রইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ১৬
ইয়ুশরা রিমু
কলেজের প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই বেলার মনে হলো, আজ যেন পুরো ক্যাম্পাসের চারপাশ অন্যরকম। সকালের পরিচিত কোলাহল, করিডোরজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের হাঁটাহাঁটি, কারও হাতে বই, কোথাও বন্ধুবান্ধবের হাসাহাসি সবকিছু আগের মতোই আছে, অথচ আজ যেন প্রতিটা চোখের দৃষ্টি এসে এক জায়গাতেই আটকে যাচ্ছে। আর সেই জায়গাটা হলো সে নিজে।
বেলা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছিলো। ব্যাগের স্ট্র্যাপটা কাঁধে একটু শক্ত করে টেনে নিয়ে দ্রুত পা ফেলতে লাগলো। মাথাটা সামান্য নিচু, মুখে আগের সেই গম্ভীর ভাব। যেন কিছুই ঘটেনি। যেন কয়েক মুহূর্ত আগেই কলেজের সবচেয়ে জনপ্রিয়, সবচেয়ে গম্ভীর আর সবচেয়ে আলোচিত প্রফেসরের বাইক থেকে নেমে আসা মেয়েটা সে নয়।কিন্তু মানুষের চোখকে তো আর থামিয়ে রাখা যায় না।করিডোরের একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন প্রথম বর্ষের ছাত্রী নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে কী যেন বললো। তাদের একজন অবিশ্বাসে চোখ বড় বড় করে আবার বেলার দিকে তাকালো। অন্যজন ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি টেনে বললো,
—-আমি তো ভেবেছিলাম ভুল দেখেছি।
আরেকজন সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলো,
—ভুল না। আমিও দেখেছি। সত্যিই সায়র স্যারের বাইক থেকেই নামলো।
ওদের কথাগুলো খুব নিচু স্বরে বলা হলেও শব্দগুলো স্পষ্টভাবেই কানে এলো বেলার। কিন্তু সে এমন ভাব করলো যেন কিছুই শোনেনি। মুখের অভিব্যক্তিটুকুও বদলালো না।
ঠিক তখনই পেছন থেকে ভেসে এলো খুব পরিচিত, চঞ্চল একটা কণ্ঠস্বর,
—এই বেলা! দাঁড়া!
বেলা ঘুরে তাকাতেই দেখলো, ইরা প্রায় দৌড়াতে দৌড়াতে তার দিকে আসছে। মুখভর্তি বিস্ময়, কৌতূহল আর দুষ্টু হাসি।কাছে এসেই সে একবার চারপাশে তাকালো, তারপর আর নিজেকে সামলাতে না পেরে বেলার হাত চেপে ধরে ফিসফিস করে বললো,
—আমি কি ঠিক দেখেছি, নাকি আজকে আমার চোখে সমস্যা হয়েছে?
বেলা ভান করলো কিছুই বুঝতে পারেনি।
—কী দেখেছিস?
ইরা নাটকীয় ভঙ্গিতে দুই হাত কোমরে রেখে বললো,
—ওহ! এখন আবার কিছুই জানিস না! পুরো কলেজ যেটা দেখেছে শুধু আমি না।
বেলা বিরক্ত হয়ে বললো,
—ইরা, সকাল সকাল নাটক করিস না।
—নাটক আমি করছি? নাটক তো তুই করে ফেলেছিস। কলেজের হ্যান্ডসাম প্রফেসরের বাইকে করে এন্ট্রি! তোর সাহস তো কম না!
বেলা চারপাশে একবার তাকিয়ে নিচু গলায় বললো,
—আস্তে কথা বল।
—কেন? সত্যি কথা বলছি।
—চাচ্চু জোর করে পাঠিয়েছে। লেট হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে এত বড় ব্যাপার বানানোর কী আছে?
ইরা ঠোঁট কামড়ে হাসি চাপার চেষ্টা করলো। তারপর আরও কাছে ঝুঁকে বললো,
—তোর কাছে হয়তো কিছু না। কিন্তু এই কলেজে যারা পড়ে, তাদের কাছে এটা আজকের সবচেয়ে বড় খবর।
বেলা চোখ রাঙিয়ে তাকালো।
—চুপ করবি?
—না।
—ইরা…
—আচ্ছা আচ্ছা, চুপ করলাম। কিন্তু একটা কথা বল।
—কী?
—বাইক থেকে নামার সময় এত গম্ভীর মুখ কেন ছিলো? একটু হাসলে ছবিটা সিনারিটা আরো সুন্দর হতো।
বেলা এবার সত্যিই বিরক্ত হয়ে ইরার হাতে হালকা একটা চিমটি কে’টে দিলো,
—আর একটা কথা বলবি, তাহলে তোকে এখানেই রেখে চলে যাব।
ইরা ব্যথা পাওয়ার ভান করে বললো,
–আহা! মানুষ সত্যি কথাও বলতে পারবে না!
বেলা এবারও কোনো উত্তর দিলো না। শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে সামনে হাঁটতে লাগলো।
ওরা দু’জন যত ভেতরের দিকে এগোচ্ছিল, ততই যেন চারপাশের চাপা গুঞ্জন বাড়ছিলো। কেউ সরাসরি কিছু বলছে না, কিন্তু কৌতূহলী চোখগুলো যেন প্রতিটা মুহূর্তে তাদের অনুসরণ করছে।এই পুরো দৃশ্যটাই করিডোরের অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিল তানিয়া।
তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুই বান্ধবীও ইতোমধ্যে ঘটনাটা নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে।একজন নিচু গলায় বললো,
–তুই তো বলতিস, সায়র স্যার কোনো মেয়ের সঙ্গে দরকারের বাইরে কথাই বলে না।
অন্যজন যোগ করলো,
–তাহলে আজকে
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই তানিয়া এমন দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালো যে মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চুপ করে গেলো।তানিয়ার মুখে কোনো হাসি নেই। চোখেমুখে শুধু জমাট বাঁধা বিরক্তি আর হিংসা।সে দূর থেকে বেলার দিকে তাকিয়ে রইলো। তার বুকের ভেতরটা যেন রাগে ধীরে ধীরে জ্ব’লে উঠছে।কীভাবে সম্ভব?যে মেয়েটাকে সে এতদিন সবার সামনে অপমান করেছে, যার দিকে আঙুল তুলে হাসাহাসি করেছে, সেই মেয়েটাই আজ পুরো কলেজের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু!
আর সবচেয়ে বড় কথা,
যে মানুষটার দিকে এই কলেজের অসংখ্য মেয়ে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে, যার সঙ্গে দু’মিনিট কথা বলার জন্যও কত অজুহাত খোঁজে, সেই মানুষটার বাইকে বসে আজ কলেজে এসেছে বেলা!ভাবতেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো।
সে ধীরে ধীরে ঠোঁট চেপে ধরে মনে মনে বললো,
—এটা যদি শুধু কাকতালীয়ও হয়, তবুও আমি এটাকে ওর জন্য সহজ হতে দেব না।
তার চোখে তখন এমন এক ঝিলিক ফুটে উঠেছে, যেটা ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেয় না।দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বেলা অবশ্য এসবের কিছুই জানে না।সে শুধু চায় যত দ্রুত সম্ভব নিজের ক্লাসে গিয়ে বসতে, যাতে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে একটু মুক্তি পাওয়া যায়।
ক্লাসরুমে ঢুকতেই বেলা যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। বাইরে করিডোরে যে অস্বস্তিটা তাকে ঘিরে ধরেছিলো, ভেবেছিলো ভেতরে ঢুকলেই হয়তো সেটা কে’টে যাবে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সে বুঝে গেল, তার ধারণাটা পুরোপুরি ভুল।আজ যেন পুরো ক্লাসটাই অন্যরকম।যে বেঞ্চগুলোতে প্রতিদিন গল্প, হাসাহাসি আর খুনসুটির শব্দে সরগরম থাকে, আজ সেখানেও চাপা গুঞ্জন। কেউ বই খুলে বসে আছে ঠিকই, কিন্তু চোখ বইয়ের পাতায় নেই। আড়চোখে বারবার তাকাচ্ছে বেলার দিকে। কেউ আবার পাশের বন্ধুর কানে কানে কী যেন বলেই দু’জনে একসঙ্গে তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে ফেলছে।
বেলা ধীরে ধীরে নিজের সিটে গিয়ে বসলো। ব্যাগটা বেঞ্চের ওপর রেখে একবার দীর্ঘশ্বাস ফেললো। তারপর বই বের করে এমনভাবে খুলে রাখলো, যেন সে আশপাশের কোনো কিছুই খেয়াল করছে না।কিন্তু মানুষের দৃষ্টি কি আর অনুভব না করে থাকা যায়?বারবার মনে হচ্ছিল, পুরো ক্লাস যেন আজ তাকে নিয়েই ব্যস্ত।ইরা তার পাশেই বসেছিলো। এতক্ষণ অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে রেখেছিল সে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পারলো না।বইয়ের আড়াল থেকে মুখটা একটু এগিয়ে এনে নিচু গলায় বললো,
—শোন…
বেলা বইয়ের দিকেই তাকিয়ে রইলো।
—কী?
—রাগ করিস না, একটা কথা জিজ্ঞেস করবো?
–না।
—আরে আগে শুন তো।
—শুনবো না।
—ইরা ঠোঁট চেপে হাসলো।
—সত্যি করে বল, সায়র স্যারের বাইকে বসে আসতে কেমন লাগছিলো?
বেলা সঙ্গে সঙ্গে বই বন্ধ করে তার দিকে তাকালো।
—তোর কি অন্য কোনো কাজ নেই?
—আছে। কিন্তু এটা জানাটাও খুব জরুরি।
—কেন?
—কারণ পুরো কলেজের মেয়েরা আজ হিং’সায় ম’রছে।
বেলা বিরক্ত হয়ে বললো,
—তুইও কি তাদের দলে?
ইরা হেসে মাথা নাড়লো।
—না। আমি শুধু ঘটনাটা উপভোগ করছি।
বেলা চোখ ঘুরিয়ে আবার বই খুলে ফেললো।
—চুপ করে বস।
—আচ্ছা, শেষ একটা প্রশ্ন।
—না।
—সায়র স্যার কি পুরো রাস্তা একটাও কথা বলেননি?
বেলা এবার উত্তর না দিয়ে শুধু একটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছুঁড়ে দিলো।সেই দৃষ্টি দেখেই ইরা দুই হাত তুলে আত্মসমর্পণের ভঙ্গি করলো,
—ঠিক আছে, বুঝেছি। আজকে তোর মুড ভালো না।
ওদের কথোপকথন শেষ হওয়ার আগেই ক্লাসরুমের দরজার বাইরে একটা পরিচিত ছায়া এসে থামলো।মুহূর্তের মধ্যে পুরো ক্লাস নিস্তব্ধ হয়ে গেল।যে যার জায়গায় সোজা হয়ে বসে পড়লো।পরের মুহূর্তেই দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন শাইবান খান সায়র।আজ সায়রের ক্লাস প্রথমে বেলাদের বিভাগের। সে আগের মতোই নিখুঁত পরিপাটি পোশাক। কালো শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো। বাম হাতে কয়েকটা বই, ডান হাতে উপস্থিতির খাতা।তার মুখে সেই চিরচেনা গম্ভীরতা। চোখেমুখে কোনো বাড়তি অভিব্যক্তি নেই।মনে হচ্ছে, বাইরের সেইসব ফিসফাস, কৌতূহল কিংবা গুঞ্জনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কই নেই।
তিনি ধীর পায়ে টেবিলের কাছে গিয়ে বইগুলো রাখলেন।
তারপর পুরো ক্লাসের ওপর একবার শান্ত দৃষ্টি বুলিয়ে বললেন,
— গুড মর্নিং
সবাই একসঙ্গে উত্তর দিল,
— গুড মর্নিং স্যার।
সায়র উপস্থিতির খাতা খুলে নাম ডাকা শুরু করলেন প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক, নিয়মমাফিক।কিন্তু আজ ছাত্রছাত্রীদের মন যে পড়াশোনায় নেই, সেটা বুঝতে তার বেশি সময় লাগলো না।নাম ডাকার মাঝেই তিনি লক্ষ্য করলেন, শেষ বেঞ্চে বসে থাকা দু’জন ছেলে নিজেদের মধ্যে চাপা গলায় কথা বলছে। সামনের সারির দুই মেয়ে আবার ঘুরে ঘুরে বেলার দিকে তাকাচ্ছে।তিনি ধীরে ধীরে খাতাটা বন্ধ করলেন।পুরো ক্লাস এক মুহূর্তে চুপ হয়ে গেলো।গভীর, স্থির দৃষ্টিতে সবাইকে দেখে তিনি শান্ত গলায় বললেন,
—আজকে কি ক্লাসে পড়াশোনা হবে, সবাই এতো ফিসফিস করছেন কেনো? এনি প্রবলেম?
কেউ উত্তর দিল না।সবাই মাথা নিচু করে বসে রইলো।ঠিক তখনই তানিয়া ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো।তার ঠোঁটের কোণে চাপা একটা হাসি।সে ভদ্র গলায় বললো,
—স্যার একটা কথা ছিলো।
সায়র তার দিকে তাকালেন।
—বলেন!
তানিয়া মুখে ভদ্রতার আবরণ রেখেই বললো,
—আজকে কলেজে একটা ইন্টারেস্টিং ঘটনা ঘটেছে।
কথাটা শেষ করতে পারলো না।সায়র তাকে থামিয়ে শান্ত স্বরেই জিজ্ঞেস করলেন,
—ইন্টারেস্টিং ঘটনাটা কি আজকের লেকচারের অংশ? তাহলে বলতে পারেন।
তানিয়া একটু থেমে গেল।
—না মানে…
—তাহলে সেটা ক্লাসের সময় আলোচনা করারও কোনো কারণ নেই।
এক মুহূর্তে পুরো ক্লাস আবার নিশ্চুপ হয়ে গেল।কিন্তু তানিয়া এত সহজে ছাড়ার মেয়ে নয়।সে আবার বললো,
—আসলে সবাই তো
সায়রের কণ্ঠ এবারও উঁচু হলো না। বরং আগের চেয়েও শান্ত হয়ে গেল,
—মিস তানিয়া, অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অযথা কৌতূহল দেখানোর বদলে যদি নিজের পড়াশোনায় একই রকম আগ্রহ দেখাতেন, তাহলে সেটা আপনার জন্য বেশি উপকারী হতো।
কথাটা শুনে পুরো ক্লাসে এমন নীরবতা নেমে এলো, তানিয়ার মুখের হাসিটা মুহূর্তের মধ্যেই মিলিয়ে গেলো।সে ধীরে ধীরে নিজের জায়গায় বসে পড়লো।
আর বেলা সে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো সায়রের দিকে। মাত্র কয়েকটা শান্ত, সংযত কথাতেই পুরো ক্লাসের আলোচনার ইতি টেনে দিলো।বেলা অজান্তেই খুব ধীরে চোখ নামিয়ে ফেললো।তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন অদ্ভুতভাবে হালকা লাগতে শুরু করেছে।
আর সায়র?তিনি যেন কিছুই ঘটেনি এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই আবার বই খুলে বললেন,
—পৃষ্ঠা চুয়াল্লিশ বের করো। আজ আমরা নতুন অধ্যায় শুরু করবো।
ক্লাসের সবাই বই খুলে ফেললেও তানিয়ার চোখ তখনও স্থির হয়ে আছে বেলার ওপর।সেই দৃষ্টিতে স্পষ্ট লেখা—
—আজ তুই বেঁচে গেলি।কিন্তু খেলা এখনও শেষ হয়নি। তোকে কলেজের সবার সামনে কিভাবে লা”ঞ্চিত করতে হয় সেই প্লান ও আমি করে রেখেছি
ক্লাসরুমে আবারও পড়াশোনার পরিবেশ ফিরে এলো। সায়রের গম্ভীর, স্থির কণ্ঠ পুরো রুমজুড়ে ছড়িয়ে পড়লো। বোর্ডে একের পর এক পয়েন্ট লিখে তিনি বুঝিয়ে যাচ্ছেন, মাঝেমধ্যে ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন করছেন, আবার কারও উত্তর ভুল হলে ধৈর্য নিয়ে সেটাও ঠিক করে দিচ্ছেন।সবকিছুই একেবারে স্বাভাবিক।অন্তত বাইরে থেকে তাই মনে হচ্ছে।
কিন্তু বেলার কাছে কিছুই স্বাভাবিক লাগছে না।সে বই খুলে রেখেছে ঠিকই, কলমও হাতে আছে, কিন্তু মনটা যেন কোথাও আটকে আছে। বারবার মনে পড়ছে কয়েক মিনিট আগের ঘটনাটা। তানিয়া যখন ইচ্ছা করেই বিষয়টা টেনে আনতে চেয়েছিলো, তখন সায়র খুব সহজ, খুব স্বাভাবিক কয়েকটা কথায় পুরো বিষয়টার ইতি টেনে দিলেন। একবারও তাকে অস্বস্তিতে পড়তে দিলেন না।বেলা নিজের অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস ফেললো।ঠিক তখনই সায়রের কণ্ঠ ভেসে এলো,
—বেলা।
চমকে উঠলো সে।এতক্ষণ যে মনোযোগই ছিল না, সেটা মুহূর্তেই ধরা পড়ে গেল।সে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ালো।
–জজি, স্যার?
সায়র হাতে ধরা মার্কারটা টেবিলে রেখে শান্ত গলায় বললেন,
—আমি গত পাঁচ মিনিট ধরে কী বুঝিয়েছি, সেটা আপনি বলবেন।
পুরো ক্লাসের চোখ আবার বেলার দিকে ঘুরে গেলো।ইরা নিচু হয়ে ফিসফিস করে বললো,
—শেষ! আজকেও তুই ধরা খেয়ে গেছিস।
বেলার গলা শুকিয়ে এলো।সে বইয়ের পাতার দিকে তাকালো, কিন্তু অক্ষরগুলোও যেন ঝাপসা লাগছে।কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে আস্তে করে বললো,
—সরি, স্যার…
সায়র কয়েক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে রইলেন।তারপর ধীরে ধীরে বললেন,
—মনোযোগ অন্য কোথাও থাকলে পড়াশোনা হয় না।
কথাটা খুব সাধারণ।কিন্তু কেন জানি বেলার মনে হলো, কথাটা শুধু পড়াশোনা নিয়ে বলা নয়।সে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো।সায়র আবার বললেন,
—বসো। পরেরবার যেন এমন না হয়।
—জি, স্যার।
বেলা ধীরে ধীরে বসে পড়লো।তার গাল দুটো লজ্জায় হালকা লাল হয়ে উঠেছে।ইরা পাশে বসে ঠোঁট কা’মড়ে হাসি চাপছে।বেলা কনুই দিয়ে আলতো একটা গুঁতো মা”রতেই ইরা ফিসফিস করে বললো,
—এই প্রথম দেখলাম, সায়র স্যার তোর সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবে কথা বললেন।
বেলা নিচু গলায় বললো,
–চুপ করে বস।
—আচ্ছা আচ্ছা…
এরপর আর কোনো সমস্যা হলো না।পুরো ক্লাসটাই শান্তভাবে শেষ করলেন সায়র।ঘণ্টা বাজতেই তিনি বইগুলো গুছিয়ে নিলেন।বেরিয়ে যাওয়ার আগে পুরো ক্লাসের দিকে তাকিয়ে শুধু বললেন,
—আগামীকালের মধ্যে আজকের টপিকটা সবাই পড়ে আসবে।
তারপর কোনো দিকে না তাকিয়েই ধীর পায়ে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।
পরপর দুটো ক্লাস শেষ হতে না হতেই কলেজজুড়ে টিফিনের ঘণ্টা বেজে উঠলো। মুহূর্তের মধ্যেই করিডোর, বারান্দা আর মাঠের চারপাশে ছাত্রছাত্রীদের ভিড় জমে গেলো। কেউ ক্যান্টিনের দিকে ছুটছে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে বেঞ্চে বসে গল্পে মেতে উঠেছে, আবার কেউ বই হাতে নিয়ে পরের ক্লাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে।বেলা আর ইরা ধীরে ধীরে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে ক্যান্টিনের দিকে হাঁটতে লাগলো।ইরা হাঁটতে হাঁটতেই বললো,
—আজকে ক্যান্টিনের সিঙ্গারা খাবি?
বেলা মাথা নেড়ে বললো,
—না। আজকে খেতে ইচ্ছে করছে না।
—সকালে কিছু খাসনি, এখনো খাবি না? এভাবে চললে কিন্তু একদিন অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাবি।
বেলা মুচকি হেসে বললো,
—আমার কিছু হবে না।
দু’জন ঠিক ক্যান্টিনের সামনে পৌঁছাতেই হঠাৎ করেই তাদের পথ আটকে দাঁড়ালো তানিয়া।তার সঙ্গে আগের সেই দুই বান্ধবীও আছে।তানিয়ার ঠোঁটে চাপা হাসি। কিন্তু চোখেমুখে জমাট বাঁধা রাগটা লুকোনোর কোনো চেষ্টাই নেই।সে ধীরে ধীরে বেলার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো,
—কী ব্যাপার? আজকাল তো বেশ ভিআইপি হয়ে গেছিস।
বেলা শান্ত গলায় বললো,
—রাস্তা ছাড়।
তানিয়া হেসে উঠলো।
—এত তাড়া কিসের? নাকি আবারো কেউ বাইকে করে নিয়ে যাবে?
চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন ছাত্রছাত্রী থেমে গেলো। কেউ হাসাহাসি করছে। সবাই বুঝতে পারছে, আবার কোনো ঝামেলা বাঁধতে চলেছে।ইরা বিরক্ত হয়ে বললো,
—তানিয়া, অযথা ঝামেলা করিস না।
তানিয়া এবার চোখ ঘুরিয়ে ইরার দিকে তাকালো।
—তোর সঙ্গে আমি কথা বলছি?
—না। কিন্তু তুই যেভাবে কথা বলছিস, সেটা ঠিক না।
তানিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,
—ঠিক-ভুল আমাকে শেখানোর দরকার নেই।
তারপর আবার বেলার দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বললো,
—বল তো, কেমন লাগলো? পুরো কলেজের সামনে স্যারের বাইক থেকে নামতে?
বেলা এবারও নিজেকে শান্ত রাখলো,
—তোর জানার দরকার নেই।
—দরকার আছে। কারণ সবাই জানতে চায়, হঠাৎ করে এত খাতির কিভাবে হলো?
কথাটা শেষ হতেই আশপাশের গুঞ্জনটা আরও একটু বেড়ে গেলো।বেলা গভীর শ্বাস নিয়ে বললো,
—যেটা জানিস না, সেটা নিয়ে কথা বলিস না।
তানিয়া এক পা এগিয়ে এলো।
—আর যদি বলি?
— তুই বলবিই। কারন আমার পা চা’টতে সবসময় ই তোর পছন্দ।
বেলার শান্ত উত্তরটা যেন তানিয়াকে আরও ক্ষেপিয়ে দিলো।সে হাত বাড়িয়ে বেলার পথ আটকে দিয়ে বললো,
—আমাকে এভাবে উত্তর দেওয়ার সাহস পেলি কোথা থেকে?
ইরা সঙ্গে সঙ্গে বেলার সামনে এসে দাঁড়ালো।
—হাত সরিয়ে নে।
—না সরালে?
—তাহলে
ইরার কথা শেষ হওয়ার আগেই বেলা তার হাত চেপে ধরলো।নিচু গলায় বললো,
—ইরা না।
ইরা অবাক হয়ে তাকালো।
—কিন্তু
—চল। এইসব মেয়েদের সাথে কথা বাড়িয়ে মুখ নষ্ট করার দরকার নেই।
তানিয়ার মুখ মুহূর্তেই শক্ত হয়ে গেল।সে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
—বেশি উড়িস না, বেলা। খুব তাড়াতাড়ি মাটিতে নামাবো তোকে।
বেলা ওর কথায় পাত্তা না দিয়ে আর একবারও পেছনে তাকালো না।
বাকি ক্লাসগুলো কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই শেষ হলো।তবে পুরো সময়টাই তানিয়ার দৃষ্টি বারবার এসে থামলো বেলার ওপর।আর বেলা ইচ্ছে করেই তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করলো।ছুটির ঘণ্টা বাজতেই কলেজের ভেতর আবার ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেলো।সবাই দল বেঁধে বেরিয়ে যাচ্ছে।ইরা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বললো,
—চল, একসঙ্গে বের হই। একটু হেঁটে তুই রিকশায় আর আমি বাসে উঠে যাবনে।
ঠিক তখনই অফিসের এক পিয়ন এসে ক্লাসের দরজায় দাঁড়িয়ে বললো,
—বেলা মা, সায়র স্যার ডাকছেন।
কথাটা শুনে পুরো ক্লাস আবার কৌতূহলী হয়ে উঠলো।ইরা অবাক হয়ে বললো,
—কেন ডাকছেন?
বেলা নিজেও বুঝতে পারলো না।সে ধীরে ধীরে রুমের দিকে এগিয়ে গেল।দরজার সামনে গিয়ে হালকা নক করতেই ভেতর থেকে সায়রের গলা ভেসে এলো,
—ভেতরে আয়।
বেলা দরজা ঠেলে ঢুকলো।রুমে তখন আর কেউ নেই।
সায়র নিজের টেবিলের কাগজপত্র গুছিয়ে ব্যাগে রাখছিল।বেলাকে দেখে তিনি শান্ত গলায় বললেন,
—চল।
বেলা ভ্রু কুঁচকে বললো,
—কোথায়?
—-বাসায়।
—আমি ইরার সঙ্গে চলে যাব।
সায়র ব্যাগের চেইন টেনে বন্ধ করতে করতে বললেন,
— ইরার বাসা অন্যদিকে। আব্বু বের হওয়ার সময় আমাকে বলে দিয়েছে, তোকে নিয়ে ফিরতে।
বেলা সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়লো।
—আমি যাব না।
—কেন?
—-আমার ইচ্ছা করছে না।
সায়র এবার ধীরে ধীরে তার দিকে তাকালেন।
—ইচ্ছা না করলেই সব সময় নিজের মতো করা যায় না।
—আমি রিকশায় চলে যাব।
—না।
—আমি যেতে পারবো।
—জানি পারবি।
কয়েক সেকেন্ড থেমে আবার বললেন,
—তবু তুই একা যাচ্ছিস না।
বেলা বিরক্ত হয়ে বললো,
—আপনি সব সময় জোর করেন কেন?
সায়র হালকা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,
—কারণ মাঝে মাঝে তোর জেদের চেয়ে তোর নিরাপত্তাটা আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বেলা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো।তার রাগ হচ্ছে, আবার অদ্ভুতভাবে তর্ক করার মতো কথাও খুঁজে পাচ্ছে না।
শেষ পর্যন্ত ঠোঁট ফুলিয়ে বললো,
—আমি কিন্তু খুশি হয়ে যাচ্ছি না।
সায়রের ঠোঁটের কোণে খুব ক্ষীণ একটা হাসি ফুটে উঠলো।
— জানি।
বেলা বিরক্ত মুখে ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিল।
—আপনি একদম অসহ্য।
সায়র দরজার দিকে হাঁটতে হাঁটতে শান্ত স্বরে বললেন,
—এই কথাটা আজ দ্বিতীয়বার শুনলাম।
বেলা মুখ বাঁকিয়ে তার পেছন পেছন বেরিয়ে এলো। করিডরের ইরাকে বলে সায়রের সাথে চললো। মনে মনে সে ঠিক করলো, আজ পুরো রাস্তা সে সত্যিই একটা কথাও বলবে না।কিন্তু সে জানে না, ফেরার এই পথটা সকালের চেয়েও অনেক বেশি অস্বস্তিকর আর অনেক বেশি স্মরণীয় হতে চলেছে।
বাইকটা ধীরে ধীরে কলেজের গেট পেরিয়ে মূল সড়কে উঠে এলো। বিকেলের আলো তখন নরম হয়ে এসেছে। পশ্চিম আকাশে সূর্যটা একটু একটু করে নিচে নামছে। সোনালি আলো এসে পড়ছে রাস্তার দু’পাশের গাছের পাতায়। মাঝেমধ্যে হালকা বাতাস এসে চারপাশটাকে আরও শান্ত করে দিচ্ছে।কিন্তু বেলার ভেতরে কোনো শান্তি নেই।সে ইচ্ছে করেই অনেকটা দূরে সরে বসে আছে। দু’হাত শক্ত করে ব্যাগের স্ট্র্যাপ চেপে ধরে রেখেছে। যেন এই পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো।সায়রের গায়ে একটুও না লাগা।সায়র একবার রিয়ার ভিউ মিররে তাকালো।বেলার গোমড়া মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে আস্তে করে বললো,
—এত দূরে বসে আছিস কেন?
বেলা সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলো,
—ভালো লাগছে।
সায়রের ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি ফুটলো,
—দেখি, কতক্ষণ পারিস।
বেলা আর উত্তর দিলো না।সে জানে, লোকটা ইচ্ছে করেই তাকে খোঁচা দিচ্ছে।বাইকটা আরও কিছুটা সামনে এগোতেই রাস্তার ওপর হঠাৎ একটা বড় গর্ত পড়লো। সায়র অনেকটা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করলেও হালকা একটা ঝাঁকুনি লাগলো।সবকিছু এত দ্রুত ঘটলো যে বেলা নিজেকে সামলানোর সুযোগই পেল না।এক মুহূর্তের জন্য তার শরীর সামনে হেলে পড়লো।অনিচ্ছায় তার কপাল গিয়ে ছুঁয়ে গেল সায়রের পিঠ।দু’হাতও অজান্তেই শক্ত করে চেপে ধরলো সায়রের শার্ট।মুহূর্তটা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের।কিন্তু বেলার মনে হলো, তার বুকের ভেতরের শব্দটা বুঝি বাইকের ইঞ্জিনের শব্দকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে।সে তাড়াতাড়ি সরে যেতে চাইলো।ঠিক তখনই সায়রের নিচু, শান্ত কণ্ঠ ভেসে এলো,
—এবার অন্তত ধরে বস।
বেলা চোখ নামিয়ে বিড়বিড় করলো,
—রাস্তা খারাপ ছিল।
—হুম।
—আমি ইচ্ছে করে…
সায়র কথাটা শেষ করতে দিলো না।
—জানি।
শুধু একটা শব্দ।কিন্তু সেই ‘জানি’ শব্দটার মধ্যে অদ্ভুত এক নিশ্চিন্ততা ছিলো।মনে হচ্ছিল, বেলাকে কিছুই ব্যাখ্যা করতে হবে না।সে চুপ করে গেলো।বাতাস আবারও এসে হিজাবের একপাশ উড়িয়ে দিলো।বারবার কাপড়টা মুখের সামনে চলে আসছে।এক হাতে সেটা সামলাতে গিয়ে আবারও ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেল তার।সায়র ধীরে বললো,
—এক হাতে হিজাব সামলাবি, না নিজেকে?
বেলা বিরক্ত হয়ে বললো,
—দুটোই পারি।
—সব সময়?
—হ্যাঁ।
—মিথ্যে বলছিস।
বেলা এবার ভ্রু কুঁচকে বললো,
—কেন?
—কারণ এখনো নিজেকে সামলাতে পারিস না।
কথাটা শুনে বেলার গাল আবারও লাল হয়ে উঠলো।সে বুঝতে পারছে না, লোকটা কি সত্যিই শুধু বাইকে বসার কথাই বলছে, নাকি অন্য কিছুও বুঝাতে চাইছে।সে আর কথা বাড়ালো না।কিছুদূর এগোতেই রাস্তার পাশে লাল কৃষ্ণচূড়া গাছের সারি শুরু হলো।পাতার ফাঁক দিয়ে পড়ে থাকা বিকেলের আলো এসে কখনো সায়রের কাঁধে, কখনো বেলার মুখে পড়ছে।বেলা আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ করলো এক মুহূর্তের জন্য।সায়রের শার্টে মিশে থাকা সেই পরিচিত পারফিউমের গন্ধটা আবারও তার চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে।অদ্ভুত ব্যাপার এই গন্ধটার সঙ্গে এখন যেন নিরাপত্তার একটা অনুভূতিও জড়িয়ে গেছে।মনে হচ্ছে, এই মানুষটার পাশে থাকলে কোনো অজানা ভয় তাকে ছুঁতে পারবে না।হঠাৎই সায়রের কণ্ঠ ভেসে এলো,
—এইবার তো ধরে বসেছিস।
বেলা চোখ খুলে মৃদু গলায় বললো,
—রাস্তা খারাপ…
সায়র খুব আস্তে হেসে বললো,
—হুম শুধু রাস্তা?
বেলা আর উত্তর দিলো না।মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে গেল।সে জানতো, যদি এখন সায়র রিয়ার ভিউ মিররে একবার তাকায়, তাহলে তার সমস্ত লুকোনো অস্থিরতা চোখে পড়ে যাবে।তাই সে আস্তে করে মুখটা একটু নিচু করে ফেললো।
ঠিক তখনই মার্কেটের সামনে এসে রাস্তায় থামলেন মমতাজ বেগম। বাড়ির কিছু দরকারি জিনিস কেনার জন্যই তিনি বের হয়েছিলেন।হঠাৎই রাস্তার চলন্ত একটা পরিচিত বাইকের দিকে চোখ পড়তেই তার পা থেমে গেলো।
সায়র।কিন্তু পরের মুহূর্তেই তার দৃষ্টি গিয়ে আটকালো সায়রের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা বেলার ওপর।একসঙ্গে?তার ভ্রু ধীরে ধীরে কুঁচকে উঠলো।মুহূর্তের মধ্যেই মুখের কোমলতা মিলিয়ে গিয়ে জায়গা নিলো কঠিন এক অভিব্যক্তি। ঠোঁট শক্ত হয়ে এলো, চোখ দুটো তীক্ষ্ণ হয়ে উঠলো। দূর থেকেই তিনি কয়েক সেকেন্ড নিঃশব্দে ওদের দিকে তাকিয়ে রইলেন।মমতাজ বেগমের বুকের ভেতর ধীরে ধীরে অস্বস্তির এক অদৃশ্য কাঁ’টা বিঁধতে শুরু করলো। তার দৃষ্টি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠলো। দূর থেকে সায়র আর বেলার দিকে কয়েক মুহূর্ত স্থির চোখে তাকিয়ে থেকে তিনি মনে মনে দৃঢ় স্বরে বললেন,
রইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ১৫
—না।এটা কখনোই হতে দেওয়া যাবে না। এই মেয়েটা সায়রের জীবনে নিজের জন্য কোনো জায়গা করে নেবে। আমি বেঁচে থাকতে সেটা হতে দেব না। যত বাধাই দিতে হোক, আমি দেব। প্রয়োজন হলে আমি নিজেই ওদের মাঝখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়াবো।
