Home রুহ এ ইশক রুহ এ ইশক পর্ব ২

রুহ এ ইশক পর্ব ২

রুহ এ ইশক পর্ব ২
আনান রোজ

উযাইনের ঘোর কাটলো, সে ভাবছে, এই ষোলো বছরের মেয়েটা তার শান্তি উরিয়ে দিয়েছে। লন্ডনে ফিরে গেলেও এই মায়া থেকে বেরোনো সম্ভব না। এই চরম সত্যটা অস্বীকার করা সম্ভব না, যে এই মেয়ে টা তার বউ। প্রায় এগারো বারো বছর আগে, যখন চার পাচ বছরের ইনশিরা ওর পিছনে ঘুরত আর বলত উযাইন তার বর। কে জানত তা সত্যি হবে??
ইনশিরা উমায়েরকে নিজের ঘরে নিয়ে এল। পরম মমতায় তাকে দুপুরের খাবার খাইয়ে দিয়ে নিজের বিছানাতেই শুইয়ে দিল। উমায়ের ইনশিরার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে একসময় গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। উমায়ের ঘুমিয়ে যাওয়ার পরও ইনশিরা তার পাশে শুয়ে রইল এবং তার কপালে হাত বোলাতে বোলাতে নিচু স্বরে কথা বলতে লাগল।

এদিকে উযাইন তার অনলাইন ক্লাস শেষ করে ল্যাপটপ বন্ধ করল। উমায়েরকে ফিরিয়ে আনার বাহানায় সে পা টিপে টিপে ইনশিরার ঘরের দিকে এগিয়ে আসছিল। দরজার পর্দাটা সামান্য সরানো ছিল। উযাইন ভেতরে তাকাতেই দেখল—ইনশিরা উমায়েরের চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে এবং ঘুমে অচেতন উমাইরের সাথে আপন মনে কথা বলছে। উযাইনের পা দুটো সেখানেই থমকে গেল।
ইনশিরা খুব মায়াবী ও কাতর গলায়, উমায়েরের দিকে তাকিয়ে বলছিল—
—”জানো উমায়ের… আমি তোমার কী হই? মা, আজ থেকে আমাকে ‘মা’ বলে ডাকবে তো সোনা? আচ্ছা, বলো তো… তুমি আমাকে ‘মা’ ডাকবে নাকি ‘আম্মু’ ডাকবে? আমার কিন্তু আম্মু ডাকটাই বেশি পছন্দ…”
উযাইন দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে পাথর হয়ে গেল। ইনশিরার গলার সেই মাতৃত্বের সুর তার বুকের ভেতরটা কাঁপিয়ে দিল।
ইনশিরা আবার সামান্য একটু অভিমানের সুরে বলে উঠে—

—”তোমার বাবা একটা আস্ত খাটাস! ভীষণ পাষাণ একটা মানুষ। কেন যে আমার সাথে সবসময় এমন রাগ দেখায়!”
ইনশিরা একটু থেমে, আবার বলে
—”উমায়ের সোন, তুমি তোমার বাবাকে একটু বলবে? বলবে যে—বাবা, আমি ইনশিরাকে আমার আম্মু হিসেবে চাই? তুমি বললে দেখবে তোমার বাবা আর রাগ করবে না…”
কথাটা বলতে বলতে ইনশিরার চোখ দুটো টলমল করে উঠল। এক ফোঁটা অশ্রু তার গাল বেয়ে উমায়েরের বালিশে গিয়ে পড়ল।
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ টার যেন শ্বাস আটকে এল! তার মনে হলো তার চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে গেছে। ইনশিরার এই কান্না, এই নিঃস্বার্থ মাতৃত্ব আর তার ভাঙা মন দেখে উযাইনের ভেতরের সব পুরুষালি অহংকার এক নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল, সে নিজে ইনশিরার এই মায়ার জালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যাচ্ছে। এই মেয়েটিকে সে নিজের মন থেকে সরাতে পারছে না।
হঠাৎ উযাইনের মনের ভেতর এক তীব্র ঘন্টা বেজে উঠল। এক অদ্ভুত ভয় তাকে গ্রাস করল। সে নিজের মনেই শিউরে উঠে ভাবল—

—না! এটা ঠিক হচ্ছে না। আমি দিন দিন এই ১৬ বছরের বাচ্চার মায়ায় অন্ধ হয়ে যাচ্ছি। ও এখনো দুনিয়া দেখেনি। ও আমার বন্ধুর মেয়ে! আমি ওর জীবন এভাবে নষ্ট করতে পারি না। ও যদি এই জেদ থেকে পিছাতে না চায়, তবে আমাকেই পিছাতে হবে। আমাকে এই দেশ ছেড়ে, এই মায়া ছেড়ে দূরে যেতে হবে!
ইনশিরার ঘর থেকে কোনোমতে পা টিপে টিপে নিজের রুমে ফিরে এল উযাইন। দরজাটা বন্ধ করেই সে ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল। তার নিজের হাত দুটো কাঁপছে। দুই হাত দিয়ে নিজের চুলগুলো শক্ত করে খামচে ধরল সে। তার বুকের ভেতরটা যেন ফেটে যাচ্ছে, কিছুতেই নিজেকে শান্ত করতে পারছে না।
উযাইন নিজের মনেই তীব্র ক্ষোভ আর অসহায়ত্ব নিয়ে বিড়বিড় করতে লাগল—
—”What is wrong with me? কেন এই ১৬ বছরের বাচ্চার প্রতি আমার এত দুর্বলতা? কেন ও সামনে এলে আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে যায়?Why am I losing control?”
উযাইন ছটফট করতে লাগল। ইনশিরার ওই কাজল কালো চোখ, তার অভিমানী কণ্ঠস্বর, সবকিছু উযাইনের মগজে একটা তীব্র নেশার মতো চেপে বসেছে। ও সামনে এলে মনে হয় সমাজ, পরিবার, লোকলজ্জা, ফ্রেন্ডশিপ… দুনিয়ার সব নিয়ম ভেঙে ওকেই শুধু নিজের করে আগলে রাখি।
পপরক্ষনেই উযাইন মনে মনে নিজেকে ধিক্কার দিয়ে ভাবতে লাগে—

—”কই, এমন উন্মাদনা তো আমার আগে কখনো হয়নি! গ্র্যাজুয়েশনের পর যখন বিয়ে হয়েছিল… যদিও ওটা একটা ডিল ছিল, জাস্ট আ বিজনেস ম্যারেজ… কিন্তু ওই মেয়ের প্রতি তো আমার কখনো এমন তীব্র ফিলিংস হয়নি। তবে কেন এই ছোট মেয়েটার মায়ায় আমি এভাবে অন্ধ হয়ে যাচ্ছি? দিস ইজ আ সিন!”
এই তুলনাটা মাথায় আসতেই উযাইন নিজের কাছে আরও বেশি ছোট আর অপমানিত বোধ করল। সে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। চোয়াল শক্ত করে সিদ্ধান্ত নিল,, না, এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। ইনশিরাকে আজ আবার খুব শক্ত করে বোঝাতে হবে। ওকে রিয়েলিটি ফেস করাতে হবে।
প্রায় এক ঘণ্টা পর, নিজের মনকে পাথরের মতো শক্ত করে উযাইন ইনশিরার ঘরের দিকে গেল। কিন্তু দরজার পর্দা সরাতেই তার সব রাগ যেন এক সেকেন্ডে উধাও হয়ে গেল। ঘরের মৃদু আলোয় সে দেখল, ইনশিরা আর উমায়ের পাশাপাশি শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। ইনশিরা উমায়েরকে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে রেখেছে, আর উমায়ের ছোট ছোট হাত দিয়ে ইনশিরার গলা জরিয়ে ধরে আছে।
একদম সত্যিকারের মা আর ছেলের মতো একটা পবিত্র দৃশ্য!
উযাইন অপলক চোখে কিছুক্ষণ সেই মায়াবী দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে রইল। ইনশিরার মায়বী মুখ টা, এই সেই মেয়ে, যে জন্য বৈধ। তার ভেতরের কঠোর পুরুষটা আবার গলে জল হয়ে যেতে চাইল।
সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পা টিপে টিপে বিছানার কাছে গেল এবং খুব সাবধানে ঘুমে কাদা হয়ে থাকা উমায়েরকে কোলে তুলে নিয়ে নিজের ঘরে চলে এল। সে রাতে আর ইনশিরাকে জাগানোর সাহস তার হলো না।

পরদিন সকাল।
ইনশিরা আজ একটা লাল-পার সাদা সুতির শাড়ি পরেছে। চুলগুলো সুন্দর করে খোঁপা করা, কপালে একটা ছোট্ট কালো টিপ। ১৬ বছর বয়স হলেও ইনশিরা জন্মগতভাবেই বেশ লম্বা এবং তার শারীরিক গঠনে, চলাফেরা আচার আচরণে একটা ম্যাচিউরিটি ভাব আছে। আজ শাড়ি পরায় তাকে দেখতে যেন একদম এক অনিন্দ্যসুন্দরী পরিপূর্ণ নারী লাগছে, কোনোভাবেই কালকের সেই ছোট ইনশিরা মনে হচ্ছে না।
ইনশিরা ড্রয়িংরুম পেরিয়ে মায়ের ঘরের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই উযাইন তার ঘর থেকে বের হলো। করিডোরের বাঁকে দুজনে প্রায় মুখোমুখি! ইনশিরার শাড়ির আঁচল উযাইনের শার্টের হাতা ছুঁয়ে গেল। প্রায় ধাক্কা লাগার মতো অবস্থা তাদের!
উযাইন প্রথমে বেশ রাগী চোখে তাকানোর জন্য মাথা তুলেছিল, কিন্তু ইনশিরাকে এই রূপে দেখেই সে একদম স্তম্ভিত হয়ে গেল! তার মুখের কথা গলায় আটকে গেল। উযাইনের চোখ যেন ইনশিরার ওপর আঠা দিয়ে আটকে গেছে। তার মনে হলো, আবার তার বুকের ভেতরটা তোলপাড় শুরু হয়েছে, আবার তার শ্বাস নিতে তীব্র কষ্ট হচ্ছে! তার চোখে মেয়েটি এত সুন্দর কেন?
ইনশিরা উযাইনের এই স্তব্ধ চাউনি দেখে মনে মনে খুব লজ্জা পেল। সে গত ১৫ দিনে উযাইনের চোখের ভাষা পড়তে শিখে গেছে। সে বুঝতে পারল, উযাইনের মনে কী ঝড় তুলেছে। সে মুখ নিচু করে আলতো হাসল।
উযাইন নিজের এই দুর্বলতা দেখে নিজের ওপরই রেগে গেল। সে তাড়াতাড়ি চোখ ফিরিয়ে নিল এবং নিজের ভেতরের অস্থিরতা ঢাকতে খুব কর্কশ ও রুক্ষ গলায় ।উযাইন ভ্রু কুঁচকে, ঝাড়ি দেওয়ার মতো করেকথা বলে উঠল—

—”এই ভরসকালে এভাবে সং সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছ কেন? শাড়ি পরেছ কেন? এমনিতেই তো ঠিকমতো হাঁটতে পারো না, আবার শাড়ি জড়িয়েছ!”
ইনশিরা মাথা তুলে উযাইনের এই নকল রাগের দিকে তাকাল। তার চোখে এখন লজ্জার বদলে এক ধরনের দুষ্টুমি খেলা করছে।
ইনশিরা খুব শান্ত গলায়—
—”কলেজে যাব…”
উযাইন খিটখিটে গলায়—
—”কলেজে কি মানুষ শাড়ি পরে যায়? Why are you wearing this saree?”
ইনশিরা একটু ঘাড় ত্যাড়া করে হেসে—
—”আজ কলেজে একটা অনুষ্ঠান আছে। তাই শাড়ি পরেছি।”

বলেই ইনশিরা আর দাঁড়াল না। উযাইনের মুখের ওপর একটা মিষ্টি চোর-চাউনি ছুড়ে দিয়ে দুলকি চালে হেঁটে মায়ের ঘরের দিকে চলে গেল। আর উযাইন করিডোরে দাঁড়িয়ে পকেটে হাত গুঁজে নিজের জোরে জোরে চলা শ্বাস সামলানোর চেষ্টা করতে লাগল। সে বুঝতে পারল, এই মেয়েটি দিন দিন তার জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। কিন্তু হটাৎ করেই ওর আবার খেয়াল হলো কলেজ তো ছেলে ও আছে অনেক। না, ইনশিরাকে শাড়ি পড়া অবস্থায় অন্য কেউ দেখবে? তার বউকে? না, সম্ভব না।
মায়ের ঘর থেকে বের হয়ে ইনশিরা যখন নিজের রুমে ফিরে এল, তখন দরজার সামনে আসতেই সে থমকে গেল। ঘরের ভেতরে উযাইন দাঁড়িয়ে আছে। সে ইনশিরার পড়ার টেবিলের ওপর রাখা খাতা গুলো উল্টেপাল্টে দেখছিল। উযাইনকে নিজের রুমে ওভাবে দেখে ইনশিরা বেশ চমকে উঠল। সে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে একটু গম্ভীর হওয়ার ভান করল।
ইনশিরা হাত দুটো বুকের ওপর বেঁধে, একটু তেজ দেখিয়ে—

—”এই যে প্রফেসর সাহেব! এভাবে হুট করে একটা মেয়ের রুমে ঢুকে পড়া কি আপনার ঠিক হয়েছে? কোনো পারমিশন ছাড়াই…”
ইনশিরার কথা শেষ হওয়ার আগেই উযাইন খাতা থেকে চোখ তুলে সরাসরি ইনশিরার দিকে তাকাল। তার চোখে তখন কোনো রাগ নেই, বরং এক অদ্ভুত শান্ত অধিকারবোধ।
উযাইন খুব স্বাভাবিক এবং ঠান্ডা গলায়—
—”আমি কোনো মেয়ের রুমে আসিনি। আমি আমার বউয়ের রুমে এসেছি।”
উযাইনের মুখে এই প্রথম ‘বউ’ শব্দটা শুনে ইনশিরার পায়ের নিচের মাটি যেন সরে গেল! সে চোখ বড় বড় করে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার বুকের ভেতর হৃৎস্পন্দন যেন এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
ইনশিরা তোতলামি করে, অবিশ্বাস ভরা চোখে—

—”কী… কী বললেন আপনি?”
উযাইন টেবিলে খাতাটা রেখে ইনশিরার দিকে এক পা এগিয়ে এসে—
—”যা শুনেছ, একদম ঠিক শুনেছ। এখন বেশি কথা না বাড়িয়ে এই শাড়িটা খুলে সোজা পড়তে বসো। আজ তোমাকে কোনো কলেজ বা কোনো অনুষ্ঠানে যেতে হবে না। ইটস এন অর্ডার।”
উযাইনের মুখে “শাড়ি খুলে” শব্দটা শুনে ইনশিরা চরম থতমত খেয়ে গেল। ১৬ বছরের নিষ্পাপ মনে একটা অদ্ভুত লজ্জা আর দ্বিধা ভর করল। তার ফর্সা কান দুটো মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠল।
ইনশিরা আমতা আমতা করে, শাড়ি শক্ত করে চেপে ধরে—
—”শাড়ি খুলে মানে? আপ…আপনি এসব কী বলছেন…”
ইনশিরার এই থতমত খাওয়া চেহারা আর তার চোখ-মুখের অভিব্যক্তি দেখে উযাইন এক সেকেন্ডের মধ্যে বুঝতে পারল যে এই মেয়েটি তার কথার কী মারাত্মক ভুল অর্থ বের করেছে! সে নিজের কপালে হাত দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
উযাইন বিরক্ত হয়ে, একটু হেসে ফেলে—

—”অহ গড! তোমার মতো একটা ছোট মেয়ের থটস এত বাজে ইনশিরা? আমি তোমাকে শাড়ি চেঞ্জ করে নরমাল কামিজ পরতে বলেছি। জাস্ট চেঞ্জ ইওর ড্রেস! তুমি কী ভাবছিলে?”
উযাইনের কথায় ইনশিরা লজ্জায় যেন মাটির সাথে মিশে যেতে চাইল। সে নিজের ভুল বুঝতে পেরে দুই হাত দিয়ে মুখ ঢাকল। কিন্তু সে এখনো জেদ ধরে আছে যে সে শাড়ি ছাড়বে না আর কলেজে যাবেই।
ইনশিরা মুখ থেকে হাত সরিয়ে, একগুঁয়ে গলায় বলে উযাইনকে—
—”না, আমি শাড়ি চেঞ্জ করব না। আমি কলেজে যাব শাড়ি পরেই যাব!”
উযাইন এবার তার আসল টেকনিকটা খাটাল। সে ভালো করেই জানে ইনশিরাকে কীভাবে সোজা করতে হয়। সে পকেটে হাত গুঁজে খুব ক্যাজুয়াল একটা লুক নিয়ে দরজার দিকে হাঁটা দিল।
উযাইন উদাসীন গলায় বলে—

—”ওকে, ফাইন! শাড়ি চেঞ্জ করতে হবে না। চলো তাহলে এখনই ল ফার্মে যাই। আজই আমাদের ডিভোর্স পেপারটা ফাইল করে আসি। অনেক দিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা ঠিক হচ্ছে না…”
‘ডিভোর্স’ শব্দটা শোনামাত্রই ইনশিরার সব জেদ আর তারুণ্যের দম্ভ এক সেকেন্ডে কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সে উযাইনের হাত টেনে ধরার মতো ভঙ্গিতে দুই পা এগিয়ে এল। ইনশিরা ভয়ার্ত ও তাড়াহুড়ো করে—
—”না না না! একদম না! ল ফার্মে যেতে হবে না। আমি… আমি এখনই শাড়ি চেঞ্জ করে পড়তে বসছি। জাস্ট এক মিনিট!”

রুহ এ ইশক পর্ব ১

বলেই ইনশিরা আলমারি থেকে একটা থ্রি-পিস টেনে বের করে প্রায় দৌড়ে ওয়াশরুমের ভেতরে ঢুকে ধড়াস করে দরজা বন্ধ করে দিল।
ওয়াশরুমের বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে উযাইন আর নিজের হাসি চেপে রাখতে পারল না। তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে চওড়া এবং অত্যন্ত মিষ্টি মুচকি হাসি ফুটে উঠল। সে মনে মনে ভাবল—মেয়েটা মুখে যতই অধিকার ফলাক না কেন, ডিভোর্সের ভয় দেখালেই একদম সোজা!

রুহ এ ইশক পর্ব ৩