লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫
লিজা মনি
এনি পিটপিট করে চারদিকে চোখ মেলে তাকায়। ঘুমের রেশ এখনও কাটে নি। মাথাটাও কেমন প্রচন্ড ব্যাথা করছে। চারদিকে অন্ধকার দেখতে পেয়ে নিজের মাথাটা ভালোভবে চেপে ধরে। ঘুমের রেশ কাটিয়ে এক প্রকার যুদ্ধ করে চোখ খুলে আবার ও পরখ করার প্রয়াস চালায়। না, মুলত অন্ধকার নয় বরং দেয়ালের রং কালো, টাইলস কালো এমনকি পর্দাগুলো ও। এনি চমকে উঠে খুব। তাকে যে রুমে রাখা হয়েছিলো সব তো সাদা ছিলো হুট করে কালো কিভাবে হয়ে গেলো। আর এই রুমটাই বা এত ভয়ানক কেনো? এনি অস্থির হয়ে উঠে। ঘুমের রেশ কেটে যায় ভয়ে। ব্লাঙ্কেট শক্ত করে চেপে ধরে শুকনো ঢোক গিলে চারপাশে তাকায়।
হুট করে ডিভানে চোখ আটকে যায়। গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান হাত ছড়িয়ে তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এনি আৎকে উঠে সামনে থাকা ব্যাক্তিটাকে দেখে। চোখে – মুখে আতঙ্ক নিয়ে চাঁদর শরীরে জড়িয়ে নেয়। এনি কাঁপছে ভীষনভাবে। চোখে ভেসে উঠে পাচার কেন্দ্রের ভয়ানক ছমছমে পরিস্থিতি, নিলাম কেন্দ্রের প্রতিটি দৃশ্য, কাল সেই ভয়ানক খুন করে রক্ত নিয়ে উল্লাস করা। অস্থির হয়ে উঠে এনি। পুরো শরীর দিয়ে চিকন ঘাম প্রবাহিত হতে থাকে। ঠোঁট কাঁপছে, কান্না আসছে তার গলা চিঁড়ে। নিক এতক্ষন এনিকে পর্যবেক্ষন করে। এনির এমন কাঁপা আর আতঙ্কিত অবস্থা দেখে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে। এরপর বাঁকা হেসে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেঁজাতে ভােঁজাতে এনির সামনে এসে দাঁড়ায়। বলিষ্ঠ শরীরে হাতা কাটা একটা কালো টি- শার্ট। পেশিবহুল হাতে ইতালিয়ান ভাষায় খোদায় করা বাক্য, দুটি পাখি, গলার কাছে ড্রাগন ট্যাটু দৃশ্যমান। নিক বাঁকা হাসি বজায় রেখে খাটের স্টেনে উপরে হাত রেখে টান টান হয়ে দাঁড়ায়। এনি ভয়ে ভেতরে ভেতরে কান্না করে উঠে। কথা বলতে পারছে না মেয়েটা। মনে হচ্ছে কোনো হিংস্র জানোয়ার দাঁড়িয়ে আছে। সময় হলেই হাতে গিলে খেয়ে নিবে। কি তার ভয়ানক চাহনি, তার শরীরের প্রতিটি ভাঁজ! নিকের অস্তিত্ব এনির সর্বাঙ্গ কাঁপিয়ে তুলতে সক্ষম। নিক গভীর চাহনি দিয়ে শব্দ করে হেসে উঠে,
” ওয়েলকাম টু মাই ডার্ক সাইড বেবিগার্ল! ওয়েলকাম মাই ব্লেক ভাইপার মেনশন!
এনি কেঁপে উঠে। কিন্তু নিজের ভয়টাকে সামান্য ধমিয়ে রেখে চোখ নিচে নামিয়ে নিম্ন আওয়াজে বলে,
” ক… কেনো এনেছেন আমাকে এ.. এখানে? আমি বাড়ি যেতে চায়। ছেড়ে দিন আমাকে প্লিজ।
এনি কথা বলতে বলতে কেঁদে উঠে। এনিকে কাঁদতে দেখে নিক নিষ্ঠুর এক হাসি দিয়ে এনির কাছে যায়। নিককে কাছে দেখে এনি সিটিয়ে যায়। ভয় হচ্ছে তার, প্রচন্ড ভয়। নিক এনির মুখের সামনে পড়ে থাকা একটা চুল নিজের পিন্কি ফিঙ্গারে পেঁচাতে পেঁচাতে গম্ভীর কন্ঠে বলে,
” তুমি নিক জেভরানের প্যালেসে আছো। এখানে সবাই ডুকতে পারে না। একবার আমার মেনশনে তোমার পদচরন পড়েছে। এখন থেকে বের হওয়ার সপ্ন দেখাও তোমার জন্য বিরোধ। ইউ নো সেক্সি লেডি তুমি আমার রক্ষিতা!
— র.. রক্ষিতা! প্লিজ ছেড়ে দিন আমাকে। আপনাদের অনেক টাকা আছে পেয়ে যাবেন অন্য কাউকে। আমাকে কলঙ্কিত করবেন না।
নিক এনির পুরো মুখে দৃষ্টি দিয়ে বলে,
” ইউর আইজ, ইউর লিপস, ইউর ফেইস — দে’র ওয়ান অফ আ কাইন্ড। দ্য ডে আই সি দেম এগেইন, ইভেন ইন সামওয়ান এলস, ইজ দ্য ডে আই’ল ওয়াক অ্যাওয়ে।
যেদিন পাব সেদিন ছেড়ে দিব। ”
— একই রকম দেখতে মানুষ দ্বিতীয় হয় না।
— তাহলে তুমি’ই থেকে যাবে। চিরদিনের জন্য নিক জেভরানের রক্ষিতা হয়ে।
রক্ষিতা শব্দটা এনির ভীতরে তীরের ফলার মত আঘাত করছে। সে জানে রক্ষিতা মানে বাজে মেয়ে। রক্ষিতা হলো পাপ দুমিয়ার ফুর্তির অংশ। যেখানে হাজারও পুরুষের মনরোঞ্জন করতে হয়। এনি নিকের দিকে তাকাতে চায় কিন্তু ভয়ে তাকাতে পারে না। কি হবে তার জীবনে? তার ভবীষ্যত কি? সে ও কি হাজার ও পুরুষের মনরোঞ্জনের ব্যক্তি হবে? এনি ছটফটিয়ে উঠে। পালাতে হবে এখানে থেকে। মাথা থেকে বেড়িয়ে যায় এখানে সয়ং গ্যাস্টার বস দাঁড়িয়ে আছে । এনি বিছানা থেকে নেমে দিশেহারা হয়ে দৌঁড় দেয়। দরজার কাছে আসতেই সামনে দরজা নিজের থেকেই আটকে যায়। এনি দাঁড়িয়ে যায়। দরজা কিভাবে আটকে গেলো? এতক্ষন তো খোলা ছিলো সব কিছু। এনির ভাবনার মধ্যেই নিকের ভয়ংকর হাসি ভেসে আসে। এনি কাঁপা – কাঁপা চোখে পিছনে তাকায়। নিক হাসতে হাসতে এনির একদম কাছা- কাছি এসে দাঁড়ায়। এনি ঘাবরে গিয়ে বলে,
” ক.. কাছে আসবেন না। হালকা স্পর্শ লাগলেও আমি অপবিত্র হয়ে যাব।
নিক বাঁকা হেসে ইচ্ছেকৃত ভাবে এনির দুই হাত চেপে ধরে। এনি চোখ বন্ধ করে ফেলে।
— পালাতো যাচ্ছো মাই ফাকিং বেবিগার্ল? এখানে প্রতিটি দেয়াল ও আমার কথা শুনে চলে। পরেরবার যাতে পালানোর বোকামি করতে না দেখি। ইউ নো তুমি জানো আমি ঠিক কতটা খারাপ? তোমার ভাবনার চাইতে ও বেশি খারাপ আমি। আমার এই দুই হাত কারোর গলা টিপে দিতেও কেঁপে উঠে না।
নিক এনির গলায় সামান্য স্লাইড করে বলে,
” তোমার গলায় মৃত্যুর স্পর্শ থাকবে না গ্যাংস্টার বসের ঠোঁটের স্পর্শ থাকবে।
নিকের গম্ভীর, ধীর, ফিসফিসানি কথায় এনির সর্বাঙ্গ ঝাঁকিয়ে উঠে। ঘৃনায় পুরো শরীর ঘিনিঘিন করে উঠে। এমন নোংরা পরিস্থিতিতে পড়ার আগে আগুনের ঝাঁপ দিয়ে মরাটাও ব্যাটার ছিলো। নিতে পারছে না ছোট মস্তিষ্ক এমন ভয়ানক পরিস্থিতি। চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। চোখের পাতা নিভু নিভু হয়ে আসে। ঠোঁট নাড়িয়ে বলতে থাকে,
” বাড়ি ফিরতে চাই আমি। প্লিজ কেউ বাঁচাও আমাকে নরক থেকে।
এনি হেলে পড়ে নিকের বাহুডরে। নিক গম্ভীর হেসে বলে,
” ইন্টারেস্টিং! বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তো হবে না বেবিগার্ল। নিক জেভরান এত দুর্বলতা সহ্য করবে না।
নিক এনিকে কোলে তোলে নেয়। এরপর বিছানায় শুইয়ে দেয় ভালোভাবে। হুট করে কিছু একটা মনে পড়তেই চোখ- মুখের রিয়্যাকশন বদলে যায়। তার রোষ মস্তিষ্কের নিউরনে চতুর্দিক থেকে বিস্ফারিত হয়ে ওঠে।যেন কোর্টেক্সের প্রতিটি কোষে নেমে আসে হিংস্রতা আর প্রতিশোধপরায়ণতার সংকেত।
সে মুহূর্তে যুক্তি নয় বরং নৈতিক শাসনের নামে হিংস্র প্রতিচ্ছবি তার চিন্তায় অধিষ্ঠান করে। হৃদয়তন্ত্রীতে জমে ওঠে স্নিগ্ধ অথচ অনিবার্য রক্তপিপাসা যা প্রতিপক্ষকে নিঃশব্দে ধ্বংস করার স্পৃহা জাগায়।
চোখের মণি দুটি ক্রমশ সংকুচিত হয়ে উঠতে থাকে। যেন শিকারে ঝাঁপ দিতে উদ্যত কোন হিংস্র বাঘ।
চোখদুটো অনুভূতির রক্তের শপথ বহন করে। তাতে কোন আবেগ নেই শুধুই একরাশ ভাষার অতীত। গ্যাংস্টার বসের তার শরীর একপ্রকার কঠিন কাঠামোতে পরিণত হয়।ঘাড় কষে ওঠে এক প্রকার পেশিগুলো খিঁচে যায়।এবং আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় মৃত্যুর অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ থাকে। প্রতিটি চলনে থাকে নিয়ন্ত্রিত হিংস্রতা। ক্রোধ নিয়ে হুট করে উঠে দাঁড়ায়। এরপর এক হাতের মাধ্যমে খাটের স্টেনে ঝুলিয়ে রাখা টাইটেনিয়াম-চেইনড টেলিস্কোপিক রেস্ট্রেইন্ট সিস্টেম দুই হাতে নামিয়ে নেয়। এইটি হলো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এক ধরনের বাধন, যা মূলত উচ্চ নিরাপত্তা, নির্ভুল নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘস্থায়ীতার জন্য তৈরি। এই যন্ত্রটির কাঠামোতে থাকে পরপর যুক্ত টেলিস্কোপিক ধাতব রড (যা ভাঁজ করে ছোট করা যায়) এবং প্রতিটি রডের সংযোগস্থলে থাকে টাইটেনিয়াম চেইন বা বল্টযুক্ত সংযোগ।যা একে ভয়ংকরভাবে শক্ত ও প্রায় অবিনাশী করে তোলে।
ব্যবহারের সময় এই রেস্ট্রেইন্ট সিস্টেমটি এক টানেই কয়েক গুণ বড় হয়ে যেতে পারে এবং তখনই একটি হাই-টেনশন লকিং মেকানিজম সক্রিয় হয়। যা একবার বন্ধ হলে সাধারণ কোনো যন্ত্র বা চাবি দিয়ে খোলা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর সংযুক্ত চেইন অংশ টাইটেনিয়াম দিয়ে তৈরি হওয়ায় তা কেবল আগুন, অ্যাসিড বা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কাটার দিয়েই নষ্ট করা যায়।
নিক এইটা হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে লম্বা করতে থাকে। ঠোঁটের কোনে বাঁকা হাসি। চাঁদের আলো বালিশে পড়ে রেখেছে এনির মুখে এক স্বর্গীয় কোমলতা। সে কোনো পবিত্র স্বপ্নের গহ্বরে নিমগ্ন। হয়ত এনি সজ্ঞানে থাকলে ছটফট করত। কিন্তু বোকা এনি তার আগেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আজ রাতই তার স্বাধীনতার শেষ রাত।
নিকের হাতে ধীরে ধীরে প্রসারিত হচ্ছে এক যন্ত্র টাইটেনিয়াম-চেইনড টেলিস্কোপিক রেস্ট্রেইন্ট সিস্টেম। শুরুতে তা ছিল নিছক একটি পেনসিল-আকারের রড, কিন্তু এক নিঃশব্দ টানের মাধ্যমে সে যন্ত্র বিশালাকার এক ধাতব সাপের মতো ফুঁসে উঠল। এর চেইন রিংগুলো গাঢ় রূপালী, নির্মমভাবে মসৃণ, আর প্রতিটি সংযোগবিন্দু থেকে ঝরে পড়ে পরম নিয়ন্ত্রণের শীতল শ্বাস।
নিক দক্ষ হাতে শিকলটা নিজের হাতে পেচায়। এরপর পৈশাচিক হাসি দিয়ে এনির কোমল মুখটার দিকে তাকিয়ে বলে,
” You have to be careful. Beautiful women are heaven for the eyes and hell for the soul
(অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। সুন্দরী নারীরা চোখকে স্বর্গ, কিন্তু আত্মার জন্য হয় দগ্ধকরণের শয়তান।)
নিক প্রথমে বাম হাত এগিয়ে এনির কবজির চারপাশে রিং জড়িয়ে দেয় । এক ক্লিকে লক বসে যায় অটল, অনড়, অমোচনীয়। অতঃপর দ্বিতীয় হাতে ঠিক সেভাবেজ নিঃশব্দে নিখুঁত জ্যামিতিতে বন্দি করে ফেলা হয়। সেই একই চেইনের বিপরীত প্রান্তে। এনির শরীর তখন দু’টি ধাতব বিন্দুর মধ্যে বাঁধা পড়ে আছে। অথচ এনি এখনো নিদ্রাবিষ্ট, মুক্তির স্বপ্নে বিভোর।
একটি গভীর শ্বাস নিয়ে নিক তখন ধাতব চেইনের দৈর্ঘ্য মেপে নেয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিকে প্রসারিত করে নায়িকার কোমরের নিচে বিছানার বিশেষ লক-হুকের সঙ্গে আটকায়। এই মুহূর্তে সে শুধু ঘুমন্ত নয় সে এক দেশ সেরা গ্যাংস্টারের কাছে বন্দী।
নিকের ঠোঁট তখন কানে গিয়ে ফিসফিস করে,
” উফফ মাই ফা*কিং বেবিগার্ল! নিক জেভিরানের বন্দিনী শুধু আজ নয় পুরো জীবনের জন্য হয়ে গেলে। কিন্তু… আমার জীবনে নয় রক্ষিতা হয়ে।
নিক ছোট ছোট চোখে এনির পুরো শরীর স্ক্যান করে। কোমল মুখখানা, স্নিগ্ধ চেহারা, ব্যাস এইটাই যথেষ্ট নিকের জন্য। এনি নিকের তুলনায় অনেকটা ছোট। এনি এক সাধারন মেয়ে বাট নিক এক গ্যাংস্টার। প্রার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক।
আরিশ বাড়িতে ডুকে এনিকে না পেয়ে পাগল প্রায় হয়ে যায়। পুরো বাড়ি তন্ন – তন্ন হয়ে খুঁজতে থাকে। মনে হচ্ছে নিজের কোনো অস্তিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। মাফিয়া জীবনে এই প্রথম কারোর হারানো নিয়ে আরিশের বুকে তীব্র ব্যাথা অনুভব হচ্ছে। আরিশ পাগলের মত ছুটে যায় গার্ডদের কাছে। সবাইকে ইশারা দিয়ে বলে,
” একটা মেয়েকে দেখেছো এইদিকে? মানে নিক যে মেয়েটাকে কিনেছে তাকে?
একজন গার্ড আরিশের কথায় মাথা নিচু করে বলেন,
” বস রাতে নিক স্যার মেয়েটাকে নিজের সাথে করে নিয়ে গিয়েছেন। প্রথমে দেখিনি পরে গাড়ির ভিতরে ডুকানোর সময় দেখেছি।
গার্ডের কথা শুনে আরিশ গভীর নিশ্বাস ছাড়ে। হাটতে কষ্ট হচ্ছে তার। এরপর ও টেনে- টুনে লিভিং রুমে এসে সোফায় ঠাস করে বসে পড়ে। বুকের ভিতরে এক তীব্র ব্যাথা অনুভব হচ্ছে। কিছু একটা হারিয়ে ফেলার কারনে খালি খালি লাগছে। আরিশ সহ্য করতে না পেরে চুল- খামচে ধরে নিজের। অজানা কারনে সবুজ চোখের কার্নিশ লাল হয়ে যায়। সহ্য করতে না পেরে সামনে থাকা মিনি টেবিলটাকে লাথি মেরে দাঁতে দাঁত চেপে উঠে,
” আরিশ স্টপ! কি হয়েছে তার? শালার অনুভুতিগুলো সবসময় ভুল জায়গায় প্রবাহিত হয়। আমি কেনো মেয়েটার জন্য ছটফট করছি। পছন্দ করার মত ভুল কেনো করলি আরিশ? ও তর ভাই নিকের সম্পদ। নিজের ভাইয়ের সম্পদে তুই নজর দিয়েছিলি! ছিহহহ। যাস্ট ফা*ক অফ আরিশ! ফা*ক অফ।
আরিশ অস্থির হয়ে উঠে। মন শান্ত করতে হবে যে কোনো মুল্যেই। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন রক্ত। রক্ত কোথায় পাবে সে? টর্চার সেল! হ্যা টর্চার সেলে যেতে হবে। আরিশ নিজের সাথে যুদ্ধ করে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যায় টর্চার সেলের উদ্দেশ্যে। ঘন- কালো জঙ্গলের মধ্যে টর্চার সেলের সামনে এসে গাড়ি থামায়। এরপর হিংস্র পায়ে এগিয়ে যায় ভিতরে। এক বদ্ধ কক্ষে ফিঙ্গার টাচ করে ভেতরে প্রবেশ করে। রহস্যময় হাসি দিয়ে একটা বস্তা ঠেলে অন্য রুমে যায়। এরপর বস্তা থেকে বের করে অজ্ঞানরত একজন ব্যাক্তি। যার শরীরে প্রতিনিয়ত ড্রাকস পুশ করা হয়ে থাকে। শুধু এই ব্যক্তি নয় এমন হাজার ও ব্যাক্তি আছে ড্রাকসের নেশায় বুদ হয়ে টর্চার সেলের মেঝেতে পড়ে আছে। নির্জন গলিপথে অন্ধকার গাঢ়তর হতেই আরিশ করুণহীন পদক্ষেপে অগ্রসর হয়। তার চোখে ছিল ধ্বংসের সংকল্প।ঠোঁটের কোণে একধরনের নির্মমতা ছাপিয়ে উঠেছিল। আরিশ হাসি ফুটিয়ে কিছুক্ষন থেমে যায়। চেহারায় একটুও ভাবান্তর না এনে। তার সামনে স্টিলে শুয়ে থাকা লোকটি অবুঝ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে আছে।।সে জানত না এই সন্ধ্যা তার জীবনের শেষ সন্ধ্যা।
আরিশ ছুঁরি তুলে নেয় হাতে। বর্তমানে তার হৃদয় ঠান্ডা করতে রক্তের প্রয়োজন।
আরিশ হঠাৎ বজ্রের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। পেশিবহুল হাতের ঘুষি আঘাত করে লোকটির চোয়ালে। হাড় চূর্ণ হয়ে গুঞ্জন তোলে। যেন শূন্যে ভাঙে নৈঃশব্দ্যের প্রতিরোধ। লোকটার মুখ থেকে ছিটকে রক্ত পড়তে থাকে।
আরিশ পরের বার আঘাত করে ঝুঁকে পড়ে। শীতল অথচ নিঃশব্দে ফুঁসে ওঠে গলা। রক্ষণে সে কোমর থেকে বের করে ইস্পাতের তৈরি ঘুষি-লাঠি। এক প্রহারে খুলে যায় কপালের চামড়া, রক্ত গড়িয়ে পড়ে মাটির বুক ছুঁয়ে।
শেষ পরিনিতিতে লোকটি তখন আধমরা। কাঁপতে কাঁপতে সে হাত তোলে, করুণা প্রার্থনায়। আরিশ কিছুমাত্র সহানুভূতি না দেখিয়ে হিমস্রোতের মতো শীতল কণ্ঠে ফিসফিস করে,
” করুণা আমার ধাঁচে নেই।
আরিশ নিষ্ঠুরতার সাথে লোকটার পেটে ছুঁরি ডুকিয়ে দেয়। ছুঁরিটা সাথে সাথে বের না করে স্থায়ী করে রাখা। একাধারে পেটের ভেতরে ঘুরাতে থাকে। ছিন্ন – বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ভেতরকার সব কিছু। লোকটা পরলোক গমন করেছে অনেক আগেই কিন্তু আরিশের উন্মাদনা কমে নি। ছুঁরির মাধ্যমে চামড়া আলাদা করতে থাকে নিপুণভাবে। বুকের চামড়া আলাদা করে রক্ত মাখিয়ে নেয় নিজের হাতে। রক্তের তাজা ঘ্রান নাকের কাছে নিতেই শান্তির শ্বাস টানে বড় করে। বার বার নিজের নাকে নিতে থাকে তাজা রক্তের সু- গন্ধ। আরিশ রক্তাক্ত হাতটার দিকে এক পলক তাকিয়ে হিসহিসিয়ে বলে,
” আরিশ জেভানের মাথা একমাত্র কোনো তাজা রক্ত ওই ঠান্ডা করতে পারে। রক্ত এনে দাও আরিশ ঠান্ডা হয়ে যাবে।
শব্দসামগ্রীর বিশ্লেষণে রসালো, “Riu Palace Zanzibar” নগ্ন সমুদ্রের শোভাবহীন নির্জন সৈকতের কোলে অবস্থিত.বৃহৎ আবেদনশীল নিজের ভিতরে লুকিয়ে রেখেছে একধরনের সুকৌশলী বিলাস। এই রিসোর্টে প্রাপ্তবয়স্ক অতিথিরা অরুচিকর শিশু‑উপস্হিতির অনুপ্রবেশ থেকে মুক্ত। ফলে নিরঙ্কুশ অবাধ আরাম ও শান্তির পরিণামে পৌঁছায়।
রিসোর্টের কাঠামো আধুনিক আর ঐতিহ্যগত উভয় শৈলীর মিশ্রণে নির্মিত।অভিজাত নৈশভোজের জন্য আলাদা গুরমে খাবার। যেখানে ইন্ডিয়ান মহাসাগরের সমুদ্রস্নিগ্ধ ঝংকার উপভোগের জন্য খাদ্যের স্বাদে এক রোমাঞ্চকর বিলীনতা ঘটে। বহিঃস্কুল ইনফিনিটি পুল, স্পা, বার ও জিম। এসব প্রতিটি উপাদানে ফুটে ওঠে করুণনিরত আত্মার শান্তিদায়ক বরদাশত।
প্রতিটি মিনিট ঘন্টা পরিণত হয় নিষ্কলুষ স্বাচ্ছন্দ্যে।এখানে অতিথি স্ব-অংশগ্রহণে বিলাসের সারগর্ভ নিরবতা অনুভব করে। নাজলী রিসোর্টের একটা কেবিনে নিস্তব্দ হয়ে বসে আছে। তার সামনাসামনি নাবিদ বসে আছে।। তারা পৌঁছেছে মাত্র। এখন ফ্রেশ হওয়া প্রয়োজন সবার। নাজলী নাক টেনে নাবিদের দিকে তাকিয়ে বলে,
” এনিকে খুঁজে পাবো তো নাবিদ? আর খুঁজলেও সেই গ্যাংস্টার কি দিতে রাজি হবে? ওরা গ্যাংস্টার হয়ে আমার সহজ- সরল, ছোটো- খাটো বোনটাকে রেখে কি লাভ? তারা তাদের মত কোনো মেয়ে খুঁজে নিত। তাদের অপবিত্র দৃষ্টি এনির পবিত্রতায় কেনো পড়লো নাবিদ?
— এনির সৌন্দর্য নাজলী? এনির মধ্যে কি আছে জানা নেই। হাজারও ফর্সা নারীদের ভীরে এনির মুখে আলাদা এক মায়া, এক কোমলতা আছে যা অন্যদের মধ্যে ছিটে ফুটে ও নেই। উপরওয়ালা এমন মেয়েদের খুব কম ভাবে তৈরি করেছেন। সবাই সুন্দর কিন্তু সবাই অনন্যা হয় না। কিন্তু এনি সুন্দরে অনন্যা।
নাজলী লম্বা শ্বাস টানে। চোখগুলো ফুলে উঠেছে মেয়েটার। নাবিদ নাজলীর উদ্দেশ্যে বলে,
” কাল সরাসরি গ্যাংস্টারের মুখোমুখি হব নাজলী। একশত কোটি টাকা ফিরিয়ে দিব তাকে।বিনিময়ে আমি আমার এনিকে চাই।
— এতগুলো টাকা তুমি দিবে নাবিদ?
— ভালোবাসার জন্য এইটুকু করতে না পারলে আমি কেমন প্রেমিক।
— যদি ওরা তোমার কোনো ক্ষতি করে তাহলে?
— উনি গ্যাংস্টার বস নাজলী। উনার কাজ খুব নিঁখুত। এমনভাবে কাজ করেন যার কোনো প্রমান থাকে না। শান্তভাবে সব কাজ সমাপ্ত করে ফেলেন। উনি কখনো আক্রমন করবে না। কারন আমি গার্ড ছাড়া যাব। নিরস্ত্র ব্যাক্তিরা উনার সাথে দেখা করতে গেলে উনি কখনো আ্যাটাক করে না। আগে যায় পরে দেখি কি হয়। প্রয়োজনে এনিকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে ইঁদুরের গর্তে বসবাস করব এরপর ও এনিকে নিয়ে আসব।
নাজলী গভীর নিশ্বাস ছাড়ে। নাবিদ উঠে নিজের রুমের দিকে চলে যায়। তার এখন ফ্রেশ হয়ে অনাক কাজ করা বাকি।
নাজলী মুখে হাত দিয়ে কেঁদে উঠে,
” আমার বুকে ফিরে আয় এনি। তকে ছাড়া তর বোন ভালো নেই। তুই হীনা সে অস্তীত্বহীন অসহায় হয়ে পড়েছে। তর জন্য ভেতরটা ছটফট করছে এনি। কষ্ট হচ্ছে খুব তর করুন অবস্থা দেখে। তুই আমার শেষ অবলম্বন বোন। তর পরে আমি কিছু চাই না। তকে ধরেই আমি বেঁচে আছি। তুই মজা করে বলতি আপা আমি হারিয়ে গেলে কি তুমি কাঁদবে আমার জন্য? দেখ আমি ছটফট করে কাঁদছে , প্রতি রাতে একা একা । এই দুনিয়া আমার কাছে এখন শূন্য। শূন্য রাত, শূন্য সকাল, শূন্য তর বোন।
নাজলী ফুঁপিয়ে উঠে। মনের মধ্যে শুধু অশুভ কাহিনী এসে ধরা দিচ্ছে। কেউ তার বোনটাকে অশুভ ভাবে ছুঁয়ে দিচ্ছে। নাজলীর মাথায় হঠাৎ টনক নড়ে। গ্যাংস্টার বস তার সাথে খারাপ কিছু করে নি তো? তাকে বাজেভাবে স্পর্শ করে নি তো? এনি কি সহ্য করতে পারবে এই হার্ড টাচ! নাজলীর মাথা ঘুরে আসে। নিস্তব্দ হয়ে পড়ে মেয়েটা। বুকটা ধুকধুক করছে অসম্ভবভাবে যা এখন তার নিয়ন্ত্রনের বাহিরে।
রাত্রি যখন তার রহস্যময় আঁচলে সমগ্র পৃথিবীকে আচ্ছন্ন করে তখন প্রকৃতি হয়ে ওঠে এক মূর্ত শব্দহীনতা।যার প্রতিটি দিক থেকে ঝরে পড়ে নিঃশব্দ আর্তনাদের সুর। সূর্য অস্তমিত হতেই আকাশের গায়ে খচিত তারা যেন বিষাদের ক্ষতচিহ্ন হয়ে জ্বলে ওঠে। প্রতিটি বিন্দুতে ফুটে ওঠে এক অদ্ভুত স্থবিরতা। চাঁদ তখন নির্বিকার রূপে ধবল আলো ছড়িয়ে দেয় মৃতপ্রায় ধরণীর বুকে।এক ধরনের শীতল আলোকচ্ছটা, যা চোখে প্রশান্তি দেয়, কিন্তু অন্তরে একাকিত্বের বিষ ঢেলে দেয় নিঃশব্দে। নিক নিস্তব্দ রাতে নিজের ভাইপার মেনশনে বসে আই প্যাডে কিছু একটা দেখছিলো। আরিশ নিজের ফিঙ্গার টাচ করে ভিতরে প্রবেশ করে। নিক কে আই প্যাড নিয়ে বসে থাকতে দেখে আরিশ কপাল কুচকে সেদিকে যায়। বাড়ি পুরোটা কালো রং দিয়ে ঘেরা। বিছানার চাঁদর থেকে শুরু করে বাড়ির প্রতিটি আসবাব পত্র ব্লেক। বাড়িতে হাজারটা লাইট জ্বালানো থাকলেও আরিশের কাছে মনে হয় পুরো বাড়ি অন্ধকার। আরিশের মনে প্রশ্ন জাগে যখন পুরো বাড়ির সবকিছু কালো তখন লাইট ঝকঝক রাখার কি দরকার ছিলো। লাইটের আলোও কালো লাগানো উচিত ছিলো। আরিশ শ্বাস ফেলে আই প্যাডে উকি দেয়। আপত্ত্যিকর লেখা চোখে পড়তেই আরিশ নাক – মুখ কুচকে ফেলে।
আরিশ গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,
” আর কত অডিও বুক শুনবি নিক? এমন অডিও বুক শুনে নিজেকে সামলে রাখিস কিভাবে?
— বরফ আছে তো।
আচমকা নিকের আওয়াজ পেয়ে আরিশ থতমত খেয়ে যায়। সে তো অডিও বুক শুনার মধ্যে মগ্ন ছিলো তাহলে তার কথা শুনলো কিভাবে?
— তুই শুনলি কিভাবে?
— কান দিয়ে।
— তর কানে তো হার্ড কথার লাইনের সুর বাজছিলো। সেটা রেখে এইটা শুনলি কিভাবে?
— তুই যখন শুরু করেছিস তখন আমি বন্ধ করে দিয়েছলাম। তাই শুনেছি।
আরিশ নিকের দিকে সিরিয়াস ভঙ্গিমায় বলে,
” তুই এনিকে নিজের কাছে এনে রেখেছিস নিক?
নিক সামান্য হাসে। সে জানত আরিশ এসে তাকে জিজ্ঞাসা করবে। নিকের হাসি দেখে আরিশ তপ্ত শ্বাস ছাড়ে।
— কি করবি এনিকে দিয়ে নিক? তুই তো মেয়েদের সহ্য করতে পারিস না। ইভেন তুই যে রাস্তা দিয়ে হাঁটিস সে রাস্তায় তর সামনে কোনো মেয়ে আসতে পারে। রেগে যাস প্রচন্ডভাবে। তাহলে আজ এনিকে নিজের রুমে কেনো জায়গা দিয়েছিস?
নিক ঠোঁট চেপে হেসে বলে,
” রক্ষিতা তাই।
আরিশ গম্ভীর শ্বাস ফেলে।
— তুই কি রক্ষিতা হিসেবে ব্যবহার করবি নিক?
— দেখা যাক।
আরিশ কিছু বলে না আর। একজন স্টাফ এসে কিছু সফট ড্রিংক্স দিয়ে যায়। আরিশ গ্লাসে সামান্য চুমুক দিয়ে নিকের উদ্দেশ্যে বলে,
” তুই বিয়ে করবি কবে নিক?
— মরার পরে ।
— ভাই নিজেও বিয়ে কর আমাকে ও বিয়ে করার সুযোগ করে দে।
— তর কাছ বউ টিকবে আরিশ?
নিকের গভীর প্রশ্নে আরিশ থতমত খেয়ে বলে,
” মনের খোরাক ভাই আর কিছুই নয়। বাট আমি তকে বিয়ে দিয়ে নিজে বিয়ে করব।
— হ্যা আমি বিয়ে করব। এরপর প্রতি বছর একটা করে বাচ্চা উৎপাদন করব। আর সেই বাচ্চাগুলোকে দিয়েই আমার মাফিয়া প্যালেস সাজাব। বাচ্চার সংখ্যা ধরে একশত এর উপরে।
আরিশ তব্দা খেয়ে তাকায় নিকের ভাবলেশহীন মুখটার দিকে। নিক যে তাকে পিঞ্চ মেরে কথাটা বলেছে তার কোনো সন্দেহ নেই। আরিশ ও হেসে বলে উঠে,
” যাক তাহলে প্লাস্টিক গুলো বিলুপ্ত হবে না। প্লাস্টিক গুলো নিক জেভরানের হাত থেকে বেঁচে যাবে।
নিক ছোট ছোট চোখ করে তাকায় আরিশের দিকে। আরিশ হাত – পা ছড়িয়ে বলে,
” ওডিও বুক শুনেছিস অনেক গুলো। প্লাস্টিক বলতে কি বুঝিয়েছি নিশ্চয় বুঝেছিস।
নিক কটমট চোখে আরিশের দিকে তাকাতেই আরিশ হাসি দিয়ে বেরিয়ে যায়। বর্তমানে তার নিরাপদে থাকা ভালো।
আরিশ চলে যেতেই নিক উঠে দাঁড়ায়। এরপর ধীর পায়ে গম্ভীর হয়ে এনির রুমের উদ্দেশ্যে যায়। নিজের হাতে দরজা খুলে রুমের ভেতরে ডুকে। এনি মাত্র নিজের চোখ খুলেছে। নিক রুমে ডুকতেই তার পিছনে স্টাফ খাবার নিয়ে আসে। নিক ইশারা করে যথাস্থানে রেখে দিতে। স্টাফ খাবার রেখে এনির দিকে এক পলক তাকিয়ে বেরিয়ে যায়। এনি নড়তে চায় কিন্তু নড়াচড়া করতে পারছে না। তার হাত, পা বাঁধা শেকলের সাথে। এনি ছটফট করে উঠে। নিক গম্ভীর হয়ে পায়ের উপর পা তুলে এনির সম্মুখে বসে। এনি সামান্য রাগ মিশিয়ে বলে,
” আপনারা এত অমানুষ কিভাবে হয়েছেন? আমাকে এইভাবে বেঁধে দিয়েছেন কেনো? মেরে ফেলবেন আমাকে? তাহলে মেরে ফেলুন। হ্যা ওইদিন বাঁচার ভিক্ষে চেয়েছি কিন্তু আজ মৃত্যু ভিক্ষ্যে চাইছি। বাঁচতে চাই না সেখানে যেখানে আপনার মত জানোয়ারকে পদে পদে দেখতে হয়। আপনার মত নিকৃষ্ট শয়তান কখনো দেখিনি। আল্লাহর গজব পড়বে আপনাদের উপর। যারা আমাদের মত হাজার মেয়ের জীবন নষ্ট করে। আল্লাহ আপনাকে ছাড়বে না।
নিক এনির প্রতিটি কথা শান্তভাবে শ্রবন করে। এরপর হেসে বলে,
” তুমি জানো বেবিগার্ল নিক জেভরানের সাথে কেউ গলা উচিয়ে কথা বলতে পারে না। তাদের গলার আওয়াজ সবসময় নিচে থাকে। তাই লিমিট ছাড়িয়ে যাবে না বেবিগার্ল। ধর্ম চিন্তা করলে কখনো পাপ কাজের সর্দার হতাম না।
এনি কাঁপা গলায় বলে,
” আপনি মুসলমান নন?
নিক ঠোঁট কামড়ে ফিঁচেল হাসে। এনি নিশ্বাস টেনে বলে,
” ধর্মহীন জানোয়ার তাহলে? তবে শুনে রাখুন স্যার ইসলামে ফেরাউনের পতন ঘটেছে। হিন্দু ধর্মে রাবনের ও পতন ঘটেছে। আপনি যে ধর্মের ওই হোন না কেনো প্রতি ধর্মতেই পাপের বিনাস ঘটে। খুলে দিন আমাকে এই শিকল।
নিক একটা গ্লাস টেবিলের উপর শব্দ করে রাখে। গলায় গভীরতা এনে বলে,
” তোমাকে তো সরল ভেবেছিলাম কিন্তু তুমি এত কথা কেনো বলছো বেবিগার্ল?
— তখন মৃত্যুর ভয় ছিলো তাই দুর্বল ছিলাম। কিন্তু এখন ইজ্জতের ভয় হচ্ছে। নিজেকে কলঙ্কিত রুপে দেখার আগে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া ভালো।
— এত ইজ্জতের ভয়? ইন্টারেস্টিং! আমি স্পর্শ করব , কাছে আসব আর এইভাবে তুমি বাঁচবে বেবিগার্ল।
— তার আগেই আমি আত্নহত্যা করব।
এনির কথা শেষ হতেই নিক উচ্চস্বরে হেসে উঠে। এনির দিকে তাকিয়ে বলে,
” সে কারনেই তোমাকে এইভাবে বেঁধে দিয়েছি আমি। কারোর ক্ষমতা নেই এইটা খুলার।
এনি হাঁপিয়ে উঠে। কি করবে সে আর? মরার রাস্তা ও বন্ধ করে দিয়েছে এই পিশাচ। নিক খাবারের একটা প্লেট হাত নিয়ে এনির পাশে বসে বলে,
” খাবারটা খেয়ে নাও বেবিগার্ল।
এনি রক্তচক্ষু ন্যায় তাকিয়ে বলে,
” মরে যাব তবুও খাবারে স্পর্শ করব না।
নিক ঠোঁট উল্টে তাকায় এনির দিকে। এরপর নিজের ভাবভঙ্গি পরিবর্তন করে বলে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪
” গেস ইয়োর প্লেস মাই ফা*কিং বেবিগার্ল। রাত এখন গভীর নিস্তব্দ। তোমার হাত বাঁধা এখন। ই***** হলে আটকাতে পারবে তো? নিজের জীবন যদি বাঁচাতে চাও তাহলে খাবার খেয়ে নাও। খাবার মুখে দিব আর তুমি গিলে ফেলবে। একটু এদিক – সেদিক হলে আমার হিংস্রতা দেখবে।
নিকের চিবিয়ে চিবিয়ে অশালীন ইঙ্গিতগুলো এনির পুরো কায়া নাড়িয়ে তুলে। স্তব্দ হয়ে তাকায় নিকের দিকে। নিক এনির দিকে না তাকিয়েই খাবারের চামচ তুলে দেয়। এনি বিনা শব্দে শুধু খেতে থাকে অনুভুতিহীনভাবে। খাওয়া শেষ হলে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে দিয়ে নিক গলার খাদ নামিয়ে বলে,
” নিজের টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে দিচ্ছি আমি। বাহহহ!
