Home রাগে অনুরাগে রাগে অনুরাগে পর্ব ২৮

রাগে অনুরাগে পর্ব ২৮

রাগে অনুরাগে পর্ব ২৮
সুহাসিনি ফাতেহা

“নিউটনের প্রথম সূত্র হলাম আমি! দ্বিতীয় সুত্র হলেন আপনি! তৃতীয় সূত্র আমাদের টুনাটুনিরা। চতুর্থ সূত্র আমরা সবাই!” দেখুন হয়েছে কিনা?
বেয়াদব বউয়ের মুখ থেকে নিউটনের সূত্রের এমন অদ্ভুত উত্তর শুনে ফারাজের ভ্রুজোড়া কুঁচকে গেলো মুহূর্তেই। তার বউকে নিউটন বিজ্ঞানীর পক্ষ থেকে নোবেল পুরুষ্কার দেওয়া দরকার! তার পক্ষ থেকেও কিছু পানিশমেন্ট পুরুষ্কার দিতে হবে।
টুনাটুনি শব্দটা শোনার পর থেকে তার সুদর্শন মুখখানায় সে-কি সন্দিহান ভাব! সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে মেয়েলি চেহারাটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল। অতঃপর বাদামী অধরযুগলে বাঁকা হাসির রেশ ফুটিয়ে ফের প্রশ্ন করল,

“এই সূত্র গুলোর আবিষ্কারক কে? এবং কিভাবে তোমার সূত্রগুলোর উন্মোচোন হয়েছে? ব্যাখ্যা দাও?”
সপ্তদশীর হুঁশ নেই। সে মূলত নিউটনের সূত্রের মাঝে নিজেদের ভেবে বসেছে, সাথে তাদের ভবিষ্যৎ টুনাটুনিদেরকে। এবারও ভুল করে নি। ফারাজ বলার সাথে সাথেই খুব দ্রুত উত্তর দিলো,
“সূত্রগুলো তিতলি বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছে। একদিন এক পঁচা আপেল উড়ে এসে আমার মাথার উপর পড়েছিল। সেদিন আমি নিজেই এই সূত্র আবিষ্কার করেছি! শুধু মাথার উপর পড়ে নাই, তার কিছুমাস পর আমাদের বিয়েও হয়েছে। এখন আমরা দুজন জামাই-বউ!”
ফারাজের ভ্রুযুগলে ভাঁজ পড়ল। বিদ্বিষ্ট চাউনী গভীরতা পেল। সহসা নিজ নিম্নাংশের অধর কামড়ে ধরল যুবক। বেয়াদব বউ তাকে না রাগিয়ে শান্তিতে নিশ্বাস নিতে পারে না। আচমকা হাতের স্কেল দিয়ে টেবিলে আওয়াজ করে দুইটা বারি বসাল। কপট রাগ দেখিয়ে হিসহিসিয়ে বলল,
“মানে কী এসবের?”
তিতলি কেঁপে উঠল। ধড়ফড় করে উঠে দুইহাতে হাত বুক গুঁজল। নিজের বলা উত্তর গুলো মনে করতেই মিটিমিটি হেসে বলল,

“আমি কি ভুল উত্তর দিয়েছি নাকি? আপনি বলছেন কীভাবে আবিষ্কার করছি? তাই আমিও উত্তর দিয়েছি!”
ফারাজ চোখ ছোট করে তাকাতেই তিতলি লাজুক ভঙ্গিতে পল্লব ঝাপটে চুল গুঁজল কানে। লোকটা তার দিকে এভাবে তাকাচ্ছে কেন? বেঘোরে দাঁত কেলিয়ে বলল,
“সুন্দরী কিউট বউকে পড়াতে বসে চোখ ফিরাতে পারছেন না বুঝি? হুহ!”
ফারাজ খান বেয়াদব বউয়ের কথার প্রতিত্তোর দেবার প্রয়োজনীয়তা না দেখিয়ে তৎক্ষনাৎ চেয়ার থেকে একটানে বউকে কাঁধে তুলে নিলো। আকস্মিক ঘটনায় তিতলি হক’চকি’য়ে উঠল।
পা দুটো ছড়াছড়ি করে খামচে ধরেছে রুঢ় মানবের পিঠ সহ কাঁধ। কয়েকবার চিমটিও বসাল! ফারাজ ঠোঁট বাঁকাল! নখ গুলো কি সে এমনি এমনি কেটে দিয়েছে নাকি? সেদিকে বিন্দুমাত্র উদ্বেগ দেখালেন না যুবক।
তিতলি পা’দুটো লাফাতে লাফাতে বলল,

“ছাড়ুন! আমাকে কাধেঁ তুলছেন কেন? আমাকে পড়ান! আমি আরো পড়তে চাই!”
ফারাজ তিতলির পাদুটো বলিষ্ঠ হাতের চিপায় ধরে রেখে শক্ত মুখে আওড়াল,
“তোমাকে বড়দের পড়া পড়াতেই নিয়ে যাচ্ছি বউ!”
“না, না আমি ছোটদের পড়া পড়বো প্লিজ! আমাকে নামান!”
ফারাজ উল্টো দু-কদম হেঁটে এসে আচমকা বউকে ছুঁড়ে ফেলল নরম বিছানায়। অতঃপর চোখে-মুখে অদ্ভুত আচ্ছন্নতা লেপ্টে, যতটা ঝুঁকা যায় ঠিক ততটাই ঝুঁকলো ওর মুখের কাছে। তিতলি বিছানার সাথে মিশে গেল পুরোপুরি। ফারাজের শরীরের পুরুষালী সুবাস নাসারন্ধ্র ভেদ করতেই বড়বড় নিশ্বাস নিতে থাকল। মরতে থাকা প্রাণীর মতো হাঁসফাঁস করতে করতে বলল,
“ছাড়ুন প্লিজ!”
ফারাজ সে কথা শুনলোই না। বেয়াদব বউকে জ্বালানোর অভিনব সুযোগ কি আর ওত সহজে হাতছাড়া করবার মানুষ সে? উল্টো আগের তুলনায় আরো ঝুঁকে এসে বাঁকা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“উমমমম! এত বড়বড় নিশ্বাস নিয়ে আমাকে নেগেটিভ ফিল দিচ্ছো কেন? এখন আমি যদি কিছু করে দিই?”
“দূ..দূরে যান!”
“না কাছে আসি!”

কথাটা শেষ হতেই তিতলির পুরো শরীরটা নিস্তেজ হয়ে পড়ল যেন। দুচোখের পাতা বন্ধ করে নিলো ভয়ে।
যুবক তখন গভীর চোখে তাকাল রমণীর বন্ধ দুচোখের কম্পিত পাতার দিকে। তারপর নাক এরপর কম্পিত অধরযুগল, এরপর তা নামল থুঁতনি বেয়ে খালি গলায় চকচক করা লাল তিলটার উপর। এরপর আরো নিচে নামল। আবার ঘুরেফিরে চোখদুটো এসে থামল তিরতির করে কাঁপতে থাকা পাতলা অধরযুগলে।
ফারাজের হঠাৎ অদ্ভুত অনুভূতি হলো। বাড়াবাড়ি করে বউকে নিজের সাথে পিষে ফেলতে মন চাইল।তিতলির ছটফটানি ফারাজের মনে তীব্র ক্রুর আনন্দ দিচ্ছে। অবাধ্য বেয়াদব বউ এখন দেখুক সে কিভাবে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে পারে। তিতলি আবারও ছটফট করে উঠতেই তৎক্ষণাৎ ফারাজ কৌতুক করলো তিতলির সাথে। খানিকটা দুষ্ট স্বরে শুধালো,

“একদম নড়বেন না ম্যাডাম। আমার কাজ আমাকে শেষ করতে দিন। নয়তো শাস্তি বাড়বে।”
তিতলি শুনলো না কথা! তড়াক প্রয়াস চালালো বিছানা থেকে উঠে আসার। পাহাড়সম বলিষ্ঠ পুরুষ তো সরলেনই না, উল্টো জোর বাড়ালেন হাতের। একহাতে তক্ষুনি চেপে ধরলেন বেয়াদব বউয়ের মোলায়েম হাতদুটোর নরম কব্জি! অতঃপর সময় নিয়ে মোচড়াতে থাকা তিতলির ঘাড়ের বড্ড কাছে মুখ নামিয়ে আনল। ফারাজের নেওয়া ঘনঘন নিশ্বাস তার ঘাড়ে পড়ছে। পরপর সেখানে পুরুষালী নরম ঠোঁটের বিচরণ! তিতলি নড়েচড়ে উঠলো। গলা শুকিয়ে গেল তার। অশান্ত মন স্থির, অবিচল হলো। লোকটার সামান্য ছোঁয়াতেই এক সেকেন্ড দুই সেকেন্ডের ভেতর মাথার সবকিছু কেমন যেন ফাঁকা হয়ে এল, স্নায়ুর ওপর থেকে সমস্ত জোর হারিয়ে এক গভীর ক্লান্তিতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল সে।
ফারাজ তিতলির ঠোঁটের মুখোমুখি নিজের ঠোঁট জোড়া এনে, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে একদম নিচু গম্ভীর স্বরে বলে

“আমাকে জ্বালিয়ে তুমি কোনোদিন নিস্তার পাবে না। যা করবে তা দ্বিগুন ভাবে ফিরিয়ে দিবো।”
বেয়াদব বউকে হঠাৎ আর নড়াচড়া করতে না দেখে ফারাজ হকচকিয়ে উঠল। জ্ঞান হারিয়ে ফেলল নাকি? বিচলিত হয়ে তখন নিজের খসখসে হাতের মুঠোয় ধরে রাখা দুহাতের নরম কব্জি ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। আলগোছে পাঁজাকোলে নিয়ে বেয়াদব বউকে বালিশে শুইয়ে দিয়ে বিড়বিড় করে আওড়াল,
“এ যাত্রায় বেঁচে গেলেন! থাক ব্যাপার নাহ! সময় হলে তখন আমি ফারাজ খান তোমার কোনো বাঁধা মানবো না। তার আগে যত উড়বার ইচ্ছে উড়ে নিন।”
বলে ফারাজ বাঁহাতে ঘাড় ডলতে ডলতে বিছানা থেকে নামতেই তিতলি চোরা চোখে তাকাল। মুখ ভেংচি কেটে নিজ মনে বলল,
“আমি জ্ঞান হারায়নি! ভাল্লুক কোথাকার! এটা শুধুমাত্র আপনার থেকে বাঁচার অভিনয়! উড়তে বলছেন উড়তে উড়তে আপনাকে সহ উড়িয়ে দিবো। আপনি ফারাজ খান হলে আমিও ফারাজ খানের বউ!”

শনিবার দুপুর বারোটা বাজে ঘড়িতে। শুক্র-শনি দুদিন স্কুল কলেজ ভার্সিটি সব সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ। আজকে প্রায় তিনদিন ঝিলিককে দেখে না তুষার। তাই আজ ঝিলিকদের বাসার নিচে এসে বাইক থামিয়েছে। বাড়ি যাওয়ার পথে রাস্তার মোড় ঘুরিয়ে এদিকে চলে এসেছে। হাতে মোটামুটি বড় সাইজের একটা গিফট বক্স! অনেক পছন্দ করে ঝিলিকের জন্য কিনেছে। মেয়েটার কি পছন্দ হবে। তিতলির জন্য সবসময় অনেক কিছু কিনে আনতো সে হিসাবে মেয়েদের জিনিস কোনটা ভালো কোনটা খারাপ এগুলো সে খুব ভালো করেই জানে। কিন্তু তাও একটু দ্বিধায় ভুগছে। পকেট থেকে ফোন বের করে ঝিলিকের নাম্বারে ফোন দিলো। দুবার রিং হওয়ার সাথে সাথেই রিসিভ হলো। ওপাশ থেকে কিছু বলার আগেই তুষার বলল,
“বাড়ির বাইরে আসুন ঝিলিক! আপনার অপেক্ষায় প্রহর কাটছি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।”
তুষার কথাটা বলার পরপরই ওপাশ থেকে উত্তর এলো,

“কাকে চাই?”
তুষার থতমত খেয়ে গেল। হবু শাশুড়ি আম্মা ফোন ধরেছে বুঝতে সময় লাগলো না তুষারের।
বাঁকা হেসে অচেনা কণ্ঠে বলল,
“আপনার মেয়ে ঝিলিককে চাই! তার পার্সেল এসেছে তাকে একটু নিচে পাঠান!”
“এই ছেলে তুমি কিভাবে জানলে আমি মা নাকি মেয়ে?”
তুষার খুক খুক করে কেশে উঠল। হবু শাশুড়ির কথা শুনে। রিনা খান 2 মনে হচ্ছে। তবে এটা মন্দ না। বাইকে হাত দিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে তাড়া দেখিয়ে বলল,
“পার্সেলটা নিয়ে যেতে বলেন আন্টি। অন্য পার্সেল ডেলিভারি দিতে হবে, আমার হাতে সময় কম।”
ঝিলিকের মা জিসা বেগম ফোন চলাকালীন অবস্থায় মেয়েকে ডেকে বললেন,
“ঝিলিক তোর নাকি পার্সেল এসেছে।”
ঝিলিক ডিম ভাজা করার জন্য ডিম ভেঙে দেখে ডিম ভেতরে নষ্ট তাই জানালার কাছে আসতে আসতে মায়ের কথা শুনে বলল,

“আমি তো কোনো পার্সেল অর্ডার দিই নি আম্মু! ভুল মানুষের কাছে পার্সেল এসেছে বলে দাও।”
ঝিলিকের মা তাই করলেন। ফোনের ওপাশের ব্যক্তিটাকে বললেন,
“আমার মেয়ে কোনো পার্সেল অর্ডার করেনি। তুমি ঠিকানা ভুলে গেছো।”
ঝিলিক নষ্ট ডিমটা ফেলে দিলো। জানালা দিয়ে সে সে নষ্ট ডিমটা এসে উপর থেকে সোজা তুষারের মাথার উপর পড়ল। তুষারের কানে তখনো ফোন হঠাৎ মাথায় কিছু পড়েছে বুঝতেই উপরে তাকাল। কাউকে দেখল না। বাম হাত তুলে মাথায় হাত দিতেই আসলো সে নষ্ট ডিমের অর্ধাংশ। তুষার নাক ছিটকালো কি বাজে গন্ধ। ঝিলিক সরে যাচ্ছিল আবার কি মনে করে জানালার কাছে এসে নিচে তাকাতেই চেনা কাউকে দেখে মেয়েটার চোখ দুটো বড়বড় হয়ে গেল। স্পষ্ট অস্পষ্ট সুরে আওড়াল,
তুষার ভাই এখানে? উনি মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? ডিমটা উনার মাথায় পড়লো না তো? ঝিলিক জিভ কাটলো সাথে সাথেই। নিজেও মাথায় হাত দিয়ে বলল,
“ইয়া আল্লাহ! এটা আমি কি করলাম?”

ঝিলিক কি করবি এখন তুই? তুষার ভাই নিজেকে ডেলিভারি ম্যান বানায় দিলো। ভাবনায় পড়লো মেয়েটা কি পার্সেল এনেছে উনি? না গেলে কি রাগ করবেন? খছখছে মনে কি করবে কি করবে ভেবে মাথায় ঘোমটা দিয়ে নিচে বাইরে যাওয়ার জন্য। চাইল। ঠিক তখনি জিসা বেগম বললেন,
“এই কোথায় যাচ্ছিস তুই?”
ঝিলিক ভয় পেয়ে গেল মায়ের কথা শুনে। ইনিয়েবিনিয়ে বলল,
“পা..পার্সেল আনতে আম্মু!”
জিসা বেগম সন্দেহের গলায় বললেন,
“একটু আগে বললি না তুই কোনো পার্সেল অর্ডার করিস নি?”
“ভু..ভুল বলছি আম্মু! কয়েকদিন আগে অর্ডার দিয়েছিলাম এখন মনে পড়েছে।”
ঝিলিকের কথা শেষ হতে না হতেই জিসা বেগমের হাতে থাকা ফোনটা ফের বেজে উঠল।
জিসা বেগম মেয়ের ফোনটা বাজতে দেখেই হাতে নিয়েছিলেন প্রথমে। এবার আর নিজে রিসিভ না করে মেয়েকে দিয়ে বললেন,

“পার্সেল নিয়ে আয় গিয়ে! দুদিন অনলাইন থেকে কি যে কিনিস!”
ঝিলিক ফোনটা হাতে নিয়েই স্বঃস্থির নিশ্বাস ফেলল। কিছুক্ষণ পরই দ্রিমদ্রিম বুকে সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলো বাইরে। সোজা এসে তুষারের সামনে দাঁড়াল। মুখাবয়বে অবিশ্বাস নিয়ে বলল,
“আপনি আমার বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছেন?”
তুষার নিজে বিচলিত হয়ে মাথার উপর পড়া নষ্ট ডিম পরিষ্কার করতে ব্যস্ত। কোনোদিকে তার খেয়াল নেই। নিজে নিজে বিড়বিড় করল,
” ছিঃ কি গন্ধ পঞ্চাশ কেজি সেম্পু ইউজ করলেও বোধহয় এই গন্ধ যাবে না। এটা কার কাজ তাকে ছাড়বো না।”
ঝিলিক মুখে হাত দিয়ে হাসি থামানোর চেষ্টা করছে। সিরিয়ার মূহূর্তে হাসি থামানো যে কত কষ্টের তা শুধু এখন সে বুঝতেছে। আবারও ডাকল,
“তুষার ভাই শুনছেন?”
তুষার এবার সম্বিত ফিরে পেলো। মেয়েটার দিকে তাকালো। চোখাচোখি হলো দুজনের। তুষারের কণ্ঠে রাগ ঝড়ে পড়ল,
“আমি আপনার কোন জনমের ভাই লাগি হুমম? নেক্সট টাইম ভাই ডাকটা শুনলে খবর আছে আপনার!”
ঝিলিক মাথা নিচু করে বলল,

“তা..তাহলে কি ডাকবো?”
“উঁহু, শুধু তুষার!”
ঝিলিক লজ্জা পেলো। লোকটা কেমন অদ্ভুত কথা বলে।
তুষার মেয়েটার লজ্জা পাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসল। বাইকের পেছন থেকে গিফট বক্সটা নিয়ে ঝিলিকের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“এটা আপনার জন্য ঝিলিক!”
বলে সে একমুহূর্ত দাঁড়াল না। নিজের সাথে এই গন্ধ নিয়ে আর একমুহূর্ত ও থাকা যাবে না। বাইক নিয়ে তক্ষুনি হুট করে উধাও হয়ে গেল।
ঝিলিক আশ্চর্য বনে গেল। কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে থাকার পর নিজের হাতে ধরিয়ে দেওয়া জিনিসটার উপর নজর বুলাল। কি থাকতে পারে ভেতরে? তৎক্ষণাৎ বাড়ির ভেতরে পা বাড়াল সে।

ফারাজ সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার পর বাড়িতে ঢুকতেই আফজাল খান দাঁড়িয়ে ছেলেকে বললেন,
“বৌমার সাথে তুইও আজ শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দুদিন থেকে আসবি। এটা আমার আদেশ!”
ফারাজের চলন্ত পা জোড়া থেমে যায় মুহূর্তেই।
ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় বাবার দিকে। অতঃপর গম্ভীর মুখে বলল,
“নিয়ে যাবো! তবে থাকতে পারবো না ড্যাড!”
আফজাল খান শক্ত মুখে বললেন,
“সময় না থাকলে সময় বের করে নে। তাও থাকতে হবে। বেয়াই মনে কষ্ট আনবে তুই না থাকলে।”
ফারাজ বাবার কথা শুনে বেয়াদব বউয়ের কথা মনে করে বলল
“দেখি! থাকতে পারলে থাকবো।”
হুশিয়ার সাহেব এসেছেন। নাতির কথা শুনে বললেন,
“থাইকতে পাইরলে যাইবি মানি কীরে নাতি? যাই জামাই আদর খাইয়া আয়! এর চাইয়া শান্তি আর কিচ্ছুতে নাই। ঠেঙের উরপে ঠেঙ তুলে খাইয়া আয়!”
ফারাজ ততক্ষণে করিডোর পেরিয়ে রুমের দিকে চলে যাচ্ছে।

তিতলি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে মুভির নায়িকাদের মতো বানানোর টিপস করছে। নিজে নিজে লজ্জা পাচ্ছে মুখে শাড়ির আঁচল টানছে। চোখ বন্ধ করছে আরো কত কি। রাতের কথা মনে আসতেই লজ্জায় লাল নীল গোলাপী হচ্ছে। সে অন্য রাজ্য হারিয়ে গিয়েছে।
বাইর থেকে এসে সদ্য গোসল সেড়ে এসেছে ফারাজ। কোমর বরাবর পেঁচিয়েছে একখানা সফেদ রঙা তোয়ালে। ভেঁজা চুলে হাত বুলাতে বুলাতে রুমে এসে বেয়াদব বউকে এমন করতে দেখে কপাল কুঁচকাল যুবক। তৎক্ষণাৎ দু কদম সামনে এসে ঠিক পেছনে এসে দাঁড়াল।
তিতলি সহসা চোখ খুলে আয়নার দিকে তাকাতেই নিজের পেছনে ফারাজকেও আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখল। মেয়েটা চিৎকার করে উঠে দাঁতে দাঁত খিঁচে বলল,
“আ…আপনি আমার সামনে এভাবে কেন এসেছেন? উমম… আমার কেমন জানি লাগছে! প্লিজ কিছু পরুন! দ্রুত পরুন!”

বেয়াদব বউয়ের কথা শুনে ঠোঁটের কোণ বাঁকিয়ে ক্রুর হাসল যুবক। মুখে কপট নাটকীয় ভাবভঙ্গিমা ধরে রেখে দুষ্ট কণ্ঠে আওড়াল,
“আমার রুমে আমি যেভাবে ইচ্ছে আসবো। ইচ্ছে হলে চুপচাপ তাকিয়ে দেখো। বউ সামনে থাকলে পাপ হয় না, বেয়াদব!”
বলে ফারাজ হেটে সোফার দিকে যেতেই আচমকা ফারাজের কোমরে বাঁধা তোয়ালের গিঁট খুলে গিয়ে মেঝেতে পড়লো!

রাগে অনুরাগে পর্ব ২৭ (২)

সহসা এহেন ঘটনায় তিতলি স্রেফ ফারাজ দুজনেই হতভম্ব হয়ে গেল। তিতলির চোখজোড়া কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসার যোগাড়। তৎক্ষণাৎ পিঠ ঘুরিয়ে অন্যদিকে ফিরে গেলো। লজ্জায় খাটের নিচে ঢুকে যাবে মনে হচ্ছে। এমন দৃশ্য চোখের সামনে দেখবে ইহকালেও ভাবেনি। দুই হাতের নরম আঁজলায় আড়াল করে নিলো লজ্জায় লাল হওয়া মুখখানা। নিজেই হাঁসফাঁস করতে করতে চোখ-মুখ খিঁচে বলে বসল,
“আমি কিচ্ছু দেখিনি! বি..বিশ্বাস করুন কিছু দেখিনি আমি অন্ধ! বাকি জীবনের জন্য চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।”

রাগে অনুরাগে পর্ব ২৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here