Home মেরিগোল্ড সেনোরিটা মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ৬

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ৬

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ৬
ফারহানা নিঝুম

“আব্রাহাম? আপনার কফি নিয়ে এসেছি।”
দরজায় দাঁড়িয়ে ঠকঠক আওয়াজ করল রমণী। অন্তঃকরণ দোদুল্যমান সংশয় । ভেতরে ঢুকে কি ঢুকবে না তা নিয়ে সংশয়ে ভুগছে। একবার মন বলছে তার স্বামী হয় লোকটা,এতটা ফর্মালিটি দেখানোর মানে কি?‌ এত প্রটোকলই বা কেন মানছে সে? পরক্ষনেই যুক্তিবোধ প্রতিবাদ তুলছে, একজন পুরুষের কক্ষ।তার কত রকমের প্রাইভেসি আছে। এভাবে হুটহাট কারো কক্ষে অনুপ্রবেশ করা অনুচিত।
ততক্ষনে ভেতরে থেকে ভেসে এলো, গম্ভীর পুরুষালী কন্ঠস্বর।

“ভেতরে এসো, জুঁই।”
শুষ্ক কণ্ঠনালীতে একবার লালারস গিলল জুঁই। স্নায়ুগুচ্ছ জুড়ে অনির্বচনীয় অস্থিরতা। তবু সংকোচের প্রাচীর ভেঙে সে ধীরপদে অন্তঃকক্ষে প্রবেশ করল।
বিছানার প্রান্তে পা তুলে আরাম ভঙ্গিতে বসে আছে আব্রাহাম, হাতে মোবাইল। জুঁইয়ের আগমন তার অগোচর রইল না। সন্নিকটে গিয়ে জুঁই স্নিগ্ধ স্বরে বলল
“আপনার কফি। মামুনি পাঠিয়েছেন।”
আব্রাহাম তার কাঁপমান অঙ্গুলিসমূহ লক্ষ্য করল। মোবাইলটি একপাশে সরিয়ে রেখে সিরামিকের পাত্রটি গ্রহণ করল, আর সেই গ্রহণের অন্তরালে অনিচ্ছাকৃতভাবে স্পর্শ করল জুঁইয়ের কলমিলতার ন্যায় সরু আঙুলগুলি।
বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ন্যায় কেঁপে উঠল জুঁই। মুহূর্তেই হাত প্রত্যাহার করে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকাল সেই নির্লজ্জ পুরুষটির দিকে।
আব্রাহামের অধরে ফিসলে উঠল কৌতুকমিশ্রিত হাসি। মোহাবিষ্ট কণ্ঠে উচ্চারণ করল,

“জুঁই, আজ রাত্রে আমাদের রিসেপশন, তারপর মধুযামিনী। আর তুমি কিনা সামান্য স্পর্শেই এমন বিচলিত! উঁহু, দিস ইজ নট ফেয়্যার।”
ক্রোধে প্রজ্বলিত হলো জুঁই। অক্ষিদ্বয় যেন দাউ দাউ করে জ্বলছে।
” আব্রাহাম, আমি যদি আপনার স্ত্রী না হতাম, তবে কি অন্য কোনো নারীকে এভাবে সম্বোধন করতেন?”
আব্রাহাম চিন্তামগ্ন ভঙ্গিতে মস্তক নাড়িয়ে মৃদু দুষ্টু হাসি হেসে বলল,
“হয়তো করতাম, আবার হয়তো করতাম না।”
জুঁইয়ের কপালে উৎকণ্ঠার ভাঁজ স্পষ্ট হলো।
“মানে? তার সঙ্গেও কি এমন আচরণ করতেন?”
আব্রাহাম উচ্চহাস্যে ফেটে পড়ল। এরপর শয্যা ত্যাগ করে এগোতেই জুঁই স্বতঃস্ফূর্তভাবে দুই পা পিছনে সরিয়ে আনল। তার দৃষ্টি নিবদ্ধ রইল সেই হ্যাজেল বর্ণের চক্ষুযুগলে।
মাদকতাময় স্বরে আব্রাহাম বলল,
“যদি সে তোমার মতো লাজুক হতো, তবে অবশ্যই তাকে এমনভাবে বিরক্ত করতাম। আর যদি না হতো, তবে হয়তো না।”

জুঁই কিছু বলার আগেই সে আরও নিকটে এসে নরম স্বরে যোগ করল,
“এখন অন্য কাউকে কল্পনা করার অবকাশ নেই, জুঁই। আমার বর্তমান, ভবিষ্যৎ সবকিছুতেই এখন কেবল এই বোকা জুঁই ফুলের আধিপত্য।”
এই উক্তিতে জুঁইয়ের চিত্তে প্রশান্তির স্নিগ্ধ স্রোত বয়ে গেল। আব্রাহামের দৃষ্টি হঠাৎই গভীর ও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল।
আব্রাহাম ওই পেলব গালে টোকা দিয়ে বলল,
“অফিসে যেতে বিলম্ব হচ্ছে, বোকা জুঁই ফুল। এখন যাই। রাত্রে তোমার সঙ্গে অবকাশে প্রণয়ালাপ করব।”
এমন সাহিত্যের ছন্দে ছন্দে কথাগুলো ভীষণ লজ্জায় ফেলছে কন্যাকে।
কেউ যেন গোধূলির কমলাভ আভা একমুঠো এনে রমণীর কপোলদ্বয়ে লেপ্টে দিয়েছে। রাঙা হলো তার চিবুক, নত হলো শির। তাকে লজ্জায় কুন্ঠিত হতে দেখে হো হো শব্দে হেসে উঠলো আব্রাহাম।
“থাক,আর কিছু বলে লজ্জা দিচ্ছি না।”
জুঁই সরে দাঁড়ালো। আব্রাহাম ফোনটা তুলে নিলো সাথে স্যুটটাও। ঘর থেকে বেরুনোর উদ্দেশ্যে পা বাড়িয়ে আবারো কি ভেবে থামল। পিছন ফিরে ওই লাজুক রমণীর পেলব কপোলদ্বয়ে আদুরে হাতের স্পর্শ বুলিয়ে বিদায় জানায়,
“সাবধানে থাকবে।বায়।”
ওই সামান্য স্পর্শে কি ছিলো জানেনা জুঁই। তাদের মধ্যে প্রণয়ের বন্ধন নেই তবুও কোথাও একটা ভালো লাগার মিষ্টি অনূভুতি কাজ করছে। হ্যাঁ হয়তো স্বামী স্ত্রী বলেই এমন হচ্ছে।

কিছুক্ষণ আগেই জেসমিন বাদশাহ অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেছেন।পরপর দুটো গাড়ি বেরিয়েছে।একটা আব্রাহামের অন্যটি জেসমিন বাদশাহর।
অল্পক্ষণে ঝুমঝুম একেবারে তৈরি হয়ে নিচে নেমে এলো। পরণে ল্যাভেন্ডা কালারের একটা সাদা বেসিক টি-শার্ট তার সযত্নে পরিহিত ক্রপ হুডি; সঙ্গে উচ্চকটি হাই ওয়েস্ট মম জিন্স এর সাথে দুধ সাদা স্নিকার্স পরেছে রমণী। মাথায় পড়েছে মাশার মতো হুড। সমগ্র অবয়ব জুড়ে এক অপার্থিব চপলতার সংযোজন করেছে।
তার পছন্দের সাইকেলটি শ্বেত ও বেবি টোনের মনোরম সম্মিলনের সৃষ্ট এক নান্দনিক অনুষঙ্গ। সাইকেলের সামনের দিকের রয়েছে ক্ষুদ্র ফুলের ঝুড়ি যেখানে বসে আছে পছন্দের কাঠবিড়ালী পিউনিও বেবি। কাঁধে ক্যানভাস, পোট্রেটের ভারসাম্য রক্ষা করে সাইকেলের নিকটবর্তী এসে হাজির হলো ঝুমঝুম অর্থাৎ সেই মাশা।
সাইকেলে ওঠার আগে কি ভেবে যেনো ওই দূরের ফেইরি ল্যান্ডের বন্ধ দরজার দিকে তাকালো।
জুনেদ শয্য বাদশাহ এখনো ঘুমোচ্ছে। রাত করে ফেরার ফল এগুলো। এ চিন্তায় প্রগাঢ় অর্থবহ হাসির রেশ ফুটিয়ে তুলল ঝুমঝুম । এখন তাকে ক্যাফেতে যেতে হবে। আজকে আর্ট ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছেনা সে, দেহ মন উভয়েই ক্লান্তির আবেশে তার আবদ্ধ।

তবে বিকেলের দিকে তাকে বেরুতে হবে স্টুডিওর জন্য। কিন্তু আগে ক্যাফে থেকে বাড়িতে এসে সবার আগেই ওই পুরুষের সাথে দেখা করবে। লোকটাকে বলবে,
“এই যে, কে-পপ আইডল জুনেদ শয্য বাদশাহ, অনুগ্রহ করে অবলোকন করুন আপনার অনুগ্রহলাভের নিমিত্তে রজনীর প্রশান্ত নিদ্রা বিসর্জন দিয়ে আমি এই পোর্ট্রেটটি অঙ্কন করেছি। আশা করি আপনি পরিতৃপ্ত হয়েছেন। এখন কি আমাকে আপন বোন রূপে স্বীকৃতি প্রদান করবেন?”
দুষ্টুমি সহিতে ছন্দে ছন্দে কথাগুলো বলে আপন মনে খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো ঝুমঝুম।এমন হাস্যচ্ছটায় নয়নদ্বয়ও ঝলমলে করে উঠল কন্যার।
আর এক মূহুর্ত বিলম্ব না করে সামনের দিকে অগ্রসর হয় কন্যা। অতঃপর এক জোড়া প্রখর, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তাকে বন্দী করে চলেছে চোখের পর্দায় তা কি সেই কন্যা ঠাহর করতে সক্ষম হয়েছে?
“মাশা,
You always wanted the nice guy;
Too bad you got the fuking villain
To the once whose type is an
Unapologetic villain.”

সাইকেল নিয়ে সিউলের সুন্দর রাস্তায় সাইক্লিং করে এগিয়ে চলেছে ঝুমঝুম। শরতের প্রভাতের ম্লান আলোয় রাস্তার উভয় পার্শ্বে কি সুন্দর বড়বড় ম্যাপল পাতা রঞ্জিত আবরণে এক অপুর্ব সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। ঝুমঝুম চঞ্চল পদক্ষেপে সাইকেলটি নিয়ে এগিয়ে চলেছে। স্বল্প পথ পেরুতেই দৃষ্টিগোচর হয় “মাশা অ্যান্ড দ্য বেয়ার” ক্যাফে।
ক্যাফেটি আয়তনে বিশাল নয় ,তথাপি ক্ষুদ্রতার সীমানাও অতিক্রম করেছে। বাইরের দিকে প্যাস্টেল রঙের মোলায়েম প্রলেপ, কাঁচঘেরা সম্মুখভাগে নকশার কারুকার্য, এবং মেইন ডোরে উপর ঝু’লন্ত ক্ষুদ্র ঘণ্টাধ্বনি যা প্রত্যেক আগ’ন্তুকের আগমনে এক মৃদুমধুর সুর সঞ্চার করে। অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে দৃষ্টিতে ধরা পড়ে কাঠের উষ্ণ আসবাব, মৃদু আলোকসজ্জা, এবং প্রাচীরজুড়ে অঙ্কিত শৈশবস্মৃতিময় কার্টুনচিত্র, বিশেষত Masha and the Bear এর চরিত্রাবলী। সুবাসিত কফি বীনের ঘ্রাণ, সদ্য বেক করা পেস্ট্রির মিষ্টি সুবাস সমস্ত মিলে এক স্বপ্নময় পরিবেশ নির্মাণ করছে। সাইকেলটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করে ঝুমঝুম দ্রুতপদে ভেতরে প্রবেশ করল। দৃষ্টিপথে পড়ল এক তরুণী ত্রস্ত হাতে কাগজপত্রে কিছু লিখতে ব্যস্ত। তার পরণে পরিপাটি শেফ কোট, শুভ্র বস্ত্রখানি নিখুঁতভাবে ইস্ত্রি করা; কটিদেশে গাঢ় বর্ণের এপ্রোন, মাথায় রয়েছে ক্যাফের লোগোসংবলিত ক্যাপ, এবং চুলগুলি সুশৃঙ্খলভাবে গুটিয়ে বাঁধা। মুখাবয়বে ক্লান্তির আভাস থাকলেও দৃষ্টিতে এক অদম্য একাগ্রতা ও সংযমের ছাপ সুস্পষ্ট।

এই সময় ঝুমঝুমের চঞ্চল মস্তিষ্কে এক দুষ্টু কৌতুকের উদ্ভব হলো। সে দ্রুতগামী পদক্ষেপে নিকটবর্তী হয়ে উচ্চস্বরে চেঁচিয়ে উঠলো,
“সেয় অননি! সেয় অননি!”
সম্বোধনটি কর্ণগোচর হতেই তরুণীটি আকস্মিক চমকে উঠল; বিস্ফারিত নেত্রে পিছন ফিরে বিরক্তি-সংযত কণ্ঠে বলল,
“উফ্, মাশা! আবারও?”
ঝুমঝুম খিলখিল হাস্যে ফেটে পড়ল। “সেয় অননি” অর্থাৎ ভাবি । এই সম্বোধনটি সে ইচ্ছাকৃতভাবেই ব্যবহার করে, কারণ তরুণীটি এইটা সহ্য করতে অপারগ। যেখানে সে নিজেকে ‘বোন’ বলে ভাবতে অভ্যস্ত, সেখানে ‘ভাবি’ সম্বোধন তার নিকট প্রায় অসহনীয় বলেই মনে হয়।

বাদশাহ পরিবার এক কঠোর বিধিবদ্ধ ঐতিহ্যের ধারক। ঐ পরিবারের অলিখিত অথচ অটল নিয়ম অনুসারে আত্মীয়তার পরিসরের অন্তর্গত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞার সূচনা করেছিলেন হেনা বাদশাহর মৃ’ত্যু স্বামী, এবং তার পর হতে এটা এক অনমনীয় বিধানে পরিণত হয়েছে। অথচ সমস্ত বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে ঝুমঝুমের ভাই রাকিব বাদশাহ এবং আব্রাহাম বাদশাহর ছোট মেহরিমা বাদশাহ পরস্পরের প্রতি প্রেমাসক্ত হয়ে বিয়ে নামক বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
এই অবাধ্যতার পরিণতি ছিল কঠোর পরিবারের প্রবীণগণ তাদের সম্পূর্ণরূপে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন। রাগী, গম্ভীর স্বভাবের তারা বাদশাহ এই ঘটনার পর আরও অধিক অনমনীয় ও নীরবতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তথাপি বিস্ময়করভাবে, সেই বহিষ্কৃত যুগলকে আশ্রয় প্রদান করেছিলেন পরিবারেরই এক ভিন্নধর্মী চরিত্র কাঠখোট্টা, বেপরোয়া, উগ্রস্বভাবের জুনেদ শয্য বাদশাহ। তিনিই তাদের জন্য ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করে দিয়েছে এবং জীবিকা নির্বাহের নিমিত্তে এই ক্যাফে প্রতিষ্ঠার সুযোগ প্রদান করেছে বেপরোয়া পুরুষ।
ক্যাফের নামকরণ “মাশা আন্ড দ্য বেয়ার” এটা শুনে পরিবারের কনিষ্ঠ কন্যা ঝুমঝুম যে আনন্দোচ্ছ্বাসে আত্মহারা হয়ে উঠেছিল , তা আজও স্মৃতিতে অম্লান। তবে তার বিস্ময়ের অন্ত ছিল না যে ব্যক্তি স্বভাবতই পরিবার হইতে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে অভ্যস্ত, যিনি কাউকেই আপন বলে স্বীকার করেন না, তিনিই কি না এমন সহায়তার হাত প্রসারিত করল কেন?

মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে নানাবিধ প্রশ্নাবলীর এক অনবরত ঘূর্ণাবর্ত চলমান থাকলেও ,তার সন্তোষজনক উত্তর আজও উদ্ঘাটনে সক্ষম হয়নি ঝুমঝুম বাদশাহ।
ঝুমঝুম কৌতুহল মিশ্রিত কন্ঠে বলল,
“আপ্পি, তুমি তো সম্পর্কে এখন আমার ভাইয়ের বউ। তাহলে সেয় অননি ডাকলে সমস্যা কোথায়?”
মেহরিমা এক দীর্ঘ, তপ্ত ও গভীর নিঃশ্বাস ছেড়ে বিরক্তিতে বলল,
“এর আগে আমি তোর কি ছিলাম?আপ্পি তো নাকি?”
ঝুমঝুম নাক মুখ কুঞ্চন করে, মুখভঙ্গি বিকৃত করে বলে,
“তোমরাও না পারো বটে। আমার অসহ্য লাগে এসব।”
চোখ পাকিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো মেহরিমা। ঝুমঝুম সামান্য বিচলিত হয়ে আমতা আমতা করে ভীতু কন্ঠে বলল,
“না মানে এই যে একসময় রাকিব ভাইয়া কিন্তু তোমার কাজিন ভাইয়া ছিলো তাহলে হঠাৎ করে তোমরা কিভাবে রিলেশনে গেলে বলতো? মানে কাজিন ভাই বোন হয়ে? আমার তো ভাবতেই লজ্জা লাগে। কাজিন হোক বা আপন ভাই বোন,ভাই বোনই হয়।”
কথা শেষ না হতেই পিছন দিক হতে রাকিব দ্রুত আগমন করে ঝুমঝুমের হুড আবৃত মাথায় সজোরে এক চাটি বসিয়ে দিল। ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে সে মাথা মালিশ করতে করতে পিছন ফিরল। রাকিব কটাক্ষভরা দৃষ্টিতে বলল,

“আবার এসব শুরু করেছিস তুই?”
ঝুমঝুম ভয়ে সেঁধিয়ে গেল রাকিবকে দেখে। জোরপূর্বক ঠোঁটের ভাজে এক ক্ষীণ হাসি ফুটিয়ে বলল,
“হে হে ভাইয়া, আমি তো এমনি বলেছিলাম। না মানে আমরা রিমঝিম আপ্পি,মেহরিমা আপ্পি, আব্রাহাম ভাইয়া,শয্য ভাইয়া সকলে কাজিন। তাই আরকি!”
রাকিব ঝুমঝুমের কথায় পাত্তা দিলো না মোটেও।
মেহরিমা কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে রাখতে দুষ্টুমি করে বলল,
“আমাদের ভাগ্যে ছিলো তাই হয়েছে। কে বলতে পারে তোরও এমন কাজিনের সাথে বিয়ে হয়ে গেল!”
কথাটা শুনতেই হৃদয় স্পন্দন তীব্র হয়ে উঠল। এক মূহুর্তের জন্য মানসপটে ভেসে এলো বেপরোয়া উগ্র পুরুষের মুখাবয়ব। নিজের কল্পনায় নাক কুঁচকে বিশ্রী ভঙিতে বলল,
“ইউউউ… কখনো না। আমি মন থেকে আমার সকল কাজিন ভাইয়া কে ভাই মানি। তাছাড়া আব্রাহাম ভাইয়ের বিয়ে হয়ে গেছে এবং শয্য ভাইয়া তো আমাকে দুচোখে শয্য করতে পারে তাই এগুলো সম্ভব নয়।”
মেহরিমা ঝুমঝুমের গাল টেনে স্নিগ্ধ হেসে বলল,

“বোকা মাশা, ভাগ্যে কি আছে তুই কি জানিস? ইডিয়ট!”
ঝুমঝুম মাথা থেকে এই ফালতু চিন্তাগুলো বাদ দিয়ে বলল,
“ছাড়ো তো এসব।এটা দেখো, রাকিব ভাইয়া এটা দেখে যাও।”
নিজের বানানো পোট্রেট যখন দুজনের সম্মুখে ধরল দু’জনেই অবাক হলো। মেহরিমা বিস্ময়াবিষ্ঠ কন্ঠে বলে ওঠে,
“ওয়াও,এটা কি সুন্দর।”
রাকিব নিজেও বিস্ফারিত নেত্রে চেয়ে পোট্রেটের সবকিছু প্রত্যক্ষ করে বলল,
“তুই তো টিম আলফা কে একদম নিখুঁতভাবে এঁকেছিস মাশা। দারুন হয়েছে।”
প্রশংসা বাক্যে ঝুমঝুমের অন্তর্লোক আনন্দে আপ্লুত হয়ে উঠল।ধিমি আওয়াজে শুধোয় কন্যা।

“সত্যি বলছো?”
মেহরিমা মৃদু হেসে বলল,
“একদম। সত্যি সুন্দর হয়েছে।”
ঝুমঝুম দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে নিতে নিতে বলল,
“তাহমিদ আমি চললাম বাড়িতে। আমি তো এসেছিলাম তোমাদের দেখাতে এটা।”
পিউনিওকে সাইড ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলল ঝুমঝুম। রাকিব বলল,

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ৫

“এখুনি চলে যাবি?”
ঝুমঝুম দ্রুত বেরুতে বেরুতে বলল,
“হ্যাঁ হ্যাঁ পরে আবার আসবো। আপাতত রগচটা জুনেদ শয্য বাদশাহর মন জয় করে আসি। বায় বায় ব্রো।বায় সেয় অননি।”
যেতে যেতেও সেয় অননি বলে ক্ষ্যাপিয়ে গেল মেহরিমাকে।
ঝুমঝুম জানেনা কি হতে চলেছে! আদেও জুনেদ শয্য বাদশাহ তাকে বোন হিসেবে স্বীকৃতি দেবে কি না তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ।

মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ৭