বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৪৯
অলকানন্দা ঐন্দ্রি
মিথির সাথে হিমেলের তিন কবুলের হালাল সম্পর্কটার বয়স পেরিয়েছে প্রায় তিনমাসের ও বেশি। মিথি পুরোপুরি সুস্থ হয়েছে বহুদিন হলো। তবুও হিমেলের সাথে একই বাসায়, একই ছাদের নিচেই ও অবস্থানরত। অবস্থান পাল্টায়নি হিমেলের একপাক্ষিক ভালোবাসার মানুষটা। অবশ্য হিমেল দিত ও না এই অবাধ্য কাজটা করতে দিতে। যে হিমেলকে মিথি এতদিন বুঝিয়েও বুঝাতে পারল না সে হিমেল ঐ মানুষটাকে পাওয়ার পর যেতে দিত? এইটুকু ভেবেই হিমেল ছোটশ্বাস ফেলে হাসল। আকাশের দিকে চেয়ে বুকভরা প্রশান্তি নিয়ে বিড়বিড় করল
“ মিথিফুল, ভালোবাসা না পাই। আপসোস নেই। কিন্তু এই যে তোকে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি, কথা হচ্ছে, যত্নে ভালোবাসায় আগলে রাখতে পারছি এইটুকুই চেয়েছিলাম আমি। এইটুকুই শান্তি, সুখ! ”
এইটুকু বলেই ফের হাসল। তখন সকাল ছয়টা কি সাতটা হবে হয়তো। ঘুম থেকে উঠেই বেলকনিতে গিয়ে এসব ভাবছিল হিমেল। অতঃপর একটা সময়ে রান্না ঘর থেকে আওয়াজ ভেসে এল। নির্ঘাত মিথি রান্না করছে। একটু পরই টিউশনির জন্য ছুটবে আবার। হিমেল ততোটা সময়ে গোসল সেরে নিল। টিশার্ট, টাউজার শরীরে জড়িয়ে চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে মুঁছেই রুম ছেড়ে বের হলো। মিষ্টি বোধহয় ঘুম ছেড়ে উঠেনি।এদিক ওদিক তাকিয়ে একবার রান্নাঘরে উঁকি দিল সে। মিথিকে দেখেই গলা ঝেড়ে বলল,
“ মিষ্টি উঠেনি? ”
মিথি ডিম ভাজছিল। নামাতে নামাতেই বলল,
“ ঘুমাচ্ছে। আপনার সাথে থেকে তো কাল অনেক পরে ঘুমাল। ”
হিমেল ভ্রু কুঁচকে বলে উঠল,
“ আমার সাথে থেকে? ”
“ তো ও কান্না করার পর আপনিই তো ওকে নিয়ে বের হলেন। ঘুরে ফিরে রাত সাড়ে দশটায় বাসায় ফিরলেন দুইজনে। ”
মিষ্টি সামান্য কোন কারণেই কাল রাতে জেদ ধরেছিল। কেঁদেছিল প্রায় অনেকটা সময়। অবশেষে কান্না থামাতে হিমেল মিষ্টিকে নিয়ে বাইরে বের হয়েছিল। এটা ক্ষতি হলো? হিমেল কপাল কুঁচকে বলল,
“ তো তোর মতো ঘরে নিয়ে বসে থাকলে ওর কান্না থামত? ”
“ থেমে যেত একটু পর। বাচ্চারা তেমন একটুআধটু জেদ করেই। সব জেদ পূরণ করতে নেই। ”
হিমেল শুনল। মিথি ততক্ষনে তার দিকে ফিরেছে। ভেজা চুলে স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে হিমেল ভাইকে। শান্ত গলায় বলল,
“ শুনুন হিমেল ভাই? আমায় এবং মিষ্টিকে এত যত্ন করার প্রয়োজন নেই। এতোটা যত্ন দেখাবেন না। অভ্যস্ত হয়ে যাব পরে। ”
হিমেল শুনল। উত্তরে ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
“ তুই? অভ্যস্ত হবি? সম্ভব এটা মিথি? ”
মিথি হাসল এবারে। বলে,
“ দিনশেষে আমিও মানুষ। আমি চাই না অভ্যস্ত হতে তবুও একটা বিষয় রোজ রোজ হতে থাকলে তা এমনিতেই মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয় হিমেল ভাই। আর অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেলে সে অভ্যাসটা পাল্টানো কঠিন হয়ে যায়। ”
“ অভ্যাস হয়ে গেলে পাল্টানোর প্রয়োজন কি? ”
মিথি এবারে আর উত্তর দিল না। নিশ্চুপে প্লেটের খাবার তুলে নিয়ে পা চালিয়ে যেতে যেতে বলল,
“ আপনার নাস্তাটা টেবিলে নিচ্ছি হিমেল ভাই। ”
হিমেল পিছুপিছু এল। বসে বলল,
“ তুই? ”
“ টিউশনি থেকে এসে খেয়ে নিব। খালা আসবে একটু পর। ”
“ এত চাপ নিতে হবে কেন? টিউশনি না করালে কি তোর খুব ক্ষতি হয়ে যাবে নাকি?”
” অবশ্যই হয়ে যাবে। ”
হিমেল গম্ভীর গলায় বলল,
“ হবে না, তুই মিষ্টিকে টাইম দে। বাকিটা আমি সামলে নিব। ”
“ আপনার সাথে একই বাসায় থাকছি মানে তো এই নয় যে আমার জীবনটা আপনার উপর চাপিয়ে দিব হিমেল ভাই। আমার বাচ্চা, আর আমাকে চালিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টাটাতো আমাকেই করতে হবে। এমনিতেও হসপিটালের বিলগুলো সহ আপনি অনেক টাকা পাবেন আমার কাছে। ”
হিমেল রাগ হলো শেষ কথাটায় এসে। মুখচোখ কেমন গম্ভীর দেখাল যেন। ভ্রু জোড়া কুঁচকে নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ল,
“ হু তো? এখন টাকা গুলো পরিশোধ করবি নাকি? ”
এইটুকু বলেই উঠে দাঁড়াল সে। খাবারটুকু মুখেও তুলেনি। ফের বলল,
“ মিথি, আমি মানুষটা তোর কাছে যতোটা নিচে নেমেছি আর কারোর কাছে নামিনি। আর কারোর কাছে নিজেকে এতোটা ছোট করিনি।এমন কি আমার বন্ধু আয়মানও আমায় যথেষ্ট গম্ভীর হিসেবেই জানে।আর তুই? তুই কি ভাবিস আমায়? আমি মিথ্যে মিথ্যে দেখাই সব? সন্দেহ হয় তোর আমার অনুভূতি নিয়ে? টাকা দিয়ে ভালোবাসার অঙ্ক গুনছিস তুই? ”
মিথি পুরোটাই শুনল। সাথে হিমেল মুখের ভাবও লক্ষ্য করল। মনে মনে আওড়াল,
“ অনুভূতি নিয়ে সন্দেহ করার সুযোগই রাখেননি হিমেল ভাই। বরং এই অনুভূতি গুলো দেখিয়ে আমায় জড়িয়ে ফেলছেন এসবে। আমি জড়াতে চাইছি না, তবুও জড়িয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এটা তো উচিত না। ”
মুখে বলল,
“ না! ”
“ তাহলে? বিশ্বাস করে উঠতে পারছিস না আমায়? কোন দোষে? ”
মিথি এবারও ছোটশ্বাস ফেলে। মনে মনে আওড়ায়,
“এই মুহুর্তে এসে আমি যদি কাউকে খুব বেশি বিশ্বাস করি তবে সেটা আপনি৷ চোখ বুঝেই বিশ্বাস করি আপনাকে হিমেল ভাই। অথচ..”
মুখে ঠান্ডা গলায় বলল,
“ কোন দোষ নেই, আপনাকে আমি বিশ্বাস করি হিমেল ভাই। ”
হিমেল তাচ্ছিল্য নিয়ে হাসল। বলল,
“ মনে হয় না। ”
হিমেল সেই যে সকালে বের হলো এখন রাত সাড়ে এগারোটা। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে বেশ। অথচ হিমেলের ফেরার নাম নেই। এতোটা দেরি এই তিনমাসে হিমেল কখনো করেনি। সবসময়ই তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরেছে। অথচ আজ ফেরার নাম নেই। খালার কাছে শুনেছে দিনে দুইবার কল দিয়ে মিষ্টির সাথে বকবক করেছে। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকেই মিথি যে এতগুলো কল দিল একবারও কল তুলল না হিমেল। একবারও না। মিথির চিন্তা হচ্ছে। এতোটা সময় শান্ত থাকলেও এখন অস্থিরতা অনুভব করছে। অথচ কল করে খোঁজ নেওয়ার মতো ও তো কেউ নেই। মিথি বিড়বিড় করল কেবল,
“ হিমেল ভাই, আমি কেন অস্থির হচ্ছি? এমন কেন লাগছে আমার? আপনি আমাকে অভ্যস্ত করে ফেলছেন। আপনি নামক মানুষটায় আমাকে অভ্যস্ত করে ফেলছেন দিনের পর দিন। এর থেকে বাঁচার উপায় কি হবে?যদি পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে যাই তখন?”
এইটুকু বলেই হাঁসফাঁস করল সে।শেষে উপায়ন্তর না পেয়ে মিথি আয়মানকেই কল দিল। কল তুলতেই জানাল,
“ আয়মান ভাই, কোথায় আছেন? হিমেল ভাই কোথায় জানেন? ”
মিথির কন্ঠে স্পষ্টই অস্থিরতা টের পাওয়া গেল যেন। অথচ অস্থিরতাকে গুরুত্ব না দিয়ে উত্তর এল,
“ আমি তো বাসায় মিথি, হিমেল কোথায় তা তো জানি না। কেন? কিছু হয়েছে মিথি? ”
মিথি ভেবেছিল আয়মানের সাথে থাকবে হিমেল। অথবা আয়মানের থেকে কোন উত্তর পাবে। অথচ পেল না। হতাশ হয়ে বলল,
“ না, কিছু হয়নি। ”
এইটুকু বলেই কল রাখল। অস্থিরতা নিয়েই পায়চারি করছিল আর কল দিচ্ছিল হিমেলকে। সিঁড়িতে কারোর পায়ের আওয়াজ হলেই একটু পর পর দরজা খুলে দেখছিল হিমেল এসেছে কিনা।অথচ সে হিমেল আরো প্রায় একঘন্টা পর এল। ধীরে সুস্থে কলিংবেল বাজাল। মিথি এক মুহুর্তও দেরি করল না। দরজা খুলেই হিমেলকে দেখে প্রথমেই বলল,
“ এত দেরি?এতোটা সময় কোথায় ছিলেন হিমেল ভাই? ”
হিমেলের শরীর ভেজা। শার্টটা লেপ্টে আছে শরীরে। সে ভেজা শরীর নিয়েই বাসায় পা রেখে সে বলল,
“ এত তাড়াতাড়ি দরজা খুললি? দরজার পাশেই বসে ছিলি নাকি? ”
মিথি উত্তর না করে আবারও জিজ্ঞেস করল,
“ এতোটা সময় লাগল আপনার? কোথায় ছিলেন?”
“ কেন? হঠাৎ খোঁজ করছিস যে?”
এই প্রশ্নটায় এসে মিথি আটকে গেল। একটু আগে যে টানটান মুখশ্রী প্রদর্শন করল তা শিথিল করে উত্তর দিল,
“ এমনিই, অন্যদিন আরো তাড়াতাড়ি ফিরেন। তাই।”
হিমেল হাসল। ভ্রু নাচিয়ে বলল,
“ তাই খোঁজ করছিলি? নাকি কৌতুহল? ”
“ যাই ভাবুন। কিন্তু এরপর থেকে দেরিতে বাসায় ফিরলে জানাবেন, কল তুলবেন। এতবার কল দিয়েছি অথচ ফোনই তুলেননি। ”
“ খেয়াল করিনি। ”
মিথির এমনিতেই রাগ হচ্ছিল। তার উপর এই উত্তর শুনে আরো রাগ হলো। পকেটে ফোন, অথচ খেয়াল করেনি? বলল,
“ ভালো করেছেন।”
হিমেল হাসল। যেতে যেতে বলল,
“ আমার এই প্রথম মনে হলো যে আমরা সত্যি সত্যিই সংসার করছি মিথি। অন্তত দেরি করে ফিরলে কেউ বিয়ে করা বউ এর মতো জানতে চাইছে যে কোথায় ছিলাম। নাক মুখ কুঁচকে রাগ দেখাচ্ছে। এবং আমি ভুল নাহলে এতোটা সময় চিন্তাও করেছে আমার জন্য। ”
“ একটা পোষা প্রাণী ও একটা দিন ঠিক সময়ে নীড়ে না ফিরলে প্রাণীটার মালিক চিন্তা করে হিমেল ভাই। আর আপনি তো জলজ্যান্ত মানুষ। চিন্তা হওয়াটা অনুচিত নয় নিশ্চয়? ”
হিমেল ঘাড় ঘুরাল। ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
“ সত্যি সত্যিই চিন্তা করছিলি? ”
“ ফ্রেশ হয়ে নিন গিয়ে। খাবার বাড়ছি।”
“ লাগবে না। ”
“ কেন? ”
“ সাবিহাদের বাড়ি গিয়েছিলাম। ”
মিথির রাগ এবার সত্যিই ঠান্ডা হয়ে গেল। হুট করেই মনে হলো সে অনাধিকার চর্চা করে ফেলতে যাচ্ছিল। রাগ? রাগ কেন হচ্ছিল তার হিমেল ভাই ফোন তোলেনি বলে? আশ্চর্য! সাবিহাদের বাড়ি গিয়েছে এটা শুনেও বা কেমন একটা লাগল কেন তার? কিসব হচ্ছে মিথির সাথে? এতোটা অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে কেন ও? একটা মানুষের সাথে থেকে থেকে সে মানুষটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে না? এখন যদি হিমেল ভাই বলে সাবিহার কাছে ফিরতে চায় কষ্ট টা তো মিথিরই হবে। তার চেয়ে অভ্যাস না হোক এই মানুষটা। শান্ত গলায় বলল,
“ ওহ। ”
“ জিজ্ঞেস করবি না কেন? ”
“ না। ”
“ কেন? ”
“ আপনার একটা পার্সোনাল লাইফ আছে। সবকিছু জিজ্ঞেস করতে হবে বা জানতে হবে এমন তো নয়। ”
“ তুই আমার বিয়ে করা স্ত্রী, জানতে চাইতেই পারিস। অধিকার আছে তোর।”
মিথি হাসে। বলল,
“ আপনি জীবনে যা কিছুই করুন হিমেল ভাই, আমি কৈফিয়ত নিব না। সবকিছুর কৈফিয়ত নিতে হয় না। মানুষের ব্যাক্তিগত বিষয় থাকতে পারে। ”
হিমেল মিথির সামনে এল। উত্তর করল,
“ তুই আমার এতোটাও দূরের কেউ নোস মিথি। জিজ্ঞেস করলে উত্তর লুকিয়ে রাখতাম না আমি। সাবিহার জন্মদিন ছিল। ওখানেই গিয়েছি। ”
মিথি জানে না হিমেল নিজে থেকেই ব্যাখ্যাটা কেন দিল। হয়তো মিথির মনে নিজরর জায়গাটা পরিষ্কার রাখতে। হিমেল আবারও কিছু মনে পড়েছে ভঙ্গিতে হাতের ব্যাগটা উঁচিয়ে ধরে বলল,
“ ওহ হ্যাঁ, সাবিহা তোর জন্য একটা শাড়ি দিয়েছে মিথি। ”
“ হু? ”
“ গিফ্ট। বিয়ের গিফ্ট বলল।”
মিথি নিল। নিজেকে স্বাভাবিক দেখিয়ে বলল,
“খেয়ে এসেছেন তাহলে?”
“ এসেছি। মিষ্টি কোথায়? ঘুম? ”
“হ্যাঁ, ঘুমিয়ে গেছে। ”
এর পরপরই হিমেল পা ঘুরাল। যেতে যেতে পকেট থেকে ফোন বের করল কারোর কল আসাতে। সঙ্গে সঙ্গেই রিসিভড করে বলল,
“ সাবিহা? বাসায় পৌঁছেছি মাত্র আমি।”
বিপরীতে ওপাশ থেকে কি বলল কিজানি হিমেল আবারও বলল,
“ না, চিন্তা করো না। ফিরেছি আমি। ভালো থেকো। ”
পরদিন হিমেল ঠিক সময়ই অফিস গেল। মিথিও টিউশনির জন্য বের হয়েছিল। ফিরেই দেখল বাসায় হিমেল ভাবী এসেছে।মিথিকে দেখেই হাসল। কোলে মিষ্টি। মিস্টিকে ওভাবে কোলে নিয়েই বলল,
“ দুইজনই বাইরে। এসে কখন থেকে বসে আছি জানো মিথি? ”
মিথি বুঝল না কেন এল। তবে ছোটশ্বাস ফেলে উত্তর করল,
“ ভালো আছেন ভাবী? ”
“ হ্যাঁ ভালোই। তো হিমেল কোথায়? ”
“অফিসে । ”
“ তুমি কেমন আছো নতুন সংসার নিয়ে? ”
মিথি তাকাল। অস্ফুট গলায় বলল,
“ হু? এইতো ভালো। ”
হিমেলের ভাবী হাসল। মিষ্টিকে আদর করে বলর উঠল,
“ মেয়েটা আর বাবাহীন থাকল না তাহলে বলো? মেয়ের জন্য হলেও হিমেলকে ব্যবহার করে নিলে। যায় হোক, শুভকামনা তোমাদের জন্য। মনে হলো তোমাদের সাথে সম্পর্কটা ঠিক করে নেওয়া উচিত। আর কত? যে মানুষ নিজের ভালো বুঝে না তার ভালো কি আর অন্যরা তাকে বুঝিয়ে দিয়ে আসতে পারবে বলো? সেই বুঝুক তার জীবন,আমাদের কি। ”
মিথি চুপ হয়ে গেল। হাসিমুখে কি বুঝাতে চাইল তা বুঝতে অসুবিধে হলো না তার। হিমেলের ভাবী ফের আবারও বলল,
বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৪৮
“ বাবা ডাকে হিমেলকে?”
স্পষ্চ স্বরে উত্তর এল,
“ না।”
“ সেকি! যার জন্য বিয়েটা করলে, হিমেলকে হাতে আনলে সেটা এখনো করছো না?বাবা ডাক শেখাওনি এখনো? ওর এক বাবা মেনে নেয়নি, অপর বাবা তো মেনে নিয়েছে বলো? শিখিয়ে দিও বাবা বলা। ”
মিথির এই কথাটা খুব লাগল আত্মসম্মানে। তাকে নিয়ে বলা হলে তাও ঠিক ছিল, এখন তার মেয়েকে নিয়েও?এই যে এতদিন মিথিকে এতকিছি বলল ফোন দিয়ে মিথি কিছুই কাউকে বলেনি। শুধু চুপ করে সহ্য করেছে।কারণ প্রতিবাদ করেও লাভ কি? যারা বুঝে না তারা তে বুঝবেই না। মিথি ছোটশ্বাস ফেলল শুধু।
