Home বুনো মেঘের হাতছানি বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ১৫

বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ১৫

বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ১৫
ইসরাত জাহান দ্যুতি

“কী বলছ?” তীক্ষ্ণ চোখে চাইলো মারিশা‚ “গালাগাল দিচ্ছ?”
“আরে নাহ…”‚ ব্যঙ্গ স্বরে বলল আশফি‚ “আমার কি জ্বর‚ তোমাকে গালাগাল দেব?”
“কিন্তু আমার বোধ হয় জ্বর…”‚ ম্লানকণ্ঠে বলতে বলতে হাতের পিঠে নিজের কপাল নিজেই ছুঁতে থাকল সে‚ “আমার কিছু ভালোই লাগছে না। ঘুমও পাচ্ছে না।”
“ঘুম তো পাচ্ছে না সতিনদের নিয়ে টেনশন করতে করতে। কিন্তু জ্বর কি সত্যিই লেগেছে?”
কপালে ভাঁজ ফেলে ঝুঁকে এল আশফি। তারপর মারিশার গালে আর কপালে হাত ছুঁইয়ে গায়ের তাপমাত্রা বোঝার চেষ্টা করল৷ সত্যিই জ্বর! একটু চিন্তার ছায়া পড়ল এবার চোখেমুখে। ওর মুখোমুখি বসতে বসতে বলল‚ “এত ঘনঘন জ্বর লাগে কেন? আসার পর থেকেই তো দেখছি জ্বর। কী সমস্যা?”

“ডায়াবেটিস না? ইমিউন সিস্টেম দুর্বল।”
“শুধু ডায়াবেটিসের কারণে এত দুর্বল! কই‚ আগে তো ছিল না এমন। কারণ‚ তখন অ্যালকোহলিকও ছিলে না আর স্মোকারও না। ঠিকমতো ঘুমাতে‚ এক্সাসারসাইজ করতে।”
কথাগুলোর পরই তীব্র বিদ্রূপাত্মক সুরে বলল আশফি‚ “আরও বেশি বেশি খাও মদ‚ সিগারেট৷ শ্বশুরবাড়ি কি এসব ছাড়া আর কিছু খেতে দিত না? রাতে কেউ ঘুমাতেও দিত না?”
বিস্ময় খেলে গেল মারিশার চোখে‚ “আমাকে নিয়ে তোমার অনুমান সব সময় এত সঠিক হয় কী করে?”
মুহূর্তেই ডেনিজের সাথে ওর সুখী যুগলবন্দি মুহূর্তগুলো মনে পড়ল আশফির। মেজাজটা চটে গেল তাই না চাইতেও‚ “তোমার যা অবস্থা‚ তা দেখে যে কেউ-ই অনুমান করতে পারবে‚ কী অগোছালো জীবনযাপন করেছ তুমি! কিন্তু ডেনিজের দোষ দিচ্ছ কেন? সে অতটা বদমাশ হলে তোমার বাবা নিশ্চয়ই বিয়েটা দিত না? নিজের উশৃঙ্খল‚ অনিয়ন্ত্রিত জীবনধারার দায় ওকে দিয়ে সিম্প্যাথি পেতে চাইছ তুমি! লজ্জা করা উচিত‚ মাহি!”
“আমি সিম্প্যাথি চাইছি?” মারিশার মুখটা কঠিন হয়ে গেল।

ক্ষিপ্তস্বরে বলে উঠল সে‚ “তোমার মতো টিপিক্যাল বাঙালির ভাবনা‚ ডিভোর্স হওয়া মেয়েরা সব সময় স্বামীকে দোষারোপ করে সিম্প্যাথি ভিক্ষা করে বেড়ায়? সেটা তোমাদের বাঙালি মেয়েরা চাইতে পারে। আমি মাহি নই। তোমার দু পয়সার সিম্প্যাথি আমার চারটা বছর ফিরিয়ে দেবে না যে‚ আমি তোমার সিম্প্যাথির জন্য নিজেকে অসহায় বানিয়ে দেখাব। তাছাড়া তোমার সাথে আমার সব কিছু চুকেবুকে গেছে‚ রাইট? তাহলে আমার কাছে এত ঘেঁষাঘেঁষি করো কেন সুযোগ পেলেই? আমি কি চেয়েছিলাম তোমার সঙ্গে আসতে? যেতে দিলে না কেন? এভাবে বারবার অপমান করে রাগ মেটানোর জন্য‚ তাই তো? সো কলড এক্স বলে কথা!”

“বেশি বুঝছ‚ মাহি”‚ গম্ভীর হয়ে উঠল আশফি‚ “আমি এমন কিছু মিন করিনি৷ আমি টিপিক্যাল বাঙালি হলেও ডিভোর্সি মেয়েদের নিয়ে আমার চিন্তাভাবনা মোটেও নীচু নয়। আমি শুধু এটা বলতে চেয়েছি‚ ডেনিজ তোমাদের প্রপার্টি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করতে পারে৷ কিন্তু না খাইয়ে রাখার মতো নির্যাতন সে করতে পারে না তোমাকে। সে কেমন ছিল তার ধারণা আমি রেখেছি মিরানের থেকে। সে যথেষ্ট অবসেসড ছিল তোমার প্রতি।”
“ও আচ্ছা…”‚ ব্যঙ্গাত্মক স্বরে বলল মারিশা‚ “তো এজন্যই ভেবে নিয়েছিলে উই আর সাচ আ হ্যাপি কাপল?”
“হ্যাপি কাপলের আসল সংজ্ঞা আমার তেমন জানা নেই আসলে…” মৃদুস্বরে বলল আশফি‚ “শুধু দেখেছি‚ এজেন্সি বিশাল মুনাফা অর্জনের খুশিতে গ্র্যান্ড পার্টিতে এক জোড়া সুন্দর দম্পতির সারাটাক্ষণ হাতে হাত ধরে ঘোরা… কাপল ডান্স করা… সকল অতিথি সম্মুখে প্যাশনেটলি কিস করা। বোধ হয় ভুল দেখিনি?”
রাগটা পড়ে গিয়ে মারিশার চোখদুটো ভিজে উঠল নিমিষেই। বিস্মিত স্বরে ফিসফিসাল‚ “তুমি… তুমি সেদিন এসেছিলে‚ আশফি!”

বিষণ্ণ হাসল সে‚ “তখনো নির্লজ্জের মতো অপেক্ষা করতাম কিনা!”
“অথচ আমার সামনে এলে না একবার? আমার সামনে দাঁড়িয়ে একবার এক্সপ্লেনেশন চাইলে না?”
মারিশার ভেজা চোখে শীতল চাউনি মেলে এক মুহূর্ত থেমে রইল আশফি৷ জবাব দিল তারপর তীক্ষ্ণ স্বরে‚ “একটা কথা সেদিনও আমার কানে বেজেছিল… আজও বাজে‚ ‘আশফি কে? হু অন আর্থ ইজ দ্যাট? আর তিন মাস আগের ওই বিয়ে! ওটা তোমাদের কাছে স্বীকৃত। আমার কাছে নয়!’ আরও কিছু বলেছিলে বোধ হয় এরপর। মিরান আর শুনতে দেয়নি। লাউডস্পিকার কেটে দিয়েছিল তারপরই। আর আমি এরপরও বেহায়ার মতো ছুটে গিয়েছিলাম‚ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তোমার আন্সারটা শুনতে। ভেবেছিলাম‚ আমাকে দেখলে তুমি আবার আমার প্রেমে পড়ে যাবে।”

কোন কথাটার জবাব আগে দেবে মারিশা‚ তা বুঝতেই পারল না। এলোমেলো মন-মস্তিষ্কে ফ্যালফ্যাল করে শুধু চেয়ে রইল আশফির চোখে। ওকে দেখতে দেখতেই হঠাৎ বলল‚ “আমি তোমার সামনে থাকলে তুমি আরও বেশি কষ্ট পাবে‚ আশফি। তোমার পুরনো ক্ষত তাজা হয়ে উঠবে। আমার উচিত সকাল হলেই চলে যাওয়া।”
মৃদু হাসল আশফি। মারিশার কপালের ওপর ঝুলে থাকা ছোটো চুলগুলোকে সরিয়ে দিতে দিতে বলল‚ “ওসব কষ্টকে ভুলে গিয়ে কীভাবে ভালো থাকতে হয়‚ তা আমার জানা আছে‚ মাহি৷ এতটা সময়ে সয়ে গিয়েছে সমস্ত ব্যথা। যখন চোখের সামনে দাঁড়িয়ে তোমাকে অন্য কারও আদর গ্রহণ করতে দেখেছি‚ তখন যদি ঠিক থাকতে পারি‚ এখন তো সেই মুহূর্তগুলো কত দূরে ফেলে এসেছি৷ আমি আর দ্বিতীয়বার তোমাকে ভেঙেচুরে ভালোবাসব না। যতটুকু অনুভূতি আজও থেকে গেছে মনে‚ সময়ের সাথে সাথে তাও একদিন না একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবে।”
আশফির পৌরুষদীপ্ত মুখটার খোঁচা খোঁচা হালকা দাড়ির গালের মাঝে ছুুঁলো মাহি। কাষ্ঠ হেসে বলল‚ “বেগনাসকোট থেকে যেদিন ফিরলাম‚ সেদিন থেকেই আমিও চাই‚ আর কোনো পিছুটান আমাদের কারও না থাকুক। আমিও বুঝে গেছি‚ আমাদের সম্পর্কে যে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে একবার‚ তা আর মেরামত করা সম্ভব নয় কখনো। আমি আমার কষ্টটাকে কখনো বড়ো করেও দেখিনি তোমার কষ্ট থেকে। তুমি সবটা ভুলে ভালো থাকতে জানো‚ এটা আমাকে ভীষণ ইন্সপারেশন দিচ্ছে। আমিও চেষ্টা করছি‚ নতুন করে বাঁচার। কিন্তু তোমার মতো স্ট্রং নই‚ আশফি। তাই আমার নিজের জন্য হলেও আমাকে চলে যেতে হবে।”

“এখন তাহলে তুমি কী চাইছ? চলে যাবে‚ তাই তো?”
“হ্যাঁ‚ আমি সকাল হলেই বেরিয়ে পড়তে চাই। আমার জন্য এটা জরুরি।”
কথাগুলো বলছে মারিশা কষ্ট গিলে নিয়ে‚ তা আশফি বেশ বুঝতে পারছে ওর টলমল করা চোখদুটো দেখে। কিন্তু এটা থেকেও তাকে বেশি ভাবাচ্ছে‚ একা একা কোথায় আর কীভাবে ঘুরে বেড়াবে ও? আগের মতো তো আর সুস্থ‚ সবল নেই। কিছু হলে কে খেয়াল রাখবে সারাটা সময়?
ভাবনাচিন্তা করতে করতেই সে সিদ্ধান্ত নিল‚ মিরানকে খবর দিতে হবে জলদিই৷ ও না আসা অবধি মারিশাকে একা ছাড়বে না সে৷ তাই বলল‚ “আটকাব না তোমাকে৷ কিন্তু আর দুটো দিন পর যাও৷ এসেই যখন পড়েছ‚ এরপর আর কখনো আমাদের দেখা হবে কিনা‚ তা তো অনিশ্চিত। তাই শেষ দুটো দিন আমরা পেছনের সবটা একেবারে ভুলে কিছু ভালো মুহূর্ত তৈরি করি। যাতে কারও প্রতি কারও আর কোনো রাগ-ক্ষোভ না থাকে। ঠিক আছে?”
না‚ ঠিক লাগল না মারিশার৷ ওর সত্যি আর একদম ইচ্ছা করছে না আশফির আশেপাশে থাকতে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব‚ ও দূরে যেতে চায় আশফির থেকে। কিন্তু এটাও অসম্ভব‚ আশফি না চাইলে ও কোনোভাবেই এখান থেকে যেতে পারবে না৷ তাই সম্মতি দেওয়ার বদলে চুপচাপ গম্ভীর বনে রইল কিছুক্ষণ৷ উত্তর না জেনে আশফিও নড়ছে না দেখে সে ভার স্বরে বলল‚ “ঠিক আছে…! থাকব৷ এখন তুমি এসো প্লিজ। আমার মাথাটা পেইন করছে খুব।”

“সে তো করবেই৷ শুয়ে পড়ো তাহলে। যাচ্ছি আমি।”
হ্যাঁ‚ বা না কিছুই বলল না মারিশা। চোখদুটো বুজে স্থির হয়ে বসে রইল৷ তাঁবু থেকে আশফি বেরিয়ে যেতেই ধপ করে শুয়ে পড়ল সে৷ আশফির কথাগুলোকে কষ্টের বশে নানানরকম বিশ্লেষণ করতে লাগল মনে মনে। তারপর হঠাৎ বিড়বিড়িয়ে উঠল‚ “মাকে বলতে শুনেছি‚ আনম্যারিড বাঙালি পুরুষেরা নাকি নন-ভার্জিন মেয়েদের কখনো বউ করতে চায় না। আজ তার লিভিং প্রুফ দিয়ে গেল ও৷ আবার চোখের সামনে একটা কিস করতে দেখেছে! সেখানে আমি আর কী করে ভার্জিন থাকি ওর চোখে?”

তাচ্ছিল্যপূর্ণ হাসল মারিশা৷ চোখের কোণ থেকে পানিটুকু মুছে নিয়ে আলো-আঁধারির মাঝে শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। নিভৃত তাঁবুর মাঝে ওর চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠল তখন ডেনিজ আর ওর প্রথম রাতটার মুহূর্ত।
জরি‚ লেইস আর পুঁতির কাজ দিয়ে বানানো জমকালো একটা সাদা গাউন ছিল ওর পরনে৷ কালো টাক্সেডো পরনে সুঠামদেহী সুদর্শন ডেনিজ ঘরে এল গভীর রাতে। তার স্বর্ণাভ জলপাই রঙা ত্বক। কাঁধজোড়া পেশীবহুল আর মজবুত বুক‚ কালো কেশরাশি সামান্য ঢেউ খেলিয়ে কপাল পেরিয়ে নেমে আসার চেষ্টা করলেও সেগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে পেছনে ঠেলে রাখে সে সব সময়। তার মুখমণ্ডলের গড়ন তীক্ষ্ণ আয়তাকার। পুরু‚ ছাঁটা দাড়ি-গোঁফ তার চেহারায় এক পরিপক্ব, রহস্যময় গাম্ভীর্য ধরে রাখে৷ কিন্তু তার সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল নীল চোখজোড়া। সেই চোখ ছিল আসমানী নীল৷ এত উজ্জ্বল‚ যে মনে হতো যেন ইস্তাম্বুলের আকাশ ভেঙে দুটি খণ্ড এসে তার চোখের কোঠরে স্থায়ী হয়েছে। অথচ এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক অগ্নিময়‚ উগ্র চাউনি।
মারিশা এগিয়ে এসে হঠাৎ ওর মাথার সাদা ওড়নাটা খুলে তাকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল‚ “তুমি পছন্দ করো‚ যে নিজেই নিজেকে তোমার হাতে সমর্পণ করে‚ এবং তোমাকে তোমার মতো করে সে নিজেকে নিয়ে খেলতে দেয়‚ তাই না?”

ডেনিজ তার নীল চোখের চাতুর্যপূর্ণ দৃষ্টিতে তখন মারিশাকে পরখ করতে ব্যস্ত হলো। কোথাও একটা অস্বাভাবিকতা টের পাচ্ছিল সে। তাও ঘাবড়াল না। কারণ যত যা-ই কিছু করার চেষ্টা করুক মারিশা‚ সে জানত‚ তার ঘর ছেড়ে মারিশা স্বেচ্ছাতে কোথাও যাবে না আজ থেকে৷ ওড়নাটা ধরল সে মারিশার হাতসমেত। এক ঝটকায় ওকে যখন নিজের কাছে টেনে আনল‚ ঠিক তখনই আঁতকে উঠল‚ বুকের কাছে ধারাল ছুরির ফলার স্পর্শে। কিন্তু না‚ মারিশা তাকে প্রাণে মারতে চাইলো না মোটেও৷
ঠোঁটে ধ্বংসাত্মক এক হাসি টেনে ফিসফিসিয়ে প্রস্তাব দিল মারিশা‚ “একটা গেইম হোক‚ ডেনিজ। যদি না খেলো‚ আমি তোমাকে একদম স্যাটিসফাইড করব না। খুশি হবে না নিশ্চয়ই‚ যখন দেখবে তুমি মানুষরূপী এক পুতুলের বদলে এক রাক্ষসীকে প্রগাঢ় অনুভবে গ্রহণ করছ? যে তোমাকে মোটেও তোমার মতো করে খেলতে দিচ্ছে না?”

ডেনিজ দুর্ভোদ্য হাসল৷ তার গভীর‚ মসৃণ কণ্ঠস্বর নিচে নামিয়ে ফিসফিসানির সুরে বলল‚ “মারিশা‚ নিজেকে রক্ষার জন্য তুমি যে-কোনো বাড়াবাড়ি করতে পারো। আমি আজ সারা রাত দেখব তোমার প্রতিটি চাল৷ এবং অপেক্ষা করব ওই সময় অবধি‚ যখন তুমি ক্লান্ত হয়ে‚ হতাশ হয়ে তোমাকে আমার কাছে নীরবেই তুলে দেবে।”
ডেনিজের আপাত আভিজাত্যের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক সাইকোপ্যাথিক অন্ধকার। তার স্বভাব ছিল এক হিসেবি স্যাডিস্টের মতো—সে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ উপভোগ করত। কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণ হতে হত নিখুঁত ও সুচিন্তিত উপায়ে। দাগহীন‚ মোমের মতো ফরসা ও মসৃণ ত্বকের সুন্দরী নারীদের প্রতি ডেনিজের ছিল এক বিকৃত যৌন আকাঙ্ক্ষা। এই ধরনের ত্বকই ছিল তার আসক্তির প্রধান উৎস। তার এই তীব্র আসক্তি চিকিৎসাশাস্ত্রের ভাষায় হয়তো ফেটিসিজমের এক চরম রূপ‚ যেখানে যৌন উত্তেজনার প্রধান উৎস নারী ত্বকের ত্রুটিহীন মসৃণতাকে কেন্দ্র করে। আর সে মনে করত‚ যে ত্বক স্পর্শ করার অধিকার যেন একমাত্র তারই।

তার যৌন চাহিদা অস্বাভাবিক ও অপ্রতিরোধ্য হলেও তা চরিতার্থ করার পদ্ধতি ছিল কৌশলপূর্ণ। সে কখনোই জোরাজুরি করত না। কারণ সেই আদিম জোর-জবরদস্তি তার ধূর্ত অহমিকাকে তৃপ্তি দিত না ‚আর জোরাজুরি তার খেলার অংশ ছিলও না। তার খেলা ছিল কৌশল‚ নিয়ন্ত্রণ এবং মনস্তাত্ত্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠার। মেয়েটাকে সে ধীরে ধীরে নিজের ফাঁদে টেনে তারপর এক রাতে তার পানীয়তে মিশিয়ে দিত সেই নিষিদ্ধ রাসায়নিক—কাম উদ্দীপক ওষুধ। মেয়েটি যখন দুর্বল হয়ে তার নিখুঁত মোমের মতো দেহে নিয়ন্ত্রণ হারাত‚ ঠিক তখনই ডেনিজ তার অস্বাভাবিক ও স্যাডিস্টিক যৌন চাহিদা চরিতার্থ করত। তার কাছে এই অসহায় শিকার এবং দাগহীন ত্বক‚ এই দুটিই ছিল তার সাইকোপ্যাথিক ক্ষমতার চরম প্রমাণ। তার অভিশপ্ত অথচ নিখুঁত সৌন্দর্যের কাছে অবাধ মেলামেশায় অভ্যস্ত থাকা রূপসী নারীগুলো হার মেনে গেলেও সম্ভ্রান্ত ঘরের সুন্দরী মেয়েটাই যখন ধরা দিত না‚ তখনই সে প্রয়োগ করত তার নিকৃষ্ট কৌশল।

মারিশাকে প্রথম যখন দেখেছিল ডেনিজ‚ মারিশা ছিল তখন ওর্তাওকুল (নিম্ন মাধ্যমিক) স্তরের এক চঞ্চল কিশোরী। বাবার ভীষণ যত্নে গড়া একটা পরী। তখন থেকেই ওর নিখুঁত‚ মসৃণ‚ উজ্জ্বল ফরসা ত্বকের প্রতি এই বিকৃত‚ যৌন আসক্তি অনুভব করেছিল সে৷ যাকে নিজের শিকারী থাবাতে ধরতে পারেনি কখনোই। কারণ মেয়েকে সকল স্বাধীনতা দিয়েও কখনো একা ছাড়েননি ওসমান বারেশ সুলতান। এবং সরল-সিধে রূপেও মেয়েকে গড়েননি৷ তাই তো ডেনিজ তার সুদর্শনতা‚ ধূর্ততা আর মোহময় স্বরের কণ্ঠ দ্বারাও কখনো ফাঁদে ফেলতে পারেনি মারিশাকে। সেই সুযোগটাও তেমন পায়নি সে ওসমান বারেশের জন্যই৷

টেরেসে এসে ছোট্ট পুলটার পাশে বসল ওরা দুজন৷ মারিশা শান্তভাবে বলল‚ “তুমি আমাকে যে-কোনো ব্যাপারে প্রশ্ন করতে পারো‚ ডেনিজ। তার জবাব দিতে না পারলেই আমি নিজেকে পানিশমেন্ট দেব। আর তুমি না পারলে তুমি নিজেকে দেবে। যে যতবার হারবে‚ সে ততবার নিজেকে নিজেই পানিশড করবে।”
“অলরাইট…”‚ ডেনিজ মুচকি হেসে বলল‚ “কিন্তু তুমি এমন কোনো পানিশমেন্ট নিজেকে দেবে না‚ যেটাতে তুমি কষ্ট পাবে। ওই দায়িত্বটা আমার। তবে আশা করছি‚ খুব বেশি কষ্ট পাবে না তুমি।”
জবাবে মারিশাও হাসল শুধু। এরপরই শুরু হলো সেই খেলা‚ যে খেলাতে হেরে গেল মারিশাই। ডেনিজ প্রশ্ন করেছিল‚ “আমি তোমার জন্য কতদিন অপেক্ষা করছি‚ জানো‚ মারিশা?”
না‚ এ জবাব সত্যিই জানা ছিল না মারিশার৷ ডেনিজ কোনোদিনই বুঝতে দেয়নি নিজের ভয়ঙ্কর কামবাসনার কথা। তাই শুরুতেই হেরে গেল মারিশা। তখন হাসতে লাগল ডেনিজ। কণ্ঠস্বর নিচু, প্রায় ফিসফিসানির মতো করে বলল সে‚ “আহ, আশ্কিম্! আমার কী মনে হয় জানো? তোমার পানিশমেন্ট তুমি নিজে ঠিক দিতে পারবে না। সেই অধিকারটা আজ আমাকেই দাও‚ কেমন?”
“কিন্তু আমি বিশ্বাস করি…”‚ মারিশা হঠাৎ গম্ভীর স্বরে বলল‚ “আমি নিজেকে একদম সঠিক শাস্তিটাই দিতে পারব‚ ডেনিজ। তুমি ভীষণ চমকাবে।”
“তাহলে কী চমৎকার পানিশমেন্ট দেবে তুমি নিজেকে‚ কারিজিম্!” হাসতে হাসতে বলল ডেনিজ।
“হ্যাঁ‚ ভীষণ চমৎকার…!”

কথাটা বলা শেষেই গাউনের আড়ালে লুকিয়ে রাখা সেই চকচকে‚ ধারাল ছুরিটা প্রকাশ্যে আনল মারিশা। ডেনিজ বুঝে ওঠার আগেই নিজেকে এক বিভৎস শাস্তি দিল সে। সরু লতার মতো কোমল বাহুটা যেন চিরে ফেলল ও এক টানেই। কী অসহনীয় যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠেও সে থামল না। দ্বিতীয় আঘাত করল বুকের ডান পাশে। তারপর তৃতীয় আঘাতটা নিজের মুখে করতে গেলেই ডেনিজ ঝাঁপিয়ে পড়ে ওর হাত থেকে ছুরিটা কেড়ে নিল।
গলগলিয়ে রক্তের ধারা বইতে শুরু করল ততক্ষণে। বিয়ের শুভ্র বেশটা চোখের পলকে মারিশা রক্তে রাঙিয়ে দিল। বাহুতে অমন তাজা ক্ষতটা দেখতেই ডেনিজের গা ঘিনঘিন করে উঠল খুব৷
তার ফ্যান্টাসির একটি নিষ্ঠুর সীমা ছিল সব সময়ই। ​যখনই সে দেখত কোনো মেয়ের শরীরে নানান রকম ক্ষতচিহ্ন‚ বা কোনো পুরনো দাগ—অর্থাৎ তার কল্পনার নিখুঁত ক্যানভাসে কোথাও কোনো খুঁত! তৎক্ষণাৎ তার সব আকর্ষণ কর্পূরের মতো উবে যেত। সেই মুহূর্তেই মেয়েটার প্রতি তার মনে তৈরি হতো এক তীব্র অনীহা‚ যেন সে এক দূষিত বস্তুকে দেখছে। তার ভেতরের স্যাডিস্টিক সত্তাটি যেন ফিসফিস করে বলত‚ “এ তো ত্রুটিপূর্ণ। আমার নিয়ন্ত্রণের অযোগ্য।” এই অনীহা কেবল যৌন উত্তেজনার অভাব নয়‚ এটা তার নিখুঁত পছন্দের শর্তপূরণ না হওয়ার হতাশা।

ক্ষতটা দেখার পর তাই ঘৃণ্য কীটের মতো তখনই মারিশাকে ছুড়ে ফেলে দিল সে। রক্তে স্নান করে যন্ত্রণায় কাতর মারিশা জ্ঞান হারায়নি তখনো৷ হেরেও জিতে যাওয়ার আনন্দে সকল ব্যথা ভুলে গেল যেন৷ জ্ঞান হারানোর পূর্বে স্তিমিত চাউনি মেলে ক্ষীণস্বরে বলল সে‚ “ডেনিজ‚ আমার দুর্বলতাকে বন্দি করে আমাকে কি সত্যিই পেলে তুমি?”
ডেনিজ প্রচণ্ড চমকাল মারিশার কথাটা শুনে। তার স্যাডিজম‚ ফেটিসিজম আর সাইকোপ্যাথিক ব্যক্তিত্বের সকল বৈশিষ্ট্যই তবে জেনে গিয়েছিল সে—তা বুঝতে পেরে যতখানি না অবাক হলো‚ তার চেয়ে বেশি হলো মারিশার নিজেকে নিজের আঘাত করার কৌশলগুলো দেখে৷ নিজের চেহারাটাকে পর্যন্ত ছাড় দিতে চায়নি ও! তার দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষাকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য খুনচাপা রাগ নিয়ে তেড়ে গেল ওর দিকে। মেঝেতে এক কাৎ হয়ে পড়ে থাকা মারিশার খোঁপাটা চেপে ধরে টেনে তুলেই দানবীয় এক থাপ্পড় বসাল ওর গালে। তারপর ধিক্কারের সঙ্গে এক ধাক্কা মারতেই পুলের সীমানা ঘেঁষে পড়ল সে৷ কয়েক মুহূর্ত বাদেই চেতনা হারিয়ে সে লুটিয়ে পড়ল পানিতে৷ স্বচ্ছ‚ নীল রঙা পানিটা তখন রক্তের মিশ্রণে বদলে যেতে লাগল লাল রঙে৷

ডেনিজ ওকে মরতে দেয়নি সেদিন৷ ত্রুটিপূর্ণও রাখতে চায়নি ওর দেহটা। কিন্তু চিকিৎসার পরও যখন দাগগুলো পুরোপুরি মিলিয়ে গেল না‚ এবং সুস্থ হওয়ার পরও নতুন একেক ক্ষত তৈরি করতে লাগল সে নিজের শরীরে‚ তা দেখেই ধীরে ধীরে ওর প্রতি সকল আসক্তি হারাল আর বিতৃষ্ণা এসে গেল। কিন্তু ওকে না পাওয়ার তীব্র রাগ আর ক্ষোভ থেকে ওর যে ক্ষতিটা করে দিল ডেনিজ‚ তা সতীত্ব হারানো থেকেও বেশি কিছু মনে হয় মারিশার।
সেই সব দিনগুলোর স্মৃতি থেকে ফিরে এসে মারিশা বিড়বিড়িয়ে স্বগতোক্তি করল‚ “কিছুই তো পেলাম না নিজেকে রক্ষা করেও৷ বরং এই কাটাছেঁড়াভর্তি শরীরটা আর কোনো সুপুরুষই ভালোবেসে গ্রহণ করতে চাইবে না৷”
কিছুক্ষণ চুপ রইল এরপর। তারপর হঠাৎ আশফির প্রতি রাগ‚ অভিমান থেকে চেঁচিয়ে উঠল‚ “সব পুরুষই এক৷ পার্থক্য কেবল ডেনিজ সাইকোপ্যাথ৷ আর বাকিরা সুস্থ। কিন্তু নিখুঁত সৌন্দর্যের প্রতি সব পুরুষেরই ফেটিসিজম আছে। আর বাঙালি পুরুষ তুমি! আশফি আনজার…”

সরাসরি এবার আশফির উদ্দেশ্যে চেঁচাল সে‚ “তুমি তো আরও বেশি ছোটোলোক৷ লিলিয়ান ভার্জিন ছিল নিশ্চয়ই? তাই খুব ইয়াম্মি লেগেছিল ওকে খেতে‚ তাই না? ইউ ব্লাডি গিট! ডু ইউ থিঙ্ক আই’ম নট সুইট ইনাফ‚ হাহ! কাম অন দেন… টেস্ট মি প্রপার‚ অ্যান্ড টেল মি ইফ আই’ম আ ভার্জিন অর নট!”
কপালের ওপর হাত ফেলে চোখদুটো বুজে পড়ে ছিল আশফি৷ মারিশাকে অমন রূঢ় কথা শুনিয়ে একা ফেলে চলে এল‚ কী করছে এখন সে! এই চিন্তাতেই ঘুম নামছিল না তার চোখে৷ এর মাঝেই কানে এল ওর চেঁচামেচির শব্দটা৷ চমকে উঠল সে। পরাগও নড়েচড়ে উঠল তখনই৷ সে মুহূর্তেই মারিশার শেষ কথাগুলো শুনতে পেল ওরা দুজন৷ সহসাই ঘুম উবে গেল পরাগের। এক ঝটকায় পাশ ফিরে বিস্ফারিত চোখে তাকাল সে আশফির দিকে৷ প্রচণ্ড বিস্ময় আর লজ্জায় আশফি তাকাতে পারল না। ঝড়ের গতিতে উঠে তাঁবু থেকে বেরিয়েই সে দৌড় লাগাল৷
মারিশা তখনো তাঁবুর চেইন টানেনি৷ তাই চট করে ভেতরে ঢুকতে আর অসুবিধা হলো না আশফির। ঢুকেই চেইনটা দ্রুত টেনে দিল। কিন্তু ওকে দেখা মাত্রই মারিশা চিড়বিড়িয়ে উঠল‚ “হাউ ব্লাডি শেইমলেস! সত্যিই চলে এসেছ টেস্ট করতে?”

শেষ কথাটা তাঁবুর বাইরে গেল না আর৷ তার আগেই আশফি ওর ওপর ঝুঁকে মুখটা চেপে ধরল। তারপর দিল একটা চাপা ধমক‚ “বেয়াদবের বেয়াদব‚ চুপ! শেইমলেস আমি না তুমি? মাতলামি করছ‚ শয়তান! কী ভাববে সবাই তোমাকে‚ হ্যাঁ? আর আমাকেইবা কী ভাববে? যে একটা পাগল‚ মাতালকে আমি বিয়ে করেছিলাম এককালে!”
শেষের কথাতে মারিশা আরও চটে গিয়ে আশফির টি শার্টের গলা চেপে ধরল৷ তারপরই একটা ধাক্কা দিয়ে ওকে ফেলে দিয়ে ওর বুকের ওপর চড়ে বসল। বাঘিনীর মতো হামলে পড়ে ইংরেজিতে অশ্রাব্য গালিগালাজ করতে লাগল আর সেই সাথে তীক্ষ্ণ একেকটা চিমটি… ভোঁতা নখের একেকটা খামচি।
কিছুক্ষণ দু হাতে সেই হামলা ঠেকাল আশফি৷ কিন্তু মারিশার মুখটা তো আটকানোর ব্যবস্থাও করতে হবে৷ গায়ের জোরে ওকে ঠেলে সরিয়ে উঠে বসেই এক হাতে ওকে শক্ত করে জাপটে ধরে অন্য হাতে মুখটা বন্ধ করে কঠিন এক হুমকি দিল‚ “আর একটা সাউন্ড করো শুধু! কামড়ে মুখের মাংস ছিঁড়ে নেব বললাম!”
সঙ্গে সঙ্গেই দাঁতের আক্রমণটা বসাল মারিশা৷ এমন জোরে আশফির অনামিকা আঙুলটা কামড়ে ধরল‚ ব্যথার চোটে তীব্র চিৎকার বেরিয়ে এল ওর গলা থেকে। মুখটা তখন ছেড়ে দিয়েই রেগেমেগে মারিশার কান টেনে ধরল ভীষণ বেগে‚ মুখ ফসকে গালি দিয়েও বসল‚ “জানোয়ার হয়ে গেছ? কুকুরের মতো কামড়াকামড়ি‚ খামচাখামচি শিখেছ শুধু!”

“আবার বকছ তুমি?” পালটা রাগ দেখিয়ে বলল মারিশা‚ “আমাকে বকা দেওয়ার তুমি কে‚ হ্যাঁ? যাও… বের হও‚ চরিত্রহীন লোক! তোমার মতো চরিত্রহীনকে আমি সেদিন চুমু খেয়েছি… ইয়াক! না জানি ওই ঠোঁটে আরও কত মেয়েকে….”
ঠাস করে ওর মাথায় একটা থাপ্পড় বসাল আশফি৷ ভালোই জোরে ছিল থাপ্পড়টা। ব্যথায় মারিশা উফ্ করে উঠতেই আরও একটা গাট্টা দিল ওর মাথার পেছনে। খুব রেগে গেছে আশফি। দাঁতে দাঁত চেপে ওকে বলল‚ “আই সুয়্যার‚ আর একটা ফালতু কথা বললে হাত-পা বেঁধে‚ মুখ বেঁধে এখানে ফেলে রাখব আমি‚ মিরান না আসা পর্যন্ত৷ যা খুশি তাই করছ‚ কিছু বলছি না বলে ভেবেছ আশকারা দিচ্ছি তোমাকে!”

থমকাল মারিশা মুহূর্তেই৷ কিন্তু বেশিক্ষণের জন্য নয়৷ রাগটা ওর বরাবরই পাগলা রাগ কিনা! তবে এবার গলাটা নামিয়ে বলল‚ “সত্যি কথা ভালো লাগে না কারোরই। আমাকে তো ডেনিজ শুধু গালে ঠোঁট চেপে চুমু খেয়েছিল। আর তুমি যে তোমার গার্লফ্রেন্ডসের ঠোঁট চেপে ধরে চুমু খাও! ওদের সঙ্গে ঘুমাও৷ কতটুকু কন্ট্রোল করে রেখেছিলে নিজেকে? বউ চলে গেছে‚ আর তোমার সংযমের বাঁধও ভেঙে গেছে! আমি ডেনিজের এক বিছানাতে থেকেও দাপুটে গলায় যা বলতে পারব‚ তুমি আশফি তা তোমার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে বলতে পারবে না৷ তুমি কষ্ট পেয়েছ বেশি। কিন্তু আমার থেকে ভালোটা তুমি বেশি বাসতে পারোনি। আমি আর ভার্জিন নই‚ এটা ভেবেই তো আরও বেশি আমাকে অসহ্য লাগে তোমার৷ অথচ আমি তোমার কাছে আসার আগেই দিশান আমাকে তোমার সমস্ত প্রেমকাব্য জানিয়ে দিয়েছিল‚ যেন ফেরার আগে আমি একবার ভেবেচিন্তে নিই৷ কষ্ট লাগলেও আমার কাছে এসব কিছু ছিল তুচ্ছ। তোমার কাছে ফেরাটাই ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য৷ কিন্তু আমার মৃত মায়ের কসম করে বলছি‚ আমি জীবনেও আর তোমার কাছে আমাদের সম্পর্কের দাবি নিয়ে দাঁড়াব না।”

কথাগুলো শেষ করেই তাঁবু থেকে বেরিয়ে পড়ার জন্য উঠতে চাইলো সে৷ তখনই আশফি ওকে দু হাতে জাপটে ধরল। ছোটাছুটি করল মারিশা গায়ের সমস্ত জোর দিয়ে। কিন্তু ওর রুগ্ন‚ নরম শরীরটা বুকের মধ্যে ধরে রাখতে কোনো বাড়তি শক্তি খরচই করতে হলো না তাকে। তবে খ্যাপা রাগ চেপেছে যে পাগলটার! নিজেকে ছাড়াতে না পেরে সে চিৎকার করে উঠল‚ “হেই… কেউ বাঁচাও আমাকে! দিব্য… জলদি বাঁচাও…”

বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ১৪

দিব্যর নামটা নিতেই যেন আগুন জ্বলে উঠল আশফির মাথার মধ্যে৷ সেই আগুনে ছাড়খাড় করতেই বোধ হয় মারিশার গালটা চেপে ধরে ওর ঠোঁটদুটো লুকিয়ে নিল নিজের উষ্ণ ঠোঁটের ভাঁজে।
তবে অতীতে এটাই ছিল তার মারিশাকে চুমু খাওয়ার পুরনো রীতি৷

বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ১৬