মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ১৫
ফারহানা নিঝুম
মাত্র সাত বছর বয়সে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাড়ি ছাড়তে করতে বাধ্য হয়েছিল শয্য।
সেদিনও সে বুঝতে পারেনি, কেন তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে হোস্টেলে পাঠানো হচ্ছে।
কিন্তু রাজিব বাদশাহ নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
ছোট্ট শয্যের সে কি আহাজারি! চোখভরা অশ্রু নিয়ে সে বারবার মায়ের আঁচল আঁকড়ে ধরেছিল। নিষ্পাপ কণ্ঠে মিনতি করেছিল,
“মাম্মা, আমি যাব না। আমি তোমার কাছে থাকব। প্লিজ আমাকে পাঠিও না!”
কিন্তু তার আকুতিভরা আর্তি যেন কারও হৃদয় স্পর্শ করতে পারেনি। জেসমিন বাদশাহ ছেলের ভেজা মুখখানার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারছিলেন না। মাতৃহৃদয় বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছিল।
অবশেষে তিনি কঠোর স্বরে রাজিব বাদশাহকে বলেছিলেন,
“এবার কিন্তু তুমি সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছ, রাজিব। আমার ছেলে যেতে চাইছে না। তাহলে তুমি কেন জোর করছো?”
কিন্তু কথাটি শুনে আরও কঠোর হয়ে উঠেছিলেন রাজিব বাদশাহ।
“তুমিই ওকে নষ্ট করে দিচ্ছ, জেসমিন! সবসময় আঁচলের নিচে রেখে মানুষ করলে ছেলে মানুষ হয় না। হোস্টেলে থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগী হবে। বাড়িতে থাকলে সারাদিন আদর-আহ্লাদেই ডুবে থাকবে।”
পিতার রূঢ় কণ্ঠস্বর শুনে মুহূর্তেই নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছিল শয্য।নিজের জন্য মাকে তিরস্কৃত হতে দেখে বুকের ভেতর অদ্ভুত এক যন্ত্রণা অনুভব করেছিল সে।
সেই প্রথম।সেই প্রথম বাবার প্রতি একবিন্দু অভিমান জন্ম নিয়েছিল তার শিশুমনে।আর আশ্চর্যের বিষয়, এরপর সে আর কোনো জেদ করেনি।
নিঃশব্দে অশ্রু মুছে হোস্টেলে চলে গিয়েছিল।কিন্তু চলে গেলেই কি হৃদয়ের আকুতি মুছে যায়?প্রতিবার জেসমিন বাদশাহ সময় বের করে ছেলেকে দেখতে যেতেন। নিজের হাতে খাবার খাইয়ে দিতেন। বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে আদরে ভরিয়ে দিতেন।
আর প্রতিবারই শয্য একটি প্রশ্ন করত,
“মাম্মা, বাবা আসেনি কেন?”
প্রশ্নটি শুনলেই জেসমিন বাদশাহর চোখের গভীরে অদৃশ্য এক বেদনা খেলা করত। তবুও ঠোঁটে হাসি টেনে বলতেন,
“তোমার বাবা ব্যবসার কাজে শহরের বাইরে গেছে, বাবু।”
ছোট্ট শয্য বিশ্বাস করত।কিন্তু বারবার একই উত্তর শুনতে শুনতে তার ভেতরে শূন্যতা জন্ম নিতে শুরু করল। ধীরে ধীরে সে অনুভব করল, তার জীবনে “বাবা” নামক মানুষটির উপস্থিতি ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে।
অথচ কেউ টের পেল না ব্যবসায়িক ব্যস্ততার অজুহাতে রাজিব বাদশাহ আসলে সময় কাটাচ্ছেন নিজের দ্বিতীয় সংসারের সঙ্গে।
রাত্রি গভীর হতো।হোস্টেলের অন্ধকার কক্ষে, সংকীর্ণ বিছানার উপর একা শুয়ে থাকত শয্য।নিস্তব্ধতার মাঝে বালিশ ভিজিয়ে কাঁদত। সেখানে অনেক ছেলেই তাকে বিরক্ত করত। কেউ ঠাট্টা করত, কেউ ধাক্কা দিত, কেউ বা মারধরও করত। তবুও সে প্রতিবাদ করত না।কারও কাছে অভিযোগও করত না।এমনকি নিজের মায়ের কাছেও না।
কারণ সে জানত, জেসমিন বাদশাহ যদি এসব জানতে পারেন, তাহলে ছেলেকে সঙ্গে করে বাড়ি নিয়ে যেতে চাইবেন।
আর তখন আবার রাজিব বাদশাহ সমস্ত দোষ চাপিয়ে দেবেন জেসমিনের উপর।মায়ের চোখে অশ্রু দেখতে পারত না শয্য।মায়ের কষ্ট তার কাছে নিজের কষ্টের চেয়েও অসহনীয় ছিল। তাই সমস্ত অপমান, নিঃসঙ্গতা আর বেদনাকে নিজের অন্তরে সমাধিস্থ করে রেখেছিল সে।
আর সেই নীরব সহিষ্ণুতার ভেতরেই, অজান্তে, ধীরে ধীরে জন্ম নিয়েছিল এক গভীর বিরাগ।
একটি শিশুর হৃদয়ে পিতার জন্য যে শ্রদ্ধা থাকার কথা, তার স্থলে জমাট বাঁধতে শুরু করেছিল অভিমান, দূরত্ব এবং অদৃশ্য ঘৃণার কালো স্তর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্তরই একদিন পরিণত হয়েছিল অমোচনীয় ক্ষতে।।
বাগানের নির্জন প্রান্তে এসে স্থির হয়ে দাঁড়ালো শয্য। দূর বিস্তৃত আকাশপানে নিবদ্ধ তার দৃষ্টি। যেন অনন্ত নীলিমার বুক চিরে সে খুঁজে ফিরছে মুক্তির পথ। জীবনটা বড্ডো একঘেয়ে তার! কনসার্ট ,ফ্যান ফলোয়ার এদের ভিড়েই কাটে! ইচ্ছে হলে হুটহাট কিছুদিনের জন্য সে উধাও হয়ে যায়। একা একা সময় কাটায় সিউলের ভিন্ন ভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে। যেখানে কেউ তাকে চিনে না। চিনবেও না।
কিন্তু টিম আলফার সাথে থাকলে, জিয়ানের সাথে কথা বললে ভালোই লাগে তার! আনন্দ পায়!
মনে হয়, দীর্ঘদিনের অবসন্ন হৃদয়ে কেউ নিঃশব্দে রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু পরিবারের কথা মনে পড়লেই বুকের ভেতর অসহনীয় শ্বাসরোধী যন্ত্রণা জমাট বাঁধে। তখন তার মনে হয় ঝুমঝুমকে সে কখনোই নিজের করে পাবে না। কোনোদিনও না।
আর সেই কারণেই তো সর্বদা নিজেকে ওর থেকে দূরে সরিয়ে রাখে সে। প্রথমত, মেয়েটি তাকে নিছক ভাই হিসেবেই দেখে। দ্বিতীয় কারণটি আরও নির্মম…
“হাই!”
মধুর নারীকণ্ঠের আকস্মিক আহ্বানে ভাবনায় ছেদ পড়ে শয্যের। সে ধীর ভঙ্গিতে ডান দিকে তাকায়। হালকা আকাশি বর্ণের শাড়িতে আবৃত রমণীটিকে দেখে কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ ফুটে ওঠে তার। জুঁই! কিন্তু এই মুহূর্তে তার কাছে আসার কারণ কী? মস্তিষ্কজুড়ে প্রশ্নের ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়।
জুঁই মৃদু হাসল। সেই হাসিতে ছিল সহজাত কোমলতা।
“তোমার সঙ্গে একটু কথা বলতে এলাম। আমি তোমাকে ‘তুমি’বলে সম্বোধন করতে পারি তো?”
শয্যের প্রবল ইচ্ছে হলো সরাসরি বলে দিতে,
“না, পারেন না।” কিন্তু স্বভাবসিদ্ধ নির্লিপ্ততা বজায় রেখেই নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল সে।
জুঁইয়ের অস্বস্তি স্পষ্ট, তবু সে নিজেকে সামলে নিয়ে পুনরায় বলল,
“আচ্ছা, তুমি সবার সঙ্গে বসে খেতে চাইছো না কেন?”
প্রশ্নটা শুনে বিরক্তি অনুভব করলেও মুখে তা প্রকাশ করল না শয্য। গম্ভীর, অনমনীয় স্বরে জবাব দিল,
“আমি একা খেতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।”
জুঁই ধীরভাবে মাথা নাড়ল। অতঃপর ওষ্ঠে স্নিগ্ধ হাসি টেনে বলল,
“জানো, আজ আমি তোমার জন্য নিজ হাতে বিরিয়ানি রান্না করেছি।”
শয্য খানিক বিস্মিত হলো বটে, তবে অনুভূতিটুকুও মুখে ফুটতে দিল না। জুঁই আগের মতোই মৃদু উচ্ছ্বাসে বলে চলল,
“মামুনি বলেছিলেন আপনি বিরিয়ানি খুব পছন্দ করেন। এখন এত কষ্ট করে রান্না করার পরও যদি আপনি না খান, তাহলে ব্যাপারটা কেমন দেখায় বলো তো?”
‘আপনি’সম্বোধনটি কানে আসতেই শয্য এক দীর্ঘ, উষ্ণ নিশ্বাস ফেলল। তারপর গাম্ভীর্যভরা কণ্ঠে বলল,
“আমি কি আপনাকে এতটা কষ্ট করতে বলেছিলাম?”
জুঁই ক্ষীণ হাসল। মাথা নেড়ে শান্ত স্বরে উত্তর দিল,
“না, বলেননি। কিন্তু সবাই ভেবেছিল আপনি খাবেন।”
শয্যের কণ্ঠে উদাসীনতার শীতল ছোঁয়া।
“কে কী ভাবল, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আই ডোন্ট কেয়ার।”
জুঁই সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা বলল,
“কিন্তু আমার যায় আসে।”
শয্য ভ্রূ কুঁচকে তাকাল।
“তো? আপনি কেয়ার করলে তাতে আমার কী? আপনি কে?”
জুঁই আবারও হাসল। স্নিগ্ধ, মায়াবী সেই হাসি যেন মুহূর্তের জন্য পরিবেশটাকে কোমল করে তুলল।
“আমি তোমার ভাইয়ের স্ত্রী। তোমার ভাবী।”
শয্য থমকে গেল। কণ্ঠস্বরে এক অদ্ভুত অধিকারবোধ যা তাকে মুহূর্তের জন্য নির্বাক করে দিল। কী উত্তর দেবে খুঁজে পেল না সে। নিঃশব্দে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
জুঁই এবার খানিক জোর দিয়েই বলল,
“মামুনি নিজের রুমে দরজা বন্ধ করে বসে আছেন। আপনি খেতে আসেননি বলে উনিও কারও সঙ্গে খাবেন না বলেছেন।”
শয্য নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,
“পরে ঠিকই খেয়ে নেবেন।”
জুঁই সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
“কিন্তু আমার পরিশ্রমটার কী হবে? আমি যে সবার জন্য এত কষ্ট করে রান্না করেছি!”
এবার শয্য সরাসরি মুখোমুখি হলো তার। দৃষ্টিতে স্পষ্ট বিরক্তির রেখা।
“আপনি আসলে কী চান?”
জুঁই বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বলল,
“আমি চাই, আপনি এখন আমার সঙ্গে ভেতরে গিয়ে সবার সঙ্গে বসে খান। প্লিজ, না করবেন না।”
শয্য স্পষ্ট অস্বস্তিতে পড়ে গেল। দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়ে দিল,
“সরি। আজ সম্ভব নয়।”
বলেই হাঁটা শুরু করতেই জুঁই দ্রুত তার পিছু নিল।
“প্লিজ! শুধু আজকের জন্য। ভাবীর কথা শুনবে না? বড়দের কথা শুনতে হয়।”
শয্যের ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের ক্ষীণ হাসি ফুটে উঠল।
“ফর ইওর কাইন্ড ইনফরমেশন, আপনি আমার চেয়ে ছোট।”
জুঁই থেমে গেল না। লাজুক অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“কিন্তু সম্পর্কের দিক থেকে তো আমি দুই বছরের বড়।”
শয্যের পদক্ষেপ আচমকা থেমে গেল। জুঁইয়ের সরল, নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকাতেই তার ভেতরের কঠোরতা খানিক নরম হয়ে এলো। মেয়েটি অসহায় স্বরে আবারও বলল,
“প্লিজ…
শয্য চোখ বুজে গভীরভাবে শ্বাস নিল। ভেতরের বিরক্তি গিলে ফেলে অবশেষে বলল,
“ওকে, ফাইন। তবে শুধুমাত্র মাম্মার জন্য। আর কারও জন্য নয়।”
মুহূর্তেই আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল জুঁইয়ের মুখ। চোখ দুটো যেন হাসিতে ঝলমল করে উঠল। সাহস সঞ্চয় করে আস্তে করে বলে উঠল,
“গুড দেবরজি।”
জুঁইয়ের সাথে সদর দরজা দিয়ে বাড়ির ভেতরের প্রবেশ করল শয্য!
রাজিব বাদশাহ সবেই চেয়ার টেনে বসছিলেন কিন্তু অপ্রিয় পুত্রকে আসতে দেখে হতচকিত গেলেন তিনি! অতি বিস্ময়ে অক্ষিকৌটা বড় আকৃতির হয়ে এলো!
তারা বাদশাহ, রিমঝিম এবং কি আব্রাহাম সকলেই একে একে দোতলা থেকে নেমে আসছিলেন কিন্তু যেই না জুঁইয়ের সঙ্গে শয্যকে দেখল ওমনি বিস্মিত হলো সকলে!
জুঁইয়ের দিকে তাকিয়ে পরিস্থতি বোঝার কিঞ্চিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আব্রাহাম! মেয়ের চোখে অদ্ভুত এক সরলতা! ঠোঁটের প্রান্তে প্রস্ফুটিত হয় রহস্যঘেরা হাস্যরেখা!
আব্রাহাম কিছুই বুঝল না। তৎক্ষণাৎ জুঁই কিচেনের দিকে এগুতে এগুতে বলল,
“মামুনি, দেখুন কে এসেছে!”
জেসমিন বাদশাহ ম্লান মুখকরে কিচেনেই ছিলেন! জুঁইয়ের ডাক শুনে ধীর পদক্ষেপে বেরিয়ে এলেন। যেইনা ড্রয়িং রুমে পা রাখলেই ওমনি থমকালেন ক্ষণকালের জন্য! চক্ষু সম্মুখে প্রিয় পুত্রকে দেখে স্তব্ধীভূত হয়ে গেলেন!
“শয্য! তুই এসেছিস?”
হন্তদন্ত পায়ে এগিয়ে গিয়ে ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন জেসমিন বাদশাহ। শয্য ভেতরে ভেতরে ফোঁস ফোঁস করছে! চোখ দুটোতে ক্রোধের অগ্নি প্রজ্বলিত হয়! কটমট দৃষ্টিতে তাকালো জুঁইয়ের দিকে! এই নারী কিয়ৎক্ষণ পূর্বে তো বলেছে সে তার মাম্মা নাকি দরজা বন্ধ করে রেখেছে?
জুঁই জোরপূর্বক ওষ্ঠো প্রসারিত করে মিনমিনে গলায় বলে,
“সরি!”
আব্রাহাম ভাইয়ের আগমনে প্রসন্ন হয়! ধীর কদমে নিকটে এসে বলে,
“তুমি আসায় খুশি হয়েছি। একসাথে খাওয়া যাক তবে।”
শয্য তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে নিগূঢ় দৃষ্টিতে তাকালো আব্রাহামের দিকে! ভাই? আহ্! সবকিছু অবাস্তব!
রাজিব বাদশাহ পার্শ্ব দৃষ্টিতে তাকালেন ছেলের দিকে। তাকে সম্পূর্ণ রূপে উপেক্ষা করে গেল সে! ভেতরে ভেতরে ক্ষিপ্ত হলেন বটে তবে তা প্রকাশ করলেন না মোটেও!
জুঁই স্বভাব সুলভ ধীর কন্ঠে বলল,
“আমি সবাইকে খাবার দিচ্ছি। আপনারা বসুন।”
জেসমিন বাদশাহ ছেলেকে কাছে টেনে বললেন,
“তুই আমার পাশে বসবি। আয়।”
বিনা বাক্যব্যয়ে চুপচুপে জেসমিন বাদশাহকে অনুসরণ করল শয্য!
চেয়ার টেনে বসা মাত্রই কর্ণ কুহুতে প্রতিধ্বনি হয় মেয়েলি রিনরিনে মধুর স্বর।যা গুনগুন করে গেয়ে চলেছে,
আমি ডুবেছি মায়ায় ,আহা কি যে করি হায়
আমি ডুবেছি মায়ায় ,আহা কি যে করি হায়
গোপনে খুঁজি কারে…
অকস্মাৎ থমকে গেল ঝুমঝুম! বরফ খন্ডের ন্যায় স্থবির হৃদয় তার! ফোনে চলতে থাকা মিউজিক তখনো বেজে চলেছে।
ও…ও….ও…
কন্যা কন্যা কন্যা রে
বলবো মনের কথা শোন না রে
কন্যা কন্যা কন্যা রে
বুকে বইছে প্রেমের বন্যারে
তৎক্ষণাৎ ফোনটা অফ করল সে! সেই মিউজিকের সাথে গলা মিলিয়ে গুনগুন করছিল ঝুমঝুম! কিন্তু সে কি করে জানবে এই মূহুর্তে ড্রয়িং রুমে সকলে থাকবে? সে তো ভেবেছিল শয্য ভাইয়া খাবে না বলে কেউই খাবেনা,তাই নিচে এসেছিল চুপচাপ নিজের খাবার টুকু নিয়ে রুমে চলে যাবে।
মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ১৪
কিন্তু এভাবে সকলের সামনে লজ্জায় পড়তে হবে কল্পনাউদ্তিত তা! লজ্জায় আড়ষ্ট হয় তনু মন!
তবে চার চোখ মিলিত হয় তখন যখন হেড চেয়ারে বসা শয্যকে দেখতে পেলো ঝুমঝুম! ওমনি আড়ষ্ট ভাবটুকু কেটে গিয়ে একরাশ বিস্ময় প্রকাশ পেলো!
বিড়বিড় করে ডেকে ওঠে,
“শয্য ব্রাদার!
