বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ১৩
ইসরাত জাহান দ্যুতি
সবার কাছে অদ্ভুত লাগলেও দিলিশা অনেকটা সহজভাবেই দেখল। কেননা আমেরিকাতে বেড়ে ওঠায় পাশ্চাত্যের নানান সংস্কৃতিই বহন করে সে নিজেও৷ তবে একমাত্র দিব্যর কাছে লাগল মারিশার ভেপ টানার ভঙ্গিটা আকৃষ্টকর। ওর কাছে এগিয়ে এল সে। বাতাসে তখন ঘ্রাণ পেয়ে বুঝল‚ কোনো নিকোটিন টানছে না ও।
সে কৌতূহলী সুরে জিজ্ঞেস করল‚ “তুমি কি চেইন স্মোকার ছিলে? অভ্যাস ছাড়তে চেষ্টা করছ?”
মারিশা ফিরে তাকাল। শেষবারের মতো ধোঁয়া ছেড়ে জবাব দিল‚ “ভেপ ইউজ করলেই কি সে আগে চেইন স্মোকার থাকে?”
“তাহলে কী? ভেপ ইউজ করেই বা কেন?”
একটু চুপ থেকে উত্তর দিল মারিশা‚ “সোশ্যাল বা লাইট স্মোকার আমি। সেটাও অ্যাভোয়েড করতে ভেপ রাখি৷”
“কিন্তু ফ্রুটি ফ্লেভার মনে হচ্ছে। সিগারেটে অভ্যস্ত থাকলে এসব ফ্লেভারে অভ্যস্ত হওয়া যায়?”
“চাইলেই যায়৷ ফ্রুটি‚ ক্যান্ডি‚ চকোলেট‚ কফি‚ সবই ট্রাই করি আমি।”
“কেন যেন মনে হচ্ছে আরও কোনো কারণ আছে।”
“যদি থাকেও…”‚ গম্ভীরস্বরে বলল মারিশা‚ “সেটা আমি বলতে চাইছি না।”
বুঝতে পারার ভঙ্গিতে মাথাটা নাড়াল দিব্য। গতরাতে তার আচরণেই যে মারিশা হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেছে তার সঙ্গে‚ আর আশফিরও কিছুটা ভূমিকা আছে এতে‚ সেটাও বুঝতে পারছে দিব্য। কিন্তু এখানে তার আশফিকে কিছু বলার সুযোগও নেই। কেননা একটা ব্যাপার সে ভালো করেই ধরতে পেরেছে‚ ওদের সম্পর্কটা আর জোড়া না লাগলেও ওরা দুজন এখনো একজন আরেকজনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং যত্নশীল।
কিছুটা অবাকও হয় দিব্য এটা দেখে‚ মারিশা যেভাবে প্রতারণা করেছে আশফির সঙ্গে—এরপরও কী করে আশফি এতটা বিনম্র থাকতে পারে ওর প্রতি? এমনও তো কারণ দেখছে না যে‚ আশফি আবার ওকে গ্রহণ করতে চায় বলেই এখনো কোমল! তাহলে দুজনের এসব তামাশার মানে কী? হ্যাঁ‚ সম্পর্ক শেষ হওয়ার পরও দুজনের প্রতি দুজনের সম্মান থাকা‚ সহানভূতিশীল থাকা দিব্যর কাছে এসব তামাশাই। যে তামাশা দেখে খুব মেজাজ খারাপই লাগছে তার৷ তবে এই মেজাজ খারাপের মাঝেও মারিশাকে যত দেখছে আর জানছে‚ ততই আবার মুগ্ধও হচ্ছে।
উদাসীভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মারিশাকে দেখতে দেখতেই হঠাৎ সে বলল‚ “কেয়ার ফর আ সেলফি উইথি মি‚ মারিশা?”
মুচকি হেসে বলল তারপর‚ “লেক‚ সানরাইজ আর সাথে তুমি‚ আমার সেলফিটা একদম জমে যাবে।”
মারিশা মুখের ওপর না বলতেই যাবে‚ তখনই দেখল আশফিকে নিজের প্রিয় ক্যামেরাতে দিলিশার ছবি তুলতে ব্যস্ত। অথচ গতকাল ও যখন নিজের ফোন থেকেই তুলে দিতে বলেছিল তাকে‚ তার বদলে ওকে কীসব উলটা-পালটা কথা বলে চটিয়ে দিল। আর তুলেই দিল না!
একদম বাচ্চামো রাগ থেকেই মারিশা একটা নয়‚ হাসি মুখে গোটা পাঁচেক ছবি তুলল দিব্যর সঙ্গে৷ একটা ছবিতে দিব্য ওর কাঁধ জড়িয়ে ধরার অনুমতি চাইলে তাতেও আপত্তি করল না সে।
আশফি ছবি তুলছিল সূর্য রাগে রাঙা হওয়া আকাশ‚ লেক আর পাহাড় চূড়াকে কেন্দ্রবিন্দু করে। দিলিশা তখন সামনেই ছিল। তাই সে অনুরোধ রেখেছিল তারও একটা ছবি তুলতে৷ এজন্যই তার একটা ছবি তুলেছিল সে৷ তারপর আবার নিজের বিষয়বস্তুতেই ক্যামেরার দৃষ্টি স্থির করেছে৷ কিন্তু দূর থেকে দেখতে লাগছিল যেন দিলিশারই একটার পর একটা ছবি তুলছে সে।
ছবি তোলার মাঝে হঠাৎ সৌভিক এসে আশফির কাঁধে একটু ঠেলা দিল। আশফি বিরক্ত হয়ে তাকালে তখন ইশারায় সে মারিশা আর দিব্যকে দেখাল৷ ওদের অত ঘনিষ্ঠভাবে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে দেখেও আশফি কোনো অভিব্যক্তি প্রকাশ করল না। নির্বিকারভাবে চোখ রাখল ক্যামেরার লেন্সের দিকে।
তখন সৌভিক একটু অবাক হয়ে ফিসফিসয়ে বলল‚ “কাল দিব্যকে পানি পড়া খাওয়াসনি? কাজে তো লাগেনি দেখি।”
“খাওয়াইনি”‚ সংক্ষিপ্ত জবাবটা দেওয়ার পর কিছুক্ষণ চুপ থাকল আশফি৷ ছবিটা তুলে নিল ততক্ষণে৷
তারপর ছবিটা দেখতে দেখতে নির্বিকারস্বরেই বলল সৌভিককে‚ “ওকে কিছুই বলিনি রাতে৷ যাকে বলার ছিল তাকে বলেছি৷ বাকি সিদ্ধান্ত তার৷ আর দিব্যর মতো বহু বৃটিশ দিব্যকে সে হ্যান্ডেল করেছে বিশ বছরেই৷ এখন তো চব্বিশের যু্বতী৷ স্ট্রং বিজনেস উইম্যান। নিজের ভালো সে নিজেই বুঝে নেবে।”
তার কথাতে কিছুটা উষ্মা‚ কিছুটা অভিমান টের পেল সৌভিক৷ হাসল সে। দিলিশা কাছাকাছি থাকায় নিচুস্বরে বলল আশফিকে‚ “দিব্য যদি পটিয়ে ফেলে ওকে? তখনো কিছু বলবি না?”
“প্রশ্নই আসে না। যদি সেটা হয়ই‚ তাহলে বুঝবি ও চেয়েছে বলেই দিব্য ওকে পেয়েছে।”
সৌভিক আরও কিছু কথা জিজ্ঞেস করতে চাইছিল৷ কিন্তু এখন সুযোগটা নেই বলে কথা বাড়াল না৷ ওদিকে কফিশপে বসে পরাগ আর হৃদয় পেটপুরে নাশতা করতে ব্যস্ত। ওদের খেতে দেখে সৌভিক আর আশফিও বেশ ক্ষুধা অনুভব করল৷ তাই সেদিকে এগোতেই হঠাৎ ওদের সামনে পড়ল মারিশার ট্যাক্সি ড্রাইভার৷ মারিশাকেই খুঁজছিল লোকটা। আশফি তাকে দেখে ডাক দিলে সে এসে ছোটো একটা নোটবই ধরিয়ে দিল ওকে। জানাল‚ সিটের ওপর ফেলে এসেছে মারিশা অথবা দিব্যর মাঝে কেউ একজন।
সেটা হাতে নিয়ে খুলতেই আশফি বুঝল‚ নোটবইটা মারিশার৷ প্রথম পৃষ্ঠাতে নিজের মাতৃভাষাতে লেখা কিছু কথা। সৌভিক দেখে ভ্রু কুঁচকে বলল‚ “ডায়ারি লেখে না-কি?”
উত্তর দিল না আশফি। আরও দুটো পৃষ্ঠা উলটাল সে। সবই বর্তমানের তারিখে লেখা৷ অর্থাৎ নেপাল আসার পর থেকে লেখা হয়েছে। আশফি গতকালের তারিখের নিচে কিছু লাইন পেল। তবে তা ইংরেজিতে। ভদ্রতাজ্ঞান ছুড়ে ফেলে তুমুল আগ্রহ নিয়ে লেখাটা পড়তে শুরু করলেই দেখল সৌভিকও পড়ছে ওর সঙ্গে। চোখ ছোটো ছোটো করে তাকিয়ে একটা ধমক মারল তাকে‚ “কিরে‚ ম্যনার্স শিখিসনি? অন্যজনের ডায়ারি পড়ছিস কেন‚ হুঁ?”
বাঁকা চোখে চাইলো সৌভিক‚ “তাহলে তুই কী করছিস?”
“আমি আমার নাম দেখেছি তাই পড়ছি”‚ কপট গম্ভীর স্বরে জবাব দিল আশফি।
“আর আমি দিব্যর নাম দেখেছি‚ তাই দিব্যর হয়ে আমি পড়ছি।”
“হপ্! যা সর”‚ ধমকটা মেরেই হালকা ধাক্কাও দিল তাকে আশফি।
সৌভিক তখন চটাস করে একটা থাপ্পড় বসাল ওর পিঠের ওপর। জ্বলে যাওয়ার মতো অবস্থা হলো সেখানে৷ কিন্তু লেখাটা পড়তে হবে বলে কিছু বলল না আশফি আপাতত। কটমটে এক চাউনি ছুড়ে নিজেই দূরে সরে গেল।
সৌভিক আর বিরক্ত করল না৷ হাসতে হাসতে কফিশপে ঢুকল সে। আর আশফি পড়ে যা বুঝল‚ থামেল থেকে আসার পর এখন অবধি যা যা ঘটেছে‚ সেটাই লিখে রেখেছে মারিশা। তবে খুঁটিনাটি সব কিছু না। যা যা গুরুত্বপূর্ণ লেগেছে‚ শুধু সেটাই লিখেছে৷ যেমন গতকাল বেগনাসকোট চূড়ায় কী কী কথা হয়েছিল দুজনের‚ রাতে গতরাতে দিব্যর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল‚ তারপর ওদের দুজনের মাঝে কী কথা হয়েছিল‚ এসবই। অথচ সফরে বেরিয়ে যা দেখছে‚ যা অভিজ্ঞতা লাভ করছে‚ সেসব নিয়ে তো কিছুই লিখেনি। দিনলিপি লিখলে তো এসবই আগে জায়গা পাবে ডায়ারিতে৷ এটা তবে কোনো দিনলিপি নয়—বুঝতে পারল আশফি।
বেশ সন্দিগ্ধ মনে ব্যাপারটা ভাবতেই ওর মনে পড়ল‚ প্রথমদিন মারিশা বলছিল ও ভুলে গেছে সেদিন রাতে ও কী করেছিল ওর সঙ্গে! তবে কি ভুলে যাওয়ার কোনো সমস্যা আছে তার? ঝট করে ঘাড়টা ফিরিয়ে তাকাল সে মারিশার দিকে। এখন দিলিশার সঙ্গে কথা হচ্ছে তার৷ আর দিব্য চোখে-মুখে প্রচণ্ড বিরক্ত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার পাশেই৷
চেঁচিয়ে দিব্য‚ দিলিশা দুজনকেই ডাকল ও। ডেকে বলল‚ “গাড়িতে উঠব আর দশ মিনিট পরই৷ কিছু খাওয়ার থাকলে এসে খেয়ে যা। পথে আর দাঁড়াব না।”
কেবল চা খেয়ে সকালটা পার করার ইচ্ছা নেই কারোরই৷ তাই ওরা খেতে চলে এল। আসার সময় দিব্য মারিশাকেও ডেকেছিল। কিন্তু মারিশা আসেনি৷ সে সোজাসুজি বলে দেয়‚ নিজের মতো নিজে খেয়ে নেবে। বসবে না ওদের সাথে৷ এমনটা শোনার পর আর জোরাজুরি করেনি দিব্য। মূলতঃ আশফি তাকে ডাকেনি বলেই সে বসবে না খেতে ওদের সাথে।
দিব্যরা যখন খেতে ব্যস্ত‚ তখন লেকের পাড় ঘেঁষে হাঁটাহাঁটি করছিল মারিশা। এর মাঝেই হঠাৎ আশফি এসে হাজির হলো ওর সামনে। কোনো অভিব্যক্তি বা কথা প্রকাশের আগেই নোটবইটা ওকে ফেরত দিল আশফি‚ “গাড়িতে ফেলে এসেছিলে। তোমার ড্রাইভার দিয়ে গেল।”
ওটা নিতে নিতে মারিশা সন্দেহ দৃষ্টি ছুড়ল। তা দেখে আশফি অকপটে জানাল‚ “নোটবুকটা কার সেটা জানার জন্যই একবার খুলেছিলাম।”
“তারপর?”
“তারপর আবার কী?”
“তারপর একবার খুলেই সবটা দেখে নিয়েছি‚ সেটা বলবে না?”
ধরা পড়েও আশফি গাম্ভীর্যতা ধরে রইল। এ কথার উত্তর না দিয়ে সে জিজ্ঞেস করল‚ “তোমার ভুলে যাওয়ার সমস্যাটা কী আসলে?”
এক মুহূর্তের জন্য থমকাল মারিশা। তারপর হঠাৎ রাশভারী গলায় বলল‚ “তোমার তো আমার ব্যাপারে কোনো ইন্ট্রেস্ট নেই বলেছিলে! এখন তাহলে কী হলো?”
“আমরা সেই প্রথম দিনগুলোর মতো আবার ভালো ফ্রেন্ডস হতে পারি‚ গতকাল এমনটাই তো কথা হয়েছিল‚ না? তাহলে সে জায়গা থেকে জানার ইন্ট্রেস্ট হতে পারে না?”
“কিন্তু আমি এবার আমাদের বন্ধুত্বে বাউন্ড্রি রাখতে চাই। পার্সোনাল কোনো কথা শেয়ার করতে ইচ্ছুক নই”‚ রূঢ়ভাবে কথাটা বলেই মারিশা চলে গেল সদর্পে।
সেদিকে চেয়ে থেকে বিড়বিড়িয়ে উঠল আশফি‚ “ঠেঁটা!”
বিশেষণটা দিয়ে কিছুক্ষণ পরই আবার মিটমিটিয়ে হেসে ফেলল।
নাশতা শেষ করে সবাই রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিল। কিন্তু মারিশা ট্যাক্সির কাছে আসতেই ভ্রুজোড়া কুঁচকে গেল ওর। ভেতরে পরাগকে বসে থাকতে দেখে একটু অপ্রস্তুতভাবে হেসে জিজ্ঞেস করল‚ “ভাইয়া‚ আপনি এখানে? আমার সাথে যাবেন?”
“না‚ বোন। তোমার সাথে না৷ দিব্যর সাথে যাব৷ মানে আমি আর দিব্য এই গাড়ি করে যাব৷ তুমি ওই গাড়িতে যাবে।”
মারিশা গম্ভীর হয়ে উঠতেই পরাগ ঝটপট বলল‚ “রাগ টাগ কোরো না প্লিজ। দিব্য হচ্ছে ফটকা। ওর সাথে তোমাকে একা যেতে দিতে রাজি না আমরা কেউ-ই। যতই হোক‚ মিরান ভাইয়ের বোন তুমি।”
ট্যাক্সিতে তিনজন বসা যাবে৷ কিন্তু পরাগ নিজের ছোটো একটা ব্যাগ সিটের মাঝখানে রেখেছে। যাতে মারিশা বসার কথা না বলতে পারে৷ আর তা বুঝতে পেরে ভেতরে ভেতরে রাগে ফেটে পড়ে জোরপূর্বক সে মুচকি হাসল পরাগের কথাতে৷ তারপর আর দাঁড়াল না৷ জিপের কাছে আসার পরই কোথা থেকে আশফি দ্রুত এগিয়ে এসে দরজাটা খুলে দিয়ে বলল‚ “জানালার পাশে বোসো।”
রাগ আর আর বিরক্তি নিয়ে কটা কড়া কথা বলতেই যাচ্ছিল মারিশা‚ তখনই দিলিশা এসে হাজির হলো। মারিশাকে দেখে মৃদু হেসে বলল সে‚ “আমাদের সাথে বসবে? খুব ভালো হবে। সেভাবে তো আলাপ হয়নি আমাদের৷ এখন হয়ে যাবে সেটা।”
এত বিনয়ী সুরের কথাটা মারিশার কাছে ঠেকল অসহ্যরকম বিশ্রী। জবাবে কেবল ঠোঁটে কৃত্রিম মুচকি হাসি টেনেই সে উঠে পড়ল গাড়িতে। ওর রাগটা আশফি টের পেল ভালোভাবেই। চোরা হাসি হেসে নিয়ে সে দিলিশাকে বলল‚ “তুমি দাঁড়িয়ে থাকলে কেন? উঠে পড়ো তুমিও।”
দিলিশা উঠতেই হৃদয় আর সৌভিক ফিরল দিব্যকে নিয়ে। নাশতা শেষে তারা তিনজন সিগারেট ফুঁকছিল এতক্ষণ। মারিশাকে হঠাৎ জিপের মধ্যে দেখে দিব্যর কপালে ভাঁজ পড়ল৷ জানালার কাছে এসে অবাক হওয়া কণ্ঠে বলল‚ “তুমি এখানে? ট্যাক্সি ছেড়ে দিয়েছ?”
জবাবটা মারিশা দেওয়ার আগেই আশফি এসে আঙুলের ইশারায় দেখাল‚ “ওই যে দ্যাখ ট্যাক্সি। তোর জন্য ওয়েট করছে। জলদি যা‚ এখনই রওনা দিতে হবে।”
“মানে কী?” সবটা বুঝেও তবু আহাম্মকের মতো দেখাল দিব্যকে।
আশফি কোনো জবাব না দিয়ে গাড়িতে উঠতে গেলেই দিব্য ডাকল ওকে। কিন্তু মোটেও দাঁড়াল না আশফি। দিব্যর মেজাজ খারাপ হলো তখন। হৃদয় তখন তাড়িয়ে দেওয়ার মতো ওকে বলল‚ “এই‚ যা তো‚ যাহ্! পোলাপানের মতো খালি ত্যাড়ামি করিস। নাচতে নাচতে ট্যাক্সিতে গিয়ে উঠলি তখন৷ এখন তাইলে দাঁড়ায় আছিস ক্যান? যা ফুট!”
এরপরই পরাগ গলা ছেড়ে ডেকে উঠল দিব্যকে। ড্রাইভারও তাড়া দিল। তাই আর আশফির সঙ্গে ঝগড়াটা করার সুযোগ পেল না দিব্য, গটমট করে হেঁটে চলে গেল।
সৌভিক হেসে উঠল তদিব্যর ছেলেমানুষি রাগ দেখে। আশফিও মুচকি মুচকি হাসল। তারপর সবাই গাড়িতে উঠে পড়ল। হৃদয় গিয়ে বসল মারিশা আর দিলিশার পাশেই। আর পেছনের সিটে জায়গা নিল ওরা দুজন।
মারিশা লক্ষ করল‚ পেছনে ঠিক ওর বরাবরই জানালার পাশে বসেছে আশফি। এই বসার ব্যবস্থার পেছনে যে তারই বুদ্ধি ছিল‚ তা বুঝতে অসুবিধা হলো না ওর। দিব্যর মতোই একরকম ছেলেমানুষি রাগে হঠাৎ সিটটা অনেকখানি পেছনে হেলিয়ে দিল সে। ফলাফল আশফির হাঁটু আটকে গেল। একবার ফিরে তাকিয়ে দেখলও সেটা। তবু বিকারহীন ভঙ্গিতে গাটা সিটে এলিয়ে দিল সে। এরপর খোলা চুলগুলো ঝাড়ি মেরে ছড়িয়ে দিল সিটের বাইরে। হাওয়ায় উড়ে গিয়ে চুলগুলো তখন আছড়ে পড়ল আশফির চোখ-মুখে। সরাসরি চোখে ঢুকতেই আশফি দ্রুত চোখ ডলতে লাগল। তা দেখে আবার ব্যতিব্যস্ত ভঙ্গিতে বলে উঠল দিলিশা‚ “তুমি ঠিক আছ‚ আশফি?”
আশফি হাতের ইশারায় বোঝাল‚ সে ঠিক আছে৷ কিন্তু দিলিশা তখন মারিশাকে বলল‚ “ওর তো বসতে অসু্বিধা হচ্ছে‚ মারিশা৷ সিট কিছুটা সোজা করলে ভালো হত বোধ হয়।”
“তাই না-কি?” খুব অবাক হলো যেন মারিশা।
মাথা একটু ঘুরিয়ে সে জিজ্ঞেস করল আশফিকে‚ “তোমার নাকি বসতে খুব অসু্বিধা হচ্ছে?”
হাসিটা আটকে আড়চোখে সৌভিক একবার তাকাল আশফির দিকে৷ হৃদয়ও উৎসুক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। যে বন্ধু নির্ঝঞ্ঝাটভাবে ঘুমানোর জন্য নিজের ঘরে জায়গা দেয় না কাউকে‚ সে এখন ঠ্যাং আটকে গিয়ে বসে আছে চুপচাপ! কী জবাব দেয় সে এখন‚ তা শোনার অপেক্ষায় রইল হৃদয়।
কিন্তু সৌভিকের মতো আশফিরও হাসি পাচ্ছিল মারিশার বাচ্চামোতে। সেও হাসিটা কোনোরকমে ঠেকিয়ে শান্তভাবে বলল‚ “আই অ্যাম পারফেক্টলি ফাইন। তুমি রিল্যাক্সে বসতে পারো।”
“ওহ… ও.কে। থ্যাঙ্কস”‚ বলে মাথার নিচে দু হাত পেতে চোখ বুজল মারিশা৷ তারপর চোখের ওপর টেনে নিল গুচির সানগ্লাসটা।
পুরো দৃশ্যটা দেখে আশফি ঠোঁট চেপে হাসল। হাসতে হাসতে সৌভিকের দিকে তাকালে সৌভিকও চাপা হাসি নিয়ে সিটে মাথা রাখল। আর হৃদয় তখন আবার সামনে থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে দু লাইন গেয়ে উঠল‚ “বড়োলোকের বিটি লো… লম্বা লম্বা চুল… এমন মাথায় বেঁন্ধে দেব লাল গেন্দা ফুল…”
আশফি হাসতে হাসতে সিটটা একটু পেছনে হেলে দিয়ে বসল। তবে মারিশা গানটা শুনেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না‚ চোখজোড়াও খুলল না।
গাড়িটা চলতে শুরু করল মার্ডি হিমালের প্রবেশপথ‚ অর্থাৎ কান্দের দিকে। রাস্তাটা ছিল বেশ আঁকাবাঁকা। দুই পাশে দেখা সবুজ পাহাড়ি ঢাল আর ছোটো ছোটো গ্রাম। দূরে দূরে দেখা যাচ্ছিল একটার পর একটা পাহাড়ের সারি‚ যার চূড়ায় সাদা মেঘ খেলা করছে। গাড়িটা যত এগোচ্ছিল‚ তত ওরা শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে চলে আসছিল। রাস্তার দু’পাশে থাকা বাড়িগুলো তখন কমতে শুরু করেছে‚ আর তাদের জায়গায় চলে এসেছে সবুজ ধানক্ষেত‚ ভুট্টাক্ষেত আর ছোটো ছোটো ফলের বাগান। মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছিল গ্রামের কিছু মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত।
মারিশা সানগ্লাস চোখ থেকে নামিয়ে আধশোয়া হয়েই দেখছিল বাইরেটা। দিলিশা কবার আলাপ জমানোর চেষ্টা করেছিল এর মাঝে৷ কিন্তু ওর দায়সারা জবাব পেয়ে সে আর কথা বাড়ায়নি৷ হৃদয়ের সঙ্গে এখন গল্পে মশগুল সে।
হঠাৎ পেছন থেকে চুলে টান পড়ল মারিশার৷ ফিরে তাকানোর আগেই মাথার কাছে আশফির নিঃশ্বাসের স্পর্শ পেল। তখনই শুনতে পেল‚ “কী ব্যাপার! তুমি কি বেবি শ্যাম্পু ইউজ করো? বেবিদের স্মেইল পাচ্ছি চুল থেকে৷ কাল এই শ্যাম্পুর স্মেইল থেকেই কি কন্ট্রোল হারিয়েছিল দিব্য?”
ঝট করে মাথাটা তুলেই ক্রুদ্ধ চোখে ফিরে তাকাল মারিশা৷ সিটে হেলান দিয়ে তখন ঠোঁট কামড়ে হাসছে আশফি। হাসতে হাসতে ঠোঁট নেড়ে নিঃশব্দে কী যেন বলল তারপর। কথাটা ছিল ভীষণ দুষ্টু ইঙ্গিতপূর্ণ৷ তা বুঝতে পেরে মুহূর্তেই মারিশার গালদুটোই দেখা গেল চেরি ফলের মতো আভা। দুর্ভাগ্যবশত আবার তখনই মিটিমিটি হাসতে থাকা সৌভিকের চোখে চোখ পড়ল ওর। সেও বুঝে ফেলেছে আশফির ইঙ্গিত। বেচারি তাতে লজ্জা পেল আরও বেশি। তাই আর কিছু বলতেও পারল না আশফিকে।
সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ গাড়িটা কান্দেতে থামল৷ কান্দে আসলে কোনো বড়ো গ্রাম নয়। বরং কিছু ছোটো টি-হাউস আর লজ নিয়ে তৈরি হয়েছে এটি। যা ট্রেকারদের জন্য এক মিলনস্থল। এখানে পৌঁছে ওরা দেখল‚ বেশ কিছু ট্রেকার নিজেদের ব্যাগপত্র গোছানোতে ব্যস্ত। কান্দের সৌন্দর্যটা একদম সহজ-সরল। কিন্তু এখানে দাঁড়িয়ে চারপাশের দৃশ্য দেখায় ভীষণ অসাধারণ। একটা উঁচু টিলার ওপর থেকে নিচে দেখা যাচ্ছিল সবুজ উপত্যকা আর দূরে পোখারা উপত্যকা। আরেকটু দূরে মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে অন্নপূর্ণা রেঞ্জের চূড়াগুলো। চারদিকে কোনো শব্দ নেই। শুধু ট্রেকারদের আনাগোনা আর পাখির কিচিরমিচির।
খুব বেশিক্ষণ দেরি না করে নিজেদের ব্যাগপত্র গুছিয়ে আশফিরা শুরু করে দিল ট্রেকিং। পথের শুরুটা ছিল কিছুটা সহজ আর চওড়া রাস্তা ধরে। কিন্তু কিছুদূর এগোতেই রাস্তাটা সরু হয়ে গেল আর ঢাল বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করল। এই পথটা দিয়ে ওরা ছাড়া আরও কয়েকজন ট্রেকার উঠছিল। তাদের মধ্যে তিনজন ছিল ভারতীয়। যাদের নাম রাহুল‚ প্রিয়াঙ্কা এবং অমিত। বাকিরা ছিল শ্বেতাঙ্গ। তাদের কেউ হাসিমুখে ছবি তুলছিল‚ কেউ আবার নিজেদের মধ্যে নিচু স্বরে কথা বলছিল।
ফরেস্ট ক্যাম্পের দিকে যাত্রা চলছে সবার। পথটা ছিল পুরোপুরি পাইন আর ওক গাছের ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে। সূর্যের আলো এখানে খুব কম পৌঁছাচ্ছিল। চারদিকে হালকা অন্ধকার ভাব। সবাই-ই নিজেদের মতো করে হাঁটছিল‚ আর মাঝে মাঝে আশপাশের দিকে তাকিয়ে বনের সৌন্দর্য উপভোগ করছিল। পাইন গাছগুলো আকাশ ছুঁতে চাইছে‚ আর ওক গাছগুলো তাদের মোটা ডালপালা ছড়িয়ে রেখেছে। যেন পুরো বনকে নিজের ছায়ায় রাখতে চায়।
একটা বড়ো গাছের গুঁড়িতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল রাহুল‚ প্রিয়াঙ্কা আর অমিত। আশফিদের দিকে তাকিয়ে রাহুল জিজ্ঞেস করল‚ “আপনারা একা? কোনো গাইড নেই?”
আশফি হেসে বলল‚ “আমিই গাইড৷”
কথাটা শুনে রাহুলরা একটু অবিশ্বাস করল যেন। কারণ‚ কেবল মারিশা ছাড়া ওদেরকে নিজেদের মতোই ভারতীয় ভেবেছিল তারা৷ তা বুঝতে পেরে আশফি বলল‚ “আমি চিনি পথ। তাই গাইড নেওয়ার দরকার পড়েনি।”
“ও আচ্ছা‚ বুঝতে পেরেছি”‚ প্রিয়াঙ্কা বলল‚ “আমরা ভাবছিলাম বনের মধ্যে হাঁটলে কোনো বন্যপ্রাণী দেখতে পাবো কিনা।”
আশফি জানাল‚ “বনের ভেতর বন্যপ্রাণী থাকে। কিন্তু দিনের বেলা সাধারণত তাদের দেখা পাওয়া যায় না। ওরা মানুষের থেকে দূরে থাকে।”
তারপর আর গল্প করল না আশফি৷ চলতে শুরু করল আবার। হাঁটতে হাঁটতে মারিশা আর দিলিশার দিকে খেয়াল রাখছিল ওরা পাঁচ বন্ধুই। দুপুর নাগাদ পৌঁছাল ওরা ফরেস্ট ক্যাম্পে। জায়গাটা ছিল বনের মাঝে একটা ছোটো সমতল ভূমি। এখানে বেশ কিছু টি-হাউস আছে। কিন্তু অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী আশফিদের দলটা অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পিং করার জন্য টি-হাউসগুলোর থেকে দূরে‚ বনের আরও ভেতরে একটা নির্জন জায়গা বেছে নিল। জায়গাটা একটা ছোটো পাহাড়ের ঢালুতে‚ যেখানে একটা খোলা অংশ ছিল। সামনে অনেক দূরে দেখা যাচ্ছিল মাছাপুচ্ছর চূড়াটা।
আশফি জায়গাটা ভালো করে পরখ করে নিল। পাহাড়ের ঢালে হলেও খোলা অংশটা ছিল অপেক্ষাকৃত সমতল এবং শুকনো পাতার ওপর দিয়ে বয়ে আসা বাতাস সরাসরি তাঁবুর ওপর আঘাত করবে না‚ এমন স্থানে। সবাই ব্যাকপ্যাক থেকে তাঁবুর সরঞ্জাম বের করল। তাদের অ্যাডভেঞ্চারের দ্বিতীয় পর্ব শুরু।
মারিশা হঠাৎ সবাইকে বলল‚ “আমার টেন্টটা বানাব মাছাপুচ্ছর মুখ করে৷ যাতে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে ওকেই দেখতে পাই।”
দিব্য এগিয়ে এল দ্রুত‚ “চলো‚ আমি হেল্প করি।”
আপত্তি করল না মারিশা। ওরা দু’জন মিলে তাঁবু খাটাতে শুরু করল। ওদিকে আশফি দিলিশার তাঁবুর খুঁটিগুলো শক্তভাবে মাটিতে পুঁতে দিচ্ছিল‚ আর হৃদয় ভারী পাথর দিয়ে তাঁবুর রশিগুলো বাঁধছিল৷ যাতে রাতের পাহাড়ি বাতাস আঘাত হানলে তাঁবু উলটে না যায়। সবারটাতেই সবাই সাহায্য করল। বিকেল গড়িয়ে এল ওদের কাজ শেষ হতে হতে।
তাঁবু খাটানোর পর আশফি আশেপাশের জায়গাটা পরিষ্কার করল। বুনো গন্ধরাজ ফুলের ঝোপের আড়ালে ক্যাম্পিংয়ের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখল সে। তাঁবুর সামান্য দূরে সে এমনভাবে রান্নার জায়গা নির্দিষ্ট করল‚ যেন ঘন জঙ্গলের কারণে আগুন বা রান্নার গন্ধ সহজেই ছড়িয়ে যেতে না পারে।
চারিদিকে তখন সোনালী আলো। ওরা দেখল‚ মাছাপুচ্ছর চূড়ায় শেষ বেলার সূর্য তার বিদায়ী রং ছড়াচ্ছে—বরফ আর পাথরের ওপর যেন কেউ আগুন ঢেলে দিয়েছে। মারিশা নিজের তাঁবুর সামনে বসেই তা দেখছিল৷ এই নিস্তব্ধ আর বন্য পরিবেশে ওদের বানানো ছোটো তাঁবুটি দেখতে তখন এক নিরাপদ আশ্রয়ের মতো লাগছিল। অ্যাডভেঞ্চারের শিরশিরে অনুভূতি যেন প্রতিটা মুহূর্তে তীব্র হয়ে উঠছিল ওর মাঝে।
সন্ধ্যার পর ঠান্ডা বাড়তে শুরু করল। বসন্তকাল হলেও এটা হিমালয়ের কোল৷ তাই এটা কেবল সাধারণ ঠান্ডা নয়। এই ঠান্ডাটা বনের গভীরে জমে থাকা আর্দ্র শীতলতা। আশফিরা যে টিলার ঢালে তাঁবু খাটিয়েছে‚ সেখানে ঘন পাইন আর ওক গাছের ছায়ায় দিনের তাপটুকুও ঠিকমতো পৌঁছায়নি। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে সেই জমাট ঠান্ডা যেন চারপাশ থেকে জেঁকে ধরেছে। গাছের পাতা আর মাটির ভেজা গন্ধের সঙ্গে মিশে যাওয়া এই বাতাস ছিল হাড়-কাঁপানো শীতল।
আশফি দ্রুত জ্যাকেটের চেইনটা গলা পর্যন্ত টেনে নিয়ে মারিশা আর দিলিশাকে বলল‚ “গরম কাপড় পরে নাও তোমরা।”
মারিশা ইতোমধ্যে গায়ে ঢুকিয়ে নিয়েছে একটা জ্যাকেট৷ চেইনটা টানতে টানতে সে ফিসফিস করল‚ “মনে হচ্ছে উইন্টার এখান থেকে বিদায় নিতে ভুলে গেছে।”
এবার রান্নার আয়োজন শুরু করল ওরা৷ রান্নার জন্য ছিল একটি পোর্টেবল গ্যাস স্টোভ। সেই স্টোভে পরাগ ম্যাগি আর কিছু শুকনো খাবার গরম করে নিল। রান্না করার সময় আশফি তাকে সতর্ক করল‚ খাবারের কোনো গন্ধ যেন বাইরে না ছড়ায়। রাতের বেলা কিছু বন্যপ্রাণী খাবারের লোভে ক্যাম্পের আশেপাশে আসতে পারে।
মারিশা আর দিলিশা দুজনই রান্নার দায়িত্বটা নিতে চেয়েছিল৷ কিন্তু কেউ-ই রাজি হয়নি৷ অতিথির মতোই দুজনকে খাতিরযত্ন করছে পরাগরা। মারিশা হঠাৎ হাঁটতে হাঁটতে ঝোপের কাছ থেকে তুলে নিল একটা বুনো গন্ধরাজ। নাকের কাছে নিয়ে সেটার ঘ্রাণ নিল সে। তেমন কড়া নয় ঘ্রাণ—হালকা। আনমনেই সেটা কানের পিঠে গুঁজল।
একটু দূর থেকে দিব্য তা দেখতে পেয়ে গলা ছেড়ে বলল‚ “যাক‚ অবশেষে পেয়েই গেলে তোমার বুনো গন্ধরাজকে?”
কথাটা শুনতেই আশফি ফিরে তাকাল মারিশার দিকে। একই মুহূর্তেই তাকাল মারিশাও ওর দিকে। আগুনের ঈষৎ হলদে আলোয় দুজন দুজনের চোখে চেয়ে রইল অনেকটাক্ষণই।
সেই মুহূর্তটা সবাই-ই দেখল হাঁ করে চেয়ে৷ এমনকি দিলিশাও৷ মুখটা অন্ধকার হয়ে গেছে তার৷ হৃদয়ের পাশে বসে ছিল সে৷ তাকে জিজ্ঞেস করল‚ “ওদের কি অনেক দিনের বন্ধুত্ব?”
বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ১২
“বন্ধুত্ব!” কথাটা উচ্চারণ করল হৃদয় ব্যঙ্গস্বরে।
তারপরই দিব্যর মতো গলা ফাটিয়ে টিটকারি মেরে বলে উঠল‚ “বাবা আনজার‚ তোর মতো নসিব পাওয়ার মেলা সাধ আমার!”
তা শুনে সৌভিক আবার খোঁচা মেরে উচ্চস্বরে বলল‚ “তাহলে বাসর ঘরে ঢোকার পর বউয়ের বদলে বউয়ের ফেলে যাওয়া বিচ্ছেদের চিঠি নিয়ে বাসর করতে পারবি তো?”
