মিহি পর্ব ৩৪
রুপন্তী সরকার
কিন্তু একি ওদের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েও হলো না। রিদ সবে মাত্র মিহি একটা চুমু দিতে যাবে এমন সময় খাটের সাথে মাথায় বাড়ি খায়। মিহি রিদ কে ধাক্কা দিয়ে খাটের নিচ থেকে বের হয়ে যায়। জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে
“এক্ষুনি দম আটকে মরে যেতাম। আমাকে খাটের নিচে ডুকাইয়া নষ্টামু করছো তুমি ছি, পচাঁলোক।”
রিদ ও বের হয়ে আসলো। আচ্ছা ও বাসর করতে পারে না কেনো? বউ ছুঁলেই কোনো না কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয় কেনো?
“ও বউ চলো না একটু চলো”
“নো মানে না। তুমিই যাও”
“দেখো এটা ইতিহাসের একটা ইউনিক বাসর হতে যাচ্ছে। চলো না”
“তোমার ইউনিক বাসর তুমি একাই করো। আমি আর যাবো না”
রিদ কিছুতেই মিহি কে মানাতে পারলো না। মিহি রেগে সোফায় গিয়ে ঠাস করে শুয়ে পড়লো। রিদ মুখ ফুলিয়ে দাড়িয়ে আছে।ভাবলো আজকে একটু করতে পারবে। কিন্তু শেষে করেও করতে পারলো না। এতো দুঃখ কই রাখবে? ওর কপালে কি বাসর নেই? বউ টাও ভালো না। কি হতো একটু খাটের নিচে ম্যানেজ করলে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
রিদ আস্তে আস্তে মিহির কাছে গেলো। ভারি অভদ্র বউ । রিদ মুখ ফুলিয়ে মিহির দিকে তাকিয়ে আছে। ওকে দেখে মনে হচ্ছে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে। মিহির ঘুমন্ত মুখ দেখে রিদের একটু মায়া হলো। ওর দশ টা না পাঁচ টা না একটা মাত্র কুটু বাচ্চা বউ। ঘুমাচ্ছে ঘুমাক। পরে নাহয় কিছু একটা করবে। রিদ মিহি কে জড়িয়ে ধরে সোফাতেই শুয়ে পড়লো। রিদ মিহির পিঠে অসংখ্য চুমু একে দিচ্ছে৷ বাসর হয় তো কি হয়েছে চুমু দিয়ে আপাতত কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। মিহি এক পাশ থেকে আরেক পাশে রিদের মুখ করে শুতে নিবে এমন সময় ওরা দুইজন হুরমুর করে সোফা থেকে নিচে পড়ে গেলো। রিদের গায়ের উপর মিহি পড়েছে। মিহি চিৎকার করে বললো
“আমার কোমর টা মনে হয় ভাইঙ্গা গেলো রে। এই লোকটা আজকে আমাকে এতো জ্বালাচ্ছে কেনো? কি সমস্যা তোমার পঁচালোক?”
রিদ বললো
“আমার দোষ? তুমিই তো আমাকে ফেলে দিলা। ইসসস আমার কোমরটাও শেষ।”
মিহি বললো
“তোমারই দোষ তুমি একটা পঁচালোক”
রিদ ও কম না বাধিয়ে দিলো ঝগড়া।
“তুমি ও পঁচাবউ, অভদ্র বউ, স্বামী কে চুমু না দেওয়া বউ”
মিহি কটমট করে বললো
“এতো চুমু দেই তাও এমন করছো? এতক্ষণ ধরে আমার পিঠে ৫০-৬০ টা চুৃমু খেয়েছো। কি ভেবেছো আমি জানিনা?”
রিদ ও বললো
“বেশ করেছি।”
“আমিও যদি তোমাকে আর একটা চুমুও দেই তাহলে আমার নাম ও মিহি না দেখো”
রিদ মিহির ঠোঁটে চুমু খেতে খেতে বললো
” আচ্ছা আমি নিজেই খেয়ে নিবো। সেই স্বাদ এতো স্বাদ ক্যা”
রিদের এসব চুমুগিরি দেখে মিহির রাগে মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে একটা পাঞ্চ মেরে উড়িয়ে দিতে।
মিহি রাগে চিৎকার করে উঠলো। রিদ ও কম না। জিবনের প্রথম মিহির সাথে এমন ঝগড়া হচ্ছে। এতো চেচামেচি তে অভ্রর ঘুম ভেঙে গেলো অভ্র রিদের ঘরের সামনে এসে দরজা ধাক্কা দিলো। ভেতর থেকে রিদ বলে উঠে
“এই বাল কে রে। মরার জন্য অন্য জায়গায় যাও এই ঘরে কি”
অভ্র বললো
“ওই শালা গেট খুল”
রিদ মিহির গায়ে ওরনা তুলে দিয়ে গেট খুলতে চলে গেলো
গেট খোলার সাথে অভ্র বললো
“কি শুরু করছোস তোরা? মানুষ বাসর রাতে বউয়ের সাথে ভালো মন্দ গল্প করে। এটা ওটা সেটা করে। আর তোরা কি করস? বাসর রাতে কে বউয়ের সাথে ঝগড়া করে কো?”
মিহি বললো
“সব দোষ পঁচালোকের আমার কোমর টা ভেঙে দিয়েছে।”
মিহির কথাই অভ্র বেশ বিব্রত হলো। কান দিয়ে ধোয়া বের হচ্ছে। ওর ভুল হয়েছে এইখানে এসে। রিদ গিয়ে মিহির মুখ চেপে ধরলো। কি বলছে এই মেয়ে।
“চুপ করো ছি, এসব বলে না জান”
মিহি রিদের হাত সরিয়ে দিতে চাই কিন্তু পারে না। মিহির মুখ দিয়ে শুধু “উমম উমম” শব্দ আসছে।
অভ্র বললো
“ও না হয় বাচ্চা মাইয়া তুই কি? তোর লজ্জা লাগে না হাটুর বয়সি মাইয়ার লগে ঝগড়া করতে? তাও আবার এমন একটা দিনে।”
রিদ বললো
“তুই যা তো বাল। ও আমাকে ভালোবাসে না। চুমু ও দেই না”
“তোর গুষ্টির পায়ে পড়ি। আমার আসা টা ভুল হইছে। যাইগা তোরা যা পারিস কর বাট আওয়াজ করিস না”
এই বলেই অভ্র চলে গেলো। রিদ মিহির গেঞ্জির গলা ধরে বললো
“আর ঝগড়া করবো না এখন একটা চুৃুমু খাই?”
রিদের শেষর কথাই মিহির খুব মায়া হলো। না পেরে একটু চুমু দিলো।
পরেরদিন……
রিদের অফিসে একটা মিটিং আছে তাই সকাল সকাল অফিসে চলে গেলো। যাওয়ার আগে মিহির সাথে একটু ছ্যাচড়ামু করেছে। অবশ্য এটা রিদের প্রতিদিনের কাজ। রিদ চলে যাওয়ার পর মিহি ভাবে আজকে রিদের জন্য রান্ন করে নিয়ে গিয়ে ওকে সারপ্রাইজ দিবে। এই জন্যই রিদের প্রিয় প্রিয় খাবার যেমন: বিরিয়ানি, হালুয়া, পায়েস” রান্না করতে থাকে…
দুপুরের দিকে…
রিদের মিটিং শেষ অফিসে বসে ফাইল চেক করছে। এমন সময় একটা মেয়েলি কন্ঠ কানে আসে
“আসবো রিদ?”
রিদ পেছনে ঘুরে দেখে কল্পনা এসেছে। একটা ছোট পোশাকে। রিদ বলে
“হ্যাঁ আপু আসুন”
রিদের মুখে আপু ডাকটা শুনে কল্পনা বললো
“আপু কেনো বলছো রিদ আমার নাম ধরে ডেকো। আমি হয়তো তোমার ছোটই হবো”
এই বলেই ভেতরে চলে আসে। রিদ বললো
“কোনো দরকার?”
“তোমাকে”
“মানে?”
“মানে আমি তোমাকে ভালোবাসি রিদ খুব ভালোবাসি। তুমি প্লিজ আমার হয়ে যাও?”
“আপনার কি মাথা ঠিক আছে? আমার বউ আছে। সেদিন তো আপনার বাবা কে বললাম উনি আপনাকে বলে নি?”
“বলেছে রিদ বাট আমার যে তোমাকে চাই”
“কেমন ছ্যাচড়া মেয়ে আপনি? লজ্জা লাগে না আপনার? আপনাকে তো আমি ভালো ভাবতাম”
“রিদ আমাকে আপনি করে কেনো বলছো তুমি করে বলো প্লিজ”
“বউ ছাড়া অন্য কোনো নারী কে ” তুমি” করে বলি না”
“আমি তোমার বউ হতে চাই রিদ”
এই বলেই রিদ কে জড়িয়ে ধরতে যায়। রিদ সরিয়ে দেওয়ার আগেই এক জোরা হাত এসে কল্পনাকে টেনে সরিয়ে দেয় । রিদ অবাক হয়ে যায় মিহি এসেছে এই সময়? কল্পনা মিহি কে বলে
“কে তুমি?”
রিদ বলে
“ও আমার বউ”
কল্পনা মিহির দিকে তাকিয়ে হেসে বলে
“বাহ তুমি দেখতে খুব কিউট”
মিহি ও হেসে বলে
“আমার হাতের পাঞ্চ গুলো ও খুবই কিউট”
মিহি কল্পনার চুলের ঝুটি ধরে নাকে একটা পাঞ্চ মারে। হঠাৎ আক্রমণে কল্পনা তাল সামলাতে না পেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মিহি তেড়ে গিয়ে ওর চুল ধরে বলে
“ও আমার শুধু আমার জামাই তুই ওরে টাচ করার চেষ্টা করলি কেনো?”
এই বলেই রিদের জন্য আনা খাবারের বক্সে আলাদা করে রাখা লবন আর কাঁচা মরিচ ডলে ওর চোখের মধ্যে লাগিয়ে দেই। কল্পনা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করছে। রিদ আজকে বউয়ের আরেক রুপ দেখছে৷ ও মিহি কে আটকাচ্ছে না। মনে মনে খুশি হচ্ছে। কোন জাউয়া কইছে মিহি রিদ কে ভালোবাসে না।
কল্পনা মিহির চুল ধরতে নিবে এমন সময় রিদ কল্পনার হাত ধরে নেই।
“খবরদার। যদি ওর গায়ে একটা টোকাও লাগে তাহলে আমি ভুলে যাবো আপনার বাপ আমাকে এক সময় হেল্প করেছে। ভুল টা আপনার। তাই আমার বউয়ের কাছে আপাতত ক্যালানি খান। তবে ওরে মারার মতো সাহস দেখাইয়েন না”
মিহি এবার কল্পনার চুলের মুটি ধরে দেওয়ালের সাথে বাড়ি দেই। এমনিতেই চোখে লবন মরিচ দেওয়াতে জীবন বের হয়ে যাচ্ছে তার উপর আবার নাকেও ঘুসি মেরে রক্ত বের করে দিয়েছে। আবার এখন দেওয়ালের সাথে বাড়ি দিচ্ছে।
এই দিকে রিদের অ্যাসিস্ট্যান্ট আকাশ দৌড়ে আসে। এসব দেখে ওর চোখ কপালে।
মিহি পর্ব ৩৩
“ভাই ভাবি রে আটকান মেয়ে টা মরে যাবে”
“চুপ করো ও এখন খেপে আছে। ওকে ঘাটতে গেলে আমার কপালেও দুঃখ আছে।”
“আপনি কেনো ভাবিরে এমন মারামারি শিখাইছেন? এখন যদি মাইয়া ডা পটল তুলে”
“পটল তুলুক আর বেগুন তুলুক তাতে আমার বা’ল ছেঁড়া গেলো।”
কল্পনা মিহি কে বলে
“এটা ঠিক করলা না মেয়ে। এর পরিণতি কিন্তু খুব খারাপ হবে”

Next part apu
Next part
Next part kobe asbe apu
Waiting for next part ☺️