Home র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ২৪

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ২৪

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ২৪
ইয়ুশরা রিমু

সন্ধ্যার আবছা আলোয় খান বাড়ির বিশাল লোহার গেটটা ধীরে ধীরে খুলে গেলো।একটি কালো গাড়ি ধীরগতিতে ভেতরে প্রবেশ করলো। বাড়ির সামনের বাগানের রঙিন আলো জ্ব’লে উঠেছে, চারপাশে নীরবতা। অথচ সেই নীরবতার আড়ালেই যেন জমে আছে এক ভ’য়ংকর ঝড়।গাড়ি থামতেই বাড়ির ভেতর থেকে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে এলেন মমতাজ বেগম।কলেজ থেকে সারোয়ার খান শুধু এতটুকুই বলেছিলেন,
—একটা বড় ঘটনা ঘটে গেছে। আমরা বাড়ি ফিরেই সব বলছি।
এরপর আর কোনো কথা বলেননি।সেই থেকে অস্থির হয়ে অপেক্ষা করছেন তিনি। বারবার ঘড়ির দিকে তাকিয়েছেন। ফোন করতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিয়েছেন। কিন্তু বুকের ভেতরের অজানা আশঙ্কাটা কিছুতেই দূর হয়নি।গাড়ির দরজা খুলে প্রথমে নামলেন সারোয়ার খান।তারপর বাশার খান।এরপর নামলো সায়র।সবশেষে খুব ধীরে গাড়ি থেকে নামলো বেলা।মাথা নিচু।চোখ দুটো কান্নায় লাল হয়ে ফুলে আছে।মুখটা এতটাই বিবর্ণ, যেন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জীবনের সমস্ত রঙ হারিয়ে ফেলেছে।মমতাজ বেগম প্রথমে অবাক হয়ে বেলার দিকে তাকালেন।তারপর সবার গম্ভীর মুখ দেখে তাঁর বুকটা ধক করে উঠলো।তিনি দ্রুত এগিয়ে এসে বললেন,

—কী হয়েছে? সবাই এমন চুপচাপ কেন? সায়র, কলেজে কী হয়েছে?
কেউ কোনো উত্তর দিলো না।এই নীরবতাই যেন তাঁর অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিলো।তিনি এবার সারোয়ার খানের দিকে তাকিয়ে বললো,
—আপনি কিছু বলছেন না কেন? আমাকে এভাবে ভয় পাইয়ে দিচ্ছেন কেন?
সারোয়ার খান দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।কিছু বলার আগেই সায়র ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এলো।তার গলায় কোনো দ্বিধা নেই।সে বললো,
—আম্মু! আজ একটা পরিস্থিতির কারণে আমাকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
মমতাজ বেগম কপাল কুঁচকে তাকালেন,
—কী সিদ্ধান্ত?
সায়র এক মুহূর্ত চোখ নামিয়ে আবার মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
—আজ আমার আর বেলার বিয়ে হয়েছে।
এক মুহূর্তে যেন পুরো পৃথিবী থেমে গেলো মমতাজ বেগমের।স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন সে।তিনি যেন ঠিক শুনতে পারেননি।অবিশ্বাসভরা চোখে একবার ছেলের দিকে, একবার বেলার দিকে তাকালেন।তারপর ধীরে ধীরে বললেন,

—-কী বললে?
সায়র শান্ত স্বরে আবারও বললো,
—-আমাদের বিয়ে হয়েছে, আম্মু।
কথাটা শেষ হতেই মমতাজ বেগমের মুখের সমস্ত রঙ বদলে গেলো।সে চিৎকার করে বললো,
—অসম্ভব!আমার ছেলের বিয়ে হয়ে গেলো‌ আর আমি কিছুই জানলাম না?
তিনি হঠাৎ সায়রের সামনে এসে দাঁড়ালেন।
—তুই আমাকে একবারও জানানো প্রয়োজন মনে করলি না?
—পরিস্থিতি এমন ছিলো যে…
—চুপ! একদম চুপ।
তাঁর কঠোর কণ্ঠে চারপাশ কেঁপে উঠলো।
—পরিস্থিতি এমন কী ছিল, যে নিজের মায়ের কথা একবারও মনে পড়লো না?
সায়র মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো এরপর বললো,
—আম্মু, যদি আমি আজ এই সিদ্ধান্ত না নিতাম, তাহলে একটা নির্দোষ মেয়ের পুরো জীবন শেষ হয়ে যেতো।
—-তাই বলে বিয়ে?
মমতাজ বেগমের চোখ ভিজে উঠলো,

—তুই কি একবারও ভাবলি না, আমি কত স্বপ্ন দেখেছিলাম তোর বিয়ে নিয়ে? কত আশা ছিল আমার!
বাড়ির সবাই নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে।বেলা এতক্ষণ এক কোণে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েছিলো।মমতাজ বেগমের প্রতিটি কথা তার বুকের ভেতর তীরের মতো বিঁ’ধছে।হঠাৎ সে এগিয়ে এলো।কাঁপা গলায় বললো,
—-চাচি সব দোষ আমার। আপনি সায়র ভাইকে কিছু বলবেন না।
মমতাজ বেগম ধীরে ধীরে তার দিকে তাকালেন।তাঁর চোখে রাগের সঙ্গে জমে আছে সীমাহীন কষ্ট।
— তুই চুপ কর।
মমতাজ বেগমের চোখেমুখে জমে থাকা ক্ষোভ, অভিমান আর অপমানবোধ যেন প্রতি মুহূর্তে আরও তীব্র হয়ে উঠছিলো। তাঁর বুকের ভেতরে বছরের পর বছর ধরে লালন করা স্বপ্নগুলো যেন এক নিমিষেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। সেই ভাঙনের য’ন্ত্রণা তাঁকে এতটাই উ’ত্তেজিত করে তুলেছিল যে, তিনি আর কোনো যুক্তি, কোনো ব্যাখ্যা কিংবা কারও অনুরোধ শোনার মানসিক অবস্থায় ছিলেন না।
তিনি ধীরে ধীরে বেলার একেবারে সামনে এসে দাঁড়ালেন। চোখ দুটো রাগে লাল হয়ে আছে। ঠোঁট কাঁপছে। সেই কাঁপা ঠোঁট থেকেই একের পর এক কঠিন কথাগুলো বেরিয়ে আসতে লাগলো। সে বললো,

—তুই ছোটবেলা থেকেই আমার চোখের সামনে বড় হয়েছিস। নিজের মেয়ের মতোই তোকে মানুষ হতে দেখেছি। কখনো কি একবারও ভেবেছিলাম, একদিন তুই-ই আমার বুকের ওপর সবচেয়ে বড় আ’ঘাতটা দিবি?
বেলা মাথা নিচু করে নিঃশব্দে কাঁদছে। তার চোখের পানি ম টুপটুপ করে পড়ছে। কিন্তু সে কোনো প্রতিবাদ করলো না।মমতাজ বেগম থামলেন না।আবারো বললো,
—আর তোর মা! উনিও তো কম নন। মা-মেয়ে দু’জন মিলে খুব ভালো অভিনয় করতে জানো। কত আপন আপন ব্যবহার! কত ভালোবাসার কথা! আজ বুঝলাম, সেই সবকিছুর আড়ালে কত বড় হিসাব লুকিয়ে ছিলো। আমার সবকিছু, আমার ছেলে সবসময় সেদিকেই তোদের নজর ছিলো।
নাজনীন সুলতানার মুখ মুহূর্তের মধ্যেই বিবর্ণ হয়ে গেলো।তিনি কাঁপা গলায় বললেন,
–আপা, আল্লাহর দোহাই লাগে, আমাদের নিয়ে এমন কথা বলবেন না। আমরা কখনো এমন কিছু ভাবিওনি। আমার বেলাকে একটা কটু কথা বলবেন না।
—চুপ!
মমতাজ বেগম তীব্র ধমক দিয়ে তাঁকে থামিয়ে দিলেন,
—আজ আর নির্দোষ সাজতে হবে না। এত বছর ধরে আমার চোখকে ফাঁকি দিতে পেরেছো বলে মনে করো না। আমি শুধু সম্পর্কের কথা ভেবে মুখ বন্ধ রেখেছিলাম। কিন্তু আজ বুঝলাম, আমার সেই নীরবতাই ছিল সবচেয়ে বড় ভুল।
বাশার খান এবার গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,

— আপনার রাগের কারণ আমি বুঝি। কিন্তু আমার স্ত্রী আর মেয়ের সম্মান নিয়ে এমন কথা বলবেন না। সেই অধিকার আপনার নেই।
মমতাজ বেগম তাঁর দিকে তাকিয়ে তিক্ত হেসে উঠে বললো,
—সম্মান? সম্মান জিনিসটা আপনার মুখে মানায় না মি. বাশার খান। আজ আমার সম্মানের কী হলো, সেটা কি একবারও ভেবেছেন? যে ছেলের বিয়ের স্বপ্ন আমি এত বছর ধরে বুকে আগলে রেখেছিলাম, সেই ছেলের বিয়ে হয়ে গেলো, আর আমি জানতে পারলাম সব শেষ হয়ে যাওয়ার পরে! এর চেয়ে বড় অপমান একটা মায়ের জন্য আর কী হতে পারে?
বেলা হঠাৎ দুই হাত জোড় করে সামনে এগিয়ে এলো।
তার কণ্ঠ কান্নায় বারবার ভেঙে যাচ্ছে।
—চাচি প্লিজ, আমার ওপর রাগ করো। আমাকে যত খুশি বকো। কিন্তু আম্মু আব্বুকে কিছু বলবে না। তারা সত্যিই কিছু জানতো না। এই বিয়ে আমি নিজেও চাইনি। আমি অনেকবার না বলেছি…
—থামো!
মমতাজ বেগমের বজ্রকণ্ঠ আবারও চারপাশ কাঁপিয়ে দিলো।

—তুই এখন নাটক করছিস? এতক্ষণ কোথায় ছিল তোর এই আপত্তি? এখন আমার সামনে দাঁড়িয়ে নির্দোষ সাজার চেষ্টা করিস না। আজ থেকে আমার সামনে কান্না দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না।
বেলার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। সে আর কোনো কথা বলতে পারলো না।
সায়র এবার সামনে এসে মায়ের সামনে দাঁড়ালো,
—আম্মু, যথেষ্ট হয়েছে। বেলা বা চাচির কোনো দোষ নেই। তুমি যা বলার আমাকে বলো।
মমতাজ বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে কষ্টে হেসে উঠলেন,
—আজও ওদের পক্ষই নিলি? খুব ভালো। আজ বুঝে গেলাম, আমার ছেলে আর আগের মতো নেই। আজ তার কাছে এই মায়ের চেয়ে অন্যদের কথাই বড় হয়ে গেছে।
কথাগুলো বলতে বলতেই তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে লাগলো। বুকের ভেতরটা যেন প্রচণ্ডভাবে ওঠানামা করছে। তিনি এক হাত দিয়ে নিজের বুক চেপে ধরলেন।সারোয়ার খান উদ্বিগ্ন হয়ে দ্রুত তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়ে বললেন,

—মমতাজ, আর একটা কথাও বলবে না। তুমি খুব উ’ত্তেজিত হয়ে গেছো।
কিন্তু তিনি যেন কিছুই শুনতে পাচ্ছেন না।চোখের সামনে সবকিছু ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসছে।তিনি কাঁপতে কাঁপতে বললেন,
—না। আমি এই মেয়েকে… আমি…
বাকিটুকু আর শেষ করতে পারলেন না।হঠাৎ তাঁর শরীরটা প্রবলভাবে দুলে উঠলো।চোখ দুটো উল্টে যেতে লাগলো।পরের মুহূর্তেই সমস্ত শক্তি হারিয়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে মেঝের দিকে লুটিয়ে পড়লেন।
—আম্মু!
সায়রের আতঙ্কিত চিৎকারে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠলো।
সারোয়ার খান মমতাজ বেগমকে ধরে ফেললেন। বাড়ির সবাই দৌড়ে ছুটে এলো। চারদিকে মুহূর্তের মধ্যেই চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়লো।আর এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা বেলা নিজের মুখ চেপে ধরে নিঃশব্দে ভেঙে পড়লো। তার মনে শুধু একটাই কথা ঘুরপাক খেতে লাগলো,
—আমার জন্যই কি আজ এই বাড়িতে এত বড় অশান্তি নেমে এলো? হায় আল্লাহ্ আমি তো কখনো এটা চাইনি।

প্রায় বিশ মিনিট পর ধীরে ধীরে মমতাজ বেগমের চোখের পাতা কেঁপে উঠলো। তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস আগের তুলনায় কিছুটা স্বাভাবিক হলেও মুখটা এখনও সম্পূর্ণ বিবর্ণ। চোখ খুলতেই প্রথমে ছাদের দিকে কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন। যেন কোথায় আছেন, কী হয়েছে সবকিছু মনে করার চেষ্টা করছেন।সায়র মায়ের মাথার পাশে বসে ছিলো। মাকে চোখ খুলতে দেখে সে উৎকণ্ঠিত কণ্ঠে ডাকলো,
—আম্মু,এখন কেমন লাগছে?
মমতাজ বেগম ছেলের দিকে একবার তাকালেন।সেই দৃষ্টিতে মায়া ছিলো, কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল গভীর অভিমান।
ঠিক তখনই তাঁর চোখ ঘরের এক কোণে গিয়ে থামলো।মাথা নিচু করে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে আছে বেলা।মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর চোখের দৃষ্টি বদলে গেলো।স্মৃতিগুলো আবার একে একে ফিরে এলো।কলেজ, বিয়ে, সায়রের স্বীকারোক্তি এবং সবকিছু।তিনি হঠাৎ উঠে বসার চেষ্টা করতেই ডাক্তার তাঁকে থামিয়ে দিলেন,
—না, না। এখন উঠবেন না। আপনার শরীর এখনও খুব দুর্বল।
কিন্তু তিনি যেন কারও কথাই শুনলেন না।কাঁপা হাতে সোফার হাতল চেপে ধরে বসে পড়লেন। তারপর সোজা বেলার দিকে তাকিয়ে ভারী কণ্ঠে বললেন,

—তুই এখনও এইখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
বেলা ভয়ে মাথাটা আরও নিচু করে ফেললো।
—চাচি আমি ..
— তুই আমাকে চাচি ডাকবি না। এই মুহূর্তে তোর মুখ থেকে কোনো কথা আমি শুনতে চাই না। আজ তোকে দেখলেই আমার বুকের ভেতরটা জ্ব’লে যাচ্ছে।
বেলার চোখ বেয়ে টপটপ করে অশ্রু ঝরতে লাগলো।সে কিছু বলতে চাইলেও শব্দ বের হলো না।মমতাজ বেগম আবার বললেন,
— বি’শ্বাসঘা’তকের মেয়েকে আজ তাকেই আমার ছেলের স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে হবে! আল্লাহ আমার ভাগ্যে এই দিনটাই রেখেছিলেন?
কথাগুলো বলতে বলতেই তাঁর গলা আবার কেঁপে উঠলো।তিনি বেলার দিকে আঙুল তুলে বললেন,
—-আজ তুই আমার চোখের সামনে থেকে সরে যা। এই মুহূর্তে তোকে আমি দেখতে পারছি না। আমার বুকের ভেতরটা ফে’টে যাচ্ছে।
বেলা আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না।সে ধীরে ধীরে পেছনে সরে যেতে লাগলো।ঠিক তখনই সারোয়ার খান দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,

—বেলা, এক পা-ও পিছিয়ে যাবি না মা।
বেলা থেমে গেলো।মমতাজ বেগম অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে স্বামীর দিকে তাকালেন।সারোয়ার খান ধীরে ধীরে তাঁর সামনে এসে দাঁড়ালেন। কণ্ঠে কোনো উচ্চস্বরে রাগ ছিলো না, কিন্তু প্রতিটি শব্দ ছিল দৃঢ় ও ভারী।সে বললো ,
—মমতাজ, আমি জানি তুমি কষ্ট পেয়েছো। তোমার এই কষ্টকে ছোট করে দেখার মতো মানুষ আমি নই। এত বড় একটা সিদ্ধান্তে তুমি ছিলে না । এটা একজন মায়ের জন্য খুব কঠিন। কিন্তু তাই বলে তুমি এমন একজন মেয়েকে দোষারোপ করতে পারো না, যার কোনো অপরাধ আমি নিজের চোখে দেখিনি।
মমতাজ বেগম কিছু বলতে যেতেই তিনি শান্ত গলায় থামিয়ে দিলেন,
—না, আজ আমাকে বলতে দাও। অনেকক্ষণ ধরে শুধু তোমার কথাই শুনছি। এবার আমার কথাও শোনো।
তিনি ধীরে ধীরে বেলার দিকে তাকালেন।মেয়েটা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। চোখের পানি থামার কোনো নাম নেই।সারোয়ার খান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
—আজ কলেজে যা ঘটেছে, আমি নিজের চোখে দেখেছি। এই মেয়েটা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই বিয়েতে রাজি হয়নি। বারবার না করেছে। নিজের সম্মানের কথা ভুলে গিয়েও সায়রের ভবিষ্যতের কথা ভেবেছে। যে মেয়ে নিজের সুখের আগে অন্যের জীবন নিয়ে ভাবে, তাকে আমি স্বার্থপর বলতে পারি না।
তিনি কয়েক মুহূর্ত থামলেন।তারপর ধীরে ধীরে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন,
—আল্লাহ আমাকে ছেলে দিয়েছেন। কিন্তু একটা মেয়ে দেননি। কিন্তু মেয়ের অভাবটা আমি কখনো অনুভব করেনি। কারন বেলা আছে বলে।আর আজ সেই মেয়ে আমার একমাত্র পুএবধু হয়ে এই বাড়িতে নতুন রুপে এসেছে। এটা আমার জন্য খুবই আনন্দিত বিষয়।
সারোয়ার খান এগিয়ে গিয়ে আলতো করে বেলার মাথায় হাত রাখলেন,

— শোন বেলা, তুই শুধু এই বাড়ির পুত্রবধূ নছ। তুই আমার মেয়েও। কেউ যদি তোমাকে অন্যায়ভাবে অপমান করে। আর সেটা আমি কোনোদিন মেনে নেবো না ।
বাশার খানের চোখ ছলছল করে উঠলো।নাজনীন সুলতানা মুখ ফিরিয়ে নিঃশব্দে চোখ মুছলেন।আর বেলা সে যেন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না।কাঁপতে কাঁপতে এগিয়ে এসে সারোয়ার খানের কাছে আসলো।তার ঠোঁট কাঁপছে, চোখ বেয়ে অঝোরে পানি ঝরছে। অনেক কষ্টে শুধু একটি কথাই বলতে পারলো,
—চাচ্চু। আমি সত্যিই কাউকে কষ্ট দিতে চাইনি।
সারোয়ার খান বলার মাথায় হাত দিয়ে বলে,
— আমি জানি মা। এইসব কথা এখন বাদ দে। ঘরে গিয়ে একটু রেস্ট নে। সারাদিন অনেক ধকল গেছে।
সারোয়ার খানের কথাগুলো শেষ হওয়ার পর পুরো রুমজুড়ে এমন এক ভারী নীরবতা নেমে এলো, যেন উপস্থিত কেউই আর কোনো শব্দ উচ্চারণ করার সাহস খুঁজে পাচ্ছে না। প্রত্যেকেই বুঝতে পারছিলেন, এই মুহূর্তে উচ্চারিত একটি ভুল বাক্যও পরিস্থিতিকে আবার আগের চেয়েও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
মমতাজ বেগম নিঃশব্দে বসে রইলেন।তাঁর বুক এখনও দ্রুত ওঠানামা করছে। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রুগুলো বারবার গড়িয়ে পড়তে চাইছে, কিন্তু তিনি সেগুলো মুছে ফেললেন না। তাঁর দৃষ্টি একবার স্বামীর দিকে, একবার ছেলের দিকে, তারপর ধীরে ধীরে গিয়ে স্থির হলো বেলার মুখের ওপর।কিন্তু এবার তিনি আর একটি শব্দও উচ্চারণ করলেন না।

কারণ তিনি খুব ভালো করেই জানেন, সারোয়ার খান যখন কোনো বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন, তখন সেই মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে তর্ক করে কোনো লাভ হয় না। এত বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি এই মানুষটিকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। শান্ত স্বভাবের মানুষ হলেও, ন্যায়-অন্যায়ের প্রশ্নে তিনি একবার কথা বলে দিলে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সহজে সরে আসেন না।
তাই নিজের ঠোঁট কা”মড়ে সমস্ত রাগ, অপমান আর অভিমানকে আপাতত বুকের ভেতরেই বন্দী করে রাখলেন তিনি।কিন্তু তাঁর নীরবতা মোটেও পরাজয়ের নীরবতা ছিলো না।বরং সেই নীরবতার আড়ালেই ধীরে ধীরে জন্ম নিতে লাগলো এক গভীর, অদৃশ্য সংকল্প। সে মনে মনে ভাবলো ,
—আজ তুমি আমার মুখ বন্ধ করে দিয়েছো, সারোয়ার। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমি সব মেনে নিয়েছি। কখনোই না।এই মেয়েকে আমি কখনো আমার পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে পারবো না। যে মেয়ের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই আমার সংসারে এমন ঝড় নেমে এলো, তাকে আমি কীভাবে নিজের ছেলের স্ত্রী ভাবি? না কখনো না।

তাঁর দৃষ্টি আবারও গিয়ে থামলো বেলার ওপর।মেয়েটা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ দুটো কান্নায় ভেজা। সেই অসহায় মুখটা দেখেও আজ তাঁর মন নরম হলো না।বরং আহত মাতৃত্বের অভিমান তাঁর বিচারবোধকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।মনে মনে তিনি কঠিন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন,
—তুই আজ আইনগতভাবে আমার ছেলের স্ত্রী হয়ে এই ওর জীবনে ঢুকেছিস, ঠিক আছে। কিন্তু শুধু কাগজে-কলমে স্ত্রী হলেই সংসার হয় না। একজন মানুষকে সেই সংসারে জায়গা করে নিতে হয়। আর আমি..আমি কোনোদিন তোমাকে সেই জায়গাটা এত সহজে পেতে দেবো না।
একটা দীর্ঘশ্বাস ধীরে ধীরে তাঁর বুক থেকে বেরিয়ে এলো,
—তুই যদি ভেবে থাকিস, আজকের এই বিয়ের পর আমার ছেলে আর তুমি সুখে-শান্তিতে সংসার করবি, তাহলে তুই ভুল ভাবছিস। আমার জীবদ্দশায় সেটা এত সহজ হবে না। আমি দেখবো, কতটা শক্ত তোদের এই সম্পর্ক।
বাইরে থেকে তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চুপ।মুখে কোনো প্রতিবাদ নেই।কিন্তু তাঁর অন্তরের গভীরে যে ঝড়টা আজ জন্ম নিলো, সেটাই হয়তো আগামী দিনের এই পরিবারের শান্ত আকাশে একের পর এক নতুন অশান্তির কালো মেঘ ডেকে আনবে।সেদিকে কেউ তাকিয়ে নেই।কেউ জানেও না ,এই নীরবতার ভেতরেই আরেকটি যু’দ্ধের সূচনা হয়ে গেছে।

রাত প্রায় সাড়ে নয়টা।সারাদিনের অস্থিরতা, কান্না আর উত্তেজনার পর খান বাড়িটা ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ হয়ে এসেছে। কিন্তু সেই নীরবতার মাঝেও যেন একটা চাপা ভার চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। বাড়ির প্রতিটি মানুষই আজ ক্লান্ত, তবু কারও চোখে ঘুম নেই।
ঠিক তখনই বাড়ির সামনে আরেকটি গাড়ি এসে থামলো।
গাড়ি থেকে দ্রুত নেমে এলো বিহান।সকালে একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে যেতে হয়েছিলো তাকে। কাজের ব্যস্ততার কারণে ফোনও তেমন ধরতে পারেনি। সন্ধ্যার পরপরই বাবার সংক্ষিপ্ত ফোন পেয়ে সে শুধু এতটুকুই জানতে পেরেছিলো, জরুরি ভিত্তিতে যেন বাড়িতে ফিরে আসে। কিন্তু এত বড় একটা ঘটনা তার কল্পনারও বাইরে ছিলো।বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই সে অবাক হয়ে চারপাশে তাকালো। ড্রয়িংরুমে সারোয়ার খান, বাশার খান, নাজনীন সুলতানা, সায়র সবাই বসে আছেন। কিন্তু কারও মুখে কোনো কথা নেই।বিহানের বুকটা ধক করে উঠলো।উদ্বিগ্ন কণ্ঠে সে বললো,
—আব্বু, কী হয়েছে? সবাই এমন চুপচাপ কেন? বেলা কোথায়?
বাশার খান ধীরে ধীরে মাথা তুললেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে শান্ত গলায় বললেন,
—বসো, বাবা। অনেক কিছু ঘটেছে আজ।

তারপর তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কলেজের পুরো ঘটনাটা খুলে বললেন।একটা কথাও বাদ দিলেন না।
কীভাবে ষ”ড়যন্ত্রে বেলার সম্মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো, কীভাবে সায়র সবার সামনে দায়িত্ব নিয়ে বেলাকে বিয়ে করেছে ।আর বাড়িতে ফিরে মমতাজ বেগমের প্রতিক্রিয়া সবকিছু।
সব কথা শোনার পর বিহান অনেকক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে বসে রইলো।তার মুখে বিস্ময়, চোখে অবিশ্বাস।সে ধীরে ধীরে সায়রের দিকে তাকালো। তারপর আবার বাবার দিকে।মৃদু স্বরে বললো,
—-এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেলো। আর আমি কিছুই জানলাম না!
বাশার খান শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।বিহান আর কোনো কথা না বলে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো।তার মনে তখন একটাই চিন্তা। বেলা এখন কেমন আছে?
সে সোজা বেলার কক্ষের দিকে এগিয়ে গেলো । দরজাটা আধখোলা ছিলো।ভেতরে ঢুকতেই দেখলো, বিছানার এক কোণে গুটিসুটি মে’রে বসে আছে বেলা। চোখ দুটো এখনও কান্নায় লাল। বিহান ধীরে ধীরে বোনের পাশে গিয়ে বসলো।মাথায় আলতো করে হাত রাখতেই বেলা মুখ তুলে তাকালো।পরের মুহূর্তেই সে উঠে ভাইকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।

—ভাইয়া।
বিহান শক্ত করে বোনকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো,
—পাগলি একটা, এত কাঁদছিস কেন?
বেলা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললো,
—-সব শেষ হয়ে গেছে, ভাইয়া।
বিহান মৃদু হেসে তার চোখের পানি মুছে দিল।
—কে বলেছে সব শেষ হয়ে গেছে? আমার কাছে তো মনে হচ্ছে, আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন।
বেলা অবাক হয়ে ভাইয়ের দিকে তাকালো।বিহান স্নেহভরা কণ্ঠে বললো,
—তুই তো আমার একমাত্র আদরের পুতুল। তোকে অন্য কোনো অচেনা বাড়িতে পাঠাতে হবে না, এই কথাটা ভেবেই আমার বুকটা হালকা লাগছে। সবসময় আমার চোখের সামনেই থাকবি। যখন ইচ্ছা তোকে দেখতে পারবো, তোর সঙ্গে ঝগড়া করতে পারবো, তোকে বকতে পারবো।
বেলার ঠোঁটের কোণে অশ্রুভেজা একটুকরো ম্লান হাসি ফুটে উঠলো।বিহান আবার বললো,
—আর সায়র তো আছেই। ছোটবেলা থেকে ওকে আমি যতটা চিনি, তাতে একটা কথা চোখ বন্ধ করে বলতে পারি ও কখনো তোকে কষ্ট দিতে পারবে না। ও যখন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন সেই সিদ্ধান্তের দায়িত্বও শেষ পর্যন্ত পালন করবে।
সে আলতো করে বোনের কপালে হাত রেখে মৃদু হেসে বললো,

—তাই আর কান্না নয়। যা হয়েছে, সেটা বদলানো যাবে না। কিন্তু সামনে কীভাবে ভালোভাবে বাঁচতে হয়, সেটাই এখন আমাদের ভাবতে হবে। আর মনে রাখিস, তুই কোনোদিন একা ছিলি না, আজও একা না। আমি আছি, আব্বু-আম্মু, চাচ্চু আছে আর এখন থেকে সায়রও আছে।
ভাইয়ের কথাগুলো শুনে বেলার বুকের ভেতরে জমে থাকা কষ্টটা যেন একটু হলেও হালকা হয়ে এলো। এতক্ষণ ধরে থামতে না চাওয়া কান্নার মাঝেও বহুক্ষণ পর তার মুখে ক্ষীণ একটুকরো প্রশান্তির ছায়া ফুটে উঠলো।
বিহান আরও কিছুক্ষণ বোনের পাশে বসে রইলো। নানা কথা বলে, মাথায় হাত বুলিয়ে কোনো রকমে বেলাকে একটু শান্ত করলো। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে বললো,
—-অনেক রাত হয়েছে। একটু বিশ্রাম নে। বেশি কিছু ভাবিস না।
বেলা নিঃশব্দে মাথা নাড়লো।
বিহান দরজার কাছে গিয়ে একবার ফিরে তাকালো। নিজের ছোট্ট বোনটার ফ্যাকাশে মুখটা দেখে বুকের ভেতরটা আবারও মোচড় দিয়ে উঠলো।গভীর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।দরজাটা আলতো করে বন্ধ হওয়ার কয়েক মুহূর্ত পর বাইরে মৃদু কড়া নাড়ার শব্দ হলো।

—-টক,টক…
বেলা কোনো উত্তর দিলো না।আবারও শব্দ হলো।
—বেলা। আমি।
সায়রের কণ্ঠ।বেলা চোখ বন্ধ করে নিলো। এই মুহূর্তে তার কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। বিশেষ করে সেই মানুষটার সঙ্গে, যার সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা আগেই তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পর্কটা তৈরি হয়েছে।কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর সায়র নিজেই ধীরে ধীরে দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো।ঘরে ঢুকেই সে কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইলো।বেলা জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে।সে একবারও ফিরে তাকালো না।সায়র ধীরে ধীরে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে শান্ত কণ্ঠে বললো,
—তোর সঙ্গে একটু কথা ছিলো।
কোনো উত্তর এলো না।ঘরের নীরবতা যেন আরও ভারী হয়ে উঠলো।সায়র মৃদু দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বললো,
—আমি জানি, তুই এখন আমার ওপর খুব রাগ করে আছিস। হয়তো আমাকে দোষও দিচ্ছিস। তোর জায়গায় আমি থাকলেও হয়তো এমনটাই করতাম। কারণ আজকের দিনের প্রতিটা ঘটনাই তোর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘটেছে।
বেলার চোখ বেয়ে আবারও নীরব অশ্রু গড়িয়ে পড়লো।তবুও সে মুখ ফিরিয়ে তাকালো না।সায়র ধীরে ধীরে বললো,

—আমি তোর কাছে কোনো ক্ষমা চাইছি না। কারণ আমি জানি, শুধু ‘সরি’ বললে আজকের ঘটনাগুলো বদলে যাবে না। আমি শুধু একটা কথা বলতে এসেছি।আজ থেকে তোর জীবনের সমস্ত দায়িত্ব আমার। এই দায়িত্ব থেকে আমি কোনোদিন পিছিয়ে যাবো না।
বেলা ধীরে ধীরে বললো,
—আপনি দয়া করে আর কিছু বলবেন না। আজ আমার কোনো কথা শুনতে ভালো লাগছে না। আমি খুব ক্লান্ত।
তার কণ্ঠে রাগের চেয়ে ক্লান্তি আর ভাঙনের সুরই বেশি ছিলো। সায়র মাথা নিচু করে বললো,
—ঠিক আছে। তোকে আর বিরক্ত করবো না। তবে একটা বিষয় জানানো দরকার।
বেলা এবারও তাকালো না।

—এই বাড়ির পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক না। আম্মুর অবস্থা তুই দেখেছিস। তাই আপাতত তুই এই ঘরেই থাকবি। কেউ তোকে কোথাও যেতে বলবে না। আর আমিও তোকে কোনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলবো না। যতদিন না সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে, ততদিন আমরা আলাদা থাকবো।
কথাগুলো শুনে বেলা ধীরে ধীরে চোখ তুলে তাকালো।সায়রের চোখে কোনো দাবি নেই, কোনো অধিকার ফলানোর চেষ্টা নেই। শুধু গভীর ক্লান্তি আর দায়িত্ববোধ।
সে শান্ত গলায় আবার বললো,

—তোর অনুমতি ছাড়া আমি এই ঘরে আর আসবো না। কোনো প্রয়োজন হলে দরজায় নক করেই কথা বলবো। তুই নিশ্চিন্তে এখানে থাক।
বেলা কিছু বললো না।শুধু খুব আস্তে করে মাথা নাড়লো।
সায়র আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালো না।ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে থেমে গেলো।পেছন ফিরে না তাকিয়েই বললো,

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ২৩

—একটা কথা মনে রাখিস, বেলা। আজকের এই বিয়েটা তোর ওপর কোনো বোঝা হয়ে থাকুক, আমি সেটা চাই না। তুই স্বাভাবিক হো । তুই নিজের মতো থাক। এই সম্পর্কের কোনো চাপ আমি তোকে দেবো না।
কথাগুলো বলেই সে নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।দরজাটা বন্ধ হওয়ার শব্দে বেলা আবার বিছানায় বসে পড়লো।তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অনুভূতি কাজ করছে।রাগ আছে, অভিমানও আছে। চাচির জন্য তার কষ্ট হচ্ছে। তাই আজকের পর থেকে সে যেন ইচ্ছে করেই সায়রকে এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো। কারণ এই মুহূর্তে তার মনে হচ্ছে, দূরত্বটাই হয়তো দু’জনের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। কিন্তু পুনরায় ভাবলো, কতদিন এভাবে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে পারবে?

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ২৫