Home বুনো মেঘের হাতছানি বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ৫

বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ৫

বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ৫
ইসরাত জাহান দ্যুতি

চমকে উঠল সবাই মারিশার চিৎকার শুনে৷ ড্রাইভারও আঁতকে উঠে পেছন ফিরে তাকাল একবার। সবার আগে দিব্য চিন্তিত মুখে জিজ্ঞেস করল‚ “কী হলো‚ গুরাস? কী হয়েছে?”
গুরাস! ডাকটা শুনেই কোমর ডলাডলি থেমে গেল শেহনানের। অসহ্য এক বিরক্ত নিয়ে ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল দিব্যর দিকে। ধমক একটা দিতে গিয়েও শেষে দিল না কী ভেবে যেন।
এদিকে সবার প্রশ্নমুখে পড়ে মারিশা কটমটিয়ে শেহনানকে একবার দেখে গম্ভীরভাবে জানালার বাইরে তাকাল। তার থেকে সরে এসে একদম কোণা ঘেঁষে বসল। কব্জির ওখানে ডলতে ডলতে ভার গলায় জানাল‚ “স্বপ্ন দেখছিলাম গাড়িটা খাদে পড়ে গেছে। তাই ড্রাইভারকে গালি দিয়ে ফেলেছি।”
কথাটা শুনে আর ওর বলার ধরনে কেউ না হেসে পারল না। এ নিয়ে চলল বেশ কিছুক্ষণ নানারকম মশকরা আর কথাবার্তা।

এসবের মাঝেই ডামৌলি থেকে পোখরার পথে ঢুকে পড়ল ওদের গাড়ি। যত এগোতে থাকল‚ বাতাস ততই শীতল আর হালকা হতে শুরু করল। এর আগে যে উষ্ণ আর ধুলোময় বাতাস ছিল‚ তা এখন এক স্নিগ্ধ‚ পাহাড়ি সুবাসে ভরে উঠেছে। রাস্তার দু’পাশে থাকা ছোটো ছোটো পাহাড়গুলো ধীরে ধীরে আরও বড়ো আকার ধারণ করছে। কিন্তু এই পথ তুলনামূলকভাবে মসৃণ এবং সোজা।
ডামৌলি থেকে পোখরার রাস্তা শেষ হতেই গাড়িটা ধীরে ধীরে উপত্যকার দিকে নামতে থাকল। এই সময় প্রথমে পোখরা শহরের বাইরের দিকটা দেখতে পেল সবাই। আর তার পরপরই চোখে পড়ল বিশাল ফেওয়া লেক। লেকের শান্ত জল তার চারপাশের সবুজে মোড়া পাহাড় আর গাছপালার এক স্নিগ্ধ প্রতিচ্ছবি ধারণ করে আছে যেন৷
লেকের একপাশে ঘন বনভূমিটা হলো পাইন আর ওক গাছের সারি দিয়ে ঘেরা। কিন্তু এর চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় হলো লেকের ধারের রডোডেনড্রন গাছগুলো। লাল‚ গোলাপি আর সাদা ফুলে ভরে উঠেছে এই গাছগুলো। ফুলগুলোতে লেকটা এত মনোরম হয়ে উঠেছে‚ যে রাতের বেলাতেও চোখ ধাঁধিয়ে যেতে চাইছে ওদের৷ দিনের আলোয় লেকের এই সৌন্দর্য আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই ফুলগুলোই হলো গুরাস ফুল। নেপালের স্থানীয়রা লাল গুরাসকে লালিগুরাস নামে ডাকে। লালিগুরাসই নেপালের জাতীয় ফুল। বসন্তকালে সারা নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে ভরে ওঠে এই ফুলে৷

লেকের অন্যদিকে আবার কিছু খোলা জায়গায় সবুজ ঘাসের বিশাল গালিচা। সেখানে অলস দুপুরে বসে অথবা ভোরের হাওয়ায় খালি পায়ে হাঁটলে এক অন্যরকম প্রশান্তি অনুভূত হয়। ছোটো ছোটো পাহাড়ি ঝোপঝাড় আর নানা ধরনের ফার্নও এই সবুজের অংশ। লেকের অগভীর অংশে পদ্ম আর শাপলা ফুলের মতো জলজ উদ্ভিদও দেখা গেল। জলের পাশে বাঁশঝাড় আর বুনো লতাপাতাই লেকের ধারে এক প্রাকৃতিক বেষ্টনী তৈরি করেছে যেন। ফেওয়া লেকের এই শান্ত‚ স্নিগ্ধ জলের বুকে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের মতো দাঁড়িয়ে আছে একটি ছোট্ট দ্বীপ। আর সেই দ্বীপের সমস্ত আকর্ষণ হলো তার বুকে থাকা তাল বারাহি মন্দির। দ্বীপের যত কাছে যাওয়া যায়‚ ততই মন্দিরের অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী চোখে পড়ে। লাল ইট আর সোনালি কারুকাজে তৈরি এই মন্দিরটি দেখতে অনেকটা প্যাগোডা-এর মতো। ​মন্দিরটি দেবী বারাহির উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। যিনি বিষ্ণুর একটি রূপ। গোমড়া মুখেই মারিশা দু চোখ ভরে দেখতে থাকল। দ্বীপের চারপাশে সবুজ গাছপালা আর ছোটো ছোটো ফুল মন্দিরটিকে যেন এক স্বর্গীয় রূপ দিয়েছে। স্মানীয় আর পর্যটকরা নৌকা করে এই দ্বীপে পৌঁছায়৷ কিন্তু শেহনানদের সফর লিস্টের বাইরে এই দ্বীপটি। তাই সেখানে আর যাওয়া হবে না কারও।

দিব্য হঠাৎ পেছন থেকে মারিশাকে ডেকে বলল‚ “ওহো গুরাস‚ তোমার শহরে তো চলে এসেছি৷ চারপাশে এখন শুধু তোমাকেই দেখতে পাচ্ছি। ছুঁয়ে দেখলে আবার রাগ করবে না তো?”
কথাটা দ্ব্যর্থকপূর্ণ হলেও মুহূর্তেই এমন ধারাল দৃষ্টিতে ঘুরে তাকাল শেহনান‚ শুধু সাপের মতো ফোঁস করে ওঠাটাই বাকি ছিল৷ ফুলকে ছুঁয়ে দেখার আড়ালে দিব্য যে মারিশাকে ছুঁতে চাওয়ার বাসনা প্রকাশ করল‚ তাই ফ্লার্টিংটা একদমই সহ্য হলো না তার৷ কিন্তু আফসোস‚ কিছু বলতেও পারল না সম্পর্ক আর পরিস্থিতি আজ ভিন্ন থাকায়।
কিন্তু দিব্য এবার আর ছেড়ে দিল না তাকে। হঠাৎ হঠাৎ তার এমন ক্ষিপ্ত চাউনি কেনইবা মেনে নেবে? ধমকে উঠে বলল‚ “কী হয়েছে তোর? ছ্যাঁৎ ছ্যাঁৎ করে উঠছিস কেন বারবার?”
শেহনানও আর চুপ করে রইল না‚ “কথার লাইন ঠিক রাখিস কিন্তু। সব জায়গায় তোর চিজি ফ্লার্টিং ভালো লাগে না আমার।”

“কোথায় ফ্লার্ট করলাম”‚ অবুঝের মতো চেহারা করে দিব্য বলল‚ “আমি তো লেকের ধারের গুরাস ফুল নিয়ে বললাম৷”
শেহনান জানত‚ উত্তরটা এমনই দেবে শয়তানটা। শেষবারের মতো ওকে শক্ত চাউনি ছুড়ে ফিরে তাকাল সামনে৷ এক ফাঁকে মারিশাকেও দেখে নিতে ভুলল না। সেই তখন থেকে মুখটা হাঁড়ির মতো বানিয়ে চুপচাপ জানালার বাইরে চেয়ে আছে দস্যিটা৷ দিব্যর ফ্লার্টিংয়েও কোনো অভিব্যক্তি প্রকাশ করল না।
হাতটার দিকেও একবার তাকাল শেহনান। অন্ধকারে দেখতে পেল না‚ চাপ দেওয়া কব্জির জায়গাটাই লালচে দাগ তৈরি হয়েছে। তবে না দেখলেও সে জানে‚ সেখানে দাগ পড়ে গেছে৷ তা মিলিয়েও যাবে আর কিছুক্ষণ পর। ব্যথাটাও সেড়ে যেতে সময় লাগবে না। তাই খুব একটা অনুশোচনা দেখা গেল না তার মাঝে। মনে মনে আরও শ্লেষাত্মক মন্তব্য করল‚ “যেন সকল কষ্ট দেওয়ার অধিকার একমাত্র ওনারই! হুহ্!”
লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করার পর গাড়ি আরও কিছুটা পথ এগোল। শহরের মূল অংশে প্রবেশ করার সময় হঠাৎ মারিশা সোজা হয়ে মাথাটা আরেকটু সামনে বাড়াল। দূরে‚ আকাশের বুকে ভেসে উঠেছে এক বিশাল বরফের পাহাড়। যার আকৃতি মাছের লেজের মতো। এই পর্বতটি ফেওয়া লেকের উত্তর দিকে অবস্থিত৷ তাই এটি দূর থেকে দেখা যায়। মারিশার মনে হলো লেকের ঠিক ওপরে যেন একটি বিশাল সাদা মাছের লেজ ভেসে আছে। এতক্ষণে ওর চঞ্চলতা ফিরে এল।

চোখে ওর কৌতূহল দেখে শেহনান হঠাৎ পাশ থেকে বলে উঠল‚ “ওটাকে বলে মাছপুচ্ছ পর্বত। আর ওটার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে অন্নপূর্ণা রেঞ্জের বরফঢাকা বিশাল চূড়াগুলো। এটা পোখরার সবচেয়ে এনচ্যানটিং ভিউ।”
“পর্বতটা অন্নপূর্ণা রেঞ্জেরই অংশ না?” পাহাড়ের চূড়াগুলো দেখতে দেখতেই জিজ্ঞেস করল মারিশা‚ “লেক থেকে কত দূর ওগুলো? মার্চ মাসেও বরফে ঢাকা কেন?”
ভ্রু কুঁচকে ফেলল শেহনান‚ “পঁচিশ কিলোমিটার দূরে হবে। দূরত্ব বেশি হলেও এটার স্বতন্ত্র আকৃতি আর অবস্থানের জন্য পোখরার প্রায় সব জায়গা থেকেই স্পষ্ট দেখা যায়।”
জবাবটা দিয়েই জিজ্ঞেস করল‚ “এটার উচ্চতা কত জানেন?”
একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল মারিশা। উত্তর দিল না কোনো৷ কারণ‚ উত্তরটা দিলেও এখন বাঁকা কথা শুনতে হবে।
হলোই তাই। শেহনান তির্যক সুরে বলল‚ “ওয়াও! না জেনে‚ না পড়েই ট্রেকিং করতে চলে এসেছেন? কী চমৎকার ট্রেকার… বাবা!”

তারপর জানাল‚ “মাছপুচ্ছ পর্বতের উচ্চতা ছয় হাজার তিনশো তিরানব্বই মিটার। আর অন্নপূর্ণা রেঞ্জের চূড়াগুলো এতটাই উঁচুতে যে‚ তাদের পায়ের কাছে থাকা মেঘগুলোও তাদের ছুঁতে পারে না। চূড়াগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত। অন্নপূর্ণা একের উচ্চতা আট হাজার একানব্বই মিটার। এই উচ্চতায় সারা বছরই তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকে। তাই বরফ জমে থাকাটা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। হিমালয়ের ক্ষেত্রে স্নো লাইন পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার মিটার উচ্চতায় থাকে‚ এটা জানেন আশা করি? অন্নপূর্ণার চূড়াগুলো এই স্নো লাইনকে অনেক আগেই পার করে গেছে৷ তাই বসন্তকাল আসার পরও চূড়াগুলো বরফে ঢাকা থাকে।”
চুপচাপ শুনে গেল মারিশা। কিন্তু চঞ্চলতা আবারও বিলীন হয়ে গেছে ওর৷ সত্যিই কোনো কিছুই জেনেশুনে আসেনি সে। অথচ একজন পর্বত আরোহীর বৈশিষ্ট্য এটা নয়। নিজের শারীরিক দুর্বলতাকে তুচ্ছজ্ঞান করে সে তো কেবল ছুটে এসেছে অভিমানী বুনো গন্ধরাজের রাগে‚ কষ্টে আর অভিমানে পাথর হওয়া হৃদয়টাতে নতুন করে জায়গা গড়তে। এছাড়া আর কিছু মাথাতেই ছিল না যে ওর!
কৃত্রিম আলোয় ভরে ওঠা পোখরার শহরটাকে দেখতে দেখতে ওরা কাস্কি জেলাতে ঢুকে পড়ল। পৌঁছাল রূপাকোট গ্রামে৷ যে রিসোর্টটিতে ওরা থাকবে সেটার নামও রূপাকোট রিসোর্ট৷ রিসোর্টটা পোখরার লেকসাইড থেকে প্রায় বাইশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত৷ বেগনাস এবং রূপা—এই দুটি লেকের মাঝখানে একটি পাহাড়ি চূড়ায় এটা তৈরি করা হয়েছে। রিসোর্টটা এমন এক জায়গায় অবস্থিত যেখান থেকে পুরো উপত্যকা আর উপত্যকার চারপাশের দৃশ্য দেখা যায় প্রাণ ভরে।

রিসোর্টে পৌঁছানোর পর লবিতে ঢুকতেই রিসোর্টের কিছু সুন্দরী স্টাফ ওদেরকে অর্ভ্যথনার সঙ্গে সবার হাতে কমলার জুস তুলে দিল৷ মারিশা ক্লান্ত শরীরটা সোফায় এলিয়ে দিয়েই শেষ। মুখেও নিল না জুসটা৷
সবাই চেক-ইন করার সময় হৃদয় হঠাৎ হাসতে হাসতে মারিশাকে বলল‚ “আমরা তো আগেই রুম বুকিং দিয়ে এসেছি৷ আপনার জন্য যদি রুম না পাই‚ তাহলে আজ কার সঙ্গে রুম শেয়ার করবেন?”
মারিশার ইচ্ছা করল‚ হাতের নাগালে থাকা জুসের গ্লাসটা ছুড়ে মারতে হৃদয়ের মুখে৷ কিংবা খাস বাংলায় বলতে‚ “তুই কি আমার নাগর হোস‚ ভোঁটকা শালা!”
যদিও হৃদয় মোটা নয়। কিন্তু সবার থেকে ওর স্বাস্থ্যটাই বেশি ভারী৷ মারিশা কাঠকাঠ সুরে জবাব দিল‚ “আমিও বুকিং দিয়েই এসেছি।”

“মানে এই রিসোর্টেই?” দারুণ অবাক হলো হৃদয়‚ “হোয়াট আ কোয়িনসিডেন্স!”
“কোয়িনসিডেন্স‚ না-কি প্ল্যানড‚ তা কি তোর হাতি মাথায় ঢুকবে‚ শালা মিটবল?” মনে মনেই হৃদয়কে বকেঝকে তুষ্ট হলো মারিশা। মুখে কোনো জবাব না দিয়ে হঠাৎ কপালে ভাঁজ ফেলে আশপাশে চোখ বুলাতে শুরু করল।
তা লক্ষ করে হৃদয় জিজ্ঞেস করল‚ “কাউকে খুঁজছেন?”
“হুঁ”‚ খুঁজতে খুঁজতেই বলল মারিশা‚ “শেহনানকে দেখছি না যে? ও কোথায়?”
“অ্যাঁহ্!” চোখ-কপাল কুঁচকে হৃদয়ও আশপাশে চেয়ে নতুন কাউকে খুুঁজতে খুঁজতে জিজ্ঞেস করল‚ “শেহনান আবার কে? আরও কেউ ছিল না-কি আমাদের সাথে? কই‚ চোখে পড়ল না তো! অদৃশ্য হয়ে ছিল?”
এবার বিশ্রীরকম খারাপ হলো মারিশার মেজাজ। মনে মনে করা গালাগাল প্রায় মুখেই চলে এল ওর। চোখ গরম করে চেয়ে উঠে দাঁড়াতেই হৃদয় তা দেখে একটু ভড়কে গেল। যে সুন্দরীর মুখে সারা পথ মিষ্টি হাসি দেখেছে‚ তার আচমকা অগ্নিশর্মা রূপ দেখে মজা করার সাধও ঘুচে গেল তার৷ মারিশা বকে ওঠার আগেই সে তড়িঘড়ি করে সৌভিককে ডেকে উঠল‚ “এ সৌভিক‚ শেহনান কে রে‚ ভাই? একটু তাড়াতাড়ি খুঁজে আন প্লিজ।”

রিসেপশনিস্টের থেকে রুমের চাবি নিচ্ছিল সৌভিক৷ আর পরাগ‚ দিব্য তার পাশেই দাঁড়ানো৷ হৃদয়ের প্রশ্ন শুনে সবাই-ই প্রশ্নচোখে ফিরে তাকাল৷ চাবি নিয়ে ওরা ফিরে আসতেই হৃদয় মারিশাকে বলল‚ “সরি‚ ম্যাডাম। আমি তো চিনি না৷ ওদের থেকে জিজ্ঞেস করে নিন না হয়!”
একবার হৃদয়কে দেখে আরেকবার মারিশাকে দেখল দিব্য‚ “কী হয়েছে?”
“ম্যাডাম শেহনানকে খুঁজছেন”‚ জানাল হৃদয়‚ “কিন্তু আমি তো তাকে চিনতে পারলাম না।”
নামটা শুনে বাকিদেরও কপালে ভাঁজ পড়ল। তা দেখে কেমন বিব্রত হয়ে পড়ল মারিশা৷ এরা যে কেউ মজা করছে না‚ তা বুঝতে পারল ভালোই৷ শেহনানের অন্য নামটা বলতেই যাবে সে‚ তখনই লবিতে এসে হাজির হলো শেহনান। বাইরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিল সে এতক্ষণ। রিসেপশনিস্টের কাছে যেতেই মারিশা আঙুলের ইশারায় ওকে দেখিয়ে বলল‚ “ওর কথা বলছিলাম।”
শেহনানের দিকে সবাই অদ্ভুতদর্শনের মতো তাকিয়ে রইল তখন। এর মাঝে দিব্য বলে উঠল‚ “ও আবার শেহনান হলো কবে থেকে?”

তারপরই হঠাৎ নাটকীয় সুরে ডেকে উঠল‚ “বাবা আনজার…?”
ডাকটা শুনেই শেহনান ভ্রু কুঁচকে তাকাল। দিব্য হাতছানি দিয়ে কাছে ডাকল ওকে৷ চেক-ইন শেষ করে শেহনান আসতে লাগলে তখনই দিব্য বলল‚ “তা বাবা‚ তুমি দাদার নাম দিয়ে আকিকা করলে কবে? দুইটা খাসি দিয়ে করলে‚ না-কি চারটা দিয়ে করলে?”
“হপ্”‚ ধমক লাগাল শেহনান‚ “এটা ফাজলামি করার জায়গা?”
“না‚ ও জায়গা ভালোই জানা আছে আমার। তুমি দাদার রাখা নামটাকে বৈধতা দিতে চাও না কি দাদার নামটাই দখল করবে বলে?”

পরাগের ধৈর্যে কুলাল না দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এত মশকরা করার৷ সে সরাসরি জিজ্ঞেস করল শেহনানকে‚ “তুই ওনাকে নিজের নামের বদলে দাদার নাম বলেছিস কেন?”
শেহনান অদ্ভুতভাবে হাসল মারিশার দিকে চেয়ে৷ তাচ্ছিল্যপূর্ণ সে হাসি। ওই হাসি দেখে আর ভালো লাগল না মারিশার৷ হাঁসফাঁস লাগতে শুরু করল ওর৷

বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ৪

“দাদার মতোই এক বিদেশিনীর থেকে ছ্যাঁকা খেয়েছি তো…”‚ উপহাস করে বলল শেহনান‚ “তাই দাদার নামেই পরিচিত হতে চাচ্ছি।”
কথাটা শোনামাত্রই মারিশা আর দাঁড়াল না৷ চেক-ইন করেও অপেক্ষা করল না ওদের জন্য। নিজের মতো চলে গেল নিজের রুমে।

বুনো মেঘের হাতছানি পর্ব ৬