Home মির্জা সায়ান মুগ্ধ মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৮

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৮

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৮
jannatul firdaus mithila

“ তুই খাবি এমনকি তোর বাপসহ খাবে বান্দীর মেয়ে! মুখ খোল বলছি!”
সপ্তদশীর কুঁচকান মুখে রাগের ঝলক স্পষ্ট। সম্মুখের রূঢ় মানবের রুক্ষ মুঠোয় বন্দী থাকা তার নরম চোয়ালখানা অবশ হচ্ছে ক্রমশ। চশমাপরা মায়াবী চোখদুটো পিটপিট করছে কেমন! নাকের পাতলা ডগাটা মুহুর্তেই রঙ ধরেছে লাল। সপ্তদশী তক্ষুনি ঝাঁকিয়ে ওঠে নিজ মস্তক। ঘটনাপ্রবাহে রূঢ় মানবের রুক্ষ মুঠো খানিক আলগা হতেই মাহি কেমন গজগজ করতে করতে ঝাঁঝাল কন্ঠে বলে ওঠে,

“ না বলেছি না? তারপরও জোর করছেন কেনো? কথায় কথায় জোর দেখানোটা খুব প্রয়োজন তাই-না?”
সপ্তদশীর কথার কি তেজ! ভুলবশত কন্ঠ হয়েছে উঁচু। সে কন্ঠ কানে যেতেই সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা রূঢ় মানবের মুখাবয়বে নামলো আগের ন্যায় পরিবর্তন। ফর্সা ললাটপটে দেখা মিললো অসন্তোষের ছাপ। মোটাসোটা কালচে ভ্রু-দ্বয়ের মধ্যাংশ কুঁচকে গেল মুহুর্তেই। বাদামী চোখজোড়ায় লেপ্টে গেল এক আকাশসম অদৃশ্য আগুনের রেশ! শক্তপোক্ত বাহাতটা তৎক্ষনাৎ মুঠোবন্দি হলেও, ডানহাতখানা মুঠোবন্দি করতে গিয়ে বাঁধল আরেক কান্ড। যুবকের ডানহাতে ছিল উষ্ণ দুধভর্তি একখানা কাঁচের গ্লাস! মাত্রাতিরিক্ত ক্রোধের চোটে রুক্ষ পাঁচ আঙুলের জোরালো চাপ বাড়াতেই কাঁচের গ্লাসটা কেমন দুমড়েমুচড়ে গেল নির্দয় মানবের রুক্ষ হাতের মুঠোয়। মুহুর্তেই চিড়বিড় শব্দ তুলে ভাঙা কাঁচের টুকরোগুলো আলগোছে দেবে গেল মুগ্ধের সম্পূর্ণ হাতে। তীক্ষ্ণ সীসার টুকরোগুলো আচমকা হাতের চামড়া ভেদ করতেই সম্পূর্ণ হাতটা কেমন ভিজে গেল উষ্ণ তরল র ক্তে। রুক্ষ আঙুলগুলোর দ্বার চুইয়ে চুইয়ে লহুর ছিটেফোঁটা কেমন অবহেলায় গড়িয়ে পড়ছে মেঝেতে। এহেন হুটহাট ঘটনার আকস্মিকতায় ভড়কায় মাহি! বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকায় মুগ্ধের র ক্তে ভেজা হাতের দিকে। মুখাবয়বে একরাশ ভয়-ভীতি লেপ্টে সপ্তদশী কেমন হড়বড়িয়ে বলে ওঠে,

“ এটা কি করলেন আপনি? আপনার হাতটা তো কেটে…”
বাদবাকি বাক্য জিভ খসানোর পূর্বেই ঘটল আরেক বিপত্তি! রূঢ় মানব শক্ত চোয়ালে কটমট করতে করতে তৎক্ষনাৎ টেবিলের ওপর থেকে ধারালো বাটার নাইফটা তুলে নেয় হাতে। অতঃপর চোখের পলকে নাইফের তীক্ষ্ণ সূচালো ডগাখানা এগিয়ে আনে সপ্তদশীর কন্ঠনালী বরাবর। এরূপ আকস্মিক কান্ডে আতঙ্কে বাকরুদ্ধ মাহি। বেচারির নিশ্বাস আঁটকে গিয়েছে গলার কাছে। নাইফের সূচালো ডগাটা আদৌও কন্ঠনালীর মসৃণ চামড়া ভেদ করেছে কি-না কে জানে! অথচ এখনই ভয়ে সপ্তদশীর প্রাণ বেরিয়ে যাবার উপক্রম যেন। এদিকে মুগ্ধ আজ বেপরোয়া। রাগে দিকবিদিকশুন্য মানব শক্ত চোয়ালখানা ফুটিয়ে শব্দ তুলছে কটমট। বাদামি চোখদুটোতে সে-কি রাগ তার! এই বুঝি চোখের আগুনে ঝলসে দিবে সপ্তদশীকে। মাহি ভয়ার্ত! ফাঁকা ঢোক গিলবার জো নেই এখন। দূর্বল চিত্তে নিশ্বাসের গতি ফের টানতেই আচানক সম্মুখ থেকে একখানা শক্তপোক্ত হাত এসে চট করে আঁকড়ে ধরল মাহি’র নরম চুলের গোছা। তৎক্ষনাৎ চুলের ব্যথায় ককিয়ে ওঠে সপ্তদশী! পাতলা ঠোঁটের চামড়ায় দাঁত বসিয়ে নিজেকে সামলানোর ব্যর্থ প্রয়াসে মত্ত থাকতেই সম্মুখ থেকে ভেসে এলো মুগ্ধের বাজখাঁই কন্ঠের হুংকার!

“ আমাকে – না – বলার স্পর্ধা কোত্থেকে পেলি তুই জানোয়ারের বাচ্চা? কে দিয়েছে তোকে এই সাহস? একবার ভালোমতো কথা বলেছি বলে ভুলে যাস না — আমি কে আর তুই কে। যেখানে তোর মতো হাফ ইঞ্চিকে সাইজ করতে সেকেন্ড খানেকও লাগবেনা আমার, সেখানে তুই কি-না আমার সাথে গলাবাজি করিস? কয়েকদিন ধরে মা’রছি না বলে গায়ে তেল জমেছে তাই না? বেশি লাফালাফি করলে তোর গায়ের তেলে তোকেই চুবিয়ে মা’রব। ডু ইউ্য গেট মি বি’চ?”

সপ্তদশীর কন্ঠা বরাবর চেপে রাখা সূচালো নাইফের ডগায় সামান্য লহুর উপস্থিতি স্পষ্ট। যেন আরেকটু হলেই নাইফের তীক্ষ্ণ আগা খপাৎ করে ঢুকে পড়বে মাহি’র নরম কন্ঠা ভেদ করে। নির্দয় মানবের সেদিকে এখন বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। তার শরীর জ্বলছে ক্ষোভে! এইটুকুন একটা মেয়ে কিনা কথায় কথায় তার অবাধ্য হয়! এ যে শ্যাডো মনস্টারের নাকউঁচু ব্যাক্তিত্বের শানের খেলাফ। রূঢ় মানব গজগজ করছে! চোয়ালের পেশী টানটান করে সে যেইনা হাতের নাইফটা আরেকটু দাবাতে যাবে ঠিক তখনি তার ক্রুর দৃষ্টি গিয়ে আচমকা আটকালো সপ্তদশীর ফর্সা মসৃণ কন্ঠায়। রাজহংসীর ন্যায় দীর্ঘ, সুকোমল গ্রীবাদেশের মধ্যাংশে একবিন্দু তাজা লহু, আঁটকে আছে চকচকে ধারালো চাকুর আগায়। এরূপ দৃশ্যে মুহুর্তের অনিচ্ছায় দয়ামায়াহীন হৃদয়টা কেমন দুলে উঠল নির্দয় মানবের। বুকের খাঁচায় লুকায়িত বেয়াদব অঙ্গটা কেমন মোচড়াতে লাগল অনবরত। যুবকের হাসফাস বেড়ে গেল পরক্ষণে। ভেতর ভেতর বইতে লাগল এক অনিয়ন্ত্রিত ঝড়! আশ্চর্য! মানুষ মা-রা তো নতুন কিছু নয় তার জন্য। তবুও মেয়েটাকে আজ একটুখানি আঘাত করতেই বুক কাঁপছে কেনো তার? মনের মধ্যে ওমন হাসফাস লাগছে কেনো? মুগ্ধ ভাববার অবকাশ পেলো না। শরীরটা তার বড়ো অস্থির হলো পরমুহূর্তেই। মুখব্যাক্তিতে ছড়িয়ে গেল একরাশ বিচলিত ভাবস্রোত। যুবক কেমন অস্থিরতায় ছেড়ে দিলো মাহি’র চুলের গোছা। উদ্ভ্রান্তের ন্যায় নিজ দাম্ভিক হাঁটুখানার ভাঁজ ঠেকালো ফ্লোরের গায়ে। নতমুখে ফোপাঁতে থাকা মাহি’র মুখপানে ঘাড় কাত করে তাকিয়ে থেকে, যুবক কেমন উদ্ভ্রান্ত অস্থিরতায় বিরতিহীন আওড়াল,

“ এ্যাই, এ্যাই চাশমিস! দেখি দেখি। কোথায় ব্যথা লেগেছে দেখি। কতটুকু কেটেছে দেখি! মুখ তোল চাশমিস।”
ফোঁপাচ্ছে মাহি! ঠোঁট উল্টে অনবরত ভেজা চোখদুটো মুছে যাচ্ছে হাতের উল্টোপিঠে। ওদিকে যুবক যে বড়ো অস্থির, সেদিকে বিন্দুমাত্র উদ্বেগ নেই তার। মুগ্ধের বাড়ন্ত হাতের রুক্ষ আঙুলের ছোঁয়া গ্রীবাদেশ স্পর্শ করতে গেলেই ঝাঁঝিয়ে উঠে মাহি। গলায় একরাশ কর্কশ ভাব টেনে বলল,
“ থাক! আর জুতো মে’রে গরুদান করতে হবে না। নিজে মে’রে এখন আবার আসছেন নাটক করতে! যান এখান থেকে বেয়াদব লোক। খবরদার ছোঁবেন না আমায়। আপনার স্পর্শ এবং আপনাকে, আমার জাস্ট অসহ্য লাগে!”
কয়লা ধুলে কি আর ওতো সহজে ময়লা যায়? ঠিক তেমনি তিরিক্ষি মেজাজের রূঢ় মানবও ওতো সহজে ভুলেনি নিজ চিরচেনা খোলস। মাহি’র ওমন আঘাত দেখে একটুখানি অস্থির হলেও পরমুহূর্তেই সপ্তদশীর ওমন ঝাঁঝানো বাক্যে সেই অস্থিরতার ডোর কাটলো নিমিষেই। কপাল কুঁচকে গেল ফের! দাঁতের সনে দাঁত পিষে যুবক কেমন কটমটিয়ে বাড়ন্ত ডানহাতখানা গুটিয়ে নিলো আলগোছে। ক্রুর দৃষ্টি মাহি’র পানে তাক করে, উত্তপ্ত কন্ঠে হিসহিসিয়ে আওড়াল,

“ ভেবেচিন্তে বলছিস বান্দীর মেয়ে? দেখিস আবার, ভবিষ্যতে কথাটা যেন পাল্টে না যায়। বাই দা হেল ইন দ্য মনস্টার’স ওয়ে — নেক্সট টাইম ভয় পেয়ে আসিস আমার কাছে, প্যালেসের ছাঁদটা আছে না? তখন ঠিক ঐখান থেকে একদম নিচে ছুঁড়ে মার’ব তোকে। জাস্ট আসিস একবার বেয়াদবের বাচ্চা!”
নাক ফোলালো মাহি! মুখাবয়বে টানলো একরাশ বিরক্তির ছাপ। সজ্ঞানে ওমন একটা নির্দয় বিস্টের কাছে কে যেতে চাইবে শুনি? সে-তো ভয়ের চোটে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে সামনে যাকে পেয়েছে তার কাছেই ছুটে গিয়েছিল। সে-কি থোড়াই জানতো সামনের লোকটা কে? সপ্তদশী মুখ ঘোরায় অন্যত্র। ভেজা চোখদুটোর দৃশ্যপট বড্ড ঘোলাটে। গলার কাছটা চিনচিন করছে চিৎকার দিয়ে কাঁদতে না পারার ব্যর্থতায়। ওদিকে মুগ্ধ ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে। মেরুদন্ড সামান্য বাকিয়ে ফ্লোরে পড়ে থাকা ঔষধের প্যাকেটদুটো আলগোছে তুলে এনে রাখল টেবিলের ওপর। অতঃপর শক্ত মুখে কপাল কুঁচকে মেয়েটাকে বলে ওঠে,

“ ঔষধগুলো খেলে খা, না খেলে ম’রে যা ঘাড়ত্যাড়ার ঘরে ঘাড়ত্যাড়া!”
ঠোঁটের কোণ কামড়ে ধরল মাহি। একমুহূর্ত চোখদুটো বুঁজে রেখে নিশ্বাস ছাড়ল বড়ো করে। পরক্ষণে ঘাড় বাকিয়ে তাকালো চলতি যুবকের পানে। যুবক গটগট পায়ে এগোচ্ছে ঘরের দরজার দিকে। তার ডানহাত দিয়ে এখনো চুইয়ে পড়ছে লহু! সপ্তদশী কপাল গোটায় এবার। খানিকক্ষণ চুপ থেকে আচমকা গলা উঁচিয়ে বলে বসে,
“ আপনি কি উল্টাপাল্টা কিছু খেয়ে এসেছেন?”
ব্যস্ত কদম জোড়া হুট করে থেমে গেল মুগ্ধের। সন্দিগ্ধতায় ঘাড় বাকায় সামান্য। কন্ঠে একরাশ কাঠকাঠ ভঙ্গিমা ঢেলে দাঁত খিঁচে আওড়াল,
“ হোয়াট দ্য ফা’ক আর ইউ্য মিনিং বান্দীর মেয়ে?”
গাল বাঁকায় মাহি। ডানহাতের তর্জনী উঁচিয়ে নাকের ডগায় নেমে আসা চশমাটা আলগোছে ঠেলে দেয় ওপরে। পরক্ষণে ক্ষুদ্রকায় বদনখানি নাড়িয়ে, সপ্তদশী উঠে দাঁড়ায় বসা ছেড়ে। পায়ের গতি বিছানার পানে টেনে সে কেমন কাঠকাঠ কন্ঠে বলল,

“ না মানে! আজ আমার জন্য আপনার ওতো দরদ উথলে পড়ছে দেখে ভাবলাম, রাতের নেশা বোধহয় দিনে করে ফেলেছেন।”
তৎক্ষনাৎ মাথায় আগুন জ্বলে উঠল মুগ্ধের। দাঁত কিড়মিড় করতে করতে রূঢ় মানব ঘুরে দাঁড়াল পরমুহূর্তে। শক্ত দৃষ্টি তার অদূরের বেড সাইড টেবিলের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা মাহি’র পানে পড়তেই যুবক পা টানলো সেথায়। গটগটিয়ে মাত্র চার কদমে চলে এলো সপ্তদশীর পেছনে। মুখাবয়বে ভীষণ তেজ নিয়ে শক্ত হাতে সপ্তদশীর কনুই আঁকড়ে, তাকে এক হেঁচকা টানে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয় বেপরোয়া মুগ্ধ। আহত ডানহাতে মেয়েটার দিকে থাপ্পড় উঁচাতেই সহসা ভয়ে নাকমুখ কুঁচকে নেয় মাহি, দু’হাতের উল্টোপিঠ উঁচিয়ে আড়াল করে নেয় নিজ মুখ। বেপরোয়া যুবক থমকায়! সপ্তদশীর হাতে থাকা অয়েন্টমেন্টের দিকে চোখ পড়তেই থমকেছে তার হাত। সন্দিগ্ধতায় কুঁচকে গিয়েছে কপাল। রূঢ়ভাষী মানব পরক্ষণেই কটমটিয়ে আওড়ায়,

“ আবার কোথায় কেটেছে তোর?”
ধীরেসুস্থে স্থির হলো মাহি। আলতো করে হাত নামিয়ে আনলো মুখমন্ডলের ওপর থেকে। মুখে কুলুপ এঁটেছে মায়াবিনী, সম্মুখের রূঢ় মানব উত্তরের অপেক্ষায় থাকলেও প্রতিত্তোর করবার কোনরূপ তাড়া দেখায়নি সে। এতে যেন মুগ্ধের মাথাভর্তি উত্তপ্ত আগুনে আরেক কৌটো ঘি পড়ল। যুবক কেমন কটমট করতে করতে এক ঝটকায় ছেড়ে দিলো মাহি’র কনুই। অতঃপর শক্ত হাতের তালু দিয়ে নিজ ঘাড় ডলতে ডলতে কিড়মিড় করে আওড়াল,
“ সবার পেটে যে সবকিছু হজম হয়না,তার জলজ্যান্ত প্রমাণ কে জানিস বান্দীর মেয়ে?”
অবোধ সপ্তদশী মুখ তুলে তাকায় সম্মুখে। চশমার আড়ালে লুকিয়ে থাকা চোখদুটো কেমন হতবুদ্ধির ন্যায় তাকিয়ে রইল মুগ্ধের পানে। হতবিহ্বলতায় দুরত্ব বাড়া অধরযুগলের ফাঁক গলিয়ে অস্ফুটে বেরুলো,
“ কে?”
ঘাড় কাত করল মুগ্ধ! মেয়েটার পানে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তাক করে কর্কশ কন্ঠে বলল,
“ তুই ছাড়া আর কে? বান্দীর মেয়ে!”
অপমান! এ যেন মুখের ওপর অপমান। সপ্তদশীর বেজায় রাগ উঠল। নাকের পাটা ফুলিয়ে, সে দু’হাত ভাঁজ করল বুকের কাছে। গজগজ করতে করতে বলল,
“ কথায় কথায় ঠেস না মা’রলে আপনারও যে হজমশক্তিতে সমস্যা হয়, সেটাও তো বলতে পারেন।”
রাগের পারদ তরতর করে উপরে উঠছে মুগ্ধের। তবুও যুবকের সে-কি নিয়ন্ত্রণ নিজের ওপর! সপ্তদশী অসুস্থ বিধায় হাতদুটো আজ লাগাম টেনেছে তার। নয়তো এতক্ষণে ঠিকই তুলকালাম বেঁধে যেত এখানে। রাগী মানব কেমন ফোঁস ফোঁস করছে সাপের ন্যায়। দু’হাত আলগোছে কোমরের পাশে উঠিয়ে কটমটিয়ে শুধালো,
“ তারপর?”

লোকটাকে ইচ্ছেমতো কথা শোনানোর সুযোগ পেয়েছে মাহি। তা কি আর ওতো সহজে হাতছাড়া করে সপ্তদশী? সে কেমন ভেংচি কেটে অয়েন্টমেন্টটা এগিয়ে দিলো মুগ্ধের পানে। গম্ভীর মুখে অনুভূতিহীন কন্ঠে বলল,
“ কিচ্ছু না। নিন, ক্ষত জায়গায় ঔষধটা নিজে নিজে লাগিয়ে ফেলুন। আপনার গায়ে তো আবার স্পর্শ করা যায় না।”
তড়াক চোখ কুঁচকায় মুগ্ধ! একবার বাড়িয়ে রাখা অয়েন্টমেন্টের দিকে, আরেকবার মাহি’র পানে দৃষ্টিপাত করতেই চোয়াল শক্ত হলো মুগ্ধের। যুবক বোধহয় হারালো নিজ হিতাহিত জ্ঞান। সে কেমন দাঁত কিড়মিড় করতে করতে একপা একপা করে এগুলো মাহি’র দিকে। তার ওমন কান্ডে ভড়কায় মাহি! এতক্ষণ তোতাপাখির মতো মুখে মুখে তর্ক করলেও এখন কেন যেন বড়ো ভয় লাগছে তার। শুকনো ফাঁকা ঢোক গিলে পেছাচ্ছে কদম। এরইমধ্যে তার পা আটকালো বিছানার সঙ্গে। পেছানোর জায়গা অন্ত হতেই বুক কেঁপে ওঠে মাহি’র। ভয়ার্ত দৃষ্টে সম্মুখে তাকাতেই চোখাচোখি হলো রূঢ় মানবের ক্রুর দৃষ্টির সনে। সে এগোচ্ছে! তার গা ছুঁই ছুঁই মাহি’র বদন। মাহি তৎক্ষনাৎ কোনরূপ উপায়ন্তর না পেয়ে আরেকটু পেছাতেই, সে কেমন ঢুলে পড়ল বিছানার কোলে। পড়ে গিয়ে হকচকিয়ে সামনে তাকাতেই দেখল — মুগ্ধ কেমন দাঁত খিঁচে বলে যাচ্ছে —

“ তাই না? আমাকে স্পর্শ করা যায় না? অথচ গতকাল আমায় স্পর্শ আগে অনুমতি নিয়েছিলি তুই বান্দীর মেয়ে? তাহলে এখন আবার স্পর্শ করা যায় না বলে নাটক করছিস কেনো? মানে যখন-তখন টিপিক্যাল মেয়েদের মতন নাটক না করলে ভাল্লাগে না তোর, তাই-না? যত্তসব বেয়াদব মেয়েছেলে! রাখ তোর অয়েন্টমেন্ট তোর কাছে, তুইই বেশি করে লাগা বান্দীর মেয়ে। আসছে নিজের সো-কলড দরদ দেখাতে। সাচ আ রাবিশ!”
বলে আর একমুহূর্ত দাঁড়ায়নি মুগ্ধ। তক্ষুনি পা ছোটালো দরজার পানে। এদিকে সে চলে যেতেই মুখ ভেংচি কাটে মাহি। নাখোশ ভঙ্গিতে বিড়বিড় করে বলে ওঠে,
“ সবাইকে নিজের মতো মনে করে বেয়াদব লোক! হুহ্।”

“ মনস্তার! আপনার হাতের এ অবস্থা কেনো? ক্ষত দেখে মনে হচ্ছে এখনো তাজা। দিন আমি ব্যান্ডেজ করে দিই।”
বিশালাকৃতির রাজকীয় কক্ষের তকতকে কাঁচের মেঝেতে দাঁড়িয়ে আছে এডউইন। অদূরের বৃহদাকার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তৈরী হচ্ছে মুগ্ধ। গায়ে জড়াচ্ছে শ্যাডো মনস্টারের চিরচেনা বেশভূষা। বেখেয়ালি পুরুষ এখনো নিজ ক্ষত হাতখানায় না লাগিয়েছে বেন্ডেজ আর না লাগিয়েছে কোনরূপ অয়েন্টমেন্ট। ক্ষত থেকে নির্বিকারে গড়াচ্ছে লহু। তা দেখেই চিন্তার বুলি আওড়ে ওঠে এডউইন। অথচ তার ওমন কথা মনস্টার আদৌও কানে তুললো কি-না কে জানে। লোকটা কেমন গম্ভীর মুখে তৈরী হচ্ছে দেখো! এডউইন দোনোমোনো করছে। খানিকক্ষণ চুপ থেকে ফের চিন্তিত কন্ঠে শুধালো,
“ মনস্তার! প্লিজ লেট মি টু ডু দিস।”
এপর্যায়ে চকচকে আয়নায় প্রতিবিম্বিত হওয়া এডউইনের পানে কঠিন দৃষ্টি নিক্ষেপ করল মুগ্ধ। ডানহাতে নিজের সিগনেচার ব্রেসলেট পরতে পরতে কিড়মিড় কন্ঠ আওড়াল,

“ জাস্ট অয়েল অন ইউ্যর ওউন মেশিন এডউইন! দিস ফা’কিং চিপ শটস ডোন্ট অ্যাফেক্ট মি অ্যাট অল। সো তোর এতো আলগা পিরিত দেখাতে হবে না। পরে দেখা যাবে, ঔষধের বদলে বিষ মিশিয়ে দিচ্ছিস।”
আঁতকে ওঠে এডউইন! নিজ ব্যাক্তিত্বে মিথ্যে কালিমা লাগায় বেচারার মুখটা হয়েছে শক্ত। মনে এক পশলা মেঘ জমিয়ে যুবক কেমন অনড় কন্ঠে বলল,
“ আমি এতোটাও বিশ্বাসঘাতক নই মনস্টার! আপনি আমাকে এভাবে অবিশ্বাস করলেন?”
বাঁকা হাসে মুগ্ধ। মুখের ওপর কালো রঙা ফুল-ফেস মাস্কটা পরে নিয়ে, হাত বাড়িয়ে টুপি তুললো মাথায়। পরক্ষণে বাঁদিকে হাত বাড়াতেই একজন নতমুখী গার্ড বেশ বাধ্যতায় একখানা মখমলি কাপড়ে আবৃত একখানা বড়সড় থালা এগিয়ে ধরল মনস্টারের দিকে। থালার ওপর সাজিয়ে সাত ধরনের নামি-দামি সুগন্ধি। তন্মধ্যে মনস্টার মহাশয় হাত বাড়িয়ে তুলে নিলেন Clive christian No. 1 ব্র্যান্ডের পারফিউমটা। দুয়েকবার ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে গায়ে পারফিউম স্প্রে করে মুগ্ধ কেমন বাঁকা কন্ঠে বলে ওঠে,

“ যেখানে আমি নিজেই নিজেকে বিশ্বাস করিনা, সেখানে হু দ্য ফা’ক ইউ্য আর?”
ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলল এডউইন। সে বেশ জানত, মনস্টারের উত্তর ঠিক এমনটাই হবে। তারপরও যে সে কেনো এমন প্রশ্ন করে কে জানে! মনস্টার পুরোপুরি তৈরী ভিডিও কনফারেন্সের জন্য। তার দাম্ভিক কদমজোড়া ঘরের বাইরে অগ্রসর হতেই পিছুপিছু এগোলো এডউইন। তড়িঘড়ি করে কিছু একটা ভেবে জানান দিলো,
“ মনস্তার! খবর পেয়েছি — জঙ্গলে কয়েকজন আস্তানা বেঁধেছে। যেকোনো সময় প্যালেসে ঢুকে পড়তে পারে। আপনি জাস্ট অর্ডার করুন মনস্তার, এক্ষুণি সবগুলোকে মাটিতে পুঁতে ফেলব।”
শুনলো মুগ্ধ। মাস্কের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাদামী ঠোঁটদুটো পিষে হাসল নিরবে। বাহাত পকেটে গুঁজে সম্মুখে অগ্রসর তার ব্যস্ত কদম। নির্লিপ্ত কন্ঠের জবাব শোনা গেল মুহুর্ত ব্যায়ে,
“ ওহ ফা’ক অফ এডউইন! সবকিছু নিয়ে এতো প্যারা নিতে নেই। আসতে দে বাস্টা’র্ডদের। এটলিস্ট ওরাও জানুক — মনস্টার তার শত্রুদের কতো আবেগ ঢেলে আদর করে। ওরা আসুক, পরবর্তীতে ওদের গা থেকে মাং স আলাদা করার কাজটা নাহয় আমার পেট’স করবে। এসব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেই, সো চিল!”
বাঁকা হাসলো এডউইন! মনস্টারের এহেন কনফিডেন্স যে বড্ড পছন্দ তার। যুবক নিরবে মাথা নাড়িয়ে বলল,
“ ওকে মনস্তার।”

সামনে প্রজেক্টর! চলছে ভিডিও কনফারেন্স। ক্যামেরার অ্যাংগেল ঘুরিয়ে রাখা মনস্টারের দিকে। বিশাল এক রাজকীয় আসনে পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছে মনস্টার! মাথায় ওমন বড়সড় গোলাকার টুপি থাকলেও তার মুখমণ্ডলের ওপর অন্ধকার বিরাজমান। তার বা-দিকে দু’হাতে পেছনে ভাঁজ করে আরামে দাঁড়িয়ে আছে এডউইন, ডানদিকে প্রাডা। প্রজেক্টের পর্দায় দেখা যাচ্ছে গোটা ত্রিশেক ক্ষমতাবান গ্যাংস্টারদের। প্রত্যেকেই কেমন মাথা নুইয়ে একে একে নিজেদের বক্তব্য পেশ করে যাচ্ছে। সবার বক্তব্য যখন শেষপ্রান্তে এসে ঠেকেছে ঠিক তখনি গুরুগম্ভীর, রাশভারী কন্ঠে আওয়াজ তুললো রুশদী কিং! সে-কি দারাজ কন্ঠ তার। যে কন্ঠের একটুখানি শব্দ শুনতেই কাঁপন ধরেছে প্রত্যেকের বুকে। প্রাণ ভয়ে কেউই আর চোখ তোলার সাধ্যি পায়নি। এদিকে রুশদী কিং ভাগ-বাঁটোয়ারায় মত্ত। ডানহাতে একখানা রিভলবার নাড়িয়ে চাড়িয়ে বলে যাচ্ছে,
“ আগামী তিনদিনের মধ্যে শিপ লোয়াজিমা স্পেন বর্ডার ক্রস করার আগেই সেটায় হামলা বসাবি চাশমিস! আর ফ্রান্সের ল্যাসেলে পাওয়া কয়লার খনি…”
সম্পূর্ণ কথাটা শেষ হবার পূর্বেই পাশ থেকে এডউইন কেমন ফিসফিস করে বলে ওঠে,
“ মনস্টার! উই আর ইন কনফারেন্স।”
ত্বরিত মাথায় রক্ত উঠে গেল মনস্টারের। কথার মাঝে ব্যাঘাত তার সহ্য হয়না। এতবড় কথাটা জানা স্বত্বেও এডউইনের এহেন হস্তক্ষেপে চিড়বিড়িয়ে উঠে মুগ্ধ! টুপিটা সামান্য উঁচিয়ে সে কেমন আগুন চোখে তাকাল এডউইনের পানে। বিকট এক হুংকার ছুঁড়ে আওড়াল,
“ হাউ ডেয়ার ইউ্য ইন্টারাপ্ট মি? প্রাণের মায়া নেই তোর বাস্টার্ড?”
থতমত খেয়ে বসে এডউইন! ত্বরিত প্রাণের ভয়ে দু-হাটুঁ গেঁড়ে বসলো মেঝেতে। মাথাটা নুইয়ে ভীতসন্ত্রস্ত কন্ঠে বলল,

“ মনস্তার! আপনি ভুলে.. না মানে ভুল না, আসলে আপনি ভিক্টরের জায়গায় চাশমিস বলেছেন।”
নিজ দোষ স্বীকারে অপ্রস্তুত মনস্টার! তিরিক্ষি মেজাজে দাঁত কিড়মিড় করে তক্ষুনি মুঠোবন্দি করল দু’হাত। অন ক্যামেরায় এতক্ষন ধরে সবাই দেখছে সব। তবে যেই না মনস্টার ক্যামেরার দিকে ঘুরল ওমনি বেচারারা মাথা নুইয়ে নিলো ফের। মুগ্ধ হিসহিসিয়ে যাচ্ছে। কটমট ধ্বনিতে ফের আওড়াল,
“ কালকের মধ্যে ফ্রান্সের ল্যাসেলে পাওয়া কয়লার খনিগুলো নিজেদের আওতায় নিবি। চাশমিসকে বলবি…”
এবারে নিজে নিজেই থেমে গেল মুগ্ধ। নিজ বাক্যে মনোযোগ পড়তেই যেন আকাশ থেকে পড়ল সে। হতবাকতার শীর্ষে পৌঁছে গেল পরমুহূর্তেই। শক্ত চোয়ালে চিড়বিড়িয়ে বিড়বিড় করল,
“ হোয়াট দ্য ফা’ক আ’ম সেয়িং?”
বিরক্ততায় ভরে গিয়েছে মনস্টারের তন-মন। ঐ বেয়াদব ঘাড়ত্যাড়া মেয়েটা আবারও তার ধ্যানে চড়ে বসছে। ঠিক আবারও! কিন্তু এবার যুবক টলবে না। নিজের বেয়াড়া মনের অসভ্যতাকে একপ্রকার চুলোয় চড়িয়ে যুবক কেমন গজগজিয়ে উঠে গেল বসা ছেড়ে। কটমট কন্ঠে কেবল বলল,
“ ফা’ক অফ এভরিথিং!”
কথাটা যেন আচমকা মাথার ওপর বজ্রপাতের ন্যায় শোনালো সকলের নিকট। দ্বিধাদ্বন্দে পড়লেন বেচারারা। গত একমাস ধরে মনস্টারের সময়ের জন্য অপেক্ষা করেছে তারা, আজ যখন সময় দিতে চাইলো তাও কি-না মাঝপথে থামিয়ে দিলো? সকলে যখন হা-হুতাশে মত্ত তখন গুরুগম্ভীর ভিক্টর কেমন বিচক্ষণি কায়দায় ভাবতে লাগল অন্যকিছু। মনস্টার তখন কি বলল? দুবার চাশমিস উচ্চারণ করল। বাট এই চাশমিসটা কে? যে কি-না মনস্টারের বিচক্ষণ মস্তিষ্কে কব্জা করেছে! ভিক্টর গম্ভীর! কথাটা খুব একটা ফেলে দেবার মতো নয়।

প্রজেক্টের ক্যামেরা অফ করেছে এডউইন! প্রাডাকে ভেতরে রেখে নিজে চলে গিয়েছে বাইরে। ওদিকে মুগ্ধ কেমন বিরক্ত মুখে দাঁড়িয়ে আছে বিশালাকার কাঁচের তৈরী দেয়ালের সম্মুখে। মাথার টুপি, মুখমণ্ডলের মাস্ক সবকিছু অবহেলায় গড়াগড়ি খাচ্ছে মেঝেতে। যুবকের বাদামী ঠোঁটদুটোর ফাঁকে গুঁজে রাখা জ্বলন্ত সিগার। সম্মুখের কাঁচের দেয়ালে প্রতিবিম্বিত নিজ প্রতিবিম্বের পানে তাকিয়ে আছে মুগ্ধ। সিগারে লম্বা লম্বা টান বসিয়ে সে কেমন বিরক্তিভরা কন্ঠে নিজ প্রতিবিম্বকে চিড়বিড়িয়ে বলে ওঠে,
“ দুনিয়ায় কি মেয়ের অভাব পড়েছে? এতো এতো মেয়ে থাকতে ঐ এক ঘাড়ত্যাড়া, বান্দীর মেয়েই কেনো যখন-তখন তোর ধ্যানে চড়ে বসে? সমস্যা কি তোর? টেস্ট এতো খারাপ কেনো? যা একগ্লাস পানিতে গিয়ে ডুবে মর শালা! তাতে যদি লজ্জা হয় তোর।”
নিজেকে ওতো গালাগাল দিয়ে কি বোঝাতে চাচ্ছে যুবক? সে কি আদৌও জানে তা?

“ মুনলাইট! মুনলাইট তারাতাড়ি নিচে এসো। দেখে যাও কি হয়েছে।”
হতভম্ব মাহি! সপ্তদশীর সুশ্রী মুখখানায় লেপ্টে গিয়েছে হতবাকতা ছাপ। মিলার কেমন অস্থির ভঙ্গিতে ছুটে এসেছে দেখো। তারওপর কোনরূপ বলাকওয়া নেই! তাকে নিয়ে ফের ছুটলো কক্ষের বাইরে। মিলা যতটা অস্থির ঠিক ততটাই হতভম্ব মাহি। মিলার নরম মুঠোয় চেপে রাখা নিজ কব্জিসন্ধি খানিক মোচড়াচ্ছে সপ্তদশী। ছুটন্ত তরুণীর সঙ্গে পায়ের তাল মেলাতে বড়ো হিমশিম খাচ্ছে সে। সময় নিয়ে হতভম্বতা কাটিয়ে সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ কোথায় নিয়ে যাচ্ছো মিলা?”
থামল তরুণীর ছুটন্ত কদম। আলগোছে শরীর ঘুরিয়ে তাকালো পেছনে। বড়ো বড়ো নিশ্বাস ফেলে আতঙ্কিত কন্ঠে বলল,

“ করিডর দিয়ে এক ঝলক নিচে তাকাও মুনলাইট! বুঝে যাবে সব।”
কপাল গোছালো মাহি। সন্দিষ্টতায় কুঁচকে গেল চশমাপরা মায়াবী চোখদুটো। সে কেমন রয়েসয়ে কব্জি ছাড়ালো মিলার হাতের মুঠো থেকে। অতঃপর গুনে গুনে পা ফেলে এগিয়ে গেল করিডরের রেলিঙের দ্বারে। আলতো করে মাথা বের করে নিচে খানিক উঁকি দিতেই বুঝি ঝটকা খেলো সপ্তদশী। ঝটকার তাড়নায় তক্ষুনি শক্ত করে চেপে ধরল রেলিঙের দ্বার। সপ্তদশীর চোখের দৃষ্টি হয়েছে বিস্ফোরিত। ঠোঁট যুগলের দুরত্ব বেড়েছে হতবাকতায়। সম্পূর্ণ গ্রাউন্ড ফ্লোরে বইয়ের স্তুপ! একে একে গার্ডরা বইগুলো নিয়ে আসছে ওপরে। তাদের গন্তব্য নিশ্চয়ই তিন তলায়! মাহি হতবাকতায় বাকরুদ্ধ! চমকে তাকিয়ে থাকতেই পাশ থেকে শুনলো মিলার সন্দিহান কন্ঠ!
“ তুমি বলেছিলে বই আনতে?”

মাহি রা করল না। তার অবাক ভাবস্রোত এখনো বিরাজমান। নিচে তাকিয়ে থাকতেই হঠাৎ দেখল — গ্রাউন্ড ফ্লোরের মাঝখানে থাকা গোলাকার কারুকাজের জায়গাটায় এসে দাঁড়িয়েছে রূঢ় মানব। দু’হাত পকেটে গুঁজে সে কেমন রয়েসয়ে মাথা তুলে তাকালো ওপরে। মুহুর্তেই চোখাচোখি হলো দু’জনের। আশ্চর্য! মাহি চোখ সরায়নি। উল্টো তার চোখ যেন চিৎকার দিয়ে রূঢ় মানবকে বলছে,

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৭

“ আপনি কি পাগল?”
রূঢ় মানব কি বুঝল সপ্তদশীর চোখের ভাষা? নয়তো সে কেনো ওমনভাবে বাঁকা হাসলো? মাথাটা আলগোছে কাত করে সেও বোধহয় একই চোখের ভাষায় জানালো,
“ মনে হয়!”

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here