মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ২৯ (২)
jannatul firdaus mithila
“ জাস্ট হোল্ড ইউ্যর টাঙ্গ বাস্টার্ড! আমার চাশমিস বোকা হতে পারে বাট মিথ্যাবাদী নয়! নেক্সট টাইম ওকে নিয়ে কথা বলার আগে জিহবায় লাগাম টানবি, আদারওয়াইজ আমি তাের জীবনের লাগাম টেনে দিব একেবারের জন্য!”
ব্যথায় কুঁচকে গেছে এডউইনের গম্ভীর মুখ! দু’হাত পেটে চেপে রেখে গোঙাচ্ছে বেচারা। ফর্সা মুখের আদলে লেপ্টে গেছে লালাভ আবরণ। মাথাভর্তি লালচে-সোনালি চুলগুলো এখনো মন্সটারের শক্তপোক্ত হাতের মুঠোয় পিষ্ট হচ্ছে। আহত যুবকের চোখদুটো কুঁচকে রাখা, কর্ণকুহরে ভেসে আসছে মনস্তারের দাঁত কটমটানো শব্দ! ভয়ার্ত যুবক ঢোক গিলছে ক্ষনে ক্ষনে। সম্মুখে থাকা কঠিন মানব ক্রমশ নিজের হিতাহিত জ্ঞান হারাচ্ছে। ফর্সা মুখখানার সে-কি রাগী ভাবসাব! মসৃণ ললাটে উল্টেপাল্টে আছড়ে পরেছে মাথাভর্তি সিল্কি বাদামী চুলগুলো। আজ কোন উদ্দেশ্যে যুবকের ওলফ-কাট দেওয়া চুলগুলো ওমন ছাড়া পেয়েছে কে জানে! তারা কি সুন্দর বেপরোয়া ভঙ্গিতে ঘাড় ছুঁইয়ে যাচ্ছে রূঢ় মানবের। মুগ্ধ হিসহিসিয়ে যাচ্ছে! শক্ত হাতে এডউইনের মাথাটা আরেকটু ঝাঁকিয়ে উঠল কেমন। বেচারা এডউইন এবারেও চোখ খুলল না। চোখ খুলে থোড়াই চোখাচোখি করবে মনস্টারের সঙ্গে! এদিকে নাক দিয়ে সাপের ন্যায় ফোঁস ফোঁস শব্দ তুলছে মুগ্ধ। চিবিয়ে চিবিয়ে ফের বলল,
“ ওকে নিয়ে তুই কথা বলার কে? এ্যাই এসহোল! হু দা ফা’ক ইউ্য আর টু টক এবাউট হার? জিভটা খুব বেশি লকলক করছে নাকি তোর? তাহলে তো কেটে দেওয়া উচিত!”
আঁতকে উঠল এডউইন! ত্বরিত পেট থেকে হাত সরিয়ে এনে মুখের সামনে হাতজোড় করল বেচারা। চোখদুটো ঠায় বুজেঁ রেখে ভয়ার্ত কন্ঠে থেমে থেমে আওড়াল,
“ ক্ষমা করুন মনস্তার! আমার ভুল হয়েছে। এ জীবনে শিক্ষা থাকলে আর কখনো উনাকে…”
কথাটা জিভ খসে বেরুলো মাত্র, আর ওমনি বেচারা এডউইনের খোঁচা খোঁচা ডানগালটায় সপাটে বসল এক চড়! চড়ের তীব্রতায় গাল বেঁকে গেল এডউইনের। ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে অস্ফুটে বেরুলো ব্যথাতুর শব্দ। এরইমধ্যে এক হিংস্র থাবা এসে চট করে চেপে ধরে এডউইনের চোয়াল। কর্ণকুহরের ছেদ দিয়ে ঢুকল মনস্তারের দাঁত কিড়মিড় কন্ঠ,
“ খবরদার ওর প্রসঙ্গ জিভের আগায় আনবি না! ওকে উনি, তিনি, সে ইত্যাদি সম্বোধন করা তো দূর, ওর কথা মাথায় আনলেও তোর শরীর থেকে গর্দানটা আলাদা করে দিতে দু’সেকেণ্ডও ভাববো না আমি। মাইন্ড ইট!”
বুঝল এডউইন! তড়িঘড়ি করে মাথা ঝাঁকালো ওপর নিচ। বাদামী চোখদুটো কিয়তক্ষন কটমট করে তাকিয়ে রইলো তার পানে। পারছেনা এক্ষুণি এডউইনকে কাঁচা গিলে ফেলতে! তবে মানুষ বিধায় থেমে রইলেন মনস্টার। ফোঁস ফোঁস করতে করতে এক ঝটকায় ছেড়ে দিলো এডউইনের চোয়াল। পরক্ষণে রয়েসয়ে শীরঁদাড়া সোজা করে দাঁড়ালেন মনস্টার। বাহাতের কব্জিতে বেঁধে রাখা হেয়ার ব্যান্ডটা তক্ষুনি একটানে খুলে এনে, মাথার এলোমেলো চুলগুলোকে কোনমতে বাঁধতে উদ্যোত হলো সে। কপালে গোটাকতক ভাঁজ স্পষ্ট তার, শক্ত চোয়ালে আনমনে বিড়বিড় করছে কি যেন! দক্ষ হাতে কায়দা করে গাঁট দিচ্ছে ওতো সুন্দর চুলগুলোতে, তবে গাঁট দেবার একপর্যায়ে আচমকা স্থবির হলো মুগ্ধ। ব্যস্ত হাতদুটো তার আচমকা থেমে গেল মাঝপথে। মস্তিষ্কটা হঠাৎ করে বেজে উঠল কেন যেন! এতক্ষণের উপচে পড়া রাগটায় বুঝি এক পশলা বৃষ্টি নামলো মুহুর্তেই। বিচক্ষণী মস্তিষ্ক হুট করে সচল হলো ফের। কানদুটোতে ঝা ঝা করে উঠল তার বলা কিছুক্ষণ আগের কথাটা —
“ আমার চাশমিস!”
থমকায় মুগ্ধ! হতবিহ্বলের ন্যায় মেঝেতে তাক করল হতবাক দৃষ্টি। কপালের চামড়া আরও কিছুটা গুটিয়ে নিয়ে, যুবক মনে মনে নিজেকে শাসিয়ে আওড়াল,
“ আমি এটা কি বললাম? আমি ঐ বান্দীর মেয়েকে আমার চাশমিস বললাম কেনো? কি বললাম আমি?হোয়াট দা ফা’ক ইজ হেপেনিং টু মি? ঐ বান্দীর মেয়ে আবার আমার হলো কবে থেকে? ও জাস্ট ছ’মাসের রক্ষি’তা আমার। জাস্ট আ ফা’কিং রক্ষিতা, নাথিং এলস!”
নিজেকে বড়ো স্বান্তনা দিয়ে যাচ্ছে মাফিয়া মনস্টার। ভেতরে ভেতরে ফেটে যাচ্ছে নিজ উদ্ভট কর্মে। মাথার তালুটা জ্বলে যাচ্ছে রাগে। সে কেমন গজগজ করতে করতে ঘাড় বাকিয়ে পাশে তাকাতেই তার দৃষ্টি থমকালো — আহত এডউইনের পানে। তক্ষুনি চোয়াল শক্ত হলো মুগ্ধের। চোখেমুখে লেপ্টে গেল একরাশ বিরক্তির ছাপ! মনের কোণে আচানক উত্থাপিত হলো একরাশ প্রশ্ন সংখ্যা। সে কি এডউইনকে মারলো? কিন্তু কেনো মারলো? মেয়েটাকে সামান্য মিথ্যেবাদী বলায়? ভাবতে ভাবতেই দাঁতে দাঁত চাপলো মুগ্ধ। শক্ত হাতে ঘাড়ের পাশ ডলতে ডলতে, আলগোছে একহাত উঁচিয়ে রাখল উম্মুক্ত কোমরের ওপর। অতঃপর পায়ের গতি টেনে এগোয় উবু হয়ে বসে থাকা এডউইনের নিকট। মাঝে কিছুটা দুরত্ব রেখে থামল মুগ্ধের পাদুকা। ছেলেটা তখন হুট করে বসে থাকা এডউইনকে সন্দিগ্ধ গলায় প্রশ্ন ছুড়ঁল,
“ ডিড আই জাস্ট হিট ইউ্য এডউইন?”
হতবিহ্বল এডউইন! তক্ষুনি মাথা তুলে তাকালো সম্মুখে। একপল মনস্টারের আগুন চোখদুটোর সনে চোখাচোখি হতেই গা জুড়ে কাঁপন বয়ে গেল বেচারার। সে ত্বরিত নজর নামিয়ে বসে রইলো বোবার ন্যায়। এদিকে তার ওমন নিরবতায় মেজাজ হারাচ্ছে মুগ্ধ। দাঁত কিড়মিড় করে যুবক ফের ধমকে বলল,
“ আ’ম আস্কিং ইউ্য সামথিং, ড্যাম ইট!”
এহেন ধমকে আঁতকে ওঠে এডউইন। ভয়ে ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে ওপর নিচ মাথা নাড়াতে গিয়েও বেচারা পরমুহূর্তেই শুধরে নিলো নিজেকে। প্রাণ সংশয়ে না চাইতেও ভং ধরে মাথা নাড়ায় দু’ধারে। মুগ্ধ কপাল কুঁচকালো এবার। নিচের ঠোঁটখানা ওপরের দাঁত ক’টা দিয়ে চেপে ধরে পায়চারি চালালো এদিকওদিক। মনে মনে কিছু একটা ভেবে হুট করে গমগমে গলায় আদেশ ছুড়ঁল,
“ আগামী দু-ঘন্টার মধ্যে প্যালেসের সকল গার্ডদের হলরুমে নিয়ে আয় এডউইন!”
হকচকায় এডউইন। গুরুগম্ভীর সাজে আবির্ভূত হলো তার মুখ। ভেতর ভেতর একরাশ প্রশ্ন জেগে উঠলেও বাইরে থেকে সে কেমন নির্লিপ্ত ভাব ধরে রেখেছে দেখো! সময় নিয়ে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জবাব দিলো,
“ ওকে মনস্তার!”
কথাটা শেষ হতেই পিনপতন নীরবতায় ছেয়ে গেল সম্পূর্ণ কক্ষ। এডউইন ধীরেসুস্থে বসা ছেড়ে দাঁড়ানোর প্রয়াসে মত্ত। এদিকে মুগ্ধ নামক বলিষ্ঠ পুরুষ সেদিকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে, উল্টো পথে গটগটিয়ে প্রস্থান ঘটাল কক্ষ থেকে। সে যাবার সঙ্গে সঙ্গে সাইকি কেমন ফণা তুলল আচমকা! ভয়ংকর সাপটার ওমন ধারালো দাঁত দেখে ফের ধপ করে মেঝেতে বসে পড়ে এডউইন। বেচারা ভয়ে তটস্থ! দু’হাতে মেঝেতে ভর দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে কোনরকম। ওদিকে সাইকি ধীরে ধীরে শরীর দুলিয়ে এগোচ্ছে এবার। তা দেখে বেচারা এডউইন কেমন চেঁচিয়ে উঠল ঘর কাঁপিয়ে। ভাবা যায়? মনস্টারের ডানহাত নামক ওমন বলিষ্ঠদেহী কঠিন মানুষটাও কি-না মনস্টারের সাইকিকে দেখে ভয়ে চেঁচাচ্ছে! বেচারা এডউইন ক্ষনে ক্ষনে ঢোক গিলে দু’হাতে দূর দূর করে সাপটাকে বলছে,
“ হুঁশ, হুশ! অন্য দিকে যা সাইকি! আমার শরীরে গোশত নেই। আমি মানুষটাও অনেক লম্বা, গিলে হজম করতে সপ্তাহ লেগে যাবে! তাই বলছি, হুঁশ হুঁশ! দূরে যা।”
বোবা প্রাণীটা থোড়াই বুঝল এডউইনের কথা! সে কেমন আঁকাবাকাঁ শরীর নাচিয়ে হিসহিস করে এগোচ্ছে এডউইনের দিকে। এডউইনের এবার নাজেহাল দশা! শরীরের সব ব্যথা ভুলিয়ে বেচারা তক্ষুনি গা ঝেড়েঁ উঠে দাঁড়ালো নিজ পায়ে। অতঃপর এক লাফে ঘর ছেড়ে বেরুনোর উদ্দেশ্যে খানিকটা এগোতেই পথ আটকালো সাইকি! এডউইন থমকায়! সাইকির ধারালো র*ক্তা*ক্ত দাঁতগুলোর ওমন হা করা দেখে ভয়ে ফের চেঁচিয়ে ওঠে বেচারা। সাইকি ফণা তুলতেই দু’হাতে তক্ষুনি চেপে ধরে নিজ মুখমণ্ডল। তবে কিছুক্ষণ পেরিয়ে যাবার পরও গায়ে তেমন ব্যথা অনুভূত না হওয়ায়, আঙুলের ফাঁক গলিয়ে পিটপিট করে সামনে তাকায় এডউইন। পরমুহূর্তেই সম্মুখের দৃশ্য দেখে চক্ষু ছানাবড়া হলো তার। দরজার কাছে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মনস্টার! দু’হাত গুঁজে রেখেছে পকেটে। সাইকি ধীরে ধীরে তার গা বেয়ে ওপরে উঠছে। এহেন দৃশ্য দেখে গা শিরশির করে উঠল এডউইনের। তার কেন যেন মনে হচ্ছে সাইকি মনস্টারের নয়, তার গা বেয়ে উঠছে! এডউইন নিজ ভাবনায় নিমগ্ন ঠিক তখনি সামনে থেকে ধেয়ে আসে মুগ্ধের ঝাঁঝাল কন্ঠ!
“ গায়ের ব্যথা শেষ? নাউ গো অন ইউ্যর ডিউটি।”
ভড়কায় এডউইন! তৎক্ষনাৎ হাত সরায় মুখমণ্ডল থেকে। হতবিহ্বলের ন্যায় কিয়তক্ষন চুপচাপ মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে থেকে ভাবল,
“ মনস্টার তাহলে ইচ্ছে করে সাইকিকে আমার পিছে লাগিয়েছিল? মানুষ আহত হলে ডাকে ডাক্তারকে, আর মনস্টার কি-না ডাকে সাইকিকে! হাহ!”
নিজ ভাবনায় মত্ত এডউইন! হুট করে ধ্যান ভাঙল সাইকির হিসহিসানোর শব্দে। ত্বরিত বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে মাথা তুলে সামনে তাকাতেই মুখোমুখি হলো ফণা তোলা সাইকির সাথে। সাইকিকে কেমন এগিয়ে ধরে আছে মনস্টার, মুখাবয়বে তার কুটিল হাসির ছাপ স্পষ্ট। এডউইন তৎক্ষনাৎ হকচকিয়ে দু-কদম পিছিয়ে গেল। ভড়কে যাওয়া কন্ঠে মিনমিনিয়ে বলল,
“ যাচ্ছি, যা-যাচ্ছি মনস্টার!”
হড়বড়িয়ে কথাগুলো শুধিয়ে কোনরকমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ঘর ছেড়ে পালালো এডউইন। যাবার সময় ভুলেও তাকালো না সাইকির দিকে। সে চলে যেতেই মনস্টার পা বাড়ায় উল্টো পথে। প্রশস্ত করিডর দিয়ে কদম বাড়িয়ে আনমনে বিড়বিড়াচ্ছে মুগ্ধ। কাঁধের ওপর সাপ ঝুলছে, আর সে কেমন নির্লিপ্ত ভঙ্গিমায় এগোচ্ছে। আওড়াচ্ছে,
“ ইউ নো হোয়াট সাইকি? শি ইজ নো ওয়ান টু মি! নো ওয়ান মিনস, নো ওয়ান। বাট ওর দিকে কেউ চোখ তুলে তাকালে কেন যে সহ্য হয়না! আই থিংক ঐ বান্দীর মেয়ে জাদু জানে! ভয়ংকর জাদু।”
বোবা প্রাণী কি বুঝল কে জানে! আনন্দে আলগোছে গা ঘষতে লাগল মুগ্ধের বুকের সঙ্গে। মুগ্ধ ক্রুর হাসল! পকেটে দু’হাত গুঁজে এগুলো সম্মুখে।
ঘুম জড়ানো চোখদুটো আজ বড্ড ভার সপ্তদশীর। মাথাটা টনটন করছে ভোঁতা যন্ত্রনায়। শরীরের প্রতিটি অঙ্গ আজ মড়মড় করছে ব্যথায়। সপ্তদশী গোঙাচ্ছে বেশ! ফ্লোরটা কেমন বরফের ন্যায় শীতল হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। সপ্তদশীর ক্ষুদ্র শরীরের উষ্ণতাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে এরূপ মাত্রাতিরিক্ত ঠান্ডা। কিয়তক্ষন পেরুলো বোধহয়, এহেন হিম- শীতল মেঝেতে শুয়ে থাকার আর জো নেই মাহি’র। সে ঘুমঘুম চোখেই কোনরকমে দু’হাত ফ্লোরে ঠেকাল। অতপর কাঁপা কাঁপা বদনে চোখমুখ খিঁচে উঠে বসল মেঝেতে। সপ্তদশী এখনো কুঁচকে রেখেছে চোখ! দু’হাত ওপরে তুলে আড়মোড়া ভেঙে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে জানান দিল উঠে পড়ার ইঙ্গিত। আড়মোড়া ভাঙা শেষ হতেই লম্বা একটা হামি টানলো মাহি। পিটপিট করে চোখদুটো খুলে সামনে তাকাতেই বিশাল এক ঝটকা খেল মনে হচ্ছে। মুহুর্তেই সকল ঘুম ছুটে গেল তার, যে-ই দেখল — সে এক ট্রান্সপারেন্ট কাঁচের ঘরে বসে আছে। চারিদিকে সফেদ রঙা মেঘেদের উড়ন্ত ভেলা, মনে হচ্ছে সম্পূর্ণ ঘরটা বুঝি মেঘেদের রাজ্যে বানানো হয়েছে। মাহি অবাক চোখে পুরো ঘরময় চোখ বুলালো। কি বিশাল কামরা! ঘরের একপাশে ঝুলন্ত গোল বিছানা। পাশেই ছোট ছোট দুটো বেডসাইড টেবিল। ডানদিকে লম্বা সোফা কাউচ বিছিয়ে রাখা। সেথায় বসলে বুঝি সরাসরি পাহাড়, আকাশ আর উঁচু ভ্যালির প্রতিটা মনোমুগ্ধকর দৃশ্য অকপটে নজরে পড়বে। বামদিকে ক্লোজেটের স্লাইডিং দরজা।
সামনের দিকে একখানা কাঁচের দেয়াল দেখা যাচ্ছে। মাহির কৌতুহলী মনে একটু-আধটু আগ্রহ জন্মালো সেথায় কি আছে তা দেখতে। তাইতো সপ্তদশী স্থানকাল ভেদে রয়েসয়ে ফ্লোরে পা বিছিয়ে দাড়াঁতে গিয়ে হঠাৎ থমকে গেল ফের। একি! পুরো ফ্লোরটাও যে কাঁচের তৈরী। নিচ দিয়ে উড়ছে মেঘ। মাহি ভয় পেলো এরূপ কান্ডে। এক্ষুণি ফ্লোরটা যদি ভেঙে পড়ে যায় নিচে তখন? বোকা মেয়ে তৎক্ষনাৎ ভয়ে ভয়ে ছুটে পালালো বিছানার দিকে। একলাফে ঝুলন্ত গোল বিছানাটায় উঠতেই দেবে গেল তার পাদু’টো! মাহি ভড়কায়। হতবিহ্বলের ন্যায় নিজ পাদু’টোর দিকে দৃষ্টিপাত করতেই দেখে পাদুকা কেমন দেবে গেছে বিছানার নরম তুলোতে। সপ্তদশীর বাচ্চা মনটা কেমন গদগদ হলো এহেন কান্ডে। সে মুচকি হেসে ডানপা -টা আরেকটু সামনে বাড়াতেই সেটাও দেবে গেল আলগোছে। সপ্তদশীর পেল্লব মুখখানায় হুট করে দেখা মিললো এক ভিন্ন উচ্ছ্বাস।
ঠোঁটের কোণে লেপ্টে থাকা মুচকি হাসির রেশ প্রশস্ত হলো বেশ! সে এবার লাফ দিলো নরম তুলতুলে বিছানায়। একবার, দুবার, পরপর কয়েকবার! উচ্ছ্বাসে গদগদ সপ্তদশী! হাসছে আর লাফাচ্ছে বিছানায়। মাথার ওপর স্বচ্ছ কাঁচের সিলিং, আকাশের নীল-সাদার প্রতিটি রঙ ধরা দিচ্ছে তার চোখে। এ যেন ঘর নয় মনে হচ্ছে মেঘের কোলে এক টুকরো স্বর্গ! গত ১৬দিনে এই প্রথম অন্তর্মুখী সপ্তদশী এতোটা উচ্ছ্বসিত হলো। লাফাতে লাফাতে মায়াবিনী আচমকা দু’হাত ছড়িয়ে গা এলিয়ে দিলো নরম তুলতুলে বিছানার কোলে। খিলখিল করে হাসছে আর দু’হাত তুলে আকাশের দিকে আঁকিবুঁকি করছে। মনখারাপ গুলো তার কোথায় যে পালালো কে জানে! তবে এরইমধ্যে পেটটা কেমন চো চো করে উঠল মাহি’র। ক্ষুধায় পেট মোচড়াচ্ছে এবার। সে তক্ষুনি উঠে বসল শোয়া ছেড়ে। কিয়তক্ষন ঠোঁট কামড়ে বসে রইলো চুপচাপ। এটা কোন জায়গা, জানে না সে। কাল যখন এসেছিল তখনও তো চোখে পট্টি বাঁধা ছিল! হুটহাট নতুন জায়গায় এসে কাকে বলবে খাবারের কথা? চিন্তায় চিন্তায় ঠোঁট কামড়ে ধরল মাহি। এদিকে পেটটা তার বারবার মাইকিং করে ডাকছে। বেচারি আর পারলোনা বসে থাকতে। ছোট ছোট কদমে তৎক্ষনাৎ পা ছোটালো এটাচ ওয়াশরুমের দিকে।
চাচেঁর দরজাটা সামান্য খুলে রেখে, মাথা বার করে উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে মাহি। একহাতের তর্জনী দিয়ে আলতো করে নাকের ওপর এসে পড়া চশমাটাকে খানিক ঠেলে দিয়ে পা বাড়ালো বাইরে। আজ বুঝি সপ্তদশীর অবাক হবার দিন। প্রশস্ত করিডর দিয়ে যত হাঁটছে ততই যেন সে মুগ্ধ হচ্ছে। কাঁচের তৈরী স্বচ্ছ ফ্লোর, নিচ দিয়ে উড়ছে মেঘ। করিডরের বেশকিছু জায়গায় ইউরোপীয় এন্টিক মূর্তি। মাহি হাঁটার গতি কমিয়ে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে সব। মূর্তি গুলো কি জীবন্তই না দেখাচ্ছে! তবে একটু সামনে এসপ কিছু কিছু মূর্তিকে দেখে হুট করে থেমে গেল মাহি। কপাল গোছালো পরক্ষণে। তার স্পষ্ট মনে আছে, এ মূর্তিগুলোর ছবি লাইব্রেরীর ইতিহাসের বইয়ে দেখেছে সে। এগুলো তো এন্টিক কালেকশন, যা বিশ্ব দরবারে কোটি কোটি টাকার কালেকশন হিসেবে পরিচিত। তবে এগুলো এখানে কেন? মাহির ছোট্ট মনে উদয় হলো হাজারো প্রশ্ন। কিন্তু উত্তর পাওয়া যে বেশ মুশকিল এসবের। সে কিছুক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো মূর্তিগুলোর সামনে। পরক্ষণে পেটের চোঁচোঁ শব্দে ফের বাড়ালো পায়ের গতি।
অন্যদিকে, প্রশস্ত করিডর দিয়ে ক’জন সশস্ত্র গার্ড মাত্রই এগোচ্ছিলেন একে-অপরের সাথে কথোপকথন চালিয়ে। তবে কিছুটা পথ এগোতেই যেইনা সামনে থেকে মাহি’কে হেঁটে আসতে দেখলেন ওমনি বেচারাগুলো কেমন হন্তদন্ত পায়ে উল্টোপথে হাঁটা ধরলেন। সে-কি পায়ের গতি তাদের! যেন হাঁটছেন না দৌড়াচ্ছেন। পেছন থেকে এগিয়ে আসা মাহি হতবিহ্বলের ন্যায় দেখল সব। লোকগুলো ওমন হন্যে হয়ে উল্টোপথে ছুটছে কেন? কই সে ভাবল তাদের ডেকে জিজ্ঞেস করবে — কিচেন কোথায়? অথচ তাদের দেখো! মেয়েটাকে দেখেই উল্টো পথে ছুটছে। মাহি ঠোঁট ফুলালো। দু’হাত বুকের কাছে বেঁধে শক্ত মুখে এগোতে লাগল কেমন। লম্বা প্রশস্ত করিডরের শেষ প্রান্তে সিঁড়ি, অতটুকু পথ আসতেই মেয়েটার লেগেছে পাক্কা আধঘন্টা। অবশেষে সিঁড়ির কাছে এসে প্রথম পা রাখতেই, সিঁড়িতে কেমন সোনালী আলো ঝলকে উঠল! মাহি এবারেও হতবাক চোখে দেখল সব। বাড়িটা তাকে আর কত মুগ্ধ করবে কে জানে!
লম্বা সিঁড়ি ডিঙিয়ে নেমে এলো সপ্তদশী। এদিক-ওদিক বারকয়েক নজর বুলিয়ে খুঁজল কাউকে। তখনকার গার্ড কোথায় আছে কে জানে! তার তো খিদে পেয়েছে নাকি? কাউকে না দেখলে কিভাবে খাবারের সন্ধান পাবে সে? পেটের যন্ত্রণায় আধার নেমে এলো সপ্তদশীর মুখমণ্ডলে। সে দূর্বল কদমে এগোয় সামনের দিকে। হাঁটার পথে এক-আধবার ঘাড় বাকিয়ে দেখছে চারপাশ। বা-দিকে বিশাল জায়গা জুড়ে গ্রাউন্ড লাউঞ্জ। ডানদিকটা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না এখান থেকে। মাহি আর আগ্রহ দেখালো না সেদিকে যেতে। কদম যেভাবে বাড়ছে সেভাবে এগোতে এগোতে মেয়েটা হুট করে পেয়ে গেল গ্লাস হাউজের সদর দরজা। বোকা সপ্তদশী কোনরূপ কালক্ষেপ না করে এগোয় সম্মুখে। বিশালাকৃতির কাঁচের দরজাটার বাইরে পা রাখতেই এক শীতল দমকা হাওয়া এসে চট করে বারি খেলো তার গায়ে। মুহুর্তেই পুরো শরীর জুড়ে অদ্ভুত প্রশান্তি ছড়িয়ে গেল মাহি’র। যতদূর চোখ যাচ্ছে তাতে বোঝা যাচ্ছে সে এখন কোনো বড় মাপের পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থানরত। অদূরেই উঁচু উঁচু পিলার, সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া। মাহি ঘাড় বাকিয়ে তাকায় পাশে। ওমনি মুখটা কেমন হা হয়ে গেল তার। ইশশ! বা-দিকে ওটা বুঝি কোনো গার্ডেন! বড় বড় পাইন আর ওক গাছের সমন্বয়ে গড়া বাগান, যার পুরোটা জমিন জুড়ে বরফ ঢেকে আছে। মাহি মুচকি হেসে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলো সেথায়।
সময় বুঝি মিনিট খানেক পেরুলো, অদূর থেকে হুট করে ধেয়ে এলো কোনো জন্তুর ছুটে আসার শব্দ। মাহি হকচকিয়ে পিছিয়ে গেল বাড়ির দিকে। ভয়ার্ত ঢোক গিলে সম্মুখে তাকাতেই হঠাৎ দেখল — বাগানে একটা ছোট্ট খরগোশ ছানা কেমন হন্তদন্ত হয়ে ছুটছে। মাহি’র নরম মনটা বড্ড আনচান করে উঠল খরগোশটার জন্য। সে খুশিমনে সামনে পা বাড়াতেই কোত্থেকে যেন এক হিংস্র স্পটেড হায়না এসে পথ আটকাঁল নিরীহ খরগোশটার। মাহি থমকায়! ভয়ার্ত ঢোক গিলে একমুহূর্ত তাকিয়ে থাকে সম্মুখে। অদূরের খরগোশটা রীতিমতো কাঁপছে ভয়ে। হায়নাটা কেমন হিংস্র বন্য হাসিতে এগোচ্ছে তারপানে। মাহির ভীতু মনটা কেমন হুট করে শক্ত হলো এপর্যায়ে। মনে মনে সিদ্ধান্তে উপনীত হলো — খরগোশটাকে বাঁচাবেই। সপ্তদশী এদিক-ওদিক উদ্ভ্রান্ত দৃষ্টিতে খুঁজল কিছু। বাড়ির সামনের জমিনে পড়ে আছে বেশকিছু ছোট-বড় পাথর। মাহি’র ছোট্ট মস্তিষ্কে আচমকা এসে বাসা বাঁধল কিছু সুবুদ্ধির। সে তড়িঘড়ি করে এগিয়ে এসে দু-চারটে মাঝারি সাইজের পাথর নিলো হাতে। অতঃপর ভয়ে ভয়ে পাথরগুলো একে একে স্পটেড হায়নার গায়ে ছুড়েঁ মা’রল মাহি। এহেন অতর্কিত আক্রমণে হায়নাটা লেজ গুটিয়ে পালালো সম্মুখে। এই সুযোগে তক্ষুনি জোরালো পায়ে খরগোশটার পানে ছুটলো মাহি। হন্তদন্ত হয়ে খরগোশ ছানাকে কোলে তুলতেই তার চোখ আটকালো সামনের দিকে। কয়েক হাত দুরত্বে দাঁড়িয়ে আছে দুটো বিশালদেহী স্পটেড হায়না! তারা নিজেদের হিংস্র দাঁতগুলো বের করে তাকিয়ে আছে মাহি’র পানে। এহেন দৃশ্যে থমকায় মাহি! খরগোশ ছানাকে বুকের মাঝে চেপে ধরে তক্ষুনি ছুট লাগায় পেছনের দিকে তবে বালাইষাট! হিংস্র হায়না গুলো এক লাফে এগিয়ে এসে ঝাপিয়ে পড়ল মেয়েটার ওপর। ধারালো নখরে মেয়েটার হাত এবং পায়ে অসংখ্য আঁচড় বসিয়ে ক্ষত বসালো গভীর। মাহি চিৎকার জুড়েছে! কাঁদছে আকাশ কাঁপিয়ে। চোখমুখ খিঁচে খরগোশটাকে জড়িয়ে ধরে আছে মানবী। ঠিক তখনি অদূর থেকে ভেসে এলো কারো গর্জনধ্বনি!
“ ড্যানি, হ্যালি!”
অতিপরিচিত কন্ঠ কানে যেতেই থেমে গেল হিং*স্র হায়না দুটো। ভীষণ বাধ্যতায় নিজেদের ধারালো দাঁত কপাটি বের করে একইভাবে হুংকার ছুঁড়ল তারা। পরিচিত কন্ঠের মালিক তখন গটগটিয়ে এগিয়ে আসেন সেথায়। এসেই বলিষ্ঠ যুবক কেমন হিং*স্র থাবায় দু’হাতে চেপে ধরে হায়না দুটোর কন্ঠা! বাদামী চোখদুটোতে একপ্রকার আগুন লেপ্টে নিয়ে, শক্ত চোয়ালে চিবিয়ে চিবিয়ে আওড়ায়,
“ ও ময়্যা!”
(ও আমার!)
পোষা পশুদের মধ্যে এ এক বিরাট ধর্ম! মালিকের ব্যাক্তিগত কিছু মানে, তা তাদের জন্য নিষিদ্ধ। মুগ্ধ কটমট করছে। শক্ত হাতে হায়না দুটোর কন্ঠা চেপে আচমকা তাদের ছুঁড়ে ফেলল অদূরে। অন্য কেউ হলে এতক্ষণে হায়না দুটো নিশ্চয়ই পাল্টা আঘাত করত, তবে এ যে স্বয়ং তাদের মালিক! তার দিকে থোড়াই এগোবে তারা। তাইতো হ্যালি আর ড্যানি মাথা নুইয়ে লেজ গুটিয়ে পালালো সেখান থেকে। এদিকে তারা যেতেই পিছু ফিরল মুগ্ধ। ফর্সা মুখখানা তার কেমন লাল হয়ে আছে! উম্মুক্ত ট্যাটু আকাঁ বদনে ঘামের তীব্র উপস্থিতি। সদ্য এক্সারসাইজ ছেড়ে উঠে এলে যা হয় আরকি! যুবক ভ্রু গুটিয়ে এগিয়ে এলো মাহি’র দিকে। মাথাভর্তি অদৃশ্য আগুন নিয়ে আচমকা মেয়েটার গালে বসালো এক থাপ্পড়। এহেন কান্ডে তক্ষুনি ঠোঁট ভেঙে কেঁদে উঠে মাহি। থাপ্পড়ের তীব্রতায় গাল বাকিয়ে নিয়েছে মেয়েটা। মুগ্ধ মহাশয়ের রাগ বাড়ছে তরতর করে। সে তৎক্ষনাৎ শক্ত থাবায় মাহি’র নরম চোয়ালখানা চেপে ধরে দাঁত খিঁচে আওড়াল,
“ হোয়াট দা ফা’ক আর ইউ্য ডুয়িং হেয়ার? কোন সাহসে বাড়ি থেকে বের হলি তুই? কোন সাহসে জানোয়ারের বাচ্চা?”
হুংকার ছুঁড়ছে মুগ্ধ। যার বজ্র কন্ঠে কাঁপছে চারপাশের বাতাস। বোকা মাহি কথা বলার সাধ্যিতে নেই। মেয়েটা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে ভীষণ। হাতদুটো সামান্য ঢিলে হওয়ায় বুকের মাঝ থেকে ছোট খরগোশ ছানাটা আচমকা উঁকি দিলো বাইরে। তা মোটেও নজর এড়ায়নি মাফিয়া মনস্টারের। সে কেমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পরোখ করল খরগোশটাকে। বিচক্ষণ মস্তিষ্কে একে একে দুই মিলিয়ে আচানক ঝাঁঝ ঢেলে জিজ্ঞেস করল,
“ সামহাউ এটার জন্য এখানে আসিসনি তো?”
নিরব মাহি! তৎক্ষনাৎ নজর ঝুঁকালো নিচে। মুগ্ধ বুঝে গেল যা বোঝার। সে তক্ষুনি এক ঝটকায় ছেড়ে দিলো মাহি’র চোয়াল। সটান হয়ে দাঁড়িয়ে কটমট করতে করতে গর্জন তুলল,
“ আর ইউ্য ডাম্ব? ইট’স জাস্ট আ রেবিট! একে বাঁচাতে নিজের প্রাণ সংকটে ফেললি কোন পাগলামিতে? হুটহাট ম’রার এতো শখ উথলে উঠল কেন তোর? পাগল হয়েছিস বান্দীর মেয়ে?”
এহেন গর্জনে থরথর করে কাপঁছে সপ্তদশী! ডিম্বাকৃতি ফর্সা মুখখানায় ছেয়ে গিয়েছে রক্তাভ আভা। এতক্ষণের দস্তাদস্তিতে চোখে আটাঁ গোল ফ্রেমের চশমাটারও বড়ো এলোমেলো অবস্থা। ঘনকালো সিল্কি চুলগুলো কেমন উষ্কখুষ্ক হয়ে আছে! সপ্তদশীর চোখেমুখে একরাশ ভয়ভীতি। বুকের কাছে দু’হাত দিয়ে আগলে রাখা সদ্য পাওয়া খরগোশগোশ ছানাকে। পরনের ফ্রকটা কেমন ছিঁড়ে গেছে বেশ কয়েক জায়গায়। দু’হাতের নরম ত্বকে গভীর আঁচড়ের দাগ। সপ্তদশী কাঁপছে ভীষণ! বুকের কাছে খরগোশ ছানাকে আরেকটু চেপে ধরে থেমে থেমে আওড়াল,
“ হোক সামান্য খরগোশ, তবুও ও একটা নিরীহ প্রাণী। নিজ চোখের সামনে একটা অসহায় প্রাণীকে কিভাবে ম’রতে দিব আমি?”
সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা দীর্ঘকায়ী রূঢ় মানব কেমন কপাল গোছালো এরূপ কথায়। চোয়ালের পেশী শক্ত করে ফের,দাঁত খিঁচে ঝাঁঝাল কন্ঠে আওড়াল,
“ তাই বলে পাগলের মতো স্পটেড হায়নাদের সামনে চলে আসবি? ইউ্য ফা’কিং গ্লুপায়া, ডু ইউ্য ইভেন নো — হু দে আর? ওদের একটা কামড়ে তোর শরীরটা মুহূর্তেই ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যেত!”
নাক টানলো মাহি! খরগোশ ছানার পশমি শরীরে খানিক হাত বুলিয়ে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে অভিমানিনী শুধালো,
“ আমি মর’লে আপনার কি? ওহ আমাকে আর মা’রতে পারবেন না বলে আফসোস হতো তাই না?”
থামল সপ্তদশী! নাক টানছে অনবরত। এদিকে তার ওমন বাক্যে অবাকের শীর্ষে পৌঁছেছে মনস্টার। মেয়েটার মুখে কেমন খই ফুটেছে দেখো! মাহি খানিকক্ষণ সময় নিয়ে ফের বলল,
মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ২৯
“ আমি আপনার মতো নির্দয় নই মাফিয়া বিস্ট, যে নিজ চোখের সামনে একটা অসহায় প্রাণীকে শুধু শুধু কষ্ট পেতে দেখব। আমি মানুষ! একটা নিরীহকে বাঁচাতে গিয়ে আমার যদি মরণও হয়, তবে তাই সই!”
কপালের ভাঁজ আরও গাঢ় হলো মুগ্ধের। চোয়ালের পেশি টানটান। যুবক দাঁত খিঁচে তক্ষুনি শুধালো,
“ সুযোগ পেয়ে আমায় বিস্ট ডাকছিস বান্দীর মেয়ে? এখন যদি আমি না আসতাম, তখন? তখন বোধহয় খুব ভালো হতো তাই না? বাই দা হেল ইন দ্য মনস্টার’স ওয়ে — নিজের দিকে তাকিয়েছিস একবার? ওদের একবেলার খাবার হওয়ার যোগ্যতাও তো তোর নেই। সারা শরীরে হাড্ডি ছাড়া মাংস নেই এক ছটাক! তোর মতো কাঁকলাসকে খেতে গেলে ওদেরই জাত যেত বান্দীর মেয়ে!”

আপু পরের পর্ব দেন তাড়াতাড়ি 🤨😌💖💖💖💖💖💖🌹🌹👏