রুহ এ ইশক পর্ব ৯
আনান রোজ
ইনশিরা উযাইনের এই আকস্মিক ছোঁয়ায় তীব্রভাবে কেঁপে উঠল। তার পুরো শরীর অবশ হয়ে এল। কয়েক সেকেন্ড পর, এক অজানা লজ্জায় আর ভয়ে সে তার ছোট ছোট দুটো হাত দিয়ে উযাইনের বুকে হালকা ধাক্কা দিয়ে নিজেকে সরাতে চাইল। কিন্তু উযাইনের শক্ত শরীর এক চুলও নড়ল না। সে যেন এক তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো ইনশিরার মাঝে হারিয়ে যেতে চাইল।
কিছুক্ষণ পর ইনশিরার ভেতরের প্রতিরোধও গলে জল হয়ে গেল। সে-ও আলতো করে উযাইনের সাথে তাল মিলিয়ে এই তীব্র ভালোবাসায় রেসপন্স করতে শুরু করল ওর শার্টের কলারটা খামছে ধরে। উযাইন তার এক হাত দিয়ে ইনশিরার ফর্সা গলায় জড়িয়ে ধরে তাকে আরেকটু নিজের শরীরের কাছে টেনে আনল। ইনশিরার নিঃশ্বাস আটকে আসছে, কিন্তু উযাইন ওর ঠোঁট জোড়াতেই মগ্ন, সেও হাপাচ্ছে, উযাইনের হার্টবিট যেন বুনো ঘোড়ার মতোন ছুটছে, অন্ধকারের সেই বারান্দায় দুই জোড়া ঠোঁট এক অদ্ভুত নীরব ব্যাকুলতায় মেতে রইল…
হঠাৎ…
ঠিক যেন এক তীব্র বিদ্যুতের ধাক্কায় উযাইনের মনের ঘোর কেটে গেল! সে এক ঝটকায় ইনশিরাকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিল। তার নিজের বুকটা হাপরের মতো ওঠানামা করছে। উযাইন বড় বড় চোখ করে ইনশিরার দিকে তাকাল। ইনশিরা তখন ফ্লোরে বসে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে, তার ঠোঁট দুটো কাঁপছে, আর সারা মুখ এক চরম লজ্জা ও থতমত খেয়ে যাওয়ার আভায় লাল হয়ে উঠেছে।
উযাইন আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। সে তীব্র এক আত্মঘৃণা আর অপরাধবোধে ভুগতে ভুগতে ঘর থেকে প্রায় ছিটকে বেরিয়ে গেল। সে সোজা বাড়ির বাইরে অন্ধকার রাস্তায় গিয়ে থামলো এবং নিজের চুলে খামচে ধরল।উযাইন নিজের মনেই ধিক্কার দিয়ে, মনে মনে চেঁচিয়ে উঠল
—”ছিঃ! উযাইন! How could I do this? আমি কীভাবে এতটা বেসামাল হয়ে গেলাম? This is disgusting! আমি আর নিজের ওপর কন্ট্রোল রাখতে পারছি না…”
সে বুঝতে পারল, এই বাড়িতে আর এক দিনও থাকা মানে ইনশিরার এই মায়ার জালে সে চিরতরে বন্দি হয়ে যাবে এবং বন্ধুর বিশ্বাস নষ্ট করবে। সে পকেট থেকে ফোনটা বের করল। রাত তখন প্রায় ১২টা। সে সরাসরি তার লন্ডনের অফিসিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টকে ফোন দিল। উযাইন ফোনে, অত্যন্ত দ্রুত ও গম্ভীর গলায়
—”হ্যালো… Book an emergency flight for me right now। আগামী এক দুই ঘণ্টার মধ্যে যেন ফ্লাইট থাকে। I have to return back tonight!
অ্যাসিস্ট্যান্ট ওপাশ থেকে,ওকে জানিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই উযাইনের ফোনে কনফার্মেশন মেসেজ চলে এল—ফ্লাইটের টিকিট কাটা হয়ে গেছে।
উযাইন ঘর থেকে হুট করে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইনশিরা অন্ধকার ফ্লোরে আরও কিছুক্ষণ ওভাবেই বসে রইল। তার পুরো শরীর তখনো কাঁপছে, বুকটা ধড়ফড় করছে। কিন্তু সেই ভয়ের চেয়েও এক অদ্ভুত, অপার্থিব ভালো লাগা তার সারা মনে ছড়িয়ে পড়েছে। সে বিছানায় উঠে এসে লজ্জায় আর তীব্র সুখে বালিশে মুখ গুঁজে লুটিপুটি খেতে লাগল। নিজের অজান্তেই তার হাত দুটো বারবার ঠোঁট জোড়া স্পর্শ করছিল—যেখানে একটু আগেই উযাইনের সেই তীব্র ভালোবাসার ছোঁয়া লেগেছিল। সে মনে মনে ভাবলো,,’প্রফেসর সাহেব আমায় ভালোবাসে! উনি মুখ ফুটে না বললেও আজ প্রমাণ করে দিয়েছে উনি আমার!’
এই সুখের আবেশে,উঠে গিয়ে উমায়েরের পাশে শুয়েই এক সময় সে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।
এদিকে মাঝরাতে টিকিটের কনফার্মেশন পেয়ে উযাইন যখন ঘরে ঢুকল, তখন ঘরের মৃদু আলোয় সে দেখল, বিছানায় ইনশিরা আর উমায়ের পাশাপাশি ঘুমাচ্ছে। উযাইন তার লাগেজটা দরজার পাশে রেখে ধীর পায়ে বিছানার কাছে এসে দাঁড়াল। ইনশিরার নিষ্পাপ, ঘুমন্ত ফেসটার দিকে তাকিয়ে তার বুকের ভেতরটা মুচড় দিয়ে উঠল। সে খুব সাবধানে উমায়েরকে কোলে তুলে নিল।
ঘর থেকে বের হওয়ার আগে উযাইন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে আলতো করে ঝুঁকে এসে ইনশিরার কপালে নিজের ঠোঁট দুটো ছোঁয়াাল—এক পরম মায়া আর আজীবনের বিরহের এক শেষ চুমু। মনে মনে বলল,—
—”আই অ্যাম সরি, লিটল বার্ড… আমি ফিরে যাচ্ছি। কারণ আমি তোমাকে খুব বেশি ভালোবেসে ফেলেছি।”
উযাইনের চোখ থেকে এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ল, ইনশিরার গালে, সে হালকা নড়ে উঠে। উযাইন আর দাড়ায় না, ঘর থেকে বের হয়ে ট্যাক্সিতে ওঠার পর জাহিরের ফোনে একটা টেক্সট মেসেজ পাঠিয়ে দিল
—”জাহির, খুব ইমারজেন্সি একটা অফিশিয়াল কারণে আমাকে মাঝরাতেই লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হলো। তোদের না বলে বের হওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।”
পরদিন সকাল।
ইনশিরার যখন ঘুম ভাঙল, সে চোখ মেলে চারপাশে তাকিয়ে একটু অবাক হলো। সে এখনো উযাইনের রুমেই শুয়ে আছে। কিন্তু উমায়ের পাশে নেই। উযাইনের চশমা, ল্যাপটপ বা কোনো জিনিসপত্রও ডেস্কে দেখা যাচ্ছে না। ইনশিরা একটু লজ্জা পেয়ে চট করে বিছানা থেকে নেমে নিজের রুমে চলে গেল এবং ফ্রেশ হয়ে নিল। তার মনে তখনো কাল রাতের সেই নেশাক্ত প্রহরের দোলা।
সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চলল। ব্রেকফাস্টের সময় টেবিলে উযাইন বা উমায়ের কাউকেই দেখা যায়নি। ইনশিরা ভেবেছিল হয়তো উযাইন ব্যবসার কোনো কাজে সকালে উমায়েরকে নিয়ে বাইরে গেছে। কিন্তু বেলা ১২টা বেজে যাওয়ার পরও যখন ওদের কোনো খোঁজ নেই, তখন ইনশিরার বুকের ভেতর এক অজানা আশঙ্কা খেলা করতে লাগল। তার আর তর সইলো না। সে ড্রয়িংরুমে গিয়ে তার বাবা জাহিরকে সরাসরি জিজ্ঞেস করল। ইনশিরা বুকের ধড়ফড়ানি লুকিয়ে, স্বাভাবিক গলায়—
—”আব্বু… উযা… মানে উমায়ের কোথায় গেছে? সকাল থেকে দেখছি না যে?”
জাহির খবরের কাগজ থেকে মুখ তুলে মেয়ের দিকে তাকালেন। তার চোখে-মুখেও কিছুটা বিস্ময়।
—”আরে আম্মু, উযাইনরা তো চলে গেছে। মাঝরাতেই ওর অফিস থেকে খুব ইমারজেন্সি একটা ফোন এসেছিল। তাই তোদের কাউকে ডিস্টার্ব না করে ও মাঝরাতেই UK এর ফ্লাইট ধরে ফিরে গেছে। আমাকে একটা মেসেজ দিয়ে গেছে শুধু।”
‘UK ফিরে গেছে’—এই চারটে শব্দ ইনশিরার কানে পৌঁছানো মাত্রই তার চারপাশের পৃথিবীটা যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল! তার পুরো শরীর বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে এল। কাল রাতের সেই তীব্র ভালোবাসা, বউ বলা… সবকিছু যেন এক নিমেষে এক ভয়ানক শূন্যতায় রূপ নিল। সে কোনো কথা বলতে পারল না, কাঁদতে পারল না, সে শুধু চোখের পলক না ফেলে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
লন্ডনের মাটিতে তখন উযাইন আর উমায়ের পৌঁছে গেছে। আর এখানে, নিজের ঘরে এসে বিছানায় ধপাস করে পড়ে রইল ইনশিরা। তার চোখ দিয়ে কোনো পানি পড়ছে না। সে একদম অনুভূতিহীন, নিথর হয়ে গেছে যেন। কাল রাতের সেই মুহূর্ত, সেই নিবিড় ছোঁয়া—সব যেন এক নিমেষে এক ভয়ানক দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে।
সে তার ছোট্ট বাটন ফোনটা হাতে নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে উযাইনের নাম্বারে ডায়াল করল। কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো রিং হলো না। সম্ভবত উযাইন দেশ ছাড়ার আগেই ওর নাম্বারটা ব্লক লিস্টে ফেলে দিয়েছে।
ইনশিরা আর নিজের ভেতরের এই তীব্র কষ্টের পাহাড় সামলাতে পারল না। সে বিছানায় বালিশে মুখ গুঁজে কান্নায় ভেঙে পড়ল। ঠিক কিছুক্ষন পরই আযানের ধনি ভেসে উঠে চারপাশে, ইনশিরা দ্রুত উঠে অযু করে আসে এবং জায়নামাজ বিছিয়ে দাঁড়িয়ে পরে। কিছুক্ষন পর নামাজ শেষে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে, তার চোখের জল আজ আর বাধ মানল না। এভাবেই কেটে গেল বিষাদময় দু-তিনটে দিন।
ওদিকে লন্ডনে ফিরে, ছোট্ট উমায়েরও ‘আম্মু আম্মু’ করে সারা বাড়ি মাথায় তুলছে। কারণ শেষের কয়েক টা দিন সে,ইনশিরাকে অনেক বার আম্মুই ডেকেছিল।
ইনশিরাকে না পেয়ে সে অনবরত কেঁদে চলেছে। উযাইন আবরার বাচ্চার এই ব্যাকুলতা দেখে চরম অসহায় বোধ করছে, কিন্তু তার আর কোনো উপায় নেই। সে মায়ার দেয়াল ভেঙে বহুদূরে চলে এসেছে।
তবে সে বহুদুরে চলে এসে ঠিকই, কিন্তু নিজের মনের কাছে সে বার বার হেরে যাচ্ছে। তার বৈধ নারীর ছলছল করা চোখ, নাম না জানা বুনো ফুলের ঘ্রান প্রেয়সীর বোকা বোকা কথা, তার কান্না, তার আবদার,, সব উযাইন কে প্রতি মুহূর্তে অস্থির করে তুলে। বার বার কানে বাজে,
“প্রফেসর সাহেব কখনো আমাদের আলাদা হওয়ার কথা বলবেন না আমি আপনাকে খুব ভালবাসি। ”
মেয়ে টা কি জানে সে কত সুন্দর কথা বলে? তার প্রফেসর সাহেবও তার জন্যই ছটফট করছে? জানে না তো। উযাইন তো পালিয়ে এসেছে। উযাইন তখন ছাদে দাড়িয়ে ছিল রাত প্রায় ৩টা শেষের দিকে, সে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে, চোখ জোড়া বন্ধ করলেই ওই ভেজা চোখ জোড়া ভেসে উঠে, সে আর সইতে পারছে না, তার তো অপরাধ নেই মন তো বরাবরই লাগামহীন ঘোড়া। সে কি মানে, দুনিয়া সমাজ, নিয়মনীতি?
সে লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে চোখ জোড়া পানিতে টলমল করছে—
—”কেন…কেন তুমি আমার জীবনে এত অসময়ে এলে ইনশিরা? why now? কেন আমি হেরে যাচ্ছি।
কেন আর কয়টা দিন আগে জন্মালে না? কেন তোমাকে নিজের বলতে পারিনা….”
এই পরযন্ত বলে উযাইন রেলিং ঘেঁষে নিচে বসে পড়ল হালকা বৃষ্টি শুরু হলো, সে আকাশের দিকে তাকিয়ে আবার ফিসফিসালো—
—”এই সমাজ এই দুনিয়া কেন বাধা হয়ে আছে? কেন আমার বন্ধুর মেয়ে হয়ে জন্মালে? কেন জীবনে এই এলে প্রিয়তমা?”
দেখতে দেখতে বেশ কয়েক দিনই হয়েগেছে, সবার জীবন আপন গতিতে চললেও, দুই প্রান্তে দুটি আত্মা প্রতিনিয়ত ছটফট করছে। তার মাঝে একদিন ইনশিরা শুনতে পেল তার বাবা ড্রয়িংরুমে বসে উযাইনের সাথে ফোনে কথা বলছেন,আলাপ শুনতে পেয়েই বুঝতে পারে উযাইন হবে। সে তড়িঘড়ি করে বাবার সামনে এসে দাঁড়াল এবং কান্নভেজা গলা, আড়াল করে বলল,
—আব্বু, আমি উমায়েরের সাথে একটু কথা বলব। দাও না ফোনটা!”
জাহির যখন ফোনে উযাইনকে বলল,—
—”উযাইন, ইনশিরা উমায়েরের সাথে কথা বলতে চায়…”
পাশ থেকে উযাইন খুব রুক্ষভাবে নিজের ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোনটা কেটে দিল। ইনশিরা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ঠিক বুঝতে পারল—উযাইন আসলে ব্যস্ততার বাহানায় তার সাথে সব যোগাযোগ এড়িয়ে চলছে।
এভাবেই দিন যেতে যেতে, কেটে গেল দীর্ঘ ৪টি মাস।
ইনশিরা আর উযাইনের মধ্যে কোনো কথা হয়নি।
হটাৎ একদিন দুপুর বেলায় জাহির তার ফোনটা ডাইনিং টেবিলে রেখে কোথাও গিয়েছিল। ইনশিরা আর নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারল না। সে ঝটপট বাবার ফোনটা তুলে নিয়ে উযাইনের নাম্বারে কল দিল। এবার রিসিভ হলো! ওপাশ থেকে উযাইনের সেই চেনা গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এল
—”হ্যালো জাহির! বল…”
ইনশিরা আর চেপে রাখতে পারল না। সে ওপাশ থেকে ডুকরে কেঁদে উঠে বলল—
—”উযাইন সাহেব…!”
‘উযাইন সাহেব’ ডাকটা শোনামাত্রই ওপাশে প্রফেসরের মনে হলো তার কলিজাটা যেন ছিঁড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে! তার বুকের ভেতর এক তীব্র হাহাকার জেগে উঠল। তার প্রচণ্ড ইচ্ছে হলো ডানা মেলে এই মুহূর্তে ইনশিরার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে, তার চোখের জল মুছে দিতে। কিন্তু সে নিজেকে পাথরের মতো শক্ত করল। ইনশিরা ফোনে, অনবরত কাঁদতে কাঁদতে—
—”কেন এমন করলেন আমার সাথে? আমি তো কোনো অপরাধ করিনি! আমাকে কিচ্ছু না বলে ওভাবে মাঝরাতে কেন চলে গেলেন? আর উমায়ের…? বাচ্চাটা তো আমারও! চার চারটে মাস হয়ে গেল আপনি…”
উযাইন নিজের ভেতরের কাঁপুনি লুকিয়ে, অত্যন্ত শীতল ও কড়া গলায়—
—”লিসেন ইনশিরা! নিজের লাইফে, নিজের স্টাডিতে ফোকাস করো। তুমি যেটাকে ভালোবাসা বলছ, ওটা স্রেফ তোমার ১৬ বছর বয়সের একটা ক্ষণিকের মোহ। It’s just an illusion!”
ইনশিরা আরও বেশি কান্নায় ভেঙে পড়ে, মৃদূ চিৎকার করে—
রুহ এ ইশক পর্ব ৮
—”না! এটা মোহ না! আমি আপনার বিবাহিত বউ, উযাইন সাহেব…”
—”ওই বিয়ের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, ইনশিরা। জেদ ছেরে দাও।”
ইনশিরা ওপাশ থেকে আরও বেশি কান্নায় ভেঙে পড়ছে বুঝতে পেরে উযাইন আর কথা বাড়াতে চাইল না। সে জানে, আর এক সেকেন্ড কথা বললে সে নিজেই দুর্বল হয়ে পড়বে। উযাইন অত্যন্ত কঠোর ও চড়া গলায়—
—”আর কখনো আমাকে কল করবে না। আমি ডিভোর্সের ব্যাপারটা দেখছি। I repeat, কখনও আর এই নাম্বারে কল করবে না!”
