লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪
লিজা মনি
নিউজের প্রতিটি চ্যানেলে একটা কথায় প্রকাশিত হচ্ছে বিশ্ব বিখ্যাত গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান কোনো এক মেয়েকে রক্ষিতা একশত কোটি টাকা দিয়ে হিসেবে কিনে নিয়েছেন। মেয়েটাও অপরুপ সুন্দরী। যার সৌন্দর্যে ঘায়েল হয়ে নিজেকে আটকাতে পারে নি ক্রয় করতে হয় একশত কোটি। নিক ডিভানে গম্ভীরতা নিয়ে বসে থাকে। রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে। মোবাইলের উচ্চ রিংটনে মাথা তুলে ডিভানে হেলান দেয়। এরপর মোবাইল কানে চেপে ধরর,
” বস আফ্রিকা নিউস চ্যানেল থেকে সব ডিলিট করা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু BBC আফ্রিকা চ্যানেলের একজন সহকারী সংবাদ কাটতে চাইছে না। সব চ্যানেল থেকে সরানো শেষ যাস্ট এইটা বাকি।
নিক কিছুক্ষন চুপ থাকে। এরপর শান্ত সুরে বলে,
” রাতে নিয়ে আয় আমার কাছে। ওর মধ্যেই ঘাপলা আছে।
অধিরাজ — জি বস।
ইরানের কোনো এক প্রান্তে একজন বোন তার বোনটাকে হারিয়ে পাগল প্রায় হয়ে গিয়েছে। এমন কোনো জায়গা নেই খুঁজে চলছে না। কিন্তু হায় আফসোস নিয়তি তার সহায় হচ্ছে না। মেয়েটা কাঁদছে ডিভানের উপর বসে। বুকের মধ্যে রাখা একটা ছবি। ঠিক তখন ওই কারোর হন্তদন্ত আগমন,
” নাজলী আমি আমার এনির সংবাদ পেয়েছি।
হঠাৎ এমন কথা শুনে নাজলী নিস্তব্দ হয়ে যায়। চোখের পানি মুছে নাবিদের দিকে তাকিয়ে অধৈর্য হয়ে বলে
” ক.. কোথায় আছে ও? আমার এনি কোথায় নাবিদ?
নাবিদ হঠাৎ করে চুপসে যায়। অন্ধকারে ছেয়ে যায় তার মুখ- খানা। নাবিদকে চুপ থাকতে দেখে নাজলী নাবিদের বাহু ঝাঁকিয়ে বলে,
” বলো না নাবিদ? আমার বোন কোথায়?
— আফ্রিকায়!
নাজলী দুই পা পিছিয়ে যায়। স্তব্দ হয়ে ডিভানে ধপ করে বসে পড়ে। ঠোঁট কাঁপছে, ভেতরে কেঁপে উঠছে তার। যে বোনটাকে বুকে নিয়ে ঘুমাত সে আজ এত দুরে।
— আ.. আফ্রিকায় কিভাবে গিয়েছে? তু.. মি কিভাবে জেনেছো?
— আজ সকালে আমার গার্ড জানিয়েছে। কিন্তু এইটা এনি কি না সিউর নয়। সংবাদে বর্ননার মিল পেয়েছি কিন্তু নিশ্চিত নয়।
— ম.. মানে? সব খুলে বলো নাবিদ সহ্য করতে পারছি না। আমাকে ছাড়া যে এক রাত থাকত না কোথাও তাকে আমি সামান্য চোখের মাধ্যমেও দেখতে পারছি না।
নাবিদ বিষন্নমুখে নাজলীর সামনাসামনি বসে। কষ্ট তার ও হচ্ছে। সে ও তো এনিকে ছোট থেকে ভালোবাসে। তাকে বউ করে ঘরে তোমার সপ্ন দেখে আসছে। কিন্তু হুট করে হারিয়ে ফেলাতে তার কলিজা খন্ড- খন্ড হয়ে যায়। নিজের সব শক্তি দিয়ে দিনের পর দিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তার ছোট পরীটাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য। অবশেষে সংবাদ পেয়েছে তাও এক হাড় ভাঙ্গা সংবাদ। যা এক প্রেমিকের হৃদয়টাকে রক্তাক্ত করতে সক্ষম।
— নিক জেভরান কে তো চিনো নাজলী?
— কোন নিক জেভরান?
— বিশ্ব বিখ্যাত গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান।
— হ.. হ্যা চিনি ওনাকে। টিভিতে বহুবার দেখেছি। অনেক ভয়ানক উনি।
— হুম উনি একটা মেয়েকে নিজের রক্ষিতা হিসেবে কিনে নিয়েছে একশত কোটি টাকার বিনিময়ে।
— উনি কি কিনলো বর্তমানে সেটার দেখার বিষয় নয় নাবিদ। আমি আমার বোনের খোঁজ জানতে চাচ্ছি।
— আ.. আমি যে খবর পেয়েছি যে মেয়েটাকে…. মেয়েটাকে উনি ক্রয় করেছে সে খুব সুন্দরী, ছোটখাটো কোমল, লম্বা চুল। আর সবচেয়ে বড় বিষয় ওর নীল চোখের মনি। নাজলী তুমি খুব ভালো করেই জানো পৃথিবীতে আট % লোকের চোখ নীল হয়ে থাকে। সেখানে আমাদের এনি একজন। আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে এইটাই আমাদের এনি।
নাজলীর চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে। বুকের ভেতর থেকে বুক চীরে আর্তনাদ বেরিয়ে আসে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মেয়েটা।
— ওকে কি রক্ষিতা হিসেবে কিনেছে নাবিদ?
রক্ষিতা শব্দটা নাবিদের পুরো শরীরটাকে কাঁপিয়ে তোলে। তার পাখিটাকে অন্য কেউ কষ্ট দিচ্ছে। নাবিদের পুরুষ মনটা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। নিশ্চয় এখন পাখিটা খুব কষ্টে আছে। আমাদের কথা মনে করছে। ওই গ্যাংস্টার তার সাথে খারাপ কিছু করে নি তো? নাবিদ আর ভাবতে পারে না। অধৈর্য উন্মাদ পাগলের মত নিজের চুল জোরে টেনে ধরে। পাগল প্রেমিকের বুকে বাসা বাধে ভয়ের সূত্র। নাবিদ নিচের দিকে তাকিয়ে থেকে ভাঙ্গা গলায় বলে,
” আমি আফ্রিকার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি নাজলী। রক্তের বিনিময়ে হলেও আমি এনিকে নিয়ে আসব। উনি একশত কোটে টাকা দিয়ে কিনেছেন আমি দুইশত কোটি টাকা দিয়ে ফেরত চাইব। প্রয়োজনে নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করব তার পরও আমি আমার পাখিকে ফিরিয়ে আনব নাজলী। যতদিন নাবিদের নিশ্বাস থাকবে তক্ষন লড়াই করে যাবে।
নাবিদ চলে যেতে নেয়। নাজলী পিছন থেকে ডেকে বলে,
” প্লিজ নাবিদ আমাকেও নিয়ে যাও।
— নাজলী বিপদে পড়বে আমার সাথে গেলে।
— এনি যদি তোমার ছোট কালের ভালোবাসা হয়ে থাকে তাহলে সে আমার বোন নাবিদ। পুরো দুনিয়ায় আমরা দুই বোন একে অপরের সঙ্গ নিয়ে বেঁচে আছি। আমার কলিজা ও। সব বিপদের সম্মুখীন হব প্লিজ নিয়ে চলো। প্রয়োজনে আমি আড়ালে থাকব।
নাবিদ কিছুক্ষন ভেবে বলে,
” ওকে দশ মিনিট পর গাড়ি আসবে তোমাকে নিতে। গাড়িটা একদম প্রাইভেট জেটের কাছে নিয়ে যাবে। তুমি নিজেকে তৈরি করে রেখো।
— ঠিক আছে।
নবিদ চলে যায়। নাবিদের কথামত দশ – পনেরো মিনিট পর একটা গাড়ি আসে বাসার সামনে। কলিং বেলের আওয়াজে নাজলী রেডি হয়ে গাড়ির কাছে যায়। সে একটা সাদা শর্ট টপ আর কালো জিন্স পড়েছে। গলায় একটা স্কার্প ঝুলিয়ে রাখে। অধৈর্য আর চিন্তিত হয়ে গাড়িতে গিয়ে বসে। প্রায় অনেকক্ষন গাড়ি চলে। গাড়িটা গিয়ে থামে একটা প্রাভেট জেটের সামনে। নাজলী গাড়ি থেকে নেমে দেখে নাবিদ দাঁড়িয়ে আছে। তার চার – পাশে অনেক গার্ড। নাজলী শ্বাস নিয়ে নাবিদের কাছে যায়। নাজলীকে আসতে দেখে নাবিদ ইশারা করে সবাইকে ভিতরে ডুকার জন্য। নাবিদ নাজলীকে নিয়ে জেটের ভিতরে ডুকে। নাজলী এই প্রথম কোনো প্রইভেট জেটে উঠেছে। ভিতরটা দেখে মনে হচ্ছে কোনো রুম।
— যদি তোমার খারাপ লাগে তাহলে ওই পাশে বেড আছে। পার্দা ছড়িয়ে গিয়ে শুয়ে থাকবে ওকে?
নাজলী বিষন্ন মাথা নাড়ে। বর্তমানে তার কিছুই ভালো লাগছে না। শুধু তার বোনকে পেলেই হবে আর কিছু চায় না।
সন্ধ্যার চূড়ান্ত বেলায় যখন সমুদ্র তার বুকে রাতের গাঢ়তা ঢেলে দিতে ব্যস্ত ঠিক তখনই বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে জমে ওঠে উত্তপ্ত বাতাস। বাতির কুয়াশাভরা আলোয় দাঁড়িয়ে রয়েছে ছয়জন ভয়াল গ্যাংস্টার নাইজেরিয়া, লিবিয়া, সোমালিয়া, ঘানা, দক্ষিণ সুদান এবং মৌরিতানিয়ার প্রখ্যাত অপরাধসম্রাটেরা। তারা প্রত্যেকে যেন একেকটি দেশপ্রেমহীন সামরিক রাষ্ট্র। যাদের পতাকা নেই, শুধু অস্ত্র আছে।
নিক জেভরান, সম্মেলনের প্রধান, ঠোঁট ছুঁয়ে তুলে নেয় এক গাঢ় অশ্বেত সিগার। তার ধূসর মনের চোখ জোরা প্রকৃতির দিকে নিবদ্ধ। তার ঠান্ডা চোখে তীব্র ক্ষিপ্রতা যেন কথার মাঝেও লুকিয়ে আছে মৃত্যু হবার সম্ভাবনা। সে টেবিলের উপর ছুঁড়ে দেয় এক নীল ফোল্ডার মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা এক গোপন অস্ত্রবহরের নকশা।
— এটা নতুন—Eclipse-9। নাইন মিলিমিটারের গর্জনে নয় এটি নিশব্দে শত্রুর হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেয়। থার্মাল হিট সেন্সর যুক্ত। আমরা যদি এই অস্ত্র নিই দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দর শহরগুলো আমাদের হাতের তালুতে আসবে।
ঘানার বস মুসা কাদির গর্জে ওঠে,
— কিন্তু আমি চাই ফায়ার-লঞ্চার। তাপ অনুসরণকারী ক্ষেপণাস্ত্র চাই। বন্দুক এখন শিশুদের খেলার জিনিস। আমি এমন কিছু চাই যা রাতের শহরকে দিনের শ্মশানে পরিণত করে।
লিবিয়ান বস সালেহ ওমর গম্ভীর গলায় বলে ওঠে,
— আমার কাছে তথ্য আছে মস্কো থেকে আসছে একধরনের পারদসমৃদ্ধ পিস্তল, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্র এক সেকেন্ডে জ্বালিয়ে দেয়। আমি সেটার রুট চাই। আমার মানুষগুলো ইতিমধ্যে কঙ্গোর ভেতর দিয়ে ঢুকে পড়েছে। আমরা একসাথে ভাগ করলে পুরো উপমহাদেশ হাতের মুঠোয় আসবে।
নিক তখন ঠান্ডা স্বরে বলে,
— আমার দরকার নিয়ন্ত্রণযোগ্য ধ্বংস। অস্ত্র বড় বিষয় নয়, কাদের হাতে সেটা থাকবে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই, এই বোর্ডে উপস্থিত প্রত্যেকে আমাকে শপথ দাও বাইরের কাউকে কোনো নকশা, কোনো গোপন কোড, কোনো তথ্য জানাবে না। যদি কেউ বিশ্বাস ভাঙ্গে, আমি সমুদ্রের নিচে তার জন্য কফিন পাঠিয়ে রাখবো। আই রিপিট কাফিন বিছিয়ে রাখব। মনে রেখো নিক জেভরান যা একবার বলে তা করে তারপর শান্ত হয়।
আলো হালকা কাঁপে। বাতাস থমকে যায়। এক প্রহরী পাশের কক্ষে দাঁড়িয়ে রাইফেলের ট্রিগারে আঙুল রেখে নিঃশব্দ নির্দেশের অপেক্ষায়। টেবিলের নিচে রাখা রয়েছে ছোট ছোট অস্ত্রের বাক্স। নতুন এক্সপেরিমেন্টাল স্নাইপার, পয়জন ইনজেক্টেড বুলেট, রিমোট-মাইন্ডেড গ্রেনেড। কেউ কিছু বলছে না কিন্তু প্রত্যেকের চোখে দাউ দাউ করে জ্বলছে লোভ, ভয়, ও পরস্পরের প্রতি অগাধ সন্দেহ।
তারা একজন আরেকজনকে দেখে কেউ থুতনি নিচু করে, কেউ ঠোঁট চেপে ধরে। নিক তখন চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়,
– আগামী তিন মাসে আমরা ‘অপারেশন ব্ল্যাক সান’ চালাবো। প্রয়োজন অস্ত্রের নয়। প্রয়োজন লৌহ-নিষ্ঠা আর অন্ধ আনুগত্যের। যাকে সন্দেহ হবে, তাকে এই বোর্ডেই শেষ করা হবে।তার না থাকবে দেহ আর না থাকবে নাম। বোর্ডের মধ্যেই সেই নিকৃষ্ট মৃত্যুর সাক্ষাত করাব। সমুদ্র তখন নিচ থেকে ফুঁসে ওঠে
সমস্ত পৃথিবীর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে চায় এই ভাসমান ঘৃণার দুর্গে। সেই রাতে ব্ল্যাক আর্কের গা বেয়ে নেমে আসে ঘাম ধোঁয়া ও মৃত্যু-পরিকল্পনার গন্ধ।
পরিশ্রান্ত আলোচনার অবসানে নৈঃশব্দ যেন কুয়াশার মতো ঘনীভূত হয়ে প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি চোরা দৃষ্টিকে গ্রাস করিতে থাকে। আলোচিত অস্ত্রসম্ভারের ভয়াল বাস্তবতা, লেনদেনের সংকেতচিহ্ন, এবং নিক জেভরানের অনুচ্চারিত অথচ স্থির সিদ্ধান্ত সমস্তই মিলিয়ে এক অনির্বচনীয় মানসিক যন্ত্রণা ছাড়িয়ে দেয় উপস্থিত সকল অপরাধনেতার হৃদয়ে।
গ্যাংস্টাররা এক এক করে দৃষ্টিপাত করে পরস্পরের দিকে।তবে সে দৃষ্টি বন্ধুত্বের নয়, সন্দেহ ও শঙ্কার দ্বৈত সংমিশ্রণে গঠিত এক নিঃশব্দ ঘাতকতা। ঠোঁট সংবরণ করে রাখা কথাগুলিকে কেবল চোখের দৃষ্টিতে প্রকাশ করছে । যার ব্যঞ্জনা হচ্ছে,
“কে প্রথম পতিত হবে সন্দেহের ফাঁদে?
নিক যার পদক্ষেপের ধ্বনি ব্যতিরেকে সমগ্র কক্ষ স্তব্ধ ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায় গ্যাংস্টার বস । কণ্ঠে উচ্চারণ নেই, চোখে করুণা নেই, মুখে সংবেদনশীলতার লেশমাত্রও প্রতিফলিত নয় । তার ঠান্ডা চাহনি যেন সংবেদনহীন ধাতব আয়নায় প্রতিবিম্বিত মৃত্যুদণ্ড। প্রতিটি চলন অতিনিয়ন্ত্রিত অথচ অতর্কিতভাবে ভয়মিশ্রিত।
বস্তুত নিক কিছু বলে না তবু তার নীরবতা উচ্চারিত বাক্যের চাইতেও অধিক ত্রাস সঞ্চার করে।
তার পরনে একটি কালো কোট।পৃষ্ঠদেশে সূক্ষ্ম বুলেটপ্রুফ সুতোর বাঁধনে গাঁথা প্রতিরোধের শক্তি। সেই কোটটি পরিধান করবার প্রক্রিয়াটিও যেন একটি শাস্তিমূলক রীতি, যাতে প্রতিটি মাফিয়া অনুধাবন করে নিক প্রস্তুত, প্রয়োজনে শেষপর্যন্ত যেতে।
নিকের পাশ দিয়া দাঁড়িয়ে থাকা দুইজন প্রহরী চোখে নিশাচর রঙের গ্লাস, হাতে আধুনিক রাইফেল। মাথা নত করে গাম্ভীর্যপূর্ণ নীরবতা প্রকাশ করে। নিক তাদের দিকে না তাকিয়েও অদৃশ্য এক কর্তৃত্বে তাদেরর নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রধান দরজার মুখোমুখি পৌঁছে নিক একবার অবলোকন করে সমগ্র কক্ষকে।সেই চাহনি অস্বস্তিকরভাবে সংক্ষিপ্ত। তবু তার মধ্যে যে অর্থ নিহিত, তা যেন মৃত্যুর আজ্ঞাপত্র। তারপর গ্যাংস্টার বস ধীরে ধীরে বের হয়ে যায়। সেই মুহূর্তে সমুদ্রের নিচে এক অন্তঃস্থ গর্জন তরঙ্গায়িত হয়ে ওঠে।যেন জলের গভীর হিংসা বহন করে আঘাত করতে উদ্যত এক বিক্ষুব্ধ সত্তা। ব্ল্যাক আর্ক যেন সে গর্জনের জবাবে আরও মূর্তিমান হয়ে উঠে। অভ্যন্তরস্থ গ্যাংস্টারগণ চুপচাপ।কেউ উচ্চারণ করে না একটি শব্দও।
কেউ উঠে দাঁড়ায় না, কেউ শ্বাস নেয় না স্বস্তির সহিত।
কারণ নিকের অনুপস্থিতিই তা দের মনে সর্বাধিক ভয় জাগায়। কারণ এখন চেয়ারের শূন্যতাই সর্বাপেক্ষা ভীতিকর। নিক গাড়িতে উঠে নিজের গন্তব্যের দিকে চলে যায়। বাকি গ্যাস্টাররা গম্ভীর হয়ে বসে থাকে।
নিস্তব্দ রাত। কয়েকদিনে এনির মুখে যেন বিষন্ন ছায়া ঘিরে রেখেছে। কতদিন ধরে সে বাহিরের জগতটাকে দেখতে পারছে না। এক ভয়াভহ নিষ্ঠুরতার সাথে সে মিলিয়ে যাচ্ছে। আদও কোনোদিন বেঁচে ফিরতে পারব কি না সন্দেহ। এত এত ভয়ংকর ব্যাক্তিদের মধ্যে আমি কিভাবে বাঁচব। আমার ভবিষ্যতে কি হতে চলেছে? যে পরিস্থিতিতে আছি সেরকম নাকি তার চেয়ে ও খারাপ যা আমার ভাবনা শক্তির বাহিরে। এনি কি করবি তুই? কি করে পালাবি এখান থেকে। সবাই বলছে সাহায্য করবে কিন্তু কেউ তো করছে না। আপা আমাকে নিয়ে চলো প্লিজ। তোমার এনির এখানে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে। এনি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। এই কান্না এখন তার নিত্যদিনের সঙ্গী। এমন কোনো মুহূর্ত যায় না যখন সে কান্না করে না। এনি তো আগে ব্যাথা পেলেই কেঁদে — কুটে পুরো বাড়ি মাথায় করে ফেলত। আর আজ সেই এনি কোনো বর্বরতার ফাঁদে পড়ে আছে। যে চোখ আমার ধ্বংস করে, রাখব না সেই চোখ। যে সৌন্দর্য আজ আমার কাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নষ্ট করে দিব সেই সৌন্দর্য। তখন কেউ তাকাবে না আমার দিকে।
এনি বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায়। রাতের চাঁদটাকে দেখতে আজ বড্ড ইচ্ছে করছে। এনি খেয়াল করে আজ সামনের থাই লাগানো নয়, তালা ঝুলছে। হুট করে মনে পড়ে আরিশ এসে নিজেই খুলেছিলো। হয়ত লাগাতে ভুলে গিয়েছে। এনি গভীর শ্বাস ছেড়ে গুঁটি- শুটি পা ফেলে থাইয়ের কাছে যায়। এরপর নরম হাত গুলো দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। এনি দম নেয় বড় করে। কাঁপা শরীর নিয়ে বেলকনিতে পা রাখে। বেলকনিটা অনেক বড়। এনি চারপাশে তাকায়। হুট করে বামদিকে তাকাতেই চোখ চরক গাছ। ওই পাশটা কি সুন্দর আর সাজানো! এনি এক মিনিটের মধ্যে সব ভুলে প্রফুল্ল মনে সেদিকে যায়। কাছে গিয়েই সব হাসি মিলিয়ে যায়। চারপাশটা খুব সুন্দর কিন্তু একটা টেবিলের উপরে ভিবিন্ন ধরনের নেশা- দ্রব্য। এনি নাক কুচকে ফেলে। চারপাশে তাকায় কেউ আছে কি না। কাউকে দেখতে না পেয়ে টেবিলের চারপাশে ঘেরা আলিশান ডিভানে আয়েশ করে বসে। ডিভানটা তুলতুলে আর নরম। এনি টেবিলের দিকে কিছুক্ষন ঠোঁট চেপে তাকিয়ে থাকে। ওয়াইনের বোতলটাকে নিজের হাতে নেয়। ছিপি খোলার চেষ্টা করে।কিন্তু তার দুর্বল শরীর নিয়ে এই ছিপি খোলা অসম্ভব। এনি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে খুলতে না পেরে। মনের অজান্তেই নাকের কাছে নিতেই নাক মুখ কুচকে ফেলে। ওয়াইনের তীব্র গন্ধে চোখ উল্টে বমি করার মত অবস্থা হয়ে যায়। অনেক কষ্টে এনি নিজেকে আটরে রাখে। টেবিল থেকে উঠতে যাবে তার আগেই থমকে যায় কারোর পায়ের শব্দে। এনির মনে আবার ও ভয় এসে হানা দেয়। কাঁপতে থাকে ছোটখাটো কোমল শরীরটা। বোধ শক্তি লোপ পেয়ে ডিভানের পাশে লোকাতে যাবে তার আগেই পা লেগে টেবিলের উপরে থাকা কয়েকটা গ্লাস নিচে পড়ে যায়। বিকট এক শব্দে কম্পমান হয়ে উঠে চারপাশ। নিক দরজার কাছে এসে এমন শব্দে গম্ভীর হয়ে উঠে। কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে রাগে ছটফটিয়ে উঠে। নিক বারান্দায় এসে কোনো মেয়েকে দেখে ভ্রুঁ ভাঁজ করে ফেলে। গম্ভীর আর ভারিক্কি আওয়াজে গ্যাংস্টার বস ধমকে উঠে,
” হু দ্য হেল আর ইউ? হাউ ডেয়ার ইউ স্টেপ ইনটু মাই প্লেস?
এনির পুরো শরীর থমকে যায়। এত ভয়ানক আওয়াজ তার হৃদয় সহ্য করতে পারে নি। কাঁপতে থাকে পুরো কাঁয়া। ঠোঁট, গলা শুকিয়ে আসে তৃষ্মায়। কিন্তু এই ধমকটা তার পূর্ব পরিচিত মনে হচ্ছে। তবে এইটা নিক জেভিরানের কন্ঠ সেটা বুঝতে বাকি নেই এনির। এনি বোধ শক্তি হারিয়ে প্রান পনে দৌঁড় দেয়। এনির দৌঁড় দেখে নিক চোখ ছোট ছোট করে সেদিকে তাকিয়ে থাকে। এনি কিছু দুরত্বে এসে নিজের বরাদ্ধকৃত রুমে ডুকতে যাবে তার আগেই সে ব্যাথায় আর্তনাদ করে উঠে। তার নরম তুলতুলে হাতটাকে কোনো শক্ত পোক্ত বস্তু চেপে ধরেছে। এনি পিছন ফিরার আগেই ব্যাক্তিটা এনিকে টেনে নিয়ে আগের স্থানে যায়। এখনও সে এনিকে দেখে নি। নিক এনিকে রেলিং ঘেষে সোজা দাড়া কিরায়। এনি ভয়ে ভিতরে ফুঁপিয়ে উঠে। আজ নিশ্চিত তার মৃত্যু হবে। এই রেলিং থেকে নিশ্চয় জানোয়ারটা ফেলে দিবে। এনি এত শক্ত হাতের স্পর্শ সহ্য করতে না পেরে কান্না করে দিয়ে বলে,
” প্লিজ আমাকে মেরে ফেলবেন না। ভুল করে এসে পড়েছিলাম। পা ধরে ক্ষমা চাচ্ছি। ক্ষমা করে দিন আমাকে।
নিক রাগে চোয়াল শক্ত করে আসে। এনির আকুতি করা কন্ঠ শুনে তার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই থেমে যায়। চোয়াল ঝুলে আসে গ্যাংস্টার বসের। হাতের চাপ আরও শক্ত করে ফেলে বাট সেদিকে তার খেয়াল নেই। এনি ব্যাথা ছটফট করতে থাকে। এনি চোখ তুলে কান্না – মিশ্রিত কন্ঠে বলে,
” প্লিজ আমাকে ছাড়ে দিন। ব্যাথা পাচ্ছি খুব।
নিক স্তব্দ হয়ে যায় এক জোরা আকুতি ভরা নীল চোখের চাহনিতে। সে তো নীল চোখের হাতে গনা কয়েকজনকে দেখেছে কিন্তু এত স্নিগ্ধ, এত কোমল, এত সুন্দর, এত মায়াবী চেহারা কাউকে দেখে নি। নিকের নিশ্বাস ভারী হয়ে উঠে। তার হৃদয়ে কে যেন তীব্র ভাবে আঘাত করছে। নিক অস্ফুর্তভাবে বলে,
” ক.. কে তুমি?
এনি চমকায় ভীষনভাবে। যে তাকে কিনে এনেছে সেই চিনে না সে কে? কন্ঠে এত নমনীয়তা দেখে এনির ভয় কিছুটা কমে আসে। নিক ধৈর্য হারা হয়ে কর্কশ কন্ঠে আবার ও বলে উঠে,
” কে তুমি?
গ্যাংস্টার বস নিজের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যাচ্ছে।
— আ… আমি এনি।
নিক কিছুটা থেমে যায়। নামটা শুনে সে ঠোঁট বাঁকায়। এনিকে ছেড়ে দেয়। হাত সরিয়ে নিয়ে কিছুক্ষন ঠোঁট কামড়ে ধরে রাখে। সে আর এনির দিকে তাকাতে পারছে না। চোখগুলো সরিয়ে নেয় অধৈর্য হয়ে। এতক্ষন মনে হচ্ছিলো কারোর সৌন্দর্যে চোখ ঝলসে যাচ্ছিলো। কিছুক্ষনের মধ্যেই নিক নিজের মধ্যে ফিরে আসে। পাশে কোনো মেয়েকে দেখতে পেয়ে পুনরায় রক্ত মস্তিষ্কে টগবগিয়ে উঠে। এনির দিকে না তাকিয়েই হুংকার ছেড়ে বলে,
” গেট আউট ফাকিং গার্ল। ভুলেও যাতে আমার সামনে পড়তে না দেখি। আর একবার যদি তোমার দৃষ্টির কারনে আমি অন্য জগতে হারিয়ে যায় তাহলে গলা টিপে মারব। লিভ দিস প্লেস ইমিডিয়েটলি।
নিকের এমন কঠিন রাগ আর ধমকে এনি শিউরে উঠছে। কোনো কিছু না ভেবে প্রান – পনে ছুটে চলে আসে নিজের রুমে। রুমে ডুকে বেসিনের সামনে গিয়ে মুখে পানি দেয়। ঠোঁট কাঁপছে, শরীর কাঁপছে। দেয়াল ঘেষে ফ্লোরে বসে পড়ে। এত ভয়ানক কন্ঠ, ধমক, চাহনি সে কখনো দেখে নি। এইটা মানুষ নাকি হায়েনা!
নিক ঠোঁট কামড়ে ডিভানে গিয়ে বসে পড়ে। চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস নিতে যাবে কিন্তু তাতেও সে রেগে উঠে। চোখে ভেসে উঠছে একটা আতঙ্কিত সরল মুখ। নিক বিরক্ত হয়ে পড়ে নিজের উপর। নিশ্বাস উঠা- নামা শুরু করে। নিজের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যায়। নিক সহ্য করতে না পেরে ওয়াইনের ছিপি খুলে পুরোটা এক নিশ্বাসে খেয়ে নেয়। নিস্তেজ হয়ে আসে তার শরীর। শার্টের তিনটা বোতাম খুলে দেয়। ফর্সা বুকে কত- শত কাটা – ছেড়ার দাগ তার ইয়াত্তা নেই। নিক হাত পা ছড়িয়ে ডিভানে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়। মনের অজান্তেই কন্ঠ চীরে বেরিয়ে আসে,
” বেবিগার্ল!
নিক একই ভঙ্গিতে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। আরিশ এতক্ষন নিককে খুঁজছিলো। বেলকনিতে এসে নিককে দেখে তার মুখো- মুখি হয়ে বসে। নিককে এমন নিস্তেজ পড়ে থাকতে দেখে ইশারা দিয়ে বলে,
” এইভাবে মরার মত পড়ে আছিস কেনো?
নিক কিছু বলে না। নিস্তেজ পড়ে থাকা মাথাটা সোজা করে তাকায় আরিশের দিকে। দুই হাত ছড়িয়ে ভর দিয়ে পিঠ স্বাভাবিক করে তুলে। আরিশ ভ্রুঁ কিঞ্চিত কুচকে বলে,
” নিক তকে একটা প্রশ্ন করার জন্য আমার মন ছটফট করছে।
— কি প্রশ্ন?
— আচ্ছা মুলত তর ধর্ম কি?
— জানা নেই।
— তর কাটাকাটি মানে খৎনা হয়েছে?
— নিজ দায়িত্বে প্যান্ট খুলে দেখে নে।
— মেয়ে হলে বলার সাথে সাথেই খুলে ফেলতাম। তর বউয়ের হক মেরে খাওয়ার মত পাপী হতে চাই না আমি।
নিক ঠোঁট কামড়ে হাসে। মস্তিষ্কে এখন এক রহস্যময় খেলা খেলছে।
আরিশ একটা গ্লাসে ওয়াইনে চুমুক দিয়ে বলে,
” তর শিকার নিয়ে এসেছে অধিরাজ। নিচে আয় আর ব্যাটাকে একটুর যত্ন কর। নাহলে আমাকে বল আমি খাতির- যত্ন করে আসে।
— জানটা আমি নিব আর রক্তটা তকে দিব।
আরিশ পৈশাচিক হাসি দেয়। নিক বাঁকা হেসে শার্টের বোতামগুলো লাগাতে লাগাতে উঠে পড়ে। এরপর প্যান্টের পকেটে হাত ডুকিয়ে এগিয়ে যায় গ্যাংস্টার বস। সিঁড়ি দিয়ে নামছে আর নিচে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে লোকটার দিকে শকুনের মত তাকিয়ে আছে। নিক নিচে নেমে ডিভানে বসে পড়ে। ঘাড় কাত করে শান্ত চোখে তাকায় কালো কুচকুচে নিগ্রো লোকটার দিকে। নিক সামান্য হেসে লোকটার কোকড়ানো চুলগুলো নিজের হাতের মুঠোঁবন্ধী করে নেয় শক্তভাবে। নিকের শান্ত কন্ঠে,
‘ তুই জানতি না তারা আমার লোক ছিলো? সব জানার পরও বিরোধ কেনো করলি? কার কথায় করেছিস সত্যি করে বলবি।
লোকটা ভয়ে কাঁপতে থাকে। লোকটার এখানে ফ্লোর ভেজা দেখে নিক কপাল কুচকে তাকায়। আরিশ হেসে উঠে,
” কিরে ভাই তর মেশিন ছাড়ার কি আর কোনো জায়গা পেলি না। তর এখানেই কাজ সারতে হয়েছে?
লোকটা কথা বলতে পারছে না কাঁপার জন্য। ভয়ের কারনে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলে। নিকের নিষ্ঠুর চাহনি লোকটা সহ্য করতে না পেরে গদগদ করে সব বলতে থাকে,
— আ.. আমাকে ক্ষমা করে দিন বাঁধা দেওয়ার অপরাধে। আমাকে মানা করা হয়েছে, কেউ আসলেও যাতে সংবাদ না ডিলিট করি। যদি ডিলিট করে ফেলি তাহলে উনি আমাকে মেরে ফেলবেন। জীবন রক্ষার্থে এমন করেছি স্যার।
— লোকটার মুখ দেখেছিস?
— ন.. না স্যার। লোকটা মাস্ক পড়া ছিলো।
নিক দাঁত দাঁত চেপে উঠে। রাগে টগবগিয়ে উঠে মস্তিষ্কে। আচমকা অধিরাজের হাত থেকে ধাঁরালো ছুঁড়িটা নিয়ে লোকটার কন্ঠনালিতে আঘাত করে হুংকার দিয়ে বলে,
” তর মুখ দেখা উচিত ছিলো বান্দির বাচ্চা! দেখলে অন্তত বেঁচে যেতি। নিকের সাথে কেউ বিরোধ করলে সে বাঁচার লাইসেন্স হারিয়ে ফেলে।
নিক ছুঁড়িটা গলা থেকে তুলে আনে। লোকটা চিৎকার করতে পারে নি তার আগেই কন্ঠনালী কেটে যায়। গ্যাংস্টার বস উন্মাদের মত ছুঁরিটা পুনরায় পেটের মধ্য – বরাবর ডুকিয়ে দেয়।লোকটার তাজা রক্ত পুরো মেঝে গড়িয়ে পড়ছে। আরিশ সামান্য রক্ত নিজের দুই হাতের তালুতে নিয়ে বাঁকা হাসে। এই রক্ত তাকে অন্যরকম আনন্দ দেয়। নিক ছুঁরিটা অধিরাজের কাছে দিয়ে গার্ডদের উদ্দেশ্যে বলে,
” এইটাকে সমুদ্রের একদম ভীতরে ফেলে দিয়ে আয়। যাতে স্থলে বসবাস করা কোনো প্রানী এর লাশ খুঁজে না পায়।
গার্ডরা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।
সেসব দৃশ্য এতক্ষন লোকিয়ে পরখ করছিল এক রমনী। তার অন্তরাত্না পর্যন্ত কাঁপছে। নিজেকে ধরে রাখতে পারে নি। পুরো মাথা চক্কর দিয়ে উঠে। দ্রুত কোনোরকম বিছানার এক পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ে। রমনী সহ্য করতে পারে নি এমন ভিবিষীকাময় দৃশ্য। মস্তিষ্কের নিউরন গুলো যেন জমে গিয়েছে। চোখের পাতা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসে। মুখ থেকে বেরিয়ে আসে এক অভিশাপ,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩
” সৃষ্টকর্তার গজব পড়ুক তদের মত জানোয়ারদের উপর যারা রক্ত নিয়ে উল্লাস করে।
চোখ বন্ধ করে ফেলে এনি। জ্ঞান হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকে তার দেহখানা।
নিক হাতের রক্ত পরিষ্কার করে টিস্যু দিয়ে মুছে পুনরায় রুমের দিকে অগ্রসর হয়।
— ঘুমিয়ে পড়বি নাকি বাহিরে যাবি?
নিক দাঁড়িয়ে যায় কিছুক্ষনের জন্য। রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে,
” খুবই গুরুত্বপূর্ন কাজ বাকি আছে।
