Home রুহ এ ইশক রুহ এ ইশক পর্ব ৭

রুহ এ ইশক পর্ব ৭

রুহ এ ইশক পর্ব ৭
আনান রোজ

উযাইন চরম অস্বস্তিতে একটা শুকনো ঢোক গিলল। সে খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে, তার পিচ্ছি বউ এখানে কার খুনের কথা বলছে এবং কেন বলছে! সে আড়চোখে ইনশিরার ওই জ্বলন্ত চোখ দুটোর দিকে তাকাল।
চাচুর প্রশ্নের জবাবে ইনশিরা নিজের রাগটা এক সেকেন্ডে সামলে নিয়ে খুব স্বাভাবিক হওয়ার ভান করল। সে টেবিলে বসা সবার দিকে তাকিয়ে খুব ফ্রেন্ডলি এবং বাস্তববাদী একটা লুক দিল। ইনশিরা ছোটবেলা থেকেই তার বাবা-মায়ের সাথে বন্ধুর মতো মেলামেশা করে, তাই নিজের লাইফের বা বান্ধবীদের সব কথাই সে অকপটে শেয়ার করতে পারে। সে তার বয়সের বাকি মেয়েদের মতো অতিরিক্ত নেকামি বা ঢং একদমই পছন্দ করে না। সে অনেক বাস্তববাদী এবং গুছানো একটা মেয়ে।
ইনশিরা খুব ক্যাজুয়াল গলায়, জাহিরের দিকে তাকিয়ে বলল—

—”আসলে চাচু, আমার ফ্রেন্ড সুমি আছে না? যার এনগেজমেন্ট এ আমরা গেছিলাম।
—”হ্যাঁ। ওইযে ওয়াসিম ভাইয়ের মেয়ে।”
—হুম। আজ ও খুব কান্না করছিল। ও জানতে পেরেছে যে ওই ছেলেটার চরিত্র একদমই সুবিধার না! এসব সস্তা মানুষ আমার একটুও পছন্দ না।”
সুমির অনুষ্ঠানের কথা শুনেই উযাইনের চোখে সেই প্রত্যেকটা মুহূর্ত ভেসে উঠল। কিভাবে সে নিজেকে এই জেদি মেয়েটার জন্য বৈধ্য করেছিল। কিভাবে ‘কবুল’ বলেছিল। হ্যা ওইদিনেই ওরা এই পবিত্র এবং হালাল বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ছিল। এতে কি ইনশিরার দোষ ছিল? এসব কি তার প্রাপ্য? আচ্ছা ওটা না হয় তকদিরে ছিল। ইনশিরাও ছোট মানুষ মোহ কে ভালবাসা বলছে কিন্তু সে নিজে? সে কি রে এই পিচ্চিটার মায়ায় পড়ে গেল, যতই বলুক মানি না। কিন্তু এটা তো সে অস্বীকার করতে পারবে না নিজের মনে, আফসোস এই যে ওইদিন টাই ছিল উযাইনের লাইফের সবচেয়ে বেদনাদায়ক, কারণ ওইদিনেই তারা নিজেরদেরকে নিজের বলে পেয়েছিল। কিন্তু পেল না পুর্নতা…
জারিফ ইনশিরার কথায় সায় দিয়ে, জোরে টেবিল চাপড়ে বলল—

—”একদম ঠিক বলেছিস রে আম্মু! চরিত্রহীন এমন সস্তা ছেলেদের আক্ষরিক অর্থেই খুন করে ফেলা উচিত! সুমিকে বলিস ওই বিয়ে ভেঙে দিতে।”
উযাইন নিজের প্লেটের দিকে তাকিয়ে চামচটা শক্ত করে ধরে মনে মনে এক বুক আতঙ্ক আর হাহাকার নিয়ে বলল—
—”এখানে তো আমার মৃত্যুর পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে! একদিকে এই শয়তান বউ পরোক্ষভাবে আমাকে চরিত্রহীন বানাচ্ছে, আর অন্যদিকে ওর চাচা মিলে আমাকে খুন করার প্ল্যান করছে! উফফ… আমি কিছুতেই এই মেয়েটার প্যাঁচানো বুদ্ধির সাথে পেরে উঠছি না!”
উযাইন আর মুখে কোনো কথা না বলে খুব ভদ্র ছেলের মতো চুপচাপ নিজের ডিনার শেষ করল। একটা কথাও বলল না। ইনশিরার দিকেও তাকালো না। আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো এই রাইমার থেকে একশো হাত দূরে থাকবে। পয়ত্রিশ বয়সে কেউ কোনো কল্কক দিতে পারেনি আর এখন এই পুচকে ডাইনি ওকে এসব বলবে? দোষারুপ করবে? যে কিনা পয়ত্রিশটা বছর একাই পার করেছে। বতর্মানে, সুন্দরী বউ থাকা সত্বেও নিজেকে সংযত রেখেছে তাও….তাও এই শয়তান বউ ওর চরিত্রে সন্দেহ করে?
রাতের ডিনার শেষ করে উযাইন নিজের রুমে চলে গেল। প্রায় বিশ মিনিট পর একবুক অসস্তি নিয়ে ধীর পায়ে ইনশিরার বেডরুমের দিকে এগিয়ে গেল ঘুমন্ত উমায়েরকে নিজের ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য। ইনশিরা তখন নিজের পড়ার টেবিলের চেয়ারে বসে ছিল, কটমট করে রাগী চোখে উযাইনের দিকেই তাকিয়ে ছিল। উযাইন ঘরে ঢুকে উমায়েরের দিকে না তাকিয়ে প্রথমে ইনশিরার সামনে এসে দাঁড়াল। সে নিজের ভেতরের অস্বস্তি কাটাতে চাইল। বউকে জবাবদিহি দিতে চাইল। উযাইন খুব নিচু কিন্তু গম্ভীর গলায়—

—”ইনশিরা, তুমি ডাইনিং টেবিলে ওমন সস্তা কথা কেন বলছিলে? তোমার ফুফুকে তো আমি নিজে গিয়ে বলি না আমার হাত ধরতে বা আমার পাশে বসতে! সে নিজেই তো…”
ইনশিরা পড়ার টেবিল থেকে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়িয়ে, উযাইনের কথার মাঝখানেই ধারালো খোঁচা দিয়ে বলল—
—”ওহ আচ্ছা! সব দোষ ফুপির? আসলে বেহায়া পুরুষদের তো মুখ ফুটে কিছু বলতে হয় না। অন্য কোনো মেয়ে নিজে থেকে হাত বাড়ালেই তারা গলে যা…!”
উযাইনের পুরুষালী ইগোতে এই “বেহায়া পুরুষ” শব্দটা তীরের মতো গিয়ে বিঁধল। সে এক কদম এগিয়ে এসে ইনশিরার চোখ বরাবর তাকিয়ে চোয়াল শক্ত করল। উযাইন তীব্র কড়া ও রুক্ষ গলায় বলল—
—”বেহায়া? আমি বেহায়া? এসবের মানে বুঝ তুমি? তোমার সাথে কিছু করেছি?”
বলে সেও কিছু টা এগিয়ে গেল। ইনশিরার একটু অসস্তি লাগলো। একটু পিছিয়ে, কিন্তু সাহস নিয়ে বলে উঠে—
—”ক…কি করবেন?”
—”ছাড় পেতে একদি….। তোমার লজ্জা করে না নিজের বাবার বয়সী লোক যে কি না তোমার বাবার বন্ধু তাকে ভালবাসি বলে ঘুরে বেড়াতে?”
—” আপনি আব্বুর তিন বছরের ছোট, সো আপনি উনার সমবয়সী না, আর যেখানে আপনার লজ্জা করে না বউয়ের…
উযাইন আর তাকে কথা বাড়াতে দিল না। তার এই সরল যুক্তি শুনে সে থমকে গেল। তার মাথাটা যেন ফেটে যাচ্ছে…

—”ডোন্ট ক্রস ইউর লিমিটস ইনশিরার ! তুমি কি ভুলে গেছ আমি কে?
ইনশিরা ভয় পাওয়ার বদলে আরও এক পা এগিয়ে এসে উযাইনের কাছাকাছি এলো। উযাইনের নাকের ডগায় তখন ইনশিরার সেই চেনা বুনো ফুলের সুবাস এসে আছড়ে পড়ছে।
—”আমি বিন্দুমাত্র ভুলিনি উযাইন সাহেব। খুব ভালো করেই মনে আছে আমার স্বামী হোন!”
—”আবার এক-ই কথা?! উফ ইনশিরা, ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড! ওই বিয়েটা জাস্ট…বাদ দাও, তোমার সাথে কথা বলে লাভ নেই”
বলেই উযাইন আর এই মায়ার ঘরে এক সেকেন্ডও দাঁড়াতে চাইল না। সে উমায়েরকে নিয়ে চলে গেল। ইনশিরা এক গভীর, রহস্যময়ী বিজয়ের মুচকি হাসি দিল। খুব নিচু ও মায়াবী স্বরে মনে মনে বলে —
—”বিয়েটা পরিস্থিতির কারণে হয়েছিল… তা তো শুধু আপনিই জানেন, উযাইন সাহেব! কিন্তু এমনও তো হতে পারে। ওই রাত টা পূর্বপরিকল্পিত ছিল?”

এরপর একটা দিন পার হয়ে যায়, দুজনেই এক অদৃশ্য বিরহে ছটফট করছে।
পরদিন সন্ধ্যাবেলা, ইনশিরা স্টাডি রুমে উমায়েরকে নিয়ে খেলছিল। প্রায় চার বছরের উমায়ের এখন আধো আধো করে বেশ অনেক কথাই বলতে পারে। বিয়ের পর থেকেই ইনশিরা ওকে চুপিচুপি ‘মা’ ডাকা শেখানোর চেষ্টা করে চলেছে।
আজকেও সে উমায়েরকে কোলে নিয়ে বলছিল,
—”বলো তো বাবা, আম্মু…”
উমায়ের ইনশিরার গাল দুটো হাত দিয়ে চেপে ধরে হঠাৎ করেই স্পষ্ট গলায় বলে উঠল—
—” আম উউম…আম্মু!”
ইনশিরা একপলক থমকে যায়, তার সারা মুখে যেন এক অপার্থিব আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল। তখন করিডোর দিয়ে উমায়ের কে নিতে আসার সময় উযাইনের কানে শব্দটা গেল। নিজের বাচ্চার মুখে ইনশিরার জন্য এই ডাক শুনে এক মুহূর্তের জন্য উযাইনের বুকটা এক অদ্ভুত শান্তিতে ভরে গেল। কিন্তু ঠিক তার পরের মুহূর্তেই তার মনে এক তীব্র ভয় আর রাগ চাড়া দিয়ে উঠল। সে ভাবল

—না, এই মায়া দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই মায়া থেকে বের হওয়া আর সম্ভব না! ও আমাদেরকে অভ্যস্ত করে দিচ্ছে!
উযাইন হনহন করে ঘরে ঢুকে ইনশিরার দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙিয়ে উঠল। উযাইন খুব কড়া গলায় ইনশিরা কে বলে
—”ইনশিরা! Don’t cross your limit! তুমি উমায়েরকে এসব কী শেখাচ্ছ? ও তোমাকে কেন মা ডাকবে? তুমি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকো, এক পা-ও নড়বে না!”
বলেই উযাইন উমায়েরকে ইনশিরার কোল থেকে প্রায় কেড়ে নেওয়ার মতো করে তুলে নিল, ইনশিরা, আচমকা এমন হওয়াতে সে কিছু বলতে পারল না। বাইরে গিয়ে উমায়েরকে দাদির কাছে দিয়ে সে আবার রাগ নিয়ে ইনশিরার রুমে ফিরে এল এবং দরজাটা টেনে দিল।
উযাইন ইনশিরার সামনে এসে বুক টান করে দাঁড়াল। তার চোখে-মুখে এক অদ্ভুত নির্মমতা। তবুও ইনশিরা হা করে তাকিয়ে ছিল ওর দিকে কেন জানি এই লোক টা দেখলেই অসস্তি লাগে আবার শান্তিও লাগে, রেগে গেলেও ভালো লাগে।
উযাইনের মা ছিলেন একজন খাঁটি ব্রিটিশ নারী। মায়ের সেই ফরসা গায়ের রঙ, হাল্কা নীলচে চোখ আর চমৎকার জিনের ছোঁয়া উযাইনের মাঝেও স্পষ্ট। ৩৫ বছর বয়স হলেও, তার সুগঠিত শরীর আর ধারালো চেহারার দিকে তাকালে মনে হয় সে ২৮ বা ৩০ বছরের কোনো তরুণ।

—” ইনশিরা, অনেক হয়েছে। যা হয়েছে তা একটা এক্সিডেন্ট ছিল। আমাদের এবার ডিভোর্স ফাইল করতে…।”
উযাইন কড়া ভাবে কথা গুলো বলল। কিন্তু ইনশিরা জেদ ধরে, আবার চোখ তুলে তাকিয়ে বলে
—”আমি বলেছি না, আমি ডিভোর্সে রাজি হব না!”
উযাইন এবার রাগ কমিয়ে খুব শান্ত, কিন্তু ধারালো গলায় তাকে বোঝাতে শুরু করল।
—”বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করো, ইনশিরা। আমাদের এইজ গ্যাপ বিশ বছর! তুমি এখন মাত্র ১৬ তে পা দিয়েছ, আর আমার বয়স পঁয়ত্রিশ। ফিউচারে কী হবে ভেবেছ? তুমি যখন তোমার তারুণ্যের সেরা সময়ে থাকবে, আমি তখন প্রায় বুড়ো হয়ে যাব। সমাজ, পরিবার… সবাই আমাদের এই সম্পর্ক নিয়ে হাসাহাসি করবে।
You deserve someone your age. আমার মতো মানুষের সাথে আটকে থেকে নিজের লাইফ স্পয়েল কোরো না।”
ইনশিরা বুক চিরে আসা কান্না চেপে, অভিমানের সুরে বলে

—”আপনি না ওইদিন সকালেই বললেন—আপনি আপনার বউয়ের রুমে এসেছেন? তাহলে এখন আবার কেন এসব বলছেন?”
‘বউ’ শব্দটা ইনশিরার মুখে শুনতেই উযাইনের ভেতরের সেই আসক্তি আর রাগ একসাথে বিস্ফোরণের মতো ফেটে পড়ল। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সে বেখেয়ালিভাবে চরম কিছু কথা বলে ফেলল। উযাইন ইনশিরার একদম কাছে এসে, তার চোখ বরাবর তাকিয়ে—
—”হ্যাঁ, বলেছি! আমাদের বিয়ে হয়েছে আজ প্রায় এক মাস হতে চলল। সো, এজ এ হাজব্যান্ড অ্যান্ড ওয়াইফ… আমাদের তো নেক্সট স্টেপটা নেওয়া দরকার, তাই না? চলো!”
ইনশিরা থতমত খেয়ে, চোখ বড় বড় করে কাপা কন্ঠে বলে—
—”কী… কী বলছেন?”
উযাইন ওকে ভয় দেখানোর জন্য,রুক্ষ ও তীব্র গলায়
—”কী মানে? জানো না একটা বিয়ের পর হাজব্যান্ড-ওয়াইফের কী করতে হয়? অথচ বিয়ে করে বসে আছ!”
ইনশিরা একদম অবুঝের মতো—

—”মানে?”
উযাইন রাগে ফেটে পড়ে একদম, হুট করেই বলে উঠে—
—”আই মিন, ফি*জি*ক্যাল হওয়া! চলো, ফি*জি*ক্যাল রিলেশন করি! আসো বেড রুমে? এখানেও হবে, স্টাডি টেবিল…
ইনশিরা উযাইনের এই চরম কথার গভীরতা পুরোপুরি তার মাথার উপর দিয়ে গেল সে একদম বোকার মতো, সরল চোখে উযাইনের দিকে তাকিয়ে বলল—
—”না, মানে, কিছুদিন অপেক্ষা করুন… আপনি এত অস্থির হয়ে যাচ্ছেন কেন?”
ইনশিরার এই নিষ্পাপ, বোকাটে আর সরল জবাব শুনে উযাইন যেন আকাশ থেকে পড়ল! তার নিজের মুখের কথা লাপাত্তা হয়ে গেল। সে চরম অপ্রস্তুত ও লজ্জিত হয়ে এক পা পিছিয়ে গেল।
উযাইন কোনোমতে নিজের লজ্জা আর অস্বস্তি ঢাকতে চেঁচিয়ে উঠল—
—”চুপ করো! আমি অস্থির হয়ে যাচ্ছি…?! হোয়াটএভার! কাল সকালে রেডি থাকবে, আমরা ল ফার্মে যাব।”
—”উযাইন?!”
—”চুপ থাকো। তোমার এসব চাইল্ডিস বিহেভিয়ার, জাস্ট ইরেটেটিং লাগছে। দম আটকে যাচ্ছে আমার।”
বলেই উযাইন আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়াল না। তীব্র অস্বস্তি আর লজ্জায় ঘর থেকে প্রায় পালিয়ে যাওয়ার মতোই বেড়িয়ে গেল ।

রাত তখন সাড়ে ৯টা। ডাইনিং টেবিলে সবাই বসেছে, কিন্তু ইনশিরার জায়গাটা খালি। ইরা কিছু টা বিরক্তি আর চিন্তা নিয়ে বলে
—”মেয়েটার কাণ্ড দেখো! বিকেলে বলল পেটে নাকি ভীষণ খিদে পেয়েছে, আর এখন ডাকতে গেলাম তো বলল খাবে না, ঘুমাবে। কী যে শুরু করল!”

রুহ এ ইশক পর্ব ৬

মেয়ের এই না খাওয়ার কথা শুনে, জাহিরের মনটা কেমন যেন করে উঠল। সে চিন্তিত মুখে টেবিল থেকে উঠে সোজা মেয়ের ঘরের দিকে রওনা হলেন। জাহির ঘরে ঢুকে ইনশিরাকে ডেকে তুললেন। ইনশিরা বিছানায় শুয়ে ছিল, উযাইনের করা বিকেলের আর আগের দিনের অপমান গুলো মনে করে তার চোখ দুটো তখনো ভারী।
জাহির মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে,
—”কী হয়েছে রে আম্মু আমার? শরীর খারাপ? বিকেলে তো বললি খুব খিদে পেয়েছে, এখন না খেয়ে ঘুমাবি কেন?”

রুহ এ ইশক পর্ব ৮