Home লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪৪

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪৪

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪৪
নুসাইবা আরা নুরি

শ্রেয়সীর কথায় উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফুটে উঠে শুধু মাত্র তোহা বাদে।আলতাফ শেখ এর সুস্থ লাগায় সিয়াম ডাক্তার কে নিষেধ করে দেয় আসতে ফোন দিয়ে।আসলেই সে নাটক করেছিলো ডাক্তার কে কল দেওয়ার।সব কিছুই তাদের আগের প্লানিং।
বেশ কিছুক্ষন পর আলতাফ শেখ উঠে বসে।তারপর শ্রেয়সীর হাত টা নিজের হাতের মুঠোই নিয়ে বলে,
-বিয়ে তোদের হবে তবে ওই বাড়িতে যাওয়া আর হবে না।তুই এখান থেকে সোজা ঢাকা চলে যাবি।দুপুর আড়াই টাই বাস স্টান্ডে গাড়ি এসে দাঁড়িয়ে থাকবে।সিয়াম তোকে গাড়িতে তুলে দিয়ে আসবে।প্রথমে বিয়ে পড়ানো শেষ হবে তারপর খাওয়া দাওয়ার পরপরই একটু সমস্যার কথা বলে আড়াল হয়ে বেরিয়ে যাবি বাড়ি থেকে সব ব্যবস্তা আমি করে দিবো।
বাবার কথায় আৎকে উঠে শ্রেয়সী।মাথার ভিতর একটা চক্কর দিয়ে উঠে।ঢাকা যাবে মানে।তাও একা।কোথায় উঠবে।কে থাকবে।ও তো কখোনো যায়নি।আর তার আড়ালে এমন ষড়যন্ত্র আগে থেকে করে রেখেছে তার পরিবার।শ্রেয়সীর ভাবনার মাঝেই সিয়াম বলে উঠে,

-গাড়ি সোজা আমাদের ঢাকার বাড়িতে নিয়ে যাবে তোকে।আর এদিক টায় ওরা আমাদের যেভাবে অপমান করেছিলো সেভাবেই ওদের ছোট করে অপমান করবো তারপর বলবো আপনার ছেলের সমস্যা আছে বলেই আমার বোন বিয়ে থেকে পালিয়েছে।তারপর সাভাবিক করে আমরাও ঢাকা গিয়ে থাকবো তোর সাথে।আমি এই কদিন বাড়ির সব ঠিক ঠাকই করছিলাম যাতে তোর কষ্ট না হয় ওখানে।
শ্রেয়সী আরো অবাক তাদের ঢাকায় বাড়ি আছে শুনে।অবাক হওয়া কন্ঠে বলে,
-আমাদের ঢাকাতে বাড়ি আছে??
-হুম আছে।
-কখনো শুনি নি তো।
-আজ শুনেছিস।এটাই ভালো।
শ্রেয়সী আর কিছু বলে না।তোহার কাছেও সব পরিস্কার সিয়াম এতদিন ঢাকায় কি করতে গেছিলো।আগের প্রমান এর সাথেও সব মিলে গেছে।শ্রেয়সী আর কোনো কিছু বলতে পারে না।তখন সিয়াম বলে,
-তোর ফোন কই দেখি??
শ্রেয়সী আতকে উঠে আবারো তার ফোন মানে।কি করবে সে।শ্রেয়সী পাশে থাকা ফোনটা এগিয়ে দিতেই।সিয়াম এক আচাড় এ ফোনটা ভেঙে ফেলে বলে,

-কাল গাড়িতে নতুন ফোন পেয়ে যাবি।খবদদার এই প্লানিং এর ব্যাপারে যদি কেও যানে তবে কুটি কুটি ফেলবো তোদের।
সিয়াম শ্রেয়সীর দিকে তাকিয়ে কথা গুলো বলে।তারপর রাগি দৃষ্টিতে একবার তোহার দিকে তাকালো।তোহা ভয় পেয়ে যায়।সিয়াম তা দেখে মনে মনে হাসে।শ্রেয়সীর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।মেহেরাজ কি তাকে ভুল বুজবে।বেইমান ভাব্বে।একটা বার তাকে বলতে পারলে।সে উপাই আর নেই।
সিয়াম খাদিজা খাতুনের দিকে তাকিয়ে বলে,
-আম্মা তুমি বনুর সাথে ঘুমাও।চোখ কান খোলা রেখো ভুলেও যেনো ফোন হাতে না পায়।
সিয়ামের কথায় খাদিজা খাতুন শ্রেয়সীর হাত ধরে উঠতে বললে তোহা ধীর কন্ঠে বলে,
-আমিও তো থাকতে চেয়েছিলাম ননদিনীর সাথে।
তোহার কথায় ধমক দেয় সিয়াম তোহা ভয়ে কেপে উঠে। সিয়াম তোহার ফিকে তাকিয়ে বলে,
-আজ আর থাকতে হবে না।তুমিও যাচ্ছো ওর সাথে।কাল থেকে দুজন এক সাথে থেকো।আজ তুমি আমার কাছে থাকবে।

তোহা আর কিছু বলে না।মাথা নিচু করে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।খাদিজা খাতুন শ্রেয়সী কে নিয়ে ঘরে চলে যায়।আলতাফ শেখ ও চলে যায়।তখন সিয়াম দরজা বন্ধ করে এগিয়ে আসে তোহার কাছে।তোহা ভয়ে গুটিশুটি মেরে গেছে।সিয়াম তোহাকে জড়িয়ে বলে,
-সরি জান আমি বকতে চাইনি।মাথা গরম হয়ে গেছিলো সরি তো মন খারাপ করো না প্লিজ।
সিয়ামের কথায় তোহা এবার কেদে ফেলে।সিয়াম বুজতে পেরে হতাশার দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।আগেই জান্তো তোহা কাদবে।তোহা কাদতে কাদতে কাদতে বলে,

-আ আপনি আমাকে বকেছেন।কি করেছি আমি।
বলে আবারো ফুফিয়ে উঠে তোহা।সিয়াম তোহার মাথায় হআত বুলিয়ে বলে,
-আমার লক্ষি বউ সরি তো।আর হবে না জান।মাফ করে দাও।আর বকবো না।
তোহা কিছু বলে না।সিয়ামের বুকে মুখ লুকিয়ে ঘৃনা ভরা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে।সিয়াম তোহাকে নিয়ে বিছানায় বসে অনেক্ষন মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।তোহা ও চুপচাপ বসে থাকে বিনা বাক্যে।হটাৎ সিয়ামের ফোন বেজে উঠে।সিয়াম ফোনের উপর নাম সেভ করা দেখতে পায় চাচাজান।সাথে সাথে মুখ শুকিয়ে যায় সিয়ামের।সিয়াম তোহার দিকে তাকিয়ে দেখে তোহার চোখ বন্ধ সস্তির একটা নিঃশ্বাস ছাড়ে।
তোহা দেখলে জিজ্ঞাসা করতো কোন চাচা।এখানে বসে কথা বলুন না।সিয়াম তখন বুজাতে পারলেও তোহা আবার কষ্ট পেতো।তাই এখন সস্তি লাগছে তোহা ঘুমিয়েছে বুজতে পেরে।সিয়াম তোহাকে বিছানায় সুইয়ে দিয়ে বারান্দায় গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয় ওপাশ থেকে।দরজা লাগানোর শব্দ পেতেই তোহা চোখ খুলে।দেখতে পেয়েছে কে কল দিয়েছে তবে চাচাজান কে এটাই দেখার বাকি।
সিয়াম বারান্দায় গিয়ে কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে আনাম মিয়ার কর্কশ গলা ভেষে আসে।আনাম মিয়া বলে,

-তোমাকে না বললাম দুটো সুন্দরী মা*ল ম্যানেজ করে দিতে।কাল সন্ধাই ডেলিভারি করতে হবে।এখোনো খোজ দাও নি কেন।দেখো ভাতিজা তোমার আগের মতো কাজে মন নেই এমন হলে কিন্তু ব্যবসা চলবে না।
-জি চাচাজান। সব তো ঠিক ছিলো দুটোরই বিয়ে হয়ে গেছে পালিয়ে করছে।যাইহোক কাল সকালে কথা বলে জানাবোনি।এমনিতেই বনু রে ঢাকা পাঠাবো বলে মাথায় চিন্তা ভরপুর।
সিয়াম মুখ ফসকে কথাটা বলে ফেলে।তখন আনাম মিয়া বলে,
-কেন ঢাকা পাঠাবে কেন কি হয়েছে।কাল না বিয়ে??
-হুম।
-খুলে বলো তো সব।
বেগত্যা সিয়াম আর কিছু না লুকিয়ে সব বলে দেয় এক এক করে।আনাম মিয়া ও মন দিয়ে শোনে।সব বলা শেষ এ সিয়াম বলে,
-সব তো শুনলেন চাচাজান এই নিয়েই চিন্তা।আচ্ছা থাকেন।আমি কাল সকালে ফোন দিবো দুইটা ঠিক করে।
-আচ্ছা আচ্ছা।রাখো।
সিয়াম কল কেটে দিতেই ফোনের ওপাশে থাকা আনাম মিয়ার ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠে।তার আর মেয়ের কি দরকার আসল জিনিস তো হাতের কাছেই আছে।পাখি খাচার আশে পাশে আনাম মিয়া শুধু ধরে বন্দি করে নিবে।তাও দু দুটো পাখি।নিজের বিছানায় নিয়ে উপভোগ করে সন্ধাই পাচার করে দিবে।তারপর টাকার ভাগ দিবে সিয়াম কেও।

আনাম মিয়া নিজের বুদ্ধিতে নিজে কুটিল হেসে।নিজের দলের কয়েকজন ছেলেকে আজ রাত থেকে সিয়ামের বাড়ির উপর নজর রাখতে বলে।সিয়ামের বাড়ি থেকে মেয়ে দুটো নের হলেই যেনো সাথে সাথে ধরে নিয়ে আস্তানায় চলে আসে।কেও যেনো কিছু বুজতেও না পারে।আনাম মিয়ার কথায় ওপাশে থাকা লোকটা ঠিক আছে বলে কল কেটে দেয় সাথে সাথে আনাম মিয়া আবারো হেসে উঠে।ভিষন ভালো লাগছে তার এখন।কেমন যেনো শান্তি শান্তি ফিল পাচ্ছে এক সুন্দর শরীর উপভোগ করার অগ্রিম শান্তি।
তোহা চেয়েছিলো গ্রুপে ম্যাসেজ দিয়ে বলতে তবে নেট কাজ করা অফ করে দিয়েছে বাড়ির ওয়াইফাই চলছে না।পরে বুজতে পারে সিয়াম অফ করে রেখেছে ওয়াইফাই এর নেট কানেকশন তাই আর আইডি লগিন করতেও পারেনি।ম্যাসেজ ও দিতে পারি নি।তোহার মাথায় কিছু ঢুকছে না।কি তে কি করবে।তখনই সিয়াম চলে আসে বলে আর কিছু করতেও পারে না।সয়াম ঘরের লাইট নিভিয়ে তোহার পাশে এসে তোহাকে বুকের সাথে জড়িয়ে নিয়ে কয়েকবার তোহার মুখে চুমু দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।তোহা ও আর জাগে না সেও তলিয়ে যায় গভীর ঘুমে।

সকাল সাড়ে ছয়টা।ইরুদের বাড়িতে বসে আছে সিয়াম।মুখে রাগ স্পষ্ট।সাম্নেই মাথা নিচু করে বসে আছে রোকেয়া।সিয়াম রাগি গলায় রোকেয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,
-আপ্নাকে পুরো দশ লক্ষ টাকা এডভান্স দিয়েছি দুজনের জন্য। আপনি একটা দিয়ে আর একটা গায়েব করে দিলেন।কাজটা ঠিক করেন নাই।এর ফল খারাপ হবে কিন্তু।
সিয়ামের কথায় মাথা নিচু করে রেখেই রোকেয়া বলে,
-শালার বাচ্চা ডারে তো সেই কবেই দিছি।কিন্তু এই মা** রে রাখছিলাম খালি সম্পত্তি ডা লিখে নিমু বইলা।কিন্তু ন*ডি যে বিয়া কইরা নিবো হেইডা তো বুজি নাই।তাও যে সে লোকের সাথে না।একজন উকিলের লগে।
-এটা আপনার আগে ভাবা উচিত ছিলো বার বার বলেছিলাম তাড়াতাড়ি দেন।আপনি কথা শুনেন নাই।এখন আমি মেয়ে পাবো কোথায়?

-তা তো জানিনা আর করার কিছু নাই।
-আপনার বড় মাইডারে দিবেন??
সিয়ামের কথায় অবাক হয় রোকেয়া সাথে সাথে কিছু বলতে যাবে তখনই সিয়াম বলে,
– পুরো দশ একদাম এখনই দিয়ে দিবো।রাজি থাকলে দিয়ে দেন নইতো আগের বাচ্চাটার দাম রাইখা পাচ লাখ টা ফেরোত দেন সময় নেই হাতে।
সিয়ামের কথায় লোভে চোখ জল জল করে উঠে রোকেয়ার।এম্নিতেই ঘরে ফাও বসে থাকে ওকে দিয়ে কোনো উপকার নেই।আগের ঘরে মেয়ে বাপ নেই।ওরে দিয়ে কাম নেই।রাজি হয়ে যায় রোকেয়া।কারন এখন রাজি না হলে পাচ লাখ টাকা ফেরোত দিতে হবে।আর রাজি হলে আরো দশ লাখ পাবে।
রোকেয়া সিয়ামের স্বাক্ষর করা চেক টা নিয়ে নেই।তারপর সিয়াম কে বলে,
-দুপুরে ভাতের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশাই খাওয়াই দিবান নিয়ে যাইয়ো।আর একটা মেয়ের সন্ধান আছে পাশের বাড়ি কাজ করে দুই লাখ দিলে ওইটারেও ম্যানেজ করে দিতে পারি সুন্দর আছে।
রোকেয়ার কথায় সিয়াম খুশি হয়।অন্তত আনাম মিয়া এবার খুশি হবে।সিয়াম আরো দুই লাখ টাকার চেক লিখে রোকেয়ার হাতে দিয়ে বলে চারটার দিকে গাড়ি আসবে।তৈরি থাকে যেনো।আমি কিন্তু কথার খেলাপ পছন্দ করি না।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪৩

-আচ্ছা বাবা থাকবে।
-তাহলে আজ উঠি।
-চা নাস্তা করে যাও।কিছুই তো খেলে না।
রোকেয়ার কথায় সিয়াম টেরা চোখে রোকেয়ার দিকে তাকায়।তারপর উঠে দাঁড়িয়ে গম্ভীর গলায় বলে,
-যেটারে খাইতে চাইলাম সেটাই তো হাত ছাড়া করাই উকিপের গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে এখন আপনি আমারে বিস্কুট খেতে বলছে। ভালোই মজা চু**ইতে পারেন।
কথাটা বলেই সিয়াম গটাগট পা ফেলে রোকেয়ার সামনে দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো আর কোনো বাক্য ব্যায় না করে।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪৫