বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ১৫
shanta moni
সকাল ৮:৩০
সূর্য আলো চোখে পড়তেই চোখ রোদ পিটপিট করে চোখ খুলে। সামনে তাকিয়ে দেখে শুভ্র দাড়িয়ে আছে। রাগি চোখে তাকিয়ে। ভয়ে রোদের চোখের ঘুম ছুটে যায়। কিচ্ছু বলতে পারছে না। তাড়াতাড়ি উঠে বসে। শুভ্র রেগে গিয়ে বলে।
শুভ্র: জমিদারের মেয়ে না তুই যে এতো সকাল পযন্ত ঘুমাবি। এই বাসায় কোনো কাজের লোক নেই। রান্না করবে কে। আর এতোক্ষণ ধরে তোকে ডেকে যাচ্ছি। মরার ঘুম ঘুমাচ্ছিস হ্যা।
রোদ মাথা নিচু করে আছে।
শুভ্র রাগে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়। রোদ বিছানা থেকে উঠে ওয়াশরুমে ফ্রেশ হয়ে আসে।
সকালের নাস্তা বানিয়ে রুমে নিয়ে আসে। রোদ রুমে ডুকে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
শুভ্র কিছু বলছে না। নাস্তা ট্রি টেবিল উপরে রেখে আবার রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।
এখন প্রায় ১১ টা বাজে রোদ এই বাড়ির ছাদে ছিলো। পুড়ো বাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখছে।
ছাদ থেকে নেমে উদ্দেশ্য তার রুমে যাবে। ভালো করে সাওয়ার নিবে। রোদ যখন রুমে ডুকে রুমে কেউ ছিল,না। গোসল করে যখন বেড় হতে যাবে। তখনি মনে পড়ে সে পড়ার জন্য কোনো কাপড় আনেনি। আর সে পড়বেও বা কি। রোদ ওয়াশরুমের দরজা খুলে আসে পাশে তাকায়৷ দেখে কেউ আছে কিনা। ওয়ারড্রবের সামনে দাঁড়ায় আপাতত কিছু একটা পড়ে নিতে হবে৷ ওয়ারড্রব খুলতে একটা শাড়ি দেখতে পায়৷ কিছুটা অবাক হয় রোদ। তাঁরপর মনে মনে বলে, যাই হোক ভালো হয়েছে। শাড়িটা না পেলে তো কি যে হতো। তাঁড়াতাঁড়ি শাড়ি পড়ে নিতে নেয়। সমস্যা বাজে শাড়ি পড়তে গিয়ে ২০ মিনিট ধরে চেষ্টা করচে কিন্তু পারছেই না। এমন সময় রুমের দরজা খুলে ভিতরে আসে শুভ্র রোদ ভয়ে কাঁপতে থাকে৷ তার যে হাত থেকে শাড়ি পড়ে গেছে তার দিকে খেয়াল নেই।
শুভ্রের নিশ্বাস নিতে যেনো কষ্ট হচ্ছে শ্বাস ভারি হয়ে আসে। অন্য দিকে ঘুরে রাগি কন্ঠে বলে উঠে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
শুভ্র: শাড়ির আঁচল’টা উঠা বিয়াদব।
শুভ্রের ধমকে হুস আসে। তাড়াতাড়ি শাড়ি আঁচল উঠিয়ে গায়ে পেচিয়ে নেয় কোনো ভাবে। শুভ্র রোদের দিকে ফিরে তাকায় রোদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলে।
শুভ্র: শরীর দেখিয়ে আমাকে কাছে টানার ফন্দি আটছিস তাই তো রোদ, সাবধান শুভ্রকে উসকানি দিলে, তোর নিজের আগুনে তুই-ই নিজেই পুড়বি।
রোদ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। লজ্জা অস্থতি তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছে৷
রোদ আমতা আমতা করে বলে
রোদ: আমার কোনো ইচ্ছে নেই, আপনাকে কাছে টানার, আমি তো শাড়ি পড়ছিলাম।
শুভ্র দাঁতে দাঁত চেঁপে বলে,
শুভ্র : যে কাজ পারিস না, সেটা করতে যাস কেনো হ্যা।
শুভ্র ওয়ারড্রবের সামনে গিয়ে একটা শার্ট বেড় করে রোদের মুখের উপর ছুড়ে মারে তাঁরপর ধব ধব পা ফেলে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।
রোদ হাবলার মতো তাকিয়ে আছে। এতোক্ষণ কি হলো তার মাথায় ডুকছে না।
রোদ কিছু কথা মনে মনে আওরাই, যাই হয়ে যাক রোদ এই লোকের সামনে নিজেকে আর দুর্বল করবি না, তুই যত নিজেকে দুর্বল করবি। এই লোক তত তোকে ভেঙে চুরমার করে দিবে।
চৌধুরী বাড়ি..🍁🍁
হেনা বেগম লাগাতার শুভ্রকে ফোন দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু শুভ্র ফোন তুলছে না। এইদিকে আরাফ চৌধুরী রোদকে খুঁচ্ছে হেনা বেগম আরাফ চৌধুরী কিছুই বলেনি, যদি বলে তো আরাফ চৌধুরী বাড়িতে তুল কালাম বাঁধাবেন। তাঁরপর বাপ ছেলের যুদ্ধ শুরু হবে। হেনা বেগম কাছে নিলয় এসে বলে।
আরে ডাংলিং কুল এতো হাইপার হইয়ো না। যার বউ সে নিয়ে গেছে। এখানে আমরা কাবাব মে হাড্ডি হওয়ার দরকার নেই।
হেনা বেগম ভ্রু কুচকে তাকায় তাঁরপর বলে।
হেনা বেগম : তুই জানতি নিলয়। তাহলে আমাদের আগে কেনো বললি না।
নিলয় ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে।
নিলয়: আরে সুইটহার্ট তোমাদের বলার থেকে তো আমার জানের ভয় বেশি। এখনো বিয়ে করিনি বাচ্চা হয়নি। কতো স্বপ্ন বাকি আমার।তুমি কি চাও আমার বউ বাচ্চা বিয়ে করার আগেই এতিম হোক।
হেনা বেগম তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে
নিলয় দাঁত কেলিয়ে হাঁসে তাঁরপর বলে।
নিলয়: আসলে সুইটহার্ট কথা হলো যে, আমার অনেক স্বপ্ন শুভ্র ভাই আর অয়ন ভাইয়ের বাসর রাতের ব্লগ ভিডিও বানাবো।
আর তোমার যে বড় নাতি সে তো মনে হয় না জীবনে বিয়ে করবে । আর রোদ যে তার বউ সেটা সে মনে রেখছে এটাই অনেক, তাই এতো বড় সুযোগ হাত ছাড়া করতে চাইনি। আর আমি আটকাইওনি। Bro তার বউ নিয়ে গেছে। আর আমার মনে হচ্ছে যে ব্লগ ভিডিও তাড়াতাড়ি বানাতে পারবো। তাঁরপর আমি ভাইরাল,
নিলয় আবার একটু ভাব নিয়ে শার্ট ইন করে বসে তাঁরপর বলে।
নিলয়: দাদি যদি সেলফি তুলতে চাও,তুলতে পারো পড়ে আমি সেলিব্রটি হয়ে গেলে। আমার দেখা কিন্তু পাবে না। অটোগ্রাফ লাগলেও নিতে পারো।
হেনা বেগম রেগে গিয়ে উঠে দাঁড়ায় তাঁরপর বলে।
হেনা বেগম : গাঁধার বাচ্চা দাঁড়া তুই। ওই দাঁড়া তোকে আমি জুতা মেরে ভাইরাল করবো। তোকে ভাইরাল করাচ্ছি দাঁড়া তুই।
নিলয় বাসা থেকে দৌড়ে বেড়িয়ে যায়।
নিলয় বাসা থেকে বের হয়ে যাবে এমন সময় গেট থেকে নিলা আসে, নিলা দেখে নিলয় হাসি দিয়ে বলে।
নিলয়: আনোরা খালাম্মা আপনি এইখানে।
নিলা রেগে দাঁত কটমট করে বলে।
নিলা: কুদ্দুস খালু সমস্যা কি আপনার এমন করেন ক্যা। আমারে ডিস্টার্ব করা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই ।
নিলয় : না খালাম্মা নেই, আপনারে ডিস্টার্ব করাই আমার একমাত্র কাজ।
নিলা রাগে ইচ্ছে করছে। বেটাকে খুন করতে। নিলা আর কিছু না বলেই ওখান থেকে চলে যায়। সে রোদকে নিয়ে অনেক টেনশনে আছে। শুভ্র রোদকে কই নিয়ে গেলো। কোনো কিছু তার মাথায় ডুকছে না, কি করবে না, না করবে,
বিকাল : ৫:০০
ছাদের উপড়ে দাঁড়িয়ে আছে রোদ, পশ্চিম আকাশে সূর্য ডলে পড়েছে, এখনি অস্তে যাবে।আজকের মত বিদায় নিবে সূর্য মামা, আবার একটা নতুন সকালের সূচনা নিয়ে উঠবে।
রোদের খুব কষ্ট হচ্ছে, জীবন তাকে সবার কাছ থেকে অবহেলা, অপমান কষ্ট ছাড়া কিচ্ছু দেইনি। তার জীবনে যদি নতুন একটা সকালের সূচনা হতো। কোনো দুঃখ কষ্ট যদি না থাকতো। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে রোদ।
মনে পড়ে যায় ছোট বেলার কিছু কথা।
যখন শুভ্রের সাথে প্রথমবার বিয়ে হয়েছিল। সে তখন বুঝেওনি বিয়ে মানে কি, সে তো তার শুভ্র ভাইয়ের সাথে পুতুল বিয়ে পুতুল বিয়ে খেলছিলো।
বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ১৪
কিন্তু যখন বুঝতে পেয়েছে। স্বামী শব্দ শুধু একটা শব্দ না, একটা মেয়ের ভালো থাকা খারাপ থাকা সব এই স্বামী নামক মানুষ টার উপর নির্ভর থাকে। একটা মেয়ের সব সুখ দুঃখ তার স্বামীকে ঘিড়ে থাকে।
দিনের পর দিন, রাতের পর রাত তার স্বামী অপেক্ষা দিন কাটিয়েছে, তবে তার স্বামী কাছ থেকে অবহেলা অপমান আঘাত ছাড়া কিচ্ছু পাইনি।
ফুপিয়ে কেঁদে উঠে রোদ, কাঁদতে কাঁদতে বলে,
রোদ: হে আল্লাহ আর কতো দিন অপেক্ষা করলে, একটা ভালো দিন আসবে, আমার
রাত: ১২:৩০
রোদ জোরে চিৎকার করে কান্না করে উঠে,,
