শেহেজাদার আদর পর্ব ১১
সুমাইয়া ইসলাম নূর
বসন্তের সকাল
হালকা রোদ জানালা দিয়ে ঢুকে ঘরটাকে নরম উষ্ণতায় ভরিয়ে দিয়েছে।
বাইরে গাছে গাছে নতুন পাতা পাখির কিচিরমিচির শব্দ শোনা যাচ্ছে
একটা শান্ত পরিবেশ। আবার অন্য দিকে একটি ব্যস্ত দিনের শুরু।
চৌধুরী বাড়ির সবাই আজ একটু তাড়াহুড়ায় রয়েছে আজ সবাই
রিমঝিমের বিয়ের শপিং করতে যাবে।
রান্নাঘরে ব্যস্ততা
ডাইনিং টেবিলে একে একে সবাই জড়ো হচ্ছে।
আয়াত, আতিকা, রিধ— স্কুলের জন্য তাড়াতাড়ি খাবার খাচ্ছে
বড়রা অফিসের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
চারপাশে কথাবার্তা, হাসি, ব্যস্ততা— সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত পরিবেশ।
ইনায়া আর পিয়াসা কলেজের জন্য রেডি হয়ে নিচে নামলো ইনায়া চুপচাপ এসে বসলো খাবার টেবিল এ আর পিয়াসা তার বাবার কাছে গিয়ে বললো আব্বু টাকা দও রাতিব চৌধুরী হেসে বলে পিহু মা আমার কাছে আসো কতো টাকা লাগবে বলো। পিহু হেসে বলে বেশি না মেঝো আব্বু আমাদের দুজনের ৫ হাজার টাকা।
রাতিব চৌধুরী দশহাজার টাকা দুজন কে দাই আর বলে মন মতো খরজ করো।
পিয়াসার কানে কানে ফিসফিস করে বলে রাতিব চৌধুরী আচ্ছা মা আমার মেয়েটার কি হইছে বলো তো।
পিয়াসা বলে জানি না তো মেঝো আব্বু ওই দিন এর পর থেকে আমার সাথে ও ভালো করে কথা বলছে না।
আচ্ছা তুমি যাও আমি দেখছি এই বলে পিয়াসার মাথাই আদুরে হাত বুলিয়ে দাই রাতিব চৌধুরী।
ইনায়া মাথা নিচু করে খেতে শুরু করল।
তার চোখে ক্লান্তি গত দুই রাত ঠিক মত ঘুমোতে পারে নি মেয়েটি। আর ভেতরে অদ্ভুত এক শূন্যতা কাজ করছে মাথাই।
হঠাৎ—
লিখন চৌধুরীর গম্ভীর গলা ভেসে উঠল রেদোয়ান… তোমার ভাইয়া দেশে আসবে কবে?
টেবিলের পরিবেশ একটু থেমে গেল।
রেদোয়ান স্বাভাবিক গলায় বলল—
ফুপির বিয়ের প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই চলে আসবে।
ইনায়ার হাত থেমে গেল।
চামচটা প্লেটের উপর হালকা শব্দ করে পড়ল।
পিয়াসা হঠাৎ চমকে উঠে বললো
কি? ভাইয়া দেশে নাই?
সে অবাক হয়ে চারদিকে তাকাল—
আব্বু তুমি কি বলছো আমি তো ভাবছিলাম ভাইয়া ওর পার্সোনাল ফ্ল্যাটে আছে।
সবাই একটু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
ইনায়া কিছু বলল না
চুপচাপ খেতে লাগল।
কিন্তু মনে মনে—
এই জন্যই তিন দিন ধরে দেখি না তাকে
তার বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠল…
কিন্তু মুখে কিছুই প্রকাশ করল না।
লিখন চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে বললেন—
আমার সাথে কথা বলছে না কেন তোমার ভাইয়া?
রেদোয়ান একটু অস্বস্তি নিয়ে বললো
আমার সাথেও কথা বলছে না খুব ব্যস্ত আছে।
একটু থেমে আবার বলল রেদোয়ান
আমাকে ভাইয়ার ফ্রেন্ড তিয়া আপু সব বললো
তিয়া নামটা শুনতেই
ইনায়ার বুকের ভেতর কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল।
সে মাথা নিচু করেই রইল
কিন্তু মনে মনে বললো
একসাথে আছে
এত মিস করে যে ওই দিনই চলে গেল বাহ অনেক ভালোবাসা।
তার ঠোঁট শক্ত হয়ে গেল।
তাহলে ওই দিন থাপ্পড় মারার পর
আমার রুমে এসে
আমাকে আদর করা কপালে চুমু খাওয়া।
এইসব কি ছিল?
মনে মনে রাগে ফেটে পড়ল—
এক নাম্বারের লুচ্চা তো সালা
বাল এর শেহেজাদা
পাশে বসে থাকা পিয়াসা আবার বলল—
তাহলে ভাইয়া হঠাৎ করে বিদেশ গেল কেন?
রেদোয়ান এবার একটু গম্ভীর হয়ে বলল
লন্ডনে একটা বড় বিজনেস ডিল আছে ভাইয়ার।
ওখানে আমাদের নতুন প্রজেক্ট
একটা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির সাথে পার্টনারশিপ
অনেকদিন ধরে প্ল্যানিং চলছিল
হঠাৎ ফাইনাল কল আসায়— এক রাতের মধ্যেই যেতে হয়েছে।
ভাইয়ার সাথে ওর অ্যাসিস্ট্যান্টও গেছে সব কিছু ম্যানেজ করার জন্য।
সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনছে রেদোয়ান এর কথা গুলো।
রেদোয়ান আবার বলল—
আর তিয়া আপুও আসবে ভাইয়ার সাথে
ফুপির বিয়েতে থাকবে।
এক মুহূর্তে— পুরো টেবিল নিস্তব্ধ।
পিয়াসা চোখ বড় করে বললো
তিয়া আপু?! ওই যে ভাইয়ার মেয়ে ফ্রেন্ড টা?
রেদোয়ান মাথা নাড়ল—
হ্যাঁ লন্ডনে ভাইয়ার সবথেকে ক্লোজ ফ্রেন্ড।
ইনায়া
সে চুপচাপ বসে আছে।
কিন্তু তার ভেতরে— ঝড় বইছে
চামচটা শক্ত করে ধরে আছে
চোখ নিচু করে
মনে মনে শুধু একটা কথাই ঘুরছে—
তাহলে… আমি কে?
চৌধুরী বাড়ির পরিবেশ এখন পুরো অন্যরকম…
চারদিকে শুধু ব্যস্ততা আর বিয়ের প্রস্তুতি…
বাড়ির তিন কর্তা—
লিখন চৌধুরী, রতিব চৌধুরী আর রবিউল চৌধুরী—
সবাই নিজেদের অফিসের কাজ নিয়েই ভীষণ ব্যস্ত…
ফাইল, ফোন, মিটিং—
সব কিছু একসাথে সামলাতে হচ্ছে…
কারণ—
এটা কোনো সাধারণ সময় না…
এটা তাদের একমাত্র আদরের বোন রিমঝিমের বিয়ে…
তাই যত কাজই থাকুক—
সব কিছু আগে গুছিয়ে নিতে হবে…
কারণ রিমঝিমের স্পষ্ট কথা—
“বিয়ের ৪ দিন আগে থেকে তোমরা কেউ অফিসে যাবে না!”
এই এক কথায়—
তিন কর্তা আর কোনো কথা বাড়ায়নি…
কারণ—
এই বোনটার জন্য তারা সব কিছু করতে পারে…
তাই এখন—
অফিসের সব চাপ আগেই শেষ করার চেষ্টা করছে।
দিন রাত কাজ করে—
সব কিছু ক্লিয়ার করছে তারা…
যাতে—
বিয়ের সময় একটুও ব্যাঘাত না ঘটে…
আর পুরোটা সময়—
তারা শুধু তাদের বোনের পাশেই থাকতে পারে
এইদিকে—
রেদোয়ান…
ইউভি না থাকায়—
দুইটা অফিসের পুরো দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছে…
ফোন কানে, হাতে ল্যাপটপ—
একটার পর একটা মিটিং…
তবুও—
মাঝে মাঝেই বাড়ির দিকে নজর রাখছে…
কারণ—
এখন শুধু অফিস না…
বাড়ির দায়িত্বও তার কাঁধে দিয়ে গেছে তার একমাত্র ভাই।
(কেন দেছে আমরা সবাই জানি তাই তো) 🫣
বাড়ির ভেতরে—
তিন গিন্নি
পুরো বাড়িটা নিজের হাতে নিয়ে নিয়েছে…
রিমঝিমের মা নেই…
তাই—
আজ এই বিয়ের প্রতিটা দায়িত্ব—
তারা নিজেদের মেয়ের মতো করে নিচ্ছে…
কেউ গয়না ঠিক করছে…
কেউ শাড়ি গুছাচ্ছে…
কেউ অতিথিদের রুম সাজাচ্ছে…
রান্নাঘর থেকে ড্রয়িংরুম—
সব জায়গায় তাদের ব্যস্ততা…
রিমঝিম মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে সব দেখছে…
তার চোখে হালকা পানি চলে আসে…
মনে মনে বলে
“আমি কত ভাগ্যবতী…”
কারণ—
মা বাবা না থাকলেও…
এই বাড়ির সবাই তাকে এতটা ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেছে…
ইউভি রেদোয়ান সহ বাড়ির বাচ্চা গুলো সবাই রিমঝিম কে অনেক ভালোবাসে
রিমঝিম আজ শপিং যাবে সবার জন্য শপিং করতে
কলেজের মাঠে বসে আছে ইনায়া, পিয়াসা আর তুবা…
হালকা বাতাসে চুল উড়ছে তিনজনের।
সাদা কলেজ ইউনিফর্মে তিনজনকে যেন জীবন্ত পুতুল লাগছে।
হঠাৎ— ইনায়ার ফোন বেজে উঠল।
রিমঝিম চৌধুরী ফোন দিয়েছে
ইনায়া রিসিভ করতেই—
“তোদের নিয়ে বিয়ের কেনাকাটা করতে যাবো… রেডি থাকিস, আমি আসছি নিতে।
ইনায়া— “আচ্ছা ফুপিমনি বলতেই
কল কেটে গেল
পিয়াসা ঝুঁকে বললো “কি হলো?”
ফুপিমনি কি বললো।
ইনায়া হালকা হাসি দিয়ে বললো
“ফুপি ফোন দিয়েছে কারন আমাদের নিয়ে শপিং এ যাবে আজ।
তুবা খুশি হয়ে—
ওহ তাহলে আজ শপিং ডে।
১০ মিনিট পর—
রিমঝিম এসে তিনজনকে নিয়ে বের হয়ে গেল।
আজ—
সে নিজের জন্য কিছু কিনবে না…
পুরো ফ্যামিলির জন্য শপিং করবে।
রিমঝিম শপিংমলের ভেতরে দাঁড়িয়ে একের পর এক ড্রেস দেখছিল
ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল।
স্ক্রিনে নাম ভেসে উঠল ইউভি
রিমঝিম হালকা হাসি দিয়ে কল রিসিভ করল—
হ্যাঁ বলো শেহেজাদা
পিমনি, শুনো
রিমঝিম বললো জি বলুন জনাব।
ইউভি সরাসরি বলল—
“আজ তোমরা ঢাকার সবচেয়ে বড় IVA ব্র্যান্ড এর শোরুমে শপিং করবে।
আমি সব অ্যারেঞ্জ করে রেখেছি।
রিমঝিম একটু অবাক হয়ে বললো।
ওহহ তাই নাকি?
হুম।
তোমাদের সবার জন্য আমি আগেই ড্রেস সিলেক্ট করে রেখেছি।
সবার জন্য? অবাক হয়ে বললো রিমঝিম। কিন্তু আমি তো চাই আমার বিয়ের সব শপিং আমি নিজে করবো।
ভাইয়াদের ও বলে রেখেছি তুই ও তো জানিস বিষয় টা।
তুমি চিন্তা করো না পি এই টাকা টা তোমারি ভুলে গেছো তোমার জমানো টাকা গুলো আমাকে দিয়েছিলে।
রিন শোধ করতেছো বাপজান আগে বলবে না।
তো সবার জন্য ড্রেস পাবো কি?
ইউভি—হ্যাঁ সবার জন্য।
কে কি পরবে মেহেদি হলুদ আর বিয়ে— সব আমি ডিসাইড করে রেখেছি।
রিমঝিম মজা করে বললো
বাহ! বলছি বাপজান বিয়ে টা কি আমার না কি তোমার?
ইউভি হালকা হেসে বললো পি
বিয়ে টা তোমার কিন্তু দায়িত্ব আমার।
একটু থেমে আবার বললো ইউভি
আর তুমি কি পরবে সেটাও আমি ফাইনাল করে রেখেছিবুঝছোমরা শুধু গিয়ে ট্রাই করবে… আর নিয়ে আসবে।
কোনো কিছু নিয়ে টেনশন নেয়ার দরকার নেই।”
“ঠিক আছে শেহেজাদা… দেখি আপনার পছন্দ কেমন।
পছন্দ ভালো বলেই তো চাচির বেটির প্রেমে পরছি।
কল কেটে গেল…
রিমঝিম ফোনটা নামিয়ে হালকা হাসল—
চোখে একটা রহস্য…
মনে মনে—
“সব কিছু এত পারফেক্ট করে রাখে ছেলেটা…”
ইউভির সাথে কথা শেষ করে সবাই কে নিয়ে রওনা হলো নতুন গন্তব্যে
কিছুক্ষণ পর—
গাড়ি এসে থামল ঢাকার বসুন্ধরার সামনে…
সেখান থেকে সোজা— শহরের সবচেয়ে এক্সপেনসিভ শোরুমে ঢুকল তারা…
দরজার ওপরে বড় করে লেখা— IVA
ইনায়া এক পা ভেতরে দিয়েই থমকে গেল…
তার চোখ বড় হয়ে গেল অবাক হয়ে…
তারপর হঠাৎ করেই—
“ফুপিমনি
সে উত্তেজনায় প্রায় চিৎকার করেই বলল—
“তুমি জানো এইটা আমার ড্রিম ব্র্যান্ড— IVA!”
আমি কতো বলেচি এখানে শপিং করবো!কিন্তু কেও আনেই নি কখোনো।শুনেছি এই ব্রান্ড এর মালিক এর অনেক এটিটিউড বাবা বললো।
সে নাকি আমাদের কোম্পানির সথে সবসময় প্রতিযোগিতা করে
হুম জানি আমি সবকিছু
বাদ দে নূর এইসব।
“তাহলে তো আজ আমার নূর এর ঈদ।
তারপর একটু জোরে বলল রিমঝিম
“শোন— তোদের যা যা লাগবে, সব নিয়ে নিবি… কোনো কিছু ভাববি না!”
পিয়াসা খুশিতে লাফিয়ে—
“ইয়েস! আজকে ফুল শপিং!
ইনায়া দৌড়ে গিয়ে রিমঝিমকে জড়িয়ে ধরল…
গালে একটা মিষ্টি চুমু দিয়ে বলল—
“থ্যাংক ইউ ফুপিমনি।
“চল পিহু— আজ মন ভরে শপিং করবো!
সবাই হাসতে হাসতে ভেতরে ঢুকে গেল…
আর রিমঝিম—
চুপচাপ দাঁড়িয়ে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে রইল…
মনে মনে বললো
তুই নিজেও জানিস না, নূর
যে ব্র্যান্ডটাকে তুই ড্রিম বলছিস।
সেই কোম্পানির মালকিন তুই নিজেই
“আর মাত্র ১ মাস…”
“তারপর তোর বার্থডেতে—
তুই জীবনের সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ পাবি৪
সবাই ব্যস্ত শপিংয়ে…
ইনায়া একের পর এক ড্রেস ট্রাই করছে…
আর অবাক হয়ে যাচ্ছে—
প্রতিটা ড্রেস যেন তার জন্যই বানানো
সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো
“এগুলো এত পারফেক্ট হচ্ছে কেন…?”
পিয়াসা পাশে দাঁড়িয়ে—
“কারণ তুই সুন্দর রে বেবি এই জন্য
সবাই হাসে…
কিন্তু দূরে দাঁড়িয়ে রিমঝিম— শুধু চুপচাপ দেখছে এইদিকে—
লন্ডনে নিজের অফিসে বসে আছে ইউভি
সামনে বড় স্ক্রিন…
সেই স্ক্রিনে লাইভ দেখা যাচ্ছে— ঢাকার IVA শোরুম এ টু জেড
ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে—
ইনায়ার হাসি তার এক্সপ্রেশন
ইউভি চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে—
চোখ একদম স্থির… শুধু ইনায়ার উপর…
ধীরে ফিসফিস করে—
“Perfect…”
পাশে তার অ্যাসিস্ট্যান্ট দাঁড়িয়ে—
“Sir, সব ঠিক আছে?”
ইউভি হালকা হাসল—
“ওর জন্য যা select করেছি সবই perfect হতে হবে
শোরুমে—
হঠাৎ এক স্টাফ এসে রিমঝিমকে বলল
“Ma’am… Sir live দেখছেন… তিনি বলছেন— yellow lehenga টা Inaya ma’am কে try করতে…”
ইনায়া অবাক—
“Sir? কে?”
রিমঝিম হালকা হেসে—
“তুই try কর… দেখবি কেমন লাগে
ইনায়া যখন lehenga পরে বের হলো—
পুরো শোরুম যেন এক মুহূর্তে থেমে গেল
সবাই তাকিয়ে আছে…
আর লন্ডনে বসে—
ইউভির ঠোঁটে ধীরে একটা হাসি ফুটে উঠল…
শোরুমে দীর্ঘ সময় শপিং করার পর
অবশেষে পিয়াসা, তুবা আর রিমঝিমের শপিং শেষ হলো ব্যাগে ভর্তি কাপড়
সবাই ক্লান্ত কিন্তু মুখে তৃপ্তির হাসি সবার।
রিমঝিম হালকা হাসি দিয়ে বলল
“চল, আজকের জন্য enough… এখনবাসায় ফেরা যাক।
গাড়িতে উঠে পড়ল সবাই
রাতের ঢাকা শহর—আলো ঝলমলে গাড়ির ভেতরে।
ইনায়া এখনো বলছে আজকে কিন্তু আমি সবচেয়ে বেশি শপিং করছি।
ফুপির থেকে ও বেশি তুবা সাথে সাথে বললোতুই সবসময়ই সবচেয়ে বেশি করিস বেবি।
সবাই হেসে উঠল।
ইনায়া জানালার পাশে বসে—
চুপচাপ বাইরে তাকিয়ে আছে
কিন্তু আজ তার চোখে অন্যরকম ঝিলিককিছুদূর যাওয়ার পর—
তুবার বাড়ির সামনে গাড়ি থামল…
তুবা নামতে নামতে বলল—
“আজকের দিনটা কিন্তু awesome ছিল ফুপি মনি।
পিয়াসা হাত নেড়েকাল আবার প্ল্যান করবো নি বেবি আজ বাড়ি যা
তুবা হেসে ভেতরে চলে গেল…
গাড়ি আবার চলতে শুরু করল…
কিছুক্ষণ পর—
চৌধুরী বাড়ির সামনে এসে থামল…
একই সময়ে—
বাড়ির গিন্নিরাও তাদের শপিং শেষ করে ফিরে এসেছে বাড়ি
পুরো বাড়িটা জমে উঠেছে…
রাতে—
ডাইনিং টেবিলে সবাই একসাথে বসেছে খাবার খেতে।
চারপাশে গল্প, হাসি
কে কি কিনেছে সেই আলোচনা শুরু হয়ে গেছে পিয়াসা উত্তেজিত হয়ে বললো
“আমি কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর dress নিয়েছি আয়াত সাথে সাথে বললো
“না না! আমারটাই বেস্ট।
রিধ মজা করে বললো
“তোমাদের কিছুই না, আমারটাই বেস্ট
সবাই হেসে উঠল ওদের কান্ড দেখে।
রিমঝিম একে একে সবার জিনিস দেখাচ্ছে।তিন ভাই, ভাবি, বাচ্চারা—
সবাই খুশি আর ইনায়া
সে আজ সবচেয়ে বেশি খুশি সে যেন সব ভুলে গেছে ইউভির কথা অভিমান কষ্ট
সবকিছুআজ শুধু
তার স্বপ্নের ব্র্যান্ডে শপিং করার সুখটাই তাকে ভরিয়ে রেখেছে।
লন্ডনের অভিজাত নীরবতা চারপাশে ছড়িয়ে আছে
কাঁচের বিশাল জানালার সামনে দাঁড়িয়ে ইউভি…
নিচে শহরের আলো ঝিকমিক করছে…
দূরে Hyde Park অন্ধকারে ঢাকা
রুমের ভেতর হালকা ডিম লাইট…
সবকিছু নিঃশব্দ হয়ে আছে
হাতে ফোন নিয়ে
স্ক্রিনে ইনায়ার ছবি দেখছে
চোখে এক অদ্ভুত নরম অনুভূতি নিয়ে
ইউভি বলল—
“তুই এত দূরে…
তবুও কেন মনে হয়… ঠিক আমার পাশেই আছিস
আজকে তোকে হাসতে দেখলাম…”
জানিস ওই হাসিটা আমার পুরো দিনটা চুরি করে নিয়েছে
তুই বুঝিস না আদর।তোর এই সরল চোখ।এই এলোমেলো চুল
এই ছোট ছোট অভিমান
“সবকিছুই… dangerously সুন্দর।
ধীরে ফোনটা ঠোঁটের কাছে নিয়ে এল…
একটা মৃদু চুমু দিল স্ক্রিন
তুই ভাবছিস আমি দূরে আছি
“কিন্তু আমি প্রতিটা মুহূর্তে তোকে দেখছি।আদর…
“তোর প্রতিটা হাসি…
প্রতিটা রাগ…
প্রতিটা নীরবতা…”
“সবকিছুই আমার…”
চোখ বন্ধ করল ইউভি…
“আর তুই…”
“তুই যতই পালাতে চাই…
শেহেজাদার আদর পর্ব ১০ (২)
শেষে এসে থামবি—
আমার কাছেই…”
বাইরে লন্ডনের আলো ঝলমল করছে…
আর ভেতরে—
একটা অনুভূতি…
যেটা ধীরে ধীরে ভালোবাসা থেকে…
অধিকার হয়ে উঠছে
