইয়ের ভায়রার ছেলে, শেরে বাংলা মেডিকেল থেকে পাশ করে বিসিএসে টিকেছে, এখন পোস্টিং দিয়েছে মংলায়। বিয়ে করে বউ নিয়ে ওখানেই থাকবে। ছবি দেখলাম, দেখতে শুনতে ভালো।
অথৈকে আসতে বলো।
তাহিরা বেগম ঐশিকে ফোন করে বললেন, অথৈ এর জন্য একটা সম্বন্ধ এসেছে, ওকে পাঠিয়ে দিতে।
ঐশি অথৈকে গুছিয়ে নিতে বলল সব কিছু।
রাতে এহসান ফেরার পরে, ঐশি বলল কাল সকালে অথৈকে বাসে তুলে দিতে হবে। একটু জরুরি।
এহসান সাধারণ ভাবেই, জানতে চাইল, হঠাৎ এত তাড়াতাড়ি? তুমি না ওকে নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার প্ল্যান করলে?
ঐশি বলল, ওর একটা বিয়ের কথা এসেছে, যাক, ভালো ছেলে, ডাক্তার। দেখা শোনা হোক!
আচ্ছা।
এহসান কথা বাড়ালো না। সকালে অথৈকে নিয়ে বাসে তুলে দিতে বের হলো।
বাসা থেকে বের হয়ে অথৈ বলল, এহসান ভাই, ঐশি এরকমই একটু, আপনি ওকে সময় দিয়েন, ঠিক হয়ে যাবে।

এহসান ম্লান হেসে বলল, সব কিছু কি ঠিক হয় অথৈ!
হয় না। ঐশি সংসারে মন দেওয়ার মেয়ে না।
অথৈ কথা বাড়ালো না।
এহসান বলল, বিষয়টা বিয়ের সময় আমি বুঝতে পারি নি। আরো পরিস্কার হওয়া দরকার ছিল। তোমার জীবন সামনে, তাই যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্কার কথা বলে নিও।
অথৈ হাসতে হাসতে বলল, আমি তো সাধারণ মেয়ে এহসান ভাই, আমার আর কি সমস্যা হবে, ছেলেরা আমার মতন মেয়ে পছন্দই করে!
এহসান বলল, এটা সত্যি বলেছ। দিন শেষে বউ হচ্ছে শান্তির জায়গা, ঘর হচ্ছে একান্ত নিজস্ব জায়গা। সেই জায়গাটায় সাধারণ কেউ হওয়াই ভালো।

আমারো কিছু ভুল আছে, আমি হয়তো আমার এক্সপেকটেশন ঐশিকে বোঝাতে পারি নাই। ওকে ওর মত চলতে দিয়েছি, এমবিএ ভর্তি করে দিয়েছি। ওর জগত তৈরি হওয়ায় আমার থেকে সরে গিয়েছে।
এখনো কিছু সরে যায় নি ভাইয়া, আপনি চাইলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
এহসান জানে, ঠিক হওয়া সহজ নেই।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫

নাসির লোকটার খোঁজ পেয়েছে, বেশ টাকা পয়সা আছে, ঐশি তার সাথে কিভাবে মিশল, সেটা বুঝতে পারছে না, তবে এখানে কিছু একটা বিষয় তো আছেই। অথৈ আর মা চলে গেলে ঐশির সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বলবে। তাড়াহুড়ো করে রিয়াকশন দেখালে প্রবলেম সলভ হয় না। তাকে জানতে তো হবে৷ ঐশি আসলে কি চায়!
অথৈ চলে গেল বাড়িতে।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭