রুহ এ ইশক পর্ব ১০
আনান রোজ
পয়ত্রিশ বছর বয়সে একটা কিশোরী মেয়ে জন্য পাগল হওয়া হয়তো খুবই বেমানান। উযাইন ফোনটা কেটে দিল। তার সেই হাল্কা নীলচে চোখ জোড়ায় এক আকাশ পরিমাণ শুন্যতা…উযাইন তখন রাস্তায় ছিল গাড়িটা থামিয়ে, টেমস নদীর পাড়ে গেল তার চোখের পাপড়ি গুলো ভেজা, বোধ হয় সেও কেদেছে! চুল গুলোও এলোমেলো। সে দ্রুত টাইটা লুজ করে শার্টের উপরের দুটো বোতাম খুলে ফেলল, একটা লম্বা শ্বাস নিল….
—”লিটল বার্ড! ভাগ্য বড়ই নিষ্ঠুর, প্লিজ আমাকে মাফ করে দিও আমিও তোমায় বড্ড বেশি ভালবাসি। এই দুরত্ব আমারও সইছে না পাখি! ভালো থেকো।”
এদিকে, ইনশিরা পাগলের মতো আবার কল দিল, কিন্তু উযাইন আর ফোন ধরল না।
সেই শেষ। এর পর আর কোনোদিন, কোনোভাবেই তাদের মধ্যে আর কোনো কথা হয়নি।
এভাবেই ধীরে ধীরে সময় পার হচ্ছে, ইনশিরা নিজের কান্না আর একাকীত্বকে নিজের জেদ বানিয়ে নিল। সে মন দিল পড়াশোনায়। এভাবেই দীর্ঘ ৩টি বছর পেরিয়ে গেল।
ইনশিরা আর সেই অবুঝ ১৬ বছরের বালিকা নেই। সে এখন ১৯ বছরের এক আত্মবিশ্বাসী, জেদি এবং অনিন্দ্যসুন্দরী তরুণী। উযাইনের সেই শেষ কথাটা
—”স্টাডিতে ফোকাস করো”
সেটিকে জেদ বানিয়ে সে দিনরাত এক করে পড়াশোনা করেছে। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল উযাইনের যোগ্য হওয়া এবং লন্ডনের সেই ইউনিভার্সিটিতেই চান্স পাওয়া, যেখানে উযাইন প্রফেসর। এই তিন বছর ইনশিরা মোনাজাতে শুধু উযাইন আর স্কলারশিপই চেয়েছে, জায়নামাজ বিছিয়ে উযাইন আর ওর একটা ঝাপসা ছবি, যেটা সুমি ওদের বিয়ের সময় একফাকে তুলেছিল। অনেক তাড়াহুড়ো ছিল বলে হয়তো, ছবিটা ঝাপসা। ওটা নিয়েই কিছুক্ষন তাকিয়ে পার করত।
ইনশিরা শেষ পর্যন্ত উযাইনের ডিপার্টমেন্টেই স্কলারশিপ এ চান্স পেয়ে যায়। এদিকে জাহিরের ব্যবসার কাজেই পরিবারসহ এখন লন্ডনে স্থায়ীভাবে শিফট হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা লন্ডনের একটি সুন্দর আবাসিক এলাকায় বাড়ি ভাড়া নেয়—যা কি না একদম উযাইনের বাড়ির ঠিক পাশেই। উযাইন এখনো জানে না যে ইনশিরা লন্ডনে এসেছে। ৩ বছর ধরে সে নিজেকে বুঝিয়েছে যে, ইনশিরা হয়তো তাকে ভুলে নিজের মতো ভালো আছে। কিন্তু মনে মনে সে-ও প্রতিটা মুহূর্ত ইনশিরার বিরহে পুড়েছে। এর মাঝে তেমন একটা কথা বা যোগাযোগ হয়নি জাহিরের সাথে, হাতেগুনা কয়েকবার ওদের ফোনালাপ হয়েছিল, জাহির যখন ইনশিরার কথা বলত, ওপাশ থেকে ছটফট করত উযাইনের বেসামাল মন টা। আর মুগ্ধ হয়ে প্রত্যেকটা কথা শুনত সে। কিন্তু আগবাড়িয়ে কিছুই বলত না। সে এতটাই অন্ধ আসক্তিতে ডুবে গেছে, ইনশিরার নামের প্রথম অক্ষরটা (i) ঘাড়ের পিছনে কালো রঙে খুদাই করিয়েছে যাতে, সে দূরে থেকেও প্রতি মুহূর্ত তার প্রিয়তমা কে অনুভব করতে পারে—
—”তুমিই প্রথম তুমিই শেষ…..”
উযাইন যখনই ইনশিরাকে নিয়ে ভাবতো তখনই এই কথা গুলোই আওড়াতো। যদিও সে একটা বিজনেস মেরিজ এ ছিল, তবে তাদের সংসার এক মুহূর্তও হয়নি।
দুইদিন আগেই মাঝরাতে ইনশিরা পরিবার সহ Uk আসে। আজ ইউনিতে তার প্রথম দিন। নতুন সেমিস্টারের প্রথম ক্লাস। ইনশিরা একদম প্রথম বেঞ্চের মাঝখানে বসে দরজার দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে। ঠিক তখনই ক্লাসরুমে প্রবেশ করল সে। ৩ বছর পর এই প্রথম ইনশিরা উযাইনকে সামনাসামনি দেখল। ইনশিরা ভাবেনি প্রথমেই দেখতে পেয়ে যাবে, উযাইনের দিকে তাকিয়ে ইনশিরার চোখের পলক পড়া বন্ধ হয়ে গেল।
বাংলাদেশে ব্যবসার কাজে রোদে ঘুরে উযাইন কিছুটা কালচে হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু লন্ডনের ঠান্ডা আবহাওয়ায় তার গায়ের রঙে এখন সেই কালচে ভাবের ছিটেফোঁটাও নেই। সে আগের চেয়ে অনেক বেশি ফর্সা এবং ফিট দেখাচ্ছে, তবে হয়তো কাজের চাপে শরীরটা কিছুটা শুকিয়েছে। তার পরনে একটা কুচকুচে কালো শার্ট হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত গুটানো। হাতা গুটানোর ফলে উযাইনের একহাতের কবজি বেয়ে একদম গলা পর্যন্ত উঠে যাওয়া ডার্ক ট্যাটুটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, যা তার ব্যক্তিত্বে এক বন্য আকর্ষণ যোগ করেছে।
বিডিতে উযাইন সবসময় চুল জেল দিয়ে একদম নিখুঁতভাবে সেট করে রাখত। কিন্তু এখানে সে সম্পূর্ণ অন্যরকম, সেই আগের মতই—তার চুলে এখন একটা ট্রেন্ডি ওল্ফ কাট চুলগুলো তার ঘাড়ে এবং কপালে কিছুটা এলোমেলো ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। যেহেতু উযাইনের মা একজন ব্রিটিশ নারী, তাই সেও এখানকার মতোই দেখে মনেই হবে না যে তার বয়স ৩৮প্লাস, চশমার আড়াল থেকে তার সেই তীক্ষ্ণ নীলচে চোখ দুটো ক্লাসের দিকে তাকাল।
ইনশিরা হা করে উযাইনের এই দিকে তাকিয়ে রইল। তার বুকের ভেতরটা এক ঝটকায় তোলপাড় হয়ে গেল। সে মনে মনে ডুকরে উঠে ভাবল
—ইশ! ওর প্রফেসর সাহেব দিন দিন কত্ত হ্যান্ডসাম হয়ে যাচ্ছে! না না, প্রফেসর সাহেব কেন? উযাইন তো ওর নিজের বর!’
উযাইন তার ল্যাপটপটা ডেস্কে রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াল এবং পুরো ক্লাসের দিকে তাকিয়ে তার সেই গম্ভীর, চেনা মায়াবী গলায় নিজের পরিচয় দিল।
—”Good morning, everyone. I am Professor Uzyan Abrar. I will be taking your Economics department this semester. Welcome to the university.”
উযাইনের মুখে তার পরিচয়টা শুনে ইনশিরার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বিজয়ের হাসি ফুটে উঠল। সে মনে মনে ভাবল—
—’The game has just begun, প্রফেসর সাহেব!’
উযাইন সবাইকে নিজের ছোট্ট করে পরিচয় দেওয়ার নির্দেশ দিল—কোন দেশ থেকে এসেছে এবং নাম কী। বিশেষ করে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের একে একে সবাই পরিচয় দিচ্ছিল।
তখন হঠাৎ তার চোখ গেল একদম প্রথম বেঞ্চের ঠিক মাঝখানে বসা মেয়েটির ওপর।
মেয়েটি একদৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। উযাইন চশমাটা একটু ঠিক করে আবার তাকাল। তার বুকের ভেতরটা এক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল, হাতের কলমটা যেন খসে পড়তে চাইল! সে মনে মনে চরম থতমত খেয়ে নিজেকে বলল—
—”ইনশিরা…? Is that really her? ৩ বছর পর… নাকি আজ আমি আবার কোনো ভুল দেখছি?”
১৬ বছরের সেই রোগা-পিচ্ছি মেয়েটি আজ এক অনিন্দ্যসুন্দরী, আত্মবিশ্বাসী তরুণী। তার চোখে আজ কোনো কান্না নেই, আছে এক বুক জয় করার জেদ। উযাইন নিজের ভেতরের প্রবল ঝড়টা আড়াল করে। অবশেষে প্রথম বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়াল ইনশিরা। সে সরাসরি উযাইনের চোখের দিকে তাকিয়ে এক মায়াবী হাসি দিল। ইনশিরা খুব স্পষ্ট এবং মার্জিত ইংরেজিতে বলল
—”Hello, good morning Professor! I am Inshira. Inshira Kainat, from Bangladesh.”
উযাইন যেন আকাশ থেকে পড়ল! তার কানের দুপাশ দিয়ে গরম হাওয়া বয়ে গেল। কিন্তু প্রফেশনাল লাইফে সে অত্যন্ত কড়া, তাই ক্লাসের বাকি স্টুডেন্টদের সামনে সে নিজের কোনো ইমোশন প্রকাশ পেতে দিল না।
খুব স্বাভাবিক থাকার ভান করে সে কোনোমতে ক্লাসটা চালিয়ে গেল এবং শেষ করল। কিন্তু ক্লাসের পুরোটা সময় ইনশিরার ওই চোর-চাউনি প্রফেসর সাহেবের মনের অবস্থা একেবারে বেহাল করে দিল।
ক্লাস শেষ করেই উযাইন প্রায় দ্রুত পায়ে নিজের পার্সোনাল কেবিনে চলে এল। দরজাটা লক করেই সে টাইটা কিছুটা আলগা করে দিল। সে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।
উযাইন নিজের কপালে হাত দিয়ে সোফায় ধপ করে বসে বিড়বিড় করতে লাগল—
—”উফ! এই মেয়েটা… এই বুড়ো বয়সে আমাকে নির্ঘাত হার্ট অ্যাটাক করাবে! What on earth is she doing here?!
ঠিক তখনই উযাইনের টেবিলের ওপর রাখা আইফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে একটা লন্ডনের লোকাল নাম্বার ভাসছে। উযাইন ভ্রু কুঁচকে তাকাল পরে ভাবলো হবে হয়তো কেউ। কলটা রিসিভ করে কানে নিল। ওপাশ থেকে এক পরিচিত চিল্ড গলার আওয়াজ ভেসে এল—
—”কিরে দোস্ত? খবর কী তোর? লন্ডনে এসে তো তুই বন্ধুকে ভুলে গেছিস?”
উযাইন চমকে উঠে সোজা হয়ে বসল,
—”জাহির…? তুই?!”
—”হ্যাঁ রে! শোন, তোকে একটা সারপ্রাইজ দেওয়ার ছিল। ইনশিরা কিন্তু তোর ইউনিভার্সিটিতে, তোর সাবজেক্টেই চান্স পেয়েছে! আজই ওর প্রথম ক্লাস। মেয়েটা একদম নতুন ওখানে, তুই কিন্তু ওর একটু এক্সট্রা খেয়াল রাখবি কেমন?”
উযাইন মনে মনে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল—
—’হ্যাঁ, দেখেছি!খেয়াল আমি রাখব, নাকি ও আমার রাখছে তা আল্লাহই জানে!’
মুখে বলল, —
—”হ্যাঁ জাহির, আমি ওকে ক্লাসে দেখেছি, কথা হয়েছে। কিন্তু…”
জাহির উযাইনকে কথা শেষ করতে না দিয়ে, সে বলে উঠে —
—”বাকি কথা পরে বলব রে। এখন আসল খবরটা শোন আমরা পুরো ফ্যামিলি পাকাপাকিভাবে লন্ডনে শিফট করেছি! আজ রাতেই তুই উমায়েরকে নিয়ে আমাদের বাসায় ডিনারে আসবি। কোনো বাহানা শুনব না। আমি তোকে এড্রেসটা টেক্সট করে দিচ্ছি, জলদি চলে আয়।”
জাহির ওপাশ থেকে ফোনটা কেটে দিল। উযাইন ফোনটা কানের কাছ থেকে নামিয়ে আনমনে ছাদের দিকে তাকিয়ে টেবিল চাপড়ে এক গাল হাসল।উযাইন মনে মনে চরম বিরক্ত হয়ে বিড়বিড় করল—
—”বাহ! জামাইকে বলছে নিজের বউয়ের খেয়াল রাখতে! আস্ত একটা শয়তান শ্বশুর! যেমন বাপ, তেমন মেয়ে… উফফ!”
ঠিক তখনই উযাইনের ফোনে জাহিরের পাঠানো লোকেশন আর এড্রেসটা মেসেজ আকারে এল। উযাইন ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে এড্রেসটা দেখামাত্রই তার চোখ দুটো চড়কগাছ হয়ে গেল! সে স্তব্ধ হয়ে আবিষ্কার করল—জাহিররা যে বাড়িটা ভাড়া নিয়েছে, তা অন্য কোথাও নয়, একদম উযাইনের নিজের এলাকায়!!!
উযাইন আবার কপাল চাপরালো সে খুশি হবে নাকি কাদবে বুঝতে পারছে না। আচ্ছা ইনশিরা তো বড় হয়েছে, মানে বুদ্ধিও হয়েছে ও এখন নিশ্চয়ই তিন বছর আগের জেদ টা ছেড়ে দিয়েছে।
কিন্তু তার মনের অবস্থা? ইনশিরা না হয় সব ভুলে গেছে, বাদ দিয়ে ফেলেছে কিন্তু সে তো সেই তিন বছর আগের ওইদিন টাতেই আটকে আছে যেদিন সে কবুল বলেছিল, ইনশিরা তার স্ত্রী তার প্রেয়সী। যা সে কখনোই অস্বীকার করতে পারে না।
উযাইন গিয়ে তার চেয়ার এ বসে, আর গালে হাত দিয়ে ভাবছে কত্ত বড় হয়েগেছে তার পিচ্ছি বউ টা। তার কিছু পুরো স্মৃতি মনে পরল, সে তখন উইনি থেকে ফিরছিল। তাদের বাড়ির গেটের সামনে তখন পিচ্চি ইশিরার, বেশ ভালোই কথা বলতে শিখে গেছে। কিন্তু গুছিয়ে বলতে পারে না, আধো আধো করে বলে। তখন ইনশিরা ওর চাচার কোলে ছিল, যারিফও উযাইদের বাসা ই যাচ্ছে। তাদের বাসা পাশাপাশিই ছিল।
তখন ইনশিরা চিতকার দিয়ে হেসে বলে —
—তাতু দেক উদাইন এতেতে।
— উযাইন তুমার কি হয় সোনা?
যারিফ বলে ইনশিরাকে, রখন সে একলাফে উযাইনের কোলে গিয়ে ওর গলা জরিয়ে ধরে বলে—
—বর হয়!!
—তাই?
উযাইন হেসে বলে । ইনশিরা গাল ধরে টানে, তখন যারিফ বলে ভালোই হলো মেয়ের জন্য আর চিন্তা নেই ঘরেই জামাই আছে। পরে দুজনেই হাসতে হাসতে বাসায় চলে যায়।
রাত ৮টা।
জাহিরের পাঠানো অ্যাড্রেস মিলিয়ে উযাইন,যখন উমাইরের হাত ধরে পাশের বাড়ির কলিংবেলটা বাজাল, তখন তার নিজের বুকের ভেতর তীব্র ধড়ফড়ানি। সে অবাক হচ্ছে, ঠিক পাশের বাড়ি?? কিভাবে সম্ভব।
কয়েক সেকেন্ড পরেই দরজাটা খুলে গেল।
সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইনশিরা। আজ সে ইচ্ছে করেই একটা মেরুন রঙের শাড়ি পরেছে, চুলগুলো আলগা করে ছেড়ে দেওয়া। তিন বছরগের সেই শাড়ি পরা ইনশিরার স্মৃতি উযাইনের মগজে এক সেকেন্ডে ধাক্কা দিলেও, সে অত্যন্ত কঠোরভাবে নিজের চোখ সরিয়ে নিল। সে ইনশিরার দিকে একপলকও তাকাল না, যেন সামনে কেউ দাঁড়িয়েই নেই।
ইনশিরা উযাইনের এই অবহেলায় মনে মনে কিছুটা কষ্ট পেলেও নিজেকে সামলে নিল। তার পুরো মনোযোগ এখন সাত বছরের উমাইরের দিকে। উমায়ের এখন বেশ লম্বা হয়েছে, দেখতে অনেকটাই উযাইনের মতোই। ইনশিরা ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসে উমায়েরকে কাছে নিতে নিতে আবেগী গলায় বলে উঠল—
রুহ এ ইশক পর্ব ৯
—”কত্ত বড় হয়ে গেছিস আমার বা…!”
ইনশিরার কথা শেষ হওয়ার আগেই উমায়ের কিছুটা পিছিয়ে গেল। সে লন্ডনের পরিবেশে বড় হওয়ায় বাংলা তেমন একটা বলতে পারে না। সে ইনশিরার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে খুব স্বাভাবিক বলে উঠল—
—”Who are you?”
উমাইরের মুখে এই ‘তুমি কে’ শুনে ইনশিরার চোখের কোণটা মুহূর্তেই কেঁপে উঠল। সে এক অদ্ভুত অবাক চোখে উমাইরের দিকে তাকিয়ে রইল। তার বুকের ভেতরটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
