Home মিহি মিহি পর্ব ৫+৬

মিহি পর্ব ৫+৬

মিহি পর্ব ৫+৬
রুপন্তী সরকার

রিদ মিহি কে ঘরে এনে জিজ্ঞেস করে
_”তুমি শুধু অভ্রর কাছে থাকো কেনো হ্যাঁ?”
_” ওব্বো অনেক ভালো তাই ওর কাছে থাকি”
_”আরে পিচ্ছি অভ্র ওর নাম অভ্র বলো ! ওব্বো আবার কি?”
এই বলে রিদ হাসতে লাগলো
_”বলবো না”
এই মিহি বলে মুখ ঘোরালো
অভ্র এসে মিহির কাছে বসলো! অভ্র কে দেখে মিহি লাফ দিয়ে অভ্রর কোলে বসলো!
রিদ আবার মিহি কে জোর করে ওর কোলে এনে বসলো
মিহি বললো

_”আমি ওর তাছে যায় না?”
_”আমার কাছে বসো ওই ভালো না”
_”একটু যায়?”
_”একটুও না”
এবার মিহি কান্না শুরু করে দিলো
রিদ তখন অভ্রর কোলে মিহি কে বসিয়ে দিলো তারপর মিহি থামলো
অভ্র মিহির কপালে একটা চুমু দিলো!
রিদ বললো
_”সকালে তোমাকে যে চকলেট দিলাম, আর তুমি ওর কাছে যাচ্ছো? তাহলে তোমাকে আর চকলেট কিনে দিবো না”
মিহি আবারো কান্না শুরু করে দেই
রিদ এবার না পেরে বলে

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

_”আচ্ছা বাবা কিনে দিবো,”
অভ্র রিদ কে বলে
_”যা সালা হিংসা না করে আবার টুইঙ্কেলের জন্য খাবারের ব্যবস্থা কর”
রিদ বললো
_”এই মুহূর্তে আমার কাছে এক টাকাও নেই, আর মিহির জন্য ও জামা কাপড় কিনতে হবে কই থেকে পাবো টাকা”
অভ্র মিহির মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললো
_”মেসের খালার রান্না করা খাবার খুব বাজে , তাও শুধু একজনের খাবার দেই! সেটা তুই আর আমি ভাগ করে খেয়ে নিবো নি আর টুইঙ্কেলের জন্য কিছু আনতে হবে! আপাতত রাত টুকু চালা আমি সকালে আব্বু রে বলে কোনো ব্যবস্থা করবো”
রিদ মিহি কে জিজ্ঞেস করলো

_”তুমি কি খেতে চাও?”
_”কিচু না”
_”মানে কি না খেয়ে থাকবে?”
_”হুম”
অভ্র মিহি কে বলে
_”তুমি আমাকে বলো টুইংকেল তুমি কি খাবা?”
মিহি মাথা নিচু করে বললো
_”জানি না”
অভ্র বললো
_”আমরা যেটা খাবো তুমিও কি সেটা খাবে?”
মিহি মাথা নাড়িয়ে বললো
_”হুম”

অভ্র খাবার নিয়ে আসে
একটা প্লেটে একজনের সমান খাবার আছে! অভ্র আর একটা প্লেট এনে রিদকে অর্ধেক দিলো আর নিজে অর্ধেক নিলো ,
অভ্র মিহি কে খাইয়ে দিচ্ছে,
মিহি মুখে খাবার নিয়ে বললো
_”তুমিও থাও”
অভ্র এক লোকমা মুখে নিলো,
অভ্রর খাবারের বেশির ভাগ মিহি কে খাইয়ে দিয়েছে শেষের দিকে মিহি আর খেতে পারে নি ওই টুকু অভ্র খেয়ে নিয়েছে !
রিদ অভ্রকে বলে

_” আমার থেকে খা! আমি খাবো না এতো”
_”থাপ্পড় দিবো ওতো গুলো কই সামান্য একটু খাবার”
_”আরে খা না তুই আমি সত্যিই বেশি খাবো না”
অভ্র কে অনেক বার জোর করাতে অভ্র খেতে রাজি হলো,
খাওয়া দাওয়া শেষ করে ওরা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে , মিহি ঘুমিয়ে পড়েছে
অভ্র মিহি কে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে দিলো ,
রিদ অভ্রকে বললো

_”দেখ ভাই আমাদের জীবন টা কেমন হয় গেছে না?
_” হ্যাঁ ঠিক বলেছিস”
_”আচ্ছা শোন কালকে একটা রুম খুজতে যেতে হবে মিহি কে নিয়ে কতদিন আর তোর মেসে থাকবো?”
_”আচ্ছা আমি সকালে তোকে নিয়ে যাবো নি কিন্তু আমি টুইংকেল কে ছাড়া কি করে থাকবো?”
_”সেটা পরে দেখা যাবে”
অভ্র বললো

_”আচ্ছা রিদ টুইংকেল যখন গ্রামে থাকতো তখন নিশ্চয় ওর মামী ওকে অনেক অত্যাচার করতো তাই না?”
_”হ্যাঁ সেদিন দেখলি না সবার সামনে কি করে বাচ্চাটাকে থাপ্পড় মারলো”
_”কিভাবে পারে ওই মহিলা , আসলেই বাবা মা ছাড়া পৃথিবী অন্ধকার”
রিদ বললো
_”চল ঘুমিয়ে পড়ি সকালে অনেক কাজ”

সকালবেলা….
রিদ অভ্র রেডি হলো
মিহিকেও সুন্দর করে রেডি করে দিলো, মিহি সাদা রঙের একটা শার্ট পড়েছে!
বড়ো বড়ো চুল গুলো দুই দিকে হালকা করে ঝুটি করে দিয়েছে রিদ,
অভ্র বললো
_”আগে রুম দেখে আসি তারপর ভার্সিটি তে যাবো নি”
ওরা বাড়ির খোঁজে বেরিয়ে পড়লো,
অভ্র আর রিদ অনেকগুলো বাড়ি দেখলো কিন্তু কেও ভাড়া দিতে চাচ্ছে না আবার কারো বাড়ি ভাড়া বেশি!
অনেক গুলো বাড়ি দেখার পর একটা ছোট্ট ঘর ওদের পছন্দ হলো বাড়ি ভাড়াও কম!
বাড়ির মালিকের ব্যবহার ও খুব ভালো উনি মিহি কে খুব পছন্দ করেছে
উনি রিদ কে জিজ্ঞেস করলো

_”এই বাবু টা তোমার কে হয় বাবা বোন?”
রিদ কিছু বলার আগেই অভ্র বললো
_”হ্যাঁ আংকেল ওটা ওর বোন”
_”আচ্ছা বাবা সমস্যা নাই আমি ঘর পরিষ্কার করে রাখবো”
অভ্র আবারো বললো
_”আংকেল আপাতত আমাদের কাছে ঘর সাজানোর মতো কোনো জিনিস নেই আপনি কিছু মনে করবেন না তো?”
_”না বাবা কি যে বলো সমস্যা নাই আমার ঘরের জিনিস দিয়ে তোমাদের ঘর সাজিয়ে রাখবো! জানো বাবা আমার ছেলে বেঁচে থাকলে তোমাদের মতোই হতো এখন ও নেই তো কি হয়েছে তোমরাই আমার ছেলের মতো”
ওরা সব ঠিকঠাক করে চলে আসলো , যেহুতু মাসের শুরু তাই ওরা ঠিক করলো আজকে সন্ধ্যা বেলায় এই বাড়িতে পার হবে!

ওরা এবার ভার্সিটি তে গেলো
অভ্রর কেমন যেনো খুব কষ্ট হচ্ছে কিছু বলতে পারছে না শক্ত করে মিহির হাত ধরে আছে!
ভার্সিটি তে ঢোকা মাত্র নিশি এসে রিদের হাত ধরে টেনে ওর কাছে নিলো
_”বেবি তুমি আজকাল আমাকে এমন ইগনোর কেনো করছো? আমি কি কোনো ভুল করেছি?”
রিদ নিশির থেকে ওর হাত ছাড়িয়ে বললো
_”নিশি প্লিজ ইয়ার এভাবে টানাটানি করবা না ভালো না এত ঘেঁষাঘেসি”
_”রিদ তুমি অনেক চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছো আমি কি নতুন তোমাকে ধরছি? তোমার সাথে আমার স্কুল জীবন থেকে সম্পর্ক! আর তুমি এমন ভাব করছো যে আমি কোনো অচেনা মেয়ে”
_”নিশি স্কুলে থাকতে তুমি আমার জাস্ট ফ্রেন্ড ছিলে! তোমার সাথে রিলেশনে গেছি ২ মাস ও হয় নি কিন্তু তুমি যা শুরু করেছো মনে হয় বিয়ের আগেই বাসর করতে চাও”
এই কথা শোনা মাত্র অভ্র মিহি কে নিয়ে ক্লাস রুমে চলে যায়!
আর নিশি একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলে

_”বেবি তুমি আর বদলালে না”
রিদ কিছু না বলেই চলে গেলো
এইদিকে অভ্র মিহির সাথে গল্প করছে
_”টুইংকেল তোমার চোখ গুলো এমন নীল কেনো?”
এর মধ্যেই রিদ চলে আসে অভ্র কে বলে
_”কি ব্যাপার তুই মিহি কে নিয়ে চলে এলি কেনো?”
_”রিদ তুই বাচ্চাটার সামনে কিসব নিয়ে কথা বলছিলি ওইখানে থাকলে ওর উপর কেমন প্রভাব পড়বে ভাবতে পারছিস?”

_”আরে ইয়ার জানি তুই তো দেখলি ও কেমন ছেচরা! যখনি আসে একদম গায়ের মধ্যে ঢুকে যেতে চাই ভালো লাগে না”
অভ্র হেসে বললো
_”তোরই গার্লফ্রেন্ড”
রিদ রেগে বললো
_”বালফ্রেন্ড”
অভ্র বললো
_”আচ্ছা বাবা রাগিস না”
মিহি ভাবলো রিদ হয়তো রেগে আছে তাই গুটিগুটি ভাবে ওর কাছে এসে বলে
_”তোলে নাও তো”
রিদ মিহি কে কোলে বসিয়ে নেই
মিহি রিদের গালে হাত দেই জিজ্ঞেস করে

_”বালফেড মানে কি”
মিহির কথা শুনে অভ্র বলে
_”খাইছে রে নে সালা এবার সামলা, মুখে একটু লাগাম দিতে পারিস না”
রিদ মিহির ছোট ছোট হাতে চুমু দিয়ে বললো
_”ওটা মানে পঁচামেয়ে”
মিহি আবারো বললো
_”যারা পঁচা তাদের বালফিড বলে?”
_”হুম আর ভালো লক্ষী মেয়েরা এই কথা বলে না! তুমি তো আমার লক্ষী তাই তুমি এই কথা টা আর বলবে না ঠিক আছে?”

মিহি বললো
_”আচ্ছা”
রিদ বললো
_”এখন আমাকে চুমু দাও”
ক্লাসের অনেকেই তাকিয়ে ছিলো ওদের দিকে, প্রথমদিন এসেই মিহির সাথে ওদের খুব ভালো সম্পর্ক হয়ে গেছিলো!
একটা মেয়ে একটা চকলেট নিয়ে মিহির কাছে আসে
মেয়ে টা মিহি কে বলে
_”এটা তোমার”
মিহি বলে
_”না না নিবো না তুমি থাও”
_”নাও বাবু কেও কিছু দিলে নিতে হয়”
মিহি বলে
_”না না নিবো না নিবো না”
অভ্র মিহি কে বলে
_” নিয়ে নাও টুইংকেল ওটা তোমার আপু হয়”
এরপর মিহি নিলো
মেয়েটা মিহি কে বললো

_”এখন আমাকে একটা চুমু দাও”
মিহি খুশি মনে চুমু দিলো!
এই দেখে ক্লাসের সবাই ক্যান্টিন থেকে একটা করে চকলেট এনে মিহি কে দেই আর চুমু নিতে থাকে
অভ্র সবার উদ্দেশ্যে বললো
_”কিরে কি শুরু করলি তোরা, একটা চুমু নেওয়ার জন্য এভাবে লাইন ধরা লাগে?”
একটা ছেলে বললো
_”ভাই পিচ্চিকে খুব ভালো লাগে কি করবো বল , আমাকে দিয়ে দে না ওকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে আলমারিতে ভরে রাখবো”
যদিও ছেলেটা মজা করে বলেছে কিন্তু রিদ বিষয় টা কে সিরিয়াস নিয়ে নিয়েছে ও তাড়াতাড়ি করে মিহি কে ওদের কাছ থেকে নিয়ে এনে ওর কাছে বসিয়ে দেই
মিহি কে আস্তে করে বলে

_”ওদের কাছে যাবে না”
_”কিন্তু আমার চকলেট ওদের কাছে আছে”
ওইখানে থাকা একটা ছেলে বললো
_’এটা কি হলো রিদ তুই ওরে নিয়ে গেলে কেনো?’
_”হুদাই তোর কোনো সমস্যা?”
এর মধ্যেই ক্লাসে স্যার আসে আর সবাই যে যার জায়গায় গিয়ে বসে
ভার্সিটির পর…
অভ্র রিদ কে বলে

_”তুই টুইংকেল কে নিয়ে মার্কেটে যা , আব্বু কিছু টাকা পাঠিয়েছে ওরে কিছু জামা কিনে দিবি , আর তোর জন্য ও কিছু নিবি”
রিদ বললো
_”তুই ও চল , আর আমার একটা কাজ লাগবে রে”
_”আমি যেতে পারবো না মেসে একটু কাজ আছে আর শোন তুই কাজের চিন্তা করিস না সেটা কালকে দেখবো একদিনে সব হয় না! আর তুই এইখান থেকে আগে আমার মেসে আসিস তারপর নতুন বাড়িতে যাস”
রিদ “আচ্ছা” বলে মিহি কে নিয়ে চলে গেলো
রিদ মিহি কে কোলে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো
_”আচ্ছা প্রিন্সেস তুমি কি বিয়ে মানে জানো?”
_”হ্যাঁ আমার পুতুল আর রাজের পুতুলের আমরা বিয়ে দিয়েছি
_”তোমাকে আমি কেনো নিয়ে এসেছি জানো?”
_”মামী বলেছে তাই”

মিহি পর্ব ৩+৪

রিদ বললো
_”তুমি কি জানো আমি তোমার বর হয়?”
_”বর হও?”
_”হ্যাঁ তবে পুরোপুরি বর বললে ভুল হবে কিন্তু বর হয়”
_”বর তো রাজের পুতুল”
_”আরে ওতো কথা বাদ তোমাকে যেটা বললাম সেটা মনে থাকবে তো?”
_”হুম”
_”তাহলে চুমু দাও”

মিহি পর্ব ৭+৮