Home মোহশৃঙ্খল মোহশৃঙ্খল পর্ব ২৩ (২)

মোহশৃঙ্খল পর্ব ২৩ (২)

মোহশৃঙ্খল পর্ব ২৩ (২)
মাহা আয়মাত

আরভিদ চেয়ারে বসে পায়ের ওপর পা তুলে আয়েশে সিগারেট টানছে। দুইটা সিগারেট শেষ হয়েছে, এখন হাতে থাকা তিন নাম্বার সিগারেটটা শেষ করার অপেক্ষা। তার ডান পাশে দলের লোকেরা দাঁড়িয়ে, বাম পাশে ফারাবী আর তাফসির। সামনে পড়ে আছে সায়েমের রক্তাক্ত নিথর দেহ। আরভিদ একদম শান্ত, স্বাভাবিকভাবে সিগারেট টানছে, যেন তার সামনে কোনও মানুষ না, কেবল একটা মৃত পশু পড়ে আছে।
আরভিদ সিগারেটের শেষ টানটা দিয়ে সিগারেটটা মাটিতে ফেলে পা দিয়ে চেপে আগুন নিভিয়ে বলে,

— সন্ধ্যায় শুয়োরের বাচ্চার হাতের বুড়ো আঙুলটা কেটে আমার প্রধান বিরোধী দলের ভাইস চেয়ারম্যানকে গিফট করে দিবি!
মিরাজ মাথা নেড়ে বলে,
— ঠিক আছে, ভাই।
আরভিদ সায়েমের নিথর দেহটার দিকে তাকিয়ে বলে,
— ভালো করে, সুন্দর করে পাঠাবি! এটা ভাইস চেয়ারম্যানের জন্য সেরা গিফট! ওনার আদরের গুপ্তচরের আঙুল!
মিরাজ হেসে বলে,
— ভাই এসব নিয়ে ভাবতে হবে। এমন সুন্দর করে পাঠাবো, যে ভাইস চেয়ারম্যান গুপ্তচর হারিয়ে কান্নার বদলে গিফট দেখে হেসে দিবে।
আরভিদ সায়েমের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে মিরাজের দিকে তাকিয়ে বলে,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

— রাতে ঠিকঠাকভাবে সব মাল এসে পৌঁছেছে?
মিরাজ একটু চিন্তিত কন্ঠে বলে,
— না ভাই, কালকে আটটা স্পিড বোট এসেছে!
আরভিদ কপালে ভাজ ফেলে কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন করে,
— আরেকটা?
পেছন থেকে ফারাবী বলে ওঠে,
— স্যার, আরেকটা মাঝ পথে নষ্ট হয়ে গেছিলো!
— আচ্ছা। বাকি সব মাল ঠিক আছে?
মিরাজ বলে,
— জি ভাই, সব একদম ঠিক আছে!
আরভিদ পঠে দাঁড়িয়ে ফারাবীকে বলে,

— চলো।
বলেই চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয়, কিন্তু ঠিক তখনি শুভ বলে ওঠে,
— কিন্তু ভাই, একটা সমস্যা হয়েছে!
আরভিদ দাড়িয়ে যায়।
— কি সমস্যা?
শুভ চিন্তিত হয়ে বলে,
— কাল রাতে বোট থেকে মাল নামানোর সময় একটা…
তখনি মিরাজ দ্রুত শুভকে থামিয়ে দিয়ে বলে,
— কোনো সমস্যা না ভাই!
তারপর শুভর দিকে তাকিয়ে বলে,
— এই ছোট ব্যাপারটা ভাইকে বলতে হবে? এসব তো আমরা নিজেরাই সামলাতে পারি! কেন অকারণে ভাইকে ডিস্টার্ব করছিস?
তানভীরও মিরাজের কথায় সায় দেয়,
— হ্যাঁ, ঠিক বলেছিস! এটা আমাদের কাজ। ভাই আপনি নিশ্চিন্ত থাকেন!
আরভিদ এসব কথা শুনে আর মাথা ঘামায় না, দ্রুত পা চালিয়ে বেরিয়ে যায়। ফারাবী আর তাফসিরও তার পেছন পেছন চলে যায়।
ওরা চলে যেতেই মিরাজ শুভকে ধমকে ওঠে,

— এই, ভাইকে এসব বলতে যাচ্ছিলি কেন?
শুভ অবাক হয়ে বলে,
— বলবো না? মেয়েটা কাল রাতে আমাদের বোট থেকে মালগুলো নামাতে দেখে ফেলেছে! এখন ভাইকে কি জিজ্ঞেস করব না, কী করতে হবে?
তানভীর বলে,
— ভাইকে জিজ্ঞেস করলে ভাই বলবে, মেরে ফেলতে!
শুভ বলে,
— তারপরও ভাইকে জিজ্ঞেস করলে…
রকি বিরক্ত হয়ে বলে,
— ভাইকে জিজ্ঞেস করলে আমাদের চাহিদা মতো কিছু হবে না!
শুভ ভ্রু কুচকে বলে,
— তাহলে কি করবি?
মিরাজ হাসতে হাসতে বলে,
— যেহেতু মেরেই ফেলবো, আগে একটু মজা করে নেই মেয়েটার সাথে!
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে গাড়ি চলছে দ্রুত গতিতে। আরভিদ ফোনে কিছু একটা করছে। আরভিদ ফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখেই ড্রাইভারকে বলে,

— সামনের ফুলের দোকানটার সামনে গাড়ি থামাবে।
ড্রাইভার কিছুক্ষণ পর গাড়ি থামায়, রেডিয়ান ফ্লাওয়ার এন্ড গিফট শপের সামনে। গুলসানের সবচেয়ে দামি ফুলের দোকান এটা। একদম ক্লাসি আর বড় আকারের, যেখানে সব ধরনের ফুল পাওয়া যায়। বিদেশি ফুলও!
ফারাবী গাড়ির দরজা খুলে বের হতে হতে বলে,
— স্যার, কি লাগবে? আমি এনে দিচ্ছি, আপনি বসেন গাড়িতে!
আরভিদ ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে বলে,
— আমিই যাবো!
ফারাবী আর তাফসির দ্রুত নেমে দরজাটা খুলে দাঁড়িয়ে থাকে। আরভিদ গাড়ি থেকে নেমে ফুলের দোকানের মধ্যে ঢুকে। পেছন পেছন ফারাবী আর তাফসিরও ঢুকে দোকানে। আরভিদকে দেখেই দোকানের তিনজন স্টাফ, এমনকি ম্যানেজারও দ্রুত চলে আসে আরভিদের কাছে। আরভিদকে সালাম দেয়। কিন্তু আরভিদ তাদের সালামের কোনো উত্তর দেয় না।
আরভিদ ম্যানেজারকে প্রশ্ন করে,

— চম্পা ফুল আছে?
ম্যানেজার দ্রুত মাথা নেড়ে বলে,
— জ্বি স্যার, একদম ফ্রেশ চম্পা ফুল আছে। আপনি বসুন স্যার।
আরভিদ বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
— বসতে আসিনি এখানে! চম্পা ফুল কোন দিকটায়?
ম্যানেজার থতমত খেয়ে বলে,
— স্যার, ঐ দিকটায়। আসুন।
ম্যানেজার আরভিদকে নিয়ে চম্পা ফুল রাখা জায়গায় যায়। রেকের ওপর সাজানো অনেকগুলো সাদা চম্পা ফুল আর একপাশে হলুদ রঙের চম্পা ফুল। আরভিদ একটা রেক থেকে একটি সাদা চম্পা ফুল তুলে নাকের কাছে এনে ঘ্রাণ নেয়। ফুলটি থেকে আসা সুগন্ধে যেন হারিয়ে যায় কিছুক্ষণের জন্য। মুচকি হাসে আরভিদ।
ম্যানেজার হেসে বলে,

— সাদা ফুল নিবেন? আমি বেছে দিচ্ছি একদম ফ্রেশ গুলো!
আরভিদ ফুল থেকে মনোযোগ সরিয়ে ম্যানেজারের দিকে তাকিয়ে রুক্ষ কন্ঠে বলে,
— প্রয়োজন নেই! আমি নিজেই নিচ্ছি!
— ওকে স্যার।
আরভিদ সাদা চম্পা ফুলের রেক থেকে বেছে বেছে একদম সতেজ ও সুন্দর ফুলগুলো নিতে থাকে।
ফারাবী দ্বিধা কন্ঠে বলে,
— কিন্তু স্যার, ম্যামের তো হলুদ চম্পা পছন্দ!
ফারাবীর কথা শেষ হতেই তাফসির ভ্রু কুঁচকে বলে,
— কিন্তু আপনি জানেন কিভাবে স্যার?
ফারাবী কথাটা শুনে আরভিদের দিকে তাকাতেই দেখে, আরভিদ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। ফারাবী ভয় পেয়ে ক্যাবলা মার্কা হাসি দিয়ে তাফসিরের দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,

— স্যারের কাছ থেকেই শুনেছি বহুবার!
তাফসির বুঝতে পেরে বলে,
— ওহ!
ফারাবী আবার বলে,
— স্যার, ম্যামের তো হলুদ চম্পা…
আরভিদ সাদা চম্পা ফুলটার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে,
— কিন্তু সাদা চম্পা গুলো আমার মেহুর কালো কুচকুচে চুলের বেণীতে বেশি মানাবে!
বলেই আরভিদ ১০টা সাদা চম্পা ফুল তুলে ম্যানেজারের হাতে রাখা ঝুড়িটাতে রেখে দেয়। তারপর ম্যানেজারকে বলে,

— দ্রুত প্যাক করে দাও!
ম্যানেজার মাথা নেড়ে বলে,
— জ্বি স্যার, অবশ্যই।
ম্যানেজার দ্রুত ফুলগুলো বক্সে রেখে প্যাক করে দেয়। তারপর ফারাবী আরভিদের কার্ড দিয়ে বিল পে করে দেয়। বিল পে করার পর, তারা দোকান থেকে বের হয়। তারা গাড়ির দিকে যাচ্ছিল, হঠাৎ একটা ছোট মেয়ে আরভিদের কাছে এসে বলে,
— স্যার, আমার কাছে…
কিন্তু মেয়েটি আর কিছু বলতে পারে না। তাফসির আর ফারাবী মিলে মেয়েটিকে হাতে সরিয়ে দেয়।
ফারাবী বলে,

— এই, সর এখান থেকে।
আরভিদ কিছুই বলে না, তাকায়ও না সেদিকে। এসব তার কাছে কখনো গুরুত্বপূর্ণ না। তাফসির দ্রুত গাড়ির দরজা খুলে দেয় আরভিদকে। আরভিদ গাড়িতে ওঠতে যাবে তখনি মেয়েটি আবার বলে,
— স্যার, আলতা আছে। বউয়ের জন্য একটা আলতা নেন।
আরভিদ থেমে যায়। ফারাবী রেগে মেয়েটিকে মারার জন্য হাত তুলে বলে,
— এই তোকে সরতে বলিনি?
কিন্তু ফারাবী মেয়েটিকে মারতে পারে না তার আগেই আরভিদ হাত তুলে থামিয়ে দেয়। ফারাবী চুপ হয়ে যায় এবং হাত নামিয়ে নেয়। আরভিদ এবার মেয়েটির দিকে তাকায়। মেয়েটির বয়স আনুমানিক সাত বা আট বছর হবে। গায়ের রঙ শ্যামলা, হাতে একটা ঝুড়ি। পড়নে ময়লা পোশাক।
আরভিদ মেয়েটিকে প্রশ্ন করে,

— এগুলো আলতা?
মেয়েটি খুশি হয়ে বলে,
— হ্যাঁ স্যার! খুব ভালো আলতা! মেডামের জন্য নিতে পারেন।
আরভিদ ঝুড়িতে থাকা আলতা গুলোর দিকে তাকিয়ে বলে,
— দাও একটা।
মেয়েটি দ্রুত ঝুড়ি থেকে একটা আলতার বোতল বের করে আরভিদকে দেয়। আরভিদ আলতাটা হাতে নিয়ে ভালোভাবে দেখে নিয়ে বলে,
— এটা ভালো হবে তো? একটু পানি লাগলেই উঠে যাবে না তো?
— না না, স্যার। মেলাক্ষণ পর্যন্ত থাকবে! সাবান দিয়ে ঘষা না দিলে ওঠবে না।
আরভিদ এবার মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলে,
— ব্রাশ নেই? আলতাটা লাগানোর জন্য?
— আছে, স্যার। এই নেন।

বলেই ঝুড়ি থেকে একটি ব্রাশ দেয়। আরভিদ ব্রাশটা ঘুরিয়ে দেখে ঠিক আছে কিনা ব্রাশটা। না ব্রাশটা ঠিক আছে। আরভিদ এবার মেয়েটাকে বলে,
— নাম কি তোমার?
মেয়েটি হেসে বলে,
— স্যার, ঝর্ণা।
— কোথায় থাকো?
— আমাগো মতো গরিব মানুষ আর কই থাকতে পারে, স্যার? এই রাস্তা থেকেই থাকি।
— পড়ালেখা করো?
— যেখানে একবেলা খাইলে দুই বেলা খাওয়ার টাকা হয় না, সেখানে পড়ালেখা কেমনে করব?
আরভিদ কিছুক্ষণ মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকে। তাফসির আর ফারাবী অবাক হয়ে গেছে। যেখানে রাজনীতিবিদরা, বড় বড় মানুষদেরও ইগনোর করে আরভিদ, সেখানে এই রাস্তার একটা ছোট মেয়ে সম্পর্কে এত কিছু জানতে চাচ্ছে আরভিদ?
ফারাবীর এসব ভাবনার মাঝেই আরভিদ আবার বলে,

— আজ থেকে তোমাকে আর এইভাবে রাস্তা দিয়ে ঘুরে ঘুরে আলতা বিক্রি করতে হবে না। তোমাকে একটা দোকান দেব। সেখানে বসে আলতা আর অন্য মেয়েদের জিনিস বিক্রি করবে। আর হ্যাঁ, পড়ালেখাও করবে।
ঝর্ণা একটু অবাক হয়ে বলে,
— মিছা কথা বলতাছেন, স্যার?
আরভিদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
— না, মিথ্যে কিছু বলছি না।
তারপর তাফসিরের দিকে তাকিয়ে বলে,
— যা বলেছি, তাই করবে। মেয়েটাকে একটা দোকান দিয়ে দিবে। সাথে দোকানের সব জিনিস। সাথে একটা স্কুলে ভর্তি করাবে।
মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলে,

— যা যা লাগে কিনে নিবে। আর ভবিষ্যতে যদি কখনো কিছু লাগে, তাসরিফকে বলবে।
বলেই আরভিদ গাড়িতে ওঠে বসে। ফারাবী গাড়ির দরজাটা বন্ধ করতে নিবে তখনি মেয়েটি আবার আরভিদের কাছে এসে বলে,
— স্যার, আল্লাহ আপনের ভালো করুক! এই দোয়া আমি মন থেকে খুশি হয়ে করছি!
আরভিদ মৃদু হেসে বলে,
— দোয়া দিচ্ছো? তাহলে আমাকে না দিয়ে
বলেই পকেট থেকে ফোন বের করে ওয়ালপেপারে জ্বলজ্বল করা মেহজার ছবি ঝর্ণা মেয়েটিকে দেখিয়ে নরম কন্ঠে বলে,

— এই মেয়েটাকে দাও! আমার সব দোয়া ওকে দিয়ে দাও!
ঝর্ণা মেয়েটি মোবাইল স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করা মেহজার ছবি দেখে জিজ্ঞেস করে,
— স্যার, মেয়েটা কে?
আরভিদ মেহজার ছবির দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে বলে,
— আমার বউ। মিষ্টি না দেখতে?
মেয়েটি হেসে বলে,
— অনেক মিষ্টি দেখতে! দোয়া করি, স্যার আপনার বউ যেন সবসময় আপনার কাছেই থাকে! এর থেকে বড় দোয়া আর কী হতে পারে!
আরভিদ মুচকি হেসে বিরবির করে বলে,

— আমিন! আমিন! আমিন!
— স্যার, এখন আমি যাই।
আরভিদ হঠাৎ এমন এক অপ্রত্যাশিত কাজ করে বসে, যা অহংকারী স্বভাবের মানুষ হিসেবে তার সঙ্গে একেবারেই মানানসই না। সে মেয়েটির মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দেয় এবং শান্ত গলায় বলে,
— যাও।
ফারাবী যেন আকাশ থেকে পড়ে এটা দেখে। আজকে বেচারা অবাকের ওপর অবাক হচ্ছে। মেয়েটি চলে যায়। ফারাবী দরজা বন্ধ করে সামনের সিটে বসে। তাফসিরকে মেয়েটার সাথে পাঠানো হয়েছে। গাড়ি চলতে শুরু করে। ফারাবী সামনের লুকিং গ্লাসে আরভিদের দিকে তাকিয়ে আছে, মনের মধ্যে একটাই প্রশ্ন— যেখানে বড় বড় এমপি, মন্ত্রীদেরও আরভিদ ইগনোর করে, সেখানে আরভিদ কেন একটা ছোট রাস্তায় বেড়ে ওঠা মেয়ের জন্য এত কিছু করছে? তারপর এমন একটা মেয়ের মাথায় হাত রেখেছে? ৪ বছর ধরে আরভিদের সাথে আছে সে অথচ আগে কখনো এমন কিছু দেখেনি।
ফারাবী আর চেপে রাখতে পারছে না মনের মধ্যে থাকা প্রশ্নটা। কিছুটা ভয়ে নিয়ে বলে,

— স্যার, একটা প্রশ্ন আসছে।
আরভিদ ফোনের দিকে তাকিয়ে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলে,
— গিলে ফেলো!
ফারাবী অসহায় মুখ করে বলে,
— স্যার গিলতে পারছি না! জিজ্ঞেস করে ফেলি?
আরভিদ চোখ তুলে তাকায় ফারাবীর দিকে। ফারাবী মনের মধ্যে কিছুটা সাহস জুগিয়ে বলে,
— স্যার, এত বছর ধরে আপনার সাথে আছি। যেখানে বড় বড় নেতা-মন্ত্রীদের ডাকে আপনি ইগনোর করেন, সেখানে একটা ছোট ফেরিওয়ালা মেয়ের ডাকে কেন থেমে গেলেন?
আরভিদ শান্তভাবে বলে,
— থেমে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম।
— বুঝলাম না!
আরভিদের মুখের ভাব বদলে যায়। এতক্ষণ যে চোখ দুটো কঠিন হয়ে ছিল, মুহূর্তের মধ্যেই তা নরম হয়ে আসে।
আরভিদ কোমল কন্ঠে বলে,

— যখন মেয়েটি বলছিলো বউয়ের জন্য নেন, তখন আমি আর নড়তে পারিনি। নিজে থেকেই থেমে গেছি। বউ শব্দটা শুনলেই আমি দুর্বল হয়ে যাই। কারণ বউ শব্দটা আমার মেহু! আমি সবকিছু ইগনোর করতে পারি, কিন্তু বউ শব্দটা আমি পারি না, কখনো পারব না!
ফারাবী অবাক হয়ে যায়। যেই লোকটা কিছুক্ষণ আগেও নৃশংসভাবে কাউকে মারল, সে কিনা এখন এত নরম? একটা ফেরিওয়ালা মেয়ের জন্য এত কিছু করেছে? শুধুমাত্র বউ শব্দটার জন্য? ফারাবী এতোটাই অবাক হয়ে গেছিলো যে, কোনো কিছু না ভেবেই জিজ্ঞেস করে ফেলে,

— যদি ম্যাম, আপনার সত্যিটা জেনে ফেলে? তখন কি হবে, স্যার?
বলতে না বলতেই আরভিদ ফারাবীর দিকে বন্দুক তাক করে। ভয়ে ফারাবীর শ্বাস আটকে আসে।
আরভিদ কঠোর চোখে দৃঢ় ও শীতল কণ্ঠে বলে,
— তোমার ম্যামকে বলবে কে? তুমি বলবে নাকি?
ফারাবী দ্রুত মাথা নেড়ে বলে,
— না, না স্যার! আমি কেন বলব? আমি জীবনেও বলব না! আমার জানের মায়া আছে! আমি তো শুধু জিজ্ঞেস করছিলাম!
আরভিদ কিছুটা শিথিল হয়ে, বন্ধুকটা নামিয়ে বলে,

— তোমার যেমন জানের মায়া আছে, তেমনি সবার আছে। তারপরও যদি কারো জানের মায়া না থাকে, এবং যদি কেউ মেহুকে সত্যি কথা বলার জন্য যায়, তখন বন্ধুক কাজ করবে।
ফারাবী দম ফেলে। এতোক্ষণ ভয়ে তার প্রাণটাই বের হয়ে যাচ্ছিলো। আরভিদের কোনো বিশ্বাস নেই! সে সত্যি সত্যিই মেরে ফেলতে পারে, যদি ব্যাপারটা তার বউ জনিত হয়।
আরভিদ ড্রাইভারকে বলে গাড়ি থামাতে। ড্রাইভার গাড়ি থামায়। তারপর আরভিদ ফারাবীর দিকে তাকিয়ে বলে,
— যাও, ওই দোকান থেকে চিকেন মোগলাই নিয়ে আসো। আর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার কাছ থেকে দুইটা কটন ক্যান্ডি নাও।
ফারাবী মাথা নেড়ে বলে,

— ঠিক আছে, স্যার। নিয়ে আসছি।
বলেই ফারাবী গাড়ি থেকে নেমে যায়। পাঁচ মিনিট পর, ফারাবী হাতে মোগলাই আর কটন ক্যান্ডি নিয়ে ফিরে আসে। পেছনের দরজা খুলে প্যাকেট আর ক্যান্ডিগুলো আরভিদকে দেয়। তারপর সামনের সিটে গিয়ে বসে। গাড়ি আবার চলতে শুরু করে। প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট পর, গাড়ি এসে থামে কারদার ম্যানরের সামনে। ফারাবী দরজা খুলে দাড়ায় আরভিদকে নামার জন্য। আরভিদ গাড়ি থেকে নামতেই ফারাবী মোগলাইয়ের প্যাকেট, ফুলের বাক্স এবং কটন ক্যান্ডিগুলো গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয়।

আরভিদ হাঁটতে শুরু করে। ফারাবী পেছনে পেছনে যেতে থাকে। তারা মেইন ডোরে এসে পৌঁছাতেই ফারাবীর ফোন বেজে ওঠে। সে ফোন বের করে কানে নেয়। ওপাশ থেকে কিছু শুনে, অস্থির কণ্ঠে বলে,
— কোন হসপিটালে? আচ্ছা, আমি আসছি।
ততক্ষণে, আরভিদ সিঁড়ির কাছে চলে গেছে। ফারাবী দ্রুত কলটা কেটে আরভিদকে ডাক দেয়,
— স্যার?
আরভিদ পেছন ঘুরে তাকিয়ে বলে,
— কি হলো?
ফারাবী দ্রুত কাছে চলে এসে বলে,
— স্যার, আমার মা হাসপাতালে! আমি যাই স্যার?
— আচ্ছা, যাও।
ফারাবী তার হাতে থাকা জিনিসগুলো দেখে বলে,
— স্যার, এগুলো আমি মেইডের কাছে দিয়ে দিচ্ছি।
আরভিদ বলে,
— প্রয়োজন নেই! আমার কাছেই দাও।
ফারাবী সব জিনিস আরভিদের হাতে দিয়ে বলে,
— ধন্যবাদ স্যার। আমি যাচ্ছি।
আরভিদ মাথা ঝাঁকিয়ে বলে,
— হুম।

ফারাবী দ্রুত পায়ে চলে যায়। আরভিদ জিনিসপত্র হাতে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমের সামনে এসে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ে। রুমে ঢুকেই দেখে, মেহজা বেডের ওপর বসে আছে। দুহাত উপরে তুলে ফ্যানের বাতাস নিচ্ছে। তার দুই হাত ভরা মেহেদী। দরজা খোলার শব্দে মেহজা তাকায়। আরভিদকে দেখেই মেহজার চোখ জ্বলে ওঠে। বেডে বসা অবস্থাতেই সামান্য সোজা হয়ে নিজের দুহাত তুলে ধরে হেসে বলে,
— দেখুন, আমি হাতে মেহেদী দিয়েছি।
আরভিদ বেডের কাছে গিয়ে হাতে থাকা প্যাকেটগুলো সাইড টেবিলে রাখে। তারপর মেহজার কাছে এসে তার হাত দুটো ভালো করে দেখে হেসে বলে,
— মাশাল্লাহ! আমার বউয়ের মেহেদীটা অনেক সুন্দর হয়েছে। কিন্তু মেহু, তুই তোর হাতে আমার নাম লেখাসনি?
মেহজা মৃদু হেসে বলে,

— আমি আপনার নাম হাতে লিখবো কেন? আমি তো আপনাকে আমার হাতের মুঠোয় রাখতে চাই না!
আরভিদের ঠোঁটের কোণে হাসি আরও গাঢ় হয়। সে মেহজার গাল দুটো টেনে আদর করে বলে,
— ওও! আমার লক্ষ্মী বউটা!
মেহজা এবার শয়তানি হেসে নিয়ে নিজের হাতটা সামনে বাড়িয়ে আঙুলগুলো স্পষ্ট দেখিয়ে বলে,
— আমি তো আপনার নাম আমার আঙুলে লিখেছি! কারণ আমি আপনাকে আমার আঙুলের ইশারায় নাচাবো!
আরভিদ বাঁকা হেসে উত্তর দেয়,
— আর আমি তোকে বেডে নাচাবো!
মেহজা ভেংচি মেরে মুখ ফিরিয়ে বলে,
— নষ্ট একটা!
আরভিদ হেসে ফেলে,
— তুই বস, আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
— আচ্ছা।

মেহজা বেডে বসে থাকে। আরভিদ পকেট থেকে আলতাটা খুলে সাইড টেবিলের ড্রয়ারে রেখে ওয়াশরুমে চলে যায়। প্রায় পাঁচ মিনিট পর আরভিদ ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে দেখে, মেহজা হাতের মেহেদী শুকানোর জন্য ফুঁ দিচ্ছে। আরভিদ টাওয়াল স্ট্যান্ড থেকে টাওয়াল নিয়ে হাত-মুখ মুছে আবার রেখে দেয়। তারপর এসে বেডে বসে পাশ থেকে হঠাৎই হাত বাড়িয়ে মেহজার কোমর ধরে টেনে নিজের কাছে আনে।
মেহজা চমকে ওঠে।
— আরে সাবধানে, সাবধানে! কি করছেন কি? মেহেদীটা নষ্ট হয়ে যাবে তো!
— নষ্ট হবে না।
মেহজা নিজের হাতে দেওয়া মেহেদীর দিকে তাকিয়ে আরভিদকে বলে,
— আচ্ছা, এখন আমাকে ক্যান্ডি খাইয়ে দেন!
— না, আগে তোর পছন্দের মোগলাই খাবি, তারপর ক্যান্ডি।
মেহজা চট করে আরভিদের দিকে তাকিয়ে বলে,
— ওই প্যাকেটে মোগলাই?
আরভিদ মাথা নেড়ে বলে,

— হুম।
মেহজা খুব খুশি হয়ে যায়। ভাজাপোড়া খাবার তার ভীষণ পছন্দ। আর খাবারের নাম শুনলেই তার ক্ষুধা আরও বেড়ে যায়।
মেহজা খুশিতে তাড়াহুড়ো করে বলে,
— তাহলে তাড়াতাড়ি দেন না খাইয়ে! খুব ক্ষুধা পেয়েছে! দুপুরে কিছুই খাইনি! তার ওপর খাবারের নাম শুনলেই আমার আরও বেশি ক্ষুধা লাগে!
আরভিদ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— দুপুরে খাসনি তুই?
মেহজা মাথা নেড়ে না বলে। আরভিদ আবার জিজ্ঞেস করে,
— কেন?
মেহজা বিরক্ত হয়ে বলে,
— কেন আবার কী? আপনি ছিলেন না! খাইয়ে দেবে কে? আর মেহেদী দেওয়া হাত নিয়ে তো আমি নিজেও খেতে পারবো না!

এই কথাটা যেন আরভিদের বুকের ভেতর কোথাও আঘাত করে। হাসিটা ঠোঁট থেকে ধীরে ধীরে সরে যায়। তার মাথার ভেতর একের পর এক প্রশ্ন ঘুরতে থাকে। সে না থাকলে, এই বাড়িতে এত মানুষ থাকা সত্ত্বেও কেউ তার বউটার খোঁজ নেবে না? সে না থাকলে, তার মেহুটা কি এভাবেই না খেয়ে থাকবে?
ভীষণ কষ্ট হয় আরভিদের। নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করে,
— কেউ খাওয়ার জন্য ডাকতে আসেনি?
— শাউড়ী আম্মু একজন মেইডকে পাঠিয়েছিল আমাকে খেতে ডাকতে। কিন্তু আমি মেহেদী দিচ্ছিলাম দেখে আর যাইনি।
আরভিদ আর এক মুহূর্ত দেরি করে না। কর্নার টেবিল থেকে মোগলাইয়ের প্যাকেটটা তুলে নেয়। তড়িঘড়ি করে খুলে একটা পিস মেহজার মুখের সামনে ধরে বলে,

— এখন আমি খাইয়ে দিচ্ছি। হা কর।
মেহজা মোগলাইয়ে কামড় দেয়। আরভিদ মায়াভরা চোখে তার দিকে তাকিয়ে মেহজার চুলে চুমু দিয়ে বলে,
— সরি।
মেহজা খাবার চিবোতে চিবোতে বলে,
— কেন?
আরভিদ বলে,
— এমনি! বলতে ইচ্ছে করলো।
মেহজা খেতে খেতে বলে,

— দিন, একটা প্যাকেট অর্তিকে দিয়ে আসি।
— না। অর্তি প্রেগন্যান্ট। তাকে বাইরের এসব ভাজাপোড়া খাবার দেওয়া ঠিক না। সমস্যা হতে পারে।
— তাহলে হাওয়ায় মিঠাইটা দেই?
— ওটাতে রং মেশানো থাকে। সেটাতেও সমস্যা হতে পারে।
— আচ্ছা। আপনি খেয়েছেন দুপুরে?
আরভিদ মাথা নেড়ে বলে
— না।
— তাহলে খাচ্ছেন না কেন?
আরভিদ আস্তে বলে,
— খাবো পরে। আগে তুই খেয়ে নে।
মেহজা বিরক্ত কন্ঠে বলে,

— উফ! স্বামী-স্ত্রী একসাথে খেলে ভালোবাসা বাড়ে। আমার সাথেই খান!
মন খারাপের মাঝেও আরভিদ হেসে ফেলে। সে মোগলাইয়ে কামড় দেয়। তারপর নিজেও খেতে থাকে আর মেহজাকেও খাইয়ে দিতে থাকে। খাওয়া শেষ হলে টিস্যু দিয়ে হাত মুছে নেয়। তারপর আরভিদ মেহজার দিকে তাকিয়ে বলে,
— তোর জন্য আরেকটা জিনিস এনেছি!
মেহজা আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কি?
আরভিদ টেবিল থেকে ফুলের বক্সটা নেয় এবং তা খুলে দেখায়। ভিতরে এক গুচ্ছ সাদা চম্পা ফুল।
মেহজা ফুলগুলো দেখে আনন্দে উচ্ছ্বাসিত হয়।
— ওয়াও! আপনি আমার জন্য ফুল এনেছেন?
আরভিদ হেসে বলে,
— হুম।
— এতো সুন্দর সাদা চম্পা ফুল!
তারপর আরভিদকে বলে,
— আমি ফুলের ঘ্রাণ নিবো।
আরভিদ হেসে বক্স থেকে দুই হাত দিয়ে অর্ধেক ফুল তুলে মেহজার মুখের সামনে ধরে। মেহজা মুখ এগিয়ে নিয়ে ফুলগুলো নাকের কাছে নিয়ে চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নেয়। ফুলের মিষ্টি, হালকা ঘ্রাণ তার মন ছুঁয়ে গেল। সে চোখ খুলে আরভিদের দিকে তাকিয়ে বলল,

— ফুলগুলো একদম তাজা!
— হুম, এখন ঘুরে বস।
মেহজা অবাক হয়ে বলে,
— কেন?
— ফুলগুলো তোর বেণীতে গেঁথে দেওয়ার জন্য এনেছি।
মেহজা হেসে ঘুরে বসে। আরভিদ ড্রেসিং টেবিল থেকে চিরুনি নিয়ে মেহজার চুল আঁচড়াতে লাগে।
আরভিদ চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে বলে,
— চুলগুলো এতো রুক্ষ রুক্ষ হয়ে আছে কেন?

মেহজা চিন্তায় পড়ে যায় আরভিদের প্রশ্নে। কারণ রাতে চুল স্ট্রেইট করার জন্য চুলগুলো একটু রুক্ষ হয়েছে। কিন্তু এখন যদি এটা আরভিদকে বলে তাহলে তো আরভিদ রেগে যেতে পারে। অবশ্য রেগে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আরভিদ অনেক সেনসেটিভ মেহজার চুল নিয়ে। অনেক যত্ন করে যে মেহজার চুলগুলো নষ্ট না হয়।
মেহজার চিন্তার মাঝেই আরভিদ আবার প্রশ্ন করে,
— কি হলো? বলছিস না কেন?
মেহজা একবার ভাবে মিথ্যা বলবে, কিন্তু শেষমেষ কিছুটা দ্বিধা নিয়ে বলে,

— বলবো, কিন্তু রাগ করবেন না তো?
আরভিদ মাথা আঁচড়াতে আঁচড়াতে বলে,
— না! এখন বল!
— কালকে রাতে আপনার জন্য সাজতে গিয়ে একটু চুল স্ট্রেইট করেছিলাম।
— ঠিক আছে, কালকে করেছিস কিন্তু আর কখনো করবি না! তোর চুল এমনই সুন্দর। হালকা ঢেউ খেলানো, না সোজা না কুঁকড়ানো। এভাবেই আমার ভালো লাগে।
— আচ্ছা।
আরভিদ তার চুলে বেণী বানাতে লাগে। বেণী বানানো শেষ হলে বেণীর ভাজে ভাজে ছোট কালো ক্লিপ দিয়ে ফুলগুলো গেঁথে দেয়। ফুল গাঁথা শেষ হলে আরভিদ বলে,

— হয়ে গেছে।
মেহজা ঘুরে আরভিদের মুখোমুখি বসে। আরভিদ মৃদু হেসে পেছন থেকে মেহজার বেণীটা এনে সামনের দিকে রাখে।
মেহজা চোখ সরু করে আরভিদের দিকে তাকিয়ে বলে,
— আপনি অনেক চালাক!
— সত্যি?
— হুম। এই যে আপনি আমার এতো যত্ন করছেন। এখন আমাকে খাওয়ানোর জন্য, মাথা আঁচড়ানোর জন্য আপনাকে দরকার। আমি আপনার ওপর পুরো নির্ভর হয়ে গেছি। আপনি ইচ্ছে করেই এমন করেছেন যাতে আমি আপনাকে ছাড়া না চলতে পারি। তাই না?

— হুম। ভালো করেছি না? ভালোবাসা ফুরিয়ে গেলেও, অন্তত জীবনে চলার জন্য আমার সাথে থাকতে হবে তোর!
— আপনি আপনার প্ল্যানে সাকসেস হয়ে গেছেন জনাব!
বলেই মেহজা হাঁটুতে ভর দিয়ে ওঠে আরভিদের কপালে আলতো করে চুমু খায়। তারপর মিষ্টি হেসে বলে,
— আমার এই যত্নশীল আরভিদকে ছাড়া আমার জীবন চলবে না।
চুমু দিয়ে আবার বসে পড়ে মেহজা। আরভিদ বলে,

— বাই দা ওয়ে, আমার ফুলের চুলে চম্পা ফুলটা ভীষণ ভালো লাগছে।
— আমি ফুল?
আরভিদ মৃদু হেসে বলে,
— আমার ফুল। আমার মেহুফুল।
বলেই আরভিদ নিজের দুই হাত মেহজার দুই গালে রেখে আরভিদ কোমল চোখে মেহজার দিকে তাকিয়ে গেয়ে ওঠে,

তোমারে ফুটাইতে গো আমার চোখের নিচে কালি,
তোমারে ফুটাইতে গো আমার চোখের নিচে কালি,
তুমি যেই বাগানের ফুল, আমি সেই বাগানের মালি।
তুমি যেই বাগানের ফুল, আমি সেই বাগানের মালি।
গান শেষ করে আরভিদ মেহজার কপালে আলতো করে চুমু খায়। তারপর মায়াভরা চোখে তাকিয়ে বলে,
— তোকে আমি অনেক ভালোবাসি, বউ। তোকে ছাড়া আমি এক মুহূর্তও থাকতে পারব না। তুই আমার দুর্বলতা, বউ।
মেহজা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে,
— তাহলে আপনার শক্তি কে?
আরভিদ মেহজার গাল ছেড়ে নিজের বুকের পাশে হাত চেপে ধরে চোখ-মুখ কুঁচকে বিরবির করে বলে,
— বাবারেহ! কী পয়েন্টে পয়েন্টে কথা বলিস! আমার জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা ধরে গেল!
মেহজা সন্দেহভরা চোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। আরভিদ বুক থেকে হাত নামিয়ে মেহজার দিকে তাকিয়ে হেসে বলে,

মোহশৃঙ্খল পর্ব ২৩

— আমার শক্তি, আমার দুর্বলতা সবকিছুই তুই। তোর জন্য আমি সবকিছু করতে পারি।
মেহজা চোখ বড় করে বলে,
— সত্যি?
আরভিদ মাথা নেড়ে বলে,
— হ্যাঁ, একদম সত্যি।
— তাহলে একটা ডিম পেড়ে, সেটা থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে দেখান!
আরভিদ থমথমে দৃষ্টিতে মেহজার দিকে তাকিয়ে থাকে। সে কিছুতেই বুঝতে পারে না, এই মেয়েটা এত বাঁদরামি কিভাবে করে! আর বাঁদরামি গুলো তাদের রোমান্টিক মোমেন্টেই কেন ব্লাস্ট করতে হবে? যেই সে একটু রোমান্টিক হয়, একটু প্রেম করতে চায় তখনি শুরু হয় এই বাঁদর মেয়ের বাঁদরামী!

মোহশৃঙ্খল পর্ব ২৩ (২)

1 COMMENT

  1. পরের পাঠ গুলো কবে দিবেন আপনারা, তাড়াতাড়ি দিন, না হলে আই এম তো শেষ।

Comments are closed.