লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৪৩
Fatima Fariyal
“চুপ করে আছেন কেন? বলুন না! আপনি রিদির সাথে কী করেছেন?”
আহিয়ার কণ্ঠ কেঁপে উঠল উত্তেজনায়, ভয়-উদ্বেগ-রাগ সব একসাথে জমে আছে তাতে,
“এ কথা কেন বলেছেন, যে আপনি সেদিন যা করেছেন তার জন্য অনুতপ্ত? ভাইয়া… রিদির সাথে আসলে কী করেছিলেন আপনি, আদনান ভাই?”
আহিয়ার কথাগুলো যেন ধারালো কাঁটার মতো বিঁধে যাচ্ছিল আদনানের বুকের ভেতর। হৃদপিণ্ডটা যেন কেউ জোরে মুঠো করে ধরে রেখেছে, শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সে ভয় পাচ্ছে, ভীষণ ভয়। এতদিনের চাওয়া-পাওয়া, অনুশোচনা-অনুতাপ পেরিয়ে সবেই তো সে আহিয়াকে পেতে বসেছে। যদি আহিয়া এখনই তাকে ঘৃণা করে বসে? যদি দূরে সরে যায়? সেই ব্যথা সে সহ্য করতে পারবে না। কখনোই না। সে মনে মনে স্থির সিদ্ধান্ত নিল,
“সত্যিটা কিছুতেই আহিয়াকে বলবে না। যে সত্য বললে সম্পর্ক শুরুর আগেই ভেঙে যাবে, সেই সত্য জানিয়ে লাভ কী!”
এমন সময় আহিয়া আবারও বলে উঠল, “আদনান ভাই.. বলুন না?”
আদনান একটু মাথা নিচু করল। গলা ভারী হয়ে এসেছে,
“যদি বলি… বিশ্বাস করবি তো? ভুল বুঝবি না তো আমাকে? আহি… আমি তোকে সবে পেয়েছি। কত কষ্টে, কতদিন অপেক্ষা করে… হারাতে চাই না তোকে।”
“তাহলে বলুন, কি করেছেন?”
“এটা জানা কি জরুরি? ”
আদনান গম্ভীর ভাঙা স্বরে বলল, “সবকিছু জানা সবসময় ভালো না আহি… কিছু কিছু জিনিস অজানাই থাকা ভালো। এটাও থাকুক না তোর অজনা।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আহিয়া বুঝতে পারল আদনান বলতে আগ্রহী নয়। তাই সেও আর জোড় করল না। তবে তার মনটা খচখচ করতে লাগল। একটা অস্বস্তি তাকে কামড়াতে লাগল ভিতর থেকে। আদনান কিছু লুকাচ্ছে, নিশ্চিত। কিন্তু কী? সে আদনানের পাশ কাটিয়ে নিজের গোপন অনূভতি নিয়ে সোজা নিচে চলে এলো। নীচে তখন এক অদ্ভুত হট্টগোল, রিদির হারিয়ে যাওয়া নিয়ে সবাই দিশেহারা। আমজাদ মীর কানে ফোন চেপে ব্যাস্ত পায়ে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়েই যাচ্ছিলেন। তখনই পিছন থেকে আফরোজা শেখ গলা উঁচু করে ডেকে উঠলেন,
“কোথায় যাচ্ছেন মন্ত্রী সাহেব?”
আমজাদ মীর ঘুরে দাঁড়াল। কান থেকে ফোন পাশে সরিয়ে বললেন, “কোথায় আবার? তোমার ছেলে ঢাকার বুকে তান্ডব শুরু করে দিয়েছে, তান্ডব! তার উপর দেশের আইন-শৃঙ্খলা এখন তার দু’হাতে ঝুলে আছে। আর তার ওপরে ছড়িয়ে পড়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বউ নিখোঁজ! পুরো শহর ঘিরে ফেলেছে ডিবি পুলিশ। প্রতেকটা অলি-গলি, বর্ডার, চেকপোস্ট সব জায়গা! এমন অবস্থায় আমি কি করে বসে থাকি বলো!”
আফরোজা শেখ একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়লেন। তার ধারনা ছিল এমনটাই হবে। সে সামান্য কপাল গুছিয়ে বললেন,
“আপনার ছেলের তো মাথার সব তারই ছেঁড়া! সে পাগলামো করবে, আমরা জানি। তাই বলে আপনিও তার সাথে যোগ দেবেন? আপনিও কি পাগল হয়ে গেলেন?”
“আহা, তুমি বুঝতেছো না আফরোজা! ছেলের বাবা তো.. একটু আধটু ছেলের বাতাস তো লাগবেই আমার গায়ে। তাছাড়া আমার একমাত্র বউ-মা নিখোঁজ। আমি কি করে ভেজা বেড়াল হয়ে ঘরে বসে থাকতে পারি বল?”
হালিমা বেগম তখন উদ্বিগ্ন মুখে বলে উঠলেন,
“ভাইজান ঠিকই বলছে আপা। রিদিতা কোথায় আছে, কেমন আছে কে জানে! মেয়েটার কোনো বিপদ হয়নি তো?”
আফরোজা শেখ কঠিনভাবে বললেন,
“তোমরা সবাই বেশি বাড়াবাড়ি করছো, হালিমা!”
তার চোখ সরাসরি আমজাদ মীরের দিকে,
“রিদিতা হারিয়ে যায়নি; বরং এ বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। আর সেটার কারনও আপনার আদরের ছেলে, মন্ত্রী সাহেব! মানুষকে হয়রানি করার আগে আপনার ছেলেকে রাগটা নিয়ন্ত্রণ করতে শিখান। না হলে একদিন সেই রাগই তাকে ধ্বংস করবে।”
আমজাদ মীর আর কিছু না বলে চোখে তার কালো চশমাটা পরে নিলেন। ফোনটা পকেটে রাখতে রাখতে শুধু বললেন,
“ওসব পরের কথা। আগে মেয়েটাকে খোঁজা জরুরি। আমি এখন আসছি। হালিমা তুমি রিদিতার বাবা-মায়ের সাথে যোগাযোগ রেখো। ও গ্রামে গেছে কিনা সেটার খোঁজ রেখো।”
“আচ্ছা ভাইজান!”
আমজাদ মীর একদল গার্ড নিয়ে দ্রুত পা ফেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন। আফরোজা শেখ নিজের চেয়ারে গিয়ে ভারী হয়ে বসে পড়লেন। রিতু দ্রুত একগ্লাস ঠাণ্ডা পানি এনে তার হাতে দিল। শারমিন, হালিমা, আহিয়া সবাই নিস্তব্ধ, দুশ্চিন্তায় ঘড়ির কাঁটা ধরে সময় গুনছে।
আনিকা একমনে ভার্সিটির করিডোর ধরে হাটছিল। তার পাশেই নীলা। আহিয়া আর রিদিতা পারিবারিক যই ঝামেলার কারনে বেশ কিছুূদিন ভার্সিটি আসেনা। অথচ এদিকে ১ম সেমিস্টার পরিক্ষার রুটিন দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরু আগামী মাসের ১১ তারিখে। আজ জুন মাসের ১৪ তারিখ; মানে হাতে আর খুব বেশি সময় নেই। এই চিন্তায় নীলা আর আনিকা মিলে গত কয়েকদিন ধরে দৌড়ে দৌড়ে সব সাবজেক্টের নোট সংগ্রহ করেছে। আহিয়া আর রিদিতা যেন পিছিয়ে না পড়ে। নীলা হাঁটতে হাঁটতে কিছু একটা বলছিল, কিন্তু আনিকার মন অন্যকিছু ভাবছে। তার মাথায় ঘুরছে আজকের ঘটনাটা। অপ্রত্যাশিত শাহীনের বিয়ের প্রস্তাবে আনিকা অনেকটা বিস্মিত হয়েছে। এমন করে কে বিয়ের প্রস্তাব দেয়? যতই সে বিয়ে পাগল হোক, তাই বলে এমন হুট করে একজন বিয়ে করে নেবে নাকি? যদিও শাহীন দেখতে অতটা খারাপ না; বেশ সুদর্শনও বটে, কিন্তু এভাবে বিয়ে অসম্ভব!
আনিকার ভাবনার বেঘাত ঘটে মিতুর ডাকে। পিছন থেকে মিতু ডাকতেই নীলা আর আনিকা দুজনেই ঘুরে তাকায়। মিতু প্রায় হাঁপিয়ে গেছে। কাছে এসে ঘন ঘন নিশ্বাষ ফেলছে। আনিকা জিজ্ঞেস করল,
“কিরে? তোর আবার কি হলো?”
মিতু লম্বা দম নিয়ে বলে, “শুনছিস কিছু?”
নীলা কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলল, “কি শুনবো?”
মিতু এক হাতে বুক চেপে ধরে হাহাকার করে শ্বাস নিতে নিতে বলল,
“ঢাকার শহরে আহাদ রাজা তাণ্ডব চালাচ্ছে! রিদিতা নাকি নিখোঁজ! তোরা কিচ্ছু জানিস না?”
“কিহহ!”
আনিকা আর নীলা একসাথে চিৎকার করে উঠল। তাদের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেছে। নীলা স্তব্ধ গলায় বলল,
“রিদি নিখোঁজ মানে কি? কোথায় গেছে ও?”
মিতু ঠোঁট উল্টাল, “আমি কি জানি! তোদের ভালো জানার কথা। তোরা তো ওর সবচেয়ে কাছের!”
আনিকা আর নীলা একে অপরের দিকে তাকাল, চোখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে। রিদিতা নিখোঁজ মানে আহাদ রাজা যে শহর মাথায় তুলে ফেলবে এটাই স্বাভাবিক! কিন্তু প্রশ্নটা হলো,
“রিদি কোথায়?”
সন্ধা ঘনিয়ে এসেছে। দূরে কোথাও আজানের সুর কানে আসছে আবার একই সঙ্গে শহরের রাস্তায় গাড়ির হর্ন, মানুষের চিৎকার, ট্রাফিক সাইরেন, সব মিলিয়ে অদ্ভুত এক শোরগোল। ডিবি, র্যাব, স্পেশাল ফোর্স, সবাই লবণের মতো ছড়িয়ে গেছে পুরো শহরে। প্রতিটা অলি, গলি, টানেল, টার্মিনাল চেক হচ্ছে। প্রতিটা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এখন অব্ধি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বউয়ের খোঁজ দিতে পারলনা। এমনকি একটা ক্লু ও না!
আহাদ রাজা তার ত্রয়ী আর গার্ড নিয়ে প্রত্যকটা শত্রুর আস্থানায় হানা দিয়েছে। কোন শত্রু তার সাথে শত্রুতা করে তার প্রেয়সীকে অপরন করতে পারে, এটা ভেবে! ঢাকার রাস্তায় বুলেট গতিতে ছুটছে তাদের কালো গাড়ি সারি বদ্ধ হয়ে। হেডলাইটের আলো ধারালো তীরের মতো রাস্তা চিরে এগিয়ে চলছে। গন্তব্য মাতাব্বরের আস্থানা। গাড়ির সারি থামতেই খলিল মাতব্বরের বিশাল বাড়িটা ঘিরে নিল নিরাপত্তা রক্ষিরা। আহাদ রাজার হাতে সিরিয়াস আর কোকোর কালো বেল্ট; সে ছাড়ে দিতেই তার পোষা কুকুর দুটো গর্জন করে ঢুকে পড়ল ভিতরে। মাতব্বরের লোকেরা ব’ন্দু’ক, র’ড নিয়ে তেড়ে এলো; কিন্তু আহাদ রাজা আর তার কুকুরের সামনে তারা ছেলেখেলা। মূহুর্তেই সবাই কুপোকাত।
আহাদ রাজা কোমরে গোঁজা থাতব পি’স্ত’লটা বের করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে উপরে উঠতে লাগল। তার চোখে আগুন, যেন ধ্বংসের দেবতা নেমে এসেছে। তার সাথে লাইন ধরে আদিল, শাহীন, নাদিম, শাওন আর একদল গার্ড। দ্বিতীয় তলায় মাতাব্বরের রুমের দরজাটা এক লাথিতেই খুলে ফেলল। রুমে ঢুকতেই দেখে এক অদ্ভুত দৃশ্য! খলিল মাতব্বর জায়নামাজে দাঁড়িয়ে, সম্ভবত মাগরিবের নামাজ পড়ছিল। আহাদ রাজা ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল। এ হাসি ঘৃণার, ব্যঙ্গের, তাচ্ছিল্যের,
“যে মানুষের কুকর্মের হিসাব লিখতে গেলে খাতা ভরে যাবে… সে আজ জায়নামাজে?”
মানুষ বড়ই অদ্ভুত প্রানী! আল্লাহকে ভয় করে না। মৃত্যুর পর কি হবে তার ভয় নেই অথচ মৃত্যুর আগের জীবনটার কি মায়া। এই ক্ষনস্থায়ী জীবনের মায়া ত্যাগ করা আসলেই দুষ্কর! নামাজরত মাতব্বরকে পাশ কাটিয়ে আহাদ রাজা একটা সিঙ্গেল সোফা গড়গড় শব্দ করে টেনে নিল। সোফায় বসে পি’স্ত’ল গালে ঠেকিয়ে, একটুখানি মাথা কাত করে নামাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করল। কিন্তু মাতাব্বরের নামাজ শেষ হওয়ার নামই নিচ্ছে না। দু’বারের জায়গায় মাঝেমধ্যে তিন’বার সেজদা দিচ্ছে। হয়তো ভেবে নিয়েছে, আজ নামাজেই তাকে বাঁচাতে পারবে। আদিল এটা দেখে হেসে উঠে বলল,
“এইটা কি দেখছিরে শাহীন ভাই? আজকে মনে হয় মাতাব্বর জীবনের সব নামাজ একসাথে পড়ে শেষ করবে।”
শাহীন ফিসফিস করে বলল,
“জান্নাত দখল করতে নেমে গেছে মনে হয়।”
হালকা হাসির শব্দ ঘরে ছড়িয়ে পড়ল। আহাদ রাজা পি’স্ত’ল’টা কপালে ঘঁষে বলে উঠে,
“একটা করে সেজদা বেশি দিলেই তো জান্নাত পাওয়া যায় না। সেটা মাতাব্বররে কেউ বুঝা!”
আবারও হাসল সবাই। এক মূহুর্ত নিস্তব্ধতার পর হঠাৎই আহাদ রাজার গলা বজ্রের মতো ফেটে উঠল,
“তোর নামাজ শেষ কর! কুইক! না হলে যত সময় আমাকে বসিয়ে রাখবি তোর শাস্তি ততটাই ভ’য়া’ন’ক হবে।”
সাথে সাথেই মাতাব্বর সালাম ফেরাল। কাঁপা কাঁপা হাতে জায়নামাজ গুটিয়ে নিতে না নিতেই, আহাদ রাজা তার উপর ঝাপিয়ে পড়ল। গলা চে’পে পিছনে ঠেলে দেয়ালের সাথে মিশিয়ে দিল। হিং’স্র পশুর ন্যায় গর্জন ছাড়ল,
“আমার রিদি কোথায়? কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস ওকে হা’রা’ম’জা’দা?”
মাতাব্বর কাশতে কাশতে বলতে লাগল,
“আমি কিছু করি নাই। আ.. আমি আমি জানিনা সে কোথায়..”
“তোকে আমি জ্যা’ন্ত পু’তে ফেলবো মাতাব্বর! আমার প্রেয়সীর যদি কিছু হয় তোর জীবন আমি জাহান্নাম বানিয়ে দিব।”
“আমি… সত্যি বলছি.. আমি জানিনা আপনার প্রেয়সী কোথায়.. বিশ্বাস করুন আমি কিছু করি.. নাই!”
আহাদ রাজা ঠোঁট বাঁকাল, “হাহ! বিশ্বাস? তোর মতো শু’য়ো’র’কে বিশ্বাস করব?”
মাতাব্বরের গলা আরোকটু জোড়ে চেপে ধরল। মাতাব্বর এবার হাসফাস করতে লাগল। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে অনবরত। চোখ দুটো রসগোল্লার মতো হয়ে গেছে, বেরিয়ে আসার উপক্রম। সে বহু কষ্টে বলল,
“আপনি চাইলে স.. ব জায়গায় চেক করতে পারেন। আমি কিছু করি নাই। এটা ঠিক, যে আপনার পরিবার আমার নজড়ে ছিল। কিন্তু আমি সত্যিই কিছু করি নাই..”
আহাদ রাজা চোখে লাল আগুন জ্বলছে। অতিরিক্ত রাগার ফলে, কপালের শিরাগুলো ধপধপ করে লাফাচ্ছে। এমন সময় নাদিম এসে মাথা নিচু করে বলল,
“ভাই, মাতব্বর এবার সত্যি বলছে। ওরা ভাবিকে অপহরন করে নাই। আমাদের সব সোর্স কনফার্ম করেছে।”
আহাদ রাজা এক ঝটকায় মাতাব্বরকে ছেড়ে দিল। সে মেঝেতে পরে কাশতে কাশতে নিজেক সামলাচ্ছে! লজ্জা, রাগ আর অপমান মিলেমিশে তার চোখে বিষ, মনে মনে ঠিক করল,
“কিছু না করেও তাকে অপদস্থ হতে হচ্ছে। এটার বদলা সে সময় মতো নেবে। অবশ্যই নেবে।”
আহাদ রাজা সেখান থেকে বেরিয়ে এলো। গভীর, ভারী অন্ধকার নেমে এসেছে চারপাশে। গাড়ির বোনেটের উপর দু’হাত রেখে সে ঝুঁকে পড়ল। চোখ বন্ধ করে গভীর দম নিল। গলার ভেতরটা শুকিয়ে গেছে, বুকের পাঁজর টনটন করে উঠল। তার প্রেয়সী গেলো কোথায়?
লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৪২
সে এবার মাথাটা তুলে কালো অসীম আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে আওড়ালো,
“একটা… শুধু একটা ইঙ্গিত দাও খোদা! না হলে আমি যে পাগল হয়ে যাব ওকে ছাড়া। আমার যে দম বন্ধ হয়ে আসছে, পারবো না তো ওকে ছাড়া থাকতে!”
