শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪১
অনামিকা তাহসিন রোজা
শ্রাবণের ভাবনার থেকেও মারাত্মক বিপদ হয়ে গেলো। ডাক্তার বাড়িতে এসে ট্রিটমেন্ট করে জানালেন যে ধারার পা বেশ ভালোই আহত হয়েছে। আগামী তিন দিন সে হাঁটতে পারবেনা। কথাটা শোনামাত্রই অগ্নিঝরা দৃষ্টিতে ধারার দিকে তাকালো শ্রাবণ। তার কপালের শিরা টানটান হতে দেখে বিছানায় বালিশে হেলান দিয়ে বসে থাকা ধারা মাথা নিচু করে নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে মেকি হাসলো, যার অর্থ আমার কোনো দোষ নেই। সালমা বেগম আবেগী মানুষ। ধারার এ অবস্থা দেখে তিনি ব্যস্ত হলেন ভালো ভালো খাবার-দাবার তৈরী করতে। আবারো সেই কাঙ্খিত এক গ্লাস গরম দুধ এনে শ্রাবণের হাতে দিয়ে বললেন,
—” পুরোটা যেন খায়, নইলে তোকে বেলন দিয়ে পেটাব!”
শ্রাবণ ভ্রু কুঁচকে তাকালো মায়ের দিকে। ধারা না খেলে শ্রাবণকে পেটাবে? এটা কেমন সমীকরণ? শ্রাবণ দীর্ঘশ্বাস ফেলল চোখ বুঁজে। সামিউল শেখও চিন্তিত হলেন। আজ কালের মধ্যে তিনি মুনিরা আর জিহানের বিয়ে উপলক্ষে মার্কেট করতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ধারা তো এভাবে হাঁটতেই পারবে না। তবে কীভাবে কী হবে? তিনি আড়ালে শ্রাবণকে বিষয়টা পরে জানাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন আর ধারাকে সাবধানে থাকতে বলে বেরিয়ে গেলেন শ্রাবণের ঘর থেকে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
ধারা পা পিছলে পড়ে ব্যাথা পেয়েছে শুনে ইকরা খানিকটা অবাক হয়েছিল। সেও বাকিদের সাথে শ্রাবণের ঘরে ধারাকে দেখতে এসেছে। সালমা বেগম আর সামিউল শেখ গোমড়া মুখ নিয়ে ঘর থেকে বেরোলে ইকরা মিষ্টি হেসে ধারার পাশে বসে পড়ে। মেরুদণ্ড টানটান হয় ধারার। এতক্ষণ এসবে তার একটুও অসস্থি না হলেও এবারে একটু অসস্থিবোধ করলো। মনে হলো, শ্রাবণের কথা শুনে দেখেশুনে হাঁটাই উচিত ছিল, নইলে এভাবে এখন পড়ে থাকতে হতো না। মানসম্মানের দফারফাও হতো না। বাড়ির বউ উষ্ঠা খেয়ে পড়েছে, এ তো মহা ভয়ানক কথা। তবে ইকরা কে দেখে মনে হলো না যে সে তাচ্ছিল্য করতে এসেছে। বরং মিষ্টি করে ধারাকে সে বলে উঠলো,
—” পায়ে কি বেশি ব্যাথা করছে? তুমি বরং একটু ঘুমিয়ে নাও।”
ধারা শুনলো কথাটা, এরপর শ্রাবণের দিকে তাকালো। বেচারা শ্রাবণ শোনেনি ইকরার কথা। সে তো প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে মনোযোগ দিয়ে ঔষধ গুলো দেখতে ব্যস্ত। ধারা এবারে নিভে যাওয়া স্বরে বলল,
—” এখন ঘুমোতে ইচ্ছে করছে না। আমার এভাবে বসে-শুয়ে থাকতে ভালো লাগেনা।”
ধারার সাবলীল প্রতিউত্তর পেয়ে ইকরা সস্থি পেলো। ঠোঁট ভিজিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করলো, এরপর শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে প্রায় ধমক দিয়ে বলল,
—” এই শ্রাবণের বাচ্চা, তুই নিজের বউয়ের দিকে না তাকিয়ে প্রেসক্রিপশনে কী দেখছিস? আন্টি কী বলল শুনিসনি? গরম দুধটা আগে খাইয়ে দে ধারাকে।”
শ্রাবণ চোখ সরু করে তাকালো ইকরার দিকে। এরপর গম্ভীর স্বরে বলে উঠলো,
—” ফ্রম ইওর কাইন্ড ইনফরমেশন, আমার এখনো কোনো বাচ্চা হয়নি। এমনিতেই একটা বুড়ি বাচ্চা পালি। এটাই বড় হতে পারলো না!”
কথাটা যে ধারাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে তা ঠিকই বুঝেছে বেচারি। সাথে সাথে নাক মুখ ফুলিয়ে তাকালো ধারা। ইকরা ফিক করে হেসে ফেলল। ঠোঁট চেপে বলল,
—” তা ঠিক বলেছিস। তবে হোয়াট ইজ বুড়ি বাচ্চা?”
ধারাও কৌতূহলী হয়ে তাকালো। সেও জানতে চায় এই অদ্ভুত জিনিসটা কী? শ্রাবণ ঠোঁটের কোণে একফোঁটা দুষ্টু হাসি টেনে এনে গলা পরিষ্কার করল। কিছুক্ষণ ভেবে নাটকীয় ভঙ্গিতে প্রেসক্রিপশনটা ভাঁজ করে পকেটে ঢুকিয়ে গম্ভীরভাবে বলল,
—” বুড়ি বাচ্চা মানে এমন এক প্রাণী, যা দেখতে বাচ্চার মতো মিষ্টি, কিন্তু আচরণে পুরো দাদীমার চেয়েও ভয়ঙ্কর!এই প্রাণীর বৈশিষ্ট্য হলো, এটা যত ছোট, তত বেশি কথা বলে। আর যেখানে সেখানে যখন তখন আঁছাড় খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। ঠোঁট মুখ ফুলিয়ে রাগ দেখাতে না পেরে মাঝে মাঝে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে দেয়, যা এই প্রানীর সবচেয়ে বড় অস্ত্র!”
ইকরা হেসে কুটিপাটি হলো। ধারা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল। এই লোকটা তাকে অপমান করলো? শ্রাবণ এবার আরো উৎসাহ পেল। হাত নেড়ে বলল,
—” যখন কান্না বলতে শুরু করে তখন ভটভটি মেশিনের মত চলতেই থাকে, আর মাঝে মাঝে দেবদাস ফিমেইল ভার্সনের মত ল্যটকায় পড়ে একদম বোবা হয়ে থাকে।”
ইকরা না পারছে গলা ফাটিয়ে হাসতে, না পারছে চুপ করে থাকতে। মুখ লাল হয়ে গেল হাসি আটকাতে গিয়ে। কোনোমতে ঠোঁটে হাত চাপা দিয়ে সে ধারার দিকে তাকালো। ধারার চোখ রক্তবর্ণ হলো। হাতের কাছে থাকা বালিশটার দিকে একবার তাকালো। ভাবলো সেটা তুলে নিয়ে ছুড়ে মারবে শ্রাবণের দিকে। কিন্তু তার আগেই ইকরা আর হাসি আটকাতে না পেরে পেটে হাত দিয়ে হাসতে শুরু করে। ধারা ইকরার হাসি দেখে ঠোঁট উল্টে তাকায় শ্রাবণের দিকে। শ্রাবণও কম যায় না। সেও তো রাগ করে আছে। তাই পাত্তা দেয়না ধারার রাগে। বরং নিজেই চোখ রাঙিয়ে এগিয়ে আসে। ধারা বালিশ আঁকড়ে মুখ ফুলিয়ে রইলো। শ্রাবণ গম্ভীর হয়ে গরম দুধটা হাতে তুলে দিয়ে বলল,
—” এখন মুখ বন্ধ করে এটা খাও, বুড়ি বাচ্চারা দুধ না খেলে রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে!”
সাদিক যখন হাসিমুখে বাড়িতে ফিরলো, তখন কণিকা জরিনা খাতুনের সাথে মাছ কুটতে ব্যস্ত ছিল। টিনের বেড়ার মত দরজা টা খোলার শব্দেই কণিকা বুঝেছে যে সাদিক এসে গেছে। সারাটা দিন লোকটার কোনোরকম ঠিক-ঠিকানা না পেয়ে বেচারি মেয়েটা অনেক চিন্তা করছিল। তাই সাদিক যে এসেছে এটা বুঝতে পেরেই সে আর কোনো কিছু দেখল না। সাথে সাথে চমকে গেলো। জরিনা খাতুনকে তোয়াক্কা না করেই ছুটে গেল সেদিকটায়। গায়ে থাকা শার্টটা ভিজে জপজপে হয়ে গিয়েছে। ক্লান্তিতে অবশ হয়ে যাওয়া শরীরটা নিয়ে সাদিক বাড়িতে ঢুকেছিল। কিন্তু চঞ্চলা রমণীর ছুটে আসা দেখে তার মুখের হাসিটা আরেকটু দীর্ঘ হলো। কণিকাকে দেখেই সাদিক খুশি মনে এগিয়ে আসে। কনিকাও সময় নষ্ট করল না। এক দৌড় দিয়ে একদম সাদিকের কাছে এসে দাঁড়ালো। জিজ্ঞেস করল অস্থির হয়ে,
—” কোথায় গেছিলেন আপনি? সারাদিন কই ছিলেন? খাওয়া-দাওয়া করছেন? আমারে তো কিছুই কইলেন না। কী করলেন সারাদিন?”
এতগুলো প্রশ্নে সাদিককে ঘিরে ধরলো কনিকা। প্রশ্নগুলো সাদিকের কর্ণকুহরে বেশ ভালোই পৌঁছেছে। কিন্তু মনকে ছুঁতে পারলো কনিকার অস্থিরতা। তার প্রতি কণিকার অতি যত্নে লুকিয়ে রাখা ভালোবাসাটা বোধহয় মনের ছোঁয়াতেই টের পেলো সাদিক। তাই ঠোঁট কাঁমড়ে হাসলো। বুকভরে তৃপ্তির শ্বাস টেনে নিলো। ফুলগাছের চারাটা নিয়ে পেছনে রাখা দুহাত সামনে এনে চারাটা কনিকার চোখের সামনে ধরে মিষ্টি করে বলল,
—” গোলাপসুন্দরীর জন্য গোলাপের চারা আনতে গেছিলাম!”
কণিকা এক মুহুর্তের জন্য বোকার মত তাকালো সাদিকের দিকে। প্রথমত সম্বোধন টা বুঝতে পারেনি, দ্বিতীয়ত গোলাপের চারাটা দেখে বোঝার চেষ্টা করতে থাকলো। কিন্তু প্রথম বিষয়টাই আগে মস্তিষ্কে ঠেকলো, তাই চোখ পিটপিট করে নিজের দিকে তাকিয়ে সন্দিহান হলো, সাদিককে জিজ্ঞেস করল সরল মনে,
—” গোলাপসুন্দরী কে? আপনারে কেন আনতে কইছে? নিজে আনতে পারে না?”
সাদিক আবারো হাসলো। দুদিকে মাথা নেড়ে বলল,
—” নাহ! পারেনা। ছোট মানুষ তো! তাই আমার কাছে আবদার করছিল!”
কণিকা কেনো যেন মন খারাপ করলো। ভাবলো সম্বোধন টা সত্যি সত্যি কারো নাম। আর তার জন্যই সাদিক এই চারাগাছ এনেছে। তাই নিজের আঁচল খুটতে থাকলো, আর মিনমিন করে বলল,
—” কোন না কোন বেডির জন্য আপনি আমারে না কইয়া সকালে বাড়ি থেকে বের হইছিলেন? আমি যে খুঁজব আপনারে, এটা মনে ছিল না?”
সাদিকের ঠোঁটের হাসিটা কমলো। পরিণত হলো আবেগি মুখভঙ্গিতে। চোখে জ্বলজ্বল করে উঠলো অন্যরকম অনুভূতির দৃষ্টি। ভাবলো কিছু একটা। কেমন যেন মিইয়ে আসা কন্ঠে বলে উঠলো,
—” তুমি খুঁজো আমারে?”
কণিকা কিছু বললো না। ঠোঁট কাঁমড়ে মাথা নিচু করলো। কানে গুঁজে দিলো খোপা করেও আটকাতে ব্যর্থ অবাধ্য চুলগুলো। সাদিক মলিন হাসলো। আর লজ্জা দিতে চাইলো না মেয়েটাকে। এমনিতেই বেচারি ভীষন সহজ সরল! তাই চারাটা এগিয়ে দিয়ে বলল,
—” নাও। তোমার জন্য আনছি। তুমি যে মোবাইলে ভিডিওটা দেখাইলা, ওই ফুলগাছেরই চারা। যত্ন নিতে থাকলে ওমন বড় বড় ফুল বাইর হবে। খুব সুন্দর লাগবে দেইখো।”
কণিকা চোখ বড় করে তাকালো,
—” এইডা ওই ফুলের চারা?”
সাদিক হেসে মাথা নাড়ালো, —” হ্যাঁ!”
আরো অবাক হলো কণিকা। হা করে তাকিয়ে বললো,
—” আমার জন্য? আমি নিব?”
—” হ্যাঁ অবশ্যই! ”
—” আপনি যে কইলেন কোন গোলাপসুন্দরীর জন্য আনছেন!”
ফিক করে হাসলো সাদিক। একটু মাথা নামিয়ে তার বুকের মাঝামাঝি থাকা আদুরে উচ্চতার কণিকার মুখের সামনে নেমে এলো। এরপর একটু ধীরে ধীরে বলল,
—” তুমিই তো গোলাপসুন্দরী?”
আগের থেকেও চোখ বড় করে তাকালো কণিকা। সাদিক ঠোঁট কাঁমড়ে হাসলো তা দেখে। চোখ সরু করে বলল,
—” গালের মত এখন চোখগুলাও রসগোল্লার মত লাগতাছে। তুমি তো দেখি গোল আলু! এত বড় চোখ করে তাকাও ক্যান?”
কণিকার চোখের আকার তবুও কমলো না। সে অবাক হয়ে বলল,
—” আমি কেমনে গোলাপসুন্দরী?’
সাদিক পূ্ণদৃষ্টিতে তাকালো কণিকার দিকে। একটু একটু করে মিষ্টি চেহারায় চোখ বুলিয়ে নিলো। পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালো করে দেখে বলল,
—” লাল রঙের শাড়িতে তোমারে গোলাপসুন্দরীই লাগে। খুব ভালো মানায়। আমার পছন্দ হয় তোমারে!”
কণিকা ফট করে নিজের দিকে তাকালো। হ্যাঁ, সে আজ লাল রঙের শাড়ি পড়েছে। সেই লালরঙা শাড়ি যেটা সাদিক শহর থেকে কিনে এনেছিল। সাদিকের কথায় এবার বোধহয় লজ্জা পেলো কণিকা। আমতা আমতা করে কিছু একটা বলতে চাইল। কিন্তু বলার মত কিছু না পেয়ে শুধু বলল,
—” গাছটায় কতদিন পর ফুল ফুটবে? বড় বড় ফুলই হবে তো? লাল টকটকা হবে?”
সাদিক আশ্বাস দিলো,
—’ ভালোবাসা দিয়ে যত্ন নিলে অবশ্যই হবে দেইখো। যত আদর করে যত্ন নিবা তত সুন্দর ফুল হবে।”
কণিকা আগ্রহী হলো। মাথা নেড়ে বলল,
—” আইচ্ছা।”
সাদিক হাসলো। তবে সে ভাবছে অন্যকথা। বিড়বিড় করে বলল,
—”যেদিন তোমার আমার প্রণয় হবে, সেইদিনই যেন এই গাছে ফুল ফোটে। সেই ফুল দিয়ে তোমায় সাজায় দিব। তোমার হাসি দেখব। লাল গোলাপের পাশে আমার গোলাপসুন্দরীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হব। ”
কণিকা শুনতে পায়নি কথাটা। তাই জিনিস করলো,
—’ কিছু কইলেন?”
সাদিক চমকালো। মাথা দু’দিকে সজোরে নেড়ে বলল,
—” নাহ৷ কিছু কইনাই!”
কণিকা ভ্রু কুঁচকালো। জেদ ধরলো,
—” না আমি বুঝতে পারছি। কন কী কইলেন!”
সাদিক দুষ্টু হাসি হেসে বলল,
—’ তোমারে সুন্দর লাগতাছে কইলাম।”
কণিকার গাল কি লাল হলো? কি জানি! তবে দারুণ লজ্জা পেয়েছে সে। লজ্জার সীমা বাড়ানোর আগেই সাদিক এবারে পকেট থেকে নিমকি আর সিঙারার প্যাকেট টাও বের করলো, তা দেখে উদগ্রীব হলো কণিকা। জিজ্ঞেস করল,
শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪০
—” এইডা কী?”
সাদিক হাসলো। প্যাকেটটাও দিল কণিকার হাতে,
—” তোমার পছন্দের খাবার। খাইয়ো।”
কণিকা প্যাকেটে চোখ বুলিয়ে নিমকি আর সিঙারা দেখে খুশিতে লাফিয়ে উঠলো প্রায়। হেসে উঠলো খিলখিল করে। সাদিকও হাসলো তাল মিলিয়ে। দুজনের দুজনের চোখে চোখ রেখে হাসতে থাকলো। কোথায় যেন শুনেছিলাম, এই জগতের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য হলো— স্বামী স্ত্রী একে অপরের চোখে চোখ রেখে হাসছে। এমন দৃশ্য মুগ্ধ করলো সদ্য উঠোনে হাজির হওয়া জরিনা খাতুনের। তিনি সাদিক আর কণিকার জন্য দোয়া করলেন মনে মনে। এভাবেই যেন হাসিখুশি থাকে দুজনে। এই তো! এইতো প্রকৃতি অনুকূলে এসেছে। পাখিরাও হাসছে। আকাশও হাসছে। কালোমেঘ সরে যাচ্ছে সব জায়গা থেকে।
