Home র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ২৫

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ২৫

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ২৫
ইয়ুশরা রিমু

ফজরের আজান ভেসে আসতেই ধীরে ধীরে বেলার ঘুম ভাঙলো।চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে নির্বাক তাকিয়ে রইলো সে। যেন বুঝে উঠতে পারছে না, সে কোথায় আছে। কয়েক সেকেন্ড পর গতকালের প্রতিটি ঘটনা একে একে মনে পড়তেই বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠলো।গতকাল সকালে সে ছিল বাবা-মায়ের আদরের মেয়ে। কলেজে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা এসবই ছিলো তার ছোট্ট পৃথিবী। অথচ মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সবকিছু কেমন পাল্টে গেছে। আজ সে আইনগতভাবে একজনের স্ত্রী, এই বাড়ির মেয়ের পাশাপাশি পুত্রবধূ। কিন্তু এই নতুন পরিচয়ের সঙ্গে কোনো আনন্দ নেই, নেই কোনো স্বপ্ন। আছে শুধু একরাশ ক্লান্তি, অসহায়ত্ব আর অজানা ভবিষ্যতের ভয়।
বেলা ধীরে ধীরে উঠে বসলো। চোখ দুটো এতটাই ফুলে গেছে যে খুলতেও কষ্ট হচ্ছে। সারারাত প্রায় ঘুমই হয়নি। কান্না আর দুশ্চিন্তার ভেতরেই রাতটা কে’টে গেছে।
সে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। বাইরের আকাশটা ধীরে ধীরে আলোয় ভরে উঠছে। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে চারপাশ মুখর হলেও তার ভেতরটা যেন নিঃশেষ হয়ে গেছে।মৃদু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে ওজু করে ফজরের নামাজ আদায় করলো। সিজদায় গিয়ে অনেকক্ষণ মাথা নিচু করে রইলো।কাঁপা কণ্ঠে শুধু একটি দোয়াই করলো,

—-হে আল্লাহ আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাইনি। যদি আমার জন্য সবাই কষ্ট পেয়ে থাকে, তাহলে তুমি আমাকে সেই শক্তি দাও, যেন একদিন সব ঠিক করে দিতে পারি। আমার বাবা-মা, চাচ্চু, চাচি সবাইকে শান্তি দাও। আর আমাকে ধৈর্য দাও।
নামাজ শেষ করেও অনেকক্ষণ মোনাজাতে বসে রইলো সে।ঠিক তখনই দরজার বাইরে মৃদু শব্দ হলো।
—টক… টক…
বেলা চমকে তাকালো।বাইর থেকে ভেসে এলো সারোয়ার খানের স্নেহভরা কণ্ঠ,
—মা, ঘুম ভেঙেছে?
বেলা তাড়াতাড়ি চোখের পানি মুছে দরজা খুলে দিলো।
সারোয়ার খান মেয়েটার ফ্যাকাশে মুখটা দেখে বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠলো। তবুও মুখে মমতার হাসি ফুটিয়ে বললেন,
—নাস্তা করতে নিচে আয়। কিছু না খেয়ে থাকবি নাগতকাল থেকে তো ঠিকমতো কিছুই খাসনি।
বেলা মাথা নিচু করে বললো,

—আমার খেতে ইচ্ছে করছে না, চাচ্চু।
—ইচ্ছে না করলেও খেতে হবে। নিজের শরীরের ওপর কোনো অ’ত্যাচার করবি না। জীবনে যত বড় ঝড়ই আসুক না কেন।
তিনি আলতো করে বেলার মাথায় হাত রাখলেন।
—আর একটা কথা মনে রাখিস, এই বাড়িতে তুই একা না। যতদিন আমি আছি, ততদিন তোকে ভয় পেতে হবে না।
সারোয়ার খানের কথায় বেলার চোখ আবারও ভিজে উঠলো। সে কিছু বলতে পারলো না। শুধু নিঃশব্দে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো।
দরজার বাহিরে এক কোণে দাঁড়িয়ে সবকিছু নীরবে দেখছিলো সায়র।বাবার কথাগুলো শুনে তার বুকটা কিছুটা হালকা হলেও, মায়ের মুখটা মনে পড়তেই আবার ভারী হয়ে উঠলো। সে জানে, সামনে পথটা মোটেও সহজ নয় একদিকে নিজের মা, অন্যদিকে নিজের দায়িত্ব। দুই দিকের টানাপোড়েনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আজ প্রথমবারের মতো সে অনুভব করলো । একটা বিয়ে শুধু দুটি মানুষের সম্পর্ক নয়, কখনো কখনো দুটি পরিবারের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষারও শুরু হয়।

সকালের নাস্তা শেষ হওয়ার পরও খান বাড়ির পরিবেশে কোনো পরিবর্তন এলো না। ডাইনিং টেবিলে বসে সবাই প্রয়োজন ছাড়া একটি কথাও বলছিলেন না। চামচের টুংটাং শব্দ আর প্লেটে খাবার নাড়াচাড়ার ক্ষীণ আওয়াজ ছাড়া পুরো বাড়িটা যেন নিস্তব্ধ হয়ে ছিলো।
বেলা মাথা নিচু করে চুপচাপ খাচ্ছিলো। গতকালের ঘটনার পর থেকে কারও চোখের দিকে তাকানোর সাহসটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছে সে। অন্যদিকে সায়রও প্রায় কিছুই খায়নি। মাঝেমধ্যে শুধু আড়চোখে বেলার দিকে তাকাচ্ছিলো। কিন্তু বেলা একবারের জন্যও তার দিকে তাকালো না।
মমতাজ বেগম নীরবে নাস্তা শেষ করে উঠে গেলেন। যাওয়ার আগে একবারও বেলার দিকে তাকালো না। তাঁর এই নীরব উপেক্ষাটাই যেন বেলার বুকের ভেতরটা আরও ভারী করে দিলো।
সবাই ড্রয়িংরুমে এসে বসতেই সারোয়ার খান চারদিকে তাকালেন। সবার মুখেই ক্লান্তি, বিষণ্নতা আর অস্বস্তির ছাপ স্পষ্ট।কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,

—এই বাড়িটার কী অবস্থা হয়েছে দেখেছো? মনে হচ্ছে যেন কেউ অসুস্থ। কাল যা হওয়ার হয়েছে। কিন্তু তাই বলে আজও সবাই এভাবে মুখ গোমড়া করে বসে থাকবে?
কেউ কোনো উত্তর দিলো না।বাশার খান শান্ত গলায় বললেন,
—আসলে কারও মনটাই ভালো নেই।
সারোয়ার খান মৃদু হেসে বললেন,
—তাই তো বলছি, মন ভালো করারই ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি হঠাৎ বিহানের দিকে তাকিয়ে বললেন,
—বিহান।
—জি, চাচ্চু?
—আজ তোমরা চারজন বাইরে ঘুরে এসো।
বিহান অবাক হয়ে বললো,
—চারজন?
—হ্যাঁ। তুমি, সায়র, বেলা আর ইরা।
বেলার মুখটা মুহূর্তেই উঠে গেলো।সারোয়ার খান স্নেহভরা গলায় বললেন,
—ইরা তো বেলার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। গতকাল থেকে ওর সঙ্গেও কথা হয়নি। ওকে ফোন করে নিয়ে এসো। সবাই মিলে কোথাও ঘুরে এসো। কাছাকাছি কোনো পার্ক, নদীর পাড় কিংবা রেস্টুরেন্টে বসে গল্প করো। সারাক্ষণ এই বাড়ির মধ্যে থাকলে মন ভালো হবে না।
বিহানের মুখে হাসি ফুটে উঠলো।

—আইডিয়াটা কিন্তু দারুণ দিয়েছেন, চাচ্চু।
ঠিক তখনই বেলা ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে বললো,
—না।আমি কোথাও যাবো না।
সবাই তার দিকে তাকালো।বেলা নিচের দিকে তাকিয়েই বললো,
—আমার কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে না। আমি এখানেই থাকবো।
সারোয়ার খান কোমল গলায় বললেন,
—কেন মা?
—ভালো লাগছে না।
—এই ভালো না লাগাটাকেই দূর করার জন্য যেতে হবে।
বেলা আবারও মাথা নাড়লো।
—চাচ্চু, প্লিজ আমাকে জোর করবে না।
নাজনীন সুলতানা মেয়ের পাশে গিয়ে বসে তার হাতটা ধরে বললেন,
—এভাবে নিজেকে ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখলে হবে? মানুষের জীবন সবসময় নিজের ইচ্ছেমতো চলে না, মা। একটু বাইরে গেলে মনটা হালকা হবে।
বেলা চুপ।বাশার খানও মৃদু হেসে বললেন,
—আর ইরা থাকবে। ও তোকে এক মুহূর্তও চুপ থাকতে দেবে না।
বিহান সঙ্গে সঙ্গে সুযোগটা লুফে নিল।
—-একদম ঠিক। আর আমি আছি না? আজকে এমন এমন কাণ্ড করবো যে তোরা হাসতে হাসতে পেট ব্য’থা করে ফেলবি।
বেলা মৃদু বিরক্ত হয়ে বললো,

—ভাইয়া, আমার হাসতে ইচ্ছে করছে না।
—এটাই তো সমস্যা। তাই তোকে হাসাতেই হবে।
কথাটা বলেই বিহান নিজের ফোন বের করে নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো,
—এইমাত্র আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অপারেশন “বেলার হাসি” শুরু হলো।
বাশার খান হেসে ফেললেন।সারোয়ার খানও মুচকি হেসে বললেন,
—দেখেছো? বিহানও আমার সঙ্গে একমত।
বেলা অসহায় চোখে একবার বাবা, একবার চাচ্চুর দিকে তাকালো।সবাই একই কথা বলছে।সে বুঝে গেলো, আজ আর না করে লাভ নেই।ধীরে ধীরে মাথা নিচু করে আস্তে বললো,
—আচ্ছা। যাবো।
বিহান সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠে দাঁড়ালো।
—ইয়েস! এই তো আমার বোন।
সে সঙ্গে সঙ্গে বেলার ফোন নিয়ে ইরার নম্বরে কল দিলো।ইরা ফোন রিসিভ করে বললো,
— হ্যালো বেলা। তোর খবর কী গতকাল থেকে অনেক কল দিলাম ফোন রিসিভ করছিস না কেন?
ওপাশে বিহান দুষ্টু গলায় বললো,
—হ্যালো মিস ইরা, আমি বেলা ন‌ই । বেলার একমাত্র হ্যান্ডসাম ভাই বলছি। আপনার জন্য একটি বিশেষ দায়িত্ব আছে।
ইরা অবাক হয়ে বললো,

—কী দায়িত্ব?
—আজ আপনাকে আমাদের সঙ্গে ঘুরতে যেতে হবে। এটা কোনো অনুরোধ না । সরাসরি আদেশ।
ওপাশ থেকে ইরা হেসে বললো,
—আপনি আবার আমাকে আদেশ দেওয়ার কে?
—আমি? আমি হচ্ছি আজকের ট্যুর ম্যানেজার।
ড্রয়িংরুমে বসে থাকা সবাই একটু হেসে উঠলো।আর সেই হাসির মাঝেই বেলার ঠোঁটের কোণেও খুব ক্ষীণ, প্রায় অদৃশ্য একটা হাসির রেখা ফুটে উঠলো। সেটা হয়তো কেউ খেয়াল করেনি।কিন্তু একজন ঠিকই দেখেছিলো। সায়র।মেয়েটার মুখে এতক্ষণ পর সামান্য হাসি দেখে তার বুকের ভেতর জমে থাকা ভারটা যেন অল্প একটু হলেও হালকা হয়ে এলো।
ইরার সঙ্গে ফোনে কথা শেষ করেই বিহান মোবাইলটা পকেটে ঢুকিয়ে হেসে বললো,
—-ব্যাস! আর মাত্র বিশ মিনিট। তারপর এই পরিবেশ পুরো পাল্টে যাবে।
বাশার খান মুচকি হেসে বললেন,
—-তোর আত্মবিশ্বাসটা দেখছি আগের মতোই আছে।
—-আত্মবিশ্বাস না আব্বু, অভিজ্ঞতা।
নাজনীন সুলতানা হালকা হেসে ফেললেন।অনেকক্ষণ পর তাঁর মুখেও একটু হাসি দেখা গেলো।বেলা অবশ্য চুপচাপ বসে ছিলো। মাথাটা নিচু। যেন আশেপাশের কোনো কথাই তার কানে যাচ্ছে না।সারোয়ার খান বিষয়টা লক্ষ্য করছিলেন।তিনি ধীরে ধীরে উঠে এসে বেলার সামনে বসলেন।খুব কোমল স্বরে বললেন,

—-মা
বেলা মুখ তুললো।
—চাচ্চু?
—একটা কথা বলবি?
—জি।
—তুই কি আমার ওপর রাগ করেছিস?
বেলা অবাক হয়ে মাথা নাড়লো।
—-না! তোমার ওপর রাগ করবো কেন?
—তাহলে আমার একটা কথা রাখ।
বেলা চুপ করে রইলো।সারোয়ার খান তার মাথায় আলতো করে হাত রেখে বললেন,
— আগামীকাল সারাদিন শুধু কান্না করেছিস। এত কান্না করলে মানুষ ভেতর থেকে ভেঙে যায়। আমি চাই না আমার মেয়েটা এভাবে ভেঙে পড়ুক।
“আমার মেয়েটা ” এই কথাটা শুনেই বেলার বুকটা কেঁপে উঠলো।চোখের কোণে আবার পানি জমে উঠলো।
সারোয়ার খান মৃদু হেসে বললেন,
—দেখলি? আবার কাঁদছিস।
—আমিআমি চেষ্টা করছি, চাচ্চু। নিজেকে স্বাভাবিক রাখার।
সারোয়ার খান দীর্ঘশ্বাস ফেললে বললো,
—জানি।
—তোর জীবনে যা হয়েছে, সেটা মেনে নেওয়া সহজ নয়। কিন্তু একটা কথা মনে রাখিস, এই বাড়িতে তুই একা না।
তিনি একবার সায়রের দিকে তাকিয়ে আবার বললেন,

—-আমি আছি। তোর চাচি আছেন যদিও এখন সে অনেক কষ্টে আছেন। তোর আব্বু-আম্মু আছে। বিহান আছে। সায়র আছে।
বেলা ধীরে ধীরে চোখ মুছে ফেললো।
—চাচ্চু আমি শুধু চাই, আমার জন্য আর কেউ কষ্ট না পাক। কেউ কষ্ট পেলে আমার খুব খারাপ লাগে।
সারোয়ার খান শান্ত কণ্ঠে বললেন,
—সেটা আর তোর হাতে নেই, মা।কখনো কখনো আল্লাহ এমন কিছু লিখে রাখেন, যেটা মানুষ চাইলেও বদলাতে পারে না। তখন আমাদের শুধু ধৈর্য ধরতে হয়।
বেলা কোনো উত্তর দিলো না।ঠিক তখনই বাইরে একটা সিএনজির হর্ন শোনা গেলো।
বিহান সোফা থেকে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো।
—এই যে! মনে হচ্ছে টর্নেডো এসে গেছে। কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি আসলো কিভাবে?
সায়র ভ্রু কুঁচকে বললো,
— টর্নেডো?
বিহান হেসে বললো,
—ইরা এসেছে।

কথা শেষ হতেই দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো ইরা।
হাতে ছোট্ট একটা ব্যাগ।চোখে মুখে উদ্বেগ।ভেতরে ঢুকেই প্রথমে সবাইকে সালাম দিলো ।
সবাই উত্তর দিতেই তার চোখ বেলার ওপর গিয়ে থামলো।মাত্র একদিনের ব্যবধানে মেয়েটা কতটা বদলে গেছে!মুখ ফ্যাকাশে।চোখ ফুলে লাল।ঠোঁটে কোনো হাসি নেই।ইরার বুকটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠলো।সে আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে থাকলো না।দৌড়ে গিয়ে বেলাকে জড়িয়ে ধরলো।
—-পা’গলি।
এই একটি শব্দ শুনেই বেলা নিজেকে আর সামলাতে পারলো না।সে শক্ত করে ইরাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললো।
—-ইরা…
ড্রয়িংরুমে উপস্থিত সবাই নিঃশব্দে সেই দৃশ্যটা দেখছিলেন।বন্ধুত্বের সম্পর্কটা কখনো কখনো র”ক্তের সম্পর্কের চেয়েও গভীর হয়ে ওঠে।আজ সেই দৃশ্যটাই যেন চোখের সামনে ফুটে উঠেছে।ইরা আলতো করে বেলার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
—আর কাঁদবি না। এখনো তৈরি হসনি। আয় আমি তোকে আজ সাজিয়ে দিব।
ঠিক তখনই বিহান গলা খাঁকারি দিল।
—হুম।আমাদের সামনে এত আবেগ দেখানোর দরকার আছে?
ইরা চোখ পাকিয়ে বললো,
—আপনার সমস্যা কী?
—সমস্যা হলো, আমার শার্ট ভিজে যাবে মনে হচ্ছে।
ইরা সঙ্গে সঙ্গে একটা কুশন তুলে ছুঁড়ে মারলো।
—চুপ করেন। আপনার বুকে গিয়ে আমরা কান্না করছি নাকি?
—আরে! আসতে না আসতেই এই নিরীহ ছেলেটার উপর হা”মলা শুরু করে দিলেন?
ইরা মুখ বেঁকিয়ে বেলাকে নিয়ে উপরে উঠে গেলো।

গাড়িটার ইঞ্জিন স্টার্ট হতেই খান বাড়ির বিশাল লোহার গেটটা ধীরে ধীরে খুলে গেলো। বিকেলের কোমল রোদ ইতোমধ্যেই চারপাশটাকে উজ্জ্বল করে তুলেছে। রাতের ভারী অন্ধকার আর বিষণ্নতার বিপরীতে আজকের আকাশটা ছিল একেবারে নির্মল। হালকা বাতাসে রাস্তার দু’পাশের কৃষ্ণচূড়ার ডালপালাগুলো দুলে উঠছে। প্রকৃতি যেন নিজের নিয়মেই সুন্দর, অথচ সেই সৌন্দর্যের ছোঁয়া এখনও গাড়ির ভেতরে বসে থাকা একটি মানুষের মন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি।
ড্রাইভিং সিটে বসেছে সায়র। তার পাশের সিটে বিহান। আর পেছনের সিটে পাশাপাশি বসেছে বেলা ও ইরা। তবে পাশাপাশি বসলেও বেলার দৃষ্টি ছিল জানালার বাইরের দিকে। গাড়ির কাঁচের ওপাশে ছুটে চলা শহরটাকে দেখছিলো ঠিকই, কিন্তু তার চোখে কোনো কৌতূহল ছিলো না। মনে হচ্ছিল, বাইরের কিছুই যেন তাকে স্পর্শ করতে পারছে না।
সায়র খুব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছিলো। দু’হাত শক্ত করে স্টিয়ারিং ধরে সামনের রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে। মাঝে মাঝে রিয়ার ভিউ মিররে তার চোখ চলে যাচ্ছে পেছনের সিটে। বেলা এখনও আগের মতোই নিশ্চুপ। সেই নিশ্চুপ মুখটা দেখলেই তার বুকের ভেতরটা কেমন অদ্ভুত ভারী হয়ে উঠছে। গতকাল নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের ভারটা যে বেলার কাঁধেও সমানভাবে এসে পড়েছে, সেটাই তাকে বারবার কষ্ট দিচ্ছে।
নীরবতাটা বেশ কিছুক্ষণ ধরে গাড়ির ভেতর দখল করে রাখলো। শেষ পর্যন্ত সেই নীরবতা ভাঙার দায়িত্বটা যথারীতি নিজের কাঁধে তুলে নিল বিহান।সে হঠাৎ সামনের ড্যাশবোর্ডে আলতো টোকা দিয়ে নাটকীয় গলায় বললো,

–সায়র, একটা কথা বলি?
—হুম, বল।
—এই গাড়িতে কি কথা বলা নিষিদ্ধ?
সায়র মুচকি হেসে বললো,
—কেন?
—কারণ আমরা বের হয়েছি প্রায় দশ মিনিট হতে চললো। এই দশ মিনিটে তুই মোটে তিনটা শব্দ বলেছিস,সিটবেল্ট বাঁধো, দরজা লাগাও, আর চলো। এর বাইরে তোর মুখ থেকে আর কোনো শব্দ বের হয়নি।
ইরা সঙ্গে সঙ্গেই হেসে ফেললো।
—আমি তো ভাবছিলাম, শুধু আমারই এমন মনে হচ্ছে।
বিহান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
—এভাবে চলতে থাকলে আজকে আমরা ঘুরতে না গিয়ে শোকসভা করে বাড়ি ফিরবো।
ইরাও দুষ্টু ভঙ্গিতে মাথা নাড়লো।
—আমারও তাই মনে হচ্ছে।
সায়র এবার হালকা হেসে বললো,
—তোদের দু’জনকে একসঙ্গে আনাটাই ভুল হয়েছে।
—কেন?
—তোরা দু’জন একসঙ্গে থাকলে পাঁচ মিনিটও শান্তি থাকে না।
ইরা ভ্রু উঁচু করে বললো,

—দোষটা সবসময় আমাদেরই কেন হবে?
বিহান সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করলো,
—একদম! আজকে আমরা নির্দোষ।
—আপনি আর নির্দোষ?
ইরা ঠোঁট বাঁকিয়ে তাকালো।
—আপনার মুখে এই কথাটা শুনে হাসি পাচ্ছে।
বিহান অবাক হওয়ার ভান করে বুকের ওপর হাত রাখলো।
—দেখেছিস সায়র?এই মেয়েটা আমাকে সম্মানই করে না।
—সম্মান পাওয়ার মতো কাজও তো করতে হবে।
—আচ্ছা! তাহলে বলো তো, আমি এমন কী করেছি?
ইরা আঙুল গুনে গুনে বলতে শুরু করলো,
—প্রথমত, ফোনে আমাকে আদেশ করেছেন। দ্বিতীয়ত, বাড়িতে ঢুকতেই আমার সঙ্গে তর্ক শুরু করেছেন। তৃতীয়ত…
—থামুন, থামুন!
বিহান দুই হাত তুলে আত্মসমর্পণের ভঙ্গি করলো।

—আর বলতে হবে না। আমি বুঝে গেছি, আমার বিরুদ্ধে আপনার কাছে বিশাল চার্জশিট জমা আছে।
কথাটা শেষ হতেই গাড়ির ভেতর হালকা হাসির রোল উঠলো।অনেকক্ষণ পর বেলার ঠোঁটের কোণেও অজান্তেই একফোঁটা হাসি ফুটে উঠলো।সেটা খুব ক্ষণস্থায়ী ছিলো।
কিন্তু সেই ছোট্ট হাসিটুকুও সায়রের চোখ এড়ালো না।রিয়ার ভিউ মিররে ভেসে ওঠা সেই হাসিটা দেখে অদ্ভুত এক প্রশান্তি নেমে এলো তার মুখে। সে কিছু বললো না। শুধু মনে মনে ভাবলো,
—এই হাসিটা যদি ধীরে ধীরে আবার ফিরিয়ে আনতে পারি, তাহলেই হয়তো আজকের সব কষ্ট একদিন দূর হয়ে যাবে রে বেলা। আবার সেই চঞ্চলবতী হয়ে ফিরে আয়।
ঠিক সেই সময় রাস্তার সামনে একটি ছোট্ট গর্ত পড়ায় গাড়িটা হালকা ঝাঁকুনি খেলো।অপ্রস্তুত হয়ে বেলা সামনের দিকে একটু ঝুঁকে পড়লো।প্রতিক্রিয়াস্বরূপ সায়রের বাঁ হাতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সামান্য পেছনের দিকে সরে এলো, যেন কোনো অদৃশ্য আশঙ্কা থেকে তাকে আগলে রাখতে চাইছে। যদিও তাদের মাঝে সিটের দূরত্ব ছিলো, তবুও সেই অচেতন প্রতিক্রিয়াটা বেলার চোখ এড়ালো না।এক মুহূর্তের জন্য দু’জনের দৃষ্টি রিয়ার ভিউ মিররের মাধ্যমে এক হয়ে গেলো।কেউ কিছু বললো না।সায়র নিঃশব্দে আবার স্টিয়ারিংয়ে মন দিলো।
আর বেলা ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলো। কিন্তু এবার তার বুকের ভেতরের অস্থিরতার সঙ্গে যেন অচেনা নিরাপত্তাবোধও নীরবে জায়গা করে নিতে শুরু করলো।

প্রায় চল্লিশ মিনিটের পথ পেরিয়ে গাড়িটা শহরের কোলাহল ছেড়ে অনেকটা নিরিবিলি এক এলাকায় এসে ঢুকলো। চারপাশের দৃশ্য ধীরে ধীরে বদলে যেতে লাগলো। উঁচু উঁচু ভবনের পরিবর্তে চোখে পড়ছে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ, সারি সারি গাছ আর দূরে রূপালি রঙের এক প্রশস্ত নদী।
নদীর ঠিক পাশেই সুন্দর করে সাজানো একটি বিনোদনকেন্দ্র। চারদিকে নানা রকম ফুলের বাগান, লাল ইটের হাঁটার পথ, ছোট ছোট কাঠের বেঞ্চ, আর নদীর বুকের ওপর অনেকটা দূর পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়া কাঠের জেটি। বিকেলের কোমল রোদ তখন ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। সেই সোনালি আলো নদীর পানিতে পড়ে চিকচিক করছে। হালকা বাতাসে নদীর ঢেউগুলো তীরে এসে বারবার আছড়ে পড়ছে। দূরে কয়েকটি ছোট নৌকা অলস ভঙ্গিতে ভেসে বেড়াচ্ছে। কয়েকটি শিশু ঘুড়ি ওড়াচ্ছে, আবার আশেপাশে পরিবার নিয়ে মানুষজন গল্পে মেতে উঠেছে।
গাড়ি থামতেই বিহান দরজা খুলে নেমে দু’হাত ছড়িয়ে গভীর করে একটা নিঃশ্বাস নিলো।

—-আহ! এই বাতাসটার জন্যই তো এখানে আসা।
ইরা হেসে গাড়ি থেকে নেমে চারপাশে তাকিয়ে বললো,
—জায়গাটা সত্যিই অনেক সুন্দর। মনে হচ্ছে, এখানে এলে মন খারাপ করে থাকাই অ’পরাধ।
সায়র গাড়ির দরজা লক করতে করতে একবার পেছন ফিরে তাকালো।বেলা এখনও নেমে দাঁড়িয়ে আছে ঠিকই, কিন্তু অন্যদের মতো চারপাশ দেখছে না। দু’হাত ওড়নার প্রান্তে জড়িয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।সারাটা পথ সে আগের চেয়ে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, তার ভেতরের সংকোচ এখনও কা’টেনি।ইরা ধীরে ধীরে তার কাছে এগিয়ে এসে হাতটা ধরে বললো,
—চল না।
বেলা মৃদু স্বরে বললো,
—তোরা ঘুর। আমি এখানেই বসে থাকি।
—একদম না।
—-আমার ভালো লাগছে না।
ইরা এবার তার কাঁধে হাত রেখে নরম গলায় বললো,
–তুই কি জানিস, তোর মুখটা এমন গোমড়া হয়ে থাকলে আমাদেরও ভালো লাগে না? আজকে শুধু নিজের জন্য না, আমাদের জন্যও একটু হাসার চেষ্টা কর।

বেলা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো।তারপর খুব আস্তে মাথা নাড়লো।চারজন ধীরে ধীরে নদীর পাশের লাল ইটের পথ ধরে হাঁটতে শুরু করলো। বাতাসের ঝাপটায় বেলার কপালের পাশে বেরিয়ে থাকা কয়েকটি চুল বারবার মুখের ওপর এসে পড়ছিলো। সে বারবার হাত দিয়ে সেগুলো সরিয়ে নিচ্ছিলো।সায়র কয়েক কদম সামনে হাঁটছিলো। হঠাৎই তার চোখে পড়লো, বাতাসে উড়ে আসা চুলগুলো বারবার বেলার চোখে লাগছে।সে এক মুহূর্ত থেমে পেছন ফিরে তাকালো।কিছু বলতে গিয়েও নিজেকে থামিয়ে নিলো।সে জানে, এই মুহূর্তে অযথা কোনো যত্ন দেখালে বেলা আরও অস্বস্তিতে পড়বে।তাই শুধু ধীর পায়ে তাদের গতির সঙ্গে নিজের গতি মিলিয়ে নিলো।দূরে নদীর ওপর দিয়ে এক ঝাঁক সাদা বক উড়ে গেলো।ইরা হঠাৎ শিশুদের মতো উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলো।
—দেখ! দেখ! কী সুন্দর!
সে আনন্দে বেলার হাত টেনে নদীর আরও কাছে নিয়ে গেল।বেলা নদীর দিকে তাকিয়ে রইলো।হালকা বাতাসে তার ওড়নাটা উড়ে উঠছে। নদীর পানিতে অস্তগামী সূর্যের আলো চিকচিক করছে। অদ্ভুত এক শান্তি চারপাশে ছড়িয়ে আছে।অনেকক্ষণ পর তার বুকের ভেতরে জমে থাকা অস্থিরতাগুলো যেন একটু একটু করে নরম হতে শুরু করলো।সে খুব ধীরে, নিজের অজান্তেই গভীর একটা নিঃশ্বাস নিলো।মনে হলো, এতদিন পর যেন প্রথমবারের মতো বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছে।

বিহান আর ইরা নিজেদের গল্পে মেতে কখন যে অনেকটা সামনে চলে গেছে, সেটা বেলা কিংবা সায়র কেউই খেয়াল করেনি। নদীর পাড়ের লাল ইটের সরু পথটা এখন অনেকটাই ফাঁকা। চারপাশে ছড়িয়ে আছে বিকেলের শেষ আলো। পশ্চিম আকাশে সূর্যটা ধীরে ধীরে নদীর বুকে নেমে যাচ্ছে। ‌
বেলা খুব ধীরে ধীরে হাঁটছিলো। তার পায়ের গতি এতটাই ধীর ছিলো, যেন কোথাও পৌঁছানোর কোনো তাড়া নেই। মাঝে মাঝে সে নদীর দিকে তাকাচ্ছে, আবার কখনো দূরের আকাশের দিকে। দীর্ঘদিন পর প্রকৃতির এত কাছাকাছি এসে তার বুকের ভেতরে জমে থাকা ভারগুলো যেন একটু একটু করে হালকা হতে শুরু করেছে।
সায়র তার থেকে দুই-তিন কদম দূরে হাঁটছিলো।সে ইচ্ছে করলেই বেলার একদম পাশে এসে হাঁটতে পারতো। কিন্তু সে তা করলো না। কারণ সে জানে, কিছু সম্পর্কের কাছে যাওয়ার আগে দূরত্বটুকুকেও সম্মান করতে হয়।কয়েক মুহূর্ত দু’জনের মাঝেই কোনো কথা হলো না।শুধু বাতাস বইছে।নদী বয়ে যাচ্ছে।আর পাশাপাশি হেঁটে চলেছে দুটি মানুষ, যাদের ভাগ্য এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে, অথচ মন এখনও একে অপরকে চিনে নেওয়ার পথে।হঠাৎ বেলা থেমে গেলো।সামনেই নদীর দিকে একটু বেরিয়ে যাওয়া কাঠের একটি ছোট জেটি।সে ধীরে ধীরে সেখানে গিয়ে রেলিংয়ে হাত রাখলো।চোখ স্থির হয়ে রইলো নদীর পানির দিকে।
সায়রও কিছুটা দূরে গিয়ে থামলো।সে কোনো কথা বললো না।বেলার এই নীরবতায় হস্তক্ষেপ করতে তার ইচ্ছে করলো না।কয়েক মিনিট এভাবেই কে’টে গেলো।শেষ পর্যন্ত বেলাই খুব আস্তে বললো,

—জায়গাটা খুব সুন্দর।
সায়র তার দিকে না তাকিয়েই মৃদু স্বরে উত্তর দিল,
—হ্যাঁ।
আবার নীরবতা।কিছুক্ষণ পর সে ধীরে ধীরে বললো,
—আমি যখন খুব বেশি ক্লান্ত হয়ে যাই। মানসিক অশান্তি লাগে। কিংবা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।তখন এখানে চলে আসি।
বেলা এবার একটু অবাক হয়ে তার দিকে তাকালো।
—কেন?
সায়র মৃদু হেসে মাথা নাড়লো।
—দীর ধারের স্নিগ্ধ হাওয়া। মানুষের ভেতরের অস্থিরতাগুলো ধীরে ধীরে শান্ত করে দেয়।
বেলা আবার নদীর দিকে তাকালো।খুব আস্তে বললো,
—হয়তো সত্যিই তাই।
বাতাসটা হঠাৎ একটু জোরে বইতে শুরু করলো।বেলার কপালের সামনে নেমে আসা এলোমেলো চুলগুলো বারবার চোখের ওপর এসে পড়ছিলো। সে বারবার হাত দিয়ে সরাচ্ছিলো।সায়র কয়েক সেকেন্ড চুপ করে তাকিয়ে রইলো।তারপর নিজের পকেট থেকে একটা ছোট কালো হেয়ার ব্যান্ড বের করলো।
বেলাকে এগিয়ে দিয়ে শান্ত গলায় বললো,

—এটা তো আমার মনে হচ্ছে?
বেলা বিস্মিত হয়ে ব্যান্ডটার দিকে তাকিয়ে রইলো।এটা সেই হেয়ার ব্যান্ড।যেটা একদিন ভুল করে সায়রের রুমে ফেলে এসেছিলো।যেটা নিয়ে তাদের মধ্যে অদ্ভুত এক বিব্রতকর মুহূর্ত তৈরি হয়েছিলো। সেদিন ই প্রথম বেলা সায়রকে ভালো লাগার কথা জানায়। ভাবতেই লজ্জা পেলো সে।বেলা ধীরে ধীরে ব্যান্ডটা হাতে নিলো।তার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই খুব ক্ষীণ একটা হাসি ফুটে উঠলো।
—আপনি এটা কোথায় পেলেন?
সায়র হালকা হেসে বললো,
— টেবিলের নিচে পড়ে ছিলো।
এক মুহূর্ত থেমে আবার বললো,
—ভাবছিলাম, একদিন মালিককে ফেরত দিয়ে দেব।
বেলার চোখ দুটো কয়েক সেকেন্ডের জন্য সায়রের চোখের সঙ্গে আটকে গেলো।বেলা খুব ধীরে বললো,

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ২৪

—ধন্যবাদ।
সায়র মাথা নাড়লো,
—আজ থেকে ধন্যবাদ শব্দটা কম বলার চেষ্টা করবি। আমরা এখন স্বামী- স্ত্রী । এইসব ধন্যবাদ- টন্যবাদ টানবি না আমাদের মাঝে।
কথাটা বলেই সায়র যেন নিজেই একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলো।সে সঙ্গে সঙ্গে নদীর দিকে তাকিয়ে ফেললো।
আর বেলা তার বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠলো।
এত সহজ, এত স্বাভাবিক ভাবে সায়র বলে ফেললো কথাগুলো। যা বেলার মনকে জুড়িয়ে গেলো।তার অজান্তেই ঠোঁটের কোণে খুব ছোট্ট, লাজুক একটা হাসি ফুটে উঠলো।সেই হাসিটা দেখে সায়রের বুকের ভেতরও অদ্ভুত এক প্রশান্তি নেমে এলো।

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ২৬