সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ২২
jannatul firdaus mithila
“ আগামী ১৫ দিন পর আমি কোরিয়া ব্যাক করব। ঠিক সেই টাইমে আপনার মেয়ে আমার সাথে যাবে। ও যদি আমার সাথে না যায়, তাহলে কান খুলে শুনে রাখুন, এ বাড়িতে অগণিত লাশ পড়বে। পুরো এহসান বাড়িকে আমি ধূলোয় মিশিয়ে ফেলব। কোনো বাপের ব্যাটার কলিজা থাকলে আমায় আঁটকে দেখাক।”
ছেলের কথা না যেন আগুনের তোপ!যা কর্ণকুহরে পৌঁছানো মাত্রই মাহি তৎক্ষনাৎ ছুটে চলে গেলো নিজ কামরায়। ওদিকে ড্রয়িং রুমের পরিস্থিতি বেশ জটিল। এহসান বাড়ির কর্তাদের চোখেমুখে একরাশ আতঙ্ক। তায়েফ সাহেব স্তম্ভিত নেত্রে তাকিয়ে আছেন কেমন। বাড়ির গৃহিণীরা ভয়ে তটস্থ! এহেন অতর্কিত আক্রমণ বোধহয় এই প্রথম দেখলেন তারা। এদিকে মুগ্ধ ব্যাটা রাগে বোম! চোখদুটো তার ইতোমধ্যেই ধারণ করেছে রক্তবর্ণ ভাব। দৃঢ় চোয়াল ফুটে আছে শক্তভাবে। সে হুংকার ছুঁড়ে আর-ও কিছু বলতেই যাবে ওমনি পেছন থেকে ছুটে এলেন তৌকির সাহেব। দু’হাতে তৎক্ষনাৎ ঝাপটে ধরলেন ছেলেকে। অনুনয়ের সুরে বলতে লাগলেন,
“ কন্ট্রোল ইউরসেলফ সায়ান! প্লিজ কনট্রোল!”
মুগ্ধ থামলো। এক ঝটকায় বাবার হাত থেকে নিজের শক্তপোক্ত হাতখানা ছাড়িয়ে নিয়ে দাঁড়ালো সটানভাবে। পরক্ষণে কটমট দৃষ্টিতে তাকালো তায়েফ সাহেবের দিকে। চোখদুটো দিয়ে যেন আগুন বেরুবে তার। পরমুহূর্তেই কেমন দাঁত কিড়মিড় করে বলতে লাগলো,
“ ডোন্ট টেক মি সো লাইটলি! আপনি হয়তো ধারণাও করতে পারবেন না — আমার ক্ষমতা কতটুকু। আপনাকে এবং আপনার পুরো পরিবারকে এক চুটকিতে মাটিতে মিশিয়ে ফেলা সেকেন্ডের কাজ শুধু! এন্ড ইউ নো হোয়াট? আপনাদের মতো গুটিকতক পিপড়াদের মাটিতে মিশিয়ে ফেললেও কেউ কিচ্ছুটি টের পাবেনা। সত্যি বলছি! সময় এলে নাহয় হাতে-কলমে প্রমাণ দিয়ে দিবো।”
তায়েফ সাহেব কন্ঠস্বর হারিয়েছেন এপর্যায়ে। বিচক্ষণ মস্তিষ্ক তার ভাবতে ব্যস্ত হলো মুগ্ধকে নিয়ে। যে-ই ছেলে নিজের সামান্য একটা ফাইলের জন্য আইনমন্ত্রীর গোটা বাড়িটাকেই জ্বালিয়ে দিতে গিয়েছিল, সে-ই ছেলের ক্ষমতা সম্বন্ধে খুব একটা ধারণা না থাকলেও কিছুটা হলেও এপর্যায়ে আন্দাজ করতে পারছেন তিনি। তাইতো কেমন মুখ বুঁজে বসে রইলেন মেঝেতে। সাব্বির সাহেব কড়া কন্ঠে দুটো বাক্য আওড়াতেই যাবেন ওমনি পাশ থেকে তায়েফ সাহেব বাঁধ সাধলেন ভাইকে। তৎক্ষনাৎ হাত বাড়িয়ে চেপে ধরেন সাব্বির সাহেবের একহাত। সাব্বির সাহেব কপাল কুঁচকে তাকালেন এবার। তায়েফ সাহেব তখন মাথা নাড়ায় দু’ধারে। ইশারায় বললেন — চুপ থাকতে। অগত্যা এমন কান্ডে চুপ করে গেলেন সাব্বির সাহেব। ওদিকে মুগ্ধ আর একমুহূর্তও দাঁড়িয়ে নেই। মেঝেতে পড়ে থাকা ব*ন্দুকটা তুলে নিয়ে, গটগট পায়ে চলে গিয়েছেন সদর দরজার দিকে।
তবে বেয়াদব ছেলে কি আর ওতো সহজভাবে বাড়ি থেকে বেরোয়? সে-তো ভায়োলেন্স যুক্ত মানুষ! যেদিকে যাবে সেদিকটা গরম না করলে কি আর হয়? মুগ্ধ বাড়ির দরজার কাছে এগিয়ে আসতে আসতে বন্দুকের ট্রিগার উঁচায়। পরক্ষণেই সদর দরজার দু’ধারে দাঁড় করিয়ে রাখা মাটির দু’টো ফ্লাওয়ার ভাসে শ্যুট করে বসে আচমকা। মুহুর্তেই এক বিকট শব্দ তুলে ফ্লাওয়ার ভাসগুলো ভেঙে গিয়ে কেমন ছিটকে গেলো এদিক-ওদিক। মুগ্ধ থামলো না। পেছন ঘুরে আবারও বন্দুক উঁচিয়ে তাক করলো এহসান বাড়ির ড্রয়িং রুমের সিলিংয়ে ঝুলন্ত ঝাড়বাতির দিকে। অতঃপর আরেকবার আঙুল চাপলো ট্রিগারে। পরপর দুটো শ্যুট করতেই কাঁচের তৈরী নান্দনীক ডিজাইনের ঝাড়বাতিটা গড়িয়ে পড়লো নিচে।পরমুহূর্তেই ঝনঝনিয়ে শব্দ তুলে কাচঁ ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলো পুরো টাইলসের মেঝেতে। ভাগ্যিস তায়েফ সাহেব মেঝে থেকে উঠে গিয়েছেন এতক্ষণে! নাহলে ঝাড়বাতিটা নির্ঘাৎ তার মাথার ওপর পড়তো। ওদিকে মুগ্ধ এবার বাঁকা হাসলো কেন যেন। বন্দুকের নলে সামান্য ফুঁ দিয়ে ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলল,
“ এ-তো কেবল শুরু! গোটা পিকচার দেখানো এখনো বাকি ডিসি সাহেব।”
বলেই উল্টো পথে পা বাড়ায় মুগ্ধ। একহাতে কোমরের পিঠে ব*ন্দুকটা গুঁজে নিয়ে পায়ের গতি বাড়ালো বেশ।এদিকে তার চলে যাওয়ার পথে হতভম্ব চোখে তাকিয়ে আছেন তায়েফ সাহেব। বুকটা এবার দ্রিমদ্রিম শব্দ করে কাঁপছে তার। মস্তিষ্ক লাগছে ফাঁকা। শরীরটা তার আচমকা কেঁপে উঠল খানিকটা। পাশ থেকে সাব্বির সাহেব শক্ত করে আগলে নিলেন ভাইকে। রয়েসয়ে খানিক ঢোক গিলে বললেন,
“ তুই ঠিক আছিস তায়েফ?”
তায়েফ সাহেবের কানে আদৌ কথাটা পৌঁছাল কি-না কে জানে! তিনি কেমন পাথর বনে দাঁড়িয়ে রইলেন ঠায়। এরইমধ্যে মাইমুনা বেগম কাঁপা কাঁপা বদনে এগিয়ে এসে দাঁড়ালেন স্বামীর মুখোমুখি। মানুষটা বোধহয় নিজের উপচে পড়া কান্নাগুলো থামিয়ে রেখেছেন বহুকষ্টে। শুভ্র মুখখানা তার লাল হয়ে গেছে দেখো! চোখদুটোর কার্নিশ ভর্তি জল। যেন একটু পলক পড়লেই তারা বাঁধ ভেঙে টুপ করে গড়িয়ে পড়বে গাল বেয়ে। তায়েফ সাহেব চোখ তুলেননি ওপরে। হয়তো স্ত্রীর সাথে চোখ জোড়া দেবার সাহস পাচ্ছেন না জনাব। মাইমুনা বেগম এবার মুখ খুললেন। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে থেমে থেমে বললেন,
“ ঐ ছেলেকে তুমি আগে থেকেই চিনতে?”
নিশ্চুপ তায়েফ সাহেব! মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কেবল। মাইমুনা বেগম এবার বোধ হারালেন। চিৎকার দিয়ে ফের জিজ্ঞেস করলেন,
“ কথার উত্তর দাও মাহির আব্বু!”
আচমকা এহেন চিৎকারে চোখ তুললেন তায়েফ সাহেব। স্ত্রীর কাঁপতে থাকা মুখাবয়ব দেখে আহত হলেন বেশ। পরক্ষণে খানিক শুকনো ঢোক গিলে বললেন,
“ হ্যা!”
থমকায় মাইমুনা বেগম। হতবিহবলতায় পিছিয়ে গেলেন দু-কদম। আতঙ্কিত গলায় বলতে লাগলেন,
“ ও কেনো আমার এক মেয়েকে বিয়ে করতে চাইছে মাহির আব্বু? কেনো একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী আমার মেয়ের ওপর নজর দিলো? কেনো দিলো মাহির আব্বু? তুমি না পুলিশ ? একজন পুলিশ কর্মকর্তা হওয়া স্বত্বেও তোমার পরিবারের ওপর একজন সন্ত্রাসীর নজর পড়লো কিভাবে?”
তায়েফ সাহেবের গলা ধরে আসছে এপর্যায়ে। মানুষটা কেমন দূর্বল দেহে হুট করে বসে পড়লেন মেঝেতে। সফেদ রঙা টাইলসের পানে ছলছল চোখজোড়া নিবদ্ধ রেখে মোটা কন্ঠে বলতে লাগলেন,
“ পুলিশ হওয়াটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো মাইমুনা। তারচেয়েও বড় ভুল ছিলো — একজন সৎ মানুষ হওয়া।”
প্রায় মিনিট চল্লিশেক পর মির্জা বাড়ির মূল ফটক দিয়ে গাড়ি ঢুকলো মুগ্ধের। এতক্ষণে বুঝি কলিজায় পানি এলো তৌকির সাহেবের। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়েছে মুগ্ধ। ঘন্টা খানেকের রাস্তা পার করেছে কেবল মাত্র মিনিট চল্লিশে তাও আবার লং ওয়েতে। তৌকির সাহেব মধ্যবয়স্ক মানুষ! গায়েগতরে এখনো বেশ শক্তপোক্ত থাকলেও মনে খুব একটা জোর নেই তার। ছেলের এহেন বেপরোয়া ড্রাইভিং দেখে বেচারা ইতোমধ্যেই মনে মনে কান ধরেছে! বেঁচে থাকলে আর কোনদিন ছেলের সঙ্গে গাড়িতে উঠবেন না তিনি। বিশেষ করে ছেলের মেজাজ যখন চটে থাকবে! মুগ্ধ দক্ষ হাতে গাড়ি ঘুরালো পার্কিং লটে। শক্ত মুখে গাড়ি পার্ক করেই বেরিয়ে গেলো গাড়ি থেকে। তৌকির সাহেব পিছুপিছু ছুটলেন। ছেলে বাড়িতে ঢুকতেই তিনি পা রাখলেন সদর দরজার চৌকাঠে। তবে এরইমধ্যে দেখা গেলো, বাড়ির ভেতর হৈচৈ! তৌকির সাহেব ভ্রু গোটায়। ধীর কদমে লিভিংয়ের দিকে এগোতেই শুনতে পায় তৌসিফ মির্জার হুংকার। তিনি কাকে যেন কল করে ইচ্ছেমতো গালমন্দ করছেন। ওদিকে আকাশ অদূরে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকজন পাতি গুন্ডাদের সাথে কি যেন আলাপ করছে।ঠিক তখনি, মুগ্ধ তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলেই আকাশ পথ আঁটকে দাঁড়ায়। মুগ্ধের মুখাবয়ব ঠিকমতো পরোখ না করেই তাড়া দেখিয়ে বলে ওঠে,
“ হেই মুগ্ধ! একটা ইমার্জেন্সি তলব পড়েছে। অপজিট পার্টির লোক গুন্ডাপান্ডা পাঠিয়েছে। চল তো ব্যাপারটা একটু মিটিয়ে আসি।”
মুগ্ধের চোয়াল শক্ত! মেজাজ এমনিতেই সপ্তম আসমানে তারমধ্যে আকাশের ওমন হুকুম! সে কি জানেনা? মুগ্ধ মহাশয় কারো হুকুম শুনতে পারেনা! মুগ্ধ এবার দাঁত খিঁচল। হাতদুটো মুষ্টিবদ্ধ করে নিয়ে কেবল কাঠকাঠ কন্ঠে বললো,
“ সাইডে সর!”
শুনলোনা আকাশ। উল্টো গো ধরে কর্কশ গলায় বলতে লাগলো,
“ তোকে কি কোনো কাজেই আশেপাশে পাবোনা? এসেছিস পর থেকে তোকে বলছি, অপজিট পার্টির লোকেদের সাথে একটু বসতে। ওদের একটু-আধটু হুমকি ধমকি দিতে। কিন্তু তুই ওসব কিছুই না করে….!”
বাকিটা আর শেষ করতে পারেনি বেচারা। তার আগেই ছেলেটার চোয়ালখানা একহাতে শক্ত করে চেপে ধরে মুগ্ধ। আকাশ ককিয়ে ওঠে চোয়ালের ব্যাথায়।দু’হাতে নিজেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালাতেই শোনা গেলো মুগ্ধের হিংস্র কন্ঠ!
“ তোর বাপের কেনা গোলাম আমি বান্দির ছেলে? একদম পায়ের নিচে চইট্টা মাইরা ফেলব জানোয়ারের বাচ্চা! তুই কাকে হুকুম দেস? কার সামনে দাঁড়িয়ে গলা উঁচিয়ে কথা বলিস? জিভ অতিরিক্ত চললে আরেকবার এভাবে কথা বলে দেখ, তোর জিভ টেনে ছিঁড়ে এনে রাস্তার কুকুরকে খাওয়াব বলে দিলাম।”
এরূপ হুংকারে তটস্থ সকলে। বাড়িভর্তি পার্টির লোকজন কেমন হা করে তাকিয়ে আছে এ দু’জনের দিকে। তৌসিফ মির্জা তৎক্ষনাৎ ছুটে এলেন ছেলের নিকট। মুগ্ধের দিকে শক্ত চোখে তাকিয়ে থেকে কর্কশ গলায় বলে ওঠেন,
“ কি হচ্ছেটা কি মুগ্ধ! ছাড়ো আমার ছেলেকে। ছাড়ো বলছি।”
মুগ্ধ ছাড়লো তবে তৎক্ষনাৎ ঝটকা মেরে নিজের সামনে থেকে সরালো আকাশকে। আকাশ ছাড়া পেয়েই দু’হাতে চেপে ধরে নিজের চোয়ালখানা। ব্যাথায় মুখ কুঁচকে যাচ্ছে তার। তৌসিফ মির্জা আহত চোখে তাকিয়ে রইলেন ছেলের দিকে। এগিয়ে এসে নরম হাত বাড়িয়ে রাখলেন ছেলের কাঁধে। ওদিকে মুগ্ধ তখন গটগটিয়ে সিঁড়ি বেয়ে দোতলার দিকে এগুচ্ছে। সিঁড়ির গোড়াঁয় দাঁড়িয়ে থেকে আকাশ কেমন একাধারে বলে যাচ্ছে,
“ ব্লাডি রাস্কেল! গুন্ডামী করতে করতে এখন যার-তার গায়ে হাত তোলার স্বভাব হয়ে গেছে ওর।”
পাশ থেকে তৌসিফ মির্জা ছেলেকে থামতে বলছেন।তবে ছেলে তার থামছেনা। উল্টো গলার স্বর আরেকধাপ উঁচিয়ে বলছে,
“ আমাকে থামাচ্ছ কেনো? ভুলে যাবেনা আব্বা! এ বাড়িতে আমি বড় ছেলে। আর ও আমার ছোট হয়েও কি-না আমার গায়ে যখন-তখন হাত তোলে? আর তোমরা এর কোনো বিচার করোনা! কেনো করোনা?”
তৌসিফ মির্জা গম্ভীর হলেন এপর্যায়ে। মুগ্ধের ওপর তিনিও তো ভীষণ বিরক্ত। তবে মুগ্ধকে মুখ ফুটে কিছু বলবার থোড়াই সাহস আছে তার! ওদিকে তৌকির সাহেব কোমরের পিঠে দু’হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে আছেন।মুখাবয়বে নেই তেমন উদ্বেগ। তিনি কেবল কন্ঠ উঁচিয়ে বললেন,
“ বড় ভাইজান! তোমার ছেলেকে বলো,সে যদি নিজের ভালো চায় তাহলে যেন মুখটাকে একটু সংযত রাখে।কেননা আমার ছেলে কিন্তু লাগামহীন!”
কপাল কুঁচকালেন তৌসিফ মির্জা। গলায় একরাশ ঝাঁঝ ঢেলে ভাইয়ের উদ্দেশ্যে মুখটা খুলতেই যাবেন ওমনি পাশ থেকে আকাশ কেমন খেই হারিয়ে বলে বসলো,
“ হ্যা হ্যা আপনার সুপুত্র লাগামহীন তো হবেই! শত হলেও বে*শ্যাপাড়ার মা*গীর ছেলে বলে কথা!”
থমকায় সকলে। রান্নাঘরের দুয়ারের দ্বারে দাঁড়িয়ে আছেন শারমিন বেগম।এহেন কথা শুনেও মানুষটা কেমন নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন। তার চোখেমুখে নেই তেমন উদ্বেগ। ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে তৎক্ষনাৎ গা গুটিয়ে চলে গেলেন কিচেনে। এদিকে লিভিং রুমে উপস্থিত সবাই কেমন হতবাক চোখে তাকিয়ে রইলো। তৌকির মির্জা তৎক্ষনাৎ বাঁকা হাসলেন। চোখ উঁচিয়ে তাকালেন সিঁড়ির কোণায়। যেথায় পা থামিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শক্তপোক্ত দেহের যুবক। হাতদুটো তার মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গিয়েছে ইতোমধ্যেই। তৌকির মির্জা তক্ষুনি নজর ঘুরালেন ভাইয়ের দিকে। আচমকা সর্তক কন্ঠে বলে ওঠেন,
“ কবরস্থানে কল দাও ভাইজান। বলে দাও একটা নতুন কবর খুঁড়তে।কেননা আর কিছুক্ষণ পরেই মির্জা বাড়ি থেকে একজনের খাঁটিয়া উঠবে!”
বুঝলেন না তৌসিফ মির্জা। অবোধের ন্যায় খানিকটা এগিয়ে আসতেই হঠাৎ শুনলেন কারো ধুপধাপ পায়ের শব্দ। ত্বরিত হতচকিত নেত্রে ঘাড় বাকিয়ে তাকায় পেছনে। ওমনি দেখে, সিঁড়ি দিয়ে ঝড়ের বেগে নামছে মুগ্ধ। গায়ে এতক্ষণ অব্ধি জড়িয়ে থাকা কোটটা সে-ই উপরের সিঁড়ির গোঁড়ায় পড়ে আছে অবহেলায়। তৌসিফ মির্জা মুগ্ধের ওমন তেড়ে আসা দেখে হতচকিয়ে ছেলেকে সর্তক করতেই যাবেন ওমনি পেছন থেকে আকাশের পিঠ বরাবর সজোরে লাথি বসায় মুগ্ধ। হঠাৎ এহেন অতর্কিত আক্রমণে ভড়কায় সকলে। আকাশ বেচারা নিজেকে সামলানোর সুযোগ অব্দি পেলো না। তার আগেই ছিটকে পড়লো মেঝেতে। মুগ্ধ থামেনি এটুকুতে। অগ্নিমূর্তি রুপ ধারণ করে একহাঁটু গেঁড়ে বসলো আকাশের বুকের ওপর। শক্তপোক্ত হাতে আকাশের নাকমুখ বরাবর একের পর এক রেপিড পাঞ্চ মারতে মারতে বাঘের ন্যায় হিংস্র গর্জন তুলে বলতে লাগলো,
“ কু*ত্তার বাচ্চা কি বলছস আমার মা’কে? এই খা*নকির পোলা কি বলছস আবার বল।উত্তর দে বাস্টার্ড! উত্তর দে।”
কি উত্তর দিবে আকাশ? বেচারার নাকমুখ ফেটে ফিনকি দিয়ে র*ক্তের বহর বইছে। ড্রয়িং রুমে উপস্থিত সকলে তখন ছুটে আসে আকাশকে বাঁচাতে। মুগ্ধকে পেছন থেকে একযোগে বেশ কয়েকজন আঁকড়ে ধরেও লাভের লাভ হলোনা তেমন! শক্তিশালী পুরুষ, রেগুলার জিম করে বলে কথা। দু’হাতে তৎক্ষনাৎ ঝটকা মারলো এগিয়ে আসা মানুষদের। তারপর আবারও আকাশের রক্তা*ক্ত মুখ বরাবর একের পর এক ঘুষি মারতে লাগলো। ওদিকে তৌসিফ মির্জা এবার নির্ঘাত হার্ট-অ্যাটাক করে বসবেন ছেলের ওমন পরিস্থিতি দেখে। তিনি তক্ষুনি ছুটে গেলেন ভাইয়ের নিকট। দিনদুনিয়ার তোয়াক্কা না করে তৎক্ষনাৎ ঝাপটে ধরলেন ভাইয়ের পাদু’টো। কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
“ তোর ছেলেকে আটকাঁ তৌকির।আমার ছেলেটা মরে যাবে ভাই!”
তৌকির মির্জা নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। মুখ ঘুরিয়েছেন অন্যত্র। এদিকে মুগ্ধকে এবার বেশ কয়েকজন আঁকড়ে ধরেছে পেছন থেকে। মুগ্ধ হুংকার ছুঁড়ছে ক্ষুব্ধ বাঘের ন্যায়। হাত-পা ছুড়ছে আকাশকে ধরতে। তবে মানুষগুলো এবার যেন বেশ শক্তপোক্তভাবেই আঁটকেছে মুগ্ধকে। ওদিকে দূর্বল আকাশ, নিবুনিবু চোখে কোনরকম উঠে দাঁড়িয়েছে। একপা খানিক পেছাতে নিলেই মুগ্ধ তখন নিজের মাথা দিয়ে বেশ জোরেশোরে আঘাত করে বসলো পেছন থেকে তাকে আঁটকে রাখা লোকগুলোকে। মুহূর্তেই সবার হাতের বাঁধন খানিকটা ঢিলে হতেই ছুটলো মুগ্ধ। তবে একটুখানি এগুতেই পেছন থেকে দু’জন এসে দু-কাধঁ আঁকড়ে ধরে তার। মুগ্ধ এবার নিজের খেই হারায়। গর্জন তুলে দু’হাতে নিজের গায়ের শার্টটাকে একটানে ছিঁড়ে ফেলে! মুহুর্তেই উম্মুক্ত হলো যুবকের বলিষ্ঠ টানটান দেহখানি। ফুলেফেঁপে থাকা মাসেলগুলো চোখে পড়তেই পেছনের লোক দুটো আচমকা পিছিয়ে গেলো ভয়ে।
কিন্তু বাদবাকিদের মধ্যে থেকে এক চ্যাংড়া ছোকরা নিজের দাবাংগিড়ি দেখানোর জন্য কোত্থেকে যেন এক মাটির ফ্লাওয়ার ভাস এনে ছুঁড়ে মারলো মুগ্ধের টানটান পিঠে। মুহুর্তেই ফ্লাওয়ার ভাস ভাঙলো মুগ্ধের পিঠে। চারিদিকে ছিটিয়ে গেলো মাটির অংশবিশেষ। মুগ্ধ গা ঝাড়া দিলো একটুখানি। ঈগল দৃষ্টিতে ঘাড় বাকিয়ে তাকালো আলগোছে। পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা কেমন ভয়ার্ত ঢোক গিললো দেখো! ধীরে ধীরে মানুষের ভীড়ে কদম পেছাতেই মুগ্ধ ছুটলো তার দিকে। বেচারা ছোকরা অন্যান্যদের পিছে পিছে লুকচ্ছে। এরইমধ্যে মুগ্ধ এসে তৎক্ষনাৎ খামচে ধরে ছোকরার চুলগুলো। একটানে তাকে পেছন থেকে নিয়ে এসে বুক বরাবর সজোরে লাথি বসালো বেচারার। ফলাফল স্বরুপ বুক চেপে আর্তনাদে ফেটে পড়লো বেচারা। তবে মুগ্ধের মায়া হলোনা তা দেখে! সে তৎক্ষনাৎ ছেলেটার নাকমুখ বরাবর থাপ্পড় বসায় বেশ কয়েকটা। পরক্ষণে দু’হাতে ছেলেটার মাথা ধরে নিজের মাথার সাথে সজোরে মারলো এক ধাক্কা! এবার আর জ্ঞান ধরে রাখতে পারেনি ছেলেটা। মুগ্ধের শক্তপোক্ত মাথার আঘাত খেতেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়লো মেঝেতে।
মুগ্ধ তখন ঘাড় বাকিয়ে তাকায় পেছনে। বাজপাখির দৃষ্টিতে এদিক-ওদিক তাকিয়ে খুঁজতে লাগলো আকাশকে। তবে নাহ! আকাশকে দেখা যাচ্ছে কোথাও। মুগ্ধ এবার হুংকার ছুঁড়ে বলে ওঠে,
“ ঐ জানোয়ারের বাচ্চা কই?”
তৌকির মির্জা নিশ্চুপ! মুগ্ধ এদিক-ওদিক ছুটলো এবার। আকাশের দেখা না পেয়ে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় পরক্ষণেই ছুটলো বাড়ির বাইরে। কিছুটা এগোতেই তার চোখ পড়লো অদূরে গুটি গুটি পায়ে ছুটতে থাকা আকাশের পানে। পাশেই তৌসিফ মির্জা ছেলের হাত ধরে ঢাল হয়ে এগুচ্ছেন। মুগ্ধ একমুহূর্ত দাঁড়িয়ে দেখলো সবটা। পরমুহূর্তেই জোরালো গতিতে দৌড়ে গেলো আকাশের দিকে। আবারও পেছন থেকে এক লাথি বসায় আকাশের পিঠে। বেচারা আকাশ এবার ড্রাইভওয়ের খসখসে মেঝেতে উল্টো পরলো। তৌসিফ মির্জা চিৎকার দিয়ে ওঠেন। এগিয়ে এসে মুগ্ধের গালে আচমকা সপাটে বসিয়ে দিলেন এক চড়। মুগ্ধ গাল বাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো একমুহূর্ত। পরক্ষণেই দাঁত কটমট একহাতে চেপে ধরল তৌসিফ সাহেবের কন্ঠা।
তৌসিফ সাহেব আতঙ্কে নিশ্বাস আঁটকে ফেলেছেন। দু’হাতে মুগ্ধের হাত সরানোর আপ্রাণ চেষ্টায় মত্ত বেচারা। তবে মুগ্ধ কি আর ওতো সহজে থামে? প্রায় সেকেন্ড ত্রিশেক পেরুতেই হুট করে মুগ্ধের কপাল বরাবর ইট ছুঁড়ে মারে আকাশ। মুগ্ধ থামলো।হাতের বাঁধন খানিকটা আলগা করতেই তৌসিফ মির্জা কাশতে কাশতে সরে গেলেন সেখান থেকে। এদিকে মুগ্ধের ভ্রু-কেটে রক্ত বেরুচ্ছে। শুভ্র গাল বেয়ে চুইয়ে পড়ছে র*ক্তের বহর। মুগ্ধ এপর্যায়ে ঠোঁট পিষে হাসলো একটুখানি। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি হঠাৎ তাক করলো আকাশের দিকে। আকাশ ভড়কায়। কাঁপতে কাঁপতে পিছিয়ে যায় দু-কদম। মুগ্ধ তখন ছুটে এসে একহাতে শক্ত করে চেপে ধরে আকাশের গলা। বলিষ্ঠ বাহুর জোর দেখিয়ে শূন্যে তুললো আকাশকে। আকাশ তড়পাচ্ছে। হাত-পা ছুড়ছে অনবরত। ছেলেটার এরূপ ভয়ংকর কষ্ট দেখে মুগ্ধের ঠোঁটের কোণে আচমকা ফুটে উঠল এক অদ্ভুত পৈশাচিক হাসির রেশ। সে হঠাৎ নিজের ভয়ংকর শান্ত কন্ঠে বললো,
“ দোয়া পড়!”
কি পড়বে আকাশ? চোখের সামনে সবটাই কেমন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। আকাশের চোখ নিভবে এবার। ঠিক তখনি কেঁচি গেট দিয়ে ছুটে এলেন তৌসিফ মির্জার স্ত্রী। ছেলেকে ওমন শূন্যে ঝুলতে দেখে আঁতকে ওঠে চিৎকার করে বললেন,
“ আকাশ! আমার আকাশ। আমার আব্বা!”
এহেন কথা কর্ণকুহরে পৌঁছান মাত্রই কে জানে মুগ্ধের কি হলো! সে হঠাৎ ছেড়ে দিলো আকাশকে। ওদিকে আকাশের মা ছুটে এলেন তখন।অচেতন ছেলের কাছে এগিয়ে এসে বসলেন ধূলোপড়া মাটিতে। দু’হাতে আলতো করে ছেলের মাথা উঠিয়ে নিলেন নিজের কোলে। মমতাময়ী কাঁদতে কাঁদতে ছেলের সর্বমুখে হাত বুলিয়ে বলতে লাগলেন,
“ ও আব্বা চোখ খোলো! আব্বা তুমি মরে গেলে মা’র কি হবে আব্বা? মা কার মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচব? আব্বা চোখ খোলো। আব্বা আম্মুর কষ্ট হচ্ছে দেখো।”
মুগ্ধ শান্ত চোখে তাকিয়ে আছে। মমতাময়ীর কন্ঠে তার ছেলের জন্য কত্ত আকুলতা। মায়েরা বোধহয় এমনিই হয় তাই-না? মুগ্ধ হঠাৎ খেয়াল করলো তার বুক কাঁপছে। হাত-পা গুলোও কেমন অবশ হয়ে আসছে ক্রমশঃ। মুগ্ধ তৎক্ষনাৎ নিজের হাতদুটো সম্মুখে নিয়ে আসে। হাতগুলো তার অনবরত কাঁপছে। শরীর হয়ে যাচ্ছে ঠান্ডা। চোখের সামনে সবটা কেমন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে। মুগ্ধ তক্ষুনি পা বাড়ায় উল্টো পথে। ঢুলু ঢুলু পায়ে বাড়িতে না ঢুকে এগিয়ে গেলো গ্লাস হাউজের দিকে। যতটুকু সম্ভব ছুটলো সে। দৌড়ে চলে গেলো নিজের রুমে। উদ্ভ্রান্তের ন্যায় পা বাড়ায় আলমিরার দিকে। হাতরাতে হাতরাতে খুঁজে আনে একখানা মোটা পলিব্যাগ। কাঁপা কাঁপা হাতে সে ব্যাগ নিয়ে বসে পড়ে মেঝেতে। এক কামড়ে পলিটা ছিঁড়ে ফেলে সেখান থেকে বের করে আনে বেশকিছু অবব্যহৃত সিরিঞ্জ, ছোট ছোট কাঁচের শিশি।যার গায়ে ভিন্ন ভাষায় লেখা কিছু একটা।
মুগ্ধ তৎক্ষনাৎ সিরিঞ্জ ভর্তি করলো কাঁচের শিশির তরলে। পরক্ষণেই তা আলগোছে ঢুকিয়ে দিলো নিজের বাহাতের শিরায়। মুহুর্তেই শরীরটা তার কেমন ঝাঁকিয়ে ওঠল। সময় নিয়ে শরীরটা তার শান্তও হলো বোধহয়। তবে এটুকুতে কাজ হয়না মুগ্ধের। তাইতো সে একইভাবে আর-ও দুটো ইনজেকশন পুশ করলো নিজের গায়ে। এতে খানিক শান্ত হলো মুগ্ধ। চোখদুটো হয়ে গেলো নিবুনিবু। শরীর হয়ে গেলো নিশ্চল। মস্তিষ্ক এমুহূর্তে ফাঁকা লাগছে তার।মুগ্ধের বাহ্যিক প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝাই যাচ্ছে সে কোনো সাধারণ ইনজেকশন নেয়নি এ হয়তো বেশ শক্তিশালী বিদেশি ড্রা*গস। মুগ্ধ চোখবুঁজে পড়ে রইলো মেঝেতে। হঠাৎ তার বন্ধ চোখের পাতায় আবারও ভেসে ওঠল অতীতের তিক্ত কিছু স্মৃতি। ঐ ছোট্ট ছেলেটা আজও কাঁদছে। চারদিন ধরে না খেয়ে থাকা ছেলেটার সামনে প্লেট ভর্তি খাবার। তবুও খাচ্ছেনা বাচ্চাটা! সে চিৎকার করছে! কাঁদছে, ছুটতে চাইছে সামনে। তাকে ধরে রেখেছে বেশ কয়েকজন। অদূরের চিতায় জ্বলছে লাশ! চারদিকে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। বাচ্চা ছেলেটার কানের কাছে মুখ এনে আজও কেউ একজন বলল,
“ ডাক মা! মা ডাক!”
আচমকা চোখ খুললো মুগ্ধ! সর্বাঙ্গে ঘাম ছুটছে তার।গা কাঁপছে ভীষণ। মাথাটা বোধহয় ফেটে যাবে এক্ষুণি। নিশ্বাস আঁটকে যাচ্ছে ক্ষনে ক্ষনে। মুগ্ধ তৎক্ষনাৎ সিরিঞ্জ উঠালো আরেকটা। কাঁপা কাঁপা হাতে তরলে সুচ ঢোকাতেই সেখানে ছুটে আসেন তৌকির সাহেব। আঁতকে উঠলেন ছেলের এহেন পাগলামো দেখে। তিনি তৎক্ষনাৎ এগিয়ে এসে হাত চেপে ধরেন ছেলের। আঁতকে ওঠে বলেন,
“ হোয়াট দা হেল আর ইউ ডুয়িং সায়ান?একসাথে এতগুলো ড্রা*গস নিচ্ছো কোন সাহসে?”
শুনছেনা মুগ্ধ! বাবার হাতটা ছিটকে সরিয়ে দিয়ে, নিজের বাহাতের মোটা মোটা শিরায় পরপর দুটো সিরিঞ্জের সুচঁ ঢুকিয়ে দিলো আলগোছে। পরক্ষণে চোখদুটোও কেমন বুঁজে নিলো নিঃশব্দে। তৌকির সাহেব ঘাড় বাকিয়ে তাকালেন এদিকওদিক। পরমুহূর্তেই চমকে উঠেন মানুষটা। মেঝেতে পড়ে আছে আরও কতগুলো ব্যবহৃত সিরিঞ্জ। বোধহয় সেগুলোও ইতোমধ্যেই জনাবের বলিষ্ঠদেহে ঢুকেছে। তৌকির সাহেব স্তম্ভিত চোখে তাকান ছেলের পানে। মুগ্ধ কাঁপছে! তার বলিষ্ঠ টানটান দেহখানি কাঁপছে বেশ। ঘাড় সমান চুলগুলো এলেমেলো হয়ে মুখের ওপর আছড়ে পড়েছে। ছেলেটা কেমন কাঁপতে কাঁপতে হুট করেই দুপা দুদিকে ছড়িয়ে শুয়ে পড়লো মেঝেতে। তৌকির সাহেব তৎক্ষনাৎ এগিয়ে এসে ছেলেকে ধরতে নিলেই মুগ্ধ হাত উঁচিয়ে বাঁধ সাধলো। নিবুনিবু চোখে ভারি কন্ঠে এলোমেলো স্বরে হুকুম ছুঁড়ল,
সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ২১
“ আলমারি থেকে আরও দুটো শিশি নিয়ে আসো।”
আঁতকে ওঠেন তৌকির মির্জা। তৎক্ষনাৎ ভয়ার্ত ঢোক গিলে ছেলের এরূপ আদেশ একপ্রকার নাকচ করে দিয়ে বললেন,
“ অসম্ভব! আর একটুও ড্রা*গস নিবে না তুমি। জাস্ট লুক এট ইউরসেলফ! তুমি এখন নিজের মধ্যে নেই!”
মুগ্ধ চোখবুঁজে রেখেই ব্যাথাতুর হাসলো।নাক দিয়ে ভারি ভারি নিশ্বাস ফেলে আচমকা বলতে লাগলো,
“ আমার নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে ড্যাড! প্লিজ ডোন্ট স্টপ মি। আরেকটু দাও! বেশি না আরেকটু।”
