শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৩৬
অনামিকা তাহসিন রোজা
জিহান আর মুনিরার সম্পর্ক মেনে নিয়েছেন মুনিরার বাবা। খবরটা পেতেই ধারা খুশিতে লাফ দিল। শ্রাবণও খুশি হলো বেশ। মমিনুর সাহেব বিয়ের অনুষ্ঠানে বিশেষ ভাবে দাওয়াত দিয়েছেন শেখ পরিবার কে। আগামী সপ্তাহে বিয়ে। তাই সামিউল শেখ সিদ্ধান্ত নিলেন যে কাল পরশুর মধ্যে নিজেদের জন্য শপিং করার পাশাপাশি মুনিরা আর জিহানের জন্যেও টুকটাক কিছু কিনে নেবেন। শ্রাবণও রাজি হলো। ধারা খুব খুশি। এই প্রথম সে কোনো শহরের বিয়ের অনুষ্ঠান দেখবে।
রাতে খাওয়ার জন্য ডাইনিং টেবিলে একত্রিত হলো শেখ পরিবার। বরাবরের মত আজও ধারা আর সালমা বেগম টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে সার্ভ করতে থাকলেন। আর শ্রাবণ, সামিউল শেখ খেতে থাকলো। মুনিরার বিয়ের কথাটা উঠতেই সালমা বেগম সামিউল শেখ কে উদ্দেশ্য করে বললেন,
—” মমিনুর সাহেব শেষমেশ মেনেই নিলেন। উনি যে ধাঁচের মানুষ, ভেবেছিলাম আর মেনেই নিবেন না। যাক, শেষ পর্যন্ত! ”
সামিউল শেখও তাল মিলিয়ে বললেন,
—” হুম সেটাই। ”
সালমা বেগম এবার জোর গলায় বললেন,
—” কতদিন ধরে শাড়ি কিনিনা। তুমি কিন্তু এবারে একটা সুন্দর জামদানী শাড়ি কিনে দেবে আমায়। আর একজোড়া বালাও কিনে দেবে।”
সামিউল শেখ মাথা নেড়ে ঠিক আছে বললেন। বউয়ের কথা না মেনে উপায় নেই। বাড়িতে থাকতে হলে, খেতে হলে বউয়ের কথা মানা ফরজ। শ্রাবণ খাওয়ার ফাঁকে আড়চোখে ধারার দিকে তাকালো। এই মেয়েটা তো নিজে থেকে কিছু আবদার করবে বলে মনে হয় না। কি আর করার! নিজে থেকেই দিতে হবে। দেখা যাক, শ্রাবণ শেখ বউকে খুশি করতে পারে কিনা। সারপ্রাইজ দিতে পারে কিনা। ভেবেই বাঁকা হাসলো শ্রাবণ। নিজেই নিজের সাথে চ্যালেঞ্জ নিল।
আজ চিংড়ি মাছ রান্না হয়েছে। সামিউল শেখের ভীষন পছন্দ এই মাছ। সালমা বেগম কথার মাঝখানেই শ্রাবণের প্লেটে চিংড়ি উঠিয়ে দিতে চাইলেই তাৎক্ষণিক চমকে উঠে ধারা। জোরগলায় বলে উঠে,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
—” চিংড়ি মাছ দেবেন না মা। উনার তো এতে এলার্জি আছে।”
মাঝরাতে ঘন মেঘের ফাঁক থেকে জোরে একটা বড়সড় বজ্রপাতে মানুষ যেমন চমকে যায়। ধারার হুট করে বলা এই কথাটাতেও উপস্থিত সবাই চমকে, থমকে গিয়ে চোখ বড় করে তাকালো বেচারি ধারার দিকে। শ্রাবণ কোনোমতে মুখে থাকা ভাতটা না চিবিয়েই গিলে নিল, তারপর হা করে তাকালো অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে হয়ে যাওয়া তার কাঙ্খিত বউয়ের দিকে। সামিউল শেখ আর সালমা বেগম একে অপরের দিকে তাকালেন।
বেচারি ধারা সবার এমন দৃষ্টি দেখে মিইয়ে গেলো। সবার দিকে একবার তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল সে কিছু ভুল করেছে কিনা। কিন্তু বুঝতে না পেরে শুকনো ঢোক গিলে মিনমিন করে বলল,
—” কী হয়েছে?”
সালমা বেগম হাতের চামচটা আবারো ফিরিয়ে এনে হতবিহ্বল গলাতেই বলে উঠলো,
—” শ্রাবণের যে চিংড়ি তে এলার্জি, এ কথা তোমায় কে বলল? আমার জানামতে, আজ প্রায় ৮ মাস পর চিংড়ি রান্না করেছি আমি। তাও তোমার শ্বশুর পছন্দ করে বলে। কিন্তু আমি তো তোমায় কখনো এই কথা বলিনি। ইনফ্যাক্ট আমার ছেলে তো নিজেও জানে না হয়তো। তুমি..জানলে কীভাবে?”
সালমা বেগম নিজের ছেলের দিকে তাকিয়ে বুঝলেন যে শ্রাবণ আসলেই হতবাক। আসলেই শ্রাবণ নিজেও জানে না। সে তো নিজেও জানে না চিংড়ি তে তার এলার্জি। ছোট থেকেই এই মাছ এমনিতেই সে খায় না। দুএকবার খেয়েছে, তখনি বমি পেয়েছে। কিন্তু এলার্জি নামক কোনো কথা তো সে টানেনি। আর প্রায় এক বছর যাবৎ সে কখনো চিংড়ি খায়ও নি। এই মেয়ে জানলো কী করে?
ধারা সালমা বেগমের দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলল। সে বুঝলো না যে এই ছোট এটুকু বিষয়ে সবাই এমন হতভম্ব হলো কেনো? বিষয়টা অস্বাভাবিক লাগলো তার কাছে। কিন্তু গুরুজনেরা যখন জিজ্ঞেস করেছে, তাই সে নিজে থেকে স্বাভাবিক ভাবেই বলল,
—” উনি যখন গ্রামে গিয়েছিলেন, তখন আমার চাচি উনাকে চিংড়ি খেতে দিয়েছিল। উনি অবশ্য খেয়েছে। কিন্তু মাঝরাতে আমি উনাকে হাঁচি-কাশি দিতে দেখেছি। এমনকি উনার শরীরেও অনেক চুলকানি শুরু হয়েছিল। তখন বুঝতে পেরেছি! ”
শ্রাবণের এবার মনে হলো এই মেয়ে মোটেই বলদ নয়। মাথায় অবশ্যই অনেক কিছু আছে। নইলে সবকিছুতে এতটা খেয়াল রাখে কীভাবে। সে তো সেদিন ভেবেছিল যে কোনো পোকা গায়ে উঠেছে, এই জন্য চুলকাচ্ছে। অথচ এই মেয়ে ঠিকই সবটা ধরে ফেলেছে। গুড গুড! এই এক ভালো কাজের জন্য একটু আগের পানিশমেন্ট টা মওকুফ করল শ্রাবণ শেখ। বরং ধারাকে একটা গিফট দেয়ার পরিকল্পনা করে রাখলো।
সন্তুষ্ট হলেন সালমা বেগম। আজ তার মনে হলো সামিউল শেখ ধারা কে বাড়ির বউ করে এনে কী ভালো কাজটাই না করেছে। এই একটা সিদ্ধান্ত হয়তো তাঁর নেয়া সেরা সিদ্ধান্ত। বুক টা ভরে গেলো সালমা বেগমের। শ্বাশুড়ি হিসেবে নয়, একজন মা হিসেবে নিজের ছেলের সুন্দর ভবিষ্যত আঁচ করতে পেরে তিনি খুশি হলেন। মনে মনে শোকর আদায় করলেন। কি আশ্চর্য! ছেলের যে চিংড়ি তে এলার্জি! বয়সের ভারে তিনিও প্রায় ভুলতে বসেছিলেন। যাক, কেও তো আছে এখন, যে কিনা সালমা বেগমের অনুপস্থিতিতেও সবকিছু সামলাবে।
সালমা বেগম মত বদলালেন। সামিউল শেখ কে উদ্দেশ্য করে মিষ্টি হেসে বললেন,
—” আমার কিছু লাগবে না। তুমি বরং বউমা কে দুটো শাড়ি আর সুন্দর সুন্দর সালোয়ার কামিজ কিনে দিও। ধারার তো মনে হয় গয়নাও নেই। আমার গুলো তো ভীষন ভারি। বাসায় পড়তে পারবেনা। অন্তত ছোট্ট একজোড়া দুল বানিয়ে দেয়ার দরকার, নিত্যকার ব্যবহারের জন্য। ”
সামিউল শেখ এতক্ষণ মুচকি হেসে মাথা নিচু করে ভাত খাচ্ছিলেন। এবারেও তিনি স্ত্রীর কথার দ্বিমত হলেন। মাথা নেড়ে আগের থেকেও বেশি হাসি নিয়ে বললেন,— ঠিক আছে। অথচ বিরক্ত হলো শ্রাবণ। আশ্চর্য! বউ তার! দায়িত্বও তার। তাই শাড়ি দেবে সে। অথচ এই ভদ্রলোক কেনো দেয়ার জন্য রাজি হলো।
শ্রাবণ শেখের ভালোই উন্নতি হয়েছে। সে ভীষন হিংসুটে। অন্তত বউ নিয়ে “নো কম্প্রোমাইজ” — মাইন্ড তার। তাই টেবিলে রাখা পানিটা খেয়ে শ্রাবণ গলা খাঁকারি দিয়ে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করলো। নিজের বাবা কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
—” বাবা, তুমি নিজের বউকে শাড়ি-টাড়ি যা যাবতীয় সব কিনে দাও৷ আমার বউকে আমি দেব।”
সামিউল শেখ কেবলই নিজের পছন্দের চিংড়ি মাছটা মুখে তুলেছিলেন। একমাত্র ছেলের এমন কথায় ভদ্রলোক আবারো বিষম খেলেন। তড়িঘড়ি করে পানি এগিয়ে দিল ধারা। তারও লজ্জায় কান লাল হয়েছে। শ্বশুর শ্বাশুড়ি স্বামী সবার একেক রকম কথায় সে একেক রকম প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
সামিউল শেখ ঢকঢক করে পানি খেলেন। হতভম্ব হয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর চাপা কন্ঠে বলে উঠলেন,
—” দিনদিন তোমার কথাবার্তা এমন লাগামছাড়া হচ্ছে কেনো? ঠোঁটে তালা ঝুলাও। বাপ হই তোমার। একটু তো লজ্জা করো। আমার বউ, তোমার বউ এসব কেমন কথাবার্তা!”
শ্রাবণ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো। আবারো নির্বিকার হয়ে বলে উঠলো,
—” আমি কি বলেছিলাম বিয়ে দাও আমায়। সব দোষ এই বিয়ের। আর আমাকে মোটেই ঘুরিয়ে পেচিয়ে নির্লজ্জ বলো না বাবা। আমি যথেষ্ট জেন্টেলম্যান। বিশ্বাস না হলে নিজের বউমা কে জিজ্ঞেস করে দেখো!”
নিজের কথা শুনেই চোখ বড় করে তাকালো ধারা। এসব ঝামেলায় সে একদমই থাকবে না। তাই ধীরে সুস্থে লুকিয়ে পড়লো সালমা বেগমের পেছনে। সামিউল শেখ হতাশ হলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন, আর যাই হোক না কেনো। এই ছেলের সাথে তিনি আর এক টেবিলে খেতে বসবেন না। ছেলে টার মুখে তালা ঝোলানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নইলে মুখ ফঁসকে কখন কী বলে ফেলে তার কোনো গ্যারান্টি নেই।
সাদিক নিজের কথা রেখেছে। সে আসলেই ভোর নাগাদ বাড়ি থেকে বের হয়ে ওই নাপিত টাকে খুঁজে বের করেছে। শুধু তাই নয়, জুতো দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি এক চোখ থেতলেও দিয়েছে। বিষয়টা ভয়ানক। তবে সাদিকও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ৷ তার শরীরে যে এত জোর, এত সাহস, এত জোশ তা সে নিজেও এতদিন জানতো না। তার বউ, তার কণিকা কে এই ছেলে কষ্ট দিয়েছে, গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করেছে— এগুলো মাথায় আসতেই সাদিকের গায়ে জ্বলজ্বল করে আগুন জ্বলতে থাকলো। তাই নিজেকে সামলাতে না পেরে নাপিত টাকে এমন মার মেরেছে, শেষে সে আধমরা অবস্থায় হসপিটালে ঝুলছে।
সূর্য উঠার ঠিক আগ মুহুর্তে সাদিককে এলোমেলো ধুলোভরা অবস্থায় ঘরে ঢুকতে দেখে কেবলমাত্র চোখ খুলে তাকানো কণিকা অবাক হয়। মিনমিন করে জিজ্ঞেস করে,
—” কোথায় গেছিলেন?”
সাদিক রাগী, অস্থির, অধৈর্য। কিন্তু কণিকার কন্ঠে তার হুদয় এক মুহুর্তেই শিশিরের টুপটাপ ফোঁটায় ভেজা পাতার মত ভিজে গেলো। প্রশান্তিতে ভরল বুক। সে এগিয়ে এসে কনিকার এলোমেলো চুলগুলো গুছিয়ে দিতে দিতে বলল,
—” ইবলিস টারে শাস্তি দিয়ে আইছি। হাত ভাইঙা দিছি। চুল ছিঁড়ে দিছি। চোখ উঠায় ফাইলা দিলে তো আমার জেল হইয়া যাইত, তাই চোখ থেতলে দিয়া আইছি। খুশি হইছো তুমি?”
সাদিক এমন করে কথাগুলো বলল যেন কনিকা কোনো ছোট বাচ্চা, আর সে খেলনা নিয়ে কান্নাকাটি করেছে বিধায় এসব করে আসলো সাদিক। অথচ কনিকা হা হয়ে তাকালো। ভয়ার্ত চোখ নিয়ে অবিশ্বাস্য দৃষ্টি ফেলল। কাঁপা গলায় বলে উঠলো,
—” আপনি..আপনি মারামারি করে আইছেন? তাও এই ভোরবেলা? ”
সাদিক মুচকি হাসি নিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
—” কেনো? তুমি কী মনে করছো, আমি মারপিট করতে পারি না?”
কথা একশ শতাংশ সত্য। কনিকা আসলেই ভেবেছিল এই সাধাসিধা লোকটা মারপিট করতে পারে না। আরে বাবা, মারপিট তো দূরের কথা, হয়তো উঁচু গলায় কথাও বলতে পারে না। অথচ চোখ থেতলে দেয়ার মত একটা ভয়নাক কাজ করে এসেও লোকটা কি সাবলীল ভাবে আবার জানতেও চাইছে কনিকা খুশি কিনা। এক মুহুর্তের জন্য কনিকার ইচ্ছে করল আবার ঘুমিয়ে যেতে। স্বপ্ন দেখতে পারে। এটা তো স্বপ্নও হতে পারে।
সাদিক কনিকার চেহারায় এমন অবিশ্বাস্য অভিব্যক্তি দেখে ফিক করে হেসে ফেলল। কনিকার গাল টিপে দিয়ে বলল,
—” বাচ্চাদের মত ফ্যালফ্যাল করে তাকায় আছো কেন হুম? খুশি হও নাই? এখনো কষ্ট হচ্ছে? ”
কনিকার চোখে মিশে থাকা অবিশ্বাস কেটে না যেতেই সাদিক অদূরেই কাঁধ ঝাঁকানির ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইল। ধুলো-মাটি মিশা চেহারাটা যতটা ক্রুদ্ধ, ততটাই এখন রকমারি শান্ত, যেন ঝড়-পূর্বের স্নিগ্ধতা ফিরে এসেছে তার মধ্যে। সে আরো একটু এগিয়ে এসে কনিকার কাঁধে হাত রাখল, হালকা করে চাপ দিয়ে বলল,
—” বললা না তো, খুশি হও নাই?”
কনিকা এবার শিউরকোল ভরা কাঁপুনি আর অবর্ণনীয় অস্থিরতা নিয়ে বলল,
—” আপনি এই সব করতে পারলেন? এখন যদি ওয় পুলিশকে গিয়া জানায়?”
সাদিক কনিকার চোখে গভীর কিছু খুঁজতে চাইলো। কিন্তু পেলো না। মেয়েটা বড্ড বোকা। বেশ বোকাসোকা। তাই সে আর কিচুই বললো না। দুহাত কনিকার গালের দুপাশে রেখে চোখে চোখ ফেলে বোঝানোর ভঙ্গিতে বলে উঠলো,
—” এসব নিয়া তোমারে দুশ্চিন্তা করতে হবে না কনিকা। আমি আছি তো। তুমি নিশ্চিন্তে থাকো। আর হ্যাঁ, আমরা খুব তাত্তাড়ি এইখান থেইকা চইলা যামু। এহন তুমি আমারে কও, কোথায় থাকবার চাও? গ্রামে অন্য জায়গায়, নাকি শহরে?”
কনিকা এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত ছিল না। সে আবারো অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল,
—” আপনি চাকরি পাইছেন?”
—” হ, পাইছি।”
কনিকা উদগ্রীব হলো,
—” কীসের চাকরি?”
প্রশ্নটা এড়িয়ে গেলো সাদিক। ঠোঁট ভিজিয়ে আমতা আমতা করে বলল,
—” ভালো চাকরি। অন্তত তোমারে খাওয়াইতে পারুম!”
কনিকা সরল মনে প্রশ্ন করলো,
—” তাহলে তো আপনাকে শহরে থাকতে হবে, তাই না?”
সাদিক এবারো মাথা নেড়ে বলর,
—” হ্যাঁ ঠিক ধরছো।”
কনিকা অত কিছু ভাবলো না আর। সাদিকের দিকে তাকিয়ে মিনমিন করে আবদার করে বসলো,
—” আপনি যেইখানে থাকবেন, আমি আপনার সাথে সেইখানেই থাকব। আপনাকে ছাড়া থাকতে ভয় লাগে। আপনি ছাড়া কেও ভালা না। এইবার আমারে রাইখা গেলে আমি মইরা যামু।”
সাদিকের বুকটা মোঁচড় দিল তৎক্ষনাৎ। সেও চায়না কনিকা কে রেখে থাকতে। এমন জায়গায় তার প্রাণভোমরা কে রেখে সে কখনোই শহরে থাকবে না। তাই মনে মনে এই জিনিস ভেবে রেখেছিল সাদিক। কিন্তু কনিকার মুখে এমন কথা শুনে তার কষ্ট হলো। অজানা শিহরনে বুক কাঁপলো। মেয়েটা তার উপর কতটা নির্ভরশীল হয়ে গিয়েছে। একদিন দিয়ে সাদিকের ভালো লাগলো, খুশি হলো। কিন্তু আরেক দিক দিয়ে ভাবতেই কষ্ট হলো। তবুও সাদিক নিরূপায়। আর যাই হোক না কেনো! নিজের সর্বোচ্চ টা দিয়ে সাদিক ভালো রাখবে কনিকা কে। এই প্রতিজ্ঞা সে কবুল বলার মুহুর্তেই নিয়েছিল।
শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৩৫
সাদিক বসে পড়লো বিছানায়। কনিকাকে নিজের কাছে টেনে এনে বুকে জড়িয়ে ধরল। কনিকার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে স্নিগ্ধ চুলের উপর শক্ত চুমু খেলো। কনিকা কিছুক্ষণ থ মেরে সাদিকের বুকের উপর পড়ে থাকলেও কয়েক সেকেন্ড পর নিজে থেকে সাদিকের শার্ট চেপে ধরল। বুকের কাছে আরো এগিয়ে গিয়ে চোখ বুঁজলো। কি আশ্চর্য! এখন যে আবারো ঘুম পাচ্ছে।
