রুহ এ ইশক পর্ব ১৩
আনান রোজ
উযাইন আর এক সেকেন্ডও নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। তার নিজের জোরে জোরে চলা নিশ্বাস আর অসস্তির তীব্রতা ঢাকতে সে খেলা থামিয়ে দিল। অত্যন্ত দ্রুত শ্বাস নিতে নিতে, ইনশিরার দিকে ভুলেও না তাকিয়ে সে লিভিং রুম থেকে প্রায় ছুটে নিজের বেডরুমের দিকে চলে যেতে নিল।
হঠাৎ খেলা থামিয়ে দ্রুত নিজের বেডরুমের দিকে হেঁটে যেতে লাগল, উমায়ের তখন বেশ অবাক হলো।
উমায়ের উযাইনের যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে বলে
—”Papa, where are you going? খেলা তো শেষ হয়নি!”
—”রুমে যাচ্ছি সোনা। তোমরা খেলো, পাপার একটু কাজ আছে।”
উযাইন দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে, কোনোমতে নিজের গলা স্বাভাবিক করে বলল। বলেই উযাইন নিজের রুমে ঢুকে দরজাটা ভেজিয়ে দিল। সে ডেস্কে বসে ল্যাপটপটা অন করল ঠিকই, কিন্তু ব্যবসার কোনো কাজেই তার মন বসছিল না। তার পুরো মগজ জুড়ে তখন শুধু একটাই চিন্তা—লুজ শার্টের পাতলা কাপড়ের ইনশিরার শরীরের সেই তীব্র, অনাবৃত ও নরম উষ্ণতা! সে নিজের দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বিড়বিড় করে ভাবল
—কীভাবে… কীভাবে আমি নিজের ওপর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলি আর ওই মেয়ে টা কিভাবে এই অবস্থায় চলে এলো?!
মিনিট দশেক পর লিভিং রুমে উমায়ের ইনশিরার হাত টেনে ধরে চপল গলায় বলে উঠল
— “Inshira, let’s go to papa’s room! ওই রুমে গিয়ে খেলি, চলো!”
ইনশিরা কিছুটা দ্বিধায় পড়লেও উমায়েরের জেদের কাছে হেরে গেল। ওরা দুজনে পা টিপে টিপে উযাইনের ঘরে এসে ঢুকল। ঘরে ঢুকেই উমায়ের এক লাফে উযাইনের ডেক্সের কাছে চলে গেল। তারপর উযাইনের কানের কাছে মুখ এনে একদম ফিসফিস করে বলল
—”Papa… I love Inshira so much! ও খুব ভালো, ও আমাকে অনেক আদর করে ।”
ছেলের মুখে এই সরল স্বীকারোক্তি শুনে উযাইনের বুকের ভেতর এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করল, কিন্তু সে মুখে গাম্ভীর্য বজায় রাখল। ওদিকে উমায়ের আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। সে ইনশিরার হাত ধরে এক টানে উযাইনের সেই বিশাল বিছানাটার ওপর উঠে গেল।
শুরু হলো বিছানার ওপর বালিশ ছোঁড়াছুঁড়ি আর লাফালাফি। ইনশিরা আর উমায়ের মিলে উযাইনের একদম নিখুঁতভাবে গুছিয়ে রাখা ধবধবে সাদা বিছানার চাদর, বালিশ, কম্বল—সব টেনেহিঁচড়ে এক নিমিষেই ওলটপালট আর এলোমেলো করে দিল।
ইনশিরা বালিশ দিয়ে উমায়েরকে আলতো করে মারতে মারতে হাসিমুখে
—”এই নাও সোনা! এবার তোমাকে বন্দি করব! পাপা কিন্তু তোমাকে বাঁচাতে আসবে না!”
—”No! Papa, help me! ইনশিরা আমাকে লক করে দিচ্ছে! পাপা, তুমি বালিশ ছুড়ে মারো ইনশিরাকে!”
উমায়ের বিছানায় গড়াগড়ি খেতে খেতে খিলখিল করে হেসে বলে।উযাইন ল্যাপটপের ওপর থেকে চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে অপলক চোখে বিছানায় এই পাগলামির দিকে তাকিয়ে রইল। তার ঠোঁটের কোণে নিজের অজান্তেই এক চিলতে চওড়া, মায়াবী হাসি ফুটে উঠল। সে মনে মনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবল
—”উফফ! দুটোই বাচ্চা! একটা সাত বছরের অবুঝ শিশু, আর অন্যটা উনিশ বছরের এক একগুঁয়ে বউ। এই দুটো বাচ্চাকে সামলাতে গিয়েই আমার লাইফটা আরও মেসড আপ হয়ে যাচ্ছে।”
হাসতে হাসতে আর লাফালাফি করতে করতে এক সময় ছোট্ট উমায়ের ক্লান্ত হয়ে পড়ল। ইনশিরা ওকে নিজের গায়ের সাথে জড়িয়ে ধরে চুলে বিলি কেটে দিতে দিতে বিছানাতেই শুয়ে রইল। কিছুক্ষণের মধ্যেই উমায়ের ইনশিরার বুকে মাথা রেখে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। উমায়ের ঘুমিয়ে যাওয়ার পর ইনশিরা নিজেও ক্লান্তিতে বিছানায় ওভাবেই চোখ বুজে শুয়ে রইল। পুরো ঘরে এক নিমিষেই এক মায়াবী নীরবতা নেমে এলো।
উযাইন ডেস্ক থেকে উঠে ধীর পায়ে বিছানার কাছে এসে দাঁড়াল। ইনশিরার সেই শান্ত, ঘুমন্ত অবয়ব আর লুজ শার্টের ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া উন্মুক্ত গলার ত্বক দেখে উযাইনের দুর্বলতা আবার চাড়া দিয়ে উঠতে চাইল। সে বুঝতে পারল, এই মেয়েটি ঘরে থাকলে সে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে না। সে এক ঝটকায় নিজেকে শক্ত করল এবং খুব কড়া, রুক্ষ গলায় কথা বলে উঠল।
—”এই মেয়ে! অনেক নাটক হয়েছে, এবার নিজের বাড়িতে যাও। আর মনে রাখবে, ভুলেও কখনো আমার বাসায় এভাবে আসবে না। Don’t show me your face again!”
উযাইনের এই আচমকা, বরফশীতল আর রুক্ষ কথাগুলো ইনশিরার কানে লাগামাত্রই তার চোখের ঘুম এক সেকেন্ডে ছুটে গেল। সে ধড়ফড় করে বিছানা থেকে উঠে বসল। উযাইনের চোখের পাথুরে কঠোরতা দেখে হুট করেই ইনশিরার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। তার বুকের ভেতরটা এক অজানা অভিমানে মুচড়ে উঠল। সে কোনো তর্ক করল না, কোনো দুষ্টুমি করল না। চুপচাপ বিছানা থেকে নেমে ঘর থেকে বেরিয়ে নিজের বাসার উদ্দেশ্যে চলে গেল। উযাইন শুধু তার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে এক বুক দীর্ঘশ্বাস চেপে রইল।
পরদিন সকাল।
উযাইন ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে প্রথম বেঞ্চের ঠিক মাঝখানের সিটটার দিকে তাকাল। সিটটা খালি। ইনশিরা আজ ইউনিভার্সিটিতে আসেনি। উযাইন মনে মনে কিছুটা অবাক হলো, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ভর করল এক অজানা চিন্তা ও অস্থিরতা। শুধু ক্যাম্পাসেই নয়, আজ সারা দিনে ইনশিরা একবারের জন্যও উযাইনদের বাসায় আসেনি। কালকের সেই কড়া ধমকটা মেয়েটির মনে কতটা গভীরভাবে লেগেছে, তা ভেবে উযাইনের নিজের ভেতরের ছটফটানি বাড়ছিল।
ওদিকে বাসায় উমায়ের অস্থির হয়ে উঠেছে। সে সারাক্ষণ ‘ইনশিরা’ ‘ইনশিরা’ করে বাড়ি মাথায় তুলছে। সে ইনশিরার কাছে যাবেই। যেহেতু পরদিন উইকেন্ড ছিল, তাই উমাইরের কান্নাকাটি আর জেদের কাছে হার মেনে উযাইন বাধ্য হলো ওকে নিয়ে পাশের বাড়ির দিকে রওনা হতে।
উযাইন পাশের বাড়ির কলিংবেল বাজাতেই দরজা খুললেন জাহির। উযাইন উমায়েরকে নিয়ে ভেতরে ঢুকল। লিভিং রুমে বসার পর থেকেই উযাইনের চোখ জোড়া খুব চাতকের মতো এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিল ইনশিরাকে খোঁজার জন্য। কিন্তু কোথাও তার দেখা নেই। উমায়ের জাহিরের হাত টেনে ধরে, বলে
—”Uncle, where is Inshira? আমি ওর কাছে যাব!”
—”ও তো ওর রুমে শুয়ে আছে সোনা। যাও, ভেতরে।”
জাহির উমাইরের মাথায় হাত বুলিয়ে হেসে বলে।
উমায়ের এক দৌড়ে ইনশিরার ঘরের দিকে চলে গেল। এদিকে লিভিং রুমে উযাইন আর জাহির মুখোমুখি বসে ব্যবসার টুকটাক কথা শুরু করল। কিন্তু উযাইনের পুরো মন পড়ে রইল ভেতরের ওই ঘরটায়।
ইনশিরা তার রুমে বিছানায় মন খারাপ করে চুপচাপ শুয়ে ছিল। ঠিক তখনই উমায়ের ঘরে ঢুকে এক লাফে বিছানায় উঠে ইনশিরাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
উমায়ের অভিমানী গলায়, বলে
—”তুমি আজ আমাদের বাসায় যাওনি কেন? I missed you so much, Inshira!”
ইনশিরা উমাইরের গালে একটা ওম ছড়ানো চুমু দিয়ে, ম্লান হেসে বলে
—”আমিও তোমাকে খুব মিস করেছি সোনা! কিন্তু কী করব বলো? তোমার পাপা যে আমাকে তোমাদের বাসায় যেতে একদম মানা করে দিয়েছে!”
ইনশিরার মুখে এই সত্যিটা শোনামাত্রই উমাইরের ফর্সা মুখটা রাগে লাল হয়ে উঠল। সে মনে মনে বাবার ওপর ভীষণ রেগে গেল।
এদিকে ড্রয়িংরুমে বসে জাহিরের সাথে গল্প করতে করতে প্রায় এক ঘণ্টা কেটে গেছে। উযাইন মনে মনে ছটফট করছে ইনশিরাকে একপলক দেখার জন্য, কিন্তু মেয়েটি ঘর থেকে বেরই হচ্ছে না। অবশেষে উযাইন ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল।
—”জাহির, আজ তাহলে আসি রে। উমায়েরকে একটা ডাক দে তো, বাড়ি ফিরব।”
—”আরে তুই-ই যা না ভেতরে। ডেকে নিয়ে আয় ওকে।”
সুযোগটা পেয়ে উযাইন ধীর পায়ে ইনশিরার ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। দরজার পর্দা সরাতেই সে দেখল
ইনশিরা উমায়েরকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে শুয়ে শুয়ে খুব মিষ্টি করে কোনো একটা রূপকথার গল্প শোনাচ্ছে। উযাইন ঘরের ভেতর পা রাখল। উযাইনকে দেখামাত্রই উমায়ের বিছানায় উঠে দাঁড়িয়ে কোমরে হাত দিয়ে একদম বড়দের মতো ঝগড়া করার ভঙ্গিতে চেঁচিয়ে উঠল। উমায়ের রাগী চোখে উযাইনের দিকে তাকিয়ে,
—”পাপা! তুমি খুব পচা! তুমি কেন ইনশিরাকে আমাদের বাসায় আসতে বারণ করেছ? Why, papa?!”
উযাইন ছেলের এই আকস্মিক আক্রমণে সম্পূর্ণ অবাক আর অপ্রস্তুত হয়ে গেল। সে চশমাটা ঠিক করে ইনশিরার দিকে একপলক তাকাল। ইনশিরা তখন বিছানায় কনুইয়ের ওপর ভর দিয়ে উযাইনের এই থতমত খাওয়া চেহারাটা খুব মজা নিয়ে দেখছে।
উযাইন কোনোমতে নিজেকে সামলে, উমায়েরকে বোঝানোর ভঙ্গিতে বলে
—” সোনা… ও তো সবসময় আমাদের বাসায় গেলে ওর বাবা-মা রাগ করবে, তাই না? It’s not good, বাবা।”
—”কেন রাগ করবে? ও আমাদের সাথেই থাকবে! ও আমাদের ফ্যামিলি মেম্বার !”
—”না সোনা… এটা পসিবল না। ওর বাবা-মা কখনোই ওভাবে ওকে আমাদের সাথে থাকতে দেবে না।”
উযাইন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে কথা গুলো কিন্তু উমায়ের উযাইনের দিকে তর্জনী উঁচিয়ে, চড়া গলায় হটাৎ করেই বলে ফেলে—
—”তাহলে এক কাজ করো পাপা… তুমি ইনশিরাকে বিয়ে করে আমাদের বাসায় নিয়ে এসো! You marry her right now !”
‘বিয়ে’ শব্দটা বাচ্চার মুখে শোনামাত্রই প্রফেসর উযাইন একদম আকাশ থেকে পড়ল! তার কানের দুপাশ দিয়ে যেন লাভা ছুটে গেল, সে চরম থতমত খেয়ে বোকার মতো দাঁড়িয়ে রইল। ওদিকে বিছানায় শুয়ে থাকা ইনশিরা উযাইনের এই অবস্থা দেখে খিলখিল করে হাসছে তবে সাউন্ড ছাড়া। ইনশিরা উমাইরের দিকে তাকিয়ে, চোখ টিপে মুচকি হেসে
—”বাহ! দারুণ বুদ্ধি তো তোমার সোনা! একদম মনের মতো কথা বলেছ!”
—”না…না উমায়ের! এটা… এটা তো সম্ভব না। তুমি বুঝবে না…”
উযাইন আমতা আমতা করে, উমাইরের দিকে তাকিয়ে হাত নেড়ে, কথা গুলো বলল। উমায়ের উযাইনের দিকে এক তীব্র অবহেলার চাউনি ছুড়ে দিয়ে চট করে ঘুরে ইনশিরার দুই হাত নিজের ছোট্ট হাতের মুঠোয় নিল। তারপর খুব হিরোদের মতো গম্ভীর ও আশ্বস্ত করার গলায় বলল
—”তুমি একদম চিন্তা কোরো না, ইনশিরা! পাপা যদি তোমাকে বিয়ে না-ও করে…I will marry you when I grow up!”
উমাইরের এই পিচ্চি বয়সের রাজকীয় বিয়ের প্রস্তাব আর প্রপোজাল শুনে উযাইনের নিজের বুকের ভেতরটা হঠাৎ এক তীব্র এবং অজানা ঈর্ষায় মোচড় দিয়ে উঠল! সে চোখ বড় বড় করে নিজের ছেলের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল—’আরে শয়তান ছেলে! তুই আমার বউ কে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিস?!
উমাইরের মুখে বিয়ের প্রস্তাব শুনে ইনশিরার ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমিভরা হাসি আরও চওড়া হলো। সে উযাইনের জ্বলন্ত ফেসটার দিকে তাকিয়ে উমায়েরকে আরও একটু উসকে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করল না। ইনশিরা উমাইরের দুই গালে হাত রেখে, খুব আদুরে গলায়
—”সত্যি বলছ সোনা? তুমি বড় হয়ে আমাকেই বিয়ে করবে তো? তোমার পাপা তো ভীষণ পাষাণ, আমাকে একটুও পছন্দ না। তুমিই আমার একমাত্র ভরসা!”
ইনশিরার এই আদুরে উস্কানি পেয়ে উমায়ের যেন একশো গুণ বেশি চার্জড হয়ে গেল। সে বুক ফুলিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙাল।
উযাইনের বুকের ভেতর তখন তীব্র জেলাসি আর রাগের লাভা ফুটছে। ৭ বছরের ছোকরা ছেলে তারই বউকে এভাবে তার সামনে প্রপোজ করছে, আর বউও তাকে উসকে দিচ্ছে—এটা সহ্য করা তার পুরুষালি ইগোর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াল! সে এক পা এগিয়ে এসে উমাইরের হাত ধরে কড়া গলায় ধমকে উঠল। উযাইন রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে, চড়া গলায় বলে
—”উমায়ের! Stop this nonsense right now! কাকে কী বলছ তুমি?”
এই আচমকা ধমক শুনে উমায়েরও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। সে বিছানা থেকে লাফিয়ে নেমে উযাইনের সামনে দাঁড়িয়ে জোরে পা ঠুকে ঝগড়া জুড়ে দিল। উমায়ের চিৎকার করে,
—”No! I will not stop! তুমি পচা পাপা! ইনশিরা আমার, ও বাসায় যাবেই। তুমি নিয়ে না গেলে i will marry…!”
উযাইন এবার নিজের সব আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সম্পূর্ণ বেসামাল হয়ে গেল। রাগের মাথায় সে ভুলেই গেল যে সে উমায়েরের সাথে কথা বলছে। সে উমাইরের দিকে ঝুঁকে এসে প্রায় চিৎকার করে বসেই ফেলল—
—”এই ছেলে! মুখ সামলে কথা বলো! তুমি আমার ব…!”
‘বউ’ শব্দটা মুখ থেকে অর্ধেক বের হতেই উযাইনের হঠাৎ হুঁশ ফিরল। সে এক সেকেন্ডে আবিষ্কার করল সে কী মারাত্মক সত্যি সবার সামনে ফাঁস করে দিতে যাচ্ছিল! সে চট করে নিজের মুখ চেপে ধরল। ইনশিরা বিছানায় বসে উযাইনের এই অবস্থা দেখে দুই হাতে মুখ চেপে হাসি থামাতে লাগল।
উযাইন তাড়াতাড়ি কথা ঘুরিয়ে চোখ বড় বড় করে উমায়েরকে বলল—
—”আই মিন… তোমার বড় আপুর সাথে এভাবে কথা বলছ? অনেক হয়েছে, জাস্ট কাম উইথ মি!”
বলেই উযাইন আর কোনো কথা শোনার সুযোগ না দিয়ে উমায়েরকে টেনে নিজের কাছে নিল। উমায়ের রাগে হাত-পা ছুড়তে লাগল আর ফুসতে লাগল। আর ইনশিরা মিটি মিটি হাসছে। উযাইন উমায়েরকে নিয়ে হনহন করে লিভিং রুমের দিকে হেঁটে এলো। জাহিরকে উমায়েরকে ওভাবে রাগে কাঁপতে দেখে জাহির ভ্রু কুঁচকে তাকালেন। উমায়ের জাহিরের দিকে তাকিয়ে, কোল থেকেই হাত বাড়িয়ে চিৎকার করে বলল—
—”Uncle! তুমি ইনশিরাকে লুকিয়ে রাখো?? আমি বড় হয়ে ইনশিরাকে নিয়ে যাব। ও আমাদের! আমি ওকেই বিয়ে করে নিয়ে যাব, দেখে নিও!”
৭ বছরের বাচ্চার মুখে এই রাজকীয় ঘোষণা শুনে জাহির হাহা করে হেসে উঠলেন। উমায়ের আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না, সোজা মেইন দরজার দিকে এগিয়ে গেল। উযাইন কোনোমতে নিজের গলার স্বর স্বাভাবিক করে জাহিরকে বলল—
—”জাহির… আমি আসলে ভীষণ দুঃখিত রে। উমায়ের ইনশিরাকে খুব বেশি পছন্দ করে তো, তাই অবুঝের মতো এসব আজেবাজে কথা বলছে। তুই কিছু মনে করিস না।”
—”আরে ধুর উযাইন! ও তো বাচ্চা মানুষ, এতে দুঃখিত হওয়ার কী আছে? তবে সত্যি বলতে কী… উমায়ের যদি বয়সে আর একটু বড় থাকত, তবে কিন্তু মন্দ হতো না রে!”
জাহির সোফা থেকে উঠে এসে উযাইনের পিঠ চাপড়ে, হাসতে হাসতে কথা গুলো বলল। জাহিরের এই অবুঝ রসিকতা উযাইনের জ্বলন্ত ঘিয়ে যেন পুরো এক বালতি পেট্রোল ঢেলে দিল! তার চোখ দুটো রাগে ও জেলাসিতে এক নিমিষে লাল হয়ে উঠল। সে চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে জাহিরের দিকে এক তীব্র খুনে চাউনি ছুড়ে দিল। উযাইন দাঁতে দাঁত চেপে, খুব ঠান্ডা কিন্তু রাগী গলায়
রুহ এ ইশক পর্ব ১২
—”বড় হলে… বড় হলে তুই কী করতিস?”
—”কী আবার করতাম? উমায়ের বড় হলে আমি ইনশিরার সাথে ওই মিষ্টি ছেলেটারই বিয়ে দিয়ে দিতাম! আমার তো জামাই হিসেবে উমায়েরকে খুব পছন্দ!”
[Age is just a number if the connection belongs to the Rooh.]
