শ্যামা সুন্দরী পর্ব ৩৬
সুরভী আক্তার
আল পেরিয়ে সেভাবেই নিজের বেগম কে কোলে নিয়ে পাঠশালার সামনে দাঁড়ালো সংগ্রাম । শ্যামা কে নামালো কোল থেকে । শ্যামা পিছনের দিকে তাকালো একবার , ওর দৃষ্টি অনুসরণ করে সংগ্রাম ও তাকালো । সংগ্রাম তাকাতেই থতমত দৃষ্টি সরিয়ে হাঁটা শুরু করেছে কৃষকের দল ।
ছোট্ট ঘরটার ভেতর থেকে ভীষণ কোলাহল শোনা যাচ্ছে । গলা উঁচিয়ে জোরে জোরে পড়ছে বাচ্চারা । সংগ্রাম তপ্ত শ্বাস ফেলে সেদিকে খেয়াল দিলো । শাড়ির আঁচল খানা দিয়ে ঘোমটা টেনে নাক অবধি ঢেকে দিলো শ্যামার । শ্যামা না বুঝে শুধালো….
” ঘোমটা টেনে দিচ্ছেন কেনো ?
” কতবার বলবো , তোমাকে দেখার অধিকার শুধু আমার । অন্য কেউ যাতে তোমাকে না দেখতে পারে , তাই আড়াল করলাম তোমায় ।
ভেতরে মাস্টার মশাই আছেন । প্রাপ্ত বয়স্ক তিনি । বিয়ে হয় নি এখনো । পড়ালেখা করেছে অনেক । চাকরির আশায় শহরে ছিলো বহু বছর । লাভ হয়নি । পড়াশোনার ডিগ্রি অর্জন হলেও চাকরি পায় নি । গ্রামে ফিরেছে বছর খানিক হলো । যোগ্যতা আছে তার, কিন্তু যোগ্যতার মূল্য নেই । সংগ্রাম একটু মূল্য দিয়েছে । একটা ব্যাবস্থা করে দিয়েছে তার । বাপ মায়ের সাথে নিজের পেট টুকু চালানোর জন্য খুলে দিয়েছে এই পাঠশালা । বাচ্চাদের শিক্ষক নিযুক্ত করেছে তাকে । গ্রামের বাচ্চাদের পড়ানোর জোর নেই তেমন । বাপ মায়ের তাগিদ নেই পড়াশোনার দিকে । বেতন দিয়ে পড়াতে গেলে তো আরো কথাই নেই । দুদিক থেকেই ব্যাবস্থা করেছে সংগ্রাম । এই ছোট্ট ঘরটা ও নিজে বানিয়ে দিয়েছে । বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাচ্চাদের জোগাড় করেছে ।
বাচ্চাদের এতো কোলাহল শুনে হাসলো শ্যামা । সংগ্রাম দরজা মারিয়ে ঘরে ঢুকলো । একেকটা ছুটে ছুটে এসেছে বাড়ি থেকে । এই কম শীতে কম্বল নিয়ে এসেছে অনেকে । কম্বল মুড়ি দিয়ে হাত পা ঢেকে ঝুঁকে ঝুঁকে দুলে দুলে পড়ছে । ছোট্ট ছোট্ট মুখে অস্পষ্ট ভাবে পড়ছে বাংলা অক্ষর । নোংরা পোশাক অধিকাংশের শরীরে । সংগ্রাম কে মাথা তুলে দেখে পড়া থামালো সকলে । একসাথে উৎসুক হয়ে চিৎকার করে উঠলো….
” চোট জমিদার বাবু…..
আইছেএএএএ……
হাসলো সংগ্রাম । মাস্টার মশাই তথা শাহিন ছেলেটা দাঁড়িয়ে গেলো সংগ্রাম কে দেখে । অভিবাদন দেখিয়ে সালাম দিলো সে । মাথা নাড়িয়ে নিজের উত্তর বোঝালো সংগ্রাম । বাচ্চা গুলোর চেঁচামেচি বেড়েছে । হাঙ্গামা শুরু করেছে একপ্রকার । পড়া রেখে কম্বল টম্বল সব খুলে ফেলে ওরা ছুটে আসলো সংগ্রামের কাছে । ঘিরে ধরলো সংগ্রাম কে । একেকটা সংগ্রামের কোমরের উচ্চতার থেকেও ছোট । ওরা লাফালাফি জুড়ে দিয়েছে । সংগ্রাম বরাবর কোলে নেয় ওদের , এটা ওটা, খাবার জিনিস , পড়নের কাপড় অনেক কিছুই নিয়ে আসে ওদের জন্য । সংগ্রাম এই বাচ্চাদের নিষ্পাপ মনে ঠাই করে নিয়েছে অনেক টা জুড়ে । এবার এসেছে তো কিছুই আনতে পারে নি । এনেছে নতুন এক সদস্য কে এদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ।
সংগ্রাম শান্ত চোখে দেখছে ওদের । সহ্য করছে ওদের শোরগোল ।
শাহিন বাচ্চাদের চেঁচামেচি দেখে ছড়ি ঘুরিয়ে থামানোর চেষ্টা করলো ওদের….
” এই বাচ্চারা ,, থামো সবাই । চুপ করো । এতো চেঁচামেচি করছো কেন ? ছোট জমিদার বাবু এসেছেন, ওনাকে শান্তি দাও । বিরক্ত করো না…
যে যার জায়গায় গিয়ে বসো ,যাওওও….
শাহিনের কথায় কাজ হলো না । শ্যামা ভেতরে ঢোকে নি । দরজার একপাশে দাঁড়িয়ে ও দেখছে , দেখতে দেখতে হাসছে মিটিমিটি । সংগ্রাম বাচ্চাদের থামালো এবার….
” চুপ করো সবাই ! নয়তো রেগে যাবো আমি ।
অমনি চুপ সবাই । শান্ত হলো পুরো ঘর । সংগ্রাম মিষ্টি হেসে বললো….
” তোমরা তো ভারি চঞ্চল হয়েছো । মাস্টার মশাইয়ের কথা শোনো না ?
পিটপিট করে চেয়ে আছে বাচ্চারা । কি দারুন মায়াবী চেহারা ওদের । আর একজনও টু শব্দ করছে না । সংগ্রাম বললো আবার….
” কি হলো , সবাই চুপ করে গেলে যে ?
তবুও চুপ । সংগ্রাম রেগে যাবে ওদের উপর , আর কথা বলা, চেঁচামেচি করা যায় ? হাসি পেলো সংগ্রামের । শাহিন হেসে বলল….
” গত সপ্তাহে আসেন নি আপনি । ওরা ভীষণ মন খারাপ করেছিল । অপেক্ষা করেছিল আপনার । আজ আসলেন তো , তাই নিজেদের ধরে রাখতে পারে নি । ওরা কিন্তু লক্ষি বাচ্চা । খালি আপনাকে দেখলে খুশিতে ভরে উঠে ওরা ।
সংগ্রাম হাঁটু মুড়ে বসলো । বাচ্চা গুলোর উদ্দেশ্যে বললো….
” হাসি থামালে কেনো ? হাসো , আমাকে দেখে খুশি হও নি ?
” কুউউব খুচি হইচি চোট জমিদার বাবু ! আপনে আগের দিন আইয়েন নাই আমগো লগে দেখা করবার , মেলা মন কারাপ হইচিলো আমগো ।
ছোট মুখে অস্পষ্ট এলোমেলো কথা । সংগ্রাম তাল মিলিয়ে বাচ্চাটার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো….
” মেলা মন কারাপ হইচিলো ? আইজ আইচি তো আমি , এই বার মেলা মন ভালো কইরা ফেলাও দেখি !
হেসে উঠলো বাচ্চারা । মুখ টিপে ফিক করে । সাথে শাহিন ও । সংগ্রামের মুখে কেমন অদ্ভুত শোনালো কথা গুলো । দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে শ্যামাও অবাক লোচনে তাকিয়ে হেসে ফেললো । বাচ্চাদের সাথে সংগ্রামের ভারী খাতির এটা বুঝতে বাকি রইলো না । সংগ্রাম এক পলক শাহিন কে দেখে দরজার দিকে তাকালো । ফের বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে বলল শীতল কন্ঠে….
” আজ তোমাদের সাথে একজন কে দেখা করাতে নিয়ে এসেছি । নতুন অতিথি সে । দেখা করবে ?
উৎসুক হয়ে উঠলো বাচ্চা সুলভ, বাচ্চা হৃদয় । সংগ্রাম উঠে দাঁড়িয়ে দরজার বাইরে থেকে শ্যামা কে ভেতরে ঢোকালো । ঘোমটায় পুরো মুখ ঢেকে রাখা । ছোট জমিদার বাবুর সাথে একটা মেয়ে কে দেখে ভ্যাট ভ্যাট করে তাকিয়ে রইল সকলে । শাহিন এক পলক তাকিয়ে চোখ নামালো । ওর বুঝতে বাকি নেই বাকিটা । বাচ্চাদের তাকিয়ে থাকার মাঝে সংগ্রাম প্রশ্ন করলো…
” বলতো এটা কে ?
” কেডায় এইটা, চোট জমিদার বাবু ?
” এইটা ? এইটা আমার বউ !
মুখ চোখ গোল গোল করে শ্যামার দিকে তাকালো সবাই । মুখখানা দেখা যাচ্ছে না । বাচ্চা বাচ্চা ছোট নয়নে শ্যামা কে আগা গোড়া পরখ করলো ওরা । ছোট জমিদার বাবুর বিয়া হইছে ? এইটা জানা আছিলো না তো ? গাল ফুলালো ওরা । বললো খানিক অভিমানে…
” আপনের বউ আচে ? আমগোরে কন নাই , ডাওয়াত ও দেন নাই আপনের বিয়াতে !
” ডাওয়াত দিতে পারি নাই বাপ , বউ লইয়া আইছি তো । বউরে দেখো । আমার বউ কিন্তু মেলা সুন্দর ।
ঘোমটার আড়ালে হাসলো শ্যামা । একটা বাচ্চা বলে উঠলো…
” মুকখান তো দেকা যায় না !
সংগ্রাম শাহিনের দিকে ফিরলো । বললো…
” ওদের আজ ছুটি । সাথে তোমার ও । তুমি বাড়িতে যাও…
অপেক্ষা করলো না শাহিন । বেরিয়ে গেল সে । সংগ্রাম শ্যামা কে বললো এবার…
” বসো তো বেগম ।
বসলো শ্যামা । ঘোমটা খানা তুলে দিলো সংগ্রাম । বাচ্চারা তাকিয়ে অপ্রতিভ নয়নে । বিচিত্র চাহনি তাদের । মুখখানা খানিক ফাক । শ্যামার শীতল শ্যামলা মুখখানা চিকচিক করছে । বাচ্চা গুলো তাকিয়ে আছে কেমন করে । ছোট জমিদার বাবু তো কইলো হের বউ মেলা সুন্দর , সুন্দর আছে তো । বাচ্চাদের নিষ্পাপ চোখে সুন্দরই লাগলো । ওরা গায়ের রং দেখলো না , বরং মনে ধরলো সংগ্রামের কথাটা । সংগ্রাম বলেছে সুন্দর , তার মানে অনেক সুন্দর । সবচেয়ে সুন্দর এই মাইয়াটা । ছোট জমিদার বাবু তো অনেক সুন্দর , তাইলে তো তার বউ আরো সুন্দর । হাসলো বাচ্চা গুলো ।
ফজরের পর পর ভাত বসিয়েছেন খালেদা । চুলায় জ্বাল নিভে ধোঁয়া উঠেছে । চোঙা দিয়ে ফুঁ দিয়ে জ্বাল ধরিয়ে দিলেন তিনি । অপর পাশে ময়না বসে । ধোঁয়ায় চোখ মুখ জ্বলছে । পানি এসেছে চোখে । তবুও সরলো না ওখান থেকে । জ্বাল জ্বলতেই চোখ মুছে আবার স্বাভাবিক করলো নিজেকে । ময়না এসে থেকেই দেখছে খালেদার কাশি লেগেছে । খুক খুক করে কাশে সারাদিন । তবুও না থেমে ভোর ভোর উঠে কাজে লেগে পড়ে । ময়না কে কোনো কিছুতে হাত লাগাতে দেন না তিনি । আফতাব ওঠে নি এখনো । উঠার সময় হয়ে এসেছে । আফতাবের বাবা উঠে হাঁটতে বেরিয়েছেন একটু । রান্না বান্না হলে খেয়ে দেয়ে জমিতে বেরোবেন তিনি ।
ময়না আফতাবের সম্পর্ক এক । কোনো উন্নতি অবনতি ঘটে নি । ওদের সম্পর্কের কোনো নাম নেই । এক ঘরে থাকে ঠিক , ময়না সেই মাটিতে গুটিয়ে , আর আফতাব খাটে । ময়নার দিকে সে এপর্যন্ত একটা বারের জন্যও তাকিয়েছে কিনা সন্দেহ । ময়না ও তাকাতে চায় না । মাঝে মাঝে হুটহাট চোখ পড়লে আফতাবের বিরক্তিতে কুঁচকানো মুখখানা নজরে পড়ে । ঝট করে চোখ নামায় মেয়েটা । নিজেকে বিশাল কোনো বোঝার থেকে কম কিছু মনে হয় না । বরং বেশিই । কেমন নির্লজ্জের ন্যায় এখানে পড়ে আছে ও । আম্মা টাও বা কি , ওকে এক কথায় পাঠিয়ে দিলো এখানে । কেনো আসলো ও এখানে । নেহাতই আফতাবের বাপ মা ভালো , তাই ওকে নিয়ে এসেছে । নয়তো বাড়িতেই পড়ে থাকতো । আফতাবের সাথে কথা তো দূর , চোখে চোখ অবধিও পড়েনি এই কদিনে । সকালে আফতাব ঘুম থেকে ওঠার আগেই ময়না উঠে পড়ে । সারাদিন আফতাব বাড়িতে থাকে না তেমন । রাতে ঘরে ঢোকার আগেই ওর মুখোমুখি হাওয়ার আগেই ঘুমিয়ে পড়ে ময়না ।
বাড়িতে ময়নার করার মতো তেমন কোন কাজ নেই । রান্না বান্না থেকে শুরু করে সব টুকিটাকি কাজ খালেদা নিজেই করেন । ময়না কে হাত লাগাতে দেন না কোনো কিছুতে । ময়না বসে বসে টুকটুক করে চেয়ে দেখে খালেদা কে । খালেদা কতো সহজে ময়নাকে মেনে নিলো ! এটা সহজ ছিলো বুঝি ? হয়তো ছিলো , খালেদা সহজ সরল তাই তার কাছে সবকিছুই সহজ লাগে । কঠিন জিনিস ও সহজ করে ভাবেন তিনি । মানিয়ে নেন অতি সহজ ভাবে । আজকাল ময়নার একটু মনে হয় খালেদা অলকার চেয়েও ভালো বোধহয় । আবার নিজেই নিজেকে শোধরায় ময়না । মায়ের চেয়ে ভালো কেউ হতে পারে বুঝি ?
বাড়িতে কতগুলো মুরগি পালন করেন খালেদা । সেগুলোর খাবার হিসেবে বাশি ভাত আঙ্গিনায় ছিটিয়ে ফের চুলার সামনে এসে বসলেন তিনি । ময়না মুরগি গুলোর দিকে তাকালো । ঠোকরা ঠুকরি করে খাচ্ছে সেগুলো ।
খালেদার কাশি শুনে চকিতে ফের খালেদার দিকে ফিরলো ময়না । কাশি থামছে না দেখে তড়িঘড়ি করে উঠে জগ থেকে এক মগ পানি ঢেলে এগিয়ে দিলো । বললো ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে….
” পানি খাইয়া লন আম্মা । কাশি থাইমা যাইবো…
ময়নার হাত থেকে মগটা নিয়ে গলায় পানি ঢাললেন খালেদা । ঢোক গিলে শ্বাস ফেলে মগটা মাটিতে রাখলেন । ময়না তাকে সরু চোখে পরখ করে বললো….
” আপনি ওঠেন আম্মা । আমি রান্ধতে পারমু ! ঘরে যান আপনি । কাশি বাড়তাছে এই ঠান্ডায় ।
খালেদা স্মিথ হাসলেন । বললেন নরম গলায়….
” তোমারে রান্ধতে হইবো না বউমা । তুমি মেলা সুন্দর মানুষ । হাতে কড়া পইড়া যাইবো তোমার । আমার ব্যাটার এতো সুন্দর বউরে দিয়া কাম করামু আমি ? আমি আছি কিসের লাইগা ? যতদিন বাঁইচা থাকমু রান্ধন বারন সব আমিই করমু । মইরা গেলে তো গোটাল সংসার তোমার হাতেই যাইবো , তহন তুমি কাম কইরো । এহন তো তোমার আরাম করার দিন…
” আরাম আপনার দরকার আম্মা । ঠান্ডা লাগছে আপনার !
” এই ঠান্ডায় কিচ্ছু হইবো না । তুমি বইয়া থাকো তো । আমি রান্ধমু আর তুমি আমার মুখের আগোর বইয়া থাকবা । তোমারে দেখতে ভাল্লাগে আমার । রান্ধতে রান্ধতে দেখমু তোমারে ।
ময়না চুপচাপ বসে রইলো । গত ক’দিন যতবার ও কাজ করতে চেয়েছে, খালেদা ততবার এই এক কথাই বলেছেন । নড়চড় হয় নি একটুও ।
শাশুড়ি বউ’মার ওখানে চুলার পাড়ে বসে থাকার মাঝেই দেউড়ির কাছ থেকে ডাকলো কেউ । চিকন মেয়েলি কণ্ঠ… খালেদা কে উদ্দেশ্য করে কন্ঠের ডাক…
” কাকি ?
ময়না খালেদা চকিতে পিছন ফিরলো । ছ্যাত করে উঠলো ময়না । খালেদা কপাল গুটিয়ে বিরক্তি নিয়ে চাইলেন । সবুজ শাড়ি পরিহিত একটা সুন্দর মতো মেয়ে । শাড়ির আঁচলের এককোনা পড়েছে মাটিতে । খোলা চুল তার । মুখে সাজগোজ বেশি । চিকন চোখে মোটা করে কাজল । কাজলে একটুও মানায় নি মেয়েটাকে ।
মানিকের নতুন বউ সে । গ্রামের বউ , এই বাড়িরই বউ । অথচ বউ বউ ভাব নেই কোনো । শাড়ির আঁচল মাথার বদলে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে । পাতলা শাড়ি ভেদে ফর্সা উদর বোঝা যাচ্ছে স্পষ্ট । নাম মালেকা ।
খালেদা ওর দিকে তাকাতেই ঠোঁট প্রসারিত করে কেমন করে হাসলো ও । ময়না কে দেখিয়ে একটু বেশি আদিখ্যেতা মূলক হাসলো । খালেদার চোখের চাহনিতে বিরক্তি ফুটলো । অবিলম্বে চোখ সরিয়ে ময়নার দিকে তাকালেন তিনি । ময়না স্থির দৃষ্টিতে মালেকার দিকেই । খালেদা বুঝলো ময়না আগা গোড়া পরখ করছে এই বদ মেয়েটাকে ।
খালেদার বিরক্তি প্রকাশিত উপেক্ষায় ময়নার চোখে চোখ রেখে হেলে দুলে এগিয়ে আসলো মালেকা । বললো ভ্যাঙ্গানো গলায়…
” ভালো আছো কাকি ? কি করতাছো বউমার লগে ? গল্প ? কি লইয়া কথা কইতাছিলা শুনি ?
” তোমারে কমু ক্যান ? কেডা তুমি ?
” ওমা কাকি ,, ভুইলা গেলা ? আমি গো আমি , তোমাগো মানিক চাঁদের , সোনার টুকরা বউ ? দেহো আমারে !
” এইখানে ক্যান আইছো হেইডা কও ? তোমার ফাও প্যাচাল শোনার সময় নাই । কাম আছে আমগো …!
খালেদার তপ্ত মেজাজে কাঠ কাঠ স্বর । মালেকা এক মুহুর্তে বিরক্ত হলেও বিরক্তি টুকু গিলে নিলো । হাতে একটা বাটি ওর । মিষ্টি বোধহয় বাটিতে । ও হেলে বাটি টা ময়নার সামনে রাখলো । ময়নার নজর বুঝে মুখ বাঁকালো । চোখ সরালো ময়না । মালেকা বললো….
” ফাও প্যাচাল পাড়তে আহি নাই গো কাকি । মিষ্টি খাওয়াইতে আইছি, মিষ্টি । সুসংবাদ আছে । হেইডাই শোনাইতে আইলাম ।
খালেদা জানতে চাইলো না কিছু । মালেকা নীরবতা বুঝে একটু থেমে বললো নিজে থেকেই….
” কাইল আব্বা আইছিলো । পনেরো কেজি মিষ্টি লাইয়া আইছে । খুশির খবর আছে বলো ? হুনবা কি খবর ? আরে, দাদি হইবা গো তুমি । প্রত্থম বার দাদি হইবা । মা হমু আমি । তোমাগো গোষ্ঠীর প্রত্থম পোলাপাইন আইবো আমার গর্ভ থাইকা । হেই খুশিতে তোমাগো মানিক চাঁদ পুরা গেরামে মিষ্টি বিলাইতে গেছে । আমি আইলাম তোমাগোরে মিষ্টি দিতে । তোমরা তো আমাগো সব থাইকা বড় আপন বলো ।
খালেদা বৃহৎ নয়নে তাকালেন । ময়না হাঁটু জড়িয়ে ধীর হয়ে বসে ছিল । মালেকার পুরো কথা শুনে ও খামচে ধরলো শাড়ির কুচি । খালেদা একটু কটাক্ষ করেই বললেন…
” তোমাগো বিয়া হওয়ার এহনো তো এক মাস ও হয় নাই , না ?
হাসলো মালেকা । গা দুলিয়ে শব্দ করে ।
ওর হাসিতে বিভ্রান্ত হলো খালেদা । গা খানা কেমন জ্বলে উঠলো । মালেকা বললো…
” কেডায় কইলো বিয়া হওয়ার এক মাসো হয় নাই । শশুর বাড়িত আওনের এক মাস ও হয় নাই এইটা ঠিক । বিয়া হওয়ার তো দুই মাস পার হইতে চললো ।
ময়না ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল । বাজ পড়ল খালেদার মাথায় । কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়ে আরো একটু জ্বলন ধরালো মালেকা….
” বাপের বাড়িত আছিলাম এতদিন । সতিনের সংসার কেডায় করতে চায় কও ? এই লাইগা তো এতদিন আহি নাই । এহন তো আর চিন্তা নাই । শশুর বাড়িত আওনের সাথে সাথে আপদ বিদায় হইলো । খুশির খবর পাইলাম এহন । মিষ্টি খাও কাকি , মিষ্টি খাও ।
ময়নার অবস্থা বুঝে ওর উদ্দেশ্যে মৃদু স্বর খালেদার…
” বউমা , ঘরে যাও…
ছলছল অক্ষি যুগল কাঁপছে মেয়েটার । এসব তাহলে এখনকার ঘটনা নয় । ময়না যেবার বাপের বাড়িতে গেলো , সেবারেই ঘটেছে সব । তাহলে ময়না কে ফিরিয়ে আনলো কেনো ? এসব নাটক দেখাতে ? বেশি ভাবতে পারলো না ময়না । ও মাথা আস্তে আস্তে নাড়ালো দুদিকে । মালেকা ওকেই দেখছে । ও আবার খোঁচা মারলো ব্যাঙ্গ করে….
” কি হইলো ছোট জা , মিষ্টি খাইবা না ? তোমার ত্যাক্ত স্বামীর সন্তান আমার পেটে…
খালেদা শান্ত থাকলেন না এবার । তিনি গলা উঁচু করলেন….
” যাইবা এইহান থাইকা ? থোবড়া দেখার ইচ্ছা নাই তোমার । মা হইবা ভালো কথা । এইবার একটু মানুষ ও হইয়ো তো । বাড়ির বউ তুমি , শিক্ষা নাই । বাপ মায়ে শিক্ষা দেয় নাই । কোন বাড়ির বউয়ের মাথার আঁচল কান্ধে ঝুইলা থাহে ? এমনে ঢ্যাং ঢ্যাং কইরা প্যাট দেখাইয়া বেড়ায় কোন বাড়ির বউ ?
” বাহ্ কাকি , তোমার দেখি মুখে বুলি ফুটছে মেলা । আমার বউয়ের শিক্ষা নিয়া কথা কও ? তুমি তো পোলারে মেলা ভালো শিক্ষা দিছো ,তাই না ? এমন শিক্ষা দিছো যে , ভাইয়ের বউয়ের লগে ঢলাঢলি, গলাগলি করতে আটকায় না একটুও । ভাইয়ের বউয়ের লগে পরকীয়া করার শিক্ষা দিছো পোলারে ?
মানিকের কু রুচি সম্পন্ন ঘৃণিত কথায় কেঁপে উঠলো ময়না । দেউড়ি থেকে ভেতরে এগোতে এগোতে কথা গুলো বললো মানিক । খালেদা চোখ মুখ খিচে জড়ো করলেন । মানিক এসে দাঁড়ালো মালেকার পাশে । নির্লজ্জের ন্যায় ময়নার দিকে তাকিয়ে কাঁধ জড়িয়ে ধরলো মালেকার । দগ্ধ হৃদয়ের যন্ত্রণা দেখিয়ে টুপ করে দুচোখ বেয়ে দুফোঁটা অশ্রু বিন্দু গড়ালো গাল বেয়ে ।
খালেদা ফুঁসে উঠলেন….
” মুখ সামলাইয়া কথা ক মানিক ।
” আরে কাকি , রাইগা যাইতাছো ক্যান ! আচ্ছা সামলাইলাম মুখ । সত্য কথা কেউই সহ্য করবার পারে না । পোলার হীন চরিত্র মানতে পারো না জানি । যাও আর কমু না এই কথা ।
এই দেখো তো আমার বউরে কেমন দেখা যাইতাছে ? এই শাড়ি খান আমি কিইনা দিছি । পুরা পনেরো শ টাকা দাম এইটার । তোমার পোলার প্রত্থম বউরে জিগাও দেহি এমন শাড়ি চৌখে দেখছে কিনা । হেতিরেও মেলা মেলা শাড়ি কিনা দিছলাম । তাও পোষায় নাই আমার কাছে । জামাই থাকতে , দেওরের দিকে নজর দিছে । দেওর বনাম দুই নাম্বার জামাই কি আমার নাকান শাড়ি কাপড় কিইনা দেয় ? নাকি আমি দিমু কয়খান কিইনা ?
” সেটা তোকে ভাবতে হবে না । ওর জামাই ওকে কি কিনে দেয় না দেয় , সেটা ও আর ওর জামাই কেই বুঝতে দে । বউ থাকতে ভাইয়ের বউয়ের দিকে তাকাস ক্যান ?
আফতাবের খানিক নিরেট স্বর । চকিতে পিছন ফিরলো ময়না । বারান্দা থেকে নামতে নামতে ফুল হাতা ফতুয়ার হাতা গোটাতে গোটাতে কথা গুলো বললো আফতাব । মানিকের মুখে যেন ছাই পড়লো । বিকৃত করলো মুখখানা ।
আফতাব সবে ঘুম থেকে উঠেছে । শ্যামলা চোখ মুখ ফোলা ফোলা । চোখের দৃষ্টি নিভু এখনো । এগোতে এগোতে চোখ ডললো আফতাব । দৃষ্টি স্বাভাবিক করে খালেদার দিকে তাকিয়ে বলল….
” সকাল সকাল কুকুরের ঘেউ ঘেউ শুনতে ভালো লাগে না আম্মা । কাঁচা ঘুমটা ভেঙে গেল । দেউড়ির বাইরে থেকে তাড়িয়ে দিয়ে এসো কুকুর গুলো কে । আমার ঘুম হয় নি । ঘুমাবো আবার ।
আর হ্যাঁ , আমাদের বাড়িতে কেউ মিষ্টি ও খায় না জানোই তো । এগোলো তো আর নষ্ট করা যায় না , বাইরে কুকুরের অভাব নেই । ওগোলোকে খাইয়ে দিও । অবলো প্রানির ক্ষুধা নিবারণ করলে সওয়াব পাবো একটু ।
আফতাবের তীক্ষ্ণ খোঁচা দেওয়া কথায় রি রি করে জ্বলে উঠলো মানিক । কথা বাড়ালো না কথার পরিপ্রেক্ষিতে । মালেকার হাত খানা থাবা মেরে ধরে গজগজ করে বললো…
” দাঁড়ায় আছিস ক্যান এইহানে ? বাড়িত চল….
বলেই টেনে নিয়ে গেলো ওকে । মানিকের ক্ষুব্ধ পায়ের সাথে পা মেলাতে ব্যাস্ত মালেকা । দেওড়ির বাইরে বেরোতেই পা মেলাতে না পেরে শাড়ির সাথে পা পেঁচিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ল বেচারি । অমনি কুকিয়ে উঠলো ।
আফতাব তাকায় নি ওদিকটায় । না তাকিয়েই হেসে উঠলো ও । খালেদা আর মানিক ব্যাতিত মালেকার দিকে তাকায়নি একবারও । ময়নার দিকেও না । ময়নার ভেজা অক্ষি যুগল নামানো । খালেদা পানির জগ হাতে তুলতে তুলতে বললেন….
” আইজ বউমারে একখান নীল শাড়ি আইনা দেইস তো বাপ । দামি দেইখা আনবি । আমার বউ মারে নীল শাড়ি ভালো মানাইবো । হেয় পড়বো আর আমি দেখুম । মনে কইরা আনবি কিন্তু ।
কথা শেষ করেই কল পাড়ের দিকে এগোলেন তিনি । ময়না নত জানু হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে । একবার ভাবলো চোখ তুলে তাকাবে । কিন্তু সৎ সাহস হলো না । ওর ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ের ব্যাথা গুলো দেখলো না কেউ । চোখ ছাপিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে অনারগল । ময়না হাতের উল্টো পিঠে চোখ দুটো মুছলো । নাক টেনে হেঁচকি তুললো । আফতাব আড়চোখে তাকালো একপলক । হাই তুলে বললো…
” মেয়ে মানুষের চোখে পানি একটু বেশিই থাকে বোধহয় । কথায় কথায় ঝড়াতে পারলেও একটুও কমে না ।
এমনি এমনি কাঁদছো কেন ? আসো দুটো থাপ্পর দেই । এমনি এমনি না কেঁদে ব্যাথার চোটে কাঁদবে তখন ।
ময়না ছলাৎ করে উঠলো খানিক তপ্ত ধমকে । এই কদিনে এই প্রথম ময়নাকে উদ্দেশ্য করে কথা বললো আফতাব । ঝট করে চাইলো মেয়েটা । আফতাবের দৃষ্টি অন্যদিকে । আশাহতের ন্যায় ফের চোখ নামিয়ে নিলো মেয়েটা । কান্না আসলো বুক চিরে । ওকি এমনি এমনি কাঁদছে না কি ? আর কাঁদছেই বা কই ? কাঁদতে পারলে তো ভালোই হতো । চোখ হালকা হতো পানি গড়িয়ে । কষ্ট গুলো কমতো একটু । কিন্তু ও তো কাঁদতে পারছে না । নিজের মাঝে গুমড়ে গুমড়ে মরছে । এতোটা সহজ ওর পরিস্থিতি ?
শ্বাস আটকে কান্না আটকাতে চাইলো ময়না । পারলো না । শ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসতেই ফিকড়ে উঠলো । কেঁদে উঠলো চিবুক গলায় নামিয়ে । আফতাব পুরোপুরি দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে না তবুও । ভ্রু গুটিয়ে বাঁকা চোখে তাকালো ও । মেয়েটা কে দেখলো আগাগোড়া । তেমন ভাবে দেখা হয় নি এই কদিনেও ।
কাঁদার ফলে ময়নার ফর্সা মুখখানাতে রক্তিম আভা পড়েছে । নাকের ডগা চিক চিক করছে রক্ত বর্ণে । চোখের পানি গাল বেয়ে গড়িয়ে গলা দিয়ে নামছে । সবটা নীরবে দেখলো আফতাব । নরম হলো না । ফের নিরেট ধমক দিলো….
” আবার কাঁদো ? চুপ !!
চমকে থামলো ময়না । ঠোঁট উল্টে নিচের অধর কামড়ে কান্না চাপলো তৎক্ষণাৎ । ক্ষিয় হাসলো আফতাব । ময়নার কুলুপ এঁটে রাখা অভিমানী মুখে কথা ফুটবে না । ও নাক টেনে টেনে সোজা হয়ে দাঁড়ালো । সংযত করলো নিজেকে । কান্নার মূল্য না থাকলে কেঁদে লাভ কি ? ভার বুকে মুখখানা ভার করলো ময়না । আফতাব বাঁকা চোখেই ধীর স্থির শীতল নেত্রে চেয়ে । ঘুম হয়নি আফতাবের । ও ঘুমাবে আবার । ময়নার গুরুভার অভিমানে কুঁচকানো মুখখানার দিকে চেয়েই লুঙ্গির এক কোচা উঁচিয়ে ধরলো আফতাব । মেয়েটার এমন বেজার গোমড়া মুখখানা দেখতে খারাপ লাগছে না । নিজের মাঝেই নিঃশব্দে এক চিলতে হাসলো আফতাব । মুখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে হাই তুললো । ঘরের দিকে এগোতে এগোতে শীতল গলায় বিড়বিড় করে গান ধরলো দুই লাইন….
– আমার ময়না টিয়া , আগুন মাসের ধান তুলিয়া করমু তোমায় বিয়া …
তুমি মান কইরো না ও সোনার চাঁন শুনো প্রাণের প্রিয়া,
তুমি মান কইরো না ও সোনার চাঁন শুনো প্রাণের প্রিয়া….
আগুন মাসের ধান তুলিয়া করমু তোমায় বিয়া….
বলতে বলতে ঘরে ঢুকেছে । ও বিড়বিড়ানো স্পষ্ট শুনতে পায় নি ময়না । খালেদা কে আসতে দেখে ও চোখ মুখ মুছলো ।
ঘরে ঢুকে থমকে দাঁড়ালো আফতাব । খানিক ভাবুক ভঙ্গিতে নিজেকে শুধরে নিলো….
” উঁহু…. আগুন নয় ,, বৈশাখ । আগুনের আগুনে পুড়বো না আর । বৈশাখের তীব্র ঝড়ের শীতল রাতে ভিজবো….
” ছোট জমিদার বাবু ,, এবার কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমায় ?
খানিক রসিক স্বর শ্যামার । গাড়িতে সংগ্রামের পাশে বসে ঠোঁট টিপে মিটিমিটি হেসে প্রশ্ন করলো ও । সংগ্রাম ভ্রু গুটিয়ে তাকালো । রোদ উঠেছে । শত পাঁয়তারা করেও শ্যামা কে এবার কাছে টানতে পারলো না । রাস্তায় মানুষ ও অনেক এখন । ওরা থেমে থেমে গাড়ির দিকে চেয়ে চেয়ে দেখছে । সংগ্রামের চোখে চোখ পড়তেই থতমত খেয়ে দৃষ্টি সরাচ্ছে । কটা বাজলো কে জানে ! এগারো টা পেরিয়েছে বোধহয় । সূর্য মাথার উপর থেকে একটু হেলে । খানিক বাদ সোজা মাথার উপর উঠবে । তীব্রতা নেই সূর্যের তেজে । মিষ্টি লাগছে রোদ্দুর টুকু । কপাল অবধি শাড়ির আঁচল টেনে রাখা শ্যামার । মনটা ফুরফুরে । একটুও খচখচানি নেই , যা সকাল অবধি ছিলো । বাচ্চা গুলোর সাথে ঠিক কতটা সময় কাটালো গুনে ঠাহর করা হয় নি । এর মাঝে সংগ্রাম খাবারের ব্যবস্থা করেছিল । সবার সাথে সেই ঝুপড়ি খড়ের ঘরে বসে খেয়েছে শ্যামা । বাচ্চা গুলো ওদের বাচ্চা বাচ্চা মুখে অস্পষ্ট স্বরে শ্যামা কে বউমনি বলে ডাকছিলো । সংগ্রাম শিখিয়ে দিয়েছে এটা । একটা বাচ্চা প্রশ্ন করলো আচমকা….
” চোট জমিদার বাবু , আমলা আপনের বউরে কি কমু ?
সংগ্রাম ভেবে উত্তর করেছিল….
” উমমমম… ও আমার বউ । আমি তোমাদের বাবু , আর ও তোমাদের মনি । বউ মনি বলবে তোমরা ওকে ।
ব্যাস , এটাই যথেষ্ট ছিলো । শ্যামা কে নিয়ে কতোই না মাতামাতি চললো বাচ্চা গুলোর মধ্যে ।
সেখান থেকে বেরিয়ে আবার গাড়িতে চেপে বসেছে দুই সাহেব সাহেবান । ফেরার পথে না গিয়ে অন্য পথে চলছে গাড়ি খানা । শ্যামা চেনে না কোনো জায়গাই । চেনার কথাও নয় ।
বাচ্চাদের মুখের চোট জমিদার বাবু ডাকটা বেশ পছন্দ হয়েছে ওর । ও রসিকতা করে সংগ্রাম কে ডাকলো এই বলেই ।
সংগ্রাম চোখ সরু করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো ওর দিকে । শ্যামা কে গুড়িগুড়ি হাসতে দেখে সেই বাচ্চাদের ডাকের ন্যায় উত্তর করলো সংগ্রাম….
শ্যামা সুন্দরী পর্ব ৩৫
” চোট জমিদার বাবু বউমনিকে নিয়ে তার শশুর বাড়ী যাচ্ছে । বউ মনির বেজায় অভিমান জমেছে তার ছোট জমিদার সাহেবের উপর । ছোট জমিদার বাবু একটু অভিমান ভাঙ্গাতে পেরেছে , বাকিটা ভাঙ্গাবে এখন ।
