Home ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ১৩+১৪

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ১৩+১৪

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ১৩+১৪
তানিশা ভট্টাচার্য্য

কেটে গেছে আরো দুটো দিন আজ সকালবেলা রুদ্র বাবু এসেছেন আর্ভিকদের বাড়িতে তানভী কে নিয়ে যেতে। এখান থেকে নিয়ে গিয়ে তাকে স্কুলে ভর্তি করাবেন বলে। তানভী তখন সোফায় বসে টিভি দেখছে সেই মুহূর্তে আর্ভিক সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিল। সে দেখল রুদ্রবাবু তার বাবা মায়ের সাথে বসে কথা বলেছিলেন আর্ভিক সেদিকেই এগিয়ে গেল তারপর সবাইকে প্রণাম করে ঠোঁটে মৃদু হাসি রেখে রুদ্র বাবুকে বলল

-“আঙ্কেল কখন এলেন”
-“এইতো মাত্রই এলাম,তানভীকে নিতে এসেছি”
রুদ্র বাবুর কথায় আর্ভিক অত্যন্ত বিরক্ত হলো এবং ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করল
-“কেন?”
-“মামনিকে স্কুলে ভর্তি করতে হবে।”
-“তার দরকার নেই আঙ্কেল আমি কালকেই ওর এডমিশন করে এসেছি। এখান থেকে ওর স্কুলটা কাছে হবে। তাই ও এখন থেকে এখানেই থাকবে। তাছাড়া আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওর প্রাইভেট টিউটর চলে আসবে।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

-“কিন্তু বাবা”
-“কোন কিন্তু না আঙ্কেল! অলরেডি চারমাস লেট হয়ে গেছে আমি চাইনা ওর পড়াশুনোয় আর দেরি হোক কাল থেকেই ও স্কুলে যাবে।”
-“ঠিক আছে তাহলে এখন আমি আসি”
তারপর সকলের থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন রুদ্র বাবু। আর্ভিক কারোর হাসির শব্দের পিছন ঘুরে তাকালো, সে দেখলো তানভী বসে টিভি দেখছে আর হাসছে। আর্ভিক গিয়ে টিভির রিমোট টা নিয়ে টিভিটা বন্ধ করে দিল। টিভিতে একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ঘটনা হচ্ছিল তার মাঝখানে টিভি টা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তানভীর খুব বিরক্তির সঙ্গেই বলে ওঠে

-“এই কে রে!”
এটা বলেই সে পিছনের ঘুরে তাকিয়ে দেখে আর্ভিক অগ্নিদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। সেটা দেখে তানভী কাঁপা কাঁপা গলায় বলে
-“আ..আ.. আর্ভিক ভ..ভা..ভাই আ..আপনি!!”
আর্ভিক গম্ভীর রাগী কন্ঠে তাকে বলল
-“You have only five minutes, এরমধ্যে যদি রুমে গিয়ে বই নিয়ে না বসিস,Then I don’t even know what to do with you. Mind it. I repeat you have only 5 minutes.”
আর্ভিকের কথা শেষ হওয়া মাত্রই তানভী প্রাণপণে দৌড় দিল। তা দেখে আর্ভিক মুচকি হেসে অফিসের জন্য বেরিয়ে গেল।

আজ আর্ভিকের অফিসে প্রথমদিন আর্ভিকের জয়েনিং-এর জন্য একটা ছোট্ট অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন অভিক সাহেব এবং অফিসের স্টাফরা মিলে। সব কিছু শেষ করে আর্ভিক তার কেবিনে বসে ছিল এমন সময় আর্ভিকের ফোনটা বেজে উঠলো আর্ভিক কলটা রিসিভ করতেই ফোনের ওপাশ থেকে একজন পুরুষালী কন্ঠে বলে ওঠে
-“স্যার, কাজ হয়েগেছে।”
-“Good!”
কথাটা বলেই আর্ভিক কলটা কেটে দিল এবং তারপর একটা ডেভিল স্মাইল দিল।

গ্ৰীষ্মের বিকালের রক্তিম সূর্যটা অস্ত যাবে যাবে করছে এই সময় আকাশটা কে অসম্ভব সুন্দর দেখাচ্ছে, মনে হচ্ছে যেন কেউ রং তুলি দিয়ে সুন্দর করে এঁকে ফুটিয়ে তুলেছে। ছাদের একজায়গার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্যটা উপভোগ করছিল ষোলো বছরের ছোট্ট কিশোরী। হালকা ফুরফুরে বাতাস এসে ছুঁয়ে দিচ্ছিল তাকে। এক অদ্ভুত অনুভূতির শিহরণ বয়ে যাচ্ছে তার শরীরে। হঠাৎ কারোর ডাকে তার হুঁশ ফিরে পাশে তাকিয়ে দেখে ঋষি দাঁড়িয়ে আছে আর তাকে জিজ্ঞাসা করছে

-“বোনু এখানে কী করছিস?”
-“কিছু না ভাইয়া, ভালো লাগছিল না তাই এখানে এলাম।”
-“ও আচ্ছা। এখন নীচে চল ভাইয়া ফোন করেছিল, তোকে রেডি হয়ে থাকতে বলেছে।”
তানভী এবার ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করল
-“কেন!?”
-“সেটা জানি না,বলেনি আমাকে। শুধু বলল তুই যেন রেডি থাকিস, ভাইয়া অফিস থেকে ফিরে তোকে নিয়ে যাবে।”

ঘড়িতে সন্ধ্যে ৬.৩০ বাজে আর্ভিকের মা ঠাকুর ঘরে সন্ধ্যা দিচ্ছিলেন আর তানভী রেডি সোফায় বসে আর্ভিকের জন্য অপেক্ষা করছিল। ঋষি তানভীর পাশের সোফায় বসেছিল। এমন সময় আর্ভিক এল তার হাতে থাকা ব্যাগটা তানভী কে দিল। তানভী দেখল সেটার মধ্যে তার স্কুল এর ইউনিফর্ম রয়েছে। তারপর আর্ভিক কন্ঠ খাদে নামিয়ে তানভীকে বলল
-“১০ মিনিট ওয়েট কর। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।”
ঠিক ১০ মিনিট পর আর্ভিক রেডি হয়ে এসে বলল

-“চল”
তানভী ও বাধ্য মেয়ের মত আর্ভিকের সাথে যাচ্ছিল তখনই আর্ভিকের মা আর্ভিককে বলল
-“সিনু, কিছু খেয়ে যা বাবা। সবেই তো এলি।”
আর্ভিক যাওয়া থামিয়ে ওর মা কে বলল
-“এসে খাব”
এই বলে তানভীকে নিয়ে বেরিয়ে গেল। আর্ভিক তার বাইকে উঠে বসল(Royal Enfield Bullet 350)। তারপর তানভীকে হেলমেট পড়িয়ে দিয়ে উঠে বসতে বলল। প্রায় ১০-১৫ মিনিট হয়ে গেছে আর্ভিক বাইক চালাচ্ছে, কলকাতা শহরের বড় বড় অট্টালিকা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে। রাতের বেলা শহরটাকে বেশ লাগছে তানভীর। তানভী আর্ভিককে জিজ্ঞাসা করল

-“কোথায় যাচ্ছি আমরা আর্ভিক ভাই?”
আর্ভিক কোনো উত্তর দিল না। তানভী আবার জিজ্ঞাসা করল
-“আর্ভিক ভাই কোথায় যাচ্ছি আমরা?”
আর্ভিক এবারেও কোনো উত্তর দিল না। তাকে এরকম চুপ করে থাকতে দেখে তানভীর বেশ বিরক্ত লাগল তাই সে এবার বলল

-“আমাকে বাড়ি দিয়ে আসবেন?”
তখনই সঙ্গে সঙ্গে আর্ভিক গম্ভীর কন্ঠে উওর দিল
-“না”
-“কেন!!?”
-“কারণ না জানলেও চলবে তোর।”
তানভীর বেশ খারাপ লাগল কথাটা শুনে। সেটা আর্ভিক ভালোই বুঝতে পারল,তাই সে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল
-“কেন যেতে চাইছিস। কি সমস্যা এখানে থাকতে? কেউ কি কিছু বলেছে??”
-“না”
তানভী ছোট করে উওর দিল। আর্ভিক আবার জিজ্ঞাসা করল

-“তাহলে?”
-“আমার গিটার আর ড্রইং এর জিনিস গুলো আনতাম। আসলে এগুলো আমার অভ্যাস তাই এগুলো ছাড়া থাকতে ভালো লাগছে না।”
আর্ভিক কোনো আর কিছু বলল না। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর বাইক থামাল একটা কোচিং সেন্টারের সামনে। তারপর তানভীকে নিয়ে কোচিং এর ভিতরে গেল।
কোচিং-এ ভর্তি করিয়ে আর্ভিক তানভীকে নিয়ে একটা ফুচকার দোকানে গেল তারপর ফুচকা ওর্ডার করল। তানভী ফুচকা খেতে ব্যাস্ত ছিল, তখন আর্ভিক দুটো আইসক্রিম এনে তানভী কে দিল। খাওয়া দাওয়ার পর্ব মিটিয়ে তানভীকে নিয়ে আর্ভিক বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল। এমন সময় হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে গেল। চন্দ্রালোকিত রাতের আকাশকে মুহূর্তেই গ্ৰাস করল কালো মেঘ। চারিদিক শান্ত হয়ে গেল দমকা বাতাস এসে জানান দিচ্ছে কালবৈশাখীর আগমনকে। হঠাৎ ই মেঘের বুক চিরে বৃষ্টি নামল। আর্ভিক একটা বন্ধ দোকানের ছাউনীর সামনে বাইক থামাল।

আর্ভিক আর তানভী অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে ওইখানে, তানভী বৃষ্টির জলের ফোঁটা গুলোকে হাত বাড়িয়ে অনুভব করছে। কিন্তু সে তো জানেই না যে এই দৃশ্য মুগ্ধ নয়নে কেউ দেখে যাচ্ছে। আর্ভিকের চোখ আটকে গেছে ছোট্ট কিশোরীর উপর ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেদিকে। তানভীর অনেক ইচ্ছা করছে বৃষ্টিতে ভিজতে কিন্তু ভয়ের জন্য কিছু বলতে পারছে না। কিন্তু অনেক কষ্টে সাহস যুগিয়ে বলল
-“আমি একটু ভিজব প্লিজ? একটু খানি প্লিজ।”
-“না”
-“একটু খানি প্লিজ”

আর্ভিক এবার আর কিছু বলল না। তাকে নীরব থাকতে দেখে তানভী ভেবে নিল যে আর্ভিক অনুমতি দিয়েছে তাকে, তাই সে দৌড়ে চলে গেল বৃষ্টির প্রতিটা ফোঁটাকে অনুভব করতে। আর্ভিক একদৃষ্টিতে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে সেদিকে। তানভী ভীষণ আনন্দে লাফালাফি করছে কিন্তু হঠাৎ করেই পা স্লিপ করে পড়ে যায় এবং ব্যাথায় চোখ বন্ধ করে পা ধরে বসে থাকে।তাকে পড়ে যেতে দেখে আর্ভিকের ঘোর কেটে যায় সে কোনো কিছু না ভেবে দৌড়ে যায় তানভীর কাছে,তারপর ডানহাতে তানভীকে কোলে তুলে নিল আর বাম হাতে ওর জুতো জোড়া নিল। হঠাৎ শূন্যে ভাসার অনুভব হওয়ায় তানভী চোখ মেলে তাকিয়ে নিজেকে আর্ভিকের কোলে আবিষ্কার করে। সে এই রকম পরিস্থিতিতে ভীষণ লজ্জা পেল।
আর্ভিক তানভীকে নিয়ে বাইকের ওপর বসাল তারপর তার পায়ে হাত দিয়ে বলল

-“জোরে ব্যাথা পেয়েছিস?”
-“না”
-“বারণ করলে তো কথা শুনিস না। দেখ কি হল‌।”
ততক্ষণে বৃষ্টিও থেমে গিয়েছে আর্ভিক আর সেখানে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে তানভীকে নিয়ে বাড়ি চলে এল।

রাত ৮ টার সময় আর্ভিক তানভী কে নিয়ে বাড়ি ফিরল। তখন অভিক সাহেব আর ঋষি সোফায় বসে টিভি দেখছিলেন। আর্ভিকের মা রান্না ঘরে রান্না করছিলেন,ওদের কে এই রকম অবস্থায় ফিরতে দেখে তিনি রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বললেন
-“সিনু, গুল্লু একি অবস্থা তোদের, তাড়াতাড়ি রুমে গিয়ে ভিজে জামা কাপড় পাল্টে ফ্রেশ হয়ে আয়। না হলে ঠাণ্ডা লেগে যাবে।”

এমন সময় টিভির নিউজ চ্যানেলে একটা নিউজ সবার মনোযোগ কাড়লো। নিউজটা ছিল “তরাই অঞ্চলের ড্রাগ ও নারী পাচারকারীদের সমস্ত ট্রাক নষ্ট করে পাচারকারীদেরকে স্পটেই কাউন্টার করেন মাফিয়া কিং A.V Roy”। নিউজটা শুনে আর্ভিকের মুখে একটা বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে। আর্ভিকের মা আবারও তাদের কে তাড়া দিয়ে বলল
-“কি হল যা, ভিজে শরীরে দাঁড়িয়ে থাকিস না ঠান্ডা লেগে যাবে।”
পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যাথা থাকার দরুন তানভীর হাঁটতে বেশ সমস্যা হচ্ছে এতক্ষণ হাঁটতে পারলেও এখন আর কোনো ভাবেই সে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে পারছে না। আর্ভিক ব্যাপারটা বুঝতে পেরে তানভীকে আবার কোলে তুলে নিল তারপর তাকে রুমে দিয়ে এল এবং বলল
-“চেঞ্জ করে নে, আর নীচে আসতে হবে না, আমি রুমে খাবার নিয়ে আসব।”
এরপর আর্ভিক নিজের রুমে চলে গেল, তারপর কাবাড থেকে একটা কালো টিশার্ট আর ক্রিম কালারের ট্রাউজার নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।

খাবার টেবিলে সবাই তানভী আর আর্ভিকের জন্য অপেক্ষা করছিল। তখন আর্ভিক এসে ওর মাকে বলল
-“মা প্লেটে খাবার বেড়ে দাও তো”
-“তুই বস আমি দিচ্ছি”
-“আরে আমার জন্য বলিনি”
আর্ভিকের মা এবার ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করলেন
-“তাহলে কার জন্য?”
-” তানভীর জন্য”
আর্ভিক কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল। আর্ভিকের কথায় অভিক সাহেব বললেন

-“কেন মামনি নীচে আসবে না? তুমি কি কিছু বলেছ ওকে”
-“না। বৃষ্টিতে পা স্লিপ করে পড়ে গিয়ে পা ব্যাথা পেয়েছে ওই জন্য নীচে আসতে আমি বারন করেছি।”
আর্ভিকের কথায় ঋষি অভিক সাহেব আর রাখী রায়চৌধুরী বেশ চিন্তিত হলেন। আর্ভিকের মা বললেন
-“আগে বলিসনি কেন!!”
-“তেমন একটা লাগেনি”
আর্ভিক শান্ত কন্ঠে উত্তর দিল তারপর খাবারের প্লেট নিয়ে চলে গেল।

তানভী রুমে বসে ফোন ঘাটছিল, তখনই আর্ভিক খাবারের প্লেট হাতে রুমে এল। তারপর বিছানার পাশে থাকা চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসে তানভী কে খাইয়ে দিতে থাকে। তানভী বাধ্য মেয়ের মতো খাবার খেতে থাকে। খাওয়ানো শেষ করে আর্ভিক একটা প্যারাসিটামল ট্যাবলেট তানভীকে দিয়ে বলল
-“এটা খেয়ে নে। বৃষ্টিতে ভিজেছিস জ্বর আসতে পারে। কালকে স্কুল আছে মনে আছে তো? আমি চাইনা যে প্রথম দিন স্কুল ছুটি হোক। আর হ্যাঁ, গাড়ি রেডি থাকবে তোকে স্কুলে দিয়ে আসবে আবার নিয়ে আসবে। স্কুল থেকে ফিরেই আবার কিন্তু কোচিং আছে।”
এই বলে আর্ভিক রুম থেকে বেরিয়ে গেল। তানভী ওষুধটা নিয়ে খেয়ে নিল। কিছুক্ষণ পর ভলিনী হাতে নিয়ে আর্ভিক আবার তানভীর রুমে এল, তারপর তানভীর ব্যাথা জায়গায় লাগিয়ে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

সকাল ৬টা বেজে ৪৫ মিনিট ঘড়ির কাঁটা ছুটে চলেছে আপন গতিতে আর্ভিক তানভীর রুমে আসে তাকে ঘুম থেকে ডাকতে, কিন্তু তানভীর বিছানার সামনে এসে থমকে যায় আর্ভিক তার চোখ আটকে যায় ঘুমন্ত মায়াবীনির মুখে। তাকে দেখতে একেবারে শুভ্রপরীর মতো লাগছে। আর্ভিকের একটুও ইচ্ছে করছে না তার শুভ্রপরীর ঘুম ভাঙ্গাতে, আর্ভিক অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে তানভীর মুখে উপর পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে তাকে ডাকে

-“তানভী, তানভী উঠে পড়।”
আর্ভিকের ডাকে তানভী কিছুটা নড়ে উঠলো আর্ভিক আবার ডাকলো। এবার তানভী ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকাল। আর্ভিক একবার দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকাল তারপর তানভীর দিকে তাকিয়ে বলল
-“পায়ের ব্যাথা কেমন আছে?”
তানভী ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলল
-“একদম ঠিক আছে”
-“Good! You have only 20 minutes. তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আয়।”
এই বলে আর্ভিক রুম থেকে বেরিয়ে যায়। তানভী বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে যায়। প্রায় ২০ মিনিট পর আর্ভিক তানভীর রুমে এল, এসে দেখল তানভী পুরো রেডি হয়ে গেছে।
সাদা রঙের হাফ হাতা শার্ট, গাঢ় ধূসর রঙের স্কার্ট, গাঢ় সবুজ রঙের টাই, কালো মোজা আর বুট সব মিলিয়ে স্কুল ইউনিফর্মে বেশ সুন্দর মানিয়েছে তাকে। আর্ভিক তানভীর কাছে গিয়ে বলল

-“দেখি, তোর বাম হাতটা এদিকে দে।”
তানভী হাতটা বাড়িয়ে দিল, আর্ভিক একটা ঘড়ি তার হাতে পড়িয়ে দিল। তারপর তানভীকে একটা লোহার স্টিক দিল। তানভী ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করল
-“এটা কী আর্ভিক ভাই?”
-“এটা আত্মরক্ষার জন্য দিলাম, বাইরে কোথাও বের হলে সব সময় নিজের সঙ্গে রাখবি এটা।”
তারপর আর্ভিক তানভীকে কীভাবে সেটা ব্যবহার করতে হয় শিখিয়ে দিল।
-“এই দেখ লেফ্ট সাইডের এই সুইচটা চাপলে একটা ছুরি বের হবে। আবার চাপলে পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। আর এইভাবে একবার নাড়ালে এটা একটা লোহার লাঠিতে পরিনত হবে।”
তানভী সেটা নিয়ে স্কুল ব্যাগে রেখে দিল।

ক্লাস রুমে বসে আছে তানভী নতুন স্কুল নতুন ক্লাসমেট তাই একটু ভয় ভয় লাগছে তার, এছাড়া বছরের মাঝামাঝি এডমিশান করার জন্য সব স্টুডেন্টরা কেমন একটা করে তাকাচ্ছে তার দিকে। এর মধ্যে একটা মেয়ে আর একটা ছেলে এসে তানভীর সামনে দাঁড়ায়। মেয়েটা তানভীকে বলে
-“You are Tanvi right?”
তানভী এতক্ষণ মাথা নীচু করে বসে ছিল মেয়েটির কথায় মাথা তুলে অবাক নয়নে তাকাল, মেয়েটা একগাল হেসে আবার বলল

-“Hi! আমি মেঘাদ্রি। আর্ভিক দাদার বেস্ট ফ্রেন্ড আছে না নীলাদ্রি, ওনার বোন।”
-“আর আমি রিকি। আর্ভিক দাদার আর এক বেস্ট ফ্রেন্ড, প্রেম দাদার ভাই।”
তানভীর নীলাদ্রির নামের সাথে পূর্ব-পরিচয় থাকলেও, প্রেম নামের কারোর সাথে তার পরিচয় নেই। তাই সে একবার মেঘাদ্রির দিকে তাকিয়ে তারপর রিকির দিকে তাকিয়ে বলল
-“নীল ভাইয়া কে আমি চিনি, কিন্তু প্রেম ভাইয়া কে তো ঠিক চিনলাম না।”
রিকি একটু মুচকি হেসে বলল

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ১০+১১+১২

-“আর্ভিক দাদার সাথে আমার দাদার অনলাইনে পরিচয় হয়। তারপর নীল দাদার সাথে হয় আস্তে আস্তে ওনারা তিনজনে বেস্ট ফ্রেন্ড হয়। এক কথায় বলতে পারো আমার দাদা নীল ও আর্ভিক দাদার অনলাইন ফ্রেন্ড।”
-“ওহহ”
তানভী ছোট করে উওর দিল। রিকি আর মেঘাদ্রি তানভীর দিকে হাত বাড়িয়ে এক সঙ্গে বলে উঠে
-“Friends??”
তানভী ঠোঁটের কোণায় হাসি নিয়ে সম্মতি সূচক মাথা নাড়িয়ে নিজের হাতটা বাড়িয়ে দিল।

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ১৫+১৬