মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ১৪
jannatul firdaus mithila
চোখদুটোর পাতায় ভর করেছে রাজ্যের সব ভার! মনটায় জেগেছে অদ্ভুত অস্থিরতা। সম্পূর্ণ শরীর ঘামছে দরদর করে। মাথায় তীব্রভাবে জেঁকে বসেছে মেয়েলী সুপ্ত অনুভূতিগুলো! মাহি হাসফাঁস করছে, অস্থিরতায় ঠোঁট গোল করে নিশ্বাস ফেলছে ক্রমাগত। বুকের খাঁচায় লুকায়িত অঙ্গটা বুঝি ম্যারাথনে নেমেছে মনে হচ্ছে! অক্ষিপটের সামনে সবটা কেমন ঝাপ্সা দেখাচ্ছে তার। মাথাটা দুলছে নেশার তোড়ে! মাহি তৎক্ষনাৎ দু’হাতে নিজের মাথাটা চেপে ধরে। মাতাল কন্ঠে ধীমে আওয়াজে বলে,
“ আমার…এমন লাগছে কেনো?”
সম্মুখে বসে থাকা মেইডেন কেমন বাঁকা হাসছেন দেখো! মেয়েটার এহেন বেগতিক অবস্থা দেখেও তার মধ্যে তেমন উচাটন পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। উল্টো মুখাবয়বে তার লেপ্টে আছে একরাশ শ্লেষাত্মক ভাবসাব। তিনি একে একে কাউচের ওপর থেকে খাবার প্লেটগুলো ফের রেকে তুলে রাখছেন। আনমনে বিরবিরিয়ে বলছেন,
“ দিস ইজ কলড ড্রা/গ/ড ডিজায়ার ডিয়ার। তোমার শরীর এখন অনেককিছু চাইবে! স্পেশ্যালি…আ পার্টনার!”
কথাগুলো বলতে বলতেই ঠোঁট পিষে হাসছেন মেইডেন। মাহির ওমন দূরাবস্থা সরু চোখে পরোখ করে, পরক্ষণেই মুখাবয়বে টানলেন মেকি ভালো মানুষীর ছাপ। খানিকটা নড়েচড়ে মাহির একদম নিকটে এসে বসলেন মধ্যবয়সী। একহাতে আলতো করে মাহির কাঁধ থেকে চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে বলতে লাগলেন,
“ মাই ডিয়ার! সিড তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। এমুহূর্তে ওর তোমাকে আর তোমার ওকে ভীষণ প্রয়োজন!”
মাহির মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে ইতোমধ্যে। শারীরিক যন্ত্রণায় কুপোকাত মেয়ে তক্ষুনি মেইডেনের কথায় সায় জানালো। অস্থির বদনে দুলতে দুলতে কোনমতে উঠে দাঁড়িয়েই বলল,
“ হ্যাঁ যাব আমি! এক্ষুণি যাব…”
কথা শেষ করবার সাধ হয়নি মাহির। টলতে থাকা কদমে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় হাঁটা ধরল দরজার দিকে। তবে খুব একটা এগুতে পারেনি মেয়েটা, তার আগেই পেছন থেকে টান পরলো কব্জি বরাবর। মাহি থমকায়, ঘাড় বাকিয়ে তাকায় পেছনে। মেইডেনের ওমন হুটহাট বাঁধা দেওয়ায় মেয়েটা বুঝি বড্ড বিরক্ত হলো! সে কেমন ভ্রু কুঁচকে অস্থির কন্ঠে আওড়াল,
“ কেনো আটঁকালেন আমায়? হাত ছাড়ুন! আমি সিডের কাছে যাব।”
মেইডেন স্মিত হাসলেন। একহাতে মাহির কব্জি চেপে রেখে এগিয়ে এলেন দু-কদম। অতঃপর মেয়েটার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিসিয়ে বলতে লাগলেন,
“ এভাবে যেও না ডিয়ার। আজ রাতটা তোমার জন্য খুব স্পেশাল! এসো আমার সাথে, আমি তোমায় বোল্ডভাবে তৈরী করে দিচ্ছি। সিড উইল লাভ ইট!”
সিডের পছন্দের কথা শুনে আচমকাই মাহির ঠোঁটের কোণে এক চিলতে লাজুক হাসির দেখা মিললো। মেয়েটা কেমন লাজুকলতার ন্যায় গুটিয়ে গেল। মেইডেন ক্রুর হাসলেন এপর্যায়ে। তৎক্ষনাৎ মাহির হাতখানা টানতে টানতে নিয়ে গেলেন ক্লজেট রুমের দিকে।
হালকা সোনালী রঙা স্লিভলেস ফ্রক নাইটি! ফ্রকের উচ্চতা ভীষণ কম। হাঁটু থেকেও তিন আঙুল উচুঁতে উঠে থাকায়, ফর্সা মসৃণ পাদু’টো পুরোপুরি উম্মুক্ত। মেদহীন নারী কায়ার সে-কি তেজ রুপের! মাথাভর্তি কুচকুচে কালো রঙা চুলগুলো, স্ট্রেটনার দিয়ে একদম টানটান করে পিঠের ওপর ফেলে রাখা। মেক-আপ ভেনিটির সামনে কাঠের পুতুলের ন্যায় চুপচাপ বসে আছে মাহি। তাকে তৈরী করে দিচ্ছে মেইডেন। মেয়েটা যদি সুস্থাবস্থায় নিজেকে এহেন রূপে দেখত, তাহলে নির্ঘাত চক্ষুলজ্জায় জ্ঞান হারাতো কয়েকবার! অথচ এখন দেখো! সে নিজেই চাইছে নিজেকে উম্মুক্ত করতে। মেইডেন আড়দৃষ্টিতে এক-আধবার আয়নার পানে তাকাচ্ছেন। মাহির চোখদুটো নিবুনিবু, ঠোঁটের কোণে কামুক হাসির রেশ স্পষ্ট! মেইডেন আর দেরি করলেন না। তৎক্ষনাৎ ভেনিটির ওপর থেকে গুচি ফ্লোরার চেরি বেজড পারফিউমটা হাতে নিয়ে, মাহির সারা গায়ে ছিটিয়ে দিলেন একটু একটু করে। পারফিউমটার সে-কি মাদকীয় সুবাস! চোখদুটো বন্ধ করে নিশ্বাস টানলেই মুগ্ধতায় ভরে যাবে তন – মন। মেইডেন স্মিত হেসে আলগোছে মাহির দু-কাঁধে হাত রাখলেন। আয়নার পানে ঠায় তাকিয়ে থেকে বললেন,
“ নাউ ইউ আর পারফেক্টলি রেডি ফর টুনাইট!”
মাহির ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা কামুক হাসিটা প্রশস্ত হলো ধীরে ধীরে। অবচেতন মনটা তার অজান্তেই তাকে দিয়ে করিয়ে দিচ্ছে কতকিছু, অথচ মেয়েটার সেদিকে থোড়াই খেয়াল আছে!
২৪ ঘন্টা আলোয় ঝকমক করতে থাকা প্যালেসটা আজ হঠাৎ করেই ৫ মিনিট যাবত অন্ধকারে নিমজ্জিত! এহেন ঘটনায় যারপরনাই অবাক সকলে। তবে একজন শুধু অবাক নয়, সেই সাথে বড্ড শঙ্কিতও। মানুষটা যে আর কেউ নয় বরং মিলা! নিজের ওমন আহত অবস্থা থাকা স্বত্বেও মেয়েটা এহেন অন্ধকারে মোমবাতি জ্বালিয়ে ছুটে যাচ্ছে তিন তলার দিকে। প্যালেসে বিদ্যুৎ না থাকায় এলিভেটর কাজ করছেনা, মেয়েটা তবুও থেমে নেই। সিঁড়ি বেয়ে হন্তদন্ত পায়ে ছুটছে ওপরে। তার অবচেতন মন কেন যেন কু গাইছে । বারবার মনে হচ্ছে — মেয়েটার কোনো বিপদ হলোনা তো? এখানে আসার আগে মেইডেনের কামরায় ঢু মারতেও দেখল — মেইডেন ঘরে নেই। তারমানে? তিনি মেয়েটার কাছে নেই তো?
এক অজানা আতঙ্কে গলা অব্ধি শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে মিলার। হাতের তীব্র যন্ত্রণায় নাকমুখ কুঁচকে রেখেছে কেমন! পাদু’টো যেন আর এগুতেই চাইছে না। তবুও মিলা ছুটছে, প্রায় মিনিট পাঁচেক বাদেই সে চলে এলো তিনতলার লম্বা করিডরে। দ্রুত কদমে পা চালিয়ে মাহির ঘরের দরজার কাছে আসতেই মেয়েটা কেমন বড়সড় এক ঝটকা খেলো মনে হচ্ছে! যেই দেখল দরজার কাছে গার্ডস দু’জন নেই ওমনি মনের মধ্যে একরাশ সন্দেহ নিয়ে ঘরে ঢুকল মিলা। হন্যে হয়ে পুরো ঘরময় পায়চারি চালিয়ে খুঁজতে লাগল মাহিকে, কিন্তু নাহ! মেয়েটা ঘরের কোত্থাও নেই। মিলার গলা শুকিয়ে গেল ভয়ে। তার পাদু’টো জমে গেল এক জায়গায়। সে কেমন আতঙ্কে ঢোক গিলে বিরবির করতে লাগল,
“ কোথায় গেলে মুনলাইট? আবারও কেন মেইডেনের পাতা ফাঁদে পা বাড়াতে গেলে? এবার তোমায় আমি কোথায় খুঁজব মুনলাইট? কোথায়?”
“ মনস্টার! প্যালেসে হঠাৎ লোডশেডিং হয়েছে।”
সদ্য ফর্কের আগায় ভেজিস নিয়ে মুখে তুলতে যাচ্ছিল মুগ্ধ, এরইমধ্যে এডউইনের ওমন কথায় হাতখানা থেমে গেল বিচক্ষণ পুরুষের। একমুহূর্ত চুপ করে ঠায় বসে থেকে পরক্ষণেই কেমন বাঁকা হাসল নিরবে। হাতের ফর্কটা আলগোছে নিচে নামিয়ে কুটিল কন্ঠে আওড়াল,
“ মনস্টারের নাকের গোড়ায় বসে বিটলামি? নট ব্যাড!”
থামল মুগ্ধ। রয়েসয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় সুদর্শন যুবক। আজও গা উদোম তার। মাথার লম্বা চুলগুলো ভেজা! বোধহয় সদ্যই গোসল সেরে খেতে বসেছিলেন তিনি। তবে খাওয়া আর হলোনা তার। এতে অবশ্য খুব একটা মাথাব্যথা নেই মনস্টারের। সে কেমন গম্ভীর মুখে বেরিয়ে যাচ্ছে ডাইনিং জোনের বাইরে। মনস্টারের পা দু’খানা কয়েক-কদম এগিয়ে আসতেই তিনজন মেইড কেমন হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো তার নিকট। তিনজনই নিজেদের একহাঁটু মেঝেতে গেঁড়ে, মাথা নুইয়ে রেখে বসলেন। অতপর নিজেদের হাতদুটো উঁচিয়ে ধরলেন মনস্টারের দিকে। একজনের হাতে মনস্টারের পছন্দের রিভলবার, আরেকজনের হাতে লম্বা একখানা তলোয়ার। আরেকজনের হাতে কাটাঁ তারের চাবুক! কেউই জানেনা মনস্টার কখন কোনটা তুলবে। তাইতো তারা প্রতিবার এগিয়ে আসে নিজ দায়িত্বে। আজও এলো! অন্যদিকে, আরও দু’জন মেইড এসে দাঁড়িয়েছেন মনস্টার থেকে একহাত দুরত্বে। একজনের হাতে হ্যাঙ্গার, তাতে ঝুলছে মনস্টারের কালো রঙা লং ওভারকোট। আরেকজনের হাতে ইস্ত্রি করা শার্ট! মনস্টার গম্ভীর মুখে হাত বাড়িয়ে কালো রঙা ওভারকোটটা গায়ে জড়িয়ে নিলো। পরক্ষণে সম্মুখে হাঁটু গেঁড়ে বসে থাকা মেইডদের হাত থেকে তলোয়ার এবং রিভলবারটা তুলতে তুলতে এডউইনের উদ্দেশ্যে কঠিন গলায় বলল,
“ প্রাডাকে রেডি কর! আজ ওকে ট্রিট দিব।”
ঘাড় নুইয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এডউইন ঠোঁট পিষে হাসল অলক্ষ্যে। প্রতিত্তোরে মাথা ঝাঁকিয়ে কেবল বল,
“ ওকে মনস্টার!”
একহাতে লন্ঠন, অন্যহাতে রাইফেল! মুখাবয়বে একরাশ ভয়-ভীতি নিয়ে হাঁটছেন মাইকেল — প্যালেসের সার্কিট হাউসের প্রধান। মানুষটা মাত্রই ফিরলেন সার্কিট হাউস থেকে। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে কে যেন অতি সুক্ষ্মভাবে সার্কিট পয়েন্টের প্রতিটি তার কেটে দিয়েছে। এমনকি সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোও অফ করে রাখা! মাইকেল ভয়ে তটস্থ। মনস্টার যদি তাকেই এসবের দায়ী মনে করে বসেন তখন? তখন কিভাবে রক্ষা পাবেন তিনি? এক আকাশসম দুশ্চিন্তায় কুপোকাত মাইকেল। অস্থির হয়ে কদম বাড়াচ্ছেন প্যালেসের পেছনের দিকে। তবে হঠাৎ করেই কারো উপস্থিতি বোধহয় টের পেলেন তিনি। তৎক্ষনাৎ পায়ের গতি থামালেন মাইকেল। কানখাড়া করে শুনতে লাগলেন — শুকনো পাতায় মর্মর শব্দ তুলছে কারো কদমের উপস্থিতি। মাইকেল সঙ্গে সঙ্গে সটান হলেন। হাতের রাইফেলটা ঠিকঠাক মতো চেপে রেখে, লন্ঠন উঁচিয়ে পেছনে ঘুরলেন। আর ঠিক তখনি মুখোমুখি হলেন এক অতি পরিচিত মুখের। যাকে দেখা মাত্রই মাইকেলের চোখ উঠে গেল কপালে। হতবাকতা লেপ্টে গেল পুরো মুখমণ্ডলে। ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে অস্ফুটে বেরুলো,
“ তুমি?”
প্যালেসের দোতলার একদম কর্নারের কক্ষটি সিডের। গোলাকার করিডর দিয়ে পা গুনে গুনে এগুচ্ছে মেইডেন। একহাতে চেপে রেখেছেন মাহির ডানহাতের কব্জি। বারবার এদিক-সেদিক ঘাড় বাকিয়ে দেখছেন চারপাশটা। এমন না যে তার ভয় লাগছেনা, বরং ভীষণ ভয় লাগছে তার। এ-ও জানে — মনস্টার যদি ঘুনাক্ষরেও এসব টের পেয়ে যায় তাহলে এর পরিণাম ঠিক কতটা ভয়ানক হতে পারে। এতো কিছু জানা স্বত্বেও মেইডেনের মনের বল প্রচুর! কি সুন্দর মেয়েটাকে নিয়ে যাচ্ছেন সিডের ঘরের দিকে। এদিকে মাহি কেমন নাকে কাঁদছে! হুট করেই মেয়েটার আবার কি হলো কে জানে! বারবার মেইডেনের হাত ছাড়াতে চেয়ে বলছে,
“ যাব না কোথাও! আমি ঘুমাব। ছাড়ুন..!”
একে-তো অন্ধকার! তারওপর চারপাশটা কেমন নিস্তব্ধতায় ছেয়ে আছে। তন্মধ্যে মাহির ওমন নাকে কান্না যদি কেউ শুনে ফেলে? তাহলে তো কিছু হওয়ার আগেই কেলেঙ্কারি ঘটবে! মেইডেন তক্ষুনি একহাতে মাহির মুখ চেপে ধরেন। চাপা স্বরে বলেন,
“ হুঁশশশ! আরেকটু।”
মাহি কি বুঝলো কে জানে! ঠোঁট কামড়ে বেকুবের ন্যায় হাসল কেবল। মেইডেন মনে মনে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন। আরও দু-কদম বাড়িয়ে এসে নিঃশব্দে দাঁড়ালেন সিডের ঘরের কাছে। হাত দিয়ে আলতো করে কাঠের ভারী দরজাটা ঠেলে দিয়ে দেখলেন — দরজাটা খোলাই আছে। এতক্ষণে বোধহয় খানিক প্রসন্ন হাসলেন মেইডেন। ঘাড় বাকিয়ে দুলতে থাকা মাহিকে সর্তক কন্ঠে বললেন,
“ যাও! এই ঘরেই শুয়ে আছে সিড। শোনো ডিয়ার! সিড যতই না না করুক, তুমি কিন্তু ওর কোনো বারণ শুনবেনা কেমন? দরকার পড়লে জোর করে নিজেকে উজাড় করে দিবে ওর কাছে। বুঝলে?”
মাহির কামুক চাহনির তেজ বাড়ছে। সে কেবল ঠোঁট কামড়ে হাসল একটুখানি। মেইডেনের যা বোঝার বুঝে গেলেন। তিনি কেমন বাঁকা হেসে আলগোছে মেয়েটাকে ঠেলে দিলেন দরজার ভেতরে। মাহির ক্ষুদ্র দেহটা ঘরে ঢুকতেই মেইডেন চুপচাপ দরজাটা লাগিয়ে দিলেন বাইরে থেকে। তারপর কেমন ক্রুর হেসে বিরবির করলেন,
“ ভাগ একজনের হলেও ভোগ করবে সবাই! সেটা তার ইচ্ছেতে হোক কিংবা অনিচ্ছায়।”
বিশালাকার অন্ধকার ঘর! অদূরের বিছানায় শুয়ে আছে সিড। বেডসাইডের টেবিলে দাঁড় করিয়ে রাখা মোমবাতির স্ট্যান্ড। সেথায় একসঙ্গে জ্বলজ্বল করছে বেশকিছু মোমবাতি। বেচারার বুকের ওপর মোটা আকারের ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে রাখা। ব্যান্ডেজের গায়ে এখনো কোথাও কোথাও লেপ্টে আছে তাজা লহু। সিডের জ্ঞান আছে না নেই কে জানে! বেচারার তেমন নড়চড় দেখা যাচ্ছে না। এদিকে মাহি কেমন কামুক চাহনিতে তাকিয়ে আছে। তার নিঃশব্দ কদম ধীরে ধীরে এগুচ্ছে। তার গা থেকে ভেসে আসা মেয়েলী তীব্র সুবাস নাকে ঠেকতেই ঘুম হালকা হয়ে গেল সিডের। কপালে গোটাকতক ভাঁজ ফেলে পিটপিট করে চোখদুটো খুলে সামনে তাকাতেই প্রথম দর্শনে সবটা কেমন ঝাপসা দেখল বেচারা। ঝাপ্সা দৃষ্টিতে দেখল — সামনে থেকে এগিয়ে আসছে এক নারী। গায়ে বোধহয় সিল্কের কাপড়চোপড়। কেননা মোমবাতির হলদেটে আলোয় তারা কেমন চিকচিক করছে। মেয়েটা ঠিক যতটা এগুচ্ছে, তার গা থেকে তীব্র মাদকীয় সুবাসটা যেন তত বেশি ছড়াচ্ছে। সিড এবার তৎপর হলো মেয়েটাকে দেখতে। তবে ঝাপসা চাহনি তার কিছুতেই ঠিক হচ্ছে না! সে এবার মুখ খুলল,
“ কে তুমি?”
মাহি কামুক হাসল। ধীরে ধীরে একহাতে আলতো করে, গায়ের ওপর জড়িয়ে রাখা আলগা ওভার ক্লোকের গাঁট গুলো খুলতে খুলতে বলল,
“ তোমার প্রেয়সী!”
তৎক্ষনাৎ কানদুটো বুঝি ঝা ঝা করে উঠল সিডের। এই কন্ঠ! হ্যাঁ, এই কন্ঠ তো ও চিনে! এটা তো মাহির কন্ঠ। কিন্তু এতো রাতে ওর ঘরে কেনো এলো মেয়েটা? সিড তক্ষুনি শোয়া ছেড়ে উঠে বসার প্রয়াস চালায়। তবে বুকের তীব্র ব্যথায় খুব একটা সুবিধা করতে পারছেনা বেচারা। ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে অস্ফুটে বেরুচ্ছে মৃদু গোঙানির শব্দ। মাহি তা টের পেতেই অস্থির হলো! তৎক্ষনাৎ এগিয়ে এসে সিডের হাতখানা ধরতে গেলেই সিড এক ঝটকায় সরিয়ে দিলো তাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় কয়েক কদম পিছিয়ে যায় মাহি। এদিকে সিড নিজের নজর লুকচ্ছে। মেয়েটার দিকে তাকানো মানেই মৃত্যু! সে-তো খুব ভালো করে জানে এটা। সে কেমন চোখমুখ কুঁচকে রেখে বলল,
“ এতোরাতে আমার ঘরে কেনো এলে তুমি? তুমি কী জানো? তোমার এই নিছক দুঃসাহসের জন্য আমার মৃত্যুও হতে পারে!”
মাহি অদ্ভুত ভাবে হাসল। কাঁধের একপাশ থেকে ক্লোকের একাংশ আলতো করে খুলে দিয়ে কামুক কন্ঠে বলতে লাগল,
“ আই নিড ইউ সিড! টুডে আই ব্যাডলি নিড ইউ।”
হতবাক সিড! নিজের কানদুটোকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছেনা বেচারা। এ কেমন কন্ঠ শুনছে ও? যেই মেয়ে সামান্য ওর হাতটা অব্ধি ধরতে চায়নি, সে-ই কি-না আজ ওকে চাই বলছে? এটা কি করে সম্ভব? সিড আর ভাবতে পারলোনা। পরক্ষণে কেমন ব্যাকুল কন্ঠে মাহিকে অনুনয় করে বলল,
“ চলে যাও মেয়ে! দয়া করে আমায় একা ছেড়ে দাও।”
মাহি আজ অনড় নিজ বাক্যে। কদম বাড়িয়ে এগিয়ে আসতে আসতে বলছে,
“ কোত্থাও যাব না আমি। আজ তোমার সম্পূর্ণ রাত আমার। প্লিজ কাছে এসো। আই নিড ইউ!”
গলা শুকিয়ে যাচ্ছে সিডের। মাহির ওমন সোজাসাপটা আহবানে না চাইতেও মুখ ফেরাতে হচ্ছে তার। এ নিয়ে খুব একটা কষ্ট না থাকলেও সিডের চিন্তা অন্যত্র। মাথায় একরাশ দুশ্চিন্তার বোঝাই নিয়ে ছেলেটা কেমন আর্তনাদ করে বলল,
“ আহ! কি করছো তুমি সানবার্ড? এতোরাতে কেন আসতে গেলে আমার ঘরে? প্লিজ চলে যাও। আমার নিজেকে সামলাতে কষ্ট হচ্ছে।”
ক্ষত বুকটায় প্রবলভাবে হাত চেপে রেখেছে সিড। ফের শোয়া ছেড়ে উঠতে চাইছে কোনমতে। চোখদুটো নুইয়ে রাখা তার। বিছানার শেষপ্রান্তে গা ঘেঁষে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে মাহি। মেয়েটার চোখেমুখে আচ্ছন্ন ভাব স্পষ্ট! ভাবভঙ্গিমা ধরেছে আবেদনময়ী! মেয়েটা কেমন গাল ফুলিয়ে বলে ওঠে,
“ আমি সামলাবো তোমায়! প্লিজ যেতে বলোনা।”
এপর্যায়ে সিডের সত্যি মনে হচ্ছে মেয়েটার তার নিজের আয়ত্ত্বে নেই। সে মৌন রইল একমুহূর্ত। বিছানার একপাশ ধরে ধরে কোনমতে উঠে বসেছে বেচারা। হেডবোর্ডে পিঠ ঠেকিয়ে চোখদুটো বুঁজে রেখে, বুকের ব্যথায় মুখ খিঁচে বলে ওঠে,
“ এক্ষুণি ঘর ছেড়ে বের হও সানবার্ড। আমার জন্য নাহলেও অন্তত নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য হলেও বের হও। ইশ্বর না করুক, মনস্টার এ খবর টের পেয়ে গেলে কিন্তু পুরো প্যালেস জুড়ে প্রলয় নামবে।”
“ নামুক! তবুও আমি তোমাকে চাই।”
সিডের কথার পিঠে দৃঢ় কন্ঠ শোনা গেল মাহির। সিড বেজায় আশ্চর্য হলো এপর্যায়ে। মেয়েটাকে দেখে তো এমন স্বভাবের কখনোই মনে হয়নি! তাহলে আজ সে এমন করছে কেন? কেন সিডিউস করতে এলো সিডকে? সিডের বুক কাপছে ভয়ে। অজানা আতঙ্কে! মেয়েটা ধীরে ধীরে তার পায়ের নিকট এগিয়ে আসছে। সিড তৎক্ষনাৎ নিজের মুখ ঘুরায় অন্যত্র। ভয়ার্ত ঢোক গিলে যেইনা কিছু বলবে ওমনি টের পেল, তার পায়ের ওপর একখানা নরম তুলতুলে হাতের ছোঁয়া। সিডের শরীর ঝাঁকিয়ে উঠল তৎক্ষনাৎ। বেচারা এক ঝটকায় পাদু’টো সরিয়ে ফেলে অন্যত্র। গমগমে গলায় বলল,
“ পাগল হয়ে গেছো তুমি সানবার্ড? এসব কি করছো তোমার খেয়াল আছে?”
একহাতে ভারী মোটা তলোয়ার, আরেকহাতের মধ্যমা এবং তর্জনীর ভাঁজে জ্বলন্ত সিগার। মাঝেমধ্যে জনাব হাত উঁচিয়ে এক-দুটান বসাচ্ছেন সিগারের শেষভাগে। গায়ে জড়ানো কেবলমাত্র লম্বা ওভারকোট। সামনের সবগুলো বোতাম হা করে খুলে রাখা! ফলস্বরূপ যুবকের পেশিবহুল ইস্পাত-দৃঢ় শরীরটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মাথার ভেজা চুলগুলো পেছন দিকে টেনে ঝুঁটি বেঁধে রেখেছে। যুবক হাঁটছে! প্যালেসের ঠিক পেছনে থাকা মাউন্টেন থেকে নেমে এসে এবার পা বাড়িয়েছে গার্ডেনের দিকে। কয়েক-কদম হাঁটতেই হঠাৎ পাদুকা থামল মুগ্ধের। ঘাড় বাকিয়ে আলগোছে তাকাল চেরি ব্লসম গাছগুলোর পানে। কানদুটোতে হঠাৎ করেই বেজে উঠল মাহির বলা তখনকার কথাটা —
“ এতো সুন্দর বাগানে দোলনা লাগাননি কেনো আপনারা? একটা দোলনা থাকলে তো দুলতে পারতাম!”
মুগ্ধ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কিয়তক্ষন। ইদানীং হুটহাট মেয়েটার কথাগুলো তার মতো নির্দয় মানবকে খুব বেশি ভাবাচ্ছে মনে হচ্ছে! মুগ্ধ একবার খুব করে চাইলো মেয়েটার কথাগুলোকে একপ্রকার দূরছাই করে ফেলতে, তবে পরক্ষণেই তার বেয়াদব মনটা এহেন ভাবনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলল — একটা সামান্য দোলনা! এ আর এমন কী ব্যাপার? দিলে কী ধন কমবে তার? মুগ্ধ ঠোঁট কামড়ে ভাবল কিছু একটা। যে হাতে সিগার ধরে রাখা সে হাতটা সামান্য উঁচিয়ে এনে কপালখানা হালকা চুলকে, গম্ভীর কন্ঠে ডাকল,
“ এডউইন!”
আজ্ঞাকারী এডউইন! তক্ষুনি মাথা নুইয়ে এগিয়ে এসে দাঁড়াল মুগ্ধের পেছনে। কন্ঠে একরাশ আজ্ঞাকারী ভাবসাব ঢেলে বলল,
“ জ্বি মনস্টার! হুকুম করুন।”
মুগ্ধ তেমন সময় নিলো না। কপালের চামড়ায় গোটাকতক ভাঁজ ফেলে গমগমে গলায় আওড়াল,
“ সকাল হবার আগে এ গার্ডেনে দোলনার ব্যবস্থা করবি! প্রতিটা গাছের নিচে একটা করে দোলনা লাগাবি। গট ইট?”
ভড়কায় এডউইন! কানে ভুল শুনল কিনা যাচাই করতে তক্ষুনি ডানহাতের তর্জনী ঢুকালো কানের ছিদ্রপথে। কিয়তক্ষন কানটা সামান্য ঝাঁকিয়ে স্থির হলো পরক্ষণে। দ্বিতীয়বার আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করল,
“ কী?”
তক্ষুনি ঘাড় বাকিয়ে কটমট দৃষ্টি নিক্ষেপ করল মুগ্ধ। সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় নুইয়ে ফেলে এডউইন। এ বাবাহ! কিভাবে তাকাল মনস্টার। পারছেনা এক্ষুণি কাঁচা চিবিয়ে খেতে! এডউইন কেমন তটস্থ হয়ে শুকনো ঢোক গিলছে বারবার। মনে মনে বাইবেলের কয়েকটা বানী আওড়াতেই কর্ণকুহরে ভেসে এলো মুগ্ধের কিড়মিড় কন্ঠ!
“ সকাল হবার আগে প্রতিটা গাছের নিচে স্ট্যান্ড দোলনা না এলে, সকাল হবার সাথে সাথে তোর মাথাটা সাইকির পেটে যাবে। মাইন্ড ইট!”
হকচকায় এডউইন। সাইকির কথা শুনতেই গা গুলিয়ে উঠল কেমন। সামনে থেকে মনস্টার চলে গেলেই বেচারা তৎক্ষনাৎ নিজের গালে সপাটে বসালো এক চড়। যেই টের পেল ব্যথা হচ্ছে, ওমনি বেচারা কেমন হতবুদ্ধির ন্যায় বিরবির করল,
“ এটা তাহলে স্বপ্ন না? মনস্টার সত্যি সত্যি দোলনা লাগাতে বলল?”
মেজাজ চটেছে মুগ্ধের। গটগটিয়ে বাগান ছেড়ে সম্মুখে পা বাড়াতেই হঠাৎ করেই বুকটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল নির্দয় মানবের। মুগ্ধ থামল! হতভম্ব হয়ে গেল নিজের এহেন উদ্ভট অনুভূতিতে। কই আগে তো কখনো এমনটা হয়নি তার সাথে! তবে আজ কেন বুক মোচড়াচ্ছে তার? মুগ্ধ আনমনেই জিভ দিয়ে নিজের শুষ্ক অধরজোড়া খানিক ভিজিয়ে নিলো। চিরায়ত অভ্যেসের তাড়নায় ঘাড়টা গোলাকার ঘুরিয়ে ফুটাতে গেলেই দৃষ্টি থমকাল তার। প্যালেসের দোতলার কর্নারের কক্ষ যেটাতে আপাতত সিড থাকছে, সে কক্ষের জানালার গায়ে ছড়িয়ে রাখা সফেদ রঙা পর্দায় মোমবাতীর আলোয় স্পষ্ট ছায়া দেখা যাচ্ছে দুটো মানবের। একটা নাহয় সিড তবে অন্যটা কে? মুগ্ধ দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করল। একমুহূর্ত যেতে না যেতেই দেখল অপর ছায়াটি একটি নারী ছায়া। দুটো মানবের ছায়াগুলো ভারী আপত্তিকর অবস্থায় আছে! মুগ্ধের তখন কি হলো কে জানে! তার মনটা কেমন হঠাৎ করেই শঙ্কিত হলো অজানা এক কারণে। সে তক্ষুনি কঠিন মুখাবয়বে ছুট লাগায় প্যালেসের দিকে। পেছন পেছন ধীর কদমে এগিয়ে আসতে থাকা এডউইন ভড়কাল মন্স্টারের ওমন ছুটে যাওয়া দেখে। অতঃপর কোনরূপ কালবিলম্ব না করে সে-ও ছুটল মনস্টারের পিছুপিছু।
হন্তদন্ত পায়ে ছুটছে মুগ্ধ! সে যেন বিরাট মাপের এথলেটিক! এডউইন পিছু পিছু দৌড়েও তাল মেলাতে পারছেনা মনস্টারের সাথে। স্বাভাবিক মানুষ দৌড়ে দৌড়ে ওতোবড় সিঁড়ি বাইতে যেখানে ৪-৫ মিনিট নিবেই সেখানে মুগ্ধ নিয়েছে মাত্র দেড় মিনিট! এডউইনের যেখানে হাঁপাতে হাঁপাতে জান বের হয়ে যাবার যোগাড়, সেখানে মনস্টার কেমন না থেমেই ছুটছে।
প্রায় মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই মুগ্ধ চলে আসে প্যালেসের দোতলায়। অধিক দ্রুত দৌড়ানোর ফলে মার্বেলের মেঝেতে পাদু’টো স্লিপ কাটতে গিয়েও কাটলো না যেন। মুগ্ধ বেশ দক্ষতার সাথে নিজেকে সামলালো। অতঃপর সিডের ঘরের কাছে এসে আর একমুহূর্তও দাঁড়াল না সে। তক্ষুনি ঘরের দরজা ঠেলতে গিয়ে টের পেল — দরজা ভেতর থেকে লাগানো। মুগ্ধের চোয়াল শক্ত হলো এপর্যায়ে। শক্তিশালী পুরুষ এক-কদম পিছিয়ে গিয়ে দরজার বুকে আচমকা বসালো এক লাথি। মুহুর্তেই খুলে গেল দরজাটা। মুগ্ধ ত্বরিত ঘরে ঢুকল। তবে ভেতরে ঢুকেই যা দেখল তাতে একমুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল মনস্টার! অদূরের বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে আছে সিড, তার মুখমণ্ডল ঢেকে আছে মেয়েটার চুলের আড়ালে। মেয়েটা কেমন উপুড় হয়ে আছে সিডের ওপর। দেখে মনে হচ্ছে দু’জন বুঝি কিস করছে একে-অপরকে। এদিকে হুট করেই ওমন বিকট শব্দে দরজা খুলে যাওয়ায় হকচকায় সিড। তবে সঙ্গে সঙ্গে শোয়া ছেড়ে উঠতে পারছেনা বেচারা। পিঠে ব্যথা পেয়েছে কিছুক্ষণ আগেই! মেয়েটাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ঘর থেকে বের করতে গিয়েই ঘটেছে দূর্ঘটনা। মাতাল মাহি এসব উদ্ভট কাপড় পরে সামলাতে না পেরে হোঁচট খেয়ে উল্টে পড়েছে তারওপর। মাত্রই বিছানায় ধপ করে পড়ে যেতেই কে যেন ঢুকল ঘরে।
সিড বহুকষ্টে একহাতে মাহিকে নিজের ওপর থেকে সরালো। মেয়েটা পাশে ঘুরতেই তার মুখপানে দৃষ্টি পড়ল মুগ্ধের। মুহুর্তেই কোথাও যেন বাজঁ পড়ল মনে হচ্ছে! যুবকের চোখদুটো হয়েছে বিস্ফোরিত! তৎক্ষনাৎ মুখাবয়বে নামল আমূল পরিবর্তন। মনস্টার ফিরল নিজের চিরচেনা হিংস্র রূপে। বাদামী চোখদুটো ক্রমশ লাল হচ্ছে, হাতদুটো হয়েছে মুষ্টিবদ্ধ! কপাল এবং ঘাড়ের রগগুলো ফুলেফেঁপে মোটা হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। দৃঢ় চোয়ালখানা কাঁপছে রাগের চোটে। সিড একনজর দেখল সবটা! বেচারার শরীর কাঁপছে ভয়ে। সে মাথা নুইয়ে রেখে কেমন আমতা আমতা করে বলছে,
“ ম-ন-স্টা-র! না মানে… আমি কিছু… মনস্টার!”
মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ১৩
কথা গুলিয়ে যাচ্ছে সিডের। এরইমধ্যে তার পানে আগুন দৃষ্টি নিক্ষেপ করল মুগ্ধ। তৎক্ষনাৎ নজর নামায় সিড। ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে দু’হাত জোর করে যেইনা কিছু বলতে যাবে ওমনি বেচারা শিকার হলো মনস্টারের অতর্কিত আক্রমণের। মনস্টার এগিয়ে এসেই সিডের বুক বরাবর সজোরে বসিয়েছে এক লাথি। বেচারা সিড বুকের তীব্র যন্ত্রণা সইতে না পেরে এক চিৎকার দিয়ে তক্ষুনি জ্ঞান হারায়। মুগ্ধ থামেনি এতে। অচেতন সিডের বুকের ওপর হাঁটু চেপে একের পর এক জোরালো পাঞ্চ বসাতে থাকে সিডের নাকমুখ বরাবর। একেকটা পাঞ্চের তীব্র আঘাতে থেঁতলে যাচ্ছে সিডের মুখ। লহু ছিটকে পড়ছে চারদিকে। পাশ থেকে মাহি তখন নিবুনিবু চোখে সবটা পরোখ করে আচমকা দু’হাতে চেপে ধরল মুগ্ধের হাতখানা। আধো আধো স্বরে বলল,
“ ওকে ছাড়ুন! ও আমার।”
