Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ১০ (২)

শেহেজাদার আদর পর্ব ১০ (২)

শেহেজাদার আদর পর্ব ১০ (২)
সুমাইয়া ইসলাম নূর

ইনায়া একটু দ্বিধায় পড়ে গেল…
চারপাশে সবাই তাকিয়ে আছে—
পিয়াসা, তুবা, রিমঝিম— সবার চোখে একরাশ কৌতূহল।
পিয়াসা হালকা ধাক্কা দিয়ে ফিসফিস করে বলল— “যা রে…
ইনায়া চোখ রাঙাল— কিন্তু কিছু বলল না…
ধীরে ধীরে ইউভির পেছনে হাঁটা শুরু করল।
কলেজের ভিড় পেরিয়ে ইউভি সোজা গাড়ির দিকে গেল।
কালো Range Rover Vogue-এর দরজা খুলে দাঁড়াল সে।
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে আমরা কোথায় যাচ্ছি?
ইউভি শান্ত গলায় চুপচাপ বস।
মানে? আমি কিন্তু
ইনায়া।
একটা শব্দ… কিন্তু কেমন যেন ভারী।
ইনায়া চুপ হয়ে গেল।
ধীরে গাড়িতে উঠে বসল।
গাড়ি চলতে শুরু করল…

বাইরে বসন্তের রোদ, রাস্তার দুই পাশে গাছ, হালকা বাতাসে উড়ছে ইনায়ার শাড়ির আঁচল …
কিন্তু ভেতরে— অদ্ভুত নীরবতা।
ইনায়া চুপ থাকতে না পেরে— “আপনি এমন করছেন কেন?”
ইউভি স্টিয়ারিংয়ে চোখ রেখে— “কেমন?”
“সব সময় রাগ দেখান আবার
এমন কিছু করেন যেটা বুঝা যায় না
ইউভি হালকা হাসল।
সব কিছু বুঝতে হবে না।
ইনায়া বিরক্ত— “আপনার কথা সবসময় ধাঁধার মতো!”
কিছুক্ষণ পর— গাড়ি এসে থামল একটা নির্জন, সুন্দর জায়গায়।
একটা ছোট লেক… চারপাশে ফুল আর গাছ…
বাতাসে হালকা বেলি ফুলের গন্ধ
ইনায়া অবাক হয়ে— “এখানে কেন এনেছেন?”
ইউভি দরজা খুলে নামল— তারপর ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলল—
নাম।

ইনায়া ধীরে নেমে চারপাশে তাকাল
জায়গাটা অনেক সুন্দর
ইউভি তার দিকে তাকিয়ে— চুপচাপ বলল—
তোকে দেখানোর জন্য এনেছি।
ইনায়া থমকে গেল।
আমাকে…?
“হুম।”
একটু নীরবতা…
হঠাৎ ইউভি ধীরে এগিয়ে এল।
ইনায়ার সামনে এসে দাঁড়াল।
তার চোখ একদম গভীর—
আজ স্টেজে… সবাই তোকে দেখছিল
ইনায়ার বুক ধক করে উঠল
তাতে কী?
ইউভি নিচু গলায়— “আমার ভালো লাগে না।
কেন?

ইউভি একটু ঝুঁকে— ধীরে বলল—
কারণ… তুই শুধু আমার…
কথাটা শেষ করেই থেমে গেল সে।
নিজেই যেন বুঝতে পারল— সে কী বলে ফেলেছে।
ইনায়া অবাক
তার চোখ বড় হয়ে গেছে
আপনি… কী বললেন?
ইউভি মুখ ঘুরিয়ে নিল— “কিছু না।
না… আপনি কিছু বললেন
“ইনায়া—”
“না! বলুন!”
ইউভি এবার তার দিকে তাকাল…
চোখে সেই অদ্ভুত তীব্রতা—
“একদিন নিজেই বুঝে যাবি।”
ইনায়ার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল…
বাতাস থেমে গেছে যেন…
চারপাশে শুধু দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দ…
দূরে হঠাৎ হালকা বাতাসে ফুল ঝরে পড়ল
ইনায়া ধীরে বলল—
“আপনি… এমন কেন?”
ইউভি হালকা হাসল—

“কারণ আমি শেহেজাদ ইউভি চৌধুরী…
ইনায়া চোখ ঘুরিয়ে— “এটা কোনো উত্তর না!
ইউভি কাছে এসে ফিসফিস করে—
“আর তুই… আমার problem…”
ইনায়া এবার সত্যি রেগে গেল— “আমি problem?!”
ইউভি হেসে বললো
“সবচেয়ে dangerous problem…”
দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সূর্যের আলো— দুজনের উপর পড়ছে…
একটা অদ্ভুত নীরবতা…
একটা শুরু হওয়া অনুভূতি…
যার নাম— হয়তো ভালোবাসা…
লেকের পাশের হালকা বাতাসে— ইনায়ার আঁচলটা একটু উড়ে উঠল…
ইউভির চোখ হঠাৎ থেমে গেল।
সে এতক্ষণ কথা বলছিল— কিন্তু এখন একদম চুপ।
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে— “কি হলো? এমন চুপ হয়ে গেলেন কেন?
কোনো উত্তর নেই…
ইউভির দৃষ্টি— একদম স্থির
ইনায়ার দিকে।
আজ ইনায়া শাড়ি পরেছে…

হালকা বসন্তের রঙের শাড়ি— চুল সুন্দর করে বাঁধা… কানে ছোট ঝুমকা…
কোনো ভারী সাজ না— তবুও…
অস্বাভাবিক সুন্দর লাগছে।
ইউভি ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।
তার চোখে এমন এক দৃষ্টি যেটা ইনায়ার বুক কাঁপিয়ে দিল।
আমি তোকে কী বলেছিলাম?
গলা ঠান্ডা কিন্তু ভেতরে যেন আগুন জলছে
ইনায়া একটু পিছিয়ে— “কি…?”
ইউভি আরেকটু কাছে— “শাড়িটা এমনভাবে পরবি… যেন কেউ কিছু না দেখে…”
ইনায়া বিরক্ত হয়ে— “সবই তো ঠিক আছে!
ইউভি হঠাৎ তার আঁচলটা ঠিক করে দিল।
একদম কাছে এসে।
ইনায়ার নিঃশ্বাস আটকে গেল…
ইউভি নিচু গলায় বলল—

ঠিক আছে কিন্তু আমার ভালো লাগছে না।
কেন?
ইউভির চোখ সরু হয়ে গেল
কারন তোকে খুব বেশি সুন্দর লাগছে।”
ইনায়া থমকে গেল।
এই উত্তর সে আশা করেনি…
এটা আবার কেমন কথা!
ইউভি হালকা হাসল—
সমস্যা তো এখানেই…
দূরে তাকিয়ে আবার বলল—
“স্টেজে সবাই তোকে দেখছিল… এখনও… যে কেউ দেখবে…”
তার গলায় স্পষ্ট রাগ।
“আর আমি… সেটা সহ্য করতে পারবো না।
ইনায়া একটু নরম হয়ে— “আপনার এত সমস্যা কেন?
ইউভি হঠাৎ তার দিকে তাকাল—
চোখে একদম সরাসরি অনুভূতি।
“কারণ… তুই আমার control এর বাইরে চলে যাচ্ছিস।
ইনায়ার বুক ধক করে উঠল…
আমি কোনো জিনিস না— যে control করবেন!
ইউভি হালকা মাথা নাড়ল—

“লজানি
একটু থেমে—
“তাই তো problem।
বাতাসে আবার ফুল ঝরল…
ইনায়ার চুলের পাশে একটা ফুল আটকে গেল।
ইউভি হাত বাড়িয়ে সেটা সরিয়ে দিল…
আস্তে করে।
দুজনের চোখে চোখ…
কেউ কিছু বলছে না…
কিন্তু— অনেক কিছু হয়ে যাচ্ছে।
ইউভি ফিসফিস করে বলল—
আরেকবার যদি এমনভাবে সামনে আসিস…
ইনায়া কাঁপা গলায় বললে।
কি করবেন…?
ইউভি ঠোঁট বাঁকিয়ে—
“তখন কিন্তু নিজেকে
সামলাতে পারবো না…”
ইনায়া দ্রুত মুখ ঘুরিয়ে নিল…
তার গাল লাল হয়ে গেছে…
মনে মনে— “এই লোকটা একটা হিটলার বাল

কলেজ ক্যাম্পাসে—
চৌধুরী পরিবারের সবাই এখনো বসে আছে।
কিন্তু পরিবেশটা একটু অন্যরকম…
কারণ— ওরা সবাই জানে একটা সত্যি…
ইউভি ইনায়াকে ভালোবাসে।
শুধু— ইনায়া জানে না।
রেশমা চৌধুরী ধীরে বললেন—
“আজ যা হলো… ওটা নতুন কিছু না…”
নুসরাত চৌধুরী হালকা হেসে বললো
“হুম… আমরা তো অনেক আগেই বুঝে গেছি

লিখন চৌধুরী গম্ভীর হয়ে বসে আছেন।

“তোমরা বুঝেছো— তাই বলে আমি মেনে নিবো?”
সাবিহা চৌধুরী শান্ত গলায় বললেন
“না মানার কী আছে?
ছেলেটা প্রথমবার কারো জন্য এমন পাগল হয়েছে…”
রিমঝিম হেসে বললো
“আর সেই মানুষটা— আমাদের ইনায়া…”
লিখন চৌধুরী একটু বিরক্ত—
“সমস্যা একটাই— মেয়েটা কিছুই জানে না!”
নুসরাত মাথা নাড়লেন—
“এইটাই তো আসল মজা…”
রেশমা হালকা হেসে বললেন—
“ইউভি ওকে কখনো বুঝতে দেয়নি…”
রিমঝিম দুষ্টু গলায়—
“না না… দিয়েছে!”
সবাই তাকাল—
“কীভাবে?”
রিমঝিম চোখ টিপে—
“ওর চোখ দিয়ে…”
সাবিহা হেসে ফেললেন—
“কিন্তু আমাদের ইনায়া তো বাচ্চা… ও এসব বুঝবে কীভাবে!”
লিখন চৌধুরী গভীর গলায়—
“আমি শুধু একটা জিনিস নিয়ে চিন্তিত…”
“ইউভির nature…”
চারপাশে একটু নীরবতা…
নুসরাত ধীরে বললেন—
“আপনি ওর possessive দিকটা বলছেন?”
লিখন চৌধুরী মাথা নাড়লেন—
“হ্যাঁ…

ও যা চায়— সেটা নিজের মতো করেই চায়
রেশমা চৌধুরি শান্ত গলায় বললেন
“কিন্তু একটা কথা মনে রাখেন— ও ইনায়ার ক্ষেত্রে কখনো ভুল করবে না
রিমঝিম মুচকি হেসে—
“কারণ… ও ওকে হারাতে পারবে না…”
ঠিক তখনই—
আয়াত ফিসফিস করে বলল—
“মানে ভাইয়া আপুকে ভালোবাসে?
আতিকা চোখ বড় করে—
সত্যি?
রিধ গম্ভীর ভঙ্গিতে—
“অনেক আগেই বুঝেছি…”
সবাই হালকা হেসে ফেলল…
লিখন চৌধুরী এবার একটু নরম হয়ে—
“তাহলে তোমরা সবাই চাও— এইটা এগোক?”
রেশমা, নুসরাত, সাবিহা— একসাথে তাকালেন…
তারপর রেশমা ধীরে বললেন—
আমরা চাই না…
একটু থেমে আবার বললেন
আমরা জানি— এটা হবেই।
রিমঝিম হাসতে হাসতে—
আর ইনায়া যখন বুঝবে…
“তখন তো আসল সিনেমা শুরু হবে
দূরে বাতাস বইছে…
কলেজের গেটে বসন্তের ফুল দুলছে…
আর এইদিকে—
একটা ভালোবাসা— যেটা সবাই জানে…
শুধু যার জন্য— সে-ই এখনো অজানা কলেজের ভিড় একটু কমে এসেছে…
ঠিক তখনই— রেদোয়ানের ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল—ইউভি ভাইয়া।
রেদোয়ান কল রিসিভ করতেই— ওপাশ থেকে শান্ত, কিন্তু দৃঢ় গলাই বললো ইউভি
“রেদোয়ান… সবাইকে নিয়ে বাসায় চলে
যা। আমি আর আদর আসছি।”
একটু থেমে— “কেউ যেন থাকে না।”
কল কেটে গেল।

রেদোয়ান কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল…
তারপর হালকা হাসল— “ভাইয়া… তুমি তো পুরো অন্য লেভেলের…”
সে সবার দিকে তাকিয়ে বলল—
“চলো… সবাই বাসায় যাই।”
পিয়াসা ভ্রু কুঁচকে— “মানে? ইনায়া কোথায়?”
রেদোয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে—
ভাইয়ার সাথে আছে।
পিয়াসার মুখে সাথে সাথে দুষ্টু হাসি—
“ওহহহ! বুঝেছি!
তুবা পাশে দাঁড়িয়ে—
“কি বুঝলি?”
পিয়াসা চোখ টিপে—
“বসন্ত উৎসবের আসল পার্ট এখন শুরু!
রেদোয়ান হালকা কাশল— “চল এখন… তুবা, তুমি তোমার ফ্যামিলির সাথে চলে যাও।”
তুবা মাথা নাড়ল—
“ঠিক আছে, বাই!”
তুবা চলে যেতেই— পিয়াসা রেদোয়ানের পাশে এসে দাঁড়াল।
হালকা হাসি দিয়ে বলল—

“আমার ভাইয়াটা কতটা romantic দেখছেন,
রেদোয়ান ভাইয়া?”
রেদোয়ান হালকা হেসে—
“হুম… দেখছি তো…”
পিয়াসা ভুরু তুলে—
“একটু তো শিখতে পারেন!”
রেদোয়ান হেসে মাথা নাড়ল—
“যখন প্রয়োজন হবে… তখন শিখে নেবো…”
একটু থেমে আবার বললো
“এখন ভাইয়ার ওইটা প্রয়োজন… বুঝলি, পিহু?”
পিয়াসা ঠোঁট বাঁকিয়ে—
“আমি তো সবই বুঝি…”
“আপনি তো কিছু বুঝেন না!”
রেদোয়ান মুচকি হেসে—
কিন্তু মনে মনে বলল—
“আমি ও সব বুঝি… গাধা
পিয়াসা সামনে হাঁটতে হাঁটতে বলল—
“চলুন… বাসায় গিয়ে দেখি লাভ স্টোরির next scene কি হয়!”
রেদোয়ান হেসে মাথা নাড়ল—
“তুই না একদম অসহ্য!”
ধীরে ধীরে— সবাই গাড়িতে উঠে বসল…
চৌধুরী পরিবারের সবাই— এক এক করে বাসার পথে রওনা দিল।
বাড়ির গেট খুলে— গাড়িগুলো একে একে ঢুকতে লাগল…
বাতাসে এখনো বসন্তের গন্ধ…
আর সবার মনে একটাই প্রশ্ন—
ইউভি আর ইনায়া… এখন কী করছে?

লেকের পাশে—
হালকা বাতাস বইছে…
গাছের পাতা নড়ছে… আর চারপাশে অদ্ভুত শান্ত একটা পরিবেশ…
ইনায়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে…
আর ইউভি— তার দিকে তাকিয়ে।
হঠাৎ ইউভি ধীরে বলল—
“জানিস তো… কিছুদিনের মধ্যে আমি বিয়ে করবো।”
ইনায়া থমকে গেল।
ভ্রু কুঁচকে তাকাল—
“কি?”
ইউভি একদম স্বাভাবিকভাবে—
“হুম… খুব শীঘ্রই।”
ইনায়ার বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠল…
কিন্তু সে সেটা লুকিয়ে—
ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল—
“তো… ভালো কথা।”
ইউভি একটু এগিয়ে এসে—
“তুই রেডি থাকিস।”
ইনায়া অবাক—
“আমি? কেন?”
ইউভি ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি—
“হাজার হোক… আমার বিয়ে বলে কথা…”
ইনায়া সাথে সাথে বলল—
“আপনার বিয়েতে আমি কেন রেডি থাকবো?”
ইউভি আরও কাছে এসে—
নিচু গলায়—
“কারণ… তোকে ছাড়া আমার বিয়ে হবে না।”
ইনায়ার নিঃশ্বাস আটকে গেল…
“মানে?!”
ইউভি চোখে চোখ রেখে—
“এখন বুঝিস না… পরে বুঝবি…”
ইনায়া বিরক্ত হয়ে—
“আপনি সব সময় ধাঁধা দিয়ে কথা বলেন কেন!”
ইউভি হালকা হেসে—
“কারণ তুই বুঝতে দেরি করিস…”
ইনায়া মুখ ঘুরিয়ে—
“আমি কিছুই বুঝতে চাই না!”
ইউভি হঠাৎ তার হাত ধরে ফেলল।
ইনায়া চমকে উঠলো
“এই! ছাড়েন!”
ইউভি ধীরে বলল—
“এত সহজে ছাড়বো ভাবছিস?”
ইনায়া চোখ বড় করে—
“আপনি না একদম—”
হঠাৎ—

ইউভির ফোন বেজে উঠল
স্ক্রিনে একটা নাম…
ইউভি একবার তাকাল… তারপর কল রিসিভ করল।
গলা একদম বদলে গেল—
“Hey baby… yeah I’m fine.”
ইনায়া থেমে গেল।
চোখ বড় হয়ে গেল…
ওপাশ থেকে কিছু বলছে…
ইউভি হালকা হেসে—
“Miss you too…”
“Yeah… I’ll call you later…”
কল কেটে গেল।
ইনায়ার মুখ পুরো বদলে গেছে।
চোখে রাগ… আর একটা অদ্ভুত কষ্ট…
সে ঠান্ডা গলায় বলল—
“Nice…”
ইউভি ভ্রু কুঁচকে—
“কি হলো?”
ইনায়া মুখ ঘুরিয়ে—
“কিছু না।”
“বল।”
ইনায়া এবার রেগে—
“আপনি তো বিয়ে করবেন বললেন… বউও রেডি আছে মনে হচ্ছে!”
ইউভি একটু অবাক…
তারপর ঠোঁট বাঁকিয়ে—
“ওটা নিয়ে তোর এত সমস্যা কেন?”
ইনায়া থমকে গেল…
“আমার সমস্যা হবে কেন?”
ইউভি ধীরে এগিয়ে এসে—
“তাহলে এমন রাগ করছিস কেন?”
ইনায়া চোখ সরিয়ে নিয়ে নললো
“আমি রাগ করিনি!”
ইউভি মুচকি হেসে—
“তোর চোখ কিন্তু অন্য কিছু বলছে…”
ইনায়া এবার জোরে বলল—
“আপনার লাইফ, আপনার baby— আপনি যা খুশি করেন!”
ইউভি হালকা ঝুঁকে—
তার কানের কাছে ফিসফিস করে—
“জেলাস হচ্ছিস?”
ইনায়া সাথে সাথে—
“Never!”
ইউভি হাসল…
“মিথ্যা বলতে শিখে গেছিস…”
ইনায়া রেগে—
“আমি যাচ্ছি!”
সে ঘুরে হাঁটতে লাগল…
ইউভি দাঁড়িয়ে— তার যাওয়া দেখছে…
তার ঠোঁটে হালকা হাসি…
মনে মনে—
“বুঝতে শুরু করছিস অবশেষে…”
আর ইনায়া…
হাঁটতে হাঁটতে মনে মনে—
“কেন এমন লাগছে…?”
“ওর ওই ‘baby’ শব্দটা শুনে… আমার এত খারাপ লাগলো কেন…?”

বাতাসে আবার ফুল ঝরছে…
কিন্তু এবার— মনে একটা নতুন ঝড় উঠেছে… সেই রাতটা…
সবাই ঘুমিয়ে গেছে।
চারপাশে একদম নিস্তব্ধতা…
ইনায়া বিছানায় শুয়ে আছে— চোখ বন্ধ… কিন্তু ঘুম একটুও নেই।
গালে এখনো হালকা জ্বালা করছে… ইউভির সেই থাপ্পড়টা…
মনে মনে রাগে বলল— “একটা মানুষ এত রাগী হয় কিভাবে…! নিজেকে কি ভাবে…!”
ঠিক তখনই— দরজা আস্তে খুলার শব্দ…
ইনায়ার বুক ধক করে উঠল। সে দ্রুত চোখ বন্ধ করে নিল— ঘুমের ভান করে।
ধীরে ধীরে কেউ এগিয়ে আসছে…
পায়ের শব্দ… একদম চেনা…
ইউভি।
ইনায়ার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠছে— কিন্তু সে নিজেকে সামলে রাখল।
ইউভি এসে বিছানার পাশে বসলো।
কিছুক্ষণ… চুপচাপ তাকিয়ে রইল তার দিকে।
তারপর খুব ধীরে— ইনায়ার গালের পাশে হাত রাখল…
ইনায়ার পুরো শরীর কেঁপে উঠল ভিতরে ভিতরে…
ইউভি নিচু গলায় বলল— “অনেক ব্যথা পেয়েছিস… তাই না…?”
কণ্ঠে আর আগের সেই কঠোরতা নেই… বরং অপরাধবোধ…
“আমি ইচ্ছে করে মারিনি… রাগ হয়ে গেছিল…”
তার আঙুল খুব আলতো করে ছুঁয়ে দিল সেই গালটা…
“তোকে কেউ কষ্ট দিক— এটা আমি সহ্য করতে পারি না… কিন্তু কষ্টটা আমিই দিলাম…”
ইনায়ার চোখের কোণে পানি জমে উঠল— কিন্তু সে নড়ল না।
ইউভি একটু ঝুঁকে— তার কপালে খুব আস্তে একটা চুমু দিল।

“সরি…”
একটা শব্দ… কিন্তু কতটা গভীর…
তারপর ধীরে উঠে চলে গেল।
দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ…
আর সাথে সাথে— ইনায়া চোখ খুলে ফেলল।
তার বুকটা অদ্ভুতভাবে ধুকপুক করছে…
হাত তুলে নিজের কপাল ছুঁয়ে দেখল…
“উনি… আমাকে…?”
তার মাথায় বারবার ঘুরতে লাগল— ইউভির কথাগুলো…
“তোকে কেউ কষ্ট দিক— এটা আমি সহ্য করতে পারি না…”
ইনায়া ধীরে ধীরে উঠে বসলো।
“এই লোকটা আসলে কে…?”
রাগ… অভিমান… আর তার মাঝেই— একটা অদ্ভুত ভালো লাগা…
সে নিজেই বুঝতে পারছে না— কেন ইউভির কথা মনে পড়লেই তার বুকটা কেমন করে…
হালকা হাসি চলে এল ঠোঁটে…

শেহেজাদার আদর পর্ব ১০

তারপর আবার নিজেকে সামলে নিয়ে বলল— “না না… আমি কেন ভাববো এসব
কিন্তু— মনের ভেতরের সেই অনুভূতিটা আর অস্বীকার করতে পারল না…
সেই রাত থেকেই— অজান্তেই ইনায়ার মনে ইউভির জন্য একটা নরম জায়গা তৈরি হয়ে গেল…

শেহেজাদার আদর পর্ব ১১