Home বাঁধনহারা প্রেম বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৮ (৪)

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৮ (৪)

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৮ (৪)
shanta moni

“সকাল ৮ টা,
_পুড়ো বাড়ি সাজানো হচ্ছে। বিকালে মেহেন্দি অনুষ্ঠান। তাঁরপর কালকে গায়ে হলুদ। ছেলে, মেয়ে সবাই আলাদা আলাদা গায়ে হলুদ দেওয়া হবে। ছেলে পক্ষ মেয়ে পক্ষ আলাদা আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। শুভ্র,অয়ন,রোমান,নিলয়, অহনার হাসবেন্ড। শুভ্রদের দাদার পুড়ানো বাড়ির পাশে আর একটা বাড়ি রয়েছে। আর সেখান থেকে তাদের বিয়ের সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। হেনা বেগম সবাইকে নিয়ে সকাল সকাল সেই বাড়িতে চলে গেছে৷ যতদিন বিয়ে না, শেষ হচ্ছে। ততদিন সব ছেলেরা এই বাড়িতে থাকবে। বাড়ির সামনে গার্ডেনে খুব সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে।

কিছুক্ষণ আগেই ঘুম থেকে উঠেছে রোদ। বাড়িতে অনেক বেহমান। আসে পাশে মানুষের আনাঘোনা। জুঁই, রুহি অনেক আগেই উঠছে। রোদের ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেছে।
এইদিকে শুভ্র ভিষন বিরক্ত, তাকে কোন নিয়মে বেঁধে রেখেছে। তার বিয়ে করা বউয়ের কাছে কেউ তাকে যেতে দিচ্ছে না। আর বউটাও হয়েছে ভারি বজ্জাত। এই দিকে যে জামাই তার বিরহে পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। সেটা তার বউ দেখছে না। শুভ্রের রাত থেকেই মেজাজ চটে আছে। এক তলা বাড়ির সামনে গার্ডেন দাঁড়িয়ে ফোন টিঁপছে। আপাতত ফোন টিঁপা ছাড়া কোনো কাজ সে দেখছে না।
_আসে পাশে কিছু লোকজন বাড়ি সাজাচ্ছে। শুভ্র অনেক বার রোদকে খোঁজার চেষ্টা করেছে৷ কিন্তু এই মেয়েকে আসে পাশে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
বাড়ির এক পাশে গায়ে হলুদের স্টেজ সাজানো হচ্ছে৷ শুভ্র হাতে থাকা ফোনটা নিজের পকেটে রেখে। বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসে৷
রাত প্রায় আটটা,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

_বাড়ির সব মেয়েরা এক সাথে বসে মেহেদী পড়ছে। রোদ, রুহি, অহনা, গায়ে সবুজ রঙের লেহেঙ্গা। হালকা সাজে তিন জনকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
_এইদিকে ছেলেদের সবাই মেহেদী দিয়ে দিচ্ছে নিলয়। হেনা বেগমের কাছ থেকে মেহেদী দিয়ে দেওয়া দায়িত্ব নিয়েছে। রোমান, অহনার হাসবেন্ড, সবার হাতে মেহেদী এক রকম লিপে লিপে দিচ্ছে ইউটিউব দেখে। আসে পাশে সবাই চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। শুভ্র এক পাশে চেয়ারে চোখ মুখ শক্ত করে বসে আছে । এইদিকে নিলয়ের মেহেদী পড়াতে গিয়ে বেহাল অবস্থা। রোমানের তো মনে হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক হবে। কোনো মতে নিলয়ের কাছ থেকে ছাড়া পায়৷ তাহলে আর মেহেদী পড়তে বসবে না৷ সবাই মেহেদী পড়তে রাজি হলেও শুভ্রকে কোনো মতে মেহেদী দিতে রাজি করাতে পারেনি কেউ।

_আমাদের স্পেশাল মেহেদী আর্টিস নিলয় মেহেদী দেওয়া শেষ করে। নিজেই নিজের বাহবা দিতে থাকে। এইদিকে সবার সামনে বড় মুখ করে বলেছে। তাদের বিয়ের আয়োজন তারা ছেলেরাই করতে পারবে। মেয়েদের দরকার নেই। তাই কাউকে কিছু বলতেও পারছে না।
_দুই হাতে মেহেদী পড়ে নিজের রুমে গিয়ে, নীলাকে দিয়ে শুভ্রকে ফোন দেয় রোদ। ফোনের শব্দ পেয়ে দেখে রোদের ভিডিও কল। প্রথম বার কল বাজতে বাজতে কেটে যায়। পড়ে আবার দিলে রিসিভ করে। ধমকে যায় শুভ্র, সব কিছু যেনো স্তদ্ব হয়ে গেছে। ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ফোনের দিকে৷ দুই হাতে মেহেদী পড়নে সবুজ রঙের লেহেঙ্গা। সাথে হালকা সাজ, অসম্ভব সুন্দর লাগছে রোদকে। শুভ্র আনমনে স্পষ্ট স্বরে বলে উঠে।
শুভ্র: মাশআল্লাহ! অসম্ভব সুন্দর লাগছে আমার ছোট ফুলকে।

_রোদ লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে। শুভ্র ফোন নিয়ে বসা থেকে উঠে অন্য দিকে যায়। শুভ্র ফোনের দিকে তাকিয়ে নেশালো কন্ঠে বলে উঠে।
শুভ্র: আপনার অভাবে একজনের হৃদয় পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাচ্ছে ম্যাডাম। আপনি কি সেই খবর রাখেন।
_রোদ লজ্জায় আরষ্ঠ হয়ে, নত স্বরে বলে।
রোদ: প্লিজ চুপ করুন!”
_শুভ্র রোদের লজ্জা মাখা মুখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাঁসে তাঁরপর বলে।
শুভ্র: ম্যাডাম আমাকে যে দূর থেকে এইভাবে পোড়াচ্ছেন। এটা কিন্তু ঠিক না। আমি যদি একবার হাতের নাগালে পাই, তো আমি আপনাকে ছাড়ছি না ম্যাডাম।

_রোদ আর কোনো কিছুই বলতে পারেনা। লজ্জায় কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বেড় হচ্ছে। শুভ্রের ফোন কেটে জোরে জোরে শ্বাস ফেলে। আর বিড়বিড় করে বলে।
রোদ: দিন দিন, ভারি অসভ্য হয়ে যাচ্ছেন আপনি।
এইদিকে রুহি দুই হাতে মেহেদী দিয়ে, বাড়ির পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। রোমান এসে রুহি কাছে দাঁড়ায়। রোমান রুহির দিকে কেমন করে যেনো তাকিয়ে আছে। রোমানের এমন ঘোর লাগা দৃষ্টিতে রুহি মাথা নিচু করে ফেলে। রোমান রুহির দিকে এগিয়ে দুই হাতে মেহেদী দেওয়া, হাত গুলো খুব ভালো ভাবে পর্যবেক্ষন করে। হাতে সুন্দর করে রোমানের নামে মেহেদী পড়েছে রুহি।

_রোমান রুহির হাতে দিকে তাকিয়ে আছে। রুহি তখন রোমানকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে।
রুহি: আপনার নামে মেহেদী পড়েছি গায়ক সাহেব৷ এখন সুধু লাল শাড়ি পড়ে বউ সাজা বাকি।
রোমান রুহিকে যত দেখছে ততই ক্ষনে ক্ষনে প্রেমে পড়ছে। রোমান রুহির দিকে তাকিয়ে বলে উঠে৷
রোমান: শোনো মেয়ে এতোটা পাগল করোনা, আমায়! তোমার এই শ্যামবর্ন রুপ আমায় পাগল করে দিচ্ছে। এই রুপে আমার মরন নিশ্চিত।
রুহি বিচলিত হয়ে বলে উঠে।
রুহি: প্লিজ মরা কথা বলবেন না।
আপনার সাথে এখনো আমার সংসার করা বাকি৷ তাই এখন মরা যাবে না।
যে করেই হোক বেঁচে থাকতে হবে।

_রোমান রুহির কথায় মুচকি হাঁসে।
রুহির দিকে এগিয়ে এসে কপালে আলতো চুমু খেয়ে, বলে উঠে।
রোমান: হুম, ঠিক বলেছো। এতো তাড়াতাড়ি মরা যাবেনা।
_রোমানের কথা রুহিও হাঁসে৷
_রাত ১২ টা

গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান কিছুক্ষণ আগেই শেষ হয়েছে। কালকে বিয়ে বাড়ির,
রোদ নিজের রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়ে। কালকে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে হবে। এইদিকে রুহি নিজের রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে, মিরোরের আয়না নিজের চুল ঠিক করে। এক নজর ঘড়ির দিকে তাকায়। তাঁরপর বেড সাইড টেবিল থেকে ফোন নিয়ে রুম থেকে ধীরে পায়ে বেড়িয়ে যায়। বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে বেড় হয়। চারদিকে চাঁদের আলোয় সবটা পরিস্কার দেখা যাচ্ছে। যার জন্য রুহি ফোনের লাইট অন না করেই, ধীর পায়ে সামনে দিকে এগিয়ে যায়। চারদিকে ঝোঁপ ঝাঁড়, কেমন যেনো গা জম জমে পরিবেশ। রুহি আসে পাশে তাকায় কোথাও রোমান নেই। রোমান রুহিকে বাসার পিছন দিকে আসতে বলেছিল, দেখা করবে বলে। কিন্তু রুহি রোমানে কোথাও না দেখে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি থেতে জঙ্গলের কিছুটা ভিতরে চলে যায়। হাঁটতে হাঁটতে সামনে যেতেই কিছুর শব্দ পা থেমে যায়। ভয়ে জড়সড় হয়ে এক যায়গা দাঁড়ায়। রুহির কেনো জানি মনে হচ্ছে আসে পাশে কেউ আছে।
রুহি একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। তখনি রুহির থেকে কিছুটা সামনে টর্চ লাইটের আপছা আলোয় চেনা পরিচয় কয় একজনের মুখ ভেসে ওঠে।

রুহির কপাল কুচকে যায়। এতো রাতে হাঁসি বেগম, রিয়া, রাসেদ, সাথে আরো কিছু লোক। এদের এইভাবে দেখে সন্দেহ দানা মনে বাঁধে। তখনি হাঁসি বেগম রেগে বলে উঠে।
হাঁসি বেগম: এই শুভ্রকে যে করেই হোক আমাদের রাস্তা থেকে সরাতে হবে। এই শুভ্রের জন্য আমরা রোদের কিছু করতে পারছি না।
_রিয়া হাঁসি বেগমের কথায় সম্মতি জানায়। হাঁসি বেগম আবার বলে উঠে।
হাঁসি বেগম: আমি আর ওদের এই সুখ দেখতে পারছিনা। আর পারছিনা।
শুভ্রের মাকে যে ভাবে মেরেছিলাম। শুভ্রকেও সেই ভাবে মেরে ফেলবো।
_রুহি ভয়ে নিজের মুখ চেঁপে ধরে। চেনা মানুষের এই অচেনা রুপ সে যেনো মানতে পারছে না। রাশেদ রাগে গজগজ করে বলে উঠে।
রাশেদ: অনেক হয়েছে শুভ্র শুভ্র, এই শুভ্রের গল্প এবার শেষ করতে হবে।

_রাশেদের কথার মাঝেই,রিয়া বলে উঠে।
রিয়া: সে আসবে কখন? আমি আর ওয়েট করতে পারছিনা।
হাঁসি বেগম: এখনি এসে পড়বে।
রুহি অবাক হয়, সব সত্যি জেনে, তার হাত পা থর থর করে কাঁপছে। রুহি মনে মনে বলে উঠে।
রুহি: তার মানে আমার মাকে এরা সবাই মিলে চক্রান্ত করে খুন করে। নির্দোষ রোদকে ফাঁসিয়ে, শুভ্রকে ভুল বুঝিয়ে এতো বছর ধরে দূর রেখেছে।
_রুহির কান্না যেনো আরো বেড়ে যায়।
সামনে তার ভাই, আর রোদের বড় বিপদ সেটা সে ভালো ভাবেই বুঝতে পারছে।
এর মধ্যে সবার সামনে একজন হুডি পড়া, লোক হাজির হয়। মুখটা ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। সবাই মিলে সব কিছু আলোচনা করছে। এইদিকে রুহি আড়াল থেকে সব ভিডিও করছে। এমন সময় ফোনে রিংটোং শব্দ হয়। রোমান কল করছে। রুহি তাড়াহুড়ো করে ফোনটা চেঁপে ধরে। কিন্তু রিংটোন থামছে না। অন্ধকার আচ্ছন্ন নিরব যায়গা ফোনের রিংটোন শব্দ পেয়ে সবাই ভয় পেয়ে যায়। আসে পাশে দেখতে থাকে, হুডি পড়া লোকটা সর্তক হয়ে বলে।
“আমাদের আসে পাশে কেউ আছে। তাড়াতাড়ি ধরো, রাশেদ।

_রুহি ভয় পেয়ে যায়। গাছের আড়াল থেকে বেড় হয়ে দৌড়ে চলে যেতে নেয়। কিন্তু পায়ের সাথে গাছের লতাপাতা বেজে নিচে পড়ে যায়। সাথে সাথে রাশেদ এসে রুহিকে ধরে ফেলে। হাঁসি বেগম, রিয়া, হুডি পড়া লোকটাও আসে। রুহির হাতে থাকা ফোনটা কিছুটা দূরে পড়ে যায়। রুহিকে দেখে সবাই অবাক হয়।
রুহি দুই হাত শক্ত করে ধরে আছে রাশেদ। হাঁসি বেগম রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছে। রুহি নিজেকে ছাড়ানোর জন্য পোঁচড়া মুচড়ি করছে। কিন্তু কোনো ভাবেই ছাড়তে পাড়ছে না। রুহি বলে উঠে।
রুহি: ছাড়ুন আমাকে, আপনাদের এই নিকৃষ্ট রুপ বাড়ির সবাইকে জানাবো আমি।
রাশেদ: চুপ থাক তুই, আগে নিজেকে বাঁচা,তাঁরপর আমাদের কথা ভাবিস।
রুহি: তোরা সবাই মিলে আমার মাকে মেরেছিস। আমি তোদের কাউকে ছাড়বো না। কাউকে না।
রুহির কথায়, সবাই অট্টহাঁসিতে ফেঁটে পড়ে। রুহি সবার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। আপন মানুষ গুলোর এমন রুপ মেনে নিতে পারছে না।

রুহি রাশেদ হাতে কামড় বসায়, রাশেদ ব্যথায় হাত ধরে কুকিয়ে উঠে। কিছু দূড়ে দৌড়ে যেতেই রাশেদ গিয়ে রুহিকে ধরে পড়াপড় চার টা থাপ্পড় মারে। পাশে হাঁসি বেগম রিয়া দাঁড়িয়ে দেখছে। রিয়া মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে আছে। রাশেদ গিয়ে রিয়ার চুল গুলো শব্দ করে চেঁপে ধরে বলে উঠে।
রাশেদ: আমাকে আঘাত করিস। এতো সাহস তোর। তোকে তো আমি..
রুহি: তোমাদের কাউকে ছাড়বে না, ভাইয়া। তোমরা আমার মাকে খুন করেছো। কাউকে ছাড়বে না। শেষ করে ফেলবে।

_হুডি পড়া লোকটা রুহি পায়ের উপর নিজের জুতো মিষে ধরে। রাগে শক্ত কন্ঠ বলে উঠে৷
_শুভ্রের গল্প সারা জীবনের মতো শেষ করে দিব, আমি।
_রুহি হুডি ওয়ালা লোকটার দিকে তাকিয়ে বলে উঠে
রুহি: কে আপনি? কেনো এমন করছেন আমাদের সাথে।
হাঁসি বেগমের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে
রুহি: মেজো মা, কেনো এমন করলে? কি এমন করেছিল, আমার আম্মু। মেজো মা।
_রুহি কথায় হাঁসি বেগম রাশেদ দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।
হাঁসি বেগম: রাশেদ এর ঘ্যান ঘ্যান আর সহ্য হচ্ছে না। এর গল্প তাড়াতাড়ি শেষ কর। এ যদি বেঁচে থাকে তো আমাদের এতো বছরের খেলা শেষ।

_রাশেদ রুহির দিকে লালসা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠে।
রাশেদ: শেষ তো করবোই, তবে এতো সুন্দর কচি শরীরে স্বাদ নিয়ে দেখি একটু।
_রাশেদ কথায় রুহি ঘৃণায় অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। রাশেদ রুহির গাল ধরতেই রুহি মুখের থু থু দেয়।
রাশেদ আবার থাপ্পড় দিয়ে চুলের মুঠি ধরে রাগে রি রি করতে করতে বলে।
রাশেদ: শা*লি তোর অনেক তেজ নাহ, আজ তোর সব তেজ শেষ করবো।
রুহি: জা*নোয়ার একবার যদি আমার ভাই জানতে পারে তো, তোরা কেউ বেঁচে থাকবি না।
_রাশেদ রাগ যেনো কয়এক গুন বেড়ে যায়। হুডি পড়া লোকটা রাশেদ দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।
_এনজয় শুধু তুমিই করবে। আমাকে একটু ভাগ দাও।

_রুহি ভয়ে এবার চিৎকার করে। নিজের স্বতীত্ব হারাবার ভয়ে ডুকরে কেঁদে উঠে।
রাশেদকে নিজের থেকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে উঠে পালাতে যায়। তখনি হুডি পড়া লোকটা ধরে ফেলে। রুহি হুডি পড়া লোকটাকে ধাক্কা দেয়৷ কিন্তু রাশেদও এসে রুহিকে ধরে ফেলে।
_রাশেদ রুহিকে টেনে জঙ্গলের ভিতরে দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
রুহির হাত বাঁধা চিৎকার করছে, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না। রাশেদ রাগে ফুসতে ফুসতে বলে।
রাশেদ: তোর তেজ আমি দেখবো, শা*লি।
রুহি কাঁদতে কাঁদতে করুন স্বরে বলে।

রুহি: আমাকে ছেড়ে দিন ভাইয়া। এতো বড় পাপ করবেন না।
রাশেদ অট্টহাঁসিতে ফেঁটে পড়ে, রুহি কান্নার বেগ আরো বাড়ে, রুহি হাত বাঁধা অবস্থায় রাশেদ পায়ের কাছে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠে।
রুহি: আমাকে মেরে ফেলুন প্লিজ। কিন্তু আমার স্বতিত্ব নষ্ট করবেন না প্লিজ।
রাশেদ রুহির চুল চেঁপে ধরে বলে উঠে
রাশেদ: আজ তোর কোনো কথায় কাজ হবে না। তুই তোর স্বতিত্ব হাড়াবি, জীবনও হারাবি৷
রুহিকে আবার টেনে নিয়ে যাচ্ছে। মাটি দিয়ে টানতে টানতে। রুহি হাঁসি বেগমের দিকে তাকায় তারপর বলে উঠে।
রুহি: মেজো মা, মেজো তুমি আমাকে বাঁচাও মেজো মা। মেজো মা আমার গায়ে কলঙ্কের দাগ লাগতে দিওনা মেজো মা। তুমিও তো একটা মেয়ে, আমাকে কলঙ্কিত হইতে দিওনা।

_হাঁসি বেগম রিয়ার মুখে কোনো পরিবর্তন নেই। তারা নিরব দর্শক,
রুহি আবার কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠে।
রুহি: রিয়া আপু, আমাকে বাঁচাও প্লিজ। আমাকে বাঁচাও আপু, আমার সাথে এতো বড় পাপ তোমরা করো না।
_রিয়া কিছু বলছে না, তাদের দেখে মনে হচ্ছে রুহির এমন অবস্থা তাদের ভালো মজা নিচ্ছে।

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৮ (৩)

_রুহি কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠে।
রুহি: আমাকে তোমরা মেরে ফেলো। তাঁরপর আমার শরীরে তোমাদের নোংরা স্পর্শ দিও না।
_গায়ক সাহেব কোথায় আপনি, আপনার শ্যামাবতীকে নোংরা করতে চাচ্ছে৷ প্লিজ তাড়াতাড়ি চলে আসুন।

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৯