মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ২৯
jannatul firdaus mithila
“ মিট উইথ মা’ই ফেভরেট — সাইকি! দ্য ব্ল্যাক মাম্বা। হাউ ডু ইউ্য লাইক ইট দেড়ব্যাটারী?”
নিশ্বাস আঁটকে রেখেছে মাহি! সর্বাঙ্গ কাঁপছে রীতিমতো। গলা দিয়ে শব্দ বেরুচ্ছে না তার। চোখমুখ খিঁচে রেখেছে কোনরকম! ক্ষুদ্র দেহটা একপ্রকার দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে ওমন দৈত্যাকার সাপের বাঁধনে। সাপটা ধীরে ধীরে আরও পেঁচিয়ে যাচ্ছে সপ্তদশীকে। নীলচে-সবুজ চোখগুলো কেমন চকচক করছে তার পানে তাকিয়ে! মাহি ভুলেও চোখ খুলে তাকালো না। শরীরের অসহ্য যন্ত্রনায় কুপোকাত সে, ঘনঘন নিশ্বাস ফেলে বহুকষ্টে আওড়াল,
“ আমি..আমি ম’রে যাচ্ছি! প্লিজ এর হাত থেকে আমায় বাঁচান।”
ডিভানে গা ছড়িয়ে বসে আছে মুগ্ধ। ঘাড়টা সামান্য কাত করে ক্রুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেয়েটার পানে। একহাত তার তুলে রাখা ডিভানের গায়ে, উম্মুক্ত বক্ষে চিপচিপে তরলের উপস্থিতি স্পষ্ট! নাভিকমলের নিম্নভাগে ঢিলেঢালা ট্রাউজারের বাঁধন। ছেলেটা কেমন একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল কিয়তক্ষন। আচানক ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসির রেশ টেনে গমগমে গলায় শুধালো,
“ আমার কাছে সাহায্য চাইছিস কেনো বান্দীর মেয়ে? তোর না হওয়া নাগরকে ডাক এবার, ডেকে বল তোকে সাহায্য করতে!”
অস্থির মাহি! দূর্বল পাদু’টো শিরশির করছে পিচ্ছিল সরীসৃপের সংস্পর্শে এসে। সাপটা কেমন হিসহিসিয়ে তার শরীর বেয়ে উঠছে! গা-ভর্তি তরলের উপস্থিতিতে সরীসৃপের বোধহয় বড্ড আরাম লাগছে গা বাইতে। সরীসৃপের মোটা মাথাটা যেইনা মাহির গলা অব্ধি উঠে এসেছে ওমনি বেচারির গা গুলিয়ে ওঠে কেমন। চোখমুখ খিঁচে রেখেই সপ্তদশী হড়বড়িয়ে বলে ওঠে,
“ প্লিজ একে নামান আমার গা থেকে! আমি..আমি, আমি বলছি কে আমায় সাহায্য করেছে। প্লিজ একে নামান।”
রয়েসয়ে নড়েচড়ে বসল মুগ্ধ। পাদু’টো আগের ন্যায় ছড়িয়ে রেখে কপাল গোছালো পরক্ষণে। চোখেমুখে একরাশ কঠিন ভাবসাব ফুটিয়ে গমগমে গলায় শুধালো,
“ নাম বল!”
ভয়ার্ত মাহি! ক্ষণে ক্ষণে ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলে ওঠে,
“ স-স-সিড! সিডের সাথে পালিয়েছিলাম আমি।”
তক্ষুনি মুখাবয়বে পরিবর্তন নামল কঠিন মানবের। এতক্ষণের রাগী ভাবসাব সরে গিয়ে এবার সেথায় ভর করল প্রবল হিংস্রতা। চোয়ালের পেশী শক্ত হলো যুবকের, বাদামী চোখদুটোতে লেপ্টে গেল আগুন। মাফিয়া মনস্টার কেমন কটমট করতে করতে হাত উঁচিয়ে ঘাড় ডলতে লাগল নিজের। চোখদুটো বুঁজে রেখে কটমটিয়ে আওড়াল,
“ আই জাস্ট হেট লায়ার্স! আই জাস্ট ফা’কিং হেট দ্যাম!”
ত্বরিত চোখ খুলল মাহি। আর ওমনি তার চোখাচোখি হলো ব্ল্যাক মাম্বার সবুজ চোখদুটোর সঙ্গে। তৎক্ষনাৎ আর্তচিৎকারে ফেটে পড়ে মাহি। আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে বেচারি পা গুটিয়ে বসে পড়ে মেঝেতে। কান্নার বেগ বাড়ছে তার। গলা দিয়ে শব্দ বেরুনোর কায়দা নেই মোটেও! ওদিকে মুগ্ধ এবার চট উঠে দাঁড়ায় বসা ছেড়ে। শক্ত মুখের আদলে কটমট করতে করতে এগিয়ে আসে মাহির মুখোমুখি। পরনের ট্রাউজার প্যান্টটা সামান্য উঁচিয়ে মহাশয় একহাঁটু ঠেকালেন মেঝের সঙ্গে। তারপর কোনরূপ আগাম সতর্কসংকেত ছাড়াই কাঁদতে থাকা মাহি’র তালুর চুলগুলো আচমকা চেপে ধরে শক্ত হাতে! মাহি ঠোঁট কামড়ে ধরল তৎক্ষনাৎ! ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে অস্ফুটে বেরোচ্ছে তার আর্তনাদ। সেদিকে থোড়াই খেয়াল করেছে মুগ্ধ! সে উল্টো দাঁত কিড়মিড় করতে করতে আওড়াল,
“ ইউ্য বি’চ! হাউ ডেয়ার ইউ্য লাই টু মি? যেখানে আমার নাম শুনলেই মানুষ প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলে, সেখানে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমার চোখে চোখ রেখে, তোর মতো একটা স্লা’ট মিথ্যে বলে কিভাবে? হোয়ার দ্য হেল ডিড ইউ গেট সো মাচ ডেয়ার ফ্রম?”
থমকায় মাহি! একমুহূর্তের জন্য নিজের সকল কষ্ট গুলো বেমালুম ভুলে গিয়ে ছলছল চোখে তাকালো মুগ্ধের মুখপানে। খানিকক্ষণ স্থবির থেকে আচমকা মুখাবয়ব শক্ত হলো সপ্তদশীর। চোখেমুখে স্পষ্ট লেপ্টে গেল অদৃশ্য আগুন। নরম চোয়ালখানা তার শক্ত হলো পরক্ষণে। নিশ্বাসের গতি বেগ বাড়ল বেশ। আচমকা নিজের অগ্নিদৃষ্টি যুগল মুগ্ধের বাদামী চোখদুটোতে তাক করেছে সপ্তদশী। এখন আর ভয় লাগছেনা তার। ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে রাগে! নিজ আত্মমর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ায় হিংস্র বাঘিনীর ন্যায় গর্জন তুললো মাহি! দাঁতে দাঁত চেপে আওড়াল,
“ ডোন্ট ইউ্য ডেয়ার টু কল মি আ স্লা’ট মিস্টার অধীর রায়! আ’ম ইনোসেন্ট, ডু ইউ্য হিয়ার দ্যাট মাফিয়া বিস্ট? আ’ম ইনোসেন্ট! সেদিন সিড আমাকে ছুঁয়েও দেখেনি! না করেছে আমার সাথে খারাপ কিছু! আই ওয়াজ পিওর বিফোর, আ’ম স্টিল পিওর এন্ড আ’ল অলওয়েজ রিম্যান পিওর। ডু ইউ্য গেট দ্যাট?”
একদৃষ্টে মেয়েটার অগ্নিমূর্তির ন্যায় মুখাবয়বের পানে তাকিয়ে আছে মাফিয়া মনস্টার। চোখেমুখে এক অদ্ভুত কুটিলতা তার! ঠোঁটের কোণে ঝুলছে ক্রুর হাসির রেশ। সুদর্শন যুবক তক্ষুনি নিজের পিয়ার্সিং করা ঠোঁটখানা আলতো করে চেপে ধরল দাঁতের সাহায্যে। খানিকক্ষণ শ্লেষাত্মক ইঙ্গিতে হাসল সে, পরক্ষণে মুখাবয়বে একরাশ নাটকীয় ভাব ফুটিয়ে আওড়াল,
“ উফফ! হোয়াট এন এটিটিউড বি’চ! আ’ম মেল্টিং।”
নাকার পাটা ফুললো মাহি’র। দাঁত হলো কটমট! এদিকে সাইকি নিজের জোর বাড়াচ্ছেে। মেয়েটাকে আরেকটু চেপে ধরেছে নিজের শরীর দিয়ে। মাহি বুক ফুলিয়ে নিশ্বাস টানলো ফের। ব্যথাতুর ভাব স্পষ্ট তার মুখে। এদিকে মুগ্ধ কেমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেয়েটার পানে। তার ভাব ভঙ্গিমায় একরাশ রহস্য! সে একটুখানি এগিয়ে এসে আচমকা শক্ত থাবায় চেপে ধরল মাহি’র নরম চোয়াল। মাহি কাতরালো না এবার। হিংস্র বাঘিনীর ন্যায় চোখ তুলে ফোঁস ফোঁস করছে কেমন! মুগ্ধ তাচ্ছিল্য হাসল। হাতের জোর বাড়িয়ে মাহি’র নরম মুখখানা নিজের শক্ত মুখের বেশ খানিকটা নিকট এগিয়ে এনে কুটিল কন্ঠে হিসহিসিয়ে বলল,
“ গলার আওয়াজ নামিয়ে কথা বল জানোয়ারের বাচ্চা! বাই দা হেল —আই নো ইউ্য আর স্টিল ভা’র্জিন বি’চ! এন্ড আই অলসো নো দ্যাট, সেদিন তোর আর সিডের মধ্যে কিচ্ছু হয়নি।”
কপাল গোছায় মাহি। চোখেমুখে সন্দিগ্ধ ভাব স্পষ্ট! নরম তুলতুলে ঠোঁটদুটো তিরতির করে কাঁপছে তার, বোধহয় বলতে চাইছে কিছু। মুগ্ধ ঠিক বুঝল মেয়েটার উদ্যোগ। হাতের জোর বাড়িয়ে, ঠোঁট পিষে ফের আওড়াল,
“ সেকেন্ড হ্যান্ড কোনোকিছুর প্রতি বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট নেই আমার! সেখানে সেকেন্ড হ্যান্ড শিকার? হলি শিট! সেদিন যদি সত্যি সিড তোর সাথে কিছু করে থাকত, তাহলে সিডের সাথে তোকেও সেদিনই কবরে পাঠাতাম! সিরিয়াসলি বলছি, আমার শিকার মানে, সে আমার ব্যাক্তিগত প্রপার্টি! যাকে ভোগ করা, মা’রা কিংবা পেম্পার করার অধিকার কেবল আমার। নো ওয়ান ক্যান ডেয়ার টু লুক অন দেম! নো ওয়ান মিনস নো ওয়ান! বাই দা হেল ইন দা মনস্টার’স ওয়ে — আমি কিন্তু এমনি এমনি রাশিয়ার টপ থার্টি ডক্টরকে আমার প্যালেসে আনিনি!”
বাকিটুকু বলার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি মনস্টার। স্রেফ ঠোঁটের কোণে ফোটালো শ্লেষাত্মক ইঙ্গিত। সপ্তদশী বুঝে গেল যা বোঝার। লোকটা তবে আগেই ডক্টর দিয়ে তাকে পরিক্ষা করে বসে আছে! সপ্তদশীর কাজলদিঘী চোখদুটোর কোণে অশ্রু জমল বেশ! নাকের পাটাটা লাল হয়ে গেছে কেমন! গালদুটোতে ঈষৎ রক্তাভ ভাব স্পষ্ট। সে বহুকষ্টে চোয়াল নাড়ালো কোনরকমে। মনের কোণে উত্থাপিত হওয়া প্রশ্নটুকু জিভের ডগায় এনে আওড়াল,
“ তাহলে বারবার আমাকে স্লাট ডাকেন কেনো? যখন জানেন আমি স্লা’ট নই!”
এবারেও ক্রুর হাসল মুগ্ধ! এক ঝটকায় ছেড়ে দিলো মাহি’র চোয়াল। পরক্ষণে সটানভাবে দাঁড়িয়ে দু’হাত গুঁজল পকেটে। ভীষণ দাম্ভিকতার সাথে ডিভানের দিকে পা বাড়িয়ে গম্ভীর কন্ঠে শুধালো,
“ এখন হসনি, তবে আর কয়েকদিন পর ঠিকই হবি! কেননা তোকে তো এখানে আনাই হয়েছে স্লা’ট বানানোর জন্য, মনস্টার’স প্রাইভেট স্লা’ট! বাট ইউ নো হোয়াট?”
থামে রূঢ় মানব! উল্টো ঘুরে ধপ করে গা এলিয়ে দিলো ডিভানের গায়ে। পায়ের ওপর পা তুলে, দু’হাত বুকের কাছে বাঁধল যুবক। চোয়াল শক্ত করে তাচ্ছিল্য ভরা কন্ঠে বলল,
“ যেখানে তোর মতো বান্দীর মেয়ের দিকে তাকালেই আমার বমি আসে, সেখানে তোকে নিজের র’ক্ষিতা বানাতে কেমন রুচিতে বাঁধছে। অনেস্টলি স্পিকিং — আমার স্লা’ট হওয়া তো দূরের কথা, আমার বেডের ধারে কাছে যাবার যোগ্যতাও তোর নেই। দ্যাটস হোয়ায় — ইউ্য আর স্টিল ভা’র্জিন।”
ঘাড় ঝুঁকিয়েছে সপ্তদশী! অপমানে লালচে হয়ে গেছে মুখ। চোখের কোটর বেয়ে টুপ টুপ করে ঝরে পরছে নোনা জল। এখন আর সাপের ভয় হচ্ছে না তার! বুকটা খানখান হয়ে যাচ্ছে রাগে-দুঃখে! ওদিকে মুগ্ধ কেমন বিরক্তি ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মাহি’র নতমুখ পানে। খানিকক্ষণ ঠায় তাকিয়ে থেকে আচমকা গমগমে গলায় প্রশ্ন ছুড়ঁল,
“ নাউ টেল মি, কোন বা’স্টার্ড তোকে পালাতে সাহায্য করেছিল? এন্ড খবরদার এবার মিথ্যে বললে তোর জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলব।”
মাহি আগের ন্যায় ঝুঁকিয়ে রেখেছে মাথা। গলাটা বড্ড ধরেছে তার। চিৎকার করা কান্না গুলো কেমন উপচে বেরিয়ে আসতে চাইছে গলা ছেড়ে। মাহি কোনমতে ঢোক গিলে আঁটকে নিলো কান্নাটুকু। মোটা কন্ঠে কেবল বলল,
“ সিডের সাথে!”
ফের চোয়াল শক্ত হলো মুগ্ধের! কটমটালো দাঁত! অগ্নি দৃষ্টিতে মেয়েটার পানে তাকিয়ে থেকে দু-লাফে চলে এলো ফের। আচমকা ঝুঁকে এসে শক্ত থাবায় মাহি’র গলা চেপে ধরে হুংকার ছুঁড়ে আওড়াল,
“ এই তোর ভয় লাগে না আমায়? এই জানোয়ার উত্তর দে! ম’রার খুব শখ জেগেছে তোর? বারবার মিথ্যে বলছিস কেন? যার মাথা আমি নিজ হাতে তার শরীর থেকে আলাদা করেছি, তার সাথে তুই পালালি কিভাবে? আমায় পাগল মনে করেছিস তুই?”
মুখ কুঁচকে রেখেছে মাহি! দাঁতে দাঁত লেগে যাচ্ছে নিশ্বাস না টানার কষ্টে। বেচারি ছলছল চোখে তাকায় কোনমতে! আকুল গলায় থেমে থেমে ফের বলে,
“ সত্যি বলছি! ঐটা সিড ছিল। আমি ওর সাথে… ”
কথাটা বলতে বলতে চোখ মুদে আসছে মাহি’র। একদিকে ক্ষুদ্র দেহটায় সাপ পেঁচান, আরেকদিকে গলা চেপে রেখেছে মনস্টার! বেচারি থোড়াই নিশ্বাস নিতে পারছে! মুগ্ধের হঠাৎ কি হলো কে জানে! সে কেমন থমকে গিয়েছে মাহি’র ছলছল চোখপানে তাকিয়ে থেকে। আশ্চর্য! মেয়েটার চোখ থেকে আজ দৃষ্টি সরাতে পারছেনা কেন সে? বেয়াদব চোখদুটো দেখছি ভারী অবাধ্যতা করছে আজ। শুনছেনা দ্য গ্রেট রুশদী কিং ওরফে মনস্তারের কথা! তারা কেমন একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে মেয়েটার নিখাঁদ চোখদুটোতে। সপ্তদশীর চোখদুটোর ভাষা আজ বড্ড স্পষ্ট মনস্টারের নিকট। তারা জানাচ্ছে — সপ্তদশীর কথা সত্যি। নির্দয় মানবের হাতের বাঁধন ঢিলে হচ্ছে ক্রমশ! প্রায় জ্ঞানহীন মাহি ঢুলছে বেশ! সৌজন্য বোধহীন যুবক আগ বাড়িয়ে ধরল না মেয়েটাকে। ধরলে যদি জাত যায়? এদিকে বেচারি মাহি ঢুলতে ঢুলতে আচমকা পড়ে গেল মেঝেতে। চোখদুটো তার পুরোপুরি বন্ধ হলো এবার। মুগ্ধ ঠায় দাঁড়িয়ে আছে সম্মুখে। প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে কেমন! কপাল গুটিয়ে রাখা তার, মুখটা বড্ড কঠিন। সে চোয়াল নাড়িয়ে গর্জে বলল,
“ লিভ হার সাইকি!”
সাপও কি কথা বোঝে মানুষের? তাও আবার ওমন হিংস্র ব্ল্যাক মাম্বা? বোঝে হয়তো। এই যে, ওতোবড় দৈত্যাকার ব্ল্যাক মাম্বাটি মনস্তারের হুকুম শোনা মাত্রই ধীরে ধীরে সপ্তদশীর গা থেকে কেমন আলগা হতে লাগল। সময়ের কাটাঁটা বোধহয় মিনিট তিনেক পার করেছে, আর ওমনি সাইকি নিজের জোরালো বাঁধন থেকে পুরোপুরি উম্মুক্ত করল সপ্তদশীকে। মনস্টার নিরব পায়ে এগিয়ে গিয়ে বসল ডিভানে। পিয়ার্সিং করা ভ্রু-দ্বয় গুটিয়ে রেখে সন্দিগ্ধ দৃষ্টি তাক করে রাখল অচেতন মাহির পানে। পাশেই গোল গোল করে শরীর গুটিয়ে রেখেছে সাইকি। তুলছে ফণা! কঠিন মানব হালকা এগিয়ে এসে সামনের টেবিলের ওপর পড়ে থাকা সিগারের প্যাকেট থেকে একখানা সিগার তুলে ঠোঁটের ফাঁকে গুঁজল। পরক্ষণে প্যাকেটের পাশ থেকে লাইটার তুলে সিগারের শেষভাগে আগুন জ্বালিয়ে সুখটান বসালো জোরালো ভাবে। ঠোঁটের ফাঁকে জ্বলন্ত সিগার চেপে রেখে, ডানহাতের বৃদ্ধা এবং মধ্যমার ঘর্ষণে খানিক চুটকী বাজিয়ে আহবান জানাল সাইকিকে। আর ওমনি সাইকি কেমন গা নাচিয়ে মেঝেতে ভর দিয়ে এগোতে লাগল মুগ্ধের দিকে। মিনিট দুয়েকের মধ্যেই দৈত্যাকার সাপটা যুবকের শরীর বেয়ে উঠতে উঠতে উঠে গেল ঘাড়ে। কি ভয়ানক দৃশ্য এঁটেছে দু’জন!
বলিষ্ঠদেহী হিংস্র এক যুবক গা ছড়িয়ে বসে আছে আরামসে, মুখমন্ডলের চারপাশ ধূমায়িত তার। ঘাড়ে ঝুলছে ব্ল্যাক মাম্বা! দূর থেকে এহেন দৃশ্য এক ঝলক দেখলে যেকেউ জ্ঞান হারাবে নিশ্চিত। অথচ যুবক কি সুন্দর ভ্রুক্ষেপহীন ভঙ্গিতে বসে আছে দেখো! গায়ে থাকা তরলে সাপটা বড্ড আরামে ছুটছে এদিক-ওদিক। শত হলেও পোষা প্রাণীর আরাম বলে কথা! এ নিয়ে বিন্দুমাত্র রিস্ক নেয় না মাফিয়া বস। সে কেমন একনাগাড়ে সিগার ফুঁকছে মেয়েটার পানে একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকে। কপাল গোটানো তার, মুখখানা বড় শক্ত। সে কেমন বিড়বিড় করে আওড়াল,
“ তোকে আজ হুট করে ওমন বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে কেন চাশমিস? যেখানে এসব বিশ্বাস অবিশ্বাস এন্ড অল দোস ফা’কিং ক্রাইটেরিয়া আর নট ইন মাই নেচার, সেখানে আজ কেন ইচ্ছে করছে বিশ্বাস করতে? কেনো ইচ্ছে করছে?”
উত্তর পেলো না রূঢ় মানব! কপালের ভাঁজ গাঢ় করল পরক্ষণে। এসব বিশ্বাস অবিশ্বাসের কপটতায় পরতে চায় না সে। তার ব্যাক্তিত্বে ওসব বিশ্বাস করাটা খুব একটা মানায়ও না, তারপরও আজ হঠাৎ মনটার কি হলো কে জানে। সে কেমন উঠেপড়ে লেগেছে মেয়েটাকে বিশ্বাস করতে। মনের এহেন দোলাচালে বড্ড বিরক্ত মাফিয়া মনস্টার। বিরক্তিতে কয়েকটানে শেষ করে ফেলল গোটা চার-পাঁচটে মোটা সিগার। নাহ! তাতেও স্বস্তি পাচ্ছে না সে। মেয়েটার সামনে থাকলে স্বস্তি থোড়াই মিলবে তার? মুগ্ধ তক্ষুনি উঠে দাঁড়ায় বসা ছেড়ে। কাঁধে তখনো সাইকি! তাকে নিয়েই হাঁটা ধরলেন মনস্টার। কয়েক কদম এগোতেই সাইকি হঠাৎ ফণা তুলল মাহি’কে দেখে। তা দেখে তক্ষুনি হিংস্র সাপটার গলা চেপে ধরে মনস্টার! ক্ষিপ্রতায় দাঁতে দাঁত চেপে আওড়ায়,
“ হুঁশশ! শি ইজ মা’ইন! ওর দিকে ফণা তুলে নিজের জীবনটা অকালে শেষ করিস না। তোর খাবার দিচ্ছি, চল!”
কথাটা থোড়াই বুঝল বোবা প্রাণী? শুধু শান্ত হলো মনস্তারের হুকুমে। মুগ্ধ আড়দৃষ্টিতে একপলক তাকালো মাহির দিকে। কপাল গুছিয়ে নিজ অজান্তেই সন্দিহান ভঙ্গিমায় বিড়বিড়ালো,
“ ইজ শি রিয়েলি মা’ইন?”
দূর্বল কদমে হাঁটছে এডউইন! ডানহাতে ভর দিয়ে রেখেছে আফ্রিকান গার্ডের কাঁধে। বাহাতে চেপে ধরে রেখেছে পেট। যুবকের মুখখানায় সে-কি ব্যাথাতুর ছাপ। প্রশস্ত করিডর দিয়ে কয়েক কদম এগোতেই হঠাৎ দেখা মিললো মিলার। মেয়েটা কোত্থেকে যে ওমন দৌড়ে এলো কে জানে! এসেই দু’হাতে হাঁটুতে ভর দিয়ে হাঁপাচ্ছে কেমন। এডউইন বিরক্ত হলো। তিতিবিরক্ত কন্ঠে দাঁত খিঁচে বলল,
“ ওমন ছাগলের মতো জিভ বার করে হাঁপানোর জন্য আর কোনো জায়গা পাওনি গ্লুপায়া? ঘুরেফিরে আমার সামনে এসে হাঁপানোর মানেটা কি?”
তক্ষুনি সটান হয়ে দাঁড়ায় মিলা। খানিকটা ঢোক গিলে বিচলিত দৃষ্টিতে আপাদমস্তক পরোখ করল এডউইনকে। পরক্ষণে কেমন মিনমিনিয়ে বলল,
“ আপনার এ অবস্থা কিভাবে হলো এডউইন? কে মা’রলো আপনাকে এভাবে? আর মুনলাইট? ওকে খুঁজে পেয়েছেন তো?”
চোয়াল শক্ত করল এডউইন। কপাল কুঁচকে ঝাঁঝাল কন্ঠে প্রতিত্তোর করল,
“ তা জেনে তুমি কি করবে? নাকি আবারও মুনবার্ডকে পালাতে সাহায্য করবে কোনটা?”
হতবাক মিলা! অসহায় চোখে তাকিয়ে রইলো কেমন। এডউইন বেশ বিরক্ত তা আর বুঝতে বাকি নেই তার। সে তৎক্ষনাৎ ঘাড় নুইয়ে কন্ঠে একরাশ অপরাধীত্ব ফুটিয়ে আওড়াল,
“ বিশ্বাস করুন এডউইন! আমি মুনলাইটকে মোটেও সাহায্য করিনি পালাতে। ও তো আমায় ধোঁকা…”
বাকিটা জিভ খসিয়ে বেরুনোর আগেই শোনা গেল এডউইনের বিরাট ধমক!
“ শাট ইউ্যর মাউথ! কি করেছ না করেছ, তার জবাবদিহিতা আমায় না বরং খোদ মনস্টারকে দিও। নাউ গেট লস্ট ফ্রম মাই আই সাইট!”
এহেন বিরাট ধমকে কেঁপে ওঠে তরুণীর ক্ষুদ্র বদন। চোখদুটো মুহুর্তেই চিকচিক করে উঠল বুঝি। এডউইন মুখ ঘোরালো অন্যত্র। গমগমে গলায় ফের বলল,
“ মুভ! এভাবে সঙের মত দাঁড়িয়ে থাকার ইচ্ছে থাকলে অন্য কোথাও গিয়ে দাঁড়াও। যাও!”
এবারেও ধমকে উঠল এডউইন। নতমুখী মিলা তক্ষুনি সরে দাঁড়ায় পথ ছেড়ে। এডউইন কেমন গম্ভীর মুখে গার্ডকে ধরে ধরে পা বাড়ালো সম্মুখে। বেশ কিছুটা পথ অতিক্রম করতেই সামনে থেকে হন্তদন্ত পায়ে ছুটে এলেন আরেকজন গার্ড। বেচারা এসেই কেমন জরুরি তলবে বলল,
“ এডউইন! মনস্তার ইজ কলিং ইউ্য। হি ইজ ইন দ্যা পেন্টহাউজ।”
গম্ভীর মুখে কথাটা শুনল এডউইন। গার্ডের বলা শেষ হতেই গমগমে গলায় প্রতিত্তোর করল,
“ যাও আমি আসছি!”
খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটছে এডউইন। গার্ডের কাঁধে ভর দিয়ে কোনরকমে এসে দাঁড়ালো — ব্ল্যাক চেম্বারের সম্মুখে। ভেতরে ঢুকতে কেমন ভয় ভয় করছে তার। একপা এগোতে গেলে দু-কদম পিছিয়ে যাচ্ছে আপনাআপনি। এডউইন কিছুক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো। পাশ থেকে গার্ড তখন চাপা স্বরে বলে ওঠে,
“ ভেতরে যাবেন না এডউইন?”
দাঁত খিঁচে এডউইন! তিতিবিরক্ত হয়ে ঘাড় বাকিয়ে তাকায় পাশে। চিবিয়ে চিবিয়ে নিচু কন্ঠে আওড়াল,
“ এতোটা পথ যেহেতু এসেছি, ভেতরে তো যাবই! এটা আবার জিজ্ঞেস করার কি আছে? যাও তুমি তোমার কাজে যাও। বাকিটা আমি মেনেজ করে নিব।”
ভড়কালেন গার্ড! তার এটুকু কথায় ওমন রিয়েক্ট করার কি আছে তা-ই হয়তো ভাবছেন বেচারা। সে কেমন ঠোঁট উল্টে দাঁড়িয়ে থাকতেই এডউইন দিলো আরেক ধমক!
“ কি হলো! যাওওও।”
তক্ষুনি হকচকিয়ে ওঠে গার্ড! হড়বড়িয়ে কদম পেছায় কোনমতে। এদিকে এডউইন ততক্ষণে নিজেকে সামলে নিয়েছে কোনরকম। বুকের পাটা ফুলিয়ে লম্বা এক নিশ্বাস টেনে, বেচারা দেয়াল ধরে ধরে ঢুকল ব্ল্যাক চেম্বারে। ভেতরে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছে আবর্তিত হলো এডউইনের। আলো-আঁধারে ছেয়ে থাকা বিশালাকৃতির ঘরটায় কেমন গা ছমছমে পরিবেশ। অদূরের বিশালকার সিংহাসনে বসে আছে মনস্টার, পায়ের ওপর পা তুলে রাজার ন্যায় সিগার ফুঁকছে কেমন। তার সামনেই মেঝেতে পড়ে আছে সাইকি। মাং’স জাতীয় গিলছে কিছু। দৈত্যাকার সাপটার পেটটা কেমন ফুলে ফেঁপে একাকার! এডউইন ফাঁপা ঢোক গিললো বুঝি! সাইকিকে বড্ড ভয় হয় তার। সে ভুলেও সাইকির আশেপাশে থাকেনা। তবে আজ যে না চাইতেও সাইকির সামনে আসতে হলো তাকে। এডউইন ত্বরিত নজর ঝুঁকালো। ভয়ার্ত ঢোক গিলে মিনমিনিয়ে বলল,
“ হেলো মনস্তার!”
প্রতিত্তোর আসেনি এখনো। এডউইন অপেক্ষায়িত! চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতেই টের পেল মনস্টারের দাম্ভিক কদমের। সিংহাসন ছেড়ে নামছেন তিনি। কিছুটা এগিয়ে এসে ঝুকেঁ বসল সাইকির সম্মুখে। গুরুগম্ভীর কন্ঠে আওড়াল,
“ সিড নাকি এখনো বেঁচে আছে!”
তক্ষুনি ঝটকা খেল এডউইন। নজর উঁচানোর সাহস নেই তার। তবুও হতভম্ব কন্ঠে জবাব দিলো,
“ এটা কি করে সম্ভব মনস্তার? আপনি নিজ হাতে ওর মাথা আলগা করেছেন।”
কিছুক্ষণ মৌন রইল মনস্টার। সময় সেকেন্ড খানেক পেরুতেই ফের ভাবলেশহীন কন্ঠে বলল,
“ বাট ঐ বান্দীর মেয়ে বলছে সে নাকি সিডের সাথে পালিয়েছিল! এবার বল কোনটা সম্ভব!”
বড্ড দোটানায় পড়ল এডউইন। যাকে নিজ চোখের সামনে মৃ’ত দেখল তার সাথে কেউ কি করে পালাবে? এটা তো নির্ঘাত মিথ্যে কথা। এডউইন গম্ভীর হলো এপর্যায়ে। মাথাটা ঠায় নুইয়ে রেখে গুরুগম্ভীর কন্ঠে বলল,
“ মনস্তার! সিডের বেঁচে থাকা অসম্ভব। সেখানে ও কাউকে নিয়ে পালাবে সেটাও অসম্ভব! সো আই থিংক, উনি মিথ্যে বলছেন!”
মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ২৮ (২)
কথাটা শেষ করে মুহুর্ত খানেক দাঁড়িয়ে রইল এডউইন। তবে এর পরপরই ঘটল আরেক কান্ড! তক্ষুনি এক হিংস্র লাথি এসে আচমকা তার বুক বরাবর আছড়ে পড়ল সজোরে। মুহুর্তেই কয়েক কদম পেছনে ছিটকে পড়ল এডউইন! এহেন অতর্কিত আক্রমণে কিছু বুঝে ওঠার আগেই যুবকের চুল খামচে ধরল মুগ্ধ। এক ঝটকায় এডউইনের নতমুখটা সামান্য উঁচিয়ে, চোয়াল শক্ত করে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
“ জাস্ট হোল্ড ইউ্যর টাঙ্গ বাস্টার্ড! আমার চাশমিস বোকা হতে পারে বাট মিথ্যাবাদী নয়! নেক্সট টাইম ওকে নিয়ে কথা বলার আগে জিহবায় লাগাম টানবি, আদারওয়াইজ আমি তাের জীবনের লাগাম টেনে দিব একেবারের জন্য!”

Amr to anek kosto lagtese mahir Jonno,,but apnk anek anek donnobad apu ,,apni daily part den ei Jonno,
আপু পরের পর্ব দেন তাড়াতাড়ি 🤨😌💖💖💖💖